ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

২৬তম পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

“আমি কি করব? আমার ভয় লাগে।”

“এই ভয় তোকে কাটাতে হবে পাখি। স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন হলো পবিত্র বন্ধন। পুরুষের মানসিক শান্তি কখন ফিরে আসে জানিস? যখন সে স্ত্রীর কাছ থেকে শারীরিক সুখ পায়। দেখ, পাখি নাওয়াফ মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু তোকে কিছু বলছে না। জোরও করছে না। এর জন্য সে প্রশংসনীয়। কিন্তু তুই ওর মুখটা দেখেছিস? শুকিয়ে কী অবস্থা! বিয়ের আগে তো এমন ছিল না। তাছাড়া নাওয়াফের জায়গায় অন্য কোনো পুরুষ থাকলে এতদিন অপেক্ষা করত না। জোর করে হলেও স্ত্রীর অধিকার আদায় করে নিত। পুরুষ কতদিন স্ত্রীর অপেক্ষায় থাকবে বল? যদি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে পরনারীর দিকে ঝুঁকে যায়, তখন তাকে আর ঘরে ফিরিয়ে আনতে পারবি না। আমি চাই না তোদের সংসারটা নষ্ট হোক। তুই আজ রাতেই নাওয়াফকে নিজে কাছে ডাকবি। ভালোবাসবি। শোন, পুরুষ হলো ভালোবাসার পাগল। আর নারী যত্নের। পুরুষকে যদি নিজের বশে আনতে চাস, তাহলে আগে তোকে তার মনমতো হতে হবে। সে কী পছন্দ করে, কী করে না, কোনটা করলে খুশি হয়। এসব বুঝতে হবে।

তোর খালু আগে আমাকে ভয় পেত? মান্য করত? করত না। আগে আমি তার মনের মধ্যে ঢুকেছি। তার মন জয় করেছি। এখন যা বলি তাই শোনে। রাগের সময় গালি দিলেও কিছু বলে না। চুপ থাকে। তেমনই তোকে আগে নাওয়াফের মনমতো হতে হবে। ওর মনের মধ্যে ঢুকতে হবে। এরপর দেখবি, ও তোর সব কথা শুনবে। তোকে মাথায় তুলে রাখবে।

এমনিতেও তোর জামাই ভালো। বর্তমানে যা অবস্থা! ঘরে ঘরে পরকীয়া। পরকীয়ার হাত থেকে বাঁচাতে হলেও স্বামীকে হাতের মুঠোয় রাখতে হবে। নাওয়াফ যখন বের হবে, তুই ওকে একটা শাড়ি আনতে বলবি। আমি রাতে সুন্দর করে সাজিয়ে দেব। তুই নিজে থেকে ওর কাছে ধরা দিবি। আমি যেন সকালে তোকে ফরজ গোসল করতে দেখি। চুল ভেজা থাকে যেন।”

দীর্ঘ কথাগুলো বলতে বলতে তাহিরার কণ্ঠ নরম হয়ে এলো।

“দেখ মা, এসব শুনতে তোর খারাপ লাগলেও আমাকে বলতে হবে। কারণ তোর কেউ নাই যে তোকে বুঝিয়ে বলবে। আর এসব কারও কাছে বলার মতোও না। লজ্জা বলে তো একটা জিনিস আছে। লোকেও কানাকানি করবে।”

পাখি মাথা ঝাঁকাল।

“ঠিকাছে।”

সকাল আটটার দিকে নাওয়াফ উঠল। পাখি নিজ হাতে নাস্তার প্লেট সাজিয়ে রুমে নিল। লোকটাকে কোথাও দেখা গেল না। কলপাড়ে মনে হয় হাত-মুখ ধুতে গেছে। সে অপেক্ষা করল। লোকটা হাত-মুখ ধুয়ে তোয়ালে দিয়ে মুছতে মুছতে ফোন আর ওয়ালেট পকেটে ভরে পাখিকে বলল, “বের হচ্ছি। আমি আর আসব না। রমিজকে বিকালে পাঠিয়ে দেব। চলে আসিস।” বলেই লোকটা চলে যাচ্ছিল।

পাখি পিছু থেকে লোকটার হাত টেনে ধরল। নাওয়াফ অবাক হয়ে পিছু ফিরল। এই প্রথম পাখি তার হাত স্বেচ্ছায় স্পর্শ করায় সে কিছুটা চমকিয়েছে।

পাখি কাতর চোখে বলল,

“নাস্তা খেয়ে যান।”

“ক্ষিধে নেই।”

“আপনাকে খেতেই হবে।”জোরাল গলা তার।

পাখি নাস্তার প্লেট এনে পরোটা ছিঁড়ে ভাজি দিয়ে মাখিয়ে লোকটার মুখের সামনে ধরল।

“নেন, হা করেন।”

নাওয়াফ ভ্রু কুঁচকে ফেলল। এটার আবার কী হলো? হঠাৎ এত আদর দেখাচ্ছে!

“নিন না?”

নাওয়াফ হা করল। পাখি পা দুটো উঁচু করে উঠিয়েও লোকটার নাগাল পেল না। সে একটু বিরক্ত হলো। এত ছোট হতে হলো তাকে! নাওয়াফ পাখির মলিন মুখটা দেখে মিটমিট করে হাসল।

“মাথাটা একটু নিচে নামান না?”

নাওয়াফ ওর কথা শুনল। মাথাটা নিচু করে নিল। পাখি নাওয়াফের মুখে পরোটা ভরে দিয়ে বিশ্বজয়ী একটা হাসি দিল।

“কেমন হয়েছে খেতে?”

“ভালো।”

“শুধু ভালো?”

“ভীষণ ভালো।”

নাওয়াফ চিবাতে চিবাতে আবার বলল,

“পেট ভরেছে। এখন আসি।”

পাখি হতভম্ব। এত বড়ো মানুষের নাকি এতটুকু পরোটায় পেট ভরে! ও হো! লোকটা তো পানিই খায়নি। সে পানির গ্লাস নিয়ে ছুটল। পিছু থেকে চ্যাঁচাতে চ্যাঁচাতে ডাকল, “এই যে নাওয়াফ ভাই, দাঁড়ান!”

নাওয়াফ হাঁটতে হাঁটতে উঠোনের মধ্যে ধুম করে দাঁড়িয়ে পড়ল। পিছু ঘুরে ললাট সামান্য ভাঁজ করে শুধাল, “আবার কী?”

“পানি খাবেন না?”

“খাইয়ে দে।”

পাখি নিজ হাতে লোকটাকে পানি পান করাল। লোকটার গোঁফে পানি লেগে ছিল। পাখি নিজের ওড়না দিয়ে মুছিয়ে দিল। রান্নাঘর থেকে এই দৃশ্য দেখে তাহিরা মুচকি হাসল। তার মন জুড়াল।

নাওয়াফ পাখির আচরণে কিছুক্ষণ থম মেরে রইল। আজ পাখির হয়েছেটা কি? প্রতিটা আচরণে সে বিস্মিত হচ্ছে। মেয়েটা কি ঠিকাছে? কোন কিছু হয়েছে? নতুবা এমন অদ্ভুত আচরণ করছে কেন? সে ওর কপালে হাত রাখল।

“এই তুই ঠিক আছিস? জ্বিনে ধরেনি তো? জ্বর এসেছে? চল, ডাক্তার দেখাই।”

লোকটার অদ্ভুত কথায় পাখি হতভম্ব। সে নিজেকে কিয়ৎক্ষণের মধ্যে ধাতস্থ করে নিয়ে বলল, “আমার কিছু হয়নি। আমি ঠিকাছি।”

“ঠিকাছিস? কিন্তু আমার তো মনে হয় না। সকাল থেকে অদ্ভুত সব আচরণ করছিস কেন বলতো?”

পাখি প্রত্যুত্তরে জবাব দিল না। সে বরং পা দুটো উঁচু করে লোকটার গালে একটা চুমু এঁকে দিল। নাওয়াফ অবিশ্বাস্য দৃষ্টিতে পাখির মুখপানে চাইল। যেন পাখির থেকে এমন কিছু প্রত্যাশা করেনি সে। নাওয়াফকে আরও চমকে দিয়ে পাখি তার কানে কানে ফিসফিস করে বলল, “শুনছেন আসার সময়ে আমার জন্য একটা লাল তাঁতের শাড়ি নিয়ে আসবেন, হ্যাঁ? আর দুটি লাল গোলাপ। আমি শুধু আপনার জন্য লাল শাড়িটা পরব। আর আপনি আমার খোঁপায় গোলাপ গুঁজে দিবেন।”

#(চলমান~)

#লামইয়া_তাসনিম।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন