#সে_আমার_সর্বনাশ_২
(১৭)
পশ্চিমের ডালিম গাছটি নড়েচড়ে ওঠল। কি যেন একটা ওখানে বসা ছিল? খুব ভালো করে দেখলে মনে হয় ওটা পায়রা ছিল। উঠোন জুড়ে ঝিরিঝিরি বাতাসের উপস্থিতি। বাড়ির সামনে খোলা উঠোন। উঠোনের পুবদিকে লতা নদীটি।সেজন্য এখানকার বাতাসটি একটু তীব্র বেশি। নাওয়াফ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছিল। হঠাৎ তার পাশে মেয়েলি একটা ছায়া দেখতে পেল। মিষ্টি ঘ্রাণে ষষ্ঠ ইন্দ্রীয় ঠাহর করে নিল মেয়েটা পাখি। পাখি হাত কচলায়। ওড়না নাড়াতে নাড়াতে গলা খাকারি দিল তার উপস্থিতি জানান দিতে। নাওয়াফ ললাট কুঁচকে নিল। ভ্রু দুটো বাঁকিয়ে জানতে চাইল, “কিছু বলবি?”
পাখি জবাব দেয় না। তবে হ্যাঁ, নির্বিকে একটা ভয়ংকর কাজ করে বসে। নাওয়াফের বুকে সে মাথা রেখে মুখটা চওড়া বুকে লুকোয়। নাওয়াফ বিমূর্ত, কিংকর্তব্যবিমুঢ় প্রায়। পুরাই নির্বিক সে। তার হাত থেকে সিগারেট জুতার ওপর গিয়ে পড়ল। সে একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে যেন। এখনো কল্পনা করতে পারছে না স্বয়ং পাখি তাকে নিজ থেকে বুকে এসেছে। এ যে অবিশ্বাস্য! পাখি মিনমিন করে ভেজা গলায় বলল, “ সরি নাওয়াফ ভাই৷ আমাকে ক্ষমা করে দিন। জানি আবেগের বশে সেদিন ভুল করে আপনাদের নাক কেটেছি। আপনাকে ছোট করেছি। আপনার সম্মান নষ্ট করেছি। আপনার জায়গায় অন্য কেউ হলে কখনো আমার দিকে ফিরে তাকাতো না। সেখানে তো আপনি আমাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিয়েছেন। এজন্য আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আপনাকে স্বামী হিসেবে মানতে আমার কোন আপত্তি নেই। আপনাকে বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলো।”
এক ঝলক শেষ হতে না হতেই আরেক ঝলক নাওয়াফ নিতে পারল না। সে দ্রুত পাখিকে বুক থেকে ঠেলে সরিয়ে দিল। বড়ো বড়ো কয়েকটা শ্বাস ফেলল। ঘরের পাশে পানির পাত্র ছিল। সে চোখে মুখে জল ছিটালো। সে আসলে ভুল দেখছে কিনা, ভুল শুনছে কিনা। নাকি দুঃস্বপ্ন দেখছে? পাখি বুঝল লোকটা তার মুখের কথা বিশ্বাস করছে না। সে একটা কাজ করে বসল। সে পিছু থেকে নাওয়াফের হাতে চিমটি কাটল। নাওয়াফ মুহূর্তের মধ্যে ‘আউচ’ শব্দ করে ওঠল। মুখ দিয়ে তাৎক্ষণিক বেরিয়ে এলো, “খবিশ মহিলা, চিমটি দিলি কেন?”
পাখি মিটমিট করে হাসল।
“আপনি তো স্বপ্নের শহরে বাস করছেন। তাই স্বপ্ন ভাঙালাম।”
নাওয়াফ ধীরে ধীরে পাখির দিকে এগিয়ে গেল। পাখির ভয় হলো। লোকটা আবার গাল নিয়ে চড় বসাবে নাকি? সে দুগাল আগে ভাগেই ঢেকে নিল। শুধু শুধু তার অবলা গাল দুটো ভুক্তভোগী হবে কেন? সে দুচোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করতে লাগল লোকটা কি করে? একটা সময়ে সে লোকটার কোন সাড়া শব্দ পেল না। গেল কই? চলে গেল নাকি? চোখ দুটো খুলল সে। তখন দেখতে পেল তার মুখের কাছাকাছি লোকটার অবস্থান। সুগাঢ় দৃষ্টি দুটো তার মুখের ওপরই তাক করে রাখা। হঠাৎ টের পেল চুলের গোড়ায় ব্যথার উপস্থিতি। লোকটা ওর চুলের মুঠিটা শক্ত হাতে চেপে ধরে ওর মুখটা ওনার মুখের কাছে টেনে আনলেন। ওর গাল দুটো চেপে ধরে মুখের ওপর ঝুঁকে গেল। ওর কানের কাছে পুরুষালি মুখটা টেনে শুধাল, “যা বলছিস সব সত্যি তো কালনাগিনী? তোরে আমি এক পার্সেন্টও বিশ্বাস করি না। যে খবিশ তুই! সারাদিন মাথায় কুবুদ্ধি এঁটে বসে থাকিস।”
পাখির বড্ড মনঃক্ষুণ্ন হলো। সে নিঃশব্দে মাথা ঝাঁকাল।
“হ্যাঁ, সত্য।”
নাওয়াফ পাখির ঠোঁট দুটো আঙুল দিয়ে ঘষতে ঘষতে বলল,
“তাহলে আর দেরি কিসের? এখনই কাজি ডাকি। তুই যা বেতালা সুর! কখন আবার কোন সুর বাজাস বলা মুশকিল।
পাখি নাওয়াফকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে বলল, “নাওয়াফ ভাই, প্লিজ আমার কথাটা শোনেন।”
“বল কলিজা। আমি শুনছি।”
লোকটার মুখে কলিজা ডাক শোনার সঙ্গে সঙ্গে পাখির সমগ্র শরীর শিরশির করে ওঠল। অদ্ভুত অনুভূতিতে মন সিগ্ধ হলো। লজ্জায় তার কান দুটো ভারি উষ্ণ ঠেকল। গাল দুটো লালচে বর্ণ আর ভারী ভারী দেখাল। সে আমতা আমতা করে বলল, “আমি বিয়ে করব। কিন্তু আমায় সময় দেন।”
পাখির চুল ছেড়ে দিয়ে নাওয়াফ সোজা হয়ে দাঁড়াল। ওর ওপর গভীর দৃষ্টি জোড়া রেখেই ওকে প্রশ্ন করল, “কত সময় চাই তোর? দুমাস, চার মাস, ছমাস?”
“না না, ওতো লাগবে না। শুধু পরীক্ষাটা শেষ হতে দিন।”
“আমি নিজের বাম হাতকে বিশ্বাস করলেও তোকে বিশ্বাস করি না। তবুও তুই যেহেতু রিকুয়েষ্ট করছিস, বিয়েটা তোর পরীক্ষার পরই হবে। যদি না কোন আকাম নতুন করে না ঘটাস। কিন্তু হ্যাঁ কাবিন আজই হবে। আর এখনই।”
“এখনই?” পাখির চোখে বিস্ময়।
“জি ম্যাডাম এখনই। কবে আবার পালিয়ে যান বলা কওয়া তো যায় না। সেই বয়স আমার আর নেই যে, বউ খুঁজে খুঁজে বের করব। এখন হলো বউয়ের গলা ধরে ঘুমানোর বয়স। সেই বয়সে কেউ বউ খুঁজে?”
পাখি আর না বলল না। নাওয়াফ উকিল ডেকে আনল। কিছু ঘণ্টার বিনিময়ে তাদের কাবিন হয়ে গেল। পাখি আর নাওয়াফ পাশাপাশি বসা। সবাই ওদের একা কথা বলার সুযোগ করে দিয়ে বাহিরে গিয়ে খোলা জায়গায় বাতাসে বসল। একটু পরই তারা বের হবে। নাওয়াফ পাখিকে জিজ্ঞেস করল, “কিরে খবিশ মহিলা আমার বউ হবি না বলে খুব তো লাফালাফি নাচানাচি করছিলি। বাড়ি থেকে পালিয়েও গেলি। কিন্তু কোন লাভ হলো না। দেখলি শেষ পর্যন্ত আমার গলাই এসে তোকে ঝুলতে হলো। একেই বলে কপাল। আমি বলছিলাম না ওই বাল আমার কপালেই লেখা আছে। আমার গলাই ঝুলবে। মিলল তো?”
পাখি বিড়বিড় করে খোঁচাটে কথা বলল, “নিজেই ছোঁচার মতন এসে বিয়ে করে এখন খোঁচা মারছে।”
নাওয়াফ শুনল। জবাবে সে ঠোঁট টিপে হাসল। বলল, “ছোঁচামির বয়সে ছোঁচামি করমু না তো কোন বয়সে করমু? এখনই তো ছোঁচামি করার বয়স। এখন চল বাড়ি। না এখানে রাতটা কাটানোর ইচ্ছে আছে? আমার অবশ্য কোন অসুবিধা নেই। নয়া বউ পাশে থাকলে রাত এক জায়গায় কাটলেই হলো। সেটা জঙ্গলে হলে হলো।”
পাখির লজ্জা লাগল। শুরু হয়ে গেছে লোকটার নির্লজ্জ কথা বলার বাঁদরামি । সে ডাকল, “নাওয়াফ ভাই।”
“জামাই বল। জামাইকে কেউ ভাই বলে বদজাত? কান নিয়ে দিব এক চড়।”
পাখি চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে চাইল। হাহ! শুরু হয়ে গেছে থাপড়া থাপড়ি। কবুল বললে না জানি কি করে বসে? তবুও তার অন্য রকম একটা অনুভূতি হলো। সে কোমল কণ্ঠে ডাকল, “শুনছেন?”
“জি বলুন, বিবি সাহেবা?”
নাওয়াফের সম্বোধন শুনে পাখি খিলখিল করে হেসে দিল। নাওয়াফ মুগ্ধ চোখে ওর হাসি হাসি মুখটা দেখল। তার কাছে ভীষণ ভীষণ ভালো লাগল। পাখি হাসি থামিয়ে নাওয়াফের মুখোমুখি হয়ে বসল। নাওয়াফের সুন্দর মুখটার দিকে দৃষ্টিজোড়া উঠিয়ে বলল, “আজ থেকে আমার সকল দায়িত্ব আপনার হাতে তুলে দিলাম।
নাওয়াফ পাখির দুহাত তার হাতের মুঠোয় নিয়ে এলো। দুহাতের তালুতে ঠোঁট ছুঁয়ে সে বলল, “এই যে হাত দুটো ধরলাম। আর ছাড়ছি না। যতক্ষণ না আমার দেহের মরণ হবে।”
পাখি মুগ্ধ হয়ে লোকটার কথাগুলি শুনছিল। লোকটার কথাগুলি তার অন্তরটাকে সিগ্ধ করল। সেই রাতেই তারা বাড়ি ফিরল।
রাত তখন তিনটে। মোল্লা বাড়ির সামনে স্বাধীন, নিখিল, নাওয়াফ আর পাখি দাঁড়ানো। কিছুক্ষণের মাথায় তাহিরা হারিকেন হাতে এলো। নাওয়াফের পাশে পাখি তখন জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়ানো। পাখিকে দেখেই তাহিরা রাগে চেতে ওঠল। সে তেড়ে গেল পাখির দিকে। পাখি তাড়াতাড়ি নাওয়াফের চওড়া শরীরের পিছনে লুকিয়ে পড়ল। তাহিরা দমল না। সে এগিয়ে যাচ্ছিল। তার আগেই নাওয়াফ ধমকে ওঠল তাকে।
“থামুন! এক পাও আর ওদিকে যাবেন না। ওর গায়ে একটা হাত উঠলে আমি ভুলে যাব আপনি কে?”
তাহিরাও আজ বেশ করে রাগল।
“নাওয়াফ তুমি ভুলে গেছো ও কি করেছে সেদিন? সবার নাক কেটেছে।”
“আমি কিছু ভুলিনি। ও দোষ যা করেছে, আমার সঙ্গে। আমি মাফ করে দিতে পারলে আপনি পারবেন না কেন? আর তাছাড়া সে বর্তমানে আমার ওয়াইফ। মিসেস পাখি তালুকদার।”
তাহিরা অবাক হয়ে একবার নাওয়াফের দিকে আরেকবার পাখির দিকে তাকায়। তার চোখে মুখে বিস্ময়ের ছাপ।
“তোমরা বিয়ে করে ফেলেছো?”
“অর্ধেক করেছি।”
“অর্ধেক করেছ?”
“হ্যাঁ, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ও আমার স্ত্রী। ইসলামিক আইন অনুযায়ী হবে দুটো মাস পর। এই দুটো মাসে ওর গায়ে একটু আঙুল ছোঁয়ালে আমি নাওয়াফ তালুকদার কতটা ভয়াবহ হতে পারি তা দেখবেন। আপাতত ওরে ঘরে নেন। ওর ঘুমের প্রয়োজন। সারারাত ঘুমোয়নি। ক্লান্ত।”
তাহিরা আর কিছু বলল না। নীরবে পাখিকে বলল, “আয়।”
পাখি নাওয়াফের পিঠের পিছন থেকে বেরিয়ে এলো। নাওয়াফের দিকে এক পলক তাকাল। নাওয়াফ ওকে ইশারায় যেতে বলল। পাখি তাহিরার পিছু পিছু যাচ্ছিল। হঠাৎ থেমে গেল। কতটুকু হেঁটে পিছু ঘুরে নাওয়াফের কাছে ফেরত এলো। স্বাধীন আর নিখিল গেছে সিগারেট ফুঁকতে। নাওয়াফ তখন একা ছিল। পাখি দেখল লোকটা সিগারেট ফুঁকছে। মানুষ এত সিগারেট খায়? সে ডাকল, “নাওয়াফ ভাই।”
নাওয়াফ চোখ তুলে দেখল পাখি এখনো যাইনি। সে শুধাল, “ভিতরে যাসনি?”
“যাব, আপনিও চলুন না? এতো রাতে তো জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।”
নাওয়াফ সিগারেট ফুঁকা অবস্থাতে ঠোঁট টিপে মুচকি হেসে দেয়।
“এতো আদর দেখাবি জানলে আরো আগে জোর করে হলেও তোকে বিয়ে করে ফেলতামরে পাখি। যা পুড়িয়েছিস বুকটা! যাইহোক আজ আর জঙ্গলে ফিরছি না। সারারাত এভাবে বসেই কাটিয়ে দিব। তুই ঘরে যা। এখানে প্রচন্ড মশা। নারী পুরুষ মিলিয়ে। আমি চাই না আমি ছাড়া আমার বউকে অন্য কোন প্রাণী কামড়াক। আমার হিংসে হবে।”
পাখি খানিকটা লজ্জা পেল। লোকটার পাশাপাশি গিয়ে বলল, “একটু বসি?”
“বসবি? বাট পুরুষ মশা তো তোকে আস্ত রাখবে না। ওদের নজর ভালো না। চিপায় চুপায় কামড়ায়। চল ঘরে যাই। ঘরে গিয়ে ভালো বাসাবাসিগিড়ি করি। বাসর না হয় কবুল বলার পর করলাম। ”
পাখির মাথায় হাত।
“বলে কি?”
নাওয়াফ সিগারেট ফেলে দিয়ে ওর হাত ধরে ঘরের দিকে হাঁটা ধরল। হাঁটতে হাঁটতে বলল, “শুধু কলেমাটা পড়ে নেই। তারপরে তোকে বোঝাব। এখন বল এতো আদর করে ঘরে যে ঢুকাচ্ছিস, খাওয়াবিটা কি, হুঁ? আজ কিন্তু আমাদের বিয়ের প্রথম রাত। মিষ্টি মুখ করানোটা তোর একটা ফরজ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে পাখি।”
পাখি ফট করে দাঁত কপাটি বের করে বলল, “বেশি করে চিনি দিয়ে রং চা খাওয়াব।”
নাওয়াফ নাক কোঁচকালো।
“ছিহ, পুরুষ চা আমি খাই না।”
পাখি অবাক হলো। সেই সঙ্গে হতবাক।
“পুরুষ চা! চা আবার পুরুষ হয়?”
“হয় হয়। রং চা হলো পুরুষ। দুধ চা হলো মহিলা। আমি রং চা খাই না। দুধ চা খাই। তুই খাওয়াবি?”
পাখির লজ্জায় কান অবধি লাল হয়ে এলো।
“ছিহ, অশ্লীল।”
নাওয়াফ হাসে, ঠোঁট ছড়িয়ে।
“বিয়েটা একবার হতে দে। অশ্লীল না কি তা রোজ রাতে তোকে বুঝাব। আমি হব তোর মাস্টার আর তুই হবি আমার ছাত্রী। ভুল করলেই মার খাবি। কঠিন মার।”
পাখি লজ্জায় পালাতে চাইল। নাওয়াফ ওর দুহাত ধরে ফেলল। ওর কোমর ধরে উঁচু করে নিজের কাছাকাছি নিয়ে এলো। পাখি লজ্জায় তাকাতে পারছে না। তবে নাওয়াফ হাসে। লজ্জা যেন তার করছেই না। ছিল আবার কোন কালে? লাগাম ছাড়া কথাবার্তায় সব সময় সে এক ধাপ এগিয়ে।
“লজ্জা লাগছে?”
পাখি মাথা ঝাঁকাল।
“হ্যাঁ।”
নাওয়াফ পিছু থেকে পাখির মসৃন কোমর পেঁচিয়ে ধরে বলল, “তোর লজ্জাদের বলে দিস আমার একজন নাওয়াফ ভাই আছে। সে তাদের হরণ করার দায়িত্ব নিবে।”
পাখি রক্তিম গাল দুটো নিয়ে বলে ওঠল,
“আপনি একটা দারুণ অসভ্য।”
“দারুণ অসভ্য কি রে?”
“আমি জানি না।”
“জানিস না?”
“নাহ!”
“তাহলে কি জানিস?”
পাখি লজ্জায় মুখটা দুহাতে ঢেকে নিল।
“আপনি এতো লজ্জা দিচ্ছেন কেন?”
“তুই পাচ্ছিস কেন?”
“আপনি জানেন না লজ্জা নারীর ভূষণ?”
“তাই?”
“হুঁ।”
“তা তোর লজ্জা কত কেজি?”
পাখি প্রায় হতভম্ব হয়ে গেল। এমন প্রশ্ন করে মানুষ? সে উত্তরহীন, জবাবহীন।
বাহিরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। ফজরের ওয়াক্ত তখন। নাওয়াফ কথার মাঝে একটা কাজ করে বসল। পাখির দুঠোঁটের মাঝে ছোট করে একটা কামড় বসিয়ে দিল। তারপরে আর এক সেকেন্ডও বিলম্ব করল না। বৃষ্টির মধ্যে নেমে গেল। যেতে যেতে বলল, “আপাতত এতটুকু সামলা। বেশি দিলে ডোজ হজম করতে পারবি না। শেষে বদহজম হবে। লোকে বলবে বরের কামড় খেয়ে বউয়ের ডায়রিয়া হয়েছে।”
পাখি বিস্ময়ের সঙ্গে নাক সিটকালো।
“ছিহ, এত রোগ থাকতে শেষ পর্যন্ত ডায়রিয়া?”
#(চলমান~)
#লামইয়া_তাসনিম।