#সে_আমার_সর্বনাশ।
(২০)
পাখি এই বাড়িতে এসেছে এক ঘণ্টা হয়ে গেছে। এসে ঘুর ঘুর করতে শুরু করে দিয়েছে। কতক্ষণ রুমে থাকা যায় বাবা! লোকটা এই জ্বর মাথায় নিয়েও কোথাও একটা বের হয়েছে। তার শাশুড়ি একটু পর পর এটা ওটা এনে হাতে ধরিয়ে দেয়। আর বলে, “নেও খাও, নাওয়াফ তালুকদারের কলিজার ডুগডুগি।”
সে লজ্জা পায়। আবার বুঝতেও পারছে না তাকে খোঁচা দিচ্ছে, না তাকে সোজা বাংলায় অপমান করছে। বাড়িটা কেমন জানি মরা মরা লাগছে। তেমন কেউ নেই। আবার নোভা ম্যাডামও নেই। সে ছাদে উঠে হাঁটছিল। বেশ বড়ো ছাদ। খোলা মেলা। বেশ কয়েক রকমের সবজির গাছ লাগিয়েছে। ফুল আর ফল গাছও আছে। হঠাৎ পিছু থেকে কেউ একজন তার চোখ চেপে ধরল। সে আন্দাজ করতে পারছে না। ধীরে ধীরে হাত দুটো সরিয়ে নিতেই দেখল ইচ্ছে বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে দেখে একটু সে হাসতে চেষ্টা করল।
“এসেছিস জানু?”
ইচ্ছে মুখ বাঁকাল। গাল ভার করে অভিযোগ করে বলল, “আমায় ছাড়া হাঙ্গা করেছিস, কাবিন করেছিস। এখন আমায় ছাড়া শশুর বাড়িও চলে এলি? আর আগে কি বলতি? দেখিস তোরে ছাড়া আমি হিসু করতেও যাব না। বদমাশ বেডি এখন চেঞ্জ হয়ে গেছে।”
“শুধু শুধু গালাগাল করবি না। আমি তোকে আসতে বলেছিলাম। মনি বলল, তুই নাকি ব্যস্ত।”
“হ্যাঁ তা একটু ছিলাম। বিয়ে বাড়ি বলে কথা। আমি তো জানতামই না তুই এই বাড়িতে আসবি, যদি না নাওয়াফ ভাই আমাকে পাঠাত।”
“তার মানি ওনি পাঠিয়েছে তোকে?”
“জি ম্যাডাম আপনার ওনিই আমাকে পাঠিয়েছে। এখন একটা কাজ করতো। কয়েক হালি বাচ্চা কাচ্চা নিয়ে আমাকে খালামণি বানিয়ে দে। জন্ম দেওয়ার দায়িত্ব তোর। ওদের মুতু দেওয়া, হুচু দেওয়ার দায়িত্ব সব আমার। বাই দ্য ওয়ে আজ তো তোদের বাসর রাত না? রাতে তোকে রাখবে। নাওয়াফ ভাইর সঙ্গে এক বিছানায় থাকবি। বান্ধবী রাতে কি হয় না হয় আমাকে সকালে এসে আপডেট দিস।” বলেই ইচ্ছে গাল ভরে হাসল।
পাখির মুখ লজ্জায় লাল হয়ে এলো। সে ভেংচি কেটে বলল,
“আমি ওনার সঙ্গে শুবই না। দেখেছিস কি একটা শরীর? নিশ্চিত ৭৫ কেজি হবে।”
“৭৫ না, ৭৬ কেজি। মাত্র মেপে গেল। আমি তো ভাবছি রাতের কথা। ওমন একটা শরীর নিয়ে তোকে একটা ঘষা দিলেই পাখি তুই ঠুস। সোজা উপরে চলে যাবি।”
পাখি ভয়ে শুকনো ঢোক গিলল। এমনিতে সে আছে ভয়ে। তার ভিতরে উল্টা পাল্টা বলে শয়তানিটা ভয় দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। সে ইচ্ছের পিঠে ধুম করে দিল একটা।
“ফাজিল ভয় দেখাস কেন? এমনিতে আমি ওনাকে বিয়ে করতে চাইনি। এখন ভয় দেখিয়ে আমায় বাকিটা মারিস না। যাই বলিস সারাদিন থাকব ভালোই। রাতে মণিকে ফোন করে স্বাধীনকে পাঠিয়ে দিতে বলব। আমি চলে যাব। এখানে থাকা মানে শিয়ালের সামনে মাংস নেড়ে হাডুডু খেলা।”
“আজ না হয় পালিয়ে বাঁচবি। পরে কি হবে, হুঁ? সে ধরা দিতে হবেই তো। আর পুরুষ মানুষ ছাড়ার পাত্র নয়। তোমারে নিশ্চিয়ই বিয়ে করে নাই শোকেসে সাজিয়ে রাখার জন্য। বেড পার্টনার বানাবে বলেই বিয়ে করেছে।”
পাখির লজ্জায় কান পর্যন্ত গরম হয়ে ওঠল।
“বন্ধ কর ভাই। আর নিতে পারছি না। ওসব করার জন্য মানুষ বিয়ে করে?”
“তাইলে আর বিয়ে করে কি করতে?”
“ওনারে কোন রকম ঘুমের ঔষধ খাওয়াইয়া খাটের মাঝে চিৎ করে রাখা যায় না?”
“না যায় না। ওনার পিঠের নিচে তোকে পিষতেই হবে।”
“ভাই জামাই পাল্টানো যায় না?”
“চোপ! মাতারি নাখারাস্ত কথা বলে। শোন জামা পাল্টানো যায়, বাট জামাই না। আর এ কথা নাওয়াফ ভাই শুনলে তোমার চাপার দাঁত দুইট্টা আতুর দিয়া ভাঙব। সময় থাকতে ভালো হও। জামাইর আদর সোহাগ হজম করতে শিখো।”
পাখি থম মেরে রইল।
“জামাইর আদর সোহাগ হজম করতে গিয়া শেষে বদহজম হইব৷ তুই দেখিসনি আমাদের ক্লাসের রিয়া সেদিন কিভাবে তার বাসরের বর্ণনা দিল। কত কষ্ট পেল বেচারি? কি শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল তার ওপর। তার পরদিন অতিরিক্ত ব্লিডিং এর কারণে হসপিটালে তাকে ভর্তি হতে হয়েছিলো। আমার ভয় করছে ইচ্ছে। নাওয়াফ ভাই কেমন লোক তুই তো জানিস? যদি না করি, না শুনে? হাত পা বাঁধে? জোর করে তখন?”
ইচ্ছে আশ্চর্য হয়ে বলল, “তোর কি আমার ভাইকে পাষাণ মনে হচ্ছে খবিশ, যে তোর হাত পা বেঁধে তোর সঙ্গে বাসর করতে যাবে? শালির মন খারাপ। মুখ খারাপ৷ আগে মন শুদ্ধ কর।”
পাখি ইচ্ছের দিকে তাকিয়ে থমথমে গলায় বলল, “হ্যাঁ তোমার ভাই কদ্দুর ভালো তাতো জানি। ধরে নিয়ে সোজা বিয়ে করে বসল। শালার কিছু বলতেও পারি না৷ মনডায় চায় ধরে দুদিন ঝুলিয়ে উড়াধুরা মারি।”
“কাকে ঝুলিয়ে মারবি তুই?”
পুরুষালি ভারিক্কি কণ্ঠে পাখি হকচকিয়ে গেল। বুঝতে আর অসুবিধা হলো না যার নাম নিয়েছে সেই ব্যক্তিই চলে এসেছে। ইচ্ছে মিটমিট করে হাসে পাখির দিকে চেয়ে।
“লও এবার ঠেলা সামলাও।
সে পাখিকে ফাঁসিয়ে দিয়ে বলল, “নাওয়াফ ভাই আজ নাকি পাখির ইচ্ছে হয়েছে আপনাদের এখানে থাকবে। নতুন বউ হাসবেন্ড ছাড়া থাকাও নিরাপদ না। এখন আপনারা কথা বলুন। আমি আসি।”
পাখি চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে ফেলল৷ কত্ত বড়ো খবিশ! কি রকম বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে কথাগুলি বলল? সে কখন বলল এখানে থাকবে? উল্টো যাওয়ার জন্য নাচছে। পাখি নাওয়াফের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল। নাওয়াফ ওর হাতটা পেছন থেকে টেনে ধরল। ওকে হেঁচকা টানে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল। ওর মসৃণ হাত দুটো দেওয়ালের সঙ্গে লেপ্টে চেপে ধরা। পাখি নড়েচড়ে ওঠল। নাওয়াফ গম্ভীর মুখে ধমকে বলল, “নড়বি না।”
সে নড়বে কি? লোকটার স্পর্শে তার শরীর অলেরেডি বরফ হয়ে গেছে। ওর মুখে একটা আঙ্গুর ঢুকিয়ে দিল। পাখি মুখে ভরে নিয়ে চিপাতে লাগল। নাওয়াফ চোখ বড়ো করে পাকিয়ে চাইল।
“খবিশ মহিলা তোরে আঙ্গুর খেতে দিয়েছি? মুখে রাখতে বলেছি। আমি কামড়ে নিয়ে খাব বলে।”
পাখি হতবাক, নির্বাক।
“রাখার আর জায়গা পেলেন না? এজন্য ঠোঁটের মাঝে আঙ্গুর রাখতে হবে?”
“তুই যে আনরোমান্টিক তা জানত কে? একটু থেমে লোকটা আবার বলল, “থাকবি রাতে? কাঁদলেও কিন্তু মাফ পাবি না।”
পাখি চোখ দুটো অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিল।
“আমি বাড়ি যাব। মণিকে দিয়ে স্বাধীনকে পাঠাতে বলেন।”
“আমি সুস্থ না হতে কোথাও যেতে পারবি না।”
“আপনি তো সুস্থই। খাচ্ছেন, হাঁটছেন।”
“উঁহু সুস্থ হইনি। ভয় পাস না। তোর সঙ্গে বাসর করব না। শেষে কাঁদবি। তার চেয়ে চল তোকে আইসক্রিম কিনে খাওয়াই। আইসক্রিম খেয়ে বরের জন্য দোয়া করে দিবি।”
পাখি বাঁধা দিয়ে বলল, “না আমি বাড়ি যাব।”
নাওয়াফ ওর ঠোঁট ধরে টানল।
“বলেছি না বাড়ি যেতে হবে না। এটাই তোর বাড়ি।”
পাখি অন্যদিকে চোখ দুটো ঘুরিয়ে নিল। নাওয়াফ চোখ রাঙাল।
“ফাজিল, তাকা আমার দিকে? আমার দিকে তাকাতে কি তোর লজ্জা করে? তোকে খেয়ে ফেলব আমি?”
পাখি মাথা নিচু করে বলে, “আপনার চোখের দিকে আমি তাকাতে পারি না। গা শিরশির করে ওঠে।”
নাওয়াফ ঠোঁট টিপে হাসে। বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে ঠোঁট কামড়ে শুধাল, “আর?”
“পেটের নিচে চিনচিন করে।”
“আর?”
“বুক ধড়ফড় করে।”
“আর?”
“কিছু না।”
“কিছু না?”
“না।”
“কিছু তো আছে।”
পাখি নিরুত্তর।
নাওয়াফ পাখির থেকে একটু দূরত্ব রেখে দাঁড়াল। তার ঝলমল করা চুলগুলি দমকা হাওয়া এসে উড়িয়ে দিয়ে গেল। রোদের তাপ অনেকটা কমে এসেছে। ভালোই লাগছে। নাওয়াফ পাখির মুখোমুখি হয়ে বলল, “দর পাখি তোর পরনে কোন পোশাক নেই। সেই অবস্থায় তুই আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছিস। তোর অনুভূতি কেমন হবে?”
পাখির কান গরম হয়ে এলো। ছিঃ! নেংটা অবস্থায় সে লোকটার সামনে দাঁড়িযে থাকবে? কাম আর পায় না। কেন তার কাপড়ে টান পড়ছে নাকি, ছ্যাহ। সে বলল,
“ধরতে যাব কেন? আমার কি ইজ্জত নাই?”
“আহা ওটা কথার কথা।”
“না না, আমি কখনো আপনার সামনে ওমন অবস্থায় দাঁড়াব না।”
“দাঁড়াবিই।” দাঁতে দাঁত চেপে বলল নাওয়াফ।
পাখি মুখ কোঁচকালো।
“ছিহ! এসব কি বলেন? এমন হয় নাকি!”
“হয়। এখন বল তখন তোর অনুভূতি কেমন হবে?”
“খুউব বিশ্রি।”
নাওয়াফ ঠোঁট কামড়ে হাসে। পাখি বুঝতে পারল না লোকটা হাসছে কেন? সে একটু ভালো করে মাথা খাটাল। এক মিনিট, কাপড় ছাড়া তাকে দেখতে কেমন লাগবে লোকটা কল্পনা করেনি তো। ছিহ্! ছিহ্! ছ্যাহ, ছ্যাহ! কি বিশ্রি কাণ্ড? শালার দিল নষ্ট, মন নষ্ট, চরিত্র নষ্ট। সে দ্রুত লোকটার হাত থেকে বাঁচতে চাইল। পালিয়ে যেতে লাগল। লোকটা ওর পা দুটো আটকের হাত ধরে টেনে ধরল।
“এতো পালাই পালাই করিস কেন, হুঁ? জানোস না এটা আমার বাড়ি। যেখানে লুকাবি, শেষ পর্যন্ত আমার কাছেই আসতে হবে তোকে।”
পাখি কুঁকড়ে গেল। আমতা আমতা করে বলল, “আমি পালাচ্ছি না। নিচে যেতে চাচ্ছি।”
“আজ রাতে থাকবি?”
হাঁটার মাঝে হঠাৎ থেমে গেল সে। চোখের সামনে ভাসল রিয়ার কান্না করা মুখটি। বিয়ের ফার্স্ট নাইটেই তাকে রক্তাক্ত হতে হয়েছিল। ওই কথা মনে পড়লে তার শরীরের লোম কাঁটা দেয়। অতঃপর দাঁড়িয়ে যায়। সে বলল, “না।”
নাওয়াফ আর কিছু বলল না। ওকে যেতে দিল।
-----
দুপুরের পর তালুকদার বাড়িতে নিখিল আর মুক্তি এলো। মেজবান তালুকদার ওদের দাওয়াত দিয়েছিল। মেজবান তালুকদার চান আজ পাখি এখানে থাক। কিন্তু ফাতিহা নুর চান না। তুলে আনার এখনো অনেক বাকি। এরমধ্যে একসাথে থাকতে দেওয়া উচিত না। তার ছেলেকে সে একটুও বিশ্বাস করে না। মেজবান তালুকদার ফাতিহা নুরকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করাল। রাতে পাখি ফাতিহা নুরের সঙ্গে থাকবে। যদিও এ কথা নাওয়াফ এখনো জানে না।
বিকালের দিকে ফাতিহা নুর শিঙারা, পাকোরা বানিয়ে দিলেন ওদের। সবাই মিলে নরম হাওয়ায় ছাদে গল্পের আড্ডায় বসেছে। মুক্তি আর পাখি পাশাপাশি বসা ছিল। পাখির মুখোমুখি ছিল নাওয়াফ। আজ তারা ট্রুথ আর ডেয়ার খেলবে। মোট ছ'জন আছে। নাওয়াফ, পাখি, নিখিল, মুক্তি, রমিজ আর ইচ্ছে। হাতে একটি বোতল। নিখিল ওটা ঘুরিয়ে দিল। যার দিকে ঘুরতে ঘুরতে এসে থামবে, তাকে ট্রুথ অথবা ডেয়ার যে কোন একটা নিতে হবে। বোতলটা ঘুরতে ঘুরতে এসে থামল নিখিলের দিকে। সবাই হাত তালি দিয়ে ওঠল।
“ইয়ে.., নিখিল ভাইয়ের শুরু। স্টার্ট করো। ”
নাওয়াফ সকলের উদ্দশ্যে বললো,“গাইস থামো। নিখিল তুই কি নিতে চাস? ট্রুথ না ডেয়ার?”
নিখিল কাঁধ ঝাঁকিয়ে ওভার ভাব নিয়ে বলল, “আমি ট্রুথ নেই না। সাহসী যুবক আমি। ডেয়ার নিব৷ ডেয়ার দে।”
নাওয়াফ বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে বলল,
“আম্মুর টয়লেটটা যা পরিষ্কার করে দিয়ে আয়।”
সবাই হো হো করে হেসে দিল।
নিখিল মুখটা সিরিয়াস করে নিল।
“টয়লেট ধুতে হবে? না ভাই এটা পারব না। অন্যকিছু দে।”
মুক্তি চেঁচিয়ে ওঠল।
“না না, নাওয়াফ ভাই আপনি পাল্টাবেন না। বেশি সাহসী যুবক বলছিল না? যাক টয়লেট ধুতে, নায়ক টয়লেট খান।”
নিখিল ভেংচি কেটে বলল, “তুই ওতো লাফাস কেন? টয়লেট ধুতে গেলে তোকে রেখে যাব নাকি? আর টয়লেট খান কি? আমি টয়লেট খান হলে তুই কি টয়লেট খানের বউ?”
নাওয়াফ ওদের থামানোর উদ্দেশ্য বলে, “মুক্তি আর নিখিল দুজনে থাম। শোন নিখিল তুই যা বলেছিস মেনে নিব। কিন্তু এখন যা বলব তোকেও মেনে নিতে হবে। বালতিতে পানি আর বরফ সমপরিমাণ থাকবে। ওর মধ্যে তোকে পাক্কা ১০ মিনিট ডুবে থাকতে হবে।”
নিখিল মুখটা কাঁদো কাঁদো করে নিল। সবাই নিখিলকে চেপে ধরল, “না এবারেরটা মানতেই হবে।”
নিখিল মুখটা ভেটকি মাছের মতো করে নিয়ে রাজি হলো।
নাওয়াফ রমিজকে বলল, “যা বালতিতে করে বরফ নিয়ে আয়৷ পানি ছাদ থেকে তুলব।”
রমিজ কথা মতো বরফ আর বালতি নিয়ে এলো। নাওয়াফ বালতিতে পানি ভরে নিখিলকে ইশারা করল, “সাহসী যুবক আসেন বরফের মধ্যে ডুবতে।”
নিখিল মুখটা করুন করে নিল। বালতিতে বসতে গিয়ে ঠান্ডায় কুঁকড়ে গেল। মুখটা কাঁদো কাঁদো করে বলল,
“গজব পড়ুক তোর বাসরের ওপর। বাসর যেন করতে না পারিস শালা।”
নাওয়াফ লাঠির মাথা দিয়ে নিখিলের মাথায় ছোট করে একটা বাড়ি দিল।
“হুঁ ভিতরে মাথা ঢোকা অটিস্টিক।”
“আমায় প্রতিবন্ধী বলতে পারলি?”
“তুই প্রতিবন্ধীর চেয়েও খারাপ।”
নিখিল মুখটা আমাবস্যা বানিয়ে রাখল। নাওয়াফ গিয়ে আগের জায়গায় বসল। এবার নাওয়াফ বোতলটা ঘুরিয়ে দিল। বোতল গিয়ে ঘুরতে ঘুরতে পাখির সামনে থামল। পাখি নড়েচড়ে বসল। একবার নাওয়াফের দিকে চাইল। লোকটা বুকে আড়াআড়ি হাত বেঁধে ভ্রু নাচিয়ে শুধাল, “ট্রুথ না ডেয়ার?”
পাখি নিখিলের দিকে তাকাল। নিখিল বরফের পানির মধ্যে জড়সড় হয়ে বসা। ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপছে। পাক্কা দশ মিনিট থাকতে হবে তাকে। নিখিল ওকে ইশারায় বলল, “ভুলেও ডেয়ার নিস না বইন। মরবি। তোর জামাইটা ভালো না। ইজ্জত শেষ করে দিল।”
নাওয়াফ হাত দিয়ে পাখির মাথাটা ঘুরিয়ে তার দিকে ঘোরাল।
“এই যে এইদিকে আমি। ওখানে না। ওর দিকে তাকিয়ে থাকলে তোর অবস্থা ওর মতোই হবে।”
পাখিও মনে মনে ভাবছে সে ডেয়ার নিবে না। ট্রুথ নিবে। ওর ভাবনা মাঝে নাওয়াফ ওকে ডাকল, “এইযে ভাবওয়ালী বড়োলোকি ম্যাডাম, ডেয়ার না ট্রুথ?”
পাখি বলে,“ ট্রুথ।”
নাওয়াফ এবার সিরিয়াস হয়ে বসল। ধূসর মণি দুটো ওর দিকে তাক করে শুধাল, “জীবনে প্রেম করেছিস কয়টা?”
পাখি দাঁত কেলিয়ে বলল, “সাতটা।”
নাওয়াফদের ছাদে চ্যালা কাঠ ছিল। সে উঠে চ্যালা কাঠের দিকে গেল। হাতে একটা সাইজ মতো কাঠ নিয়ে পাখির দিকে তেড়ে যাচ্ছিলো। লোকটাকে তার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে পাখি হতভম্ব। সে তো মজা করে বলেছিল। আপাতত পালা পাখি। মার ফিরা। সে জুতা হাতে নিয়ে চিৎকার দিয়ে দিল দৌড়।
“ওরে মাগোরে!”
নাওয়াফ ওর পিছু পিছু চ্যালা কাঠ নিয়ে ছুটছে।
“এই দাঁড়া সাতটা প্রেম করাওয়ালা ডংগি মাইয়া। আজ তোর প্রেম করার শখ আমি মিটিয়ে দিব।”
পাখি চেঁচিয়ে বলতে বলতে দৌড়াল।
“আর প্রেম করব না, নাওয়াফ ভাই। এবারের মতো মাফ করে দেন।”
#(চলমান)
#লামইয়া_তাসনিম।