ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 27

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ২৭

### নতুন জীবনের প্রস্তুতি

সকালের নরম আলো জানালা দিয়ে রাফার ঘরে প্রবেশ করেছে। বিছানার পাশে রাখা নতুন পড়ার ব্যাগটির দিকে তাকিয়ে সে মুচকি হাসল। কয়েক দিন পরই তার কোর্স শুরু হবে। অন্যদিকে দুই পরিবার বিয়ের আয়োজন নিয়েও ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সবকিছু যেন একসঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে।

রাফা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিল। এমন সময় তার মা শারমিন ঘরে এসে বললেন,

— মা, আজ বিকেলে আদবির মা আসবেন। তোমার বিয়ের পোশাক নিয়ে কিছু কথা বলবেন।

রাফা একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

— এত তাড়াতাড়ি পোশাকের কথা শুরু হয়ে গেল?

শারমিন হেসে বললেন,

— বিয়ের আয়োজন কি এক দিনে হয়? আর তোমার পছন্দটাও তো জানতে হবে।

— মা, আমি খুব বেশি কিছু চাই না। সবকিছু সুন্দর হলেই হবে।

— সুন্দর তো হবেই। তবে তোমার নিজের পছন্দেরও মূল্য আছে।

রাফা মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল,

— আপনারা পাশে আছেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

বিকেলের দিকে আদবির মা এলেন। সঙ্গে মাহিরাও এসেছে। ঘরে ঢুকেই মাহিরা রাফাকে দেখে বলল,

— ভাবি, আজ কিন্তু আপনাকে ছাড়ছি না। বিয়ের পোশাকের রং আমিই পছন্দ করব!

রাফা হেসে বলল,

— আগে আমার পছন্দটা তো শুনে নাও।

— আচ্ছা, বলুন দেখি!

রাফা জানালার পাশে রাখা পর্দার দিকে তাকিয়ে বলল,

— আমার নীল আর সাদা রং খুব পছন্দ।

মাহিরা হাততালি দিয়ে বলল,

— তাহলে নীল-সাদা পোশাকই হবে!

আদবির মা মমতাভরা কণ্ঠে বললেন,

— তোমার যেটা ভালো লাগে, সেটাই হবে মা। তোমার আনন্দটাই আমাদের কাছে বড়।

কিছুক্ষণ সবাই পোশাকের নকশা ও রং নিয়ে আলোচনা করল। রাফা নিজের পছন্দ জানাল। মাহিরা মাঝেমধ্যে মজার কথা বলে সবাইকে হাসিয়ে তুলল।

এরপর আদবির মা বললেন,

— আরেকটা কথা ছিল। আমরা আগামী মাসের শেষের দিকে বিয়ের আয়োজন করতে চাই। তবে তোমাদের কোর্সের বিষয়টা মাথায় রেখেই সব ঠিক করা হবে।

শারমিন বললেন,

— আমাদেরও আপত্তি নেই। রাফার ক্লাসের সময়সূচি অনুযায়ী আয়োজন করলে ভালো হয়।

রাফা চুপচাপ সবার কথা শুনছিল। তার মনে আনন্দের পাশাপাশি অজানা এক অনুভূতি কাজ করছিল।

সন্ধ্যার পর আদবি ফোন করল।

— আজকে কী কী পরিকল্পনা হলো?

রাফা হেসে বলল,

— আপনার বোন তো আমার বিয়ের পোশাকের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে।

— মাহিরা ছোটবেলা থেকেই এমন। কোনো কিছুতে উৎসাহ পেলে আর থামতে চায় না।

— আমার নীল-সাদা রং পছন্দ, সেটাও সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি।

— তাহলে নীল-সাদাই হবে।

রাফা একটু থেমে বলল,

— আদবি, একটা কথা বলব?

— বলুন।

— বিয়ের পরও আমি নিয়মিত পড়াশোনা করতে চাই। ক্লাস, পরীক্ষা—সবকিছু ঠিকভাবে চালিয়ে যেতে চাই।

আদবি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল,

— অবশ্যই। আপনার পড়াশোনা আপনার অধিকার। বিয়ের পরও আপনি আপনার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাবেন।

— কখনো যদি পড়াশোনার জন্য সময় দিতে গিয়ে পরিবারের কাজে সময় কম দিতে হয়?

— তাহলে আমরা সবাই মিলে সময় ভাগ করে নেব। সংসারের দায়িত্ব শুধু একজনের নয়।

রাফা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল,

— আপনার কথাগুলো শুনে আমার অনেক ভালো লাগছে।

আদবি মৃদু হেসে বলল,

— আমি চাই না, নতুন জীবনে এসে আপনি নিজের পুরোনো স্বপ্নগুলো ভুলে যান।

— আপনিও কিন্তু নিজের স্বপ্নের কথা বলবেন।

— অবশ্যই। আমাদের দুজনের স্বপ্ন নিয়েই তো ভবিষ্যৎ তৈরি হবে।

পরদিন সকালে আদবি তার বাবার সঙ্গে রাফাদের বাসায় এল। দুই পরিবারের বড়রা বসে বিয়ের তারিখ নিয়ে আলোচনা করলেন। সবার সুবিধা বিবেচনা করে একটি সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করা হলো। রাফা ও আদবির মতামত নেওয়ার পরই তারিখটি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হলো।

সোহাগ সাহেব মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— রাফা, তোমার কোনো আপত্তি আছে?

রাফা একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

— না বাবা। তবে আমার কোর্সের পরীক্ষার সময় যেন সমস্যা না হয়।

আমিরুল সাহেব হেসে বললেন,

— তোমার পড়াশোনার বিষয়টা আমরা অবশ্যই দেখব।

আদবি পাশে বসে বলল,

— পরীক্ষার সময় যেন কোনো অনুষ্ঠান না রাখা হয়, সেটাও খেয়াল রাখব।

মাহিরা আবার বলে উঠল,

— তাহলে ভাবি, আপনার পরীক্ষা শেষ হলেই কিন্তু বিয়ের কেনাকাটা শুরু!

সবাই হেসে উঠল।

রাফা মনে মনে ভাবল, নতুন পরিবারে যাওয়ার আগে এমন মানুষদের পাশে পাওয়া সত্যিই সৌভাগ্যের।

রাতে নিজের ঘরে বসে সে নতুন খাতার প্রথম পাতায় নিজের নাম লিখল। তারপর পাশে লিখল— আমার স্বপ্ন, আমার চেষ্টা, আমার ভবিষ্যৎ।

ফোনে আদবির একটি বার্তা এল।

“আজকের দিনটা আমার কাছে খুব সুন্দর ছিল। সামনে আমাদের জীবনে অনেক দায়িত্ব আসবে। তবে আমি চাই, প্রতিটি সিদ্ধান্তে আমরা একে অপরের পাশে থাকি।”

রাফা উত্তর দিল,

“আমিও তাই চাই। ভালোবাসার পাশাপাশি যেন আমাদের মধ্যে সম্মান আর বিশ্বাসটাও সবসময় থাকে।”

কিছুক্ষণ পর আদবির উত্তর এল,

“ইনশাআল্লাহ, আমরা চেষ্টা করব।”

রাফা ফোনটা পাশে রেখে জানালার বাইরে তাকাল। আকাশে তখন অসংখ্য তারা জ্বলছে।

তার মনে হলো, জীবনের নতুন অধ্যায়ের দরজায় সে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা সে জানে না। তবে নিজের পরিবার, আদবি এবং নতুন পরিবারের ভালোবাসা নিয়ে সে আশাবাদী।

অন্যদিকে আদবিও নিজের ঘরে বসে ভাবছিল, বিয়ের দিন যত এগিয়ে আসছে, দায়িত্বও তত বাড়ছে। সে চায়, রাফা যেন নতুন জীবনে এসে কখনো নিজেকে একা মনে না করে।

দুই পরিবারের ঘরে তখন বিয়ের প্রস্তুতির আনন্দ। আর সেই আনন্দের মাঝেই রাফা ও আদবির জীবনে এগিয়ে আসছে বহুল প্রতীক্ষিত নতুন দিন।

কেউ কপি করবেন না, এটি একটি কাল্পনিক উপন্যাস। আশা করি ভালো লাগবে এই উপন্যাস টা

সবাই দেখবেন এই উপন্যাস টি,
আমার প্রিয় উপন্যাস। খুব যত্ন করে লিখছি।

চলবে...
❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 27 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন