ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

৩৫তম পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

“আর না। বিশ্বাস মানুষ একবারই করে। বার বার না। তুই আমাকে মেরে ফেলেছিস। আমি মরে গেছি। আমার ভেতরটা মরে গেছে। যাকে এখন দেখছিস, সে একজন হিংস্র পশু। যে আঘাত করতে জানে, ভালোবাসতে না।”

পাখি চাপা অভিমান নিয়ে জল ভর্তি চোখে বলল,

“বিশ্বাসঘাতকতা যেহেতু করেই ফেলেছি। তাহলে বসে আছেন কেন? দিন শাস্তি। পৃথিবীর নিকৃষ্টতম শাস্তি দিন। যত কষ্ট আছে, দিন আমায়। দিতে থাকেন। আমি সহ্য করব। সহ্য করার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা আমায় দিয়েছেন।”

“ওই মুখে সৃষ্টিকর্তার নাম নিস না। পাপ হবে।”

“আমার আর আমার রবের মধ্যে যা হবে, তা একান্ত আমরা বুঝে নিব। আপনার ভাবতে হবে না। আপনি আপনার কাজ করুন।”

নাওয়াফ প্রচন্ড রেগে গেল। সে গিয়ে পাখিকে কোলে তুলে নিয়ে ধুম করে মাটি খুঁড়ে রাখা কবরের মধ্যে ফেলে দিল। সাড়ে তিন হাত মাটির নিচে হাত বাঁধা, পা বাঁধা অবস্থায় নিথর হয়ে পড়ে রইল পাখি। কতটা অসহায় সে! হাত নড়াতে পারছে না, পা নড়াতে পারছে না। শুধু বোবা প্রাণীর মতো ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে আছে। চক্ষু গড়িয়ে ঝরছে নোনা জল। কত সুন্দর করে যত্ন নিয়ে মানুষ মানুষকে ভুলে যায়! কত সহজে একজন আরেকজনের শরীরে মিথ্যে বদনামের সার্টিফিকেট ঝুলিয়ে দেয়৷ অথচ তারা জানেও না সেই ব্যক্তি নির্দোষ। সে কোন দোষি না। চোখ দুটো বেয়ে আবারও জল গড়ায় তার। আর কত ঝরবে? হয়ত আর একটু। এরপরে তো মাটির নিচে চাপাই পড়ে সব নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। ছটফট করবে। বাঁচতে চাইবে। কিন্তু পারবে না। মাটির নিচে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার দেহ মারা পড়বে। সবারও শান্তি হবে। সেও থাক শান্তিতে। জগতে যার মা নেই, বাবা নেই, ভাই নেই। তার বাঁচার কোন অধিকারও নেই। এতিমদের কোন পরিবার হয় না। তারা আজীবন পরিবারহীন এতিম হয়ে বাঁচে। তার চেয়ে ভালো সে মরেই যাক। মৃত্যুর পর মা বাবার সঙ্গে একসঙ্গে থাকবে। ইশ সে যদি বলতে পারত, আমার মৃত্যুর পর আমার লাশটা আমার মা বাবার মাঝখানে রাখবেন। আমি নব্য জন্মানো শিশুর মতো বাবা মায়ের মাঝখানে ঘুমাতে চাই। দিবেন একটু ঘুমাতে?

মাথার ওপর খোলা আকাশ। আকাশে আজ চাঁদ নেই। নেই কোন আলোও। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরছে। তার চোখের উপর কয়েক ফোঁটা পড়ল। পাখি দুচোখ বন্ধ করে নিল। মনে মনে বিড় বিড় করে বলতে লাগল, “মৃত্যু দেও সৃষ্টিকর্তা। আমার দেহের মৃত্যু দেও। আর বাঁচার ইচ্ছে নেই। বাঁচার শখ মরে গেছে। এই পৃথিবীর বেইমান মানুষগুলোর মুখ যেন আর দেখতে না হয়। তার আগেই দেহ থেকে প্রাণটা বের করে নেও।”

এমনিতে শীত, তার ভিতরে ঠান্ডা মাটিতে সে টান হয়ে শুয়ে আছে। ঠান্ডা মাটির স্পর্শে পাখির মনে হলো তার শরীর বরফ হয়ে আসতেছে। রীতিমতো দাঁতে দাঁত লাগার মতো অবস্থা। সে চোখ মুখ খিঁচে নিল। বিড়বিড় করে কয়েকবার তার মাকে ডাকল, “আম্মা, আম্মা। কবরের মাটি অনেক ঠান্ডা আম্মা। আমাকে একটা কাঁথা এনে দেও না। আমার প্রচন্ড শীত করছে। গায়ে দিব।”

ঝুরা মাটির স্পর্শ পায়ে লাগতেই পাখির ধ্যান ভাঙল। সে টের পেল লোকটা তার পায়ের দিকে মাটি ফেলছে। পাখি দুচোখ বুজে নিল। এতক্ষণ তো একটু বিশ্বাস ছিল। আর যাই করুক, লোকটা তাকে মাটি চাপা দিবে না। হয়ত ভয় দেখাতে ওমন করছে। কিন্তু এবার পুরোপুরি সে বিশ্বাস করে নিল। চোখ দুটো আবারও কেঁদে ওঠল। সে ধমক দিয়ে ওঠল, “কার জন্য কাঁদো মন? যে বিশ্বাস করেনি তোমায় তার জন্য? বড্ড বোকা তুমি। এত বোকা হতে নেই। আজ বোকা হওয়ার প্রমাণ পেলে তো।”

কোমরটা পুরো মাটি দিয়ে ভর্তি। শরীর নাড়াতে পারছিল না পাখি। ভয়ে আতঙ্কে তার রূহ্ এতটুকু হয়ে আসছিল। ওনি মাটি চাপা দিয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে কি ঘটবে সেই আতঙ্কে তার মুখ শুকিয়ে যাচ্ছিল। আচ্ছা ওনি যাওয়ার পর পরই কি তার মাটির ভেতরে শ্বাসরুদ্ধকর হয়ে আসবে? যন্ত্রণায় ছটফট করবে সে? চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে ডাকবে কাউকে? বলবে আমাকে একটু শ্বাস ফেলতে দেও? মাটির নিচে আমি শ্বাস ফেলতে পারছিনা। দম বন্ধ লাগছে। আমার কষ্ট হচ্ছে। তোমরা কেউ কি আছো? আমায় বাঁচাও। সেও না বড্ড বোকা। কে আসবে এই অন্ধকার রাতে বাঁচাতে তাকে? কে শুনবে মাটির নিচে তার ডাক? কেউ না। আর বাঁচাবেই কে? যেখানে নিজের প্রিয় মানুষটাই তার প্রতি করুণা করেনি। তার প্রতি মায়া লাগেনি। সেখানে অন্য কেউ তো আরও দয়া দেখাবে না। এসব ভেবে তার চোখের কার্নিশ বেয়ে গরম নোনাজল গড়াল। কোমর পর্যন্ত মাটি। আর এক দলাও পড়ল। পাখিও প্রস্তুত হয়ে রইল। যাক তার দেহটা মাটির নিচে চাপা পড়ে। তার মতো দুচারটা অকেজো বোকা মরলে মানুষের কোন ক্ষতি হবে না। বরং পৃথিবীর মানুষদের বোঝা হয়ে আর রইতে হবে না।

হঠাৎ করেই লোকটাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। গেল কই? সেও উঠতে পারছে না। কোমর পর্যন্ত যে মাটিতে আটকানো। হাত পাও বাঁধা।

নাওয়াফকে দেখা গেল মোটা একটা গাছের শিকড়ের ওপর বসে থাকতে। মাথাটা নিচু তার। চোখ দুটো জলে ভেজা। নিজের হাতটাকে কোদাল দিয়ে কেটে ক্ষতবিক্ষত করেছে। সে পারছে না ওই বিশ্বাসঘাতক নারীকে চাপা কবর দিতে। মাটির নিচে পুতে রাখতে। তার বুক পুড়ছে। চিত্ত জ্বলছে। হৃদয়ে অদ্ভুত টান লাগছে। বড্ড মায়া লাগছে পরাণে। কি করে পারবে সে ওই নারীটিকে মাটির নিচে পুতে রাখতে? কি করে পারবে তার মুখের ওপর মাটি ছুঁড়ে মারতে? রাতের পর রাত, যাকে গভীর করে ছুঁয়েছে, যার শরীরের গন্ধে মেতেছে, যার ঠোঁটে ঠোঁট রেখে গভীর চুম্বনে লিপ্ত ছিল, যার চোখে চোখ রেখে কতশত নির্ঘুমে রাত তাকিয়ে ছিল, যাকে বুকে না নিলে ঘুম আসত না। যার মুখটা না দেখলে সকালটা শুরু হতো না। সেই নারীকে কি করে পারবে মাটির নিচে রাখতে? সে পারবে না এই কঠিন কাজটা করতে। তার সেই শক্তি নেইও। রাগের বশে এতক্ষণ যাই করুক, কিন্তু এই ভয়ংকর নির্মম কাজটা তার দ্বারা সম্ভব নয়। ওর একটু আঘাত হলে তার কলিজা জ্বলে ওঠে। তার হৃদপিন্ড কাঁপে। হালকা ওর জ্বর হলে সে দুঃশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারত না। সেই তাকে আজ মেরে ক্ষতবিক্ষত করেছে। রক্ত ঝরিয়েছে। মাটিতে অর্ধ পুতে রেখেছে। এসব সে কিভাবে পারল? সে নিজেকে বুঝতে পারছে না। চিনতে পারছে না। কতটা হিংস্র হয়েছে সে! বিশ্বাস ভঙ্গ করায় তার মন কতটা পাষাণ হয়েছে। মনুষ্যত্ববোধ যেন ভুলে গেছে। এই যে এই শেষ মুহূর্তেও সে চায়, তার পাখি তার কাছে সত্যিটা স্বীকার করুক। বলুক সে কেন গিয়েছে? তার পা ধরে ক্ষমা চাক। তওবা পড়ুক। সে ক্ষমা করে দিবে। সব ভুল এক পাশে রেখে ওকে মাফ করে দিয়ে আবার বুকে টেনে নিবে। ওর মুখে চুমু খেয়ে বলবে, ‘থাকুক না সকল ভুল একপাশে। তুই থাকিস আমার বক্ষমাঝে।’

কিন্তু না, তিনি তা করবে না। অন্যায় করেও স্বীকার যাবে না। তাকে সে কি করবে? যতবার সে ওর মুখটা দেখবে, ততবার সেই নির্লজ্জতম দৃশ্য চোখে ভাসবে। মনে পড়বে। সেও জ্বলবে, পুড়বে। এই মুহূর্তে সে পারছে না ওকে বুকে টেনে নিতে, পারছে না ক্ষমা করে দিতে, না পারছে নিজ হাতে ওকে হত্যা করতে। কিছুই পারছে না। চাইছেটা কি তাও জানে না। শুধু ভেতরে ভেতরে দারুণভাবে জ্বলছে।

রাতের শেষ প্রহর। সমগ্র মানুষ ঘুমিয়ে গেছে। কেবল নির্ঘুমে জেগে আছে তারা দুজন। একজন প্রতারণার স্বীকার। আরেকজন নির্দোষ হয়েও দোষির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো। নাওয়াফ উঠে দাঁড়াল। দুচোখের পানি মুছে মুখে আবার কাঠিন্য ভাব নিয়ে পাখির কাছাকাছি গেল। দেখল অসহায়ের মতো মাটির নিচে পড়ে ছিল মেয়েটা। শীতে কাঁপছে। শরীরটা কুঁকড়ে গেল। চোখ দুটো দিয়ে জল বেরুচ্ছিল। ঠোঁট কামড়ে কেবল নিথরের মতো পড়ে আছে। নড়ছে না, চড়ছেও না। ওই দৃশ্যটুকু দেখে তার বুকটা ছ্যাৎ করে ওঠল। হৃদপিণ্ড ধড়ফড় করে লাফাল। সকল কিছু ভুলে সে দ্রুত লাফ মেরে কবরের মধ্যে নেমে পড়ল। পাখির পা থেকে মাটি সরিয়ে দ্রুত ওকে উপরে তুলল। ততক্ষণে পাখির শরীর বরফে পরিণত হলো। ঠকঠক করে কাঁপছে মেয়েটা। উপরে তোলার পরও সেই কাঁপুনি থামল না। নাওয়াফ নিজের শার্ট খুলে ওর গায়ে দিয়ে ঝাপটে ধরল।

“ঠিক আছিস তুই?”

পাখি কাঁপাকাঁপির কারণে ঠিক মতো কথা বলতে পারছি না। উষ্ণতা পেয়ে একটু স্বাভাবিক হতেই বলে, “আমাকে একটু আপনার বুকে নিবেন? একটু উষ্ণতা দিবেন আমায়? বড্ড শীত করছে আমার, নাওয়াফ ভাই।”

উষ্ণতা? এই একটি শব্দ কানে আসতেই রাতের সেই দৃশ্যটি আবারও মনে পড়ল তার। যেখানে পাখি আরেকটি পুরুষের বুকে মাথা রেখেছিল। চুম্বন করেছিল। একে অপরের সঙ্গে রাত কাটিয়েছিল। সেসব মনে পড়তেই তার ভঙ্গুর হৃদয়টা আবারও কঠিন হয়ে ওঠল। সে সঙ্গে সঙ্গে ওকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিল। রাগ নিয়ে বলল, “এই বুকে আর তোর কোন স্থান নেই পাখি।”

“পর করে দিচ্ছেন?”

“পর হয়েই গেছিস।”

বলেই নাওয়াফ ওকে মাটিতে শুয়ে দিল। উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল। ধীরে ধীরে অন্ধকারের মধ্য দিয়ে হাঁটা ধরল লোকটা। কোন অজানা পথে, অজানা গন্তব্যে। কোথায় যাচ্ছে জানে না পাখি? শুধু জানে তাকে লোকটাকে আটকাতে হবে। সে আলতো স্বরে পেছন থেকে আকুল কণ্ঠে চ্যাঁচিয়ে ডাকল, “ “নাওয়াফ ভাই, আপনি যাবেন না আমায় ফেলে। প্লিজ যাবেন না। আমি না আপনার স্ত্রী হই?”

ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্য থেকে তখনই কথার পরিপার্শ্ব পুরুষালি ভারিক্কি গলার পাল্টা জবাব ভেসে এলো, “আমার অনুমতি ছাড়া যখনই তুই আমার ঘর থেকে বেরিয়ে গেছিস, তখন থেকেই তুই আমার পর হয়ে গেছিস। এখন আর তুই আমার কেউ না। আমার স্ত্রীও না।”

কেউ না আমি তার? স্ত্রীও না? এত সহজে বলে ফেললেন তিনি? কলেমা পড়া বউকে অস্বীকার গেলেন? তার মনটা হু হু করে কেঁদে উঠল। বড্ড বলতে মন চাইল, “এ আপনার ভালোবাসা? এ আপনার বিশ্বাস? এ ঠুনকো বিশ্বাস নিয়ে এসেছিলেন সেদিন আমায় পেতে? বড়ো গলা করে বলেছিলেন, কোনদিন হাত ছাড়বেন না। পুরো বিশ্বের সঙ্গে আমার জন্য লড়বেন। এই আপনার লড়াই? এতটা পাষাণ কি করে হতে পারেন আপনি প্রিয় নাওয়াফ ভাই? কি করে ভুলে যেতে পারেন?”

অন্ধকার রাতে আজ তার বুক ফাটা আর্তনাদ শোনার মতো কেউ নেই। একমাত্র নিস্তব্ধ রাত ছাড়া।

লোকটার আর শব্দ পাওয়া গেল না। চারপাশ নিস্তব্ধ। আর কেমন গুমট। ঠিক গা ছমছমে। কোথাও কোন আলো নেই। কেবল সে রক্তে মাটিতে মাখামাখি হয়ে শুয়ে আছে৷ মনে মনে ভাবল, “কি হইতো যদি আপনি আমায় একটু বুঝতেন? একটু বিশ্বাস করতেন। একটু ভরসা করতেন। আমার কথাগুলো শুনতেন। খুব বেশি কি ক্ষতি হইতো? আপনার ক্ষয় হইতো? দুবেলা না খাইয়া থাকা লাগত? নাকি আপনার রাতে ঘুম হইতো না? আপনি চাইলে আমাদের একটা সাজানো গোছানো সুন্দর সংসার হইতো। ঠিক রঙিন প্রতাপ্রজির মতো। কিন্তু আপনি চাননি। অবিশ্বাসের আগুনে আপনার মন ভরা। অবিশ্বাসের বৃক্ষে আপনার হৃদয় গাঁথা। সেজন্য যতটা নিচে নামার নামলেন। নিজের নিকৃষ্ট রূপ পর্যন্ত দেখাইলেন আমায়। আঘাতে আঘাতে দেহটাকে রক্তাক্ত করলেন। আবার মায়া দেখিয়ে ছেড়েও গেলেন। একা করে দিলেন। একবারও ভাবলেন না আমি একা কিভাবে থাকব? কোথায় যাব? এসবের প্রাপ্য কি ছিলাম আমি? কোন পাপের শাস্তি দিলেন? আপনাকে বাঁচানোর শাস্তি? নাকি আপনার জন্য একটু খাবার জোগাড় করতে মানুষের বাসায় কাজ করতে যাওয়ার শাস্তি? দেন যত খুশি শাস্তি দেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা তো নিষ্ঠুর নন। সময় একদিন কথা বলবে। সময় একদিন এর প্রতিবাদ করবে।”

ফোঁস করে একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলল সে। চারপাশে এমন নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে যেন পুরো পৃথিবীটা হঠাৎ মৃত হয়ে গেছে। ঠিক তখনই দূরের ঝোঁপটা অস্বাভাবিকভাবে কেঁপে উঠল। শুকনো পাতার মচমচ শব্দে তার বুক ধড়ফড় করে উঠল। পরক্ষণেই অন্ধকারের ভেতর থেকে দেখা গেল দুটো জ্বলজ্বলে চোখ। চোখ দুটো যেন আগুনের শিখার মতো দপদপ করছে। সেই চোখে ছিল ভয়ংকর এক হিংস্রতা, যেন বহুদিনের ক্ষুধার্ত কোনো শিকারি তার শিকার খুঁজে পেয়েছে। ধীরে ধীরে অন্ধকার চিরে চোখ দুটোর মালিক সামনে এগিয়ে আসতে লাগল। তার ভারী পদচারণার শব্দে চারপাশের বাতাস পর্যন্ত কেঁপে উঠছিল। ভয়ে তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। হাত-পা অবশ হয়ে এলো। মনে হচ্ছিল, আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই কোনো ভয়াবহ কিছু ঘটতে চলেছে। হঠাৎই পেছন থেকে কেউ খপ করে তার মুখ চেপে ধরল। বরফের মতো ঠান্ডা সেই স্পর্শে তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। আতঙ্কে চোখ বড়ো বড়ো করে সে ঘুরে তাকাল। বিস্ময়ে তার নিঃশ্বাস যেন বুকের মাঝেই আটকে রইল।

“আ..আপনি.....!”

#(চলমান)

#লামইয়া_তাসনিম

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন