ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

৫ম পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

#সে_আমার_সর্বনাশ_২

(০৫)

‘ডিসেম্বর মাসের ১তারিখ?' সেটা আবার কি? তখন কি হবে পাখি ঠিক বুঝতে পারল না। সে তর্কেও গেল না। লোকটা ওর পাশ ঘেঁষে বসল। হুট করে কম্বলের মধ্যে পা জোড়া ঢুকিয়ে দিল। যতসব আকামের কাণ্ড! পাখি স্তব্ধ হয়ে গেল। তার পায়ে পুরুষালি খসখসে স্পর্শ লাগতেই শির শির নামক শিহরন সমগ্র দেহে ছেপে গেল। শরীরের লোম কাঁটা দিল। পাখি অসতর্কতায় হকচকিয়ে ওঠে।

“কি করছেন কি?”

লোকটার বেশরম ঠোঁট জোড়া ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে,

“ঘষাঘষি করছি। তোর কোন সমস্যা?”

পাখির চোখ জোড়া কপালে ওঠল। ‘ঘষাঘষি?’ ছিহ! কি অশ্লীল ভাষা? অবশ্য এর যা মুখ! এর থেকে ভালো কিছু আশা করা নেহাৎ বোকামি। সে বলল,

“কিন্তু আমি তো দেখছি আপনি কম্বলের মধ্যে পা ঢুকিয়ে বসে আছেন।”

“দেখতেই যেহেতু পারছিস, তাহলে জিজ্ঞেস করলি কেন?”

পাখি আর কথাই বলল না। লোকটা তাহিরার ফোন টিপতে টিপতে জিজ্ঞেস করল, “সারাদিন শুধু রিলস দেখিস? আর রিলস বানাস না?”

পাখি উত্তর দিলো না। উত্তর দিতে ইচ্ছে করল না। মেজাজ তার খিটমিটে। আকাশ ছুঁই। লোকটা আবার বলল, “রিলস যত খুশি বানা, টিকটকে একটাও ঢুকলে সোজা তোর দাঁত ভেঙে দিব।”

পাখি আশ্চর্য হলো। রাগে ক্ষিপ্ত গলায় বলল সে, “আপনি এমন কেন? আমি নাচব, না রিলস ছাড়ব সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তার ব্যাপারে নাক গলানোর আপনি কে?”

নাওয়াফ হুট করে পাখির মুখের ওপর ঠোঁট কামড়ে ঝুঁকে গেল। ওর মৃগনয়ন জোড়ার দিকে দীর্ঘক্ষণ গভীর আর দৃঢ় নয়নে তাকিয়ে রইল। সময় গেল, তবুও। মেয়েটার মনে যেন ভয় নেই। আর এটাই তাকে সবচেয়ে ক্ষিপ্ত করল। সে হঠাৎ একটা কাজ করে বসল। পাখির চুলের মুঠিটা শক্ত হাতে খামচে ধরল। পাখি ব্যথা পেল। চোখ মুখ খিচে নিল। লোকটা তবুও ওকে ছাড়ল না। বরঞ্চ ওকে টেনে মুখোমুখি করে নিল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিজোড়া ওর মুখের ওপর নামিয়ে এনে বলল, “আমি কে? সেটা ভবিষ্যতে জানবি। আপাতত এতটুকু জেনে রাখ, আমার একটা কথা যদি অমান্য করিস। সোজা ঠ্যাং ভেঙে ঘরে বসিয়ে রাখব।”

পাখি লোকটার হাত তার চুলের মধ্যে থেকে সরাতে চাইল। কিন্তু পারল না। বেশ জোরালো ভাবে ধরেছে। হাতও শক্তিশালি। চুলের ব্যথায় সে কেঁদে ফেলল।

“চুল ছাড়েন। ব্যথা পাচ্ছি।”

“আর তুই যে আমার বুকে ব্যথা ধরিয়ে দিয়েছিস তার বেলায়..?”

“মানে?”

নাওয়াফ পাখির কথার জবাব দিল না। ওর চুল ছেড়ে উঠে দাঁড়াল সে। লম্বা শরীরটা টেনে টেবিলে গিয়ে বসতে বসতে বলল, “এখানে এসে বস। এখন পড়তে বসবি। তোকে পড়িয়ে তারপরে বাসায় ফিরব।”

“আপনি জানেন না আমি অসুস্থ?”

“না জানিনা। কারণ অসুস্থ মানুষ তো এতো কথা বলতে পারে না। তুই তো দিব্যি কথা বলে যাচ্ছিস।”

পাখি মুখটা করুন করে নিল। এই লোকের সঙ্গে সে কখনোই কথায় পারে না। কথাও যেমন ধারালো, আল্লাহ দিলে শরীরটাও তেমন শক্ত।

নাওয়াফ তাহিরাকে গলা ছেড়ে ডাকল, “শাশুড়ি আম্মা, কোথায় তুমি? এই দিকে আসো।”

তাহিরা হাসতে হাসতে ঘরের ভেতর থেকে ব্যস্ত চরণে এগিয়ে এলো, “কিরে আসতে না আসতে শাসন করতে শুরু করে দিলি? জানিস না ওটা ওমনই ঘাড়ত্যাড়া। ওটার ঘাড়ে একশ একটা জ্বীন বাস করে।”

“সব জ্বীন ঘাড় ছেড়ে পালাবে কই? সেই ব্যবস্থাই করব। আমার সামনে বসে ঘাড়ত্যাড়ামি? এখন প্লেট ভর্তি ভাত আর গরম গরম দুধ নিয়া আসো। সঙ্গে বিচি কলা এনো। আমি দেখছি বাকিটা।”

পাখি নাক সিটকালো।

“আমি বিচি কলা আর দুধ খাই না।”

“তোকে খেতে হবে।”

“আপনি খান।”

“আমি খাবো তো। কিন্তু কলা আর দুধ না। অন্যকিছু..!” শেষ করেই লোকটা ঠোঁট কামড়ে হাসে।

পাখি ঘাড় ঘুরিয়ে অন্যদিকে নেয়। তার হাসি পাচ্ছে। লুচ্চা কোথাকার! সুন্দর ছেলেরা বুঝি এমন লুচ্চা লুচ্চা আর লাগাম ছাড়া হয়, ছিহ। তার ভাবান্তরের মধ্যেই তাহিরা প্লেট ভর্তি ভাত আনল। নাওয়াফ কলা আর দুধ দিয়ে ভাত মাখিয়ে পাখির মুখের সামনে ধরল। পাখি নাক উঁচু করল।

“খবরদার এসব অখাদ্য আমাকে খাওয়াবেন না। তাহলে আপনার বিরুদ্ধ পুলিশের কাছে মামলা ঠুকে আসব।”

“পুলিশ কি তোর বাপ হয়? তোর কথাতে যে মামলা নিবে?”

“জে না, পুলিশ আমার শশুর হয়। আপনার কোন সমস্যা?”

“আলবাৎ সমস্যা। ছিহ পাখি, একজন অপরিচিত লোককে শশুর বানিয়ে দিচ্ছিস? তাহলে আমার বাপ দোষ করল কি?”

পাখি চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে ফেলল। কি সাংঘাতিক কথা? শখ কতো? ওনার বাবাকে শশুড় ডাকতে যাবে?

“নে হা কর।”

পাখি মুখটা অন্যত্রে ঘুরিয়ে নিল।

“খাব না।” তার কণ্ঠে নিপাত জেদ।

তাহিরা ফোঁস করে শ্বাস ফেলল।

“আমি আগেই বলেছি, এইটার ঘাড়ে ভূত আছে। একটা আর দুইটা না। সোজা এক সঙ্গে দশ বারোটা ভূত। মুখ দেখিস না, কেমন শকুনের মতন হয়ে গেছে। ভাত-পানিও খায় না। সারাদিন বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। তার মধ্য থেকে একটা সঙ্গে আইছে। খবিশ জ্বীন।”

তাহিরা কথার শেষে শুনতে পেলো উঠোনে নিখিলের গলা।

“আমার ছোট শাশুড়ি আম্মা কই?”

“ওই যে আরেকটা আসছে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করতে। ওটা আরেক বান্দর। এমনিতে আসে না। তুই আসলেই তখন আসে শাশুড়ির খোঁজ নিতে।”

নাওয়াফ নীরবে হাসল, কিন্তু জবাব দিল না। চোখ দুটো তার পাখির গোলগাল পান পাতার মতন মুখশ্রীর ওপরই নিবদ্ধ।

নিখিল ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল, “কি বদনাম রাটাচ্ছো গো আমার নামে? তোমায় ঈদে শাড়ি দেইনি তা বলছ?

তাহিরা হাসতে হাসতে নিখিলের চুল ধরে টালল।

“ফাজিল হয়ে গেছিস। তোর শাড়ি চাইছে কে? আমার মেয়েকেই তো বিয়ে করতে পারলি না। আগে বিয়ে করে নে, পরে শাড়ি দিস।”

“শাড়ির চিন্তা করো না। দোকান আছে শাড়ি পাবে।” শেষ করেই নাওয়াফের দিকে তাকিয়ে নিখিল হাসতে হাসতে শুধাল, “কি মাস্টার সাহেব, ছাত্রী পড়াতে আজ বাড়ি পর্যন্ত চলে এসেছেন? কী সৌভাগ্যবান আপনার ছাত্রী, এমন একজন টিচার পেয়েছে। পৃথিবীর একমাত্র টিচার বুঝি আপনি, যে ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পড়াতে বসান।”

নাওয়াফ ভাত মাখতে মাখতে নিখিলকে নীরব হুমকি ছুড়ে দিল, “কত দিন হয়েছে পশ্চাদ্দেশে লাথি খাস না?”

নিখিল উচ্চশব্দে হো হো হা হা করে হেসে ওঠে।

“মোটামুটি বেশ ভালো সময়ই পার হলো।”

“তাহলে অপেক্ষায় থাক, তোর শখ পূরণ করা হবে।”

নাওয়াফের জবাব শুনে নিখিল আবারও হো হো করে হেসে দেয়।

নিখিলের সঙ্গে ইচ্ছে আর স্বাধীনও এলো। ইচ্ছে গিয়ে পাখির পাশে বসল। ঠোঁট উল্টে বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করল সে, “জানু, তোর নাকি হাগিতে হাগিতে কোমর ঢিলা হয়ে গেছে ?”

পাখির মুখটা কিয়ৎক্ষণের মধ্যে ম্লান হয়ে গেলো। এটারই শুধু বাকি ছিল। নেও, ষোলকলা এবার পূর্ণ করে দিল। সে তো লজ্জায় শেষ। পারলে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। নাওয়াফ ভাই, নিখিল ভাই সামনে। তাদের সামনে বসে এসব কথা কি মানুষ জিজ্ঞেস করে? ছিহ! এই মেয়ের জ্ঞান বুদ্ধি কি কিছু নেই? সব খরগোশের পিঠে করে হারিয়ে গেছে। অদ্ভুত! কিন্তু এত লোক তার এই ব্যামোর সম্পর্কে জানল কি করে? নিশ্চিত মাথামোটা স্বাধীনের কাজ এটা। ঢোল পিটানোর স্বভাব তার আছে। সে স্বাধীনের দিকে একবার চাইল। স্বাধীন ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। পাখি চোখ পাকাল। চোখের ইশারায় বোঝাল, কুমরোপটাস, দেখে নিব তোকে। স্বাধীন গা ঝাড়ার মতন পাখির কথা ফেলে দিল। গায়ে তুলল না। সে হাসতে হাসতে ইচ্ছের পাশ ঘেঁষে বসে পড়ল।

ইচ্ছে চোখ দুটি পাকিয়ে রাঙাল।

“লুচ্চা, আমার পাশ ঘেঁষে বসবি না।”

স্বাধীন ঠোঁট ওল্টালো। বলল, “কেন আমার কি শরীরে এলার্জি আছে ইচ্ছে?”

“এলার্জির চেয়েও খারাপ তুই। মাইয়্যা মানুষ দেখলেই চিপকে বসতে ইচ্ছে করে, না?”

“এটা কিন্তু একেবারে মিথ্যে বললা। আমি কেবল তোমার গা ঘেঁষেই বসি। ভবিষ্যতে তোমার বর হবো না? এতটুকু অধিকার তো রাখতেই পারি।”

“এট্টুখানি বান্দর আসছে বিয়া করতে। এই ছেরা, তোর গোঁফ গজাইছে? নাক টিপ দিলে এখনো দেড় মণ দুধ বের হয়। সে আসছে বিয়া করতে। আর ইচ্ছে কি? নাম ধরে আরেকবার ডাকলে কানের লতি ধরিয়ে দিব। আপু বলবি, আপু।”

স্বাধীন দাঁত ক’পাটি বের করে হাসে।

“ধুর বোকা, বউকে কেউ আপু বলে? তুমিও না। ভেবে দেখো, তোমারে বিয়া করার পর তোমার কোন চা বানাতে হবে না। আমি মচমৎকার চা বানাতে পারি।”

ইচ্ছে এবার রাগে লাল হয়ে চেঁচিয়ে ওঠল, “নাওয়াফ ভাই দেখেন, আপনার এলাকায় বসে, আপনার শশুর বাড়ি বসে, আপনারই সামনে এই স্বাধীন আমারে ইভটিজিং করছে। ওরে কিছু বলেন।”

নাওয়াফ তাহিরার সঙ্গে কথা বলছিল। তাহিরা এখন ভেতরে গেছে। তখনই ইচ্ছের কথা তার কানে ঢুকল। নিখিল আপাতত বাহিরে। তার জরুরি ফোন আসছে। ইচ্ছের কথা শুনে নাওয়াফ ললাট কোঁচকাল। স্বাধীনকে ইশারায় কাছে ডাকল, “এইদিকে আয়।”

স্বাধীন ভয় পেল। মারবে নাকি? সে ধীরুজে গেল।

নাওয়াফ স্বাধীনকে টেনে এনে পাশে বসাল। বলল, “কিরে ব্যাটা, আমার এলাকায় বসে, আমারই সামনে আমার বোনকে ইভটিজিং করিস? মেশিন কিন্তু জায়গা মতন থাকবে না।”

স্বাধীনের একটু ভয় লাগল। তার খেয়ালই ছিল না, নাওয়াফ ভাই যে তার পাশে আছে। ইচ্ছে ঠোঁট টিপে হেসে দিল। নাওয়াফ স্বাধীনের ভয়ার্ত মুখটা এক ঝলক দেখে দ্বিতীয়বার বলল, “ইভটিজিং করা অন্যায়। পছন্দ হলে সোজা বিয়ে করে নিবি। কথায় কোন ভেজাল আছে?” বলে সে উঠে দাঁড়াল। লম্বা এক আলসেমি দিল।

স্বাধীন ঠোঁট টিপে হাসে। কথা তার পছন্দ হয়েছে।

ইচ্ছে নাওয়াফের কথার সঙ্গে একমত হতে পারল না। সে দ্বিরুক্তিতা দেখাল।

“এটা কেমন কথা, নাওয়াফ ভাই?”

“কোনটা?”

“আপনি স্বাধীনকে উস্কানি দিচ্ছেন।”

“কিরে স্বাধীন তোকে আমি উস্কানি দিয়েছি?”

“না।”

“দেখলি ও কি বলল? এখন পাখিকে তুই আর স্বাধীন চেপে ধর। দুজনকে আড়াইশো আড়াইশো করে পাঁচশত টাকা দেওয়া হবে। বিনিময়ে একজন ওর হাত দুটো চেপে ধরবি। আরেকজন ওর মুখ খুলে ধরবি। দেখি ও দুধ আর কলা দিয়ে ভাত না খেয়ে যায় কই?”

ইচ্ছের টাকার কথা শুনে আনন্দ হলো। বিনা পরিশ্রমে আড়াইশো টাকা কামাই করা গেলে তার পাঁচ প্লেট চটপটির পয়সা বেঁচে গেল। সে রাজি হলো। পাখির হাত দুটো চেপে ধরল। পাখির মনঃক্ষুণ্ন হলো। মুখটা অসহায় করে বলল সে, “টাকার জন্য তুই বান্ধবীর বিপক্ষে গেলি জানু?”

“একটু সামান্য কষ্ট হবে জানু। প্রথমে মুখের মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে গলা দিয়ে সোজা পেটে নামিয়ে নিবি। ব্যস, এতটুকুই তো পরিশ্রম। এর বেশি না । কঠিন কোন কাজও না, সিম্পল।”

“মীরজাফর একটা! বেরোয় আমার বাড়ি থেকে।”

ইচ্ছে মুচকি হাসল।

“যাব তো। টাকা নিয়ে। চিন্তা করিস না। তোকে অর্ধেক শেয়ার দিব।”

পাখি মলিন করে নিল মুখটা। এ কেমন খাটাশ বান্ধবী? অবশ্য দেখতে হবে না, কাদের বংশধর? সেই রক্তের তেজ তো একটু থাকবেই।

স্বাধীন পাখির মুখ খুলে ধরল। আর ইচ্ছে পাখির হাত দুটো চেপে ধরল। অতঃপর পুরো ভাত খাইয়ে তারপরে লোকটা উঠল। পাখির বমি পেল। সে নাক সিটকে রইল। দুধের গন্ধ এখনো আছে।

ইচ্ছে নাওয়াফের কাছে হাত পেতে বলল, “নাওয়াফ ভাই, কাজ শেষ। এবার টাকা দেন।”

নাওয়াফ না জানার ভান ধরল।

“কিসের টাকা?”

স্বাধীন আর ইচ্ছের মাথায় যেন গোটা কয়েক বাজ পড়ল। তারা দু'জনে একে অপরের দিকে চাওয়াচাওয়ি করল। বলছে কি লোকটা?

পাখি ঠোঁট টিপে হাসল। বিড় বিড় করে বলল,

“শালা চিটিংবাজ।”

পাখি স্বল্প স্বরে গালিটা দিলেও সেটা লোকটার কর্ণে গিয়ে ঠিকই পৌঁছাল । সে সঙ্গে সঙ্গে ললাট কুঁচকে ফেলল।

“ওই দেখ, ভাত খাওয়ালামও আমি। গালিও শুনছি ফাও। শালার শশুরের মাইয়া একটাও ভালো না।”

পাখি মনে মনে ভাবল, মনে মনে গালিও দেওয়া যাবে না। সেটাও ধরে ফেলে। কি সাংঘাতিক লোক!

লোকটা আবার বলল, “এখন বের হব। দুটোয় আগামীকাল বিকালে পড়তে চলে আসিস।”

পাখি চেঁচিয়ে বলল, “আমি যাব না।”

“হাত পা বেঁধে নিয়ে যাব।”

ইচ্ছে মুখ টিপে হাসে। পাখি চোখ রাঙাল।

“তুই হাসছিস কেন?”

“এমনি।”

“এমনি না। ওই অহংকারি লোকটার কথা শুনে।

“আমার ভাই অহংকারি না।”

“লুচ্চা তো। কথায় কথায় হাত ধরে টানাটানি করে।”

ইচ্ছে পাখির হাত চেপে থামিয়ে দিল।

“আস্তে, নাওয়াফ ভাই এখনো উঠোনে আছে। শুনতে পাবে।”

পাখি চুপ হয়ে গেল। বিড় বিড় করে বলল, “শুনতে পাক। তাতে আমার কি?”

____

খুব ভোরের দিকে পাখি বিলের মধ্য দিয়ে খৈলানে যাচ্ছিল। মাথায় বড়ো করে ওড়না দিয়ে একটা ঘোমটা দেওয়া। তার হাতে ধোঁয়া ওঠা নতুন চালের ভাবা পিঠা। তা খেতে খেতে বিল দিয়ে যাচ্ছিল ধানের কাছে। তার মনি ধানসিদ্ধ করেছে। সেখানে তাকে যেতে বলেছে। পথিমধ্যে নাওয়াফ ভাইদের মাঠের মধ্যে ক্রিকেট খেলতে দেখল। লোকটা ব্যাটিং করছে। পাখি পাশ দিয়ে গেল। বল করছে স্বাধীন। লোকটা ব্যাট দিয়ে দিল বল ধুম করে এক বাড়ি। বল এসে সোজা পড়ল পাখির কপাল নিয়ে। ওমন রাবারের বল কপাল সোজাসুজি পড়ায় পাখির সমগ্র মাথাটা যন্ত্রণায় ভোঁ ভোঁ করে ঘুরতে লাগল। মুহূর্তের মধ্যে চোখ দুটি নিভু নিভু হয়ে এল। সঙ্গে সঙ্গে সে জমিনে ঠাস করে নেতিয়ে পড়ল। নাওয়াফ শব্দ পেয়ে পিছু ঘুরল। দেখল পাখির কোমল শরীর শিশিরে ভেজা মাটিতে নেতিয়ে পড়েছে। সে স্তব্ধ হয়ে গেল। সম্পূর্ণ বাক্য হারা। বাকরুদ্ধ। স্বাধীনসহ নিখিলরা সেদিকে ছুটে গেল। নাওয়াফের সংবিৎশক্তি ফিরতেই বড়ো বড়ো পা ফেলে উদ্বিগ্নচিত্তে সেদিকে ছুটল। ওদের সরিয়ে সে পাখির পাশে বসে পড়ল। মেয়েটা চেতনা হারিয়েছে। বল ওর থেকে কয়েক হাত দূরে। নাওয়াফ দ্রুত ওকে টেনে কোলে নিয়ে নিল। ধান পাহারা দেওয়ার জন্য টং ঘর আছে। নাওয়াফ ওকে সেই টং ঘরে নিয়ে শুয়ে দিল। স্বাধীনকে আদেশ দিল পানি নিয়ে আসতে। রমিজকে বলল, বরফ নিয়ে আসতে। মেয়েটার কপাল ফুলে গেছে। সে ওর গালে ছোট ছোট চড় মেরে শ্বাসরুদ্ধকর গলায় ডাকল, “পাখি... এই সুইট পটেটো ওঠ..! কিছু হইনি তোর। ওঠল নারে।” শেষেরটুকু একটু ধমক দিয়ে বলল৷ লোকটার গলা উত্তেজিত শোনাল।

পাখি ওঠল না। নাওয়াফের হৃদপিণ্ড লাফাচ্ছে। গলায় শ্বাস আটকিয়ে আটকিয়ে আসছে। বুকটা অদ্ভুতভাবে লাফাচ্ছে। সে টের পাচ্ছে এই মেয়েটার নিঃশব্দতা তাকে পীড়া দিচ্ছে। বুকটা ফালা ফালা করছে। আবারও ডাকল সে। এবার আবেদনময় মায়ামন্ত্র কণ্ঠে, “কলিজা..! আমার লক্ষ্মীটি..! ওঠ নারে। তোর কিছুই হয়নি তো জান।”

নিখিল বলল, “টেনশন নিস না। শুধু চেতনা হারিয়েছে।”

নিখিলের কথা কি লোকটার কানে ঢুকল? কি জানি? তার আদলে চিন্তিত ছাপ। এরমধ্যে স্বাধীন পানি এনে নাওয়াফের হাতে দিল। নাওয়াফ পাখির মুখের ওপর সামান্য পানি ছিটা দিল। তৎপর মাথাটা টেনে কোলের মধ্যে আনল। অপেক্ষায় রইল পাখির চৈতন্য ফিরবার। সকলে ইতিমধ্যে খেলা বন্ধ করে দিয়ে তাদের ঘিরে দাঁড়িয়েছে। চোখের পাতায় ভেজা ভেজা আদ্রতা টের পেয়ে পাখি পিট পিট করে চোখ খুলল। কপালে যন্ত্রণা হচ্ছে। চোখ দুটো খুলতেই নিবদ্ধ হলো দুজোড়া কাতর আঁখির সঙ্গে। ওই চোখ দুটিতে আজ বড্ড আকুলতা, ব্যাকুলতা মিশে আছে। মুখটা চিন্তিত। ঠোঁট দুটি শুকনো। ঝলমলে কালো চুলগুলি এলোমেলোভাবে কপালের মাঝে লেপ্টানো। দাম্ভিক আদল। মেয়েদের মন আকৃষ্ট করার মতন একজন সুদর্শন পৌরুষ সে। ফোলা ফোলা হাতের পেশিগুলি। দেখতে ভালোই লাগে। পাখি একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেলো। কতক্ষণ চেয়ে রইল ওই সুগভীর সুগাঢ় দৃষ্টি দুটোর দিকে। যেন কত চেনা! কত অচেনা আকর্ষণ অজানা রহস্য লুকিয়ে আছে ওই চোখে। সে সেই রহস্যদের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। বুকটা ছটফট করছে। সে ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। ওই চোখে চোখ পড়লে তার নিজেকে সামলানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। সে ডুবে যায় অচিন কোন শহরে। বাদামি দেখতে চোখের মণি দুটো। বেশ গভীর তারা।

“শুভ দৃষ্টি তোরা পড়ে করিস ভাই। আগে আমাদের চিন্তামুক্ত কর। টেনশনে মাথাটা ফেটে যাচ্ছে। এই বয়সে এত টেনশন নেওয়া যায় না। ঘরের টেনশন, বাহিরের টেনশন, হবু বউয়ের টেনশন, বালের টেনশন। সব টেনশন এক সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তোরা আর নতুন করে টেনশন দিস না।” কথাটি বলল নিখিল।

পাখির সৎবিৎ ফিরল। সে দ্রুত নাওয়াফের থেকে আলাদা হতে চাইল। কিন্তু নাওয়াফ ওকে আলাদা হতে দিল না। টেনে আরও কাছে আনল। ওর ব্যথা পাওয়ার স্থানে হাত ছোঁয়াল। পাখি আহ্ শব্দ করে ওঠল।

লোকটা বিনিত কণ্ঠে শুধাল, “ব্যথা?”

পাখি মাথা ঝাঁকাল।

“হুঁ।”

নাওয়াফ তার চ্যালা সাফিনকে আদেশ দিল, “দেখতো রমিজ কি করে? বরফ নিয়ে আসতে এতক্ষণ লাগে?”

নিখিল নাওয়াফের পাশ ঘেঁষে বসে পড়ল।

“একটু সময় দে ছেলেটাকে। বাড়ি তো আর এখানে না। আসতে সময় লাগবে। দেখি, চোটটা তো বেশি না। আবার কমও না।”

“চোট বেশি কম অতো কথা বুঝি না। আমার ওর ব্যথা কমানো চাই, ব্যস।”

নিখিল বিরক্তি ঝরা কণ্ঠে বলল, “ভাই একটু থাম। স্বস্তি নে। শ্বাস ফেল। ওর কিছু হইনি। এত আপসেট হস না। ঠিক হয়ে যাবে।”

পাখি মিনমিন করে বলে, “আমি ঠিকাছি। ছাড়েন। গরম লাগতেছে।”

নাওয়াফ ওকে ধমক ছুড়ল,

“এতো কথা বলিস কেন?”

পাখি চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে ফেলল। আমি কথা বেশি বলি? সে মুখে বলল, “ছাড়েন। নির্লজ্জের মতন ঝাপটে ধরে বসে আছেন। মানুষ কি বলে? কলঙ্ক লাগবে তো।” শেষেরটুকু ফিসফিস করে বলল সে।

ওর অভিব্যক্তি শুনে নাওয়াফ অধর ছড়িয়ে হেসে দেয়।

“কলঙ্ক লাগুক না। অন্য কারোরটা তো লাগবে না। আমারটাই লাগবে। বইতে পারবি না?”

পাখি হঠাৎ বুঝদারের মতন হয়ে গেল। বলল,

“কলঙ্ক আজীবন নারীরাই বয়ে এসেছে, নাওয়াফ ভাই। পুরুষ শুদ্ধতার চাদর নিয়ে আজীবন কলঙ্ক ছাড়াই বাঁচে। কলঙ্ক তাদের ছুঁতেও পারে না।” বলেই পাখি উঠে গেল।

নাওয়াফ বলল, “কে বলেছে পুরুষ কলঙ্ক বহন করে না? পুরুষও শত শত বছর ধরে কলঙ্ক বহন করে বেঁচে থাকে। নারীদের কলঙ্কের ঘটনা যেমন সমাজে বড়ো করে দেখা হয়, পুরুষেরটা তেমন বড়ো করে দেখা হয় না। পার্থক্য শুধু এতটুকুই। কিন্তু কলঙ্ক পুরুষেরও হয়। তারা কলঙ্কিনী হয় না, তারা হয় কলঙ্কিত। লোক লজ্জার ভয়ে পুরুষ হয়ত মুখে এ কথা স্বীকার যায় না।”

পাখি নীরবে হেসে চলে যাচ্ছিল। লোকটার সঙ্গে কথায় বুদ্ধিতে সে কোনকালেই পারে না। আজও না। নাওয়াফ ওর পিছু পিছু ছুটল। নিখিল, স্বাধীন, সাফিনসহ এরা হয়ে গেল নীরব দর্শক। এদের সিনেমার মতন শুটিং এখানে শেষ নয়। আরও আছে।

নাওয়াফ ছুটতে ছুটতে পিছু থেকে পাখিকে ডাকল, “দাঁড়া।”

পাখি দাঁড়াল না। সে ঘাড়ত্যাড়ামি করল। বড়ো বড়ো কদমে হাঁটতে লাগল। লোকটা আবারও পিছু থেকে ধমকে বলল, “দাঁড়া বলছি। ধরতে পারলে কোমরের হাড় ভেঙে দিব।”

ওমন হুমকিতে পাখি ভয় পেল না। সে দিল টাক বাগানের দিকে দৌড়। লোকটাও ওর পিছু পিছু ছুটে গেল। টাক বাগানের গভীরে পৌঁছাতেই লোকটা ওকে পিছন থেকে কোমর পেঁচিয়ে ধরল। পাখির শরীরটা পুরুষালি স্পর্শে কারেন্টের মতন শক করে ওঠল। হাঁসফাঁস লাগল তার। লোকটার গরম গরম নিঃশ্বাসগুলি ওর ঘাড়ে এসে আছড়ে পড়ছিল। ওর শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। ঘামছেও। হৃদপিণ্ড সমানতালে লাফিয়ে যাচ্ছে। পাখি শুকনো গলদেশ নিয়ে বলল, “নাওয়াফ ভাই, ছাইড়া দেন। কেউ আমাদের এক সঙ্গে দেখে ফেললে খারাপ কথা বলবে। দুর্নাম ছড়াবে। সেটা কি তখন ভালো লাগবে শুনতে বলুন? তারচেয়ে ভালো ছেড়ে দেন।”

লোকটা কি ওর কথা শুনল? উঁহু না। ওকে ছাড়লও না। বরঞ্চ মোটা একটা সুপারি গাছের সঙ্গে ওকে মুখোমুখি করে শক্ত হাতে চেপে ধরল। খানিকটা ঠোঁট কামড়ে হেসে নিয়ে বলল, “ধরলে তো ভালোই হবে। দুজনকে একসঙ্গে বিয়ে পড়িয়ে দিবে। ঝামেলা চুকে গেল। আমার আর অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হবে না। পারবি না আমার বউ হয়ে থাকতে?”

পাখি লোকটার তির্যক উজ্জ্বল চোখগুলি দেখল। ওদের ভাষা গভীর। চোখ দুটি হাসছে। তার ইচ্ছে করল দুটো কড়া কথা শোনাতে। কথায় কথায় বউ বউ করে একজন কিশোরীর মনে যে অনুভূতির বিষ ঢেলে দিচ্ছে, তা কি সে জানে? উঁহু না। পুরুষ ওমনই, মিষ্টি কথায় মন ভরায়। পরে ছুড়ে পালায়। সে তীব্র প্রতিবাদ করে ওঠল, “আপনার মতন পাঙ্গাস খানের বউ হতে পারব না। লোকে আমাকে পাঙ্গাস খানের বউ বলে মজা লুটবে।”

“পাঙ্গাস মাছ কিন্তু আমার ভীষণ প্রিয়। নরম আর তুলতুলে। ঠিক তোর মতন।”

পাখি সতর্ক চোখে বলল,

“নাওয়াফ ভাই, কারা যেন এইদিকে আসছে? ছেড়ে দেন না?”

“ছেড়ে দিব এক শর্তে। বউ হবি আমার?”

“আপনার মতন খাটাশ লোকের বউ হবে কে?”

“কেন, তোর মতন খবিশ এক মহিলা।”

“মোটেও না।”

“একদম ঠোঁট কামড়ে দিব।”

পাখির লজ্জায় গালটা রক্তিম হয়ে ওঠল। লোকটা সুযোগ বুঝে ওর গালের কাছে মুখটা নিতে যাচ্ছিল। পাখি শশব্যস্ত মুখটা ঢেকে ফেলল।

“লুচ্চা।”

“লুচ্চামি করার আগেই বলছিস লুচ্চা? প্রমিজ পাখি, শুধু একবার সুযোগ পাই, তোকে লুচ্চামির সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বে নিয়ে যাব। তখন এত লজ্জা দেখাবি কাকে, হুঁ?” বলেই লোকটা ঠোঁট কামড়ে নির্লজ্জ ভঙ্গিমাতে হাসতে লাগল।

পাখির লজ্জায় গাল দুটো ভারী হলো। সেখানে রক্তিম আভার ছায়া পড়ল। তার সমগ্র শরীর লোকটার উষ্ণ কথার ধারালোতে এখনো ঝনঝন করছে। মনের মধ্যে কেমন একটা তীব্র উষ্ণতার জোয়ারের অনুভূতি সৃষ্টি হলো। শ্বাসগুলি ভারী ভারী ঠেকছে। সে নেতিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত তাকে পালাতে হবে। বাঁচতে হবে। এই পুরুষের কাছাকাছি থেকে পালাতে হবে। লোকটা অন্যমনস্ক হতেই পাখি লোকটার বুকে ধাক্কা দিয়ে দিল দৌড়। লোকটা কয়েক সেকেন্ড হতবাক ছিল। পাখি কোমরের লম্বাটে বেনিটা ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে দৌড়াচ্ছে। দৌড়ানোর সঙ্গে পায়ে বাজনাওয়ালা নূপুর জোড়া ঝুনঝুন করে শব্দ হচ্ছে। শুনতে ভালোই লাগে। নাওয়াফ নিজের চুল হাত দিয়ে টানতে টানতে ঠোঁট টিপে হাসল।

“বিকালে দেখা হচ্ছে। তখন এর শোধ নিব।”

পাখি দৌড়াতে দৌড়াতে উত্তর দিল, “আমি আজ পড়তেই আসব না।”

“না এলে সোজা কোলে করে তোকে তুলে নিয়ে আসব।”

“ইতিহাসের একমাত্র টিচার বুঝি আপনিই, যে ছাত্রীকে তুলে আনতে তার বাড়ি পর্যন্ত যাবেন।”

“টিচার হিসেবে আমি বেশ দায়িত্বশীল। ছাত্রীকে তো সব বিষয়েই পারদর্শী বানাতে হবে, তাই না? নতুবা টিচারের জাত যাবে।”

পাখির থেকে পাল্টা উত্তর আর ফেরত এলো না। তার নূপুরের ধ্বন্নি বাতাসে মিলিয়ে গেল।

নাওয়াফ নীরবে একা একাই হাসতে থাকে। লোকে দেখলে নির্ঘাৎ তাকে পাগল উপাধি দিবে। সে দেক। তার কি? সে তো সত্যিই পাগল হয়েছে। ওই কিশোরীর প্রেমে পাগল হয়েছে। তার কাজল রাঙানো আঁখিযুগলে পাগল হয়েছে। ওই কণ্ঠসুরে পাগল হয়েছে। সে পাগল হয়েছে। আরও আরও হতে রাজি। তবুও নারীটিকে তার চাই। হাঁটতে হাঁটতে বিড় বিড় করে সে একটা গান ধরল,

একবার কইলাও তুমি রাজি,

আমি ঘটক পাঠাইমু।

তোমার লইয়া আমি,

সারা সিলেট ঘুরাইমু...!

#(চলমান)

#লামইয়া_তাসনিম।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন