ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

২৪তম পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

#সে_আমার_সর্বনাশ_২

(২৪)

“প্রেম করবি?”

“না।”

“কর না একটু? লজেন্স কিনে দিব। সোনালি পাড়ের লাল তাঁতের শাড়ি কিনে দিব। নিজ হাতে আলতা দিয়ে দিব।”

“লোভ দেখাচ্ছেন?”

“তুই কি ছোঁচা?”

“আপনি ছোঁচা। আপনার চৌদ্দগুষ্টি সব ছোঁচা।”

“আচ্ছা তুই ভালো মানুষ।”

“না আমি খারাপ মানুষ।”

“না ভালো।”

“না খারাপ।”

“আরে এইটা কার মতো হইছেরে?”

“নাওয়াফ তালুকদারের বউয়ের মতো হইছে।”

নাওয়াফ এবার হো হো করে দুঠোঁট ছড়িয়ে হেসে দিল। পাখি চোখ বড়ো বড়ো করে চাইল।

“আপনি হাসছেন কেন?”

“হাসতাম না?”

“না হাসবেন না।”

“হাসার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছিস?”

“হ্যাঁ নিচ্ছি।”

“এজন্য কি এত কষ্ট করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম?”

“আপনি কিভাবে করলেন? করেছে তো আপনার দাদা।”

“ঠান্ডা হ। ফ্রিজ থেকে এক জগ পানি গিলে নে। মাথা এত হট কেন?”

নাওয়াফের কথা শোনার পর পাখি ঠোঁট কামড়ে ধরে। নাওয়াফ ঠোঁট টিপে হাসে।

“মাথা ঠান্ডা করতে চুমু লাগবে বউ?”

পাখি দুচোখ বড়ো বড়ো করে নিল।

নাওয়াফ আবার বলল, “চুমু লাগলে বল, দিয়ে ঠান্ডা করে দেই।”

“তোরা চুমা চুমি বন্ধ কর ভাই। নতুন ফোন কিনেছি। তোদের চুমুর ঠেলায় বাষ্ট হয়ে যাবে।” কথাটি বলে নিখিল হাসতে হাসতে ঘরে ঢুকছিল। পাখির একটু লজ্জা লাগল। কিন্তু নাওয়াফ? সে আবার লজ্জশীল কবে ছিল? সে উল্টো ফোঁড়ন কেটে নিখিলকে টিটকারি মেরে বলল, “কিরে হিংসা হয়?”

নিখিল ঘরে ঢুকতে গিয়েও বেরিয়ে এলো। পাখির থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে বলে, “হিংসা তো হয় ভাই।” শেষ করেই সে একটা গান ধরল,

বন্ধু যখন বিয়া কইরা

চোখের সামনে করে রঙ্গলীলা,

ফাইট্টা যায়, বুকটা আমার ফাইট্টা যায়।

নিখিলের গান শুনে পাখি হাসতে হাসতে ঘরের ভিতরে খাটের ওপর গিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ল। তবে নাওয়াফ হাসল না। সে মুখটা গম্ভীর করে নিল।

“কি গো ভাই, বউ লাগবে? এতিমের মতো ঘুরছিম কেন?”

নিখিল মুচকি মুচকি হেসে বলে, “বিয়া শুধু তোরাই করবি? আমি করতাম না? এইদিকে যে চুল বাল সব পাকতেছে। সেই খবর আছে? বিয়ার বয়স পাড় হইতেছে সেদিকে কারোর খবর নাই।”

“ভাই তুই খতনা করেছিস?”

“ধুর হালা লুচ্চা। খতনায় তুই দাওয়াত পাস নাই?”

“পামু কোথা থেকে? তখন আমার নিজেরই খতনা চলতে ছিল।”

এদের কথা শুনে পাখির লজ্জায় কান গরম হয়ে ওঠল। মুখ ঢেকে নিল সে।

“দে আমার বউয়ের কাছে ফোন।”

নিখিল আর কথা বাড়াল না। পাখির দিকে ফোন এগিয়ে দিয়ে বলল, “নে কথা বল।”

ফোন দিয়েই সে ঘরে ঢুকে গেল। চ্যাঁচিয়ে চ্যাঁচিয়ে ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে মুক্তিকে ডাকতে লাগল, “কৈতুরি বানু, আমার কটকটি বানু কুতায় তুমি জান?”

মুক্তি কটমট করে খুন্তি হাতে নিয়ে রান্নাঘর থেকে নিখিলের সামনে এসে সটান করে দাঁড়িয়ে পড়ল। হঠাৎ মুক্তিকে চোখের সামনে দেখে নিখিল কিছুটা হকচকিয়ে ওঠল। সে বুকে থু থু ছিটিয়ে বলে, “সরি নিতা আম্বানি। ভুল করে কটকটি মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। কোন ব্যাপার না। গলা দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে তো? গলা দিয়েই ভিতরে গিলে পেটে চালান করে দিচ্ছি।”

মুক্তি নিখিলের কথায় শান্ত হতে পারল না। ঝাঁঝাল গলায় বলল, “আপনি আমায় কি বললেন? আমি কটকটি?”

“আরে না। এত সুন্দর একটা মেয়েকে কি কটকটির সঙ্গে তুলনা করা যায়? তুমি হইলা আমার নিতা আম্বানি।”

“পাম মারা হচ্ছে? বের হন ঘর থেকে। আজ কোন খাওন নেই।”

নিখিল মুখটা গোল করে নিল।

“এমন করে আমার নিতা আম্বানি? ক্ষুধার্ত লোককে তাড়িয়ে দিতে নেই।”

“গালিবাজ লোককেও ঘরে তুলতে নেই। বের হোন।” বলেই মুক্তি খুন্তি হাতে নিয়ে নিখিলের দিকে তেড়ে যাচ্ছিল। নিখিল ভয় পাওয়ার ভান ধরে বলল, “যাচ্ছি, যাচ্ছি। নিরহ নারীদের অস্ত্র খুন্তি সরা। ভয় হয়।”

সে গিয়ে বৈঠকখানার পা ঝুলিয়ে বসল। গলা ছেড়ে একটা গান ধরল,

আমার ঘরের আমি মেম্বার

আমার বউ চেয়ারম্যান।

পাখি তখন নাওয়াফের সঙ্গে ফোনে কথা বলা শেষ করে ফিরে আসছিল। নিখিলকে বৈঠকখানায় বসে গান গাইতে দেখে সে পাশ ঘেঁষে বসল।

“কি ব্যাপার নিখিল ভাই? আপনি হঠাৎ এমন উদ্ভট গান গাইছেন কেন? বিয়ে তো এখনো হয়নি।”

“কি কমু বইন দুক্ষের কথা, তোর বইন বিয়ের আগেই সব রাজত্ব করতেছে। আমারে দেখ ঘর থেকে বের করে দিছে।”

“আপনি কি বোকা?”

“কি কস? আশপাশের কেউ শুনল না তো।”

“শুনেনি, শুনেনি। এখন শোনেন, আপনার ঘর থেকে আপনি বের হবেন কেন? দরকার পড়লে মারামারি করবেন আপনার অধিকারের জন্য। তবুও ঘর ছাড়বেন না। এবার যান আন্দোলন শুরু করেন। এবারে আন্দোলন গৃহ যুদ্ধের আন্দোলন।”

“ছোট হইলেও ভাল একখান বুদ্ধি দিছোস বইনা। যা তোর বিয়ের সময় তোর শশুর বাড়িতে একটা বদনা যৌতুক হিসেবে পাঠিয়ে দিবনে।”

পাখি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসল। সে দুহাত এক করে বলল, “মাফ চাই। আপনার যৌতুক লাগবে না। আমার শশুরবাড়ির সবাই বড়লোক। তারা যৌতুক নেয় না।” বলেই পাখি পেয়ারায় কামড় বসিয়ে বাড়ির পথের দিকে চুল ঝুলিয়ে ঝুলিয়ে ছুটল। নিখিল সেদিকে এক ঝলক তাকিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘরে ঢুকল। সত্যি সত্যি আজ সে আন্দোলন করবে। সেই আন্দোলন যেমন-তেমন আন্দোলন নয়। মহাআন্দোলন। ৭১ এর আন্দোলন।

_____

ডিসেম্বরের ১ তারিখ। মোল্লা বাড়ি জুড়ে শত শত মানুষের সড়গড়। রবদব সাজে সজ্জিত। খাবারের গন্ধে ম ম করছে বাড়ির প্রতিটি কোণা। বিয়ের আনন্দে নাচছে পাড়াপ্রতিবেশিসহ ছোট ছোট বাচ্চারাও। হ্যাঁ আজ পাখির বিয়ে ছিল। মসজিদে বসে সব রকমের নিয়ম কানুন মেনে খেজুর ছিটিয়ে আবার নতুন করে বিবাহ সম্পূর্ণ হলো। মুরব্বিরা খাওয়া দাওয়া করছে। নাওয়াফ পাখির রুমে ঢোকার আগে হাতে একটি স্পিকার নিয়ে নিল। সাথে আছে তার বন্ধুসহ নিখিল আর আবুল স্যার। সে আনন্দটিকে আরেকটু জমজমাট করে দিতে পাখির রুমে ঢুকতে ঢুকতে একটা গান ধরল,

সজনী গো সেই তো এলাম

তোমায় পেতে হাজির হলাম...

নিখিল ওরা হৈ হৈ করে ওঠল।

নাওয়াফ বাকি অংশটুকু আবার গাইল..

চোখ মেলে দেখো না কে এসেছে?

নতুন করে আবার বিয়ের সানাই বেজেছে

আরে চোখ মেলে দেখো না কে এসেছে?

নতুন করে আবার বিয়ের সানাই বেজেছে

তুলে নিয়ে যাব বলে তোমায় ভালোবেসেছি।

এতটুকু বলেই সে কোমরটা মেয়েদের মতো করে একটু নাচাল। পাখির সঙ্গে থাকা তার কাজিনরা সবাই হো হো করে হেসে দিল। সঙ্গে পাখিও হাসছে। নাওয়াফ গিয়ে পাখিকে কোলে তুলে গোল গোল করে ঘুরতে লাগল। নোভা এসেছিল পাখিকে একটু খাইয়ে দিতে। কিন্তু রুমে ঢোকার পর তার ভাইয়ের কান্ড দেখে তার নিজেরই মাথা গোল গোল করে ঘুরতেছে। সে ধমক দিয়ে ওঠল, “আরে করে কি? ওর মাথা ঘুরবে নাওয়াফ। নিচে নামা।”

নাওয়াফ বিরক্ত হয়ে বলল, “সিস্টার ঘুরছি আমি আর আমার বউ। ধমক তুমি ছুঁড়ছো কেন?”

“এসব পরে করিস। পাখি খায়নি এখনো কিছু। ওর তো খেতে হবে।”

নাওয়াফ পাখিকে এবার নিচে নামিয়ে চোখ পাকিয়ে শুধাল, “কিরে খবিশ বউ, শশুর বাড়ির যাওয়ার জন্য মন এতই নচানাচি করছিল বুঝি, যার জন্য আনন্দে ভাতই খাসনি?”

লোকটার কথা শুনে পাখি হতভম্ব। আনন্দে কেউ খাবার খায় না সে মাত্র শুনল। নাওয়াফ নোভাকে তাড়া দিয়ে বলল, “দেও দেও খাবার খাইয়ে। বউ আমার না খেয়ে শুটকি হবে। তা মানতে পারব না।”

নোভা নাওয়াফের কান ধরে টানল।

“বেয়াদব তুই এতগুলো নারীর ভিতরে একা কি করছিস? যা বের হ।”

নিখিল পাশ থেকে ফোঁড়ন কেটে বলে ওঠল, “সেকি বইন আমাদের কি তোমার মহিলা মনে হচ্ছে?”

“তোরা যে ব্যাটা তাও মনে হয়নি।”

নিখিল আবুল স্যারের দিকে চাইল।

“এরে আবুইল্লা হালা তোর বউ কয় কি? মান ইজ্জত সব হবু শশুর বাড়ির সামনে ধর্ষণ করে দিলরে।”

নোভা হো হো করে হেসে দিল। সেই সঙ্গে বাকিরাও।

অবশেষে বিদায়ের পর পাখির পথচরণ পড়ল তালুকদার বাড়িতে। সেখানে সকল নিয়ম পালন করার পর নাওয়াফ পাখিকে রাতে ট্রি-হোমে নিয়ে এলো। পাখিকে নোভা সুন্দর করে রাতে সাজিয়ে দিয়ে গেল। এইদিকে নাওয়াফকে বাসরে নিখিল আর আবুল স্যার কিছুতেই ঢুকতে দিচ্ছে না। মোটা অংকের টাকা দাবি করছে তারা।

নাওয়াফ ওদের দিকে তাকিয়ে বলল, “দেখ ভাই এটা আমার জীবনে একমাত্র প্রথম হাঙ্গা করা বাসর রাত। তাই তোরা বিরক্ত করিস না। বউয়ের মুখটা একটু দেখে আসি। তারপরে ফিরে এসে তোগো মতন খয়রাতিদের খয়রাত দিয়ে যাব। তার আগে কেউ ডিস্টার্ব করবি না। সর ভিক্ষুকগুলা।”

নিখিল ভেংচি কাটে।

“ও ভাই তোমারে খুব ভালো করে চেনা আছে। জমি কিনতে গিয়া, জমি চাষ করে আসো। না না পটছি না তোর কথায়।”

“ভিক্ষুকগুলা বউরে শুধু একটা চুমু খেতে দে। আর কিছু আজ করতাম না প্রমিজ। বউ ছুডু তো।”

“বউ ছুডু তাতে কি হয়েছে? তুই তো ছুডু না ভাই। তলে তলে ঠিকই বাসরের জন্য লাফাচ্ছো। বুঝি না কিছু।”

“যা ভাবছিলাম তোকে এক পয়সা মানবতার খাতিরে দিব। কিন্তু তোরা গরিবস, ছোটলোকি স্বভাব ছাড়লি না। এজন্য এক পয়সা কেন, পয়সার মুখও দেখবি না ।” কথাটি বলেই নিখিলকে ধরেই দিল এক ধাক্কা। নিখিল গিয়ে রুমের ভেতরে সোজা হুমড়ি খেয়ে চিৎ হয়ে পড়ল। নাওয়াফ ওর পশ্চাদ্দেশে একটা ছোট করে লাথি বসিয়ে বলল, “দূর গরিবস। ছোটলোকি লোক আমার পছন্দ নয়।”

নিখিল কোমর ধরে উঠে বসল। মুখটা কাঁদো কাঁদো করে নিল।

“শালা তোর বাসরে গজব পড়ুক।”

“গেলি এখান থেকে।” নিখিলকে নাওয়াফ তাড়া দিতেই সে বেরিয়ে গেল।

নাওয়াফ দরজা আটকে বিছানার পাশে গিয়ে বসল। পা দুটো উঠিয়ে পাখির দিকে চাইল। বেশ লম্বা করে গোমটা দেওয়া। ঘোমটা তুলতেই মুগ্ধ হলো তার নয়ন দুটি। জন্ম যেন আজ স্বার্থক হলো । খোলা চুল, মাথা মিডল প্লাস করে সিঁথি করা। সিঁথির মাঝামাঝিতে টিকলি দেওয়া। কাঁচা ফুলের সুভাসে তার মাতাল মাতাল লাগছিল। মাথা ভনভন করছিল। নাওয়াফ পাখির দিকে মুগ্ধ নয়নে চাইল। পানপাতার মতো মায়াবি গোলগাল মুখটা তাকে ভীষণ করে টানল। সে তার মুখটা পাখির দিকে এগিয়ে নিল। ওর গালের সঙ্গে তার গালটি ঘষা দিল। লোকটার খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে পাখির সুরসুরি লাগছিল। যা তার কাছে অস্বস্তি ঠেকে। সে কিছুটা দূরত্ব রেখে বসল। নাওয়াফ ওর ভীতসন্ত্রস্ত মুখটা দেখে সে মুচকি হাসল।

“ভয় করছে?”

পাখি নীরব।

“লজ্জা লাগছে?”

