ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

৩য় পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

#সে_আমার_সর্বনাশ_২

(০৩)

আজ সকাল সকাল পাখি ট্রি-হোমে পড়তে এসেছে। সে পড়তে আসেনি। তাকে পড়তে জোরপূর্বক ধরে বেঁধে পাঠানো হয়েছে। সকাল ছ’টার দিকে ফোন দিয়ে তিনি জানালেন, আজ সকালে পড়াবেন। সকাল সাতটার দিকে যেন চলে আসে। কথাটা বলেছে তার খালামণিকে। এখন প্রশ্ন হতে পারে তিনিটা কে? এই তিনিটা হলেন আবার ইনি, মানে ওই জাঁদরেল লোকটা। যিনি নাওয়াফ তালুকদার নামে পরিচিত। খুবই সাংঘাতিক লোক! পড়তে তো যেতে বলল, সঙ্গে এক ব্যাগ সবজি নিতে বললেন। কেন, তিনি নিজে এসে নিতে পারেননি? যেন সে ওনার ব্যক্তিগত কর্মচারী। এতো সবজি দিয়ে কি করবে, কে জানে? কার মাথায় আবার ঢালবে? কার শ্রাদ্ধ খাওয়াবে? তার খালু সবজির চাষ করে। বাড়ির পিছনে একটি ছোট নদী আছে। সেই নদীর পাশ দিয়ে সবজির বিভিন্ন জাত মোজ্জামেল মোল্লা চাষ করেছেন। সেখান থেকে তাজা তাজা কিছু সবজি নিয়ে এলো। ভীষণ ভারী ব্যাগ। টানতে টানতে হাত ব্যথা হয়ে গেল। সে মেইন রাস্তা রেখে জঙ্গলের শর্টকাট রাস্তা ধরল। দুপাশে বড়ো বড়ো সুপারি গাছ, দেবদারু গাছ। মাঝখান দিয়ে সরু মাটির ছোট একটা রাস্তা বয়ে গেছে। সেই মাটির রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছে সে। শিশিরে পা দুটো তার স্নান করিয়ে ছাড়ল। ভেজা পা নিয়ে পাখি ট্রি-হোমে হাজির হলো। এসে দেখল ট্রি-হোমের দরজা এখনো খোলা হয়নি। তাকে আসতে বলে এখনো দরজা খোলেনি। খবিশ ব্যাটা কোথাকার! সে বাহির থেকে দরজা নক করল। দরজা খুলে দিল রমিজ এসে। পাখিকে দেখে লম্বা এক সালাম ঠুকল।

“আসসালামু আলাইকুম আপাজান, ভালো আছেন?”

পাখি মিষ্টি করে একটুখানি হাসল।

“জি, আল্লাহপাক রাখছেন ভালো। কিন্তু ওইটা কোথায়?”

“আপনি কোনটার কথা বলছেন?”

“আপনাদের জানের জান কলিজার আধখান ভাইজানের কথা।”

“ও তিনি! তিনি তো এখনো উঠেননি। ঘুমুচ্ছে। আপনি গিয়ে টেবিলে বই খাতা মেলে বসেন। এর মধ্যে দেখবেন উঠে যাবে।”

পাখি নীরবে সম্মতি দিয়ে মাথা ঝাঁকাল।

“ঠিকাছে। আর হ্যাঁ, রমিজ ভাই, এখানে বাজার ব্যাগ ভর্তি কিছু সবজি আছে। এগুলি নিয়ে রান্নাঘরে রাখুন। আপনার ভাইজান আসার সময়ে নিয়ে আসতে বলেছে।”

রমিজ আশ্চর্য হলো।

“বলেন কি? ফ্রিজ ভর্তি সবজি। তবুও ভাই আপনাকে সবজি আনতে বলেছে?”

রমিজের কথা শুনে পাখির ভ্র দুটো কুঁচকে এলো। তার মানি খাটাশ লোকটা সকাল সকাল কেবল তাকে বেহুদা খাটানোর জন্য ব্যাগ ভর্তি সবজি আনতে বলেছে, ছ্যাহ্! হারামজাদা ব্যাটা, তুই মরিস না কেন?

সে গিয়ে নিঃশব্দে টেবিলে বই রেখে চেয়ার টেনে বসল। চঞ্চল পা দুটো নাচাতে নাচাতে কম্বোল মুড়ো দিয়ে টান টান হয়ে শুয়ে থাকা লম্বুটে লোকটার দিকে এক ঝলক চাইল। তার ঘুম হারাম করে দিয়ে শালা ঘুমুচ্ছে। তোর ঘুমের মধ্যে শকুন আসুক। তোর চোপা দুইটা ছিড়ে ছিড়ে খাক।

সে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। আজ মনে হয় ইচ্ছে আসবে না। সে আর ইচ্ছে এই সাংঘাতিক লোকটার কাছে সকাল বিকাল দুবেলা প্রাইভেট পড়ে। টিচার হিসেবে তিনি ভীষণ কড়া। খাটাশও একটা! পড়তে এলেই ঘরের সব কাজ করানো শুরু করে দেয়। সে লোকটার পাশে গিয়ে বসল। আস্তে করে ডাকল, “নাওয়াফ ভাই, ও নাওয়াফ ভাই।”

লোকটা কোন সাড়া দিল না। নিশ্চিত গভীর ঘুমে। এই সুযোগ পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম গালাগালিগুলা ব্যাটার মুখের দিকে ছুড়ে মারার। পাখি চোখ খিঁচিয়ে বলল, “ওই হারামজাদা, বুদ্ধির তালগাছ ব্যাটা, আমার ঘুম হারাম করে ঘুমাচ্ছিস? তোর ঘুমের মধ্যে বড়ো বড়ো গোল গোল সব ঠাডা ঝরে ঝরে পড়ুক শয়তান ব্যাটা।” বলেই পাখি অধর ছড়িয়ে উল্টো ঘুরে হো হো করে হাসতে থাকে।

ব্যাটায় শোনে নাই ভেবে সে লোকটার দিকে ঘুরল। ওমনি তার চোখ দুটো বড়ো বড়ো গোল গোল হয়ে এলো। কেননা লোকটা ভ্রু দুটো কুঁচকে তার দিকে তাকিয়ে আছে। হাত পা নাড়িয়ে লম্বা আলসেমি দিয়ে উঠে বসল। সর্বনাশ করে ছাড়ছে। পাখি আজ শেষ। সে টেবিলে গিয়ে দ্রুত বসল। চোখের সামনে একটা বই মেলে ধরল। লোকটার পরনে ট্রাউজার আর টি-শার্ট। ওর দিকে এক পলক তাকিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেল৷ পাখি হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। লোকটা বোধহয় কিছু শোনেনি। আল্লাহ বাঁচাইছে। সে বাংলা বই বের করে গুনগুন করে পড়তে লাগল। মিনিট দুইয়ের মাথায় লোকটা আবার ফিরে এলো। গায়ে লেদার জ্যাকেট পরতে পরতে চেয়ার টেনে পাখির পাশের চেয়ারটাতে বসল। পাখির মুখের দিকে ওই সুচালো ধূর্তমান চোখ দুটো নিবদ্ধ করে বলল, “তুই গালাগালির পিএইচডি করেছিস?”

পাখি বড়ো রকমের একটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসল। ঠোঁট কামড়ে থুতনি নিচু রাখল সে।

লোকটা আবার বলল,

“কানে ধর।”

পাখি চোখ তুলে জানতে চাইল, “মানে?”

“হাতে কলমে বোঝাব তোকে?”

পাখি বুঝল, লোকটা সব শুনে ফেলেছে। সে ঠোঁট উল্টে মুখটা নিচু করে দুহাত দিয়ে কানে ধরল। নাওয়াফ ভারিক্কি গলায় বলল, “ হয়নি, চেয়ারের ওপর উঠে দাঁড়া। তারপরে এক পা উঠিয়ে কানে ধর। পুরো দশ মিনিট তুই কানে ধরে এভাবে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকবি। ততক্ষণে আমি কফিটা খেয়ে আসি। যদি এসে দেখি তুই পা নিচে নামিয়েছিস, সোজা ঠ্যাং ভেঙে ঘরে বসিয়ে রাখব।”

পাখি ক্ষণকালের মধ্যে মুখটা মলিন করে নিল। সকাল সকাল লোকটা এমন না করলেও পারতো৷ আল্লাহ তোর মতন খবিশের বিচার করব, দেখে নিস? কিছুক্ষণের মাথায় লোকটা কফি হাতে ফেরত এলো। কফির মগে এক চুমুক দিয়ে কুচকুচে জোড় ভ্রু দুটো নাচিয়ে ওকে সাধল, “খাবি?”

পাখি বলতেই যাচ্ছিল, ‘হ্যাঁ খাব।’ তার আগেই লোকটা বলে ওঠল, “না না, তোকে কফি দেওয়া যাবে না। কারণ তুই সকাল সকাল কতগুলি আমাকে গালি দিয়েছিস। তাই বলে বদ নজর দিস না। শেষে আমার পেট খারাপ হবে। পেটের মধ্যে ভুট ভুট করবে।”

পাখির ইচ্ছে করল নিজের গালে নিজেকে দুটো থাটিয়ে চড় বসাতে। নিজে নিজেই যেচে কফি সেধে, এখন অপমান করছে ছ্যাহ্! কথা শোনাচ্ছে। যেন সে ওনার কফি খাওয়ার জন্য লাফিয়ে যাচ্ছে। সে কি একবারও চাইছিল, হ্যাঁ আমায় কফি দেন। আমি কফি খাব। আবার কি বলল, ‘নজর দিবি না, পেট খারাপ হবে।’ ইশ, কি অপমান! তোর পেট খারাপ না, তোর পেটে অন্ডকোষ হোক শালার জাউরা কোথাকার!

লোকটার কফি খাওয়া শেষ হলে বলে, “এবার পড়তে বোস।”

পাখি পা জোড়া নিচে নামিয়ে চেয়ারে বসে পড়ল। লোকটা কফি খাচ্ছে। আর সে পড়ছে। আড়চোখে দেখল লোকটা ফোন টিপছে আর ছোট ছোট করে কফির মগে ঠোঁট ছোঁয়াচ্ছে৷ সে মনে মনে বিড়বিড় করে বলল, “শয়তান একটা, লোভ লাগিয়েও কফি দিল না। তোর পেটের মধ্যে দুইটা বড়ো বড়ো ঠাডা পড়ুক। কলেরা হোক, ডায়রিয়া হোক, আমাশা হোক। হাগিতে হাগিতে তোর প্যান্ট নষ্ট হোক। দুদিন বিছানায় ভেটকাইয়া পইড়া থাক। তখন বুঝবি আমারে কফি সেধেও না দেওয়ার ফল। আমি নজর না শুধু, কুখ্যাত বদ নজর দিয়েছি। তোর যাতে হাগা হয়।”

কিন্তু মুখে বলল সে, “নাওয়াফ ভাই, একটা কথা বলতাম?”

“নিষেধ করছে কে?”

পাখি মনে মনে ভাবে, জিজ্ঞেস না করলেও তো দুটো চড় বসাতিস শালা। মুখে সে বলল, “ না মানে শুক্রবার দিন বন্ধ থাকলে ভালো হতো না?”

“কেন শুক্রবার বন্ধ দিলে তুই কি করবি? তোর কি হাঙ্গা হইছে? জাউরা একটা স্বামী আছে? তাকে সময় দিতে হবে? নেই তো? তাহলে তোদের মতন সিঙ্গেলদের জন্য শুক্রবার বন্ধের দিন না। যাদের হাঙ্গা হইছে, যাদের স্বামী আছে। তাদের জন্য শুক্রবার দিন বন্ধের দিন, ঠিকাছে? তুই তো আর বিবাহিত মহিলা না। তোর এতো বন্ধ লাগবে কেন?”

লোকটার কথা শোনার পর পাখির মাথা গোল গোল করে ঘুরতে লাগল। সে মাত্র একটা প্রশ্ন করেছে। আর তাকে কতগুলি জবাব দিয়েছে। অথচ এই লোকটাই তাকে বলে বাঁচাল। হা হা হাস্যকর!

সে আপাতত এতো ভাবাভাবি রেখে বিড়বিড় করে পড়তে লাগল। লোকটা উঠে গেল। যাওয়ার আগে জিজ্ঞেস করল, “তোর সখি কইরে?”

“সখি আবার কে?”

“তোর সঙ্গের আরেকটা।”

“ইচ্ছে?”

“জি মাথামোটা, এবার ঠিকাছে।”

“ও আসবে না বলল।”

“ঠিকাছে, পড়তে বোস। নাসতা করেছিস?”

“উঁহু।”

“করিসনি?”

“নাহ!”

“এটা কি তোর জামাই বাড়ি পেয়েছিস? রোজ রোজ নাস্তা বানিয়ে খাওয়াব?”

পাখি মনে মনে বলে, “রোজ রোজ মনে হয় খেয়েছি। দু’একদিন খাওয়ায় দেখে রোজ খাওয়ায়! আইছে খোটা দিতে।”

মুখে সে বলে, “জামাই বাড়ি হবে কেন? এটা আপনার বাড়ি।”

“আমার কাপড়গুলি ধুয়ে দিয়ে যাস।”

পাখি বিড়বিড় করে বলল, “শুরু হয়ে গেছে।”

“কিছু কী বললি?”

“না তো।”

“নাস্তা করে কাপড় ধুয়ে দিয়ে যাস। এমনিতে তোদের মতন মাথামোটাদের পড়াতে পড়াতে মুখের ভাষা অসংখ্য খরচ করতে হয় আমার। তার বিনিময়ে তো কিছু কাপড় নিজ থেকে ধুয়ে দিয়ে মানবতা দেখাতে পারিস।”

পাখি ঠোঁট ফুঁড়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে বলে, “এহ্, আপনাকে মনে হয় বলেছি বিনা পয়সায় পড়াতে। আপনি নিজ থেকেই তো পড়ান।”

“আমি ছাড়া তোর মতন মাথামোটাকে পড়াবে কে? সবাই তো আমার মতন মহান নয়।”

উনি মহান? হাস্যকর! নিজের ঢোল, নিজেই পেটায়।

পাখি মিনমিন করে ঠোঁট উল্টে বলল, “আমি মোটেও মাথামোটা নই, নাওয়াফ ভাই।”

“তুই শুধু মাথামোটা নস। তুই একটা সাংঘাতিক ভয়ংকর মহিলা।”

পাখির বড্ড বলতে ইচ্ছে করল, “আমি কি করেছি? কথায় কথায় আমাকে সাংঘাতিক মহিলা, ভয়ংকর মহিলা বলেন কেন? আপনাকে কি কামড়ে দিয়েছি?”

কিন্তু সে আর তর্কে গেল না। পড়া শেষ হলে লোকটার কাপড় ধুতে গেল। সেখানে গিয়ে দেখে লোকটার একটা আন্ডারওয়্যার রাখা। সে সঙ্গে সঙ্গে ললাট কোঁচকালো। নাক সিটকে রইল।

“ছ্যাহ্, এই বাল ছাল ধোওয়ার জন্যই তারে এতো তাড়া দিছিল। শালা লুচ্চা কোথাকার!”

সে কাপড় ধুয়ে ছাদে গেল রোদে শুকা দিতে। সব কাপড় দেওয়ার পর নিচে দেখল বালতির তলে আন্ডারওয়্যারটি পড়ে আছে। সে ঘৃণায় সেটা হাত দিয়ে ধরল না। একটা লাঠি খুঁজে এনে লাঠির মাথায় তুলে নিল। নাক চেপে ধরে ছাদ থেকে সেটা নিচে ফেলে দিলো। আন্ডারওয়্যারটি গিয়ে পড়ল সোজা রমিজের মুখের ওপর। সে তখন ব্রাশ করছিল। মুখের ওপর কিছু পড়ার অনুভব পেয়ে সে মুখে হাত দিল। দেখল ব্লু রঙের একটি আন্ডারওয়্যার। সে সঙ্গে সঙ্গে নাক কুঁচকে ফেলল। নিশ্চিত এটা সাফিনের। কতবার বলেছে শালারে, ছাদে আন্ডারওয়্যার রোদে শুকা দিবি না। যখন তখন বাতাসে উড়ে এসে মাথার ওপর পড়ে। এবার তো সোজা মুখের ওপর এসে পড়েছে। না তার কথা শালায় শোনেনি। আজ দুটো কড়া কথা শোনাবে সে। সে সেটা কেনি আঙুলের মাথায় ধরে সাফিনের দিকে ছুটে গেল। সাফিন তখন ঘুমাচ্ছিলো। সে গিয়ে সাফিনের পশ্চাদ্দেশে একটা লাথি বসিয়ে দিল।

“ওঠ শালা, কতবার বলেছি ছাদে আন্ডারওয়্যার শুকা দিবি না। বার বার বাতাসে বালডা আমার মুখের সামনে এসে পড়ে। তারপরেও দিয়েছিস? এই ওঠ।”

সাফিন ঘুম মাথায় নিয়ে উঠে বসল। চোখ পাকিয়ে সে রমিজকে শাসাল, “এই তোর সমস্যা কি? আমার বউয়ের পাছায় লাথি মারছিস কেন?”

“কত টাকা দিয়ে পাছা কিনছে তোর বউ?”

“ধুরো শালা! পাছা কেন টাকা দিয়া কিনতে যাইবো? ও তো আমি বিনা পয়সাই দিয়ে দিব। এখন সমস্যা কি সেটা বল?”

আন্ডারওয়্যারটি সাফিনের মুখের সামনে রমিজ ঝুলিয়ে জানতে চাইল, “এই হাফপ্যান্টটি কি তোর?”

“হাফপ্যান্ট পরার বয়স কি এখনো আমার আছে?”

“শালা মশকরা করোস? এটা আন্ডারওয়্যার।”

সাফিন চোখ দুটো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ভালো করে প্যান্টটি দেখল। সে দুদিকে মাথাটা ঘুরিয়ে বলল, “না তো। এটা আমার না। এটা তুই পেয়েছিস কোথায়?”

“ছাদ থেকে নিচে পড়ছে। তাও আমার মুখের ওপর।”

“তাইলে আর কার? ভাইয়ের নাকি?”

“না ধুর! ভাইয়ের আন্ডারওয়্যার এতো সকালে ছাদে যাবে সাঁতার কাটতে?”

“এতো মহাজ্বালা!”

ওদের কথার মাঝে দীর্ঘদেহি লোকটার গলা পাওয়া গেল। রমিজ বলে চেঁচাতে চেঁচাতে এইদিকে সে আসছে। হঠাৎ রমিজের হাতে নিজের ব্যক্তিগত জিনিস দেখে সে আশ্চর্য হলো। এটা তো সে পাখিকে ধুতে দিয়েছিল। নিশ্চয়ই মেয়েটা এটা বাহিরে ফেলে দিয়েছে। ওটাকে পরে দেখে নিবে। আজ বেশ পোক্ত করে সাইজ করবে। আগে ওদের থামানো যাক। সে শুধাল, “কিরে তুই আন্ডারওয়্যার হাতে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আন্ডারওয়্যারের নতুন বিজনেস খুলে বসেছিস নাকি?”

“আরে না ভাই। এটা ছাদ থেকে নিচে পড়ছে। দেখেন তো আপনার নাকি?”

“এতো দেখাদেখির কি আছে? এ বাল আমার। বাহিরের রশ্মিতে দিয়ে আয়। উপরেরটাকে আমি ততক্ষণে দেখে আসছি। আজ একটা কঠিন করে সাইজ করব।” বলেই লোকটা হাঁটা ধরল। রমিজরা সেদিকে এক পলক তাকিয়ে তাদের কাজে মনযোগী হলো।

লোকটা ছাদে গিয়ে দেখল পাখি প্রকৃতি বিলাশ করছে। ছাদটি বেশ সুন্দর। সে ঘুরে ঘুরে দেখছিল। তখনই নাওয়াফ এলো। পাখিকে হাঁটতে দেখে ডাকল, “সুইট পটেটো, এইদিকে আয়।”

পাখি শশব্যস্ত পিছু ঘুরল। দেখল লোকটাকে এইদিকে এগিয়ে আসতে। সে একটা জিনিস বুঝল না। এতো এতো নাম থাকতে তাকে কেউ ডাকে মিষ্টি আলু, কেউ ডাকে গোল আলু। এসব কি? হ্যাঁ, সে মানছে আলু তার অনেক পছন্দ। একটু বেশিই খায়। তাই বলে মিষ্টি আলু, গোল আলু এসব কেমন নাম?

পাখি হেঁটে গেল লোকটার দিকে।

“ডাকছেন, নাওয়াফ ভাই?”

লোকটা এক টান মেরে ওকে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল। বন্দী খাঁচার মতন ওকে দুহাতের মধ্যখানে আটকে দিল। ওর মুখপানে সুগভীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিজোড়া স্থাপন করে বলল, “আমার গোপন জিনিস যেখানে সেখানে ফেলছিস কেন? ওরা তোর কি ক্ষতি করেছে?”

পাখি বুঝল লোকটা কোনটার কথা বলছে। সেও কম নয়। গলা উঁচিয়ে বলল, “গোপন জিনিস গোপন জায়গাই থাকা ভালো। সেটা যার তার কাছে তুলে দেন কেন? আপনার কি মান ইজ্জত নেই?”

লোকটা ঠোঁট কামড়ে সুগভীর চোখ জোড়া নাচিয়ে বলে, “না নেই। সব ইজ্জত শেষ করে দিছে একটা জ্বলন্ত কয়লা মন চোরা পাখি। তার কাছে মান ইজ্জত সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন তোর কোন সমস্যা?”

“আলবাৎ সমস্যা আছে। আমি ওসব ধুতে পারব না।”

নাওয়াফ পাখির একদম ছুঁইছুঁই হয়ে দাঁড়ায়। আচমকা খসখসে হাতে পাখির মসৃণ লতানো কোমরটা শক্ত করে চেপে ধরল। টেনে পেটের সঙ্গে মিশিয়ে নিল। পাখি বিস্ফোরিত হলো। কম্পন ধরে গেলো তার গোটা শরীরটাতে। বিদ্যুতের মতন চমকাল শরীরটা। অবিশ্বাস্য নয়নে লোকটার মুখের দিকে তাকাল সে। দেখল লোকটার উজ্জ্বল চোখ দুটো তার মুখশ্রীর ওপরই নিবদ্ধ। লোকটা ওর গলার কাছে মুখটা নিয়ে কর্ণপাতে বলে, “কেন পারবি না ধুতে, হুঁ? তোকে রোজ ধুতে হবে।” উনার কণ্ঠে গভীর অধিকারত্ববোধ ফুটে ওঠে।

পাখি আমতা আমতা করে। বলে, “আমি আপনার ঘরের বউ না। তাই আমার ওপর অধিকারবোধ দেখাবেন না।”

ওর কথা শোনার পর লোকটা ওর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়াল। সমগ্র শরীর এবার লোকটার কবজায়৷ দীর্ঘদেহি শরীরের সঙ্গে মিলেমিশে ওর ছোট শরীরটা একাকার। পাখি হাঁসফাঁস করে। অসম্ভব ঘামে। লোকটার বুকে ধাক্কা দিয়ে তাকে সরাতে চায়। কিন্তু এতো পাথরের মতন একটা শরীর। ধাক্কালেও সরে না। লোকটা এবার ওর হাত দুটো এক হাত দিয়ে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল। আরেক হাত দিয়ে ওর নিচু থুতনি উঁচু করে বলল, “আমি অধিকারবোধ দেখাবোই। পারলে তুই ঠেকা।”

“আমি আপনার কাপড় ধুবো না। আপনার কাপড় আপনার বউ এসে ধুবে। আমি কেন ধুব?”

লোকটা ঠোঁট টিপে হাসে। সেই সঙ্গে হাসে ওনার প্রগাঢ় তীক্ষ্ণ চোখ দুটোও। সে বলে, “বউ হবি, নাওয়াফ তালুকদারের বউ? প্রমিজ তাহলে আর কাপড় ধুতে হবে না। বেশ আদরে রাখব তোকে।”

পাখি বিস্ময় হয়। বিস্ফোরিত হয় তার নয়নজোড়াও। স্বয়ং নাওয়াফ ভাই বলছে এ কথা। এ যে অবিশ্বাস্য! সে দুহাতে ঠেলেও লোকটাকে তার কাছ থেকে বিন্দুমাত্র সরাতে পারল না। বেশ পোক্ত শরীর। ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস পড়ে তার। ওড়নাটা গলা থেকে অনেক নিচে নেমে গেছে। গলা বেয়ে স্বেদ জল গড়ায়। সে মুখের ওপর বলে ওঠে, “আপনার মতন পাঙ্গাসের বউ হব কি করতে? সকাল বিকাল ঠাস ঠাস চড় খেতে? এমনিতে গোলগাল গালটা আমার রোজ রোজ থাপ্পাড়ে থাপ্পাড়ে চ্যাপ্টা বানিয়ে দিয়েছেন। তাছাড়া আপনার ভার সামলাতে পারব না আমি নাওয়াফ ভাই। যেই পাঙ্গাসের মতন আপনার একটা শরীর! ওই শরীর নিয়া একটা ঘষা ঢলা দিলেই আমি পাখি শেষ।”

লোকটা দাঁতের তলে ঠোঁট চেপে শুধাল,

“কি বললি, আমি পাঙ্গাস?”

পাখি এতক্ষণে বুঝল উত্তেজনাবশত সে কি বলে ফেলল? এবার সে পাখি ঠুস। লোকটা আবার বলল, “দিয়ে দেখাব এখন একটা ঢলা?”

পাখি দ্রুত লোকটাকে ধাক্কা মেরে পালাচ্ছিলো। লোকটা ছো মেরে ওর হাত চেপে ধরে ফেলল।

“পাঙ্গাস বলে পালাচ্ছিস?”

পাখি সেকেন্ডের মধ্যে মুখটা কাঁদো কাঁদো করে নিল। সে বলল, “ছাইড়া দেন, নাওয়াফ ভাই। আর কখনো আপনাকে বলবো না আপনি পাঙ্গাস। পাঙ্গাসের মতন আপনার একটা শরীর।”

(চলমান~)

#লামইয়া_তাসনিম

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন