ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার

পর্ব 9

লেখক: আরজিনা খাতুন

#প্রেম আমার
#পর্ব -৯

ঈশিতা ও ঈশান অবশেষে নিজেদের গন্তব্যস্থলে এসে উপস্থিত হলো। শরতের এক মায়াময় প্রভাত। সূর্যের মৃদু কিরণ পৃথিবীর বুকে সোনালি আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে। নীলাকাশের বিস্তীর্ণ ক্যানভাসজুড়ে শুভ্র মেঘের দল আপন আপন গন্তব্যের অভিসারে ভেসে চলেছে। প্রকৃতির সেই স্নিগ্ধ সৌন্দর্য চারপাশকে এক অনির্বচনীয় মাধুর্যে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।

কিন্তু বাইরের প্রকৃতি যতই মনোরম হোক, ঈশিতার অন্তঃকরণে তখন এক অজ্ঞাত চিন্তার আনাগোনা। ইদানীং তার ভাইয়া তাকে যেভাবে সমর্থন করছে, যেভাবে তার প্রতি অতিরিক্ত যত্নশীল হয়ে উঠেছে, তা যেন ঈশিতার মনে একরাশ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আগে তো এমনটা কখনো দেখা যায়নি—অন্তত এত ঘনঘন নয়। হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে ঈশান তার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাকে সমর্থনও করেছে; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার এই পরিবর্তন যেন ঈশিতার বোধগম্যতার অতীত।

নিজের ভাবনার গভীরে নিমগ্ন থাকায় সে চারপাশের প্রতি প্রায় উদাসীন হয়ে পড়েছিল। সহসা ঈশানের কণ্ঠস্বর তার চিন্তার জাল ছিন্ন করল।

— কী রে, আজকাল কোথায় থাকিস তুই? যা, স্কুলে যা!

ঈশিতা সম্বিত ফিরে পেয়ে ভাইয়ের দিকে তাকাল।

— বলছি কী, ভাইয়া, তুমি যাও। আমি পরে যাচ্ছি। রুহি আসুক।

ঈশান ভ্রু কুঁচকে বলল,

— রুহির সঙ্গে তোর কী খোঁজ, শুনি? ওকে আমি রাখছি!

ঈশিতা কিছু বলার আগেই পেছন থেকে রুহির পরিচিত কণ্ঠস্বর ভেসে এল,

— ওই ঈশিতা, নে! আমি চলে এসেছি। চল, আর দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না রে।

রুহির কণ্ঠ শুনে ঈশিতা পেছন ফিরে তাকাল। বান্ধবীকে দেখে তার মুখে স্বস্তির আভাস ফুটে উঠল।

— হুম, হুম, চল। অনেক দেরি হয়ে যাবে।

কিন্তু তাদের কথোপকথনের মাঝেই ঈশান এমন এক ভঙ্গিতে বলে উঠল, যেন তার অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিস্মৃত হয়ে গেছে।

— আমার কথা একেবারেই মনে নেই, কুইন?

ঈশিতা তৎক্ষণাৎ ভাইয়ের দিকে ফিরে তাকিয়ে মৃদু কণ্ঠে বলল,

— হুম, হুম, ভাইয়া, মনে আছে। তবে ঈশিতা আমার কাছে আগে, তারপর তো অন্য সবাই!

কথাটি শুনে ঈশান কৃত্রিম অভিমানের সুরে বলল,

— ওহ্, তাই নাকি? বেশ! ঈশিতা তো সবার আগেই থাকবে, আমি আর কে তোমার কাছে? এই ঈশিতা, তুই আমার রুহির সঙ্গে কথা আছে। আর এক সেকেন্ডও যেন তোকে এখানে না দেখি। সো, গেট আউট!

ঈশিতা বিস্ময়ে ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

সে জানে, রুহি তার ঈশান ভাইয়াকে ভালোবাসে। এক কথায়, একতরফা ভালোবাসা—যাকে ইংরেজিতে ওয়ান-সাইডেড লাভ বলা হয়। কিন্তু ঈশান যে রুহির ব্যাপারে এতখানি মনোযোগী, এতখানি যত্নশীল হয়ে উঠেছে, তা ঈশিতার কাছে কিছুটা বিস্ময়কর ঠেকল।

তার মনে প্রশ্ন জাগল—ভাইয়া তবে রুহিকে নিয়ে এতটা ভাবে কেন?

এদিকে ঈশান রুহির দিকে তাকিয়ে রহস্যময় হাসি হেসে বলল,

— কুইন, এত তাড়াতাড়ি হাল ছেড়ে দিচ্ছিস? ইস্! আমি কিছুতেই মানতে পারছি না!

ঈশানের কথা শুনে রুহি যেন আচমকা চমকে উঠল।

— কী? কী বলছ তুমি, ভাইয়া? আমি কীসে হাল ছেড়েছি?

ঈশান নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,

— আচ্ছা, তার মানে তুমি বলতে চাইছ, কোনো দিক থেকেই তুমি হাল ছাড়োনি, কুইন?

রুহি এবার আর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না।

ঈশান মৃদু হেসে বলল,

— ঠিক আছে। একদিন পুরো ক্লাস নিয়ে সব বুঝিয়ে দেব। কুইন, জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ!

তার কণ্ঠের রহস্যময়তা রুহির মনে নতুন এক সংশয়ের জন্ম দিল। ঈশান ঠিক কী বোঝাতে চাইছে, তা তার বোধগম্য হলো না। কিন্তু ঈশানের ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা হাসিটি যেন কোনো অপ্রকাশিত কথার ইঙ্গিত বহন করছিল।

---

হঠাৎই ঈশিতা নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠল। সে অনুভব করল, তার শরীরের ভার যেন অন্য কারও হাতের ওপর এসে পড়েছে। বিস্মিত হয়ে পাশ ফিরে তাকাতেই তার দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো এক পরিচিত অবয়বে।

ছেলেটিকে প্রথম দর্শনে সহজে পড়ে ফেলা যায় না। দীর্ঘদেহী, সুঠাম গড়ন, শ্যামল-উজ্জ্বল ত্বক, এলোমেলো কালো চুল আর গভীর দুটি চোখ—যেন সেই চোখের অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য অনুচ্চারিত কাহিনি। মুখাবয়বে সর্বদা একপ্রকার গম্ভীরতার আবরণ; অথচ আপনজনদের সান্নিধ্যে সেই কঠিন মুখশ্রীই অদ্ভুত মায়াময় হয়ে ওঠে।

ঈশিতার চিনতে কোনো অসুবিধা হলো না। এ তার সেই প্রেমপুরুষ—নিহাদ চৌধুরী।

আকস্মিক বিস্ময়ে ঈশিতা উচ্চারণ করে উঠল,

— প্রেমপুরুষ!

নিহাদ তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

— হুম, মেহু। বলো, এই তো তোমার প্রেমপুরুষ। আর তুমি একেবারে নিরাপদে আছো, মেহু।

ঠিক সেই সময় তাহসিনের কণ্ঠস্বর শুনে ঈশিতা সম্বিত ফিরে পেল।

— কী রে, নিহাদ! এসব কী হচ্ছে? এটা স্কুল, তোর বাড়ি নয়। বাবু, একটু সাবধানে থাক!

তাহসিনের কথায় ঈশিতার মুখে লজ্জার আভা ছড়িয়ে পড়ল। সে অবাক হয়ে তাহসিনের দিকে তাকাল।

— তাহসিন ভাইয়া, আপনি এখানে? আর ওনাকে চিনলেন কী করে?

তাহসিন এমনভাবে হেসে উঠল, যেন প্রশ্নটি পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত প্রশ্ন।

— নিহাদকে চিনব না, এটা কীভাবে হয়? ও তো আমার প্রাণের দোস্ত!

নিহাদও সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,

— ওকে চেনে না, এই পৃথিবীতে এমন কোনো লোক নেই, বুঝলি, শালী!

ঈশিতা তাদের কথায় আর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না। কিন্তু নিহাদ যেন হঠাৎ অন্য একটি প্রসঙ্গ স্মরণ করল। সে ঈশিতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,

— আচ্ছা, বাদ দাও। ঈশিতা, বলো তো, আমার বউ কই?

ঈশিতা মাথা নেড়ে বলল,

— ভাইয়া, আমি তো জানি না। আমি এখনো ক্লাসেই যাইনি। সো, সাদিয়া কোথায় আছে, তা-ও জানি না।

কথাটি বলে সে শ্রেণিকক্ষের দিকে পা বাড়াতে উদ্যত হলো। কিন্তু পরমুহূর্তেই নিহাদ তার হাত ধরে নিজের নিকটে টেনে নিল।

— এত তাড়া কিসের, জাউয়ার? একটু থাকো না, মেহু!

ঈশিতা অপ্রস্তুত হয়ে বলল,

— আরে, ছাড়বেন! আপনি ছাড়ুন তো, অসভ্য লোক!

নিহাদ মৃদু হেসে তাকে ছেড়ে দিল।

— ওকে, যাও তাহলে। একদিন সময় করে সব মিটিয়ে নেব। বাই!

ঈশিতা আর দাঁড়াল না। দ্রুত পায়ে শ্রেণিকক্ষের দিকে এগিয়ে গেল, কিন্তু নিহাদের শেষ কথাটি তার মনে এক অদ্ভুত কৌতূহল রেখে গেল।

---

ঘড়ির কাঁটা দুপুর দেড়টার ঘরে এসে পৌঁছেছে। পরপর চারটি ক্লাস করার পর ঈশিতার শরীর ও মন দুটোই ক্লান্তিতে অবসন্ন। দীর্ঘ সময় ধরে পাঠ গ্রহণের একঘেয়েমি যেন তাকে খানিকটা হাঁপিয়ে তুলেছে।

সে রুহির দিকে তাকিয়ে বলল,

— এই রুহি, চল, একটু ক্লাসের বাইরে যাই।

রুহি সম্মতি জানাল।

— হুম, চল। আর সাদিয়াকেও ডাক, ও যদি যেতে চায়।

এরপর তিন বান্ধবী একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ল। হাঁটতে হাঁটতে তারা প্রায় গোটা স্কুল চত্বর ঘুরে এল। করিডরের কাছাকাছি এসে দাঁড়াতেই হঠাৎ কেউ একজন ঈশিতার ঘাড়ে চাপড় মেরে বলে উঠল,

— ওই, চল! আজ একটা ক্লাস বাঙ্ক করি, চল না, ঈশিতা!

কণ্ঠস্বরটি কানে আসামাত্র ঈশিতা বুঝতে পারল, এ আর কেউ নয়—সাহিন।

সে কিছু বলার আগেই ঘটনাটি এমন এক অপ্রত্যাশিত মোড় নিল, যার জন্য ঈশিতা মোটেও প্রস্তুত ছিল না।

নিহাদ আচমকাই সাহিনের গালে সজোরে চড় বসিয়ে দিল।

ঈশিতা হতবাক হয়ে গেল। তার বোধগম্য হলো না, নিহাদ কেন তার ছোটবেলার বন্ধুর গায়ে হাত তুলল। সাহিন এমন কী অপরাধ করেছে, যার জন্য নিহাদের এই আকস্মিক রুদ্ররূপ?

নিহাদের চোখেমুখে তখন তীব্র ক্রোধের ছায়া। সে সাহিনের দিকে তাকিয়ে গর্জে উঠল,

— এই জানোয়ারের বাচ্চা! তুই আমার মেহুর গায়ে হাত দিয়েছিস কেন? বল! তোর হাত কেটে ফেলে দেব—আই অ্যাম সিরিয়াস!

ঈশিতা যেন আকাশ থেকে পড়ল। কয়েক মুহূর্তের জন্য তার বাক্‌শক্তি পর্যন্ত লোপ পেল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে সে নিহাদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

— প্রেমপুরুষ, আপনি সাহিনকে এভাবে মারলেন কেন?

নিহাদ যেন তার কথা শুনেও শুনল না। সাহিনের দিকে তাকিয়ে ক্রোধের সঙ্গে বলে উঠল,

— সাহিন, মাই ফুট! ওই জানোয়ারের বাচ্চাকে আমি এখনো বাঁচিয়ে রেখেছি, এটাই অনেক!

এরপর সে ঈশিতার দিকে ফিরে কঠোর অথচ নিয়ন্ত্রিত কণ্ঠে বলল,

— ঈশিতা, তুমি ক্লাসে যাও। আর দ্বিতীয় দিন যেন তোমাকে ওই ছেলের সঙ্গে না দেখি।

ঈশিতা এবার প্রতিবাদী কণ্ঠে বলল,

— কিন্তু, প্রেমপুরুষ, ও তো আমার ছোটবেলার বন্ধু!

নিহাদ তার কোমর আলতোভাবে জড়িয়ে তাকে নিজের নিকটে টেনে নিল। তার চোখেমুখে তখন স্পষ্ট অনমনীয়তা।

— আমি যা বলেছি, সেটাই শেষ কথা। আর কোনো কথা নয়। ইটস ফাইনাল! নইলে বাদ দাও—যা বললাম, মাথায় থাকে যেন।

ঈশিতা নির্বাক হয়ে গেল। তার মনের ভেতর তখন অভিমান, বিস্ময় ও বিরক্তির এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি। সে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।

ঠিক তখনই পেছন থেকে রুহির কণ্ঠস্বর ভেসে এল,

— ঈশিতা! নিহাদ ভাইয়া যা বলছে, শোন!

ঈশিতা পেছন ফিরে রুহির দিকে তাকাল। তার কণ্ঠে চাপা অভিমান।

— ভালো! তুই তো নিহাদ ভাইয়াকে নিয়ে বসে থাক!

রুহি ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমির হাসি ফুটিয়ে বলল,

— আরে ভাই, আমার ভাবার জন্য অনেক মানুষ আছে। তুই না হয় নিহাদ ভাইয়ার কথাই ভাব, সোনা!

ঈশিতা আর কোনো উত্তর দিল না। মুখ গম্ভীর করে সে সোজা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করল এবং নিজের আসনে গিয়ে চুপচাপ বসে রইল।

কিছুক্ষণ পর তার মনে পড়ল, সাদিয়ার সঙ্গে একটি কথা বলা প্রয়োজন। সে সাদিয়ার কাছে গিয়ে বলল,

— ওই মায়াবতী! আপনার বর আপনার খোঁজ করছেন। একটু দেখা করে আসুন, জান!

সাদিয়া মুচকি হেসে উত্তর দিল,

— হুম, হুম, যাচ্ছি। দাঁড়া!

এরপর সে প্রায় দৌড়ে তাহসিনদের শ্রেণিকক্ষের সামনে এসে উপস্থিত হলো। সেখানে গিয়ে দেখল, নিহাদ, ঈশান ও তাহসিন একত্রে বসে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করছে।

সাদিয়া প্রথমে কিছু বলল না। পাশের দিকে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশুর মাধ্যমে তাহসিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করল।

তাহসিন তাকে দেখেই বলে উঠল,

— ও বউ! এতক্ষণ কোথায় ছিলি, শুনি?

সাদিয়া বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে জবাব দিল,

— আপনার কবরে ছিলাম। যাবেন, ভাইয়া?

তাহসিনের মুখের হাসি মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।

— এই জাউড়া মেয়ে! আমি তোর ভাইয়া লাগি?

সাদিয়া নির্বিকার ভঙ্গিতে বলল,

— না, আপনি আমার নানা লাগেন, নানা!

সাদিয়ার উত্তর শুনে তাহসিনের মুখে রাগ ও বিস্ময়ের মিশ্র অভিব্যক্তি ফুটে উঠল।

— এই জাউড়া বউ! তোর আজ কী হয়েছে, বল তো—

তার বাক্যটি আর শেষ হলো না। সাদিয়ার দুষ্টুমিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে তাহসিন বুঝতে পারল, এই মেয়ের সঙ্গে তর্কে জড়ানো মানে নিজের সময় নষ্ট করা।

---

সময় গড়িয়ে গেল।

মাঝখানে কেটে গেল প্রায় চারটি ঘণ্টা। এই দীর্ঘ সময়ে ঈশিতা ও নিহাদের মধ্যে আর কোনো উল্লেখযোগ্য সাক্ষাৎ ঘটল না। শেষ ক্লাসটিই ছিল দিনের অন্তিম পাঠ। ক্লাস শেষ হলেই ছুটির ঘণ্টা বাজবে, আর সবাই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাবে।

ঈশিতা তখন শ্রেণিকক্ষে বসে ছিল। হঠাৎ তার জল আনার প্রয়োজন হলো। সে শিক্ষিকার উদ্দেশে বিনীতভাবে বলল,

— ম্যাম, জল ভরতে যাব?

ঈশিতার কথা শুনে শিক্ষিকা তাকে অনুমতি দিলেন। তবে যাওয়ার আগে সতর্ক করে বললেন,

— ঈশিতা, যাও। তবে তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় পড়াচ্ছি।

ঈশিতা সম্মতি জানাল।

— ওকে, ম্যাম। তাড়াতাড়ি চলে আসব।

কিন্তু তার জল আনতে যাওয়ার পেছনে আরও একটি গোপন অভিপ্রায় ছিল। প্রকৃতপক্ষে, সে নিহাদকে একবার দেখার জন্যই বাইরে বেরিয়েছিল।

করিডরে পা রাখতেই সামনে নিহাদকে দেখে সে চমকে উঠল।

ঈশিতা বিস্মিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— আপনি! হঠাৎ হঠাৎ কোথা থেকে চলে আসেন, বলুন তো?

নিহাদ মৃদু হাসল।

— যাই হোক, বাদ দাও। তোমাকেই খুঁজছিলাম।

ঈশিতা ভ্রু কুঁচকে বলল,

— আমাকে খুঁজছিলেন? কেন?

নিহাদ তার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

— আচ্ছা, বলো তো, আমার প্রতি কি তোমার কোনো মায়া-মহব্বত নেই?

ঈশিতা কিছুটা অবাক হয়ে তার দিকে তাকাল।

— আচ্ছা, নিহাদ, তোমার কী মনে হয়?

নিহাদ যেন উত্তরটির অপেক্ষাতেই ছিল।

ঈশিতা মৃদু অভিমানের সুরে বলল,

— আমার তো মনে হয়, আপনি আমাকে একটুও ভালোবাসেন না!

নিহাদের চোখে মুহূর্তেই দুষ্টুমির ঝিলিক ফুটে উঠল।

— ওহ্, তাই? ঠিক আছে। একদিন দেখিয়ে দেব, তোমার প্রতি আমার কতখানি মায়া!

তারপর সে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,

— এখন ক্লাসে যাও। আই থিঙ্ক, এখন রিম্পা ম্যামের ক্লাস আছে। তাড়াতাড়ি যাও।

ঈশিতা মাথা নেড়ে বলল,

— হুম, হ্যাঁ, যাচ্ছি।

নিহাদ আর তাকে আটকায়নি। ঈশিতাও দ্রুত পায়ে নিজের শ্রেণিকক্ষের দিকে ফিরে গেল।

---

অবশেষে শেষ ক্লাসটিও সুষ্ঠুভাবে শেষ হলো। ছুটির ঘণ্টা বাজতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের আনাগোনা বেড়ে গেল। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে বেরিয়ে পড়ল, কেউ আবার বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিতে লাগল।

ঈশিতা ও রুহি তখন অপেক্ষা করছিল। মূলত ঈশানের আসার জন্যই ঈশিতা দাঁড়িয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর ঈশানকে আসতে দেখে সে আর দেরি করল না। এগিয়ে গিয়ে গাড়িতে উঠে বসল।

রুহি অবশ্য তার আগেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে গিয়েছিল।

ঈশান ও ঈশিতা অবশেষে নিজেদের গন্তব্যের দিকে যাত্রা করল। গাড়ির জানালার বাইরে শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতি ধীরে ধীরে পিছিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ঈশিতার মনের ভেতর তখনও নিহাদকে ঘিরে নানা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল।

বাড়িতে পৌঁছে সে নিজের ঘরে চলে গেল। ব্যাগটি একপাশে রেখে হাতে ফোন তুলে নিল। কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার পর নিহাদকে একটি বার্তা পাঠাল—

“আমার টিউশন আছে। টিউশনে গেলাম।”

বার্তাটি পাঠিয়ে ঈশিতা ফোনটি পাশে রেখে দিল। কিন্তু তার মনের গোপন কোণে তখনও জমে রইল একরাশ প্রশ্ন, কিছুটা অভিমান আর সেই মানুষটির প্রতি অস্বীকার করতে না-পারা এক গভীর টান।

চলবে ইনশাল্লাহ
পর্ব -১০

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 9 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন