ফন্ট সাইজ:
থিম:
কষ্টের জালে প্রেমের প্রদীপ

পর্ব 2

লেখক: Sultana_Notes

কষ্টের জালে প্রেমের প্রদীপ

পর্ব সংখ্যা 02

এভাবেই ছেলেটা কিছুদিন ওকে বিরক্ত করল কিন্তু সুলতানা এসব কিছু পাত্তা দিল না কারণ এরকম অনেকে করে তাই ও সব সময় এসব কি ছড়িয়ে চলে সুলতানা আরেকটা ফ্রেন্ড পুনমকে যখন প্রোপজ করে সাথে সাথেই একসেপ্ট করে নাই এরপর প্রায় ১৫ দিনের মতন ওদের রিলেশন ছিলো। তারপর ছেলেটাই ওর সাথে ব্রেকআপ করে দেয় এবং আবারও সুলতানা পিছনে ঘুরাঘুরি করে। ছেলেটার নাম হলো তরিকুল ও সুলতানাকে অনেক পছন্দ করতো। যখন থেকে তরিকুল সুলতানা কে পছন্দ করতে শুরু করেছে তখন থেকে সুলতানা কি আর ছেলেদের বিরক্তির শিকার হতে হয়নি। এসব কিছু তৈরি করি হ্যান্ডেল করত কারণ সুলতানাকে অসম্ভব ভালো বাসতো। সুলতানের সহজ সরল হলেও একটু চঞ্চল প্রকৃতি মেয়ে ছিল ও ক্লাস সেভেন থেকেই বলান্টিয়ানের ক্যাপ্টেন ছিলো স্কুলে ভালো দাপট নিয়েই চলত নিজের ক্লাসের ক্যাপ্টেন ও ছিল তাই সব জায়গায় ওর কথা কি সবাই খুব ভালই গুরুত্ব দিতো। সুলতানা কে ভীষণ হেট করতো ওর ক্লাসের একজন সহপাঠী ওর নাম তাহসিনা। তাহসিনা হল স্কুলের একজন শিক্ষকের মেয়ে তাই ও মনে করত স্কুলে ওসব কথা চলবে ও ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিল কিন্তু বলান্টিয়ানের শুধু একজন সদস্য ছিল ক্যাপ্টেন ছিল না ক্যাপ্টেন ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে থেকে শুধু দুইজনকে নির্বাচন করেছিল যার মধ্যে একজন ছিল সুলতানা ও আরেকজন ছিল ওরে ক্লাসের একজন ছাত্র ওর নাম বাইজিদ। বাইজিত পড়াশোনা বেশ ভালো ছেলেদের মধ্যে ও ফার্স্ট বয় আর মেয়েদের মধ্যে তাহসিনা ফার্স্ট গার্ল এবং সুলতানা সেকেন্ড তাহসিনা এবং সুলতানের দুজনের দুইটা আলাদা গ্রুপ ছিল ক্লাসে সুলতানা এবং তাহসিনা দুজনই ক্যাপ্টেন ছিল তাই ক্লাসে সারাক্ষণ ওদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগে থাকতো সুলতানা কিছু করতে না চাইলেও তাহসিনা না করতো প্রতিদিনই ঝামেলা করতো মাঝেমধ্যেই ক্লাসে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা লেগে থাকতো।এভাবে চলে গেল আরো একটা বছর সুলতানা এখন ক্লাস নাইনে উঠেছে নতুন বছরের প্রথম দিন আজ জানুয়ারি মাসের ১ তারিখ ফুল আজকে রেজাল্ট দেওয়া হবে সুলতানা আজ রেজাল্টের অপেক্ষা করছি স্কুল মাঠে দাঁড়িয়ে প্রধান শিক্ষক স্টেজে উঠে মাইকে বলতে শুরু করল এক এক করে প্রথম পাঁচ সেকেন্ড থার্ড গার্ল এবং বয় এর নাম বলতে শুরু করল ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস টেন পর্যন্ত সবার নাম বলবে প্রথম তিন জনের সুলতানা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল নিজের রেজাল্টের জন্য অবশেষে ওর সময়ে চলে এলো যখন ক্লাস নাইনের প্রথম তিনজনের কথা বলবে যখন তার মাইকে বললেন এ বছরের নাইনের সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সুলতানা তখন ও ও অনেক খুশি হলো এবং দ্বিতীয় স্থান গ্রহণ করেছে তাহসিনা তৃতীয় স্থান গ্রহণ করেছে বাইজিদ ওদের তিনজনকে স্টেজে রাখা হলো তিনজনের হাতে বই তুলে দেওয়া হল এবছরের প্রথম ওদের ক্লাসে ওরাই প্রথম বই পেয়েছে প্রথম তিন সাবজেক্টের বই দেওয়া হলো আর বাকি দেওয়া হবে পরবর্তী তে খুশি হয়ে সুলতানা যখন বাড়ি ফিরল তখনও দেখতে পেল ওদের বাড়িতে কিছু মেহমান এসেছে। ও তাদেরকে আগে থেকেই চিনে সুলতানা বাড়ি আসার এক থেকে দেড় ঘন্টা পর ওর আম্মু স্কুল থেকে বাড়ি ফিরল আজ তার স্কুলে বই বিতরণের দিন ছিল ও সবাইকে বলল আমার ক্লাসে ছেলে ও মেয়ে সবার মধ্যে আমি প্রথম হয়েছি শুনে ওর পরিবারের সবাই খুব খুশি হয়েছিল থানা বেস বড় হয়ে গেছে অনেক ফর্সা না হলেও শ্যাম বর্ণ ওকে বেশ মায়াবী লাগে দেখলে দেখতে ইচ্ছে করে সুলতানার আম্মু বাড়ি মেহমানদের জন্য রান্না করতেছিল আর সুলতানা তাকে সাহায্য করছিল প্রায় ১:৪৫ মিনিটের দিকে রান্না শেষ হয়েছে অনেক কিছুই রান্না করা হয়েছে পোলাও সাদা ভাত মিষ্টান্ন গরুর মাংস মুরগির রোস্ট ডিম ভুনা দুই পদের মাছ ইত্যাদি রান্না করা হয়েছে ওদের বাড়িতে যে আন্টিটা এসেছিল কেউ রান্নার কাজে অনেকটা সাহায্য করেছে কারণ সুলতানের আম্মুর স্কুল থেকে ফিরতে প্রায় সাড়ে এগারোটার বেশি বেজে গেছে তাই একা এত কিছু রান্না করা সম্ভব না তাই সবাই মিলে রান্না শেষ করেছে তাদের বাড়ি মেহমানরা একদিন থাকলে ৩ তারিখ সকাল বেলা তারা চলে গেলো পরিচিত হলেও সপ্তাহে দুই একবার কথা হতো কিন্তু তারা যাওয়ার পর সুতারা আম্মুর সাথে প্রতিদিন তাদের কথা হতো প্রতিদিনই তারা কল দিতেছি সুলতানার আম্মুকে সুলতানা এতো কিছু খেয়াল করবে না কখনোই ওর ইস্কুলের ঝামেলা নিয়েও খুব ব্যস্ত থাকতো তার উপরে পড়াশোনার চাপ বেড়ে গেছে সামনের বছরে এসএসসি পরীক্ষা দিতে হবে আর স্কুলে তাহসিন আর ঝামেলা তো আছেই এসব কিছু নিয়ে ও খুব ব্যস্ত সময় পার করছিল এপ্রিল মাসের দিকে ওই আন্টিটা বলল ওদেরকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন সুলতানের আম্মু বলল স্কুলের ছুটি নেই আর তাছাড়া ওদেরও পড়াশুনা আছে যাওয়া হবে না কিন্তু তারা খুব করেই বলছিল জাত যায় অনেক আগে কখনো সুলতানার আম্মু গেলেও সুলতানা কখনো যায়নি ওর ভাই বোনেরাও যায়নি কিছুদিন পর ওই আন্টি তারপরও ছেলের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেয় তাদের সুলতানা কে অনেক পছন্দ হয়েছে ছেলেটা ভালোই দেখতে শুনতে ভাল পড়াশোনা জানা ছেলে বিদেশে থাকে সব মিলিয়ে বেশ ভালো আবার এটাও বলেছে যে বিয়ের পর সুলতানা পড়াশোনা করতে পারবে ওকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে সব মিলিয়ে খুব ভালোই থাকবে সুলতান আম্মু বুঝতে পারছিল না কি বলবে মেয়েটা বড় হয়েছে সমাজের নোংরা মানুষের থেকে বাঁচানোর জন্য বিয়ে দিয়ে দেওয়াটা খারাপ হবে না আর সুলতানা সব সময় সব কথা ওর আম্মুর সাথে শেয়ার করতো কে কে প্রপোজ করেছে কে কি বলেছে সবকিছুই বলতাম তাই সুলতানের আম্মুর সবই জানা আছে মেয়ের বিষয় এ সমাজ এ সমাজের মানুষ তার মেয়েকে কতটা খারাপ নজরে দেখে সবই সে দেখেছে আর দেখে তাই ফিরিয়ে দিল না বললে বিবেচনা করে আপনাকে জানাবো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন