ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 26

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ২৬

### অপেক্ষার অবসান

সকালের আলো ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। রাফা আজ বেশ সকালেই ঘুম থেকে উঠেছে। আজ তার কোর্সের সময়সূচি প্রকাশ হওয়ার কথা। তাই সকাল থেকেই তার মধ্যে একধরনের উত্তেজনা কাজ করছে।

নাশতা শেষ করে সে নিজের ঘরে এসে ফোন হাতে নিল। বারবার কোর্সের ওয়েবসাইট দেখছে, কিন্তু এখনো কোনো নতুন খবর আসেনি।

এমন সময় ছোট বোন ঘরে ঢুকে বলল,

— আপু, তুমি সকাল থেকে এতবার ফোন দেখছ কেন?

রাফা হেসে বলল,

— আজ আমার কোর্সের সময়সূচি দেওয়ার কথা। তাই দেখছি।

— সময়সূচি পেলে কি আমাকে মিষ্টি খাওয়াবে?

— আগে সময়সূচি আসুক, তারপর দেখা যাবে।

ছোট বোন হাসতে হাসতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

রাফা আবার ফোনের দিকে তাকাল। কয়েক মিনিট পর একটি নোটিফিকেশন এল। সে দ্রুত সেটি খুলল। অবশেষে কোর্সের সময়সূচি প্রকাশ হয়েছে!

রাফা মনোযোগ দিয়ে সবকিছু পড়ল। তার ক্লাস শুরু হবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে। সময়সূচি দেখে তার মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠল।

সে সঙ্গে সঙ্গে মাকে ডাকল।

— মা! মা, সময়সূচি দিয়েছে!

শারমিন দ্রুত ঘরে এসে বললেন,

— কী হয়েছে? পেয়েছ?

— হ্যাঁ মা! আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ক্লাস শুরু।

শারমিন মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন,

— আলহামদুলিল্লাহ! তোমার স্বপ্নের প্রথম ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে।

রাফা খুশিতে মায়ের হাত ধরে বলল,

— মা, আমি খুব ভালোভাবে পড়াশোনা করতে চাই। যেন একদিন আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি।

— ইনশাআল্লাহ, মা। মন দিয়ে চেষ্টা করবে।

এরপর রাফা সময়সূচির একটি ছবি আদবিকে পাঠিয়ে দিল।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আদবির ফোন এল।

— অভিনন্দন!

রাফা হেসে বলল,

— এত তাড়াতাড়ি অভিনন্দন?

— আপনার আনন্দের খবর পেলে দেরি করা যায় নাকি?

— ক্লাস শুরু হতে তো এখনো কয়েক দিন বাকি।

— তবুও তো আপনার স্বপ্নের পথে নতুন একটা দরজা খুলেছে।

রাফা মৃদু স্বরে বলল,

— আপনি পাশে থাকবেন তো?

— অবশ্যই। তবে মনে রাখবেন, আপনার নিজের চেষ্টাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু আপনাকে উৎসাহ দিতে পারি।

— জানি। আপনার কথাগুলো শুনলে সাহস পাই।

— তাহলে আজ বিকেলে দেখা হলে আপনার জন্য একটা জিনিস থাকবে।

— কী জিনিস?

— সেটা এখন বললে চমক থাকবে না।

রাফা হেসে বলল,

— আচ্ছা, অপেক্ষা করছি।

বিকেলে আদবি তাদের বাসায় এল। হাতে একটি সুন্দর প্যাকেট। বসার ঘরে সবাই তখন গল্প করছিল।

আদবি প্যাকেটটি রাফার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

— আপনার জন্য।

রাফা অবাক হয়ে বলল,

— আবার কী এনেছেন?

— খুলে দেখুন।

প্যাকেট খুলতেই রাফা দেখল, ভেতরে কয়েকটি প্রয়োজনীয় খাতা, কলম এবং একটি সুন্দর পড়ার ব্যাগ।

রাফা অবাক হয়ে বলল,

— এত কিছু কেন?

আদবি শান্তভাবে বলল,

— আপনার ক্লাস শুরু হবে। ভাবলাম, পড়াশোনার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া যায়।

রাফা একটু অভিমানী স্বরে বলল,

— সব সময় শুধু আপনিই উপহার দেবেন? আমারও তো আপনাকে কিছু দেওয়ার ইচ্ছা করে।

আদবি হেসে বলল,

— তাহলে একদিন আপনার নিজের হাতে বানানো কিছু দেবেন। সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হবে।

পাশ থেকে মাহিরা বলে উঠল,

— ভাবি, ভাইয়া কিন্তু আপনাকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করে!

আদবি ভ্রু কুঁচকে বলল,

— মাহিরা!

— কী হয়েছে? সত্যি কথাই তো বললাম!

সবাই হেসে উঠল।

সন্ধ্যার দিকে দুই পরিবারের বড়রা আবার বসে কথা বলতে শুরু করলেন। এবার আলোচনার বিষয় ছিল বিয়ের সম্ভাব্য সময়।

সোহাগ সাহেব বললেন,

— রাফার কোর্সের সময়সূচি আমরা দেখেছি। ক্লাস শুরু হওয়ার পর কিছুদিন গেলে ওর সুবিধা হবে।

আমিরুল সাহেব সম্মতি জানিয়ে বললেন,

— আমরাও সেটাই ভাবছি। তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই।

আদবির মা বললেন,

— তাহলে দুই পরিবার মিলে এমন একটা দিন ঠিক করি, যেদিন সবার সুবিধা হবে।

সবাই আলোচনা করতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো, রাফার ক্লাস শুরু হওয়ার পর কিছুটা সময় দিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিয়ের আয়োজন করা হবে। নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করার আগে রাফা ও আদবির মতামত আবার নেওয়া হবে।

রাফা সব কথা মন দিয়ে শুনছিল। তার মনে আনন্দ হচ্ছিল, কিন্তু নতুন জীবনের কথা ভেবে একটু চিন্তাও হচ্ছিল।

আলোচনা শেষ হলে আদবি তার পাশে এসে বসল।

— কী ভাবছেন?

— ভাবছি, সামনে অনেক কিছু বদলে যাবে।

— কিছু পরিবর্তন সুন্দরও হয়।

— জানি। তবুও নিজের পরিবার ছেড়ে নতুন একটা পরিবারে যাওয়ার কথা ভাবলে একটু ভয় লাগে।

আদবি তার কথাটা মন দিয়ে শুনল।

— ভয় লাগাটা স্বাভাবিক। তবে বিয়ের পরও আপনার মা-বাবা আপনারই থাকবেন। আর আমার পরিবারেও আপনাকে নিজের মতো করে সময় নিতে দেওয়া হবে।

রাফা বলল,

— আমি চাই, দুই পরিবারের সবাই যেন ভালো থাকে।

— আমিও সেটাই চাই। আর একটা কথা, কোনো দিন যদি আমার কোনো আচরণে আপনার কষ্ট হয়, তাহলে আমাকে জানাবেন। আমি আপনার কথা শুনব।

রাফা মৃদু হেসে বলল,

— আপনিও কিন্তু নিজের কষ্টগুলো লুকিয়ে রাখবেন না।

— কথা দিলাম।

ঠিক তখনই শারমিন এসে বললেন,

— তোমরা দুজন এখানে বসে আছ? সবাই একসঙ্গে ছবি তুলবে, চলো।

রাফা উঠে দাঁড়াল। আদবি তার পাশে এসে দাঁড়াল। পরিবারের সবাই মিলে কয়েকটি ছবি তুলল। ছবিগুলোতে ছিল হাসি, আনন্দ আর ভবিষ্যতের নতুন স্বপ্ন।

রাতে ঘুমানোর আগে রাফা নিজের পড়ার টেবিলের ওপর নতুন খাতাগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে রাখল। পাশে রাখা ব্রেসলেটটির দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, জীবনে কিছু মানুষ আসে যারা শুধু ভালোবাসার কথা বলে না, বরং স্বপ্ন পূরণের পথেও সাহস জোগায়।

অন্যদিকে আদবিও নিজের ঘরে বসে পরিবারের সঙ্গে কাটানো সন্ধ্যার কথা ভাবছিল। সে জানত, সামনে অনেক দায়িত্ব আসবে। তাই সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল, রাফার স্বপ্ন ও নিজের দায়িত্ব—দুটোকেই সমান গুরুত্ব দেবে।

তবে আগামী দিনগুলোতে তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও কিছু আনন্দের মুহূর্ত, নতুন দায়িত্ব এবং একে অপরকে আরও ভালোভাবে বোঝার সুযোগ।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 26 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন