বর্ষা-হিমেলের প্রেমের ছোঁয়া
পর্ব: ২
মাধবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে সাইকেল থামাল হিমেল।
স্কুলজুড়ে বেশ কয়েকটি টিনসেট ঘর। তার পাশে বিশাল একটা মাঠ। মাঠের চারপাশে সারি সারি ফলের গাছ। এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচ-ছয়টি লাল কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছগুলোর ডালে ডালে পাখির কিচিরমিচির শব্দ, আর চারপাশে উড়ে বেড়াচ্ছে রঙিন প্রজাপতি। বর্ষার সকালটাকে যেন আরও সুন্দর করে তুলেছে পুরো স্কুলের পরিবেশ।
স্কুলে ঢোকার পর যে যার মতো ক্লাসে চলে গেল।
প্রতিদিন স্কুল ছুটি হয় বিকেল চারটায়। তবে আজ বৃহস্পতিবার হওয়ায় দুপুরেই ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটির ঘণ্টা বাজতেই সবাই আনন্দে হৈচৈ করতে করতে বের হতে লাগল।
কেউ কেউ হাসতে হাসতে বলছে,
— আজকে হাফ, কালকে মাফ, তারপরের দিন বাপরে বাপরে!
হিমেল অবশ্য সেসবের দিকে কোনো মনোযোগ দিল না। সে সাইকেল নিয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে রইল ছোঁয়ার অপেক্ষায়।
হিমেল জানে, স্কুল যত আগেই ছুটি হোক না কেন, ছোঁয়া সবার শেষে ক্লাস থেকে বের হবে। ভিড়ের মধ্যে চাপাচাপি করে বের হওয়া ছোঁয়ার একদম পছন্দ নয়।
কয়েক মিনিট পর ছোঁয়া এসে হিমেলের সামনে দাঁড়াল।
— চলো হিমেল ভাই, বাড়ি যাই গা।
হিমেল সাইকেলের দিকে ইশারা করে বলল,
— হ, উঠে বহো।
ছোঁয়া সাইকেলের পেছনে উঠে বসল। প্রতিদিনের মতো হিমেল সাবধান করে বলল,
— বোরকা ঠিক কইরা বহো, ছোঁয়া।
সাইকেল চলতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর হিমেল জিজ্ঞেস করল,
— সব পড়া ঠিকমতো বুইঝা আইছো, ছোঁয়া?
— হ, হিমেল ভাই। সব বুজছি। আর না বুজলে তো তুমি আছোই বুঝাইয়া দেওয়ার লিগা।
ছোঁয়ার কথায় হিমেলের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। তবে সেই হাসিটা ছোঁয়ার চোখে পড়ল না।
ছোঁয়া খারাপ ছাত্রী নয়। বরং পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী এবং মেধাবী। তবে গণিত হোক কিংবা অন্য কোনো বিষয়—কোনো কিছু বুঝতে অসুবিধা হলেই সে হিমেলের কাছে গিয়ে বসে। হিমেল যখন কোনো বিষয় বুঝিয়ে দেয়, ছোঁয়ার কাছে মনে হয়, স্কুলের স্যারদের বোঝানোর চেয়েও সে যেন একটু ভালোভাবে বুঝতে পারে।
কিছুদূর যাওয়ার পর হিমেল আবার বলল,
— ভালো কইরা ধইরা বহো, ছোঁয়া। রাস্তার ধারে গাছের গুঁড়ি ফালাইয়া রাখছে, দেখতাছি।
ছোঁয়া তখন নিজের মনে চারপাশ দেখছিল। আর কী যেন ভাবছিল । হিমেলের কথায় তার ভাবনার সুতো ছিঁড়ে গেল।
সে সাইকেলের পেছনের কাঠটা আরও শক্ত করে ধরে বসল।
প্রতিদিন হিমেলের পেছনে বসলেও ছোঁয়া কখনো তাকে ধরে বসেনি। কয়েকবার ইচ্ছে হয়েছে তার, , সাইকেলটা যখন একটু দ্রুত চলে তখন হিমেল ভাইয়ের কাঁধটা শক্ত করে ধরে বসতে। কিন্তু হিমেল ভাই কী ভাববে? আর গ্রামের মানুষই বা কী বলবে? এসব ভেবেই পঞ্চদশী মেয়েটা কখনো সাহস করে তাকে ধরে বসতে পারেনি।
হিমেলের বয়স এখন আঠারো। বাবার মৃত্যুর পর চরম আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। মায়ের কষ্ট দেখে একসময় সে ঠিক করেছিল, আর স্কুলে যাবে না। টানা দুই বছর স্কুলে যাওয়া হয়নি তার।
তবে হিমেলের মেধা আর পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে ছোঁয়ার বাবা হাফিজুল ইসলাম তাকে আবার স্কুলে ভর্তি করেন। পড়াশোনা চালিয়ে যেতেও সাহায্য করেন তিনি।
সেই দুই বছর পড়াশোনা বন্ধ না থাকলে এই বয়সে হিমেল হয়তো কলেজে পড়ত।
স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে একটু ঢাল বেয়ে নিচে নামলেই রাস্তার পাশে দেখা যায় অনেক পেয়ারা আর বড়ই গাছ। প্রতিদিনই ওরা দুজন দেখে, ফলগুলো খাওয়ার উপযোগী হয়েছে কি না।
আজও ছোঁয়ার চোখ সেদিকেই আটকে গেল।
সে বলল,
— হিমেল ভাই, চলো না দেহি। পেয়ারা আর বড়ই পাকছে কিনা।
হিমেল রাস্তার পাশে বড় আমগাছটার নিচে সাইকেল থামিয়ে নামল।
— তুমি এহানে সাইকেল নিয়া অপেক্ষা করো। আমি যাইয়া দেহি। পাকলে তোমার লিগা পাইড়া নিয়ামু।
ছোঁয়া সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— না হিমেল ভাই, আমিও তোমার লগে যামু।
হিমেল ছোঁয়ার সেই মায়াবী নীল চোখের দিকে তাকিয়ে আর না বলতে পারল না।
পনেরো বছরের মেয়েটার কণ্ঠস্বর শুনলে মনে হয় যেন পাঁচ-ছয় বছরের কোনো বাচ্চা মেয়ে কথা বলছে। তার ওপর চোখ দুটো এতটাই মায়াবী যে ছোঁয়ার দিকে তাকালে সহজেই চোখ আটকে যায়।
ছোঁয়া হেসে বলল,
— আমার দিকে তাকাইয়া কী ভাবতাছো, হিমেল ভাই? তোমার লগে আমারে নিবা না?
হিমেল দ্রুত দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে বলল,
— আইচ্ছা, আহ। তুমি গাছের নিচে খারাও। আমি গাছে উঠি।
— আইচ্ছা, ঠিক আছে।
হিমেল আগে পেয়ারা গাছে উঠে গেল। নখের ডগা দিয়ে কয়েকটা পেয়ারা চেপে দেখে বুঝল, পেয়ারাগুলো বেশ ডাঁশা হয়েছে।
গাছের ওপর থেকেই সে চিল্লিয়ে বলল,
— পেয়ারা বেশ ডাঁশা হইছে, ছোঁয়া। আমি নিচে ফালাই, তুমি জড়ো করো।
— আইচ্ছা ঠিক আছে। শুধু পাকাগুলাই ফালাইও হিমেল ভাই।
হিমেল হেসে বেশ কিছু পেয়ারা পেড়ে নিচে ফেলল। ছোঁয়া সেগুলো কুড়িয়ে এক জায়গায় রাখল।
এরপর হিমেল বড়ই গাছে উঠতে যাবে, এমন সময় ছোঁয়া বলল,
— আজক্যা মেলা দেরি হইয়া গেছে। চলো এহন বাড়ি যাই গা। অন্য দিন বড়ই পারমু।
হিমেল বলল,
— না, কয়ডা পাড়ি। তুমি খাইবার চাইছো।
ছোঁয়া আর কথা বাড়াল না। শুধু বলল,
— আইচ্ছা, পারো।
হিমেল গাছে উঠে প্যান্টের দুই পকেট ভর্তি করে বড়ই পেড়ে নিচে নামল।
এরপর ছোঁয়াকে সাইকেলে উঠিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো।
ছোঁয়া পিছনে বসে হিজাবের নিচ দিয়েই পেয়ারা আর বড়ই খেতে লাগল।
বেশ কিছুক্ষণ পর ছোঁয়াদের বাড়ির সামনে এসে সাইকেল থামাল হিমেল।
ছোঁয়া ব্যাগ থেকে কয়েকটা পেয়ারা আর বড়ই বের করে হিমেলের দিকে বাড়িয়ে দিল।
হিমেল তার হাত থেকে একটা পেয়ারা আর দুটো বড়ই নিয়ে পকেটে রাখল। বাকি গুলো ছোঁয়ার হাতেই দিয়ে বলল,
— এগুলা সব তোমার। তুমি পরে খাইবা, কেমন? আর শোনো, এহন বেশি খাইবা না। বেশি খাইলে প্যাট কামড়াইয়া ধরব।
ছোঁয়া মৃদু প্রতিবাদ করে বলল,
— কিন্তু হিমেল ভাই, আমি তো খাইতে খাইতেই আইলাম। তাছাড়া আমার কাছেও কয়ডা আছে।
— আইচ্ছা বুঝলাম। আমি তোমারে আমার ভাগ থিকা দিলাম, ধরো।
ছোঁয়া হিমেলের হাত থেকে পেয়ারা আর বড়ইগুলো নিল। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল ভুবনভোলানো এক চিলতে হাসি।
কিন্তু সেই হাসিটা দেখার সৌভাগ্য হলো না হিমেলের। তার দৃষ্টি আটকে রইল ছোঁয়ার হাস্যোজ্জ্বল নীল চোখজোড়ায়।
ছোঁয়া যতই দূরে এগিয়ে যেতে লাগল, হিমেলের দৃষ্টি ততই যেন তার পিছু নিল। একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল তার চলে যাওয়ার পথের দিকে।
--------
হিমেল বাড়িতে ফিরে সাইকেলটা ঘরে উঠিয়ে রাখল। বই-খাতা টেবিলের ওপর রেখে গোসল করার জন্য বেরিয়ে গেল।
নদীর ঘাট থেকে গোসল করে বাড়িতে ফিরে মায়ের কাজে হাত লাগাল। ভাতের পাতিল আর তরকারির বাটি ঘরে নিয়ে এল। কুয়া থেকে পানির কলস ভরে এনে ঘরে রাখল।
হিমেলদের একটা ছোট ছাগলের বাচ্চাও আছে। কাজ করতে করতে সন্ধ্যা নেমে এলো। হাঁস-মুরগি খোঁয়ারে তুলে দিয়ে ছাগলটাকে বারান্দার পাশের ছোট্ট খোপে বেঁধে রাখল।
হিমেলদের বাড়ি বলতে কাঠ আর টিন দিয়ে তৈরি দুটো ঘর। বারান্দার পাশে ছোট্ট একটা ঘর আছে, সেখানে ছাগল রাখা হয়। বড় দুটো ঘরের একটিতে হিমেল থাকে, আর অন্যটিতে থাকে রাবেয়া বেগম ও তার দাদি কমেলা ভানু।
ঘরের সামনে ছোট্ট একটা ছনের পাকশালা। তার পাশেই হাঁস-মুরগির দুটো ঘর। আর বাড়ির পেছন দিকে রয়েছে কূয়া।
সব কাজ শেষ করে হিমেল নামাজ পড়ার জন্য মসজিদের দিকে রওনা হলো।
নামাজ শেষে বাড়ির দিকে ফিরতে যাবে, এমন সময় ইমাম সাহেব পেছন থেকে ডাকলেন,
— হিমেল, শোন বাবা।
হিমেল ফিরে দাঁড়িয়ে বলল,
— জি হুজুর, কিছু কইবেন?
— তোর আম্মার শরিল ভালা আছে?
— জি হুজুর, আলহামদুলিল্লাহ।
— তা তোর দাদির শরীর কেমন আছে?
— আল্লাহর রহমতে ভালোই আছে। কিন্তু এহন আর বেশি কথা কইতে পারে না।
ইমাম সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— আহারে, বুইড়া মানুষ। বয়স তো আর কম হইলো না। তোর দাদায় আমজাদ তো সেই কবেই মরল। তোর দাদা মানুষ খান খুব ভালা মানুষ আছিল রে হিমেল। মানুষের পাশে থাকত। দেশের লিগা জীবন দিছে। সেই যে পাকিস্তানিদের হাতে গুলি খাইয়া মরল, তহন থেইকাই তোর বাপ কত কষ্ট কইরা সংসারডা চালাইছে। তার ওপর তোর কোনো চাচাও নাই যে, বিপদের সময় তোগো একটু সাহায্য করবো। সব কষ্টডা তো তোর বাপ একলাই সামলাইছে।
তারপর তোর বাপ খানও মরল। আলতাফ মানুষখানও ভালা আছিল। আসলে আল্লাহ ভালা মানুষরে দুনিয়ায় বেশি দিন রাহে না।
কিছুক্ষণ থেমে তিনি বললেন,
— তা যাক গা, সেইসব কতা। তোর লেহাপড়া কেমন চলতাছে?
— জি, ভালো।
— তুই তো সামনের বার মেট্রিক পরীক্ষা দিবি, না রে বাপ?
— জি হুজুর। দোয়া করবেন।
— আইচ্ছা, ঠিক আছে। বাড়ি যাওগা। মন দিয়া লেহাপড়া কইরো।
— জি, আচ্ছা। আসসালামু আলাইকুম।
— ওয়ালাইকুমুস সালাম।
হিমেল বাড়ির পথে হাঁটতে শুরু করল।
বাড়ি ফিরে মাকে বলল,
— আম্মা, ভাত বাড়ো। খিদা লাগছে।
রাবেয়া বেগম বললেন,
— আয় বয় বাপ, খাইয়া নে।
হিমেল খেজুর পাতার পাটি বিছাতে বিছাতে জিজ্ঞেস করল,
— দাদিরে খাওয়াইছো আম্মা?
— হ, ভাত খাওয়াইয়া ঔষধও খাওয়াইছি। এহন ঘুমায়।
খাওয়া শেষ করে হিমেল নিজের ঘরে গিয়ে পড়তে বসল।
বইয়ের পাতায় চোখ রাখলেও কিছুক্ষণ পর তার মনে পড়ে গেল ছোঁয়ার কথা।
ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটল।
মনে হলো, ছোঁয়াও হয়তো এখন পড়তে বসেছে।
ছোঁয়ার সেই কাজল আঁকা নীল চোখজোড়া, মিষ্টি কণ্ঠে কথা বলা, হাঁটাচলা, কথার ভঙ্গি—কিছুই যেন হিমেলের চোখ এড়াতে পারে না। মাঝেমধ্যে সাইকেলের পেছনে বসে তাকে ধরে বসতে চাওয়ার সেই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোও তার মনে পড়ে গেল।
চোখের ওপর ডান হাত রেখে মৃদু হাসল হিমেল।
তারপর বিছানায় শুয়ে ছোঁয়ার কথা ভাবতে ভাবতেই একসময় ঘুমিয়ে পড়ল।
---
মাঝরাতে হঠাৎ হিমেলের ঘুম ভেঙে গেল।
বাইরে প্রচণ্ড দমকা বাতাস বইছে। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হলো তুমুল বৃষ্টি। সঙ্গে বিদ্যুতের ঝলকানি আর বজ্রপাত।
শান্ত প্রকৃতি হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে উঠেছে। চারপাশের গাছপালা বাতাসে দুলছে। টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
দূরে কোথাও মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। পাখিরাও ভয়ে ডানা ঝাপটাচ্ছে।
এদিকে ছোঁয়ারও ঘুম ভেঙে গেল।
বিছানা থেকে উঠে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল সে। বাইরে ভয়ংকর ঝড়-বৃষ্টি দেখে বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।
পরক্ষণেই তার মনে পড়ল হিমেলের কথা।
হিমেল ভাই ঠিক আছে তো?
অজান্তেই ছোঁয়া আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে লাগল।
ইদানীং হিমেলের কথা ভাবা ছাড়া কোনো কিছুতেই তার মন বসে না। একদিন হিমেলকে না দেখলেই মনটা অস্থির হয়ে ওঠে। স্কুলে যাওয়া-আসার সময়টুকুই যেন তার দিনের সবচেয়ে ভালো সময়।
হিমেলের কথা মনে পড়লেই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি হয়। সে নিজেও ঠিক বুঝতে পারে না, এই অনুভূতির নাম কী।
অনেকক্ষণ পর ঝড় থেমে গেল। চারপাশ আবার ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে এল।
কিন্তু ছোঁয়ার মনের ঝড় তখনও থামেনি।
এই অনুভূতির মানে সে কিছুটা বুঝতে পারে।
তবে এটাও জানে, একজন ছেলের জন্য এভাবে মন কেমন করা ঠিক নয়। এই টানকে সে পাপ বলেই মনে করে।
কিন্তু অবুঝ মন কি এত সহজে কোনো নিয়ম মানতে চায়?
চায় না।
ছোঁয়া মনে মনে ঠিক করল, কাল সকালে একবার হিমেল ভাইয়ের বাড়িতে যাবে। হিমেল ভাই আর তার পরিবার ঠিক আছে কি না, নিজের চোখে দেখে আসবে।
এরপর বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করল ছোঁয়া। কিন্তু ঘুম আর এলো না। সারারাত তার মনে শুধু হিমেলের কথাই ঘুরপাক খেতে লাগল।
চলবে.......