ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

৩৮তম পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

#সে_আমার_সর্বনাশ_২

(৩৮, ৩৯)

তখন গোধূলি লগ্ন। পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে শেষ আলোটুকু ছড়িয়ে দিয়ে বিদায় নিয়েছে। চারদিক জুড়ে জমাট কালো মেঘের বিষণ্ন চাদর। দূরের বনভূমি কুয়াশার মতো ধূসর আবছায়ায় ঢেকে আছে। ঝিরঝিরে শীতল বাতাসে কচি পাতাগুলো থরথর করে কাঁপছিল, যেন তারা কোনো অশনি সংকেত টের পেয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে বাতাস এসে গাছের ডালগুলো দুলিয়ে দিচ্ছিল। নদীর জলে ছোট ছোট ঢেউ উঠছিল, আর সেই ঢেউয়ের শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল প্রকৃতি নীরবে দীর্ঘশ্বাস ফেলছে। চারপাশে এমন এক গুমোট নিস্তব্ধতা নেমে এসেছিল, যেন পৃথিবী কোনো গভীর শোকের ভারে মুহ্যমান। সেই নিস্তব্ধতার মাঝেই ট্রি-হোমের দরজার সামনে অচেতন হয়ে পড়ে ছিল পাখি। তার নিথর দেহখানা দেখে মনে হচ্ছিল সমস্ত প্রাণশক্তি তাকে ছেড়ে বহু দূরে হারিয়ে গেছে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটি হতবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। তার চোখে-মুখে বিস্ময়ের গভীর ছাপ স্পষ্ট। এতটুকু কথার অভিঘাতে একজন মানুষ এভাবে ভেঙে পড়তে পারে এ ধারণা তার কল্পনারও বাহিরে ছিল।

ঠিক তখনই কোথা থেকে রমিজ এসে উপস্থিত হলো। ঘামে সিক্ত শরীর। হাতে একগাদা কাগজপত্র। কাগজগুলো উল্টেপাল্টে দেখতে দেখতে এগিয়ে আসছিল সে। কিন্তু ট্রি-হোমের সামনে এসে তার পদযুগল মাটিতে গেঁথে গেল। চোখের সামনে নিথর হয়ে পড়ে আছে তাদের প্রাণের প্রিয় ভাবিজান। মুহূর্তেই তার বুকের ভেতরটা হাহাকারে ভরে উঠল। কাগজপত্রগুলো হাত থেকে খসে পড়ল মাটিতে। ছুটে গিয়ে পাখির মাথাটা কোলে তুলে নিল সে। কাঁপা হাতে কয়েকবার ঝাঁকিয়ে ব্যাকুল কণ্ঠে ডাকল,

“ভাবিজান ! ভাবিজান !”

কোনো সাড়া নেই। পাখির শরীরটা ছিল ভীষণ শীর্ণ, রক্তশূন্য, বিবর্ণ। মনে হচ্ছিল বছরের পর বছর জমে থাকা দুঃখ, অপমান আর না বলা কান্নাগুলো তার শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দু শুষে নিয়েছে। মুখটা এতটাই ফ্যাকাশে যে দেখে রমিজের হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠল। আতঙ্কে সে দ্রুত পুকুর থেকে পানি এনে পাখির চোখে-মুখে ছিটাতে লাগল। কিন্তু পাখির চোখের পাতা একটুও কাঁপল না। ক্রমে ভয় তাকে গ্রাস করল। চারপাশের মেঘলা আকাশ, বাতাসের শীতল হাহাকার আর নিস্তব্ধ প্রকৃতি যেন তার আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করে তুলল। শুকিয়ে যাওয়া গলায় বহু কষ্টে শব্দ বের করে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নারীটিকে জিজ্ঞেস করল,

“ভাই কই?”

“ঘরে ঘুমুচ্ছে। শরীর ভালো না। জ্বর এসেছে।”

“ডাকেন তো। বলেন ভাবিজান এসেছে। তিনি অসুস্থ।”

মেয়েটা একবার পাখির নিথর শরীরটার দিকে তাকাল। ঠোঁট দুটো নড়ল। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল সে। কিন্তু তার আগেই ট্রি-হোমের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো নাওয়াফ।

লোকটার অবস্থা দেখলে যে কারো বুক কেঁপে উঠবে। সমগ্র শরীর দুর্বল। চোখ দুটো রক্তিম, যেন বহু রাতের নির্ঘুম যন্ত্রণার সাক্ষী হয়ে আছে। মুখে কোনো ভাষা নেই, অথচ সেই নীরবতার মাঝেই লুকিয়ে আছে এক সমুদ্র চাপা অভিমান। ধীর পায়ে এসে সে মেয়েটার পাশে দাঁড়াল। এমনভাবে দাঁড়াল, যেন তারা স্বামী স্ত্রী। ঠিক তখনই পাখির জ্ঞান ফিরল। খুকখুক করে বেশ কয়েকবার কেশে উঠল সে। শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁটজোড়া আলতোভাবে নড়ে উঠল।

“পা..পানি।”

তার কানে তখনই পুরুষের গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

“ও এখানে কেন?”

পাখি চমকে ওঠল। বুকটা টিপ টিপ করে কাঁপছিল। দেহে বয়ে গেল অদ্ভুত এক শীতল শিহরণ। কতদিন পর ওই কণ্ঠ শুনতে পেল। সে ধীরে ধীরে চোখ খুলে দরজার দিকে তাকাল। মৃগ দৃষ্টি গিয়ে থামল নাওয়াফের ওপর। উদোম শরীরে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা। তার পাশে সেই অচেনা নারী। দৃশ্যটা দেখেই পাখির বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠল।

তার মনে হলো, কেউ যেন তার হৃদপিণ্ডটা মুঠো করে মুচড়ে চেপে ধরেছে। বুকে ছুরি বসিয়ে ক্ষতবিক্ষত করছে। এত কষ্ট হচ্ছে কেন তার? শ্বাস ফেলতে পারছে না। গলাটা ভেতর থেকে অবরুদ্ধ মনে হচ্ছিল। তাহলে কি সব সত্যি? মেয়েটা তখন ঠিকই বলছিল? নাওয়াফ ভাই তাকে ভুলে গেছে? অন্য কাউকে নিজের জীবনে স্থান দিয়েছে? চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এলো তার। গাল গড়িয়ে বেশ কয়েক ফোঁটা জলও পড়ল। পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মম সত্যটা বোধহয় এটাই যে, ভালোবাসার মানুষের পাশে দ্বিতীয়জনকে সহ্য করতে না পারা। আর এই মহাসত্যিটা কতটুকু সত্য সে তা টের পাচ্ছে। এইযে তার ভেতরটা হিংসের আগুনে জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। ইচ্ছে করছে ধাক্কা দিয়ে মেয়েটাকে ওনার কাছ থেকে সরিয়ে দিতে। তারপরে চ্যাঁচিয়ে বলতে, ’আপনি শুধু আমার। আর কারোর নন।’

কিন্তু সেই শক্তিটুকু যেন ওই শীর্ণ দেহটিতে নেই। ওই মেয়েটা নাকি ওনার স্ত্রী। কথাটি ভাবতেই তার ভেতরটা কয়লার মতো জ্বলে ওঠল। হৃদয় বিদ্রোহ ঘোষণা করে উঠল।

‘ না না! এ হতে পারে না! নাওয়াফ ভাই তার। শুধুই তার।’ এই মানুষটার বুকেই তো সে নিজের পৃথিবী গড়ে তুলেছিল। এই মানুষটার নামেই তো তার প্রতিটি প্রার্থনা, প্রতিটি কান্না, প্রতিটি স্বপ্ন বাঁধা ছিল। তাহলে কেন ওনি অন্যের হবে? হতে পারেই না। সে কল্পনা পর্যন্ত করতে পারে না অন্য নারীর সঙ্গে ওনাকে।

দুর্বল শরীরটাকে উপেক্ষা করে আচমকাই উঠে দাঁড়াল সে। প্রায় উন্মাদের মতো ছুটে গেল সামনে। মেয়েটাকে এক ধাক্কে সরিয়ে দিয়ে নাওয়াফের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল। যেন পথহারা কোনো পাখি দীর্ঘদিন পর নিজের নীড়ে ফিরে এসেছে। দু'হাত দিয়ে শক্ত করে আঁকড়ে ধরল তাকে। নাওয়াফ চমকালো। নিস্তব্ধ হয়ে গেল সে। এই আলিঙ্গন কত দিন ধরে চেয়েছিল! কিন্তু এভাবে তো নয়।

ওনার শরীরের পরিচিত ঘ্রাণটা নাকে আসতেই পাখির বুক ভেঙে কান্না ছুটে এলো। কতদিন সে এই মানুষটার স্পর্শ পায়নি! কতদিন তার বুকের ধ্বনি শোনেনি! কতদিন তার নাম ধরে কাঁদতে কাঁদতে রাত পার করেছে! আজ সবকিছু একসঙ্গে ফিরে পেয়ে সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। ভীষণ আবেগীয় হয়ে ওঠল। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে রাখল নিজস্ব পুরুষটিকে। ঠিক নিজের বুকের সঙ্গে গভীর করে। যতটা গভীর করে স্পর্শ করলে দুই দুটো প্রাণ এক হয়ে যায়৷ সে কাঁপা গলায় বলল, “ আপনি কারোর নন, নাওয়াফ ভাই। আপনি শুধু আমার। শুধুই আমার। শত জন্ম পেরিয়ে গেলেও আমারই থাকবেন। ইহকালেও আমার, পরকালেও আমার। আপনি বলুন না বলুন, ও যা বলেছে সব মিথ্যে?”

তার কণ্ঠ ভেঙে যাচ্ছিল। চোখের জলে অনবরত ভিজিয়ে দিচ্ছিল নাওয়াফের বুক। নাওয়াফ স্থির হয়ে রইল কিছুক্ষণ। বুকের ভেতর তোলপাড় শুরু হলেও মুখে তার কোনো প্রকাশ নেই। ধীরে ধীরে পাখির বাহুবন্ধন আলগা করতে করতে গম্ভীর স্বরে জিজ্ঞেস করল, “কী বলছিল ও?”

“ও নাকি আপনার স্ত্রী?”

নাওয়াফ কিছুটা বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে রইল তার সামনে থাকা মেয়েটার দিকে। মেয়েটা চোখ দুটো নিচু করে নিল। সে দিকে এক পলক তাকিয়ে নাওয়াফ বলল, “মিথ্যে কি বলেছে? যা সত্যি তাই বলেছে।”

রমিজ অবাক হয়ে বলল, “কি বলছেন ভাই?”

নাওয়াফ ওকে কাঠিন্য স্বরে ধমক দিয়ে ওঠল, “তুই ভিতরে যা।”

“কিন্তু?”

“গালে চড় পড়ে না তোর কতদিন হয়েছে?”

রমিজ আর কিছু বলতে পারল না। পাখির দিকে অসহায় চোখে এক পলক তাকিয়ে সে ভিতরে ঢুকে গেল।

এইদিকে পাখির মাথায় কিছুই ঢুকছে না। সে বিশ্বাসও করতে পারছে না ওনি সত্যি কথা বলছে, নাকি তাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য মনগড়া কথা বলছে। তার বুকটা যে দরদর করছে। হৃদপিণ্ড লাফাচ্ছে। মন কাঁদছে। তিনি কি তা বুঝেন না? নাকি ইচ্ছে করেই সে এমন করছে কেবল তাকে কাঁদাবে বলে। কাঁদালে কাঁদাক। তবুও ওই নির্মম কথাটি যেন সত্যে রূপান্তরিত না হয়। কারণ সব ব্যথা সে সয়ে নিবে। কিন্তু প্রিয়জন হারানের ব্যথা সে সইতে পারবে না। সে ক্ষমতা তার নেই। তার আত্মা মরে যাবে। পাখি এবার শক্ত করে বলল, “আমি এসব বিশ্বাস করি না। কারণ আমার নাওয়াফ ভাই এমন কাজ করতেই পারে না।”

লোকটা এবার ধমক দিয়ে ওঠল ওকে, “আমার গা থেকে হাত সরা। সামনে আমার বউ। তার সামনে বসে আমার গায়ে হাত দিচ্ছিস। তোর লজ্জা করছে না?”

পাখির বুকটা কম্পনিত করে ওঠল। হঠাৎ ধমকে সে কিছুটা কেঁপেও ওঠেছিল। ছলছল নয়নে ওই মেয়েটার দিকে আঙুল তাক করে বলল, “ওই মেয়েটা আপনার বউ?”

“বার বার ওই মেয়েটা, ওই মেয়েটা করছিস কেন? তার একটা নাম আছে। আর সবচেয়ে বড়ো কথা সে আমার স্ত্রী। মিসেস তালুকদার।”

পাখির বুকটা ভেঙে আসছিল। চোখগুলো জলে ভাসছিল। সে ভেতর থেকে নিজেকে শক্ত করে নিল। ঠোঁট দুটো ভেঙে বলল, “ওনি যদি আপনার বউ হয়ে থাকে, তাহলে আমি কে?”

নাওয়াফের গলদেশ কাঁপছিল। জবাবটি দিতে তার গলাটা অবরুদ্ধ ঠেকছিল। অথচ এই গলা দিয়ে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছিল। তখন একটুও কাঁপল না। সেই লোকের গলা কাঁপছে একটি কথা বলতে। দৃষ্টি দুটো গোলাটে হয়ে যাচ্ছে। সে দ্রুত উল্টো ঘুরে গেল। চোখ দুটো বুঁজে নিল। বুকে পাথর বেধে বলল, “তুই আমার কেউ না। কেউ না তুই।”

“এ কথা কাগজে লিখে দিতে পারবেন?”

“পারব। এখন তুই এখান থেকে চলে গেলেই খুশি হবো।”

পাখি শক্ত গলায় বলল, “কেন যাব? এটা আমার স্বামীর বাড়ি। বিয়ে করেছেন আপনার ইচ্ছায়। যাব আমার ইচ্ছায়।”

“আমিই যদি তোকে না রাখি, তুই থাকবি কি করে?”

অপমানে পাখির মুখটা থমথমে হয়ে গেল। এক নারীর সামনে দাঁড়িয়ে আরেক নারীকে অপমান করার মতো কষ্ট পৃথিবীতে বুঝি দ্বিতীয়টি নেই। সে আর কিছু বলতে পারছিল না। যা বলতে এসেছিল তাও ভুলে গেছে। গুলিয়ে ফেলেছে।

শেষ একটা কথা বলল,

“নাওয়াফ ভাই, কথা দিয়েছিলেন কখনো হাত ছাড়বেন না। খুব আদরে রাখবেন। বুকে পুষে যত্নে রাখবেন। এই আপনার কথা?”

লোকটা নাক টানল। কাঁদছে কি? আড়ালে চোখ দুটো মুছে পাখির মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াল। রক্তিম চোখ দুটো নিয়ে বলল, “কথা তো এমনও ছিল না। যাই হয়ে যাক কখনো বিশ্বাস ভঙ্গ করা যাবে না। তার মান রেখেছিলে? রাখিসনি। পুরনো কথা আমি তুলতে চাচ্ছি না। তুই ভাই তোর মতো চল। আমি তো তোকে বাধা দেইনি। সকল প্রকার স্বাধীনতা দিয়ে দিয়েছি। এখন যদি বলিস ডির্ভোস পেপার পাঠাতে হবে। তোর ভরণপোষণের টাকা দিতে হবে। তাহলে বলব সারাজীবন যেন বসে বসে খেতে পারিস, সে ব্যবস্থা করে দিব। প্রতি মাসে মাসে টাকা তোকে পাঠিয়ে দিব। এখন যা ভাই। আমাকে আমার মতো থাকতে দে। বিরক্ত করিস না।”

কথাগুলো পাখির আত্মসম্মানে গিয়ে লাগল। ছলছল নয়ন দুটো নিয়ে ম্লান একটু হাসল।

“আমাকে কি আপনার ভিখারি মনে হয়? আত্মসম্মান নেই আমার?”

“তোর আত্মসম্মান আছে?” কথাটিতে যেন উপহাস মিশে ছিল।

পাখি নিঃশব্দে ম্লানটুকু হেসে বলল, “সময় তা বলে দিবে।”

নাওয়াফের চোখ দুটো ক্রোধে জ্বলে উঠল। এতকিছুর পরও মেয়েটার ভেতর এত তেজ, এত ঔদ্ধত্য! কোথাও কি একবিন্দু অনুতাপ নেই? নিজের ভুল স্বীকার তো দূরের কথা, এখনও মাথা উঁচু করে কথা বলছে। বুকের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ আর অভিমান একসঙ্গে বিস্ফোরিত হলো তার।

শক্ত হাতে পাখির কবজি চেপে ধরল। প্রায় টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে দিল ওকে। পাখি কোনো প্রতিবাদ করল না। নিস্তেজ, অবসন্ন চোখে শুধু তাকিয়ে রইল। যেন সমস্ত প্রতিরোধক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। সে নির্বাক। তার সমস্ত শক্তি, সমস্ত স্বপ্ন নিঃশেষ হয়ে গেছে। সে এখন আস্ত একটা পাথর। নাওয়াফ দরজাটা বন্ধ করতে উদ্যত হলো। ঠিক তখনই পাখি একটা হাসি দিল। খুব ক্ষীণ একটা হাসি। অথচ সেই হাসিটা দেখে নাওয়াফের ভেতরটা কেঁপে উঠল। কারণ সেই হাসিতে আনন্দ ছিল না। ছিল ভগ্নহৃদয়ের আর্তনাদ। চোখ দুটো অশ্রুতে টলমল করছিল, অথচ ঠোঁটে লেগে ছিল হাসি। এমন হাসি মানুষ তখনই হাসে, যখন কান্নারও শক্তি ফুরিয়ে যায়। এক মুহূর্তের জন্য নাওয়াফের বুকের শক্ত প্রাচীর ভেঙে যেতে চাইল। মনে হলো দরজাটা খুলে রেখে ওকে আবার বুকে টেনে নিতে। কিন্তু সে পারল না। নিজের আবেগ সামলে, একপ্রকার মনের বিরুদ্ধে গিয়ে দরজাটি ওর মুখের ওপর ধুম করে আটকে দিল।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন