#সে_আমার_সর্বনাশ_২
(০৪)
তপ্ত দুপুর! আজ দুপুরের রোদটা বেশ কড়া। আকাশ জুড়ে তার তীক্ষ্ণ উপস্থিতি। তবুও শীতের রেশ এখনো পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। রোদের সেই কঠোরতার ভেতরেও লুকিয়ে ছিল এক অদ্ভুত মিঠে কোমলতা। যেন আলো আর শীত একসাথে মিলে দুপুরটাকে স্পর্শ করছিল। ক্লান্তির মাঝেও এনে দিচ্ছিল নরম এক প্রশান্তি।
পাখির কাঁধে একটি কালো রঙের স্কুল ব্যাগ। হাতে ঝালমুড়ি। পরনে স্কুলের ইউনিফর্ম। দু’কাঁধে লম্বা দুটো সাদা ফিতা দিয়ে বাঁধা বেনি ঝুলছে। মুখটাতে ক্লান্তি ছাপিয়ে গেছে। ঝালমুড়ি খেতে খেতে সে পিচ ঢালাই করা রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। সামনেই ক্লাব। লোকটা নিশ্চয়ই ওখানে আছে। কি যেন সে একটা নিক নেম দিয়েছিল? ও হ্যাঁ পাঙ্গাস, পাঙ্গাস ভাই। না না, পাঙ্গাস খান হবে। এবার ঠিকাছে। ‘পাঙ্গাস খান’ নামটা উচ্চারণ করেই পাখি খিলখিল করে হাসতে লাগল। ভাগ্যিস লোকটা সামনে নেই। থাকলেই কান দুটো ধরিয়ে দিতো। মারপিট করতে বেশ ওস্তাদ। হাতের মারও বেশ শক্ত। ভাগ্যক্রমে কয়েকবার খাওয়া হয়েছিল। সে ক্লাবের সামনাসামনি আসতেই শুনতে পেল ক্লবের মধ্যে সাইয়ারা মু্ভির একটা গান লো ভলিউমে বেজে চলছে...
সাইয়ারা তু তো বদলা নাহি হ্যায়
মৌসম জরা সা রুঠা হুয়া হ্যায়
বিতে লমহো সে দুনিয়া বসা লু ম্যায়
তো তেরে আসুও কা বনা হু..
পাখি ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। এই ব্যাটার কি কোন কাজ নেই? সারাদিন ক্লাবে বসে গান শোনে। আসার সময়ে ওনার বোন নোভা ম্যাডামকেও দেখা গেল ক্লাবে। উনি আবার তাদের টিচার। লোকটা তার বোনের সঙ্গে বসে ছিল। কি যেন বিষয়ে বেশ সিরিয়াস হয়ে কথা বলছে। দরজার কাঁচের থাইগ্লাসটি খোলা। পাখি মুখটা ব্যাগ দিয়ে ঢেকে রাখল যাতে লোকটার চোখে না পড়ে। গতকাল কোনভাবে পাঙ্গাস বলে বেঁচে ফিরেছে। সেই ভয়ে আজ সকালে প্রাইভোটেও যাইনি। ইচ্ছে ফোন করেছিল। সে বলে দিয়েছে তার পেট খারাপ। নিশ্চিত এখন দেখলে জিজ্ঞেস করবে, “কীরে সুইট পটেটো, নতুবা মৃধার মাইয়্যা তোর নাকি পেট খারাপ? তাহলে স্কুলে গেলি কেমনে? সব পড়া চোরের ধান্দা না?”
সে জানে এমন কিছুই বলবে লোকটা। বেশ ভালো করে চেনা আছে। তার আগেই তাকে পালাতে হবে। আগামীকাল তার স্কুল বন্ধ। সে মুখের ওপর ব্যাগ দিয়ে কোন মতন মুখটা লুকিয়ে পালাচ্ছিল। নাওয়াফ কথা বলতে বলতে আড়চোখে রাস্তার দিকে চাইল। তখন পাখির ব্যাগ দিয়ে আড়াল করা মুখটা চোখে পড়ল। ললাট তার স্বল্প কুঁচকে এলো। এইটার আবার কি হলো? ব্যাগ দিয়ে মুখ ঢাকছে কেন? পেট খারাপ নাকি! তাহলে স্কুলে গেল কিভাবে? সব মিথ্যে তাহলে? পড়তে না আসার ধান্দা। পড়া চোর কোথাকার! হাতের কাছে একবার পাক, সোজা চেপে ধরবে। নিশ্চয়ই সে যাতে না দেখে এজন্য মুখটা ব্যাগ দিয়ে ঢেকে পালাচ্ছিল ভেবেই সে ঠোঁট টিপে হেসে দিল। নোভা চোখ কুঁচাকালো। সে জিজ্ঞেস করল, “এই তুই হাসছিস কেন?”
“এমনি।”
নোভা আলতো করে নাওয়াফের কাঁধে চড় বসাল।
“ফাজিল, মিথ্যে বলছিস কেন? নিশ্চয়ই পাখিকে দেখেছিস? দাঁড়া ওয়েট..!” বলেই সে বাহিরে গলা টেনে একটুখানি উঁকি দিল। দেখল স্কুল পরিহিত একটি মেয়ে চুল নাচিয়ে নাচিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। চুলের আন্দাজে বলে মেয়েটা পাখি। নোভা ডাক দিল, “এই যে ছোট পাখি..!”
পাখি শুনেও না শোনার ভান ধরে হাঁটছিল। তার ইচ্ছে নেই ওখানে যাওয়ার। সে জানে ওখানে গেলেই লোকটা তাকে চেপে ধরবে। প্রাইভেটে কেন যায়নি তা নিয়ে হাজারটা জেরা করবে? খোঁচা দিয়ে কথা শোনাবে। সে বাপু ওর মধ্যে নেই। তার চেয়ে ভালোয় ভালোয় কেটে পড়া ভালো।
নোভা আবার ডাকতে যাচ্ছিলো। নাওয়াফ চেয়ারে গা হেলিয়ে দিয়ে বলল, “আর ডেকো না। আসবে না। ও ইচ্ছে করেই তোমার ডাক না শোনার ভান ধরছে। বেয়াদব একটা!”
নোভা জানতে চাইল,
“তার কারণ?” নিশ্চিয়ই তুই ওকে বকেছিস?”
“না বকিনি। ওমন মায়াবি চোখ দুটোর দিকে চোখ পড়লে রাগ দেখাতে পারি? পারি না। তখন হাজার রাগ থাকলেও আমি দুর্বল হয়ে যাই। ও আসবে না এর মেইন কারণ হলো তোমার ভাই যে এখানে এ জন্য। আসলে যদি ওকে আমি খেয়ে ফেলি।” শেষ করেই অধর ছড়িয়ে সে হাসে।
নোভা চোখ রাঙাল।
“লুচ্চা কোথাকার! ভালো হ।”
“ওকে ঘরে তুলেই প্রমিজ ভালো হয়ে যাব।”
নোভা ঠোঁট ছড়িয়ে হেসে দিল। তৎপর বলল সে, “অসভ্য, বিয়ের আগেই বউ বউ করছে। বউ পাইলে তখন মা বোন সব ভুলে বসবে।”
নাওয়াফ ঠোঁট টিপে হাসে। ঠোঁট উল্টে বলে, “এখানে ভোলার প্রশ্ন আসে কোথা থেকে? আমার বউ না আসতেই তুমি হিংসুটামি করা শুরু করে দিয়েছো? এটা কিন্তু খুব খারাপ।”
নোভা উত্তর দিল না। নীরবে কতক্ষণ নাওয়াফের মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে। হঠাৎ বলে, “আমার ভাইয়ের মতন একটা সুপুরুষ যে মেয়ে পাবে, নিশ্চিত সে ভাগ্যবতী মানতে হবে।”
“সে ভাগ্যবতী নারী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।”
“দাঁড়া, ওকে ডাকি।”
নোভার কথা শুনে নাওয়াফ ঠোঁট ছড়িয়ে হেসে দিল। নোভা
ওই হাসিটুকু দেখে তৃপ্তি পেল। তার ভালো লাগল। মুচকি হেসে তৎক্ষণাৎ বলল সে, “তুই জানিস তুই যে can yaman এর ফটোকপি। সেম দেখতে একেবারে। তবে তোর চোখ দুটো একটু বড়ো।” শেষ করেই সে পাখিকে পিছু থেকে আবারও ডাকল, “এই পাখি, এই যে এখানে। পিছু ঘুরো।”
পাখি ভাবছিল সে পিছু ঘুরবেই না। কিন্তু না, ভাগ্য তাকে পিছু ঘুরিয়েই ছাড়ল। একজন মধ্যবয়সি লোক তখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। সে ওকে ডেকে ধমক দিয়ে বলল, “এই মেয়ে, তোমাকে তোমার ম্যাডাম ডাকছে। তুমি শুনতে পাচ্ছো না?”
পাখির হাওয়া ফুস হয়ে গেল। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে না, যার জন্য রাজ্য হারা, সে এসেই সামনে খাঁড়া। তার ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটল। সে ওখানে নাওয়াফ ভাই দেখে যেতে চাচ্ছিল না। কিন্তু শেষে হলো কি? যেতেই হচ্ছে। সে পিছু ঘুরে ক্লাবের দিকে তাকাল। নোভা তাকে ইশারায় কাছে ডাকল, “এইদিকে আসো।”
সে উসখুস করে নিচু বদনে গেল। সেখানে যেতেই লোকটার তীক্ষ্ণ চোখ দুটোর সঙ্গে তার এক সেকেন্ডের জন্য চোখাচোখি হলো। তার বুকটা তৎক্ষণাৎ ধক করে ওঠল। কেমন যেন ছিল ওই দৃষ্টিজোড়া। কেমন সে জানে না। তবে কিছু একটা ছিল। যাতে তার শরীরটা অবশ অবশ লাগছে। শরীরে কিসের যেন একটা ঢেউ বয়ে গেল? আর সবচেয়ে বড়ো কথা হলো ওনাকে দেখলে তার কেমন যেন একটা ফিলিংস হয়। তখন শরীর শিরশির করে আর নিজেকে দুর্বল দুর্বল লাগে। নিজের হাত পায়ের উষ্ণতা বাড়ে। এ ফিলিংসগুলো আগে হতো না। বেশ অদ্ভুটে ফিলিংস। যখন থেকে মজার ছলে ওনি তাকে বলেছিল, “বউ হবি, নাওয়াফ তালুকদারের বউ?” তখন থেকে এসব হচ্ছে। গতকাল রাতে সে একটা স্বপ্ন দেখল। লোকটার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। আজ তাদের বাসর রাত। লোক রুমে ঢুকছিল, সেই মুহূর্তে ঘরের কারেন্ট চলে গেল। লোকটা মোমবাতি খুঁজে জ্বালিয়ে নিয়ে এসে ওর সম্মুখে বসল। ঘোর লাগা দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। হুট করে লোকটা একটা কাজ করে বসল। ওর কোমল ওষ্ঠে পুরুষালি ওষ্ঠজোড়া পিষে দিলে। ওর বুকের ওপর থেকে দোপাট্টা সরিয়ে ফেলল। ব্লাউজের ফিতায় টান বসিয়ে....
বাকিটা সে আর ভাবতে পারছে না। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। শরীর ঘামছে। উদরের নিচাংশে প্রজাপ্রতি উড়ছে৷ ইশ! কি অশ্লীল ফিলিংস? লজ্জায় তার মাথা কাটা যাচ্ছে৷ এসব সে কি দেখেছিল? তার ঠোঁট দুটি শুকনো। গলায় ঝুলানো ওড়না দিয়ে সে কোন মতন নাক মুখ মুছল। এরপরে নোভার কাছে ধীরুজে গিয়ে মুখটা থুতনির সঙ্গে নামিয়ে বলল, “ডাকছিলেন ম্যাডাম?”
“হুঁ, ভাগ্যিস শুনেছো। আমি তো ভাবছি কানে তালা লাগিয়েছো। এখন বসো।”
পাখি নিঃশব্দে বসল। নাওয়াফ ভ্রু দুটো উঁচিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করল, “সকালে পড়তে আসিসনি কেন?”
পাখি শুকনো একটা ঢোক গিলল। এটারই সে এতক্ষণ ভয় পাচ্ছিল। এখন কি জবাব দিবে? নোভা নাওয়াফকে শক্ত করে চোখ রাঙাল। “তোর পড়ার জন্য ওকে ডাকিনি। আমার কাজের জন্য ডেকেছি। এখন কিছু অর্ডার কর। কিপ্টামি করিস না।”
লোকটা ছন্নছাড়া স্বভাবে বলে, “টাকা থাকলে টাকা দেও। ফাও জায়গায় টাকা খরচ করতে পারব না। এখনো বিয়ে করিনি আমি। সব টাকা তোমাদের পিছনে খরচ করে ফেললে শেষে আমার একমাত্র বউ এসে খাবে কি? বউয়ের জন্য টাকা জমাতে হবে না?”
নোভা চোখ রাঙাল।
“তোর বউকে টাকা আমি দিয়ে দিব। তবুও কিপ্টামি করিস না ভাই।”
বউয়ের প্রসঙ্গ আসতেই নাওয়াফ চট করে পাখির নিচু মুখটার দিকে চাইল। মেয়েটার মুখটা নিচু। ঘামে লাল হয়ে আছে। চোখ দুটোতে কাজল দেওয়া। মুখটা ভীষণ মায়াবি। ঠোঁট দুটি খয়েরি লাল দেখতে। তার ভীষণ লোভ জাগল। ওখানে একটু স্পর্শ করার। একটু ভালবাসা এঁকে দেওয়ার। সে ওর দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে দিল।
“আমার বউয়ের চিন্তা তোমার করতে হবে না। বউ আমার, চিন্তাও আমার।”
“ভাগ এখান থেকে। বিয়ের আগেই বউ বউ বলে লাফাচ্ছে।”
নাওয়াফ উঠল না। নোভার কথা কানেও তুলল না। সে রমিজকে আদেশ দিল, “এই রমিজ, ভিক্ষুকদের দু কাপ চা দিয়ে যা তো।”
পাখির মৃগনয়ন জোড়া সূক্ষ্ম অপমানে বড়ো বড়ো হয়ে গেল। ভিক্ষুক বলায় তীব্র অপমান গায়ে এসে লাগল। ডেকে এনে অপমান, ছিহ!
নোভা নাওয়াফকে শক্ত করে চোখ দুটি পাকাল। নাওয়াফ সেসব তোয়াক্কা করল না। সে উঠে গেল। তার জরুরি ফোন আসছে। কথা বলতে বলতে সে বেরিয়ে গেল। নোভা সেদিকে তাকিয়ে ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলল। সে নিজের হাত থেকে একটি আংটি খুলে পাখির হাতে ঢুকিয়ে দেখল, মাফটা ঠিকাছে কিনা।
“মাফ তো ঠিকই আছে৷”
পাখি বুঝল না, এসব হচ্ছেটা কি? তার চোখে মুখে গভীর চমকপ্রদ, উৎসুক ভাব। নোভা পাখিকে জিজ্ঞেস করল, “গত রবিবার তোমার নাকি নানু মারা গেছে? এজন্য ছুটি নিয়েছো? সত্যিই কি তোমার নানু মারা গেছে? গতকাল কিন্তু তোমার নানু আমার সঙ্গে দেখা করে গিয়েছে।”
মিথ্যে কথা বলে যে সে এভাবে ফেঁসে যাবে পাখি তা ভাবতেও পারেনি। সে দুটো ঢোক গিলল। এই মুহূর্তে একগ্লাস পানি হলে মন্দ হতো না। সে যে এভাবে নিষ্ঠুরের মতন ধরা খেয়ে বসবে সে কল্পনাও করতে পারেনি। কথাটি নিশ্চয়ই আবুল স্যার নোভা ম্যাডামকে বলেছে। আবুল স্যার তো ওদের হেড টিচার। তার আগেই সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। এখন লজ্জায় মাথাটা হেড হয়ে এলো। নোভা আবার বলল, “লজ্জা পেতে হবে না। দেখো না, আমার ভাইটা নির্লজ্জ। ঠোঁট কাটা। নিজের বোনকেও পর্যন্ত মানে না। যা বলার সরাসরি বলে দেয়। ওর মতো হতে হবে। আর মাত্র কটা দিন। তারপর তো...! থাক, এখন যাও তুমি।”
পাখি নোভার কথার আগামাথা কিছুই বুঝল না। আর মাত্র ক'টা দিন মানে? তবে সে প্রশ্ন করতে গেল না। কি দরকার বাড়তি প্রশ্ন করে কথা বাড়ানোর। কেবল সম্মতি দিয়ে মাথা ঝাঁকাল। নীরবে বেরিয়ে গেল। আসার সময়ে লোকটার সঙ্গে দেখা হলো। লোকটা ওকে পিছু থেকে ডাকল, “এই যে মৃধার মাইয়্যা, দাঁড়া। কথা আছে।”
পাখি দাঁড়ায়নি। সে ব্যাগ কাঁধে শক্ত করে নিয়ে দিল একটা ভোঁ-দৌড়। ওর দৌড়ানো দেখে লোকটা পুরাই থ। মনে মনে একটা ধমক দিয়ে বসল সে, “গর্দভ কোথাকার!”
পরক্ষণেই সে হেসে দিলো।
____
দুপুর থেকে পাখির পেট খারাপ। পেটের মধ্যে ভুট ভুট করছে। তাহিরা দুবার ওকে ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা পানি বের করে গাছ থেকে তাজা লেবু ছিড়ে এনে সরবত বানিয়ে দিয়েছে৷ তবুও ভুট ভুট করা কমছে না। বরঞ্চ বাড়ছে। সে বারংবার টয়লেটে ছুটছে। ছোট জারিফা পাখির বার বার বাথরুম আর ঘর, ঘর আর বাথরুম ছোটাছুটি দেখে মুখে চেপে হাসে। তাহিরা জারিফাকে চোখ রাঙাল।
“হাসছিস কেন রে তুই?”
জারিফা সঙ্গে সঙ্গে মুখটা দুহাতের তালুর মধ্যে চেপে ধরল। যদি হাসার কারণে তার আম্মা ধমক দেয়। এমনিতে তার আম্মা যে রাগি! সে প্রচন্ড ভয় পায় তার আম্মাকে।
পাখির শরীর বিছানার সঙ্গে লেপ্টে রইল। শরীরটা পুরো নেতিয়ে। কোন শক্তি নেই। শরীরে কিছুই নেই। স্বাধীন সবে দোকান থেকে ফিরেছে। পড়ালেখা করে না দেখে বাড়ির সামনে তাকে একটা চায়ের দোকান দিয়ে দিয়েছে তাহিরা। সেখানে বসে সারাদিন চা বিক্রি করে। এখন এসেছে খাবার খেতে। তাহিরা জলদি স্বাধীনকে পাঠাল এক পাতা ঔষধ আর খাবার সেলাইন আনতে কাজিরহাট বাজারে।
“জলদি যা, ঔষধ আর সেলাইন নিয়া আয়। পাখির অবস্থা ভালো না। কোমর শেষ। হাগতে হাগতে ভেঙে গেছে।”
“বাহিরের খাবার খায় জোলার খাওন। খাগা হইবে না তো কি হইবে?” বলেই স্বাধীন বিড়বিড় করতে করতে বেরিয়ে গেল।
রাস্তা দিয়ে সে যাচ্ছিল। নাওয়াফ দুপুরের খাবার খেয়ে সবে ক্লাবে এসে বসেছে। তখন স্বাধীনকে রাস্তা দিয়ে ধা ধা করে হেঁটে যেতে দেখে সে ডাকল, “এই স্বাধীন, এই দিকে আয়।”
স্বাধীন নীরবে হেঁটে নাওয়াফের কাছে গিয়ে বসল। নাওয়াফ এক মুঠো বাদামের খোসা ছাড়িয়ে মুখের মধ্যে ভরে চিবাতে চিবাতে ওকে জিজ্ঞেস করল, “ওমন শাঁ শাঁ করে হেঁটে যাচ্ছিস কোথায়?”
“আর বইলেন না নাওয়াফ ভাই, পাখি আপার হাগা হইছে। আম্মা পাঠাল তাই ঔষধ আনতে।”
“নিশ্চিয়ই কামরুলের দোকানের পচা ফুসকা খাইছে?”
স্বাধীন সুতীব্র আশ্চর্য হয়ে গেল। শশব্যস্ত বলল, “হ্যাঁ, কিন্তু আপনি জানলেন কী করে?”
লোকটা সুদীর্ঘ দেহটা চেয়ারে হেলিয়ে দেয়। তৎপর চিবানো চিবানো গলায় বলে, “তোর বোন তো! ওর সব বাজে অভ্যেস আমার থেকে কেউ ভালো জানে না। তুই এখন ভালো মতন বাড়ি চলে যা। ওর পেট ভুট ভুট বন্ধ করার ব্যবস্থা আমি করছি।”
স্বাধীন জানতে চাইল, “কী করবেন?”
“আহা যাতো।”
স্বাধীন চেয়ার থেকে উঠে চলেই যাচ্ছিলো। নাওয়াফ আবার ওকে পিছু থেকে ডাকল, “এই স্বাধীন, চা খাবি? মালাই চা?”
স্বাধীন মৃদু হেসে বলল, “খাওয়ালে মন্দ হতো না। শরীরের ক্লান্তি ঢাকতো।”
“ঠিকাছে, চা খেয়ে এখানেই ঘুমিয়ে নে। ভিতরের বেডরুম খালি আছে। আমি গিয়ে শখের শশুর বাড়ি থেকে একটা চক্কর মেরে আসি। বউটা আমার পেটের মধ্যে ভুট ভুট শব্দ বাঁধিয়ে ফেলেছে। এই বয়সে হাগিতে হাগিতে কোমর নষ্ট করে ফেললে বউ আমার শেষে বাতাসের সঙ্গে উড়ে যাবে।”
স্বাধীন হাসতে হাসতে বসে পড়ল। হাসি বন্ধ করে বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ, যান। নিজের বউয়ের সেবা নিজেই গিয়ে করুন।”
নাওয়াফ স্বাধীনের জবাব শোনা পর্যন্ত অপেক্ষা করল না। সে বাজার থেকে দুই কুড়ি বিচি কলা নিয়ে মোল্লা বাড়ির দিকে গেল। স্বাধীনদের বাড়ির নাম মোল্লা বাড়ি। বাড়ির সামনে গিয়েই সবার আগে চোখে পড়ল মোজাম্মেল মোল্লাকে। সে কাজ করছিল। তাহিরার স্বামী হয়। ভীষণ কিপ্টা লোক। হাতের ফাঁক দিয়ে বোধহয় এক ফোঁটা পানিও বের হয় না। নাওয়াফকে সে পছন্দ করে না যেনও তবুও নাওয়াফ এই কিপ্টা লোকটাকে পথে খাটে, বাজারে যেখানে পাবে, সেখানে বসেই খোঁচা দিয়ে দুটো কথা শুনাবেই। মোজাম্মেল মোল্লা অবশ্য ওসব আমলে নেন না। জানেন তাকে রাগানোর জন্য ছেলেটা খোঁচা দিচ্ছে। সে কথা কম বলতে পছন্দ করে। নাওয়াফ গিয়ে তাকে লম্বা এক সালাম ঠুকল।
“সালাম শশুর সাহেব। ভালো আছন?”
মোজাম্মেল মোল্লা খানিকটা বিরক্ত হলো। নাওয়াফকে তার পছন্দ নয়। এর প্রধান কারণ মারামারি, খুনাখুনি, রাজনীতি। এসবটাই নাওয়াফের মধ্যে আছে। সেদিন দুজন ছেলেকে ভরা বাজারের মধ্যে বসে এই ছেলে পিটাতে পিটাতে রক্তাক্ত করেছে। ওমন ছেলে নাকি পাখিকে পছন্দ করে। বিষয়টি তিনি মানতে নারাজ। মেয়ে হিসেবে ছেলের বয়স বেশি। ওই ছেলের কাছে পাখিকে বিয়ে দেওয়া মোটেও ভালো হবে না। তিনি নাওয়াফকে দেখে ললাট স্বল্প কুঁচকে ফেললেন।
“কি চাই?”
নাওয়াফ ঠোঁট কামড়ে বলল, “বউ চাই। একটা বউ দরকার। বউয়ের অভাবে শীতে মরছি। দিবেন একটা বউ?”
নাওয়াফের এহেন ঠোঁট কাটা কথায় মোজাম্মেল মোল্লা সামান্য হকচকিয়ে ওঠলেন। ছিঃ! ছিঃ! কি যুগ এলোরে বাবা? আজকাল ছেলেদের লজ্জাটুকুও নেই। মুখের ওপর বউ চাই বলে চেঁচাচ্ছে, ছ্যাহ্। আর তাদের সময় বিয়ের কথা মুরব্বিদের আড়াল থেকে বলতে শুনলেও লজ্জায় লাল হয়ে যেতো। সে যুগ এখন আর আছে! তাছাড়া সে তো ভুলেই গিয়েছিল এই ছেলের লজ্জা নেই। সে মুখটাকে ভারিক্কি করে নিল। শক্ত অভিব্যক্তিতে বলল, “যেভাবে বউ চাইছো, মানুষ ওভাবে ভাতও চায় না।”
“ভাত ছাড়া থাকা যায়। বাট বউ ছাড়া থাকা যায় না।”
“আমি কাজি নই যে বিয়ের বিজনেস করি। তুমি ভুল জায়গায় এসে পড়েছো বাপু। এখন যাও, ডিস্টার্ব করো না।”
“ও ভিতরেই আছে?”
“কে?”
“আমার কলিজা।”
“তোমার কলিজা হয় কেমনে? তোমার কলিজা তো তোমার বুকে ভেতরে।”
“আপনি কি হাওয়া খেয়ে বড়ো হয়েছেন? রোমান্টিক কথাবার্তাও বোঝেন না। আনরোমান্টিক শশুর একটা!” বলেই নাওয়াফ লম্বা লম্বা পা ফেলে সদর দরজা দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল।
মোজাম্মেল মোল্লা হতবাক। সম্পূর্ণ নির্বাক সে। মুখের ওপর ঝামা ঘষে দিয়ে এই ছেলে কি অপমানটাই না করে গেল। এরসঙ্গে আবার পাখির হবে নাকি বিয়ে, ছ্যাহ্। সে তো এক কথায় রাজি না। অবশ্য সে রাজি থাকলে-বা কি, না থাকলেই কি? ঘরের মাতবর তো ঘরেই আছে। সিকান্দার মির্জার ছোট মেয়ে তাহিরা। স্বামীর কোন কথা শোনে সে? এই ছেলেকে পেলে সোজা জামাই আদর করে মাথায় তুলে রাখে। তখন সে ভুলে যায় নিজের আপন স্বামীর কথাও। সে বোঝে না ছেলেটার মধ্যে আছেটা কি? সবাই যে ওর প্রতি আকৃষ্ট হয়। সে তো কিছুই পেল না। এরমধ্যে প্রতি সপ্তাহে ব্যাগ ভর্তি সবজিগুলো তাহিরা বিনা পয়সায় ট্রি-হোমে পাঠিয়ে দেয়। একটা টাকাও নেয় না। সে টাকার কথা বললে সোজা মুখের ওপর বলে, “মেয়ে জামাইয়ের থেকে টাকা নিব কেন? দুদিন পরই তো পাখি তালুকদার বাড়ির বউ হবে। তখন লজ্জা লাগবে না?”
সে ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। জানে না সামনে কি হবে? নাওয়াফ পাখিকে চায়। অথচ পাখি নাওয়াফকে দুচোখেও সহ্য করতে পারে না। অবশ্য ওর দোষ কিসে? নাওয়াফ যেভাবে অতিরিক্ত শাসন করে, এই বয়সে অতটুকু শাসন করার কথাও না। মেয়েটার নিজেরও তো একটা স্বাধীনতা আছে। এই বয়সে তা হস্তক্ষেপ করলে, সে কি করে নাওয়াফকে পছন্দ করবে? এদের ভবিষৎ কথা ভেবে সে অধিক চিন্তিত। দেখা গেল বিয়ের পরের দিন পাখি না পালিয়ে এসে সোজা মোল্লা বাড়ি বা মির্জা বাড়ি গিয়ে উঠে।
লোকটা ঘরে গিয়ে দেখল পাখি চিৎ হয়ে বিছানায় শুয়ে শুয়ে মোবাইল দেখছে। নাওয়াফ ওর ওপর থেকে চোখ জোড়া নামিয়ে এনে জুতা খুলতে খুলতে উঁচু গলায় তাহিরাকে ডাকল, “শাশুড়ি আম্মা, ঘরে আছেন? আপনার একমাত্র জামাই এসেছে।”
নাওয়াফের গলা পেয়ে পাখি দ্রুত মোবাইল নিয়ে কাঁথা মুড়ো দিল। তার বুকে ওড়না নেই। লোকটাও না, কথা নেই বার্তা নেই হুট করে ঘরে ঢুকে পড়ল। নাওয়াফের ডাক শুনে তাহিরা ওড়নায় হাত মুছতে মুছতে সদর দরজায় ছুটে এলো। নাওয়াফকে দেখে ঠোঁট ছড়িয়ে হাসল। নাওয়াফের কান টেনে ধরল সে।
“এতদিন পর শাশুড়ির কথা মনে পড়ল? আগে তো রোজ ঘনো ঘনো আসতিস।”
নাওয়াফ ঠোঁট টিপে হেসে ফেলল।
“মেয়েটাকে খাতা কলমে আমার নামে লিখে দেও। তাহলে রোজই বউয়ের টানে চলে আসব।”
“ঘটক পাঠালেই তো হয়।”
“পাঠাবো। একটু ধৈর্য ধরো। এখন বলোতো আমার ছোট বউটা কই? তার কিচিরমিচির শব্দ পাচ্ছি না কেন?”
“ঘুমুচ্ছে।”
“আর বড়োটার পেটে নাকি ব্যাঙ ঢুকে লাফাচ্ছে?” বলেই নাওয়াফ হো হো করে ঠোঁট ছড়িয়ে হেসে দিল।
“ফাজিল! তোর বউকে নিয়ে দ্রুত আমায় টেনশন মুক্ত কর। ফাজিলটায় সারাদিন আমাকে দৌড়ের ওপরে রাখে।”
“আর মাত্র একটা বছর তো। কোন ব্যাপার না। মানিয়ে নেও। এরপরে আর রাখতে হবে না। সোজা কোলে তুলে নিয়ে বিয়ে করে বাসর সেড়ে ফেলব। তখন তোমাকেও মানব না।” বলেই সে তাহিরাকে চোখ মারল।
নাওয়াফের ফাজলামো দেখে তাহিরা হো হো করে অধর ছড়িয়ে হাসে।
“ফাজিল ছেলে, আমি তোর শাশুড়ি হই। মুখের একটু লাগাম টান। যা হয়েছিস ঠোঁট কাটা! মুখের কোন লাগাম নেই।”
“শাশুড়ী হয়েছো তাতে কি?”
তাহিরা কিছুক্ষণ নাওয়াফের হাসি হাসি মুখটার দিকে চেয়ে রইল। ছেলেটা ভালোই রশিকতা করতে জানে। সে বলল,
“ভিতরে এসে বস। নাড়ু বানিয়েছি। নারকেলের নাড়ু। নিয়ে আসতেছি আমি। রাতে ভাত খেয়ে যাবি কিন্তু।”
“হ্যাঁ, এখনই একটা থালা নিয়ে বসিয়ে দেও।”
নাওয়াফের জবাব শুনে তাহিরা ঠোঁট টিপে হাসল। নাওয়াফকে তার অনেক পছন্দ। পাখিকে যদি কেউ সোজা করতে পারে, একমাত্র নাওয়াফই। ছেলেটা প্রচন্ড পাখিকে পছন্দ করে। পারলে এখনই বিয়ে করে নিয়ে যায়। কেবল পাখির মেট্রিক পরীক্ষার জন্য আটকে আছে। পাখির বাবা থাকতে এই বিয়ের কথা পাকাপাকি করা ছিল। পাখির সব খরচ নাওয়াফই বহন করে। মাস শেষে ওর খাওয়ার টাকাটাও তাহিরার একাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। পাখি এসব জানে না। তাহিরা অবশ্য বহুবার নাওয়াফকে এসব করতে নিষেধ করেছে৷ তবুও ছেলেটা শোনে না। তার এক কথা, আমার বউ আমারটা খাবে। সে যাতে পরনির্ভরশীল মনে না করে। এমন সোনার টুকরো ছেলে পাবে কোথায়? যে বিয়ের আগেই বউয়ের সকল ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিবে। তাহিরা যেতেই নাওয়াফ উঠে গেল। ঘরের ভিতরে ঢুকে পাখির কাছে গেল। দেখল মেয়েটা কাঁথা মুড়ো দিয়ে এখনো ফোন টিপতেছে। সে পাখির মুখের ওপর থেকে হুট করে কাঁথাটি সরিয়ে নিল। সঙ্গে সঙ্গে পাখির চোখ পড়ল লোকটার মুখের ওপর। সে গভীর করে আশ্চর্য হয়। লোকটা এখানে এলো কখন? তার ভাবান্তরের মাঝে লোকটা ওর গলার কুচকুচে তিলটার দিকে তাকিয়ে জিভ নাড়ল। গলাটা কেমন যেন শুকনো শুকনো ঠেকল। সে নিজেকে সংযত করে নেয়। মনে মনে বিড় বিড় করে বলে, “রিল্যাক্স নাওয়াফ, রিল্যাক্স। ও সারাজীবনের জন্য তোর হয়ে যাবে। তখন মন ভরে দেখে নিস। আপাতত নিজেকে কন্ট্রোল কর।”
মন যে তবুও মানে না। একটুখানি বেহায়া, নির্লজ্জ হতে চায়৷ ওই কুচকুচে তিলটার মাঝে আটকে রয়। সেখানে উষ্ণ ওষ্ঠের গভীর ছোঁয়া লাগাতে ইচ্ছে জাগে। শক্ত করে এক লাভ বাইট বসাতে মন চায়। মনকে সে দুটো কড়া কথা শোনাল।
“ছিহ, লোভি কোথাকার!”
অবাধ্য মন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলল, “হ্যাঁ, আমি লোভি। প্রচন্ড লোভি। তাকে পাওয়ার নেশা আমাকে লোভি থেকে মারাত্মক লোভি করে তুলছে।”
নাওয়াফ পাখির হাত থেকে ছো মেরে মোবাইলটা টেনে নিয়ে গেল। তৎপর ভ্রু দুটো নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল, “হাগিতে হাগিতে তোর নাকি কোমর বাঁকা হয়ে গেছে? বিছানা থেকে উঠতে পারছিস না। তাহলে মোবাইল দেখছিস কি করে?” শেষ করেই লোকটা ওর মুখের ওপর প্রশ্নবোধক দৃষ্টি জোড়া নিবদ্ধ করল।
পাখি লজ্জায় শেষ। ছিহ! ‘হাগিতে?’ এটা আবার কেমন শব্দ? এসবও মানুষ একজন মেয়েকে এসে জিজ্ঞেস করে? নিজের লজ্জা নেই দেখে ভাবে তার মতন সবারও লজ্জা নেই। বেশরম পুরুষ লোক কোথাকার! মান ইজ্জত আর রইল না। সব শেষ। তার মায়াবি মুখটি ক্ষণকালের মধ্যে ম্লান হয়ে গেল। সেখানে জড়তা, সংকোচ দেখা গেল।
“আপনাকে এসব কে বলল?”
“কে আবার? আমার একমাত্র শালা।”
পাখি জানতো স্বাধীনের কাজই এটা। ইবলিশ একটা! ঘরের খবর বাহিরে গিয়ে বলে বেড়ায়। হাতের কাছে একবার পাক, তখন সাত ঘাটের পানি খাইয়ে মজা দেখাবে।
লোকটা আবারও ওকে জিজ্ঞেস করল, “কথা কি আসলেই সত্য?”
পাখি লজ্জায় জবাব দিতে পারল না। থুতনির সঙ্গে মিহিয়ে রাখে মুখটা। লোকটার কণ্ঠ কেমন জানি ঠেকছে। এমন করে মানুষ কথা বলে! পরাণে মায়া লাগে তো। লোকটা
ওর হাতের দিকে একটা ট্যাবলেট এগিয়ে দিলো।
“এটা ভাত খাওয়ার পর খেয়ে নিস।”
পাখি কৌতূহলগত ললাটে ঈষৎ ভাঁজ ফেলে জানতে চাইল, “এটা কিসের ঔষধ?”
লোকটা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট ছড়িয়ে হেসে দেয়। বড়োই রহস্যময় দেখাল সেই হাসিটুকু।
“কোমর শক্ত হওয়ার ঔষধ। জলদি ঔষধ খেয়ে কোমর শক্ত কর। আমার সঙ্গে এক্কাদোক্কা খেলতে হবে না?”
পাখির অবাক হওয়ার পালা।
“মানে?”
নাওয়াফ এবার ওর মুখশ্রীর ওপর ঝুঁকে যায়। ওর মুখের ওপর অন্তর্লীন দৃষ্টিজোড়া গাঢ় করে নিবদ্ধ করল। অতঃপর ফিসফিস করে বলল, “ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ রাতে বোঝাব তোকে। তখন নিজের চোখেই দেখে নিস।”
(চলমান~)
#লামইয়া_তাসনিম।