পাখি এবারও নীরব। তার ভেতরে কি হচ্ছে একমাত্র সে জানে? নাওয়াফ ওর দিকে আরেকটু আগাল। ওর হাতটা টেনে এনে তার কোলে ওকে বসাল। ওর হাত দুটো নিজের খসখসে আঙুলের মুঠোয় আনল। সেখানে পরপর দুটো চুমু খেল। এরপরে কিছুটা সময় নীরব রয়ে সে বুঝিয়ে বলল, “পাখি তুই আমার বউ। আমার দেহের অর্ধাংশ। এখন থেকে তোর দেহ আর আমার দেহ আলাদা নয়। একটাই। তোর ব্যথা, আমারই ব্যথা। তোর অসুখ, আমারও অসুখ। তাই প্লিজ লক্ষ্মীটি আমায় দেখে ভয় পাস না। আমি হিংস্র পশু নয় যে তোকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাব। আমি তোর হাসবেন্ড পাখি। পৃথিবীর সবচেয়ে আপন আর বিশ্বাসযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। ভরসার ব্যক্তি। যার কাছে সবকিছু শেয়ার করা যায়। তার কাছে নিজেকে আড়াল না খোলাখোলি করে রাখ। আমি খোলা বইয়ের মতো তোকে পড়তে চাই। তোর চোখের ভাষা বুঝতে চাই। আজ রাত আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাত। মিলনের রাত। এইরাত থেকে আমাদের ভিতরে স্বামী স্ত্রীর একটি পবিত্র টান সৃষ্টি হবে। ভালোবাসা, মায়া সৃষ্টি হবে। সেই রাতটিতে আমরা আজ আছি। বিয়ের পর হাজার হাজার রাত আসবে। কিন্তু আজকের মতো আনন্দ, ফিল কোন রাতে আসবে না। তাই আমাদের রাতটি মুখ কালো করে বসে না থেকে অনুভব করা উচিত। একে অন্যের আশ্রয়স্থল হওয়া উচিত। আমি কি বলেছি বুঝেছিস?”

পাখি সম্মতি জানিয়ে বলল, “হ্যাঁ।”

“গুড গার্লস। এবার একটু হাস তো। ওমন আসমানের মতো মুখটায় কি অমানিশা মানায়?”

পাখি একটু হাসল। নাওয়াফ খুশি হলো। সে পকেট হাতিয়ে একটি জুয়েলারি বক্স বের করল। সেখান থেকে বের করল গোল্ডের আংটি। পাখির অনামিকা আঙুলে পরিয়ে দিল। এবার হাতে মোটা একটি চেইন নিল। ছোট করে চেইনের মাথায় রকেটও আছে। ওর দোপাট্টার ক্লিপ খুলে দোপাট্টি মাথা থেকে সরিয়ে নিল। খোলা চুলগুলো থেকে ঝাঁঝাল ঘ্রাণ আসছিল। নাওয়াফের তাতে নিজেকে মাতাল মাতাল লাগল। সে ওর চুলগুলো ঘাড় থেকে সরিয়ে গলায় চেইনটি পরিয়ে দিল। ওর ফরসা পিঠে পুরুষালি ঠোঁটজোড়া আলতো করে ছুঁইয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েলি শরীরে বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গ বয়ে গেল। পাখি বিছানার চাদর দুহাতে খামচে ধরল। বুকটা ধুরুধুরু করছে তার। দ্রিম দ্রিম করে লাফাচ্ছে, ঝাঁপাচ্ছেও।

নাওয়াফ ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। তার পুরুষালি অ্যাডামস অ্যাপল ঠেলে একবার নিচে নামছে, আরেকবার উপরে উঠছে। সেই সঙ্গে দেহের প্রতিটি কোণা জুড়ে প্রেয়সীকে গভীর করে অতি কাছে পাওয়ার আকাঙ্খা, কামনা জেগে ওঠছে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস ঘন হয়ে আসছে। সে পাখির কাছে অনুমতি চাইল।

“একটু ছুঁই তোকে কলিজা?” কি আবেগময় অনুরোধ!

পাখির হ্যাঁ না কিছুই বলতে পারল না। নাওয়াফ ওর নীরবতা সম্মতি ভেবে ওর ব্লাইজের ফিতায় টান বসাল। ফিতা খোলার পর ফরসা উন্মুক্ত পিঠ বেরিয়ে এল। নাওয়াফ ব্লাউজটি কাঁধ থেকে আরেকটু নামিয়ে নিল। সেখানে ছোট ছোট করে ওষ্ঠাগতের স্পর্শ লেপ্টে দিচ্ছিল। সেই স্পর্শ নেমে এলো ঘাড়ে। যা নারী দেহটিতে একটু একটু করে উষ্ণ করে দিচ্ছিল। উদরের নিচে দুষ্ট মিষ্টি চিনচিন নামক অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছিল। নাওয়াফ এবার পাখিকে ঘুরিয়ে সামনাসামনি করে নিল। ওর শাড়ির আঁচল নামিয়ে লাইট বন্ধ করে দিল। আলো আঁধারির মধ্যে তার উন্মদনা আরও দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেল। সে এবার ওর শাড়িটা খুলে পাখির মুখের দিকে ঝুঁকে যায়। পাখির মুখটার দিকে তাকিয়ে ডাকে, “কলিজা!”

পাখির বুকের নরম অংশ দুটো তখনো শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে নিচে নামছিল, উপরে উঠছিল। চোখ দুটো খিঁচে বন্ধ করা। তার ভিতরে সে জবাব দিল, “হুঁ।”

ওর ‘হুঁ’ শব্দটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে নাওয়াফ ওর ওষ্ঠজোড়া দখলে নিয়ে গেল। সেখানে পুরুষালি ওষ্ঠজোড়ার আধিপত্য চালাচ্ছে। লেহন করছিল। লোকটার অবাধ্য পুরুষালি বদনখানি এবার ধীরে ধীরে নিচে নামল। বক্ষ খাঁজে এসে নেমে ছোট করে একটি কামড় বসাল। সেখানে কুচকুচে একটি তিল ছিল। যা মারাত্মক রকমের সুন্দর। পাখি ব্যথাতুর আর্তনাদ করে ওঠল, “আহ্!”

লোকটা একটু থামল। সেখানে আলতো করে ঘষে নরম ওষ্ঠের উষ্ণ আদর দিয়ে দিল। পাখির হাত চলে যায় লোকটার ঝলমলে চুলে। খামচে ধরেছে সে ওনাকে। মরণ যন্ত্রণায় যেন কাতরাচ্ছে সে। ছটফট করছে। এ কেমন যন্ত্রণা! যতটা গভীরে যাচ্ছে, ততই সে অশান্ত হচ্ছে। তার ছটফটানি বাড়ছে। লোকটাকে আটকিয়েও রাখা যাচ্ছে না। ভীষণ ভীষণ অবাধ্য হচ্ছে। পুরো শরীরে হাত বিচরন করছে। সেই সঙ্গে উষ্ণ ওষ্ঠজোড়াও। এবার ওনার হাত স্পর্শ করল ইনারে। পাখিকে উল্টো করে শুয়ে দাঁত দিয়ে ইনারের খুক খুলছিল। ওনার ফোঁস ফোঁস শ্বাস তখনো আছড়ে পড়ছিল ওর ঘাড়ে। যা তাকে পাগল করে দিচ্ছিল। লোকটারও কাজ শেষ। সে এবার ওকে আবার সোজাসোজি করে নিল। বুকের ওপর নরম পাতলা একটি বেডশিট। তার ভিতরে লোকটা নিজে ঢুকে গেল। পাখির নাক ধরে টেনে সেখানে একটি চুমু খেল। সেই চুমু ধীরে ধীরে নিচে নামতে নামতে বক্ষ খাঁজের আরো নিচে নামল। পাখি লোকটাকে আটকে দিল। ফিসফিস করে বলল, “কি করছেন?”

“কোন সমস্যা?”

“মরে যাচ্ছি।”

“দেখতেই তো পারছি। তাই তো বেশি বেশি করে মারছি। যাতে করে আমার কথা তোর মনে থাকে। আমায় ছাড়া এক রাতও কোথাও গিয়ে শান্তিতে থাকতে না পারিস।”

লোকটা আবার তার কাজে মনোযোগ দিল। হস্ত দুটো ধীরে ধীরে নেমে এলো নারীলোকের বক্ষের নরম অংশটুকুতে। আঙুলের চাপটা এবার আর একেবারে হালকা রইল না। খুব গভীর করে ছুঁইছে। নরম এক অধিকারে মেশানো স্পর্শে পাখি হঠাৎ করেই গোঙিয়ে উঠল। শব্দটা খুব জোরে নয়, কিন্তু থামানোও গেল না। তার বুক ওঠানামা করছে দ্রুত ছন্দে। শরীর যেন নিজেই নিজের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। তার নারীসত্তা ধীরে ধীরে গলে পড়ছে পুরুষের স্পর্শে। অস্বীকার করতে চাইলেও সেই স্পর্শের টান তাকে বারবার টেনে নিচ্ছে। সে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছে, নিজের ভেতরের প্রতিরোধটাকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে। কিন্তু সেই শক্তিটা বারবার ভেঙে যাচ্ছে।

চোখ বন্ধ করে ফেলল পাখি। ঠোঁট দুটো কেঁপে উঠছে বারংবার। নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠেছে। শরীরের প্রতিটা স্নায়ু যেন স্পর্শের প্রতিক্রিয়ায় সাড়া দিচ্ছে।

পুরুষালি ওষ্ঠদ্বয় এবার ধীরে ছুঁয়ে গেল নারীদেহের সেই কোমল অংশ দুটো। স্পর্শটা ছিল মৃদু। তবু গভীর এক অনুভূতির ঢেউ তুলে দিল তার নারী দেহের ভেতরে। এবার লোকটা আরও কাছে ঝুঁকল। তার উপস্থিতি আরও ঘন হয়ে উঠল পাখির চারপাশে। আর কোনো দূরত্ব রইল না। নাওয়াফ পাখির প্যান্টির রাবারটি ধরে টান দিতেই পাখি তার হাত ধরে আটকে দিল।

“প্লিজ না।” বলেই সে লোকটাকে বুকের ওপর থেকে নামিয়ে দিতে চাইল।

নাওয়াফ অবাক হয়ে পাখির মুখটার দিকে চোখ তুলে চাইল।

“কোন প্রবলেম পাখি?”

পাখি দেখল লোকটার দেহের ভারে সে শ্বাস ফেলতে পারছে না। এমনিতে তার মরণ দশা। সে লোকটাকে তার বুকের ওপর থেকে সরে যেতে ঠেলল। তা দেখে নাওয়াফ আশ্চর্য হলো আরও। সে পাখির হাত দুটো এক হাতের মুঠোয় এনে চেপে ধরল। আরেক হাত দিয়ে পাখির থুতনি উঁচু করল। “পাখি, আমার দিকে তাকা। কি প্রবলেম বল?”

“আপনি আমার শরীর থেকে নেমে যান।”

“নেমে যাব?”

“হ্যাঁ।”

“কেন পাখি? তোর কি আমার দেহের ভার সইতে কষ্ট হচ্ছে?”

“না।”

“তাইলে কি বল আমায়?”

“আমার ভয় হচ্ছে।”

“কীসের ভয়?”

পাখি জবাব দেয় না। তার অস্বস্তি হচ্ছে। সে ফুঁপিয়ে কেঁদে দেয়।

“আমি পারব না।”

নাওয়াফ ওর চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে বলে, “আচ্ছা কাঁদিস না। ভয় নেই। আমি তোর প্রতি কোমল হব।”

পাখি তবুও মানে না। সে লোকটাকে ঠেলে তার শরীরের ওপর থেকে সরাতে চায়। নাওয়াফ ওকে কাতর চোখে মুখে অনুরোধ করে বলে, “এভাবে মাঝ নদীতে এসে নামিয়ে দিস না জান। মরে যাব। দেখ দমটা গলার কাছে এসে আটকে আছে। আমি মরছি। ছটফট করছি। দেখতে পাস না তুই?”

পাখি লোকটার কোন কথা মানল না। সে লোকটাকে ঠেলে নিচেই নামিয়ে দিল। তাতে সে দমল না। কাপড় নিয়ে দ্রুত ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। নাওয়াফ ওর আচরণে স্তব্ধ, বিমুঢ়। সে ভাবতে লাগল, প্রথম দিকে তো পাখি ঠিকই ছিল। হঠাৎ করে ওর কি হলো? কোন কথা মনে পড়ল কি? যার কারণে সে ভয়ে অস্থির। তার ভাবনা মাঝে পাখি বেরিয়ে এলো। কোনমতে পেঁচিয়ে শাড়ি পরেছে। নাওয়াফ ওকে ইশারায় কাছে ডাকল, “এইদিকে আয়।”

পাখি ভয় পেল। সে ওনার কাছে গেল না। যদি কাছে যায় ওনার কাজে ব্যঘাত ঘটনানোর জন্য নিশ্চিত তার গাল ফাটিয়ে দিবে। সে আজ চড় যাওয়ার মুডে নেই। দরজা খুলে দিল দৌড়। ওর আচরণে নাওয়াফ পুরোপুরি আহাম্মক হয়ে গেল। রাত বাজে তিনটা। এই রাতে মেয়েটা যাচ্ছে কোথায়? সে দৌড়ে ওর পিছু নিল। পাখি এবার মেইন দরজা খুলে জঙ্গলের দিকে দৌড়াতে থাকে। নাওয়াফ ওর পিছু পিছু ছুটছিল। বেশ কয়েকবার পিছু থেকে ডাকল, “পাখি শোন আমার কথা। কিছু করব না তোকে। তবুও যাস না। প্লিজ ফিরে আয়।”

পাখি শুনল না সেসব কথা। তার চোখের সামনে ভাসছে তার ক্লাসমেট মেয়েটার বলা দৃশ্যগুলো। কি নৃশংস, নির্মম ছিল! সে ভিতু। ওমনটা তার সঙ্গে ঘটুক সে চায় না। তাই এত রাতে পালিয়ে যাওয়া। সে খালি পায়ে ছুটতে থাকে। ছুটতে ছুটতে জঙ্গল পেরিয়ে মাটির রাস্তায় উঠে পড়ল। শাড়ির আঁচল মাটিতে লেপ্টানো। একবার ভাবল মোল্লা বাড়ির দিকে যাবে। পরক্ষণেই মত চেঞ্জ করল। এত রাতে ওখানে গেলে তাকে কটু কথা শুনতে হবে। এমনকি তার খালামনি চড়ও বসাতে পারে। না না ওদিকে যাওয়া যাবে না। সে নিখিলদের বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ওখানে তার বড়ো খালামনি আছে। সে মাটির মানুষ। বেশ ঠান্ডা। তাকে কিছু বলবেও না। যেই ভাবা, সেই কাজ। সে নিখিলদের বাড়িতে গিয়ে ওঠল। দরজা ঠকঠক করে শব্দ করতে লাগল। নিখিলের আম্মা সামনের ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মাঝরাতে দরজা নক করার শব্দ পেয়ে সে ভাবল নিখিল এসেছে। কারণ নিখিল বিয়ে বাড়িতে ছিল। সে বলেছিল রাতে আসতে পারে। সে ওসব ভেবে দরজা খুলল। দরজা খোলার পর অপ্রত্যাশিত এক ঘটনা দেখে সে পুরোপুরি চমকাল। তার সামনে এলোমেলো কাপড়ে দাঁড়িয়ে আছে পাখি। খোলা চুল। শাড়ির আঁচল মাটিতে শুয়ে আছে। পায়ে শুকনো মাটি লাগা। চোখ দুটো জলে ভেজা। পাখিকে মোটেও সে এত রাতে এখানে আশা করেনি। কিন্তু মেয়েটার এমন বিধ্বস্ত দশা কেন? সে এখানে কেন? আজ না ওর বাসর রাত?

পাখি ছোট করে ডাকল, “খালামণি..।”

বাকিটা আর বলা হলো না। তার আগেই ঢলে পড়ল পাখির দেহ মাটিতে। ওই দৃশ্য দেখে দরদর করে কাঁপছিল নিখিলের আম্মা।

#(চলমান~)

#লামইয়া_তাসনিম

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন