ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

২৭তম পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

#সে_আমার_সর্বনাশ_২

(২৭)

ঝলমলে সোনালি রোদ এসে উঠোনের মধ্যে আছড়ে পড়েছে। উঠোন থেকে দুহাত দূরে দুটো মোরগ বেশ কয়েকবার ডাকাডাকি করে কান জ্বালাপালা করে দিল। পাখি মোরগটিকে ধাওয়া করে এসে আবার বসল। তাহিরা উঠোনে ডাল শুকাতে দিয়েছে। তাকে রেখে গেছে ডালের কাছে, ডাল যেন মুরগিতে না খায়। সে পড়ছিল, আর পড়ার ফাঁকে ফাঁকে ডালের দিকে লক্ষ্য রাখছিল। পড়ার এক ফাঁকে হঠাৎ চতুর লোকটার মুখটা মনে পড়ে গেল। সে যখন আহ্লাদি করে একটি শাড়ি আবদার করল, লোকটা তখন না বলল না। তার আবদার বিনাবাক্যে মেনে নিল। তবে হ্যাঁ, চমকিয়েছে খানিকটা। হয়ত এমন কিছু আশা করেনি। সেই মুখটা মনে পড়তেই তার হাসি পেল।

রাত ১০.০০। বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ পাতাল ভারী করে অবিরাম ঝরছে বৃষ্টির বড়ো বড়ো ফোঁটাগুলো। জানলার কপাটটি সটান করে খোলা। বাতাসে বার বার কপাটটি ঝাপটাচ্ছে। জানলার দিকে মুখ করে সুদূর পথের দিকে কারোর অপেক্ষায় নববধূর বেশে বসে আছে সে। ঘরে বিদ্যুৎ নেই। রুমে মোমবাতির আলোটুকু বাতাসে সাপের মতো এঁকেবেঁকে যাচ্ছে। উত্তরের হাওয়াটা বেশ বাড়ছে। হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার খোলা চুলগুলো উড়ছিল। কাজল মাখানো চোখ দুটো ছলছল করে ওঠল। মনের ভেতরে চিনচিন করছে।

লোকটা কি আজ আসবে না? সে যে অপেক্ষায় বসে আছি। ফোনটা হাতে নিল। বেশ কয়েকবার ফোন করল। নাম্বারটি সুইচঅফ বলছে। তার ভঙ্গুর হৃদয়টা আশাহত হলো। বুক ফেঁড়ে কান্না আসতেছে। বৃষ্টির রিমঝিম শব্দের সঙ্গে হাঁটুতে মুখ গুঁজে কেঁদে দিল সে। সামান্য একটা ভুলে লোকটা তার সঙ্গে এমনটা করতে পারল? আগে জানলে সে কখনো ওনার অবাধ্য হতো না। তার বার বার তাহিরার কথা মনে পড়তে লাগল। পুরুষ ঘরে না পেলে বাহিরে যায়। তারা পরকিয়ায় জড়ায়। আর একবার পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়লে, তাদেরকে কখনো ঘরে ফিরানো যায় না। ঠিক এই ভয় তার বুকে পাথরের মতো চেপে বসেছে। তাকে কুড়ে কুড়ে যাচ্ছে। রাত এগারোটা তখন। জানলা খুলে বাহিরে তাকিয়ে আছে সে। কোথায় যেন বাজ পড়েছে? বেশ জোরে। আগের থেকে বৃষ্টির মাত্রা কমে এসেছে। তবে বাতাস কমেনি। এখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। মাঝে মধ্যে আকাশ কাঁপিয়ে বজ্রপাতের ঝিলিক দেখা যায়। সেই ক্ষণিকের ঝলকের মধ্যে দেখা গেল লম্বাটে এক ছায়া। বড়ো বড়ো পা ফেলে মোল্লা বাড়িতে ঢুকছে। তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতি হাসি ফুটে ওঠল।

“এসেছেন ওনি!”

সে দ্রুত বিছানার মাঝে গিয়ে বসল। মাথায় ঘোমটা টেনে দিল।

গলা খাঁকারি দিয়ে অর্ধ ভেজা শরীর নিয়ে রুমে প্রবেশ করল বলিষ্ঠ দেহের পুরুষটি। তার সুবলিষ্ঠ শরীরে শার্ট ভিজে আঁটসাঁটে লেগে আছে। চেয়ারের ওপর টাওয়েল রাখা ছিল। সেটা দিয়ে হাত মুখ মুছে ঘরের পরিবেশটা একটু দেখল। হালকা গোলাপি রঙের বেডশিটে গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো। খাটের রেলিঙে কয়েকটি গোলাপ কস্টিপ দিয়ে লাগানো। দু চারটা মোমবাতি নেচে নেচে দুলছে। বিছানার মাঝে নববধূর বেশে বসে আছে মেয়েটা। নাওয়াফ একটু অবাক। তার দেওয়া শাড়িটাই পরেছে। যেটা দুপুরে রমিজকে দিয়ে পাঠিয়েছিল। পশ্চিমের জানলাটি খোলা। ওখান দিয়ে বৃষ্টির ছটা বাতাসে ভেতরে আসছে। সে গিয়ে জানলাটি আটকে এলো। এরপরে বিছানার মাঝে পা দুটো উঠিয়ে বসল। পাখির মাথা নিচু। নাওয়াফ ওর কাছাকাছি বসতেই পাখি শুধাল, “আমার জন্য গোলাপ এনেছেন?”

“না বললে খুশি হবি?”

“কষ্ট পাব।” বলেই সে মুখটা মলিন করে নিল।

ওর কৃত্রিম রঙে সাজা মুখটা এক ঝলক দেখে নাওয়াফ পকেটে হাত ঢুকালো। সেখান থেকে বের করে আনল তাজা দুটো লাল গোলাপ। পাখির হাতের মুঠোয় দিয়ে ভ্রু নাচিয়ে শুধাল, “এবার খুশি?”

পাখি অবাক হলো। মাত্র না বলল আনেনি? সে বুঝল লোকটা তার সঙ্গে তখন মজা করেছে। সে মুখে বলল, “উঁহু শুধু হাতে দিলে খুশি না। চুলে খোঁপা করে দিয়ে দেন।”

“দিতেই হবে?”

“অবশ্যই।”

“আমি তো খোঁপা করতে পারি না।”

“আমি কিন্তু চুল শুধু আপনার জন্য খোলা রেখেছি। আপনি খোঁপায় গোলাপ গুঁজবেন বলে।”

“পারি না তাতে কি হয়েছে? শিখে নিব। দাঁড়া ওয়েট।”

নাওয়াফ ইউটিউবে ঢুকে সার্চ করল খোঁপা করে কিভাবে? পেয়েও গেল। মোবাইল ছেড়ে সে চুলে হাত লাগাল খোঁপা করতে। পাখি আকাশচুম্বী হতভম্ব। মোবাইল দেখে ওনি এখন চুল খোঁপা করবে? সে নাক উঁচু করে বলল, “না থাক, মোবাইল দেখে খোঁপা করতে হবে না। আমিই করে নিচ্ছি।”

কথাটি বলে পাখি দুহাতে খোঁপা করতে যাচ্ছিল। নাওয়াফ ওর চুল মুঠ করে ধরে টানল। পাখি ব্যথা পেয়ে ‘আহ্’ ব্যথাতুর শব্দ করে ওঠল। নাওয়াফ খুব স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল, “বলেছি না আমি করে দিচ্ছি। তবু মাতব্বরি করছিস কেন? যাতে শখ করে দুটো দেই!”

“আপনি তো পারেন না।”

“সাধ্যের মধ্যে আছে এমন কোন কাজ নাওয়াফ তালুকদার পারে না। এখন সোজা হয়ে বোস। বিরক্ত করলে বাদরের মতো মারও খেতে পারিস।”

লোকটার শাসন করা দেখে পাখি ফিক করে নিঃশব্দে হেসে দিল। আজ কেন জানি লোকটার শাসন, জোর করে অধিকার খাটানো সবকিছু ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে আজ তারা পরিপূর্ণ স্বামী-স্ত্রী। নাওয়াফ ইউটিউব দেখে দেখে খোঁপাটা করে দিল। যদিও অতটা সুন্দর হয়নি। তবে একেবারে খারাপও হয়নি। চলনসই যাকে বলে। শেষে খোঁপায় গোলাপ দুটো খুঁজে দিল। পাখি গাল ফুলিয়ে বলল, “বললেন না যে আজ আমায় দেখতে কেমন লাগছে?”

নাওয়াফ নীরবে ওর মুখপানে চেয়ে প্রশংসা করে বলল,

“বরাবরের মতো সুন্দর লাগছে।”

“কিন্তু আজ তো আমি আলাদা করে সেজেছি।”

“সুন্দর বলেছি তো।”

“আপনার প্রশংসায় আমার পেট ভরেনি।” বলেই পাখি গাল দুটো ভারী করে রাখল। নাওয়াফ ওর অভিমান দেখে মুচকি হাসল। বুকে হাত দুটো আড়াআড়ি বেঁধে ঠোঁট কামড়ে শুধাল,

“পেট ভরবে কি করলে?”

“বেশি বেশি প্রশংসা করতে হবে।”

“ঠিকাছে ম্যাডাম। আপনি আমার ভুবনমোহিনী ললনা। রূপ ভর্তি সুন্দরি বঁধূয়া। ঠিক গোলাপ ফুলের মতো আপনার সুভাস। আপনার হাসি ঝর্ণার মতো। এবার পেট ভরেছে?”

পাখি এবার খিলখিল করে হেসে দিল। নাওয়াফ একটু হাসল। বুকে বেঁধে রাখা হাত দুটো ছুটিয়ে পকেট হাতিয়ে কিছু একটা বের করল। পাখির পা দুটো ধরে হঠাৎ টান দিলো। পাখি অপ্রত্তুত হলো। কোন রকম পড়তে পড়তে গিয়ে বেঁচে ফিরেছে বেচারি। তবে নাওয়াফের এহেন কাণ্ডে বিস্মিত হয়েছে। লোকটা ওর শাড়িটা পায়ের গোড়ালি থেকে অনেকটা উপরে উঠিয়ে নিল। পায়ে মোটা দুটো নুপূর পরিয়ে দিলো। বেশ মানিয়েছে। মাঝের আঙুল দুটোতে আংটি পরিয়ে দিল। এরপরে তার পা দুটো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিখুঁত চোখে দেখতে লাগল। চমৎকার! ফর্সা পা দুটোতে রূপার অলংকার ফুটে ওঠেছে। এত দিনে পূর্ণতা পেয়েছে যেন। লোকটা মাথাটা একটু নিচু করে পুরুষালি উষ্ণ ঠোঁট দুটো পা দুটোতে ছুঁয়ে দিল। উষ্ণ স্পর্শ পেয়ে অবাধ্য অনুভূতিতে পাখি বিছানার চাদর দুহাতে খামচে ধরল। তার দেহে যেন বিদ্যুতের মতো ঝলক বয়ে গেল। সেই ঝলকে সমগ্র শরীর কাঁটা দিয়ে ওঠল। মুহূর্তের মধ্যে চোখ দুটি খিঁচে নিল সে। চোখ বন্ধ করা অবস্থাতে সে শুনতে পেল লোকটা ঠান্ডা কণ্ঠে বলছে, “রাত অনেক হয়েছে। ঘুমিয়ে পড়।”

কথাটি বলে লোকটা শার্ট খুলে রাখল। প্যান্ট পরা অবস্থায় সোজা কাত হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল। পাখি লজ্জায় দৃষ্টি দুটো নিচু করে নিল। তার শরীরে আগুন ধরিয়ে বলছে, “ঘুমিয়ে পড়।” নিষ্ঠুর, স্বার্থপর। সেও একদিন ওনার দেহে এমন আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে বলবে, “শুনছেন, এখন ঘুমিয়ে পড়ুন।” বজ্জাত, খাটাশ লোক।

সে বাচ্চাদের মতো আবদার করে বলল, “আমি আপনার বুকে ঘুমাব।”

নাওয়াফ ফোঁস করে শ্বাস ফেলে বলল,

“ঠিকাছে, আয়।”

পাখি গিয়ে লোকটার বুকের ওপর উপুড় হয়ে লম্বালম্বি করে শুয়ে পড়ল। কিন্তু সে শান্ত রইল না। এবার তার আরেক পাগলামি শুরু হলো।

“আমাকে একটা কবিতা শোনান না।”

“এই বয়সে কবিতা শুনবি?”

“হঁ, শোনেন কবিতা শোনার কোন বয়স নেই।”

“ঠিকাছে শোন,

বাক-বাকুম পায়রা

পায়রা একটা বয়রা

বউ সাজবে আজকে

পালকি চলবে কালকে।”

পাখি চোখ মুখ খিঁচে নিল।

“কিসব শোনাচ্ছেন? আমি কি বাচ্চা? এসব কবিতা বাচ্চাদের শোনায়। আচ্ছা কবিতা বাদ দেন। আমার ঘুম আসছে না। আমাকে একটা গান শোনান।”

“ওকে।

ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসি

মোদের বাড়ি এসো,

খাট নেই, পালংক নেই,

আমার বউয়ের চোখে বসো।

বাটা ভরা পান দিব, মুখ ভরে খেয়ো

আমার বউয়ের চোখে ঘুম নেই।

ঘুম দিয়ে যেও।”

পাখি এবার নাওয়াফের বুকের ওপর দুপা উঠিয়ে গাল দুটো ফুলিয়ে বসল। চোখ দুটো কটমট করে বলল, “এই যে জনাবে গানওয়ালা, কবিতাওয়ারা সাহেব শোনেন, আমাকে কি আপনার দু বছরের বাচ্চা মনে হয়? কই একটা ভালোবাসার গান, ভালোবাসার কবিতা শোনাবে, তা না? সে শোনাচ্ছে আমাকে বাচ্চাদের কবিতা, বাচ্চাদের গান।”

“তুই ভালোবাসা বুঝিস?”

ঠিক এইখানে দমে রইল পাখি। কোন উত্তর দিতে পারল না। লোকটার মনে যেন চাপা একটা কষ্ট লেগে আছে। যে কষ্টটা সে প্রকাশ করতে পারছে না। কথার ভাঁজে বুঝিয়ে দিচ্ছে। সে মাথাটা নত করে নিল। ছোট স্বরে বলল, “আমি ভালোবাসা বুঝি না। কিন্তু আপনি বুঝিয়ে দেন। তাহলে ঠিক বুঝব।”

“তোর বোঝার বয়স হয়নি। হলে এমনিতেই বুঝে যেতিস।”

পাখি এবার লাজলজ্জা ভুলে গিয়ে বলল, “আমি অনেক কিছু বুঝি। আপনি যা বলবেন, আমি তাই করব। আর পালাব না। আপনার কথা শুনব। তবুও আপনি আর রাত করে ফিরবেন না। আমার চিন্তা হয়। যদি আপনি বাহিরের কারোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন।” বলেই সে ঠোঁট কামড়ে ধরল। নিষিদ্ধ কান্না আটকাতে চাইছে।

নাওয়াফ ওর বাহ্যিক আচরনে স্তব্ধ হয়ে গেল। এত পরিবর্তন! সে ওর নিচু থুতনি উঁচু করে তুলল।

“এই পাখি, কি বলছিস তুই? মাথা ঠিকাছে? কি আসক্ত হব?”

পাখি নিজের বুকের ওপর থেকে শাড়ির আঁচল নামিয়ে নিল। বেরিয়ে এলো নারীদেহের সবচেয়ে চমৎকার সুগঠিত সুন্দর অঙ্গটি।

“আপনি আসুন নাওয়াফ ভাই। আপনার যা খুশি তাই করুন। আমি আর আপনাকে বাঁধা দিব না। তবুও আপনি আমাকে অবহেলা কইরেন না। আমার থেকে দূরে দূরে থাইকেন না। আমার কষ্ট হয়। দম বন্ধ লাগে।” কথাগুলি এক শ্বাসে বলে সে ফুঁপিয়ে ওঠল।

ওর আচরণে নাওয়াফ এবার পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেল। নির্বাকও। সে পাখির আঁচল উঠিয়ে বুকের ওপর দিয়ে দিল। দৃষ্টি দুটো পাখির ওপর থেকে সরিয়ে নিয়ে বলল, “তোর বর ওতটাও খারাপ নয়রে পাখি, যে একজন নারীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তার ওপর পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়বে। দেখ, পাখি কোন কিছু জোর করে হয় না। তুই সময় নে। ইভেন যদি বলিস আজীবন তোর সঙ্গে সে* করতে পারব না। আমি তোর কথায় রাজি। তবুও আমাকে এভাবে নিচু করে দিস না। অপমান করিস না। নিজের ব্যক্তিত্বে বাজে।”

“আমি আপনাকে নিচু করছি না। আমি আপনাকে স্বামীত্ব ফলানোর অধিকার দিতে চাই। প্লিজ আপনি আসুন, আপনার স্ত্রীর প্রতিটি লোমে লোমে আপনার নিঃশ্বাস, ভালোবাসার স্পর্শ ছড়িয়ে দিন।”

পাখির মুখটার দিকে অনেকটা সময় ধরে নীরবে চেয়ে রইল নাওয়াফ। পরবর্তীতে দৃষ্টি দুটো নামিয়ে এনে শুধাল, “জ্বিনে ধরেছে তোকে? সেই সকাল থেকে এমন এমন অদ্ভুত কথা কেন বলছিস?”

পাখি মুখ গাল একসঙ্গে ফুলিয়ে নিল।

“হ্যাঁ, আমাকে জ্বিনে ধরেছে। বদজাত জ্বিনে। ছাড়াতে আপনাকে লাগবে।”

“ওমন কথা বলে না বউ। জ্বিন ভালো না। চরিত্রহীন।”

“আপনি এমন কেন করেন? সেদিন তো ঠিকই কাছে টেনে নিয়েছিলেন। আজ কেন দূরে দূরে থাকছেন?”

“তুই কি চাস আমি রুম থেকে এখন এই বৃষ্টির ভেতরে বাহিরে বেরিয়ে যাই?”

“যাবেন কোথায়?”

“জাহান্নামের চৌরাস্তায়। ”

“আমিও যাব।”

“চড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিব বেয়াদব। যা ঘুমা।”

পাখি লোকটার কথা কানে তুলল না। সে ধীরে ধীরে লোকটার দিকে এগিয়ে গেল। লোকটার গলা দুহাতে জড়িয়ে ধরে বলল, “দেখি আপনি আমার কাছে ধরা না দিয়ে কিভাবে থাকেন?” বলেই সে লোকটার ঠোঁট দুটো নিজের আয়ত্তে নিল। এর কান্ডে নাওয়াফ বাকরুদ্ধ। এতক্ষণ চুপ থাকলে আর পারল না সে নিজেেকে নিয়ন্ত্রণ করতে। রাগে ক্ষোভে ওকে খাটের ওপর ছুঁড়ে মারল। তাতে শুধু দমল না। ওর গলা চেপে ধরে সুচালো ধূর্তমান চোখ দুটো শক্ত করে বলল, “এই তোর সমস্যা কি? মাঝরাতে মাথায় কেড়া উঠছে? আমাকে মারতে চাস? সেদিনের আগুন কিন্তু বুকে এখনো জ্বলছে পাখি। তুই ধ্বংস হয়ে যাবি। পুড়ে যাবি। সহ্য করতে পারবি না।”

পাখির চোখ গড়িয়ে জলের ধারা নামল।

“আমি পুড়তে চাই। দিন পুড়িয়ে আমায়।”

“পুড়তে চাস?”

“হ্যাঁ চাই।”

“সহ্য করতে পারবি?”

“পারব।”

“ঠিকাছে।”

নাওয়াফ ওর গলা আলগা করে দিয়ে ওর দেহের ওপর নিজের ভার ছেড়ে দিল। ঠোঁট দুটো কামড়ে ধরল। তার ভেতরে আগুন আজ ওর ওপর দিয়ে যাচ্ছে। গলার দুইঞ্চি নিচে দন্ত পিষে দিল। ব্যথা পেয়ে পাখি যন্ত্রণায় ডুকরে কেঁদে ওঠল।

“ওমন করে টর্চার করছেন কেন? সেদিন মতো ভালবাসা মিশিয়ে ছোঁন।”

“আমার মধ্যে ভালোবাসা নেই। ভালোবাসা তুই মেরে ফেলেছিস।”

কথাটি বলে লোকটা ওর ওপর থেকে উঠে গেল। জানলা খুলে জানলার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে হাতে সিগারেট নিয়ে টানতে লাগল। পাখি কোন কথা বলল না। চুপচাপ বৃষ্টির মধ্যে বাহিরে বেরিয়ে গেল। নাওয়াফ টের পেল। কিছু বলল না। ভেবেছে ওয়াশরুমে যাচ্ছে। কিন্তু তাকে ভুল প্রমাণিত করে দিয়ে পাখি উঠোনের মধ্যে গিয়ে বৃষ্টির ভিতরে বসে পড়ল। হাঁটুতে মুখটা গুঁজে বৃষ্টির পানির সঙ্গে তার দুক্ষুগুলো এক করে ভাসিয়ে দিতে চাইছে। নাওয়াফ খোলা দরজা দিয়ে বাহিরের দিকে চাইল। বিজলির চমকের সঙ্গে কিঞ্চিৎ আলোকে দেখা গেল মেয়েটাকে। উঠোনের মধ্যে চুপচাপ হাঁটুতে মুখ গুঁজে আছে। মাঝে মধ্যে দেহটা কেঁপে কেঁপে ওঠছে। কাঁদছে বোধহয়। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ওকে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। নাওয়াফ তার হাতে থাকা সিগারেটটি পায়ের নিচে পিষে উঠোনের দিকে এগিয়ে চলল। উঠোনের মধ্যে গিয়েই চট করে পাখিকে কোলে তুলে নিল। পাখি লোকটার বুকটা দুহাতে খামচে ধরল। পা দুটো নাচাতে নাচাতে বলল,

“ছাড়ুন আমায়। টাচ করবেন না।”

“আমি ছাড়া তোকে স্পর্শ করার অধিকার আর কার আছে?”

পাখি লোকটার শার্ট খামচে লোকটার বুকে মুখ গুঁজে হু হু করে কেঁদে দিল। নাওয়াফ ফোঁস করে শ্বাস ফেলল। ওকে চেয়ারে এনে বসিয়ে দিল। হাতে টাওয়েল নিয়ে চুলগুলো মুছিয়ে দিচ্ছিল। পাখির মুখটা কাঁদতে কাঁদতে লাল হয়ে এসেছে। সে ঠোঁটের লিপস্টিক ঘষে উঠিয়ে ফেলল। চোখের কাজল দুহাত দিয়ে লেপ্টে নষ্ট করে দিল। সবশেষে নাওয়াফকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে শরীর থেকে কাপড় খুলে নিচে ছুঁড়ে মারল। বাতাসের মধ্যে জানলার সামনে গিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। নাওয়াফ নিচ থেকে টাওয়েল উঠিয়ে ওর বুকে ওপর জড়িয়ে দিতে যাচ্ছিল। পাখি সেটাও ছুঁড়ে মারতে যাচ্ছিল। নাওয়াফ ওর হাত দুটো শক্ত করে বুকে সঙ্গে চেপে ধরল।

“কেন পাগলামি করছিস জান? কে তোকে কি বলেছে বল? নতুবা তুই তো পাগলামি করার মতো নয়।”

“হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি তো ছোট। সবাই আমাকে ভুলভাল বুঝাবে।”

“বড়ো হলে সেদিন পালাতিস না। অন্তত আমার কষ্টটা বুঝতি।”

“তার শাস্তিই তো গত কয়েকদিন যাবৎ দিচ্ছেন। এখনো দিয়ে যাচ্ছেন।” বলেই পাখি আবারও ফুঁপাল।

“তুই কাঁদিস না।”

“কাঁদাচ্ছে কে?”

“আচ্ছা আদর করে দিলে খুশি?”

“আপনি বুঝি খুশি না?”

“খুশি তো বউ। এক শর্তে রাজি। সকাল, বিকাল, রাত তিনবেলা কিন্তু আমার তোকে চাই। না বলতে পারবি না। তাহলে হাত পা বেঁধে নিব। আমি আবার বন্য শিকারী। শিকার করার সময় বাঁধা মানব না।”

“আমি রাজি।”

“বহু দিনের আদর কিন্তু জমে আছে। সহ্য করার ক্ষমতা আছে?”

“আছে।”

“কেউ যেন ওদিনের মতো মাঝপথে আমাকে নামিয়ে না দেয়। তাহলে এবার কিন্তু সোজা তাকে খাটের সঙ্গে বাঁধব।”

পাখি হেসে দিল। নাওয়াফ ধীরে ধীরে ওর পিছু দাঁড়িয়ে নগ্ন উদরে পুরুষালি হাতটা ছোঁয়াল। কোমর ধরে চাপ দিয়ে নিজের পেটের সঙ্গে মিশিয়ে নিল। পাখি দুচোখ বন্ধ করে আজ ওনার স্পর্শগুলো উপভোগ করতে চাইছে। ওনি কানের লতিতে ছোট করে একটা কামড় বসিয়ে দিল। ওকে চট করে নিজের মুখোমুখি করে নিল। ওর ঠোঁট জোড়ার ওপর বৃদ্ধা আঙুল দিয়ে ঘষতে ঘষতে ঠোঁট কামড়ে বলল, “ছিহ্! লুচু মেয়ে। বরের আদর পাওয়ার জন্য লাফালাফি করছে।”

পাখি ধাক্কা দিয়ে লোকটাকে বিছানার ওপর ফেলে দিল। এরপরে সে নিজেও লোকটার দেহের ওপর নিজের ভার ছেড়ে দিয়ে বললো, “বর আন রোমান্টিক হলে বউ নাচানাচি করবে না?”

নাওয়াফ ওকে ঘুরিয়ে সুবলিষ্ঠ দেহের নিচে পিষে নিয়ে ওর দুহাত বিছানার সঙ্গে চেপে ধরে বলল, “আজ বোঝাব তোকে রোমান্টিক কত প্রকার ও কী কী?”

পাখি হাসল। সে প্রস্তুত।

লোকটা ওর হাত দুটো ছেড়ে দিয়ে গ্রীবাদেশ হতে ওষ্ঠজোড়া ছোঁয়াতে ছোঁয়াতে উদরের নিচাংশে নেমে এলো। ওনার হাত দুটো নৃত্য করছে নিষিদ্ধ সব নারী অঙ্গে। যা নারী দেহে অবাধ্য অনুভূতি জাগায়। পুরুষের স্পর্শে ষোড়শীনির অন্তরে ঝড় বইছে। দেহের প্রতিটি অঙ্গে বৈশ্বানরের ন্যায় উত্তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছে। লোকটার স্পর্শ আর উষ্ণ ওষ্ঠাজোড়া তাকে বড্ড জ্বালাচ্ছে। ধীরে ধীরে লোকটা গভীর থেকে আরো গভীরে পৌঁছে যায়। তার হাত পৌঁছে যায় অর্ন্তবাসের অভ্যন্তরে। ক্ষণিকের মধ্যে আদিম এক সুখে দুজনের মাতোয়ারা হয়ে ওঠে। রাত যত গভীর হয়, তাদের শ্বাস প্রশ্বাস এক হয়ে ততই ভারী হয়ে ওঠে। একসময়ে সুখ সুখ সব স্পর্শরা ষোড়শীনির দেহে যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার গলদেশ দিয়ে ভেসে আসে যন্ত্রণাদায়ক কিছু নিষিদ্ধ আর্তনাদ। তাতে দমে না বলিষ্ঠ দেহটি। চেপে ধরে নারী মুখটি।

“চ্যাঁচায় না জান।” বলে ওর ঠোঁটের ওপর ছোট করে একটা চুমু খেল।

পাখি চোখ মুখ খিঁচে নিল।

“আমি মরছি।”

লোকটার দেহ যে মানছে না। সে উত্তাল সমুদ্রের ন্যায় গর্জে ওঠেছে। সে কোন বাঁধা নিয়ম মানতে চাইছে না। চলছে তার নিজ মর্জিতে। আবারও ষোড়শীনির গলা দিয়ে বেরিয়ে আসে অনুরোধ।

“প্লিজ..!”

“আর একটু জান...!”

“মরে যাচ্ছি।”

“এতটুকুতে কেউ মরে না।”

“আমি মরব। আর মারবেন আপনি।”

#(চলমান~)

#লামইয়া_তাসনিম

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন