#সে_আমার_সর্বনাশ_২
(৩২ ও ৩৩)
খুব ভোরের দিকে উঠেছে পাখি। হাত-মুখ ধুয়ে কিছুক্ষণ হাঁটা চলা করল। নাওয়াফ এখনো ওঠেনি। ঘুমুচ্ছে। লোকটা বেলা আটটার দিকে ওঠল। রাতের থেকে কিছু অবশিষ্ট খাবার ছিল। পাখি সেটা গরম করে নাওয়াফকে খাইয়ে দিল। খাবার খাওয়ার পর ঔষধ খাইয়ে সে হাত ধুতে গেল। এসে দেখল লোকটা আবার ঘুমিয়ে পড়েছে। পাখি স্বস্তির একটা শ্বাস ফেলল। লোকটা যেহেতু ঘুমিয়ে পড়েছে, সেই সুযোগে সে রান্না করতে বেরিয়ে পড়ল। সেই বাড়িতে গিয়ে দেখল পুরো বাড়ি নীরব। কেমন গা ছমছমে। ঘরে কেউ নেই। এমনিতেও এই বাড়িতে লোক কম। তার ভিতরে থমথমে পরিবেশ। তার ভয় করল। আজ বাড়িতে কি কেউ নেই? সে রান্নাবান্না করে দ্রুত চলে আসতে চাইছিল। তার আগেই সিরাজের সঙ্গে দেখা। দুহাতে বিরিয়ানি তার। পাখি সিরাজকে দেখে বলল, “ভাইয়া রান্না শেষ। আমি এখন আসি, হ্যাঁ?”
সিরাজ পাখিকে পিছু থেকে ডেকে ওর চলন্ত পা দুটো থামিয়ে দিল, “দাঁড়াও।”
পাখি ঘাড়টা একটু ঘুরিয়ে সিরাজের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইল, “কিছু বলবেন ভাইয়া?”
“বিরিয়ানি এনেছি। বিরিয়ানি খেয়ে যাও।”
পাখি আপত্তি জানিয়ে বলল, “না, আমার হাসবেন্ড আমার জন্য অপেক্ষা করছে।”
সিরাজ জোর করল ওকে। হাতের ইশারায় কাছে ডেকে বলল, “বড়দের কথা অমান্য করতে নেই। বসো। খেয়ে তারপরে যাও। একটু সময়ে কিছু হবে না।”
বলেই তাকে প্লেট ভর্তি বিরিয়ানি দিল।
পাখি আর কিছু বলতে পারল না। এখান থেকে যত দ্রুতে যাওয়া যায়, ততই ভালো। সিরাজ গিয়েছে একটু রুমে। পাখি বিরিয়ানি সব খেল না। অল্পটুকু খেয়ে সিরাজের কাছে বলতে গেল সে চলে যাচ্ছে। তার আগেই সিরাজের দরজার সামনে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গেল। সিরাজ শব্দ পেয়ে পিছু ঘুরল, দেখল পাখি নিচে পড়া। ধীরে ধীরে সে পাখির দিকে এগিয়ে গেল। ওর পাশে নিঃশব্দে বসে পড়ল। নাকের কাছে হাতটা নিয়ে দেখল শ্বাস পড়ছে কিনা। হ্যাঁ, এখনো শ্বাস আছে। তার ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে এক অদ্ভুত হাসি। যার রহস্য অজানা। ওর মুখটার দিকে চাইল। যৌবনে প্রথম ভালো লাগা নারী সে। বয়স হলেও জীবনে অনেক নারী এসেছে, গেছে। সবার কাছে শরীরের টানে গেলেও মনের টান ছিল এই মেয়েটার প্রতি। প্রথমে চেয়েছিল বিয়ে করতে। খোঁজ খবর নিয়ে শুনল মেয়েটা বিবাহিত। এতটুকু মেয়ে তা-ও বিবাহিত! বিষয়টি তাকে ভাবিয়ে তুলছিল। কিন্তু সেও হাল ছাড়ার নয়। বিয়ে হয়েছে তাতে কি? সে বিছানা পর্যন্ত নিতে পারলেই হলো। মেয়েটাকে বেশ মনে ধরেছে তার। সে পাখিকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় শুয়ে দিল। ভালো করে এবার খুব কাছ থেকে ওর ওই মুখটি দেখল। মানতে হবে মেয়েটা ভীষণ মায়াবি। কোমল মুখ, কুচকুচে দুটো ভ্রু। গোলগাল পানপাতার মতো মুখ। সে মোবাইল নিল হাতে। পাখির অজান্তে গোপন ভিডিও ধারণ করল মোবাইল ফোনে। অথচ ঘুমন্ত পাখি জানলও না তার সর্বনাশের প্রথম ধাপ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। তার সংসারে উইপোকা ঢুকে পড়েছে।
এইদিকে দুপুরের দিকে ঘুম ভাঙে নাওয়াফের। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে তার। ঔষধের ডোজে চোখ দুটো খোলা যাচ্ছে না। কিন্তু তার তো উঠতে হবে। সারাদিন শুয়ে বসে আর কতক্ষণ থাকা যায়? সে পাখিকে ডাকল, “পাখি, এই পাখি..।”
পাখির কোনো সাড়াশব্দ নেই। মেয়েটা গেল কোথায়? হয়তো গোসল করতে গেছে। এই ভেবেই নাওয়াফ অপেক্ষা করতে লাগল। সময়ের স্রোতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল নেমে এলো। কিন্তু পাখির ফেরার কোনো নামগন্ধ নেই। ধীরে ধীরে নাওয়াফের বুকের ভেতর অজানা ভয়ের আশঙ্কা বাসা বাঁধতে শুরু করল। মেয়েটার কোনো বিপদ হলো না তো? ভারী মাথাটা নিয়েই সে তড়িঘড়ি করে পাখিকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ল। আশপাশের যত বাড়িঘর ছিল, সবখানেই খোঁজ নিল। কোথাও নেই। জঙ্গলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত তন্নতন্ন করে খুঁজল। তবু পাখির কোনো সন্ধান মিলল না। এরই মধ্যে ধরণী জুড়ে রাত নেমে এসেছে। চারপাশে অন্ধকার ঘনিয়ে উঠেছে। জঙ্গলের নিস্তব্ধতা ভেঙে পশুপাখিদের বিচিত্র ডাক শোনা যাচ্ছে। নাওয়াফ ভাবল, একবার বাড়িটা গিয়ে দেখে আসা যাক। যদি পাখি ফিরে এসে থাকে। সে দ্রুত বাড়ির দিকে পা বাড়াল। ঘরে ঢুকেই তার বুকটা ধক করে উঠল। সবকিছু ঠিক আগের মতোই আছে। ঘরের কোনো কিছুই বদলায়নি। শুধু পাখিটাই নেই। এবার তার কপালে চিন্তার সূক্ষ্ম ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে উঠল। মেয়েটা গেল কোথায়? কোনো বিপদে পড়েনি তো? দুশ্চিন্তায় তার হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছিল। ঘরে কোনো টর্চও নেই যে আলো নিয়ে বের হবে। উপরন্তু দুপুরে ওষুধ খাওয়া হয়নি বলে মাথার যন্ত্রণাটাও অসহনীয় হয়ে উঠেছে। তবু সে হাল ছাড়ল না। একটি মশাল জ্বালিয়ে মাথার তীব্র ব্যথা উপেক্ষা করেই আবার বেরিয়ে পড়ল পাখির খোঁজে।
সারারাত জঙ্গলের আনাচে-কানাচে ঘুরেছে সে। প্রতিটি পথ, প্রতিটি ঝোপঝাড়, প্রতিটি নির্জন কোণ খুঁজে দেখেছে। কিন্তু কোথাও পাখিকে খুঁজে পায়নি। শেষমেশ ভোরের আলো ফুটতে শুরু করলে ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত শরীর নিয়ে সে বাড়ি ফিরে এলো। বারান্দায় এসে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইল। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে জাগরণ আর উৎকণ্ঠায়। মনে হচ্ছে, বুকের ভেতরটা শূন্য হয়ে গেছে।
খুব ভোরে পাখির ঘুম ভাঙল। চোখ মেলতেই সে নিজেকে এক অপরিচিত ঘরে আবিষ্কার করল। কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল তার মস্তিষ্কের সবকিছু মনে করতে। হ্যাঁ, সে এখনো সিরাজ ভাইয়ের বাড়িতেই আছে। মনে পড়তেই সে দ্রুত উঠে বসল। গতকাল বিরিয়ানি খাওয়ার পর থেকেই তার মাথা অস্বাভাবিকভাবে ঘুরছিল। এতটাই ঘুরছিল যে একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিন্তু কেন?বিরিয়ানির ভেতর এমন কী ছিল, যার কারণে তার চেতনা হারিয়ে গেল?
প্রশ্নটা মাথায় আসতেই তার বুকের ভেতর অস্বস্তি জমাট বাঁধল। লোকটার উদ্দেশ্য মোটেও ভালো ছিল না। নিশ্চয়ই কোনো অসৎ পরিকল্পনা ছিল তার। নইলে বিরিয়ানি খাওয়ার পরপরই সে অচেতন হয়ে পড়ল কেন?এই রহস্যের উত্তর তাকে জানতেই হবে। দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে আসতেই সিরাজের সঙ্গে তার মুখোমুখি দেখা হয়ে গেল। পাখি এক মুহূর্তও দেরি করল না। দৃঢ় পদক্ষেপে তার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। চোখে-মুখে কঠোরতা আর ক্ষোভের ছাপ স্পষ্ট।
অথচ শীতল আর তীক্ষ্ণ কণ্ঠে সে জিগ্যেস করল, ”গতকাল বিরিয়ানির মধ্যে কী মিশিয়ে ছিলেন আপনি, যার কারণে আমাকে জ্ঞান হারাতে হলো?”
সিরাজ চরম মাত্রায় অবাক হয়ে রইল।
“মাথা ঠিকাছে তোমার? কিসব বলছো?”
পাখির কণ্ঠে তখনও তেজ। সে বলে,
“মাথা আমার ততক্ষণ ঠিক ছিল, যতক্ষণ আমি আপনার বিরিয়ানিটা খাইনি। আদর করে বিরিয়ানি খাইয়ে অজ্ঞান করে আমার সাথে কি করেছেন আপনি?”
সিরাজ নম্রতা বজায় রেখে বলে, “আস্তে, ঠান্ডা হও তুমি। দেখো, তোমার সঙ্গে কিছু করলে আমার আগে তুমি বুঝতে। তুমি নিশ্চায়ই এতটাও বোকা নয় যে বুঝবে না। তার ওপরে বিবাহিতও। তো তোমার সব বিষয়ে অভিজ্ঞতা ভালোই আছে। আশা করি বোকার মতো দ্বিতীয়বার আমাকে এই প্রশ্নটা করবে না।”
পাখির মাথায় রক্ত উঠে এলো। সে রাগি কণ্ঠে বলল, “সিরাজ ভাই, সরি আগামীকাল থেকে আমি আসছি না। আপনি আপনার টাকা পেয়ে যাবেন। আমাকে কিছু সময় দেন। আসি।” বলেই সে হনহনিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। পিছন থেকে পাখিকে সিরাজ থামিয়ে দিল।
“দাঁড়াও।”
পাখি দাঁড়াল ঠিকই, তবে পিছু ঘুরল না। সিরাজ পাখির দিকে একটু এগিয়ে গিয়ে বলল, “কাজ ছাড়ছো তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এভাবে তোমার মুখের কথা আমি বিশ্বাস করছি না। চুক্তিপত্রে সই করতে হবে। আগামীকাল এসো, আমি চুক্তিপত্র রেডি করে রাখব।”
পাখি উল্টো ঘুরে থাকা অবস্থাতে বলল, “ঠিকাছে।” বলেই সে বেরিয়ে গেল।
পাখি যেতেই সিরাজ বাঁকা হাসে। যে হাসির রহস্য একমাত্র সে নিজেই জানে। যার অর্থও তার জানা।
পাখি যখন বাড়িতে পৌঁছাল, তখন সে নাওয়াফকে ঘরের কোথাও পেল না। পুরো ঘরটা খালি। খাঁ খাঁ করছিল। তার বুকটা ধকধক করছে। লোকটার মুখোমুখি কি করে হবে সে? যখন চোখ মুখ শক্ত করে জিগ্যেস করবে, গতকাল রাতে কই ছিলি, তখন? তার ভাবনা সত্যি করে দিয়ে সত্যি সত্যি পেছন থেকে এমন এক বাক্য ভেসে এল, “গতকাল রাতে কোথায় ছিলি তুই?”
কণ্ঠের মালিকের কথাটি শুনে বুকের মাঝখানটা তাৎক্ষণিক মুচড়ে ওঠল। গলাটা সাহারা মরুভূমির মতো খাঁখাঁ করছে। মাথাটা নিচু করে চোখ দুটো নিচে নামিয়ে সে নাওয়াফের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে বলে, “আপনার জন্য খাবার আনতে নদীর ওপার গিয়েছিলাম। তখন ভাঁটা ছিল। পানির মাত্রা কম ছিল নদীতে। আসার সময়ে দেখি জলে পুরো নদী থৈথৈ করছে। সেই সঙ্গে নদীতে অনেক স্রোত ছিল। জোয়ার ছিল। আসার কোন সুযোগ ছিল না। তাই পরদিন নদীতে ভাঁটা হতেই চলে এসেছি।
নাওয়াফ ওর মুখের কথা কতটুকু বিশ্বাস করেছে সে জানে না। আপাতত অপরাধীদের মতো মাথাটা নিচু করে আছে সে। বলবান লোকটার সুচাল চোখ দুটো তখনো পাখির দিকে নিবদ্ধ। আদল শক্ত। কাঠিন্য চোখ দুটো নাড়িয়ে জানতে চাইল, “দেখা খাবার?”
পাখি দুটো কলা আর কিছু পেয়ারা নাওয়াফের হাতে দিল। নাওয়াফ ওর হাত থেকে কলা আর পেয়ারাগুলো নিয়ে বাহিরে ছুঁড়ে মারল। পাখি প্রচন্ড অবাক হলো। সেই সঙ্গে আচমকা টের পেল তার গলাটা শক্ত হাতে চেপে ধরা। বিস্মিত নজরে তাকায় তার সামনে থাকা লম্বাটে পুরুষটির দিকে। আজ পুরুষটির মনে বিন্দুমাত্র দয়া নেই। সেখানে হিংস্রতা দেখা যাচ্ছে। পুরোপুরি বাকরুদ্ধ হয়ে গেল সে। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। চোখ দুটো বড়ো বড়ো হয়ে গেল। লোকটার চোখ মুখের পরিবর্তন তবুও ঘটল না। রাগে ফরসা মুখটা লাল বর্ণ হয়ে এলো। চোখ দুটো ছুরির চেয়েও দ্বিগুণ ধারালো। যে দিকে তাকাবে, মনে হয় সেদিকটা কেটে ফেলবে। পাখি ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, “ছাড়ুন নাওয়াফ ভাই। আমার শ্বাস ফেলতে কষ্ট হচ্ছে।”
লোকটার হাতের চাপ এবার আরও বাড়ল। পাখি অবিশ্বাস্য নয়নে লোকটার দিকে চাইল। কষ্টে তার চোখ দুটো থেকে জল গড়াচ্ছে। লোকটার তবুও মায়া হলো না। উল্টো রাগি কণ্ঠে বলল, “মানুষের মুখ মিথ্যে বললেও চোখ কোনদিন মিথ্যে বলে না। তোর চোখে আমি মিথ্যের ছায়া দেখতে পাচ্ছি। সেখানে সত্যের কোন ছায়া নেই। তোর চোখ বলছে তুই মিথ্যে বলছিস। বল গতকাল সারারাত কোথায় ছিলি? নতুবা জবান ছিঁড়ে নিব তোর। আমার ইজ্জতে হাত পড়লে, আমি ভুলে যাব তুই কে?”
পাখি কোনো উত্তর দিতে পারল না। তার যেন নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। গলাটা অবরুদ্ধ হয়ে গেছে। চোখে-মুখে অসহ্য যন্ত্রণার ছাপ ফুটে উঠেছে। নাওয়াফ কিছুক্ষণ ওর দিকে কঠিন চোখে তাকিয়ে রইল। পরবর্তী একটু নরম হলো। হাতের চাপটা সামান্য ঢিলা করল। তবে ছেড়ে দিল না। চোয়াল শক্ত করে আবার বলল, “আগামীকাল থেকে তোর ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ। আমার অনুমতি ছাড়া যদি এক পা-ও বাইরে রাখিস, তাহলে তোর সঙ্গে আমার বিনা কাগজ কলমে তালাক হয়ে যাবে কথাটা মনে রাখিস, পাখি।”
কথা শেষ করেই সে পাখিকে ধাক্কা দিয়ে বিছানার ওপর ফেলে দিল। তারপর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। কোথায় গেল, পাখি জানে না। সে বিছানার ওপর স্থির হয়ে বসে রইল। যেন এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না, একটু আগে কী ঘটেছে। তালাক? কত সহজে শব্দটা উচ্চারণ করল লোকটা! অথচ এই মানুষটাই তো তাকে জোর করে নিজের জীবনে টেনে এনেছে। জোর করে বিয়ে করেছে। আবার সেই মানুষই আজ তালাকের ভয় দেখাচ্ছে! পাখির বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্টগুলো হঠাৎ যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এলো। বালিশে মুখ গুঁজে সে অঝোরে কাঁদতে লাগল। আজ সে নিজের অসহায়ত্বকে নতুন করে অনুভব করল।
মানুষ বলে না, ’যার জন্য করে চুরি, সেই বলে চোর।’