ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

১২তম পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

#সে_আমার_সর্বনাশ_২

(১২)

পাখি হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদছিল। মাথাটা হাঁটুর ওপর থেকে উঠিয়ে একটু জাগাল। নাওয়াফের দিকে অশ্রুসিক্ত মৃগনয়ন জোড়া তাক করে কথার ভিত্তিতে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “কি শাস্তি দিব আপনাকে? আপনি তো মহান। কোন অন্যায়ই করতে পারেন না। দেশের একজন জনসেবায় নিয়োজিত মানুষ। অথচ সে পুরুষ একজন নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে তার ওপর হামলে পড়েছিল। নারীর শরীর খুবলে খেতে চেয়েছিল। নারী শরীর খেঁকো একটা!”

পাখির কথাগুলো কর্ণে ঢোকা মাত্রই নাওয়াফের মাথায় রাগে রক্ত উঠে গেল। সে এই প্রথম পাখির ওপর চওড়া হলো। রক্ত চক্ষু বের করে ওকে ধমক দিয়ে ওঠল, “পাখিই...!”

ধমকের সঙ্গে নাওয়াফের পাঁচ আঙুলের চড়টি ঠাস করে পাখির কোমল গালের ওপর আছড়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ আঙুলের এক দাগ মসৃণ ত্বকে পড়ে গেল। পাখি গালে হাত দিয়ে ঠোট ফুলিয়ে কেঁদে যাচ্ছে। নাওয়াফ এক প্রকার রাগে কাঁপছে। সুচালো চোখজোড়া রাঙিয়ে ওকে বলল, “বেরিয়ে যা আমার ঘর থেকে। আর আসবি না। তোকে আর আমি আমার সামনে দেখতে চাই না।”

পাখি খাট থেকে নেমে গেল। কাঁধে ব্যাগটা ঝুলিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল, “আমায় আপনি দেখবেন কি? আপনাকেই আমি দেখতে চাই না। যতবার আপনার মতন চরিত্রহীন মানুষের মুখটা আমার মুখের সামনে ভেসে ওঠবে। ততবার আমার ঘৃণা হবে।”

“এই ঘৃণা নিয়েই তোকে বাঁচতে হবে। আজ একটা কথা মনে রাখিস, তুই এই নাওয়াফের ছোঁয়াই রোজ রাতে মেখে ঘুমোতে যাবি। সেদিন আমার কথা মিলিয়ে নিস।”

পাখি দরজা ঠাস করে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যেতে যেতে বলল, “স্বপ্ন আপনি দেখতে থাকেন। আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে হওয়ার আগে আমার মরণ হোক।”

“তবুও আমি তোর লাশকে বিয়ে করব।”

“সাইকো একটা!” বলেই বৃষ্টির ভিতরে পাখি নেমে পড়ল।

নাওয়াফ হাসতে গিয়ে দেখল তার ঠোঁট আটকে পড়ছে। কতো বড়ো ফাজিল! হঠাৎ বাহিরে ধপাস করে পড়ার কিছু শব্দ হলো। সে দ্রুত দরজার সামনে গেল। পাখি ইটের ওপর ধুম করে পড়েছে। হাত কি কেটেছে?

হ্যাঁ বোধহয়। রক্ত বেরিয়েছে। সে বৃষ্টির মধ্যে ধা ধা করে নেমে পড়ল। নাওয়াফের শব্দ পেয়ে পাখি কাঁধে কোন রকম ব্যাগ ঝুলিয়ে পায়ের জোতা রেখেই দৌড় দিল। নাওয়াফ পিছু থেকে ওকে বেশ কয়েকবার ডাকল, “পাখি থাম। আমি তোকে কিছু বলব না। পড়ে যাবি তো।”

পাখি থামে না। ঘন জঙ্গল পেরিয়ে সে মোল্লা বাড়ির দিকে ছুটল। নাওয়াফ দেখল পাখি যে ইটটার ওপর পড়ছিল। সেখানে বৃষ্টির পানির সঙ্গে কিছুটা রক্ত লেগে আছে। সে মনে মনে একটা গালি ছুঁড়ে দিল, “উজবুক!”

আজ তিনটা দিন হয়ে গেল পাখি আর নাওয়াফের মুখোমুখি হয়নি। নাওয়াফও রাগ করে মোল্লা বাড়িতে যাইনি। রাস্তাঘাটেও মেয়েটাকে চোখে পড়েনি। নিখলদের বাড়িতেও আসেনি। দিনে রোজ একবার হলেও যে মেয়ে তার খালার বাড়ি এসে টো টো করে চক্কর মেরে যায়, সে মেয়ের এমন আমূল পরিবর্তনে নাওয়াফ ভড়কালো। নির্বাচনের কারণে সে কিছুদিন ব্যস্ত ছিল। তাতে এতো এতো পরিবর্তন! বিকালের দিকে সে মোল্লা বাড়ির সামনে স্বাধীনের দোকানে গিয়ে বসল। বেশ কয়েকবার ঘন ঘন মোল্লা বাড়ির গেটের দিকে চাইল সে। স্বাধীন লক্ষ্য করল নাওয়াফের মুখটা আজ বিরস হাসি বিহিন দেখা যাচ্ছে। স্বাধীন বুঝল কাহিনিটা কি? সে জিজ্ঞেস করল, “নাওয়াফ ভাই, চা দিব? আদা চা?”

নাওয়াফ মাথা ঝাঁকাল, “দে। কড়া লিকার দিয়ে দিস।”

পাশে দপ করে বসার শব্দ পেল সে। দেখল নিখিল বসেছে। হাত টানা দিয়ে পাঁচ টাকা দামের বন রুটিটা নিয়ে চিবাতে চিবাতে সে নাওয়াফকে উদ্দেশ্য করে বলল, “গতরাতে ফোন দিয়েছিলি কি করতে?”

নাওয়াফের মেজাজ আকাশ ছুঁই। সে কর্কশ স্বরে বলল,

“আমার বাল ছিঁড়তে।”

ওমন কুরুচিপূর্ণ ভাষা শুনে নিখিলের মুখে রুটি আটকে গেল। তৎপর নিজেকে স্বাভাবিক করে খানিকটা সে হেসে বলে, “যাহ, ওসব ছেঁড়া যায়?”

নাওয়াফ তেজে ওঠল।

“ইয়ার্কি মারছিস? এমন জায়গায় মারব না? শালা বউকেও পর্যন্ত দেখাতে পারবি না।”

নাওয়াফের কথায় মাথা ঘামাল না নিখিল। জানে ওটার ভাষাই ওমন। রাগ ওঠলে যেখানে নিজের বাপকেই চিনে না। লাল সালাম দেয়। সেখানে তো সে কোন তালতো ভাই। সে চা দিয়ে রুটি চুবিয়ে খেতে খেতে বলে, “মাথা খারাপ কেন? ওইটারে তিনটা দিন পর্যন্ত না দেখতে পেয়ে?”

নাওয়াফ জবাব দিল না। স্বাধীন নাওয়াফের দিকে চা এগিয়ে দিল।

“নিন নাওয়াফ ভাই আপনার চা।”

নাওয়াফ হাত বাড়িয়ে চা নিয়ে চুমুক দিয়ে স্বাধীনকে বলল, “একবার বাড়িতে যা তো। বলবি কথা আছে। নাওয়াফ ভাই ওরে ডাকছে। আসতে না চাইলে ওর ঘাড়টা ধরে টেনে নিয়ে আসবি। পারবি না আনতে? এ কাজ করতে পারলে হাজার টাকা বকশিস পাবি।”

স্বাধীন মাথা ঝেঁকে বলে, “পারমু না মানে? এ আর কি কঠিন কাজ? আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।” বলেই সে দোকান থেকে বেরিয়ে নাচতে নাচতে বাড়িতে ঢুকল। যাওয়ার সময় সে যতটা নাচতে নাচতে যাচ্ছিল। আসার সময়ে সে ততটাই মলিন মুখে ফেরত এলো। ওর মুখ দেখেই নাওয়াফ কিছুটা আন্দাজ করে নিল। তবুও স্বাধীনের মুখ থেকে সে সরাসরি শুনতে চাইল।

স্বাধীন মুখটা মলিন করে নিয়ে বিরস কণ্ঠে বলল, “নাওয়াফ ভাই, আপনার কলিজার ডুগডুগি অসুস্থ। তার জ্বর এসেছে। আজ তিন দিন যাবৎ জ্বরে ভুগছে। তখন আমার বলতে মনে ছিল না।”

“ওর জ্বর এসেছে?”

“হ্যাঁ।”

“সে কথা আগে জানাবি না?”

“তখন বলতে মনে ছিল না।”

নাওয়াফ আর সময় অপচয় করল না। সে হাতের চায়ের কাপ বেঞ্চে রেখে মোল্লা বাড়ির দিকে ছুটল। নিখিলও অর্ধ খাওয়া চা রেখে নাওয়াফের পিছু পিছু গেল। রমিজ এতোক্ষণ পিছনে দাঁড়ানো ছিল। নাওয়াফ যেতেই সে আরাম করে বেঞ্চের ওপর বসে পড়ল। নাওয়াফের অর্ধ খাওয়া চায়ে চুমুক বসিয়ে পা দুটো নাচাতে নাচাতে স্বাধীনকে বলে, “আমার আর কাজ কি? আমি বসে বসে আরাম করে চা খাই। ভাই ভাবির অসুখ সাড়াক গিয়ে।”

রমিজের কথা শুনে স্বাধীন হো হো করে হেসে দিল।

নাওয়াফ যখন ঘরে ঢুকল দেখল সামনের ঘরটা খালি। বৈঠকখানায় বসে জারিফা খেলছিল। আজ আর ওকে জ্বালাতন করল না। সে এসেছে আরেকজনকে জ্বালাতন করতে। পাখির রুমে ঢুকতে গিয়ে দেখল ভেতর থেকে দরজাটি আটকানো। শয়তান একটা! নিশ্চয়ই সে এসেছে তা টের পেয়েছে। এজন্য দরজায় খিল দিয়েছে। নাওয়াফ দরজার ওপারে বসে ঠকঠক করে কড়া নাড়ল। সেই সঙ্গে আওয়াজ তুলে বলল, “পাখি, দরজাটা খোল।”

পাখি বিছানার সঙ্গে চুপচাপ লেপ্টে রইল। জ্বরে তার গা পুড়ে যাচ্ছে। নাক মুখ দিয়ে যেন ধোঁয়া ছুটছে। সেদিন বৃষ্টিতে ভেজা সরূপ জ্বর ঠান্ডা ভালো করেই একসঙ্গে লাগছে। তার খালা বাড়িতে না। পাশের বাড়িতে গেছে। তবে এটা সত্যি কথা যে সে নাওয়াফের আওয়াজ পেয়েই দরজায় খিল দিয়েছে। তার ভাবনা মাঝে আবার দরজাটি খটখট করে কেঁপে ওঠল। বাহির থেকে শোনা যাচ্ছে লোকটার ধমক।

“বেয়াদপ! দরজাটা খোল। হাতের কাছে পেলে মেরে ভর্তা বানিয়ে ফেলব।”

পাখি নিরুত্তর। জবাববিহিন।

নাওয়াফের রাগে মাথা দাউ দাউ করে জ্বলে যাচ্ছে। ইচ্ছে জাগল লাথি দিয়ে দরজাটি ভেঙে ফেলতে। সে বুঝল রেগে কোন সমাধান হবে না। যা করতে হবে আদরে আদরে। ভালবাসা দিয়ে বুঝিয়ে। সে মায়ামন্ত্র কণ্ঠে ওকে ডাকল, “কলিজা..! ও আমার কলিজা, দরজাটা খোল না লক্ষ্মীটি। তোকে এক পলক দেখেই আমি বিদায় নিব। বিশ্বাস কর গত ৩ দিন যাবৎ তোকে দেখতে না পেয়ে শ্বাসটা গলায় এসে আটকে আছে। একটু চোখের দেখা দেখতে দে না রে।”

এবারও পাখির উত্তর এলো না। নাওয়াফ খুবই হতাশ। এ কোন পাথরের মুক্তিকে ভালবাসল মন। যার ভিতরে অনুভূতির বিন্দুমাত্র কোন মূল্যায়ন নেই। সে ক্রোধের আধিক্যে বন্ধ দরজাটির ওপর একটা লাথি মারল। তৎপর রাগে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। বন্ধ দরজাটির পানে একবার নাওয়াফের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দিকে একবার নিখিল ফ্যালফ্যাল করে তাকাল। দুটোর হিসেব কষছে সে। কিছু তো একটা এদের মধ্যে ঘটেছে..। কিন্তু সে জানে না সেই কিছুটা কি?

কেটে গেল আরও দুটো দিন। পাখির জ্বর দুদিন পর সাড়ল। সেদিন নাওয়াফ যৌতুকের একটা বিচারে বসেছিল। বিচার করা প্রায় শেষ। তখন দেখল পাখি স্কুল থেকে বাড়ি যাচ্ছিল। ক্লাবের আশপাশ মানুষের একটু ভিড় আজকে বেশি। মাত্র বিচারটা শেষ হয়েছে। দুপক্ষের ভিতরে এখনো কথা-কাটাকাটি চলছিল। সে অবস্থায় তাদের ফেলে নাওয়াফ পাখির পিছু পিছু গেল। ওর পাশাপাশি আর দশটা সাধারণ মানুষের মতন হাঁটতে লাগল যাতে কেউ কিছু আন্দাজ করতে না পারে। পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে বলল, “কথা আছে। রাতে দরজা খোলা রাখিস। আমি আসব।” বলেই লোকটা খুব সাবধানে ওর পাশ কাটিয়ে নীরবে কেটে পড়ল।

পাখি পিছু ঘুরে দেখল লোকটা ক্লাবে ঢুকে গেছে। পাখি ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। সেই রাতে সে দরজা খোলা রাখেনি। কিন্তু সে টের পেয়েছিল কেউ তার ঘরের জানলার পাশটাতে বসে রজনীর অন্তিমপ্রহর পর্যন্ত সিগারেট টেনেছিল। গন্ধে সে ঘুমাতে পারেনি। আশ্চর্যের বিষয় হলো পরদিন সকালে সে সেখানে একটা সিগারেটের খোসাও পড়ে থাকতে দেখেনি। নিশ্চয়ই নিঃসন্দেহে নিঁখুত কাজটা সুবলিষ্ঠ পুরুষটির করা।

পরদিন ইচ্ছে এসেছিল পাখিকে প্রাইভেটে নিতে। পাখি যাইনি। কেন যাবে না সেটা সে খোলাসা করে বলেনি? শুধু বলেছে, সে আর লোকটার কাছে প্রাইভেট পড়তে যাবে না।

রাত আটটার দিকে নাওয়াফের হঠাৎ দেখা মিলল। সঙ্গে রমিজ ছিল। সে বাহিরে উঠোনে দাঁড়ানো। স্বাধীনের সঙ্গে কথা বলছিল। মোজাম্মেল মোল্লা, তাহিরা জারিফাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছে। আজ সকালে মেয়েটা পুকুরঘাটে পড়ে হাত ভেঙে ফেলেছে। সারাদিন ব্যথার যাতনায় এক দণ্ডও বসতে পারেনি। তাই সন্ধ্যা সন্ধ্যা তাহিরা ওকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি ব্যথা বাড়ে, তখন?

পাখি তখন চুল বেনি করছিল। সামনে তার সাহিত্য পাঠ বইটি। রুমে বসে পড়ছিল আর সে চুল বেনি করছিল। হঠাৎ রুমে ঝাঁঝাল পারফিউমের ঘ্রাণ আসাতে তার ষষ্ঠইন্দ্রীয় সজাগ হলো। এ ঘ্রাণটি যে তার চেনা। এ ওই ভদ্রোলোক ছাড়া আর কেউ নয়। সে সতর্ক হয়। দ্রুত বুকে ওড়নাটি টেনে দিল। নাওয়াফ ভিতরে ঢুকে খাটের ওপর ওর মুখোমুখি হয়ে পায়ের ওপর পা তুলে বসল। কোন রকম কথা না বলে শুধু পাখির মুখটার দিকে নির্বিকে চেয়ে দেখতে লাগল। পাখির অস্বস্তি লাগছিল। এরকম সামনা সামনি বসে কেউ মুখের দিকে অনায়াসে চেয়ে থাকলে অস্বস্তি তো হওয়ারই কথা। হাতে ওনার জ্বলন্ত সিগারেট। দুই ঠোঁটের ভাঁজে নিয়ে ফুঁকছিল। পাখি খুকখুক করে কেশে ওঠল। মাথা নত করে চেয়ার ছেড়ে উঠে যাচ্ছিল। নাওয়াফ চেয়ারের ওপর পা ঠেলে ওর যাওয়ার পথ আটকে দিল। পাখি থেমে গেল। চোখ তুলে লোকটার সুতনু মুখটার দিকে চাইল। ওই সমুদ্রের মতন গভীর দৃষ্টিজোড়ার দিকে তার নারীলোকের চক্ষু দুটোর সন্ধি ঘটতেই শশব্যস্ত সে দৃষ্টি নামিয়ে নেয়। নাওয়াফ সিগারেট পায়ের নিচে পিষে নিয়ে ওকে তর্জনী আঙুলের ইশারায় চেয়ারে বসতে বলল। পাখি ঝামেলা বাড়াতে চাইল না। সে বসে পড়ল। নাওয়াফ এবার খাট ছেড়ে পাখির মুখোমুখি হয়ে চেয়ারে এসে বসল। পাখি আবারও উঠে যাচ্ছিল। নাওয়াফ ওর পা দুটো তার পায়ের ভিতরে নিয়ে আটকে দিল। পাখি টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কোন লাভ হয়নি৷ উল্টো লোকটা বেশ পোক্ত করে পা দুটো নিজের পুরুষালি পায়ের দখলে আটকে রেখেছে। বলল,

“বসতে বলছি না তোকে।”

পাখি থুতনিটা গলার সঙ্গে মিহিয়ে রাখল। মাথাটা নিচু তার। মিনমিন করে সে বলে, “ঘরে কেউ নেই। আপনি ঘর থেকে বেরিয়ে যান। কেউ এসে দেখলে চরিত্রে কালি মাখাবে।”

নাওয়াফ ঠোঁট কামড়ে চিবিয়ে চিবিয়ে প্রত্যুত্তরে বলল,

“আমার কারণে তোর চরিত্রে কালি লাগলে লাগুক না। আমি না হয় সেই কালি ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে মুছে দিব।”

“ফাজলামো করেন?” শক্ত শোনাল ওর গলা।

“মোটেও না।”

“কেন এসেছেন?”

“গত দুদিন যাবৎ ট্রি-হোমে আসিসনি কেন?”

“তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।”

“রাখতে তো চেয়েছিলাম। থাকতে তো চাসনি।“

“কোন অধিকারে?”

“মিসেস নাওয়াফ তালুকদারের অধিকারে।”

“ওসব আপনি ভুলে যান। দিবাস্বপ্ন দেখছেন।”

“পড়তে যাসনি কেন?”

“আমার ইচ্ছে।”

“তোর ইচ্ছেতে সব হয়?”

“হ্যাঁ হয়।”

নাওয়াফ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল। বলল,

“চোখে কাজল লাগাসনি কেন?”

“এমনি।”

“এমনি?”

“হ্যাঁ, এমনি।”

নাওয়াফ পাখির ওপর সুগাঢ় দৃষ্টিজোড়া তাক করে রাখা অবস্থাতে চ্যাঁচিয়ে স্বাধীনকে ডাকল, “এই স্বাধীন, এইদিকে আয় তো।”

নাওয়াফের ডাক শুনে স্বাধীন বাহির থেকে রুমে ছুটে এলো।

“জি নাওয়াফ ভাই, কিছু বলবেন?”

“পিতলের চামচ, নারিকেল তেল, ল্যাম, আর পাউডার এনে দে তো।”

স্বাধীন মাথা ঝাঁকাল,

“ঠিকাছে।”

কিছুক্ষণের মাথায় স্বাধীন সবগুলো নিয়ে ফেরত এসে নাওয়াফের সামনে রাখল। নাওয়াফ স্বাধীনকে হাতের ইশারায় বলল, “এবার যেতে পারিস।”

স্বাধীন পাখির মুখটার দিকে এক ঝলক তাকিয়ে বিদায় নিল। নাওয়াফ লাইটার দিয়ে ল্যাম জ্বালিয়ে তার ওপর পিতলের চামচটি উল্টো করে ধরে রাখল। পাখির ভ্রু কুঁচকে আসে। লোকটা আসলে কি করতে চাইছে তার মাথায় ধরছে না। সে অক্ষি দুটো বড়ো বড়ো করে ফেলল। আগ্রহ দমিয়ে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই বসল, “ এগুলো দিয়ে কি করবেন আপনি?”

“সেঁকা দিব। আমার মতন সুন্দর সুদর্শন একজন পুরুষের ভালোবাসা অস্বীকার করার কারণে তোর মতন বদমাশ মহিলার দুগালে দুটো সেঁকা দিয়ে সিলমোহর বসিয়ে দিব। যাতে তোকে আমি ছাড়া কেউ নিকাহ্ না করে।”

(চলবে কি?)

#লামইয়া_তাসনিম।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন