#প্রেম আমার
#পর্ব - ১১
চোখের পাতায় সকালের মিষ্টি আলো এসে পড়তেই ধীরে ধীরে ঘুম ভাঙল ঈশিতার।
চোখ মেলতেই কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল সে। চারপাশটা কেমন যেন পরিচিত, অথচ কিছুক্ষণ আগেও তো সে এখানে ছিল না!
ঈশিতা ধীরে ধীরে উঠে বসল। তারপর চারপাশে তাকিয়ে নিজের ঘরটা দেখে বিস্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে গেল।
— “আমি এখানে এলাম কীভাবে?”
মনে করার চেষ্টা করতেই গত রাতের কথাগুলো একে একে মনে পড়তে লাগল। নিহাদের সঙ্গে ছাদে বসে চাঁদ দেখছিল সে... তারপর কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল, কিছুই মনে নেই।
ঈশিতা নিজের হাতের দিকে তাকাল। তারপর বিছানার চাদরটা মুঠো করে ধরে ফিসফিস করে বলল—
— “তাহলে আমাকে এখানে কে নিয়ে এলো?”
মনের ভেতর হঠাৎ করেই একটা নাম ভেসে উঠল।
নিহাদ।
নামটা মনে আসতেই অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি ফুটে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই সেই হাসি মিলিয়ে গেল।
কারণ একটা প্রশ্ন তখনও তার মাথায় ঘুরছিল—
নিহাদ কি সত্যিই তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় ঘরে রেখে গেছে?.....
শরতের সকাল
শরতের সকালটা যেন প্রকৃতির নিজের হাতে আঁকা এক শান্ত ছবি। ভোরের নরম রোদ ধীরে ধীরে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, আর ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো রোদের আলোয় মুক্তোর মতো ঝলমল করে। দূরের আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায়। বাতাসে শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধ, আর কাশফুলের দোলায় শরতের আগমনের বার্তা মিশে থাকে। পাখিদের মিষ্টি ডাক আর হালকা বাতাস মিলে সকালটাকে করে তোলে আরও স্নিগ্ধ। চারপাশের সেই নির্মল সৌন্দর্যের মাঝে মনে হয়, ব্যস্ত পৃথিবীটাও যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়েছে।
ঈশিতার যেন নিজের সাথে সময় কাটাতে ইচ্ছা করছে । সেই মতো সকালে সুন্দর আমেজে নিজের মতো সময় কাটাতে বাড়ির পিছনের বাগানে গেলো বাগান টা ছিল ঈশান এর ঘরের পিছনে মূলত ঈশান আর ঈশিতা তার ঘর থেকে বাগানটা পুরোপুরি দেখা যায় । বাগানজুড়ে নানা রঙের গোলাপ, জবা, বেলি, অপরাজিতা আর শিউলি ফুলের সমারোহ। ফুলের মিষ্টি সুবাসে চারপাশের বাতাসটাও যেন মোহময় হয়ে উঠেছে। বাগানের এক পাশে ছায়াঘেরা বড় গাছের নিচে ঝুলছে কাঠের একটি দোলনা, হালকা বাতাসে সেটি ধীরে ধীরে দুলছে। সবুজ ঘাসের ওপর ছড়িয়ে থাকা রঙিন পাপড়ি, পাতার ফাঁক দিয়ে আসা কোমল রোদ আর পাখিদের মিষ্টি ডাক—সব মিলিয়ে বাগানটাকে মনে হচ্ছে প্রকৃতির হাতে সাজানো এক শান্ত, মায়াবী জায়গা। সাথে একটা সাজানো দোলনা যেনো নিজের মতো নিজের সাথে সময় কাটাচ্ছে ।
মনে হচ্ছে একটা ফুলের বাগানে এক জ্বলজ্যান্ত ফুল খেলে বেড়াচ্ছে বাগানের নীরব কোণটায় এসে থেমে গেল ঈশিতা। চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ফুলের মিষ্টি সুবাস আর পাতার ফাঁক গলে আসা নরম রোদে জায়গাটাকে আজ যেন আরও আপন মনে হলো। ধীরে ধীরে কাঠের দোলনাটায় বসে দড়ি দুটো হাতে জড়িয়ে নিল সে। মৃদু বাতাসের সঙ্গে দোলনাটাও আস্তে আস্তে দুলতে লাগল, আর ঈশিতার এলোমেলো চুলগুলো বাতাসে উড়তে লাগল অবাধে।
তার চোখ আটকে রইল শিউলি ফুলে ভরা গাছটার দিকে। মাটিতে পড়ে থাকা সাদা-কমলা ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই বুকের ভেতরটা কেমন অচেনা এক অনুভূতিতে ভরে উঠল। কত কথা যে মনে জমে আছে, অথচ সেসব বলার মতো কেউ নেই। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটলেও চোখের গভীরে লুকিয়ে রইল একরাশ না-বলা কথা।
একসময় দোলনাটা থামিয়ে ঈশিতা নিচে নেমে এল। মাটিতে পড়ে থাকা একটি শিউলি ফুল তুলে নিয়ে আঙুলের ডগায় আলতো করে ঘুরাতে ঘুরাতে সে আকাশের দিকে তাকাল। নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, কিছু অনুভূতি হয়তো শব্দে প্রকাশ করার জন্য নয়—নীরবে হৃদয়ের এক কোণে জমিয়ে রাখার জন্যই জন্ম নেয়।
বাতাস আবারও বয়ে গেল। ফুলের সুবাসে ভরে উঠল চারপাশ। আর সেই নীরব বাগানের মাঝে একা দাঁড়িয়ে ঈশিতা নিজের অজান্তেই হারিয়ে গেল এমন এক ভাবনার জগতে, যার গল্পটা সে নিজেও এখনও জানে না। বারান্দার রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল নিহাদ। হঠাৎ নিচের বাগানে চোখ পড়তেই থমকে গেল তার দৃষ্টি। দোলনায় বসে থাকা ঈশিতাকে মনে হচ্ছিল সকালের নরম আলোয় আঁকা কোনো অসমাপ্ত গল্প। পরনে ছিল হালকা রঙের একটি পোশাক, কোমর ছুঁয়ে নামা কালো চুলগুলো বাতাসের দোলায় বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছিল। কপালের পাশে এলোমেলো হয়ে থাকা চুলের গোছাগুলো সে মাঝে মাঝে আলতো হাতে সরিয়ে দিচ্ছিল। শান্ত চোখ দুটো যেন আপন মনে কোনো অদৃশ্য গল্পের পাতা পড়ছিল, আর ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা মৃদু হাসিটুকু তাকে আরও মায়াবী করে তুলেছিল। তার পুরো উপস্থিতির মধ্যেই ছিল এক ধরনের সরলতা—যে সরলতা চোখে পড়ে না, শুধু অনুভব করা যায়।
বাতাসে তার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছিল, আর সেই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে নিহাদের মনে হলো—কিছু মুহূর্তকে চোখে দেখা যায়, অথচ তাদের অনুভূতিটুকু শুধু হৃদয়েই ধরা পড়ে।
কেন জানে না, তবু সেদিন ঈশিতার দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছিল না নিহাদ। মেয়েটি আপনমনে দুলছিল, আর দূর থেকে তাকে দেখতে দেখতে নিহাদের মনে হচ্ছিল, এই অচেনা মেয়েটি কবে যেন তার অজান্তেই পরিচিত কোনো অনুভূতিতে পরিণত হয়ে গেছে।
হঠাৎ ঘরের ভেতর থেকে পরিচিত এক কণ্ঠস্বর ভেসে এলো—
“নিহাদ, কই তুই? এতক্ষণ ধরে ডাকছি, শুনতে পাচ্ছিস না?”
কণ্ঠস্বরটা শুনে নিহাদ যেন নিজের ভাবনা থেকে ফিরে এলো। এতক্ষণ যে সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে নিচের বাগানের দিকে তাকিয়ে ছিল, সেটা যেন এই মুহূর্তেই খেয়াল হলো তার। সে ধীরে ধীরে রেলিং থেকে সরে দাঁড়াল। ঘরের ভেতরে যাওয়ার আগে অজান্তেই আরও একবার নিচের দিকে তাকাল।
ঈশিতা তখনও দোলনায় বসে আপনমনে দুলছিল। বাতাসে তার চুলগুলো উড়ছিল, আর চারপাশের ফুলগুলো মৃদু বাতাসে দুলছিল। নিহাদের চোখ কয়েক মুহূর্তের জন্য আবারও আটকে গেল সেই দৃশ্যে।
“আসছি,” ঘরের দিকে তাকিয়ে জবাব দিল নিহাদ।
তারপর ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে চলে গেল সে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, ঘরে ঢুকে পড়ার পরও তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠতে লাগল বাগানের সেই মেয়েটির মুখ। যেন কয়েক মুহূর্তের সেই দেখা তার মনের কোথাও নিঃশব্দে একটা দাগ রেখে গেছে।
______
ঘড়িতে বাজে 9. 30 ঈশিতা রেডী হয়ে খেতে এসেছে মূলত আজ স্কুলে যাওয়ার জন্য ঈশিতা সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলে উঠল " আম্মু ভাত দাউ খুব জর খিদে পেয়েছে "
হঠাৎ খুব পরিচিত মুখ দেখে পেয়ে ঈশিতা থেমে গেলো আর কিছু না বলে খাবার টেবিলে দিকে যেতে গিয়াউ গেলো না ঈশিতা লক্ষ্য করলো যে তার বসার চিয়ার এর পাশে নিহাদ বসে আছে আর কিছু করার নেই ঈশিতা চুপচাপ নিহাদ এর পাশেই বসে গেলো
" মা আমি আজ স্কুলে যেতে পারব না "
" কেনো রে ঈশান কি হইসে তোর "
" মা আমি একটু কাজ আছে তাই তুমি না হয় নিহাদ এর সাথে বনু কে স্কুলে পাঠিয়ে দাউ "
" ওকে আন্টি তাহলে আজ আমি নিজের বনের মত করে ঈশিতাকে স্কুলে পৌঁছে দেবো তুমি কোনো টেনশন করো না "
" হুম নিহাদ তুমি ঈশিতা কে নিয়ে যেও "
ঈশিতা নিহাদ এর কাছে কিছুটা সরে গিয়ে বলল
" আচ্ছা আমি তোমার বোন লাগি ভালো "
" না গো বউ তুমি আমার বোন লাগো না তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী লাগো তবে সেচুয়েশন বলে একটা কথা আছে না ।
চলবে ইনশাল্লাহ
পর্ব -১২