ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার

পর্ব 16

লেখক: আরজিনা খাতুন

# প্রেম আমার
#পর্ব - ১৬

রহমান  বাড়ির সোকের পর্ব এখনো শেষ হয়নি । কাল এর দিনটার কথা এখনো কাও ভুলতে পারি নি হয়তো সবাই কেমন যেনো চুপচাপ কাও কারোর সাথে কথা বলছে না । এই প্রথম বার এত শান্ত রহমান বাড়ি

নিহাদ মূলত কাল ঈশান এর জন্যই থেকে গিয়েছিল ছেলেটার প্রচুর জর এদিকে ঈশিতা অবস্থায় তেমন ভালোনা
সকালে সবাই কাওয়াডাউয়া করে বসার ঘরে বসে গল্পঃ করছে নিজের মত কাও হয়তো নিজের মা এর সক পালন করছে
" ঈশিতা "
ঈশিতা নিচে বসেই ছিল ভাইয়ার ডাক পেতেই থতমত খেয়ে উত্তর দিলো

-" কী হইসে ভাইয়া "

-" বনু একটু সন "

-" আসছি ভাইয়া "

ঈশিতা কেমন যেনো অনুভব হচ্ছে ওই ঘিরে নিহাদ আছে সাথে ঈশান ভাইয়া 
কিছু না মনে করেই  ঈশানের ঘরের দিকে রওনা দিলো

- ঈশিতা তোর নিহাদ ভাই কে নিয়ে একটু ছাদে যা তো ওর না বিরক্তি লাগছে আমার কাজ আছে

- ওকে ভাইয়া

ঈশিতা কিছু টা অবাক হয় সাথে আনন্দ পাই তার ভাইয়ার কথাটা শুনে

“নিঃশব্দ  সকালের মিষ্টি হাওয়া কে সঙ্গী করে দুজন ধীরে ধীরে ছাদের পথে পা বাড়াল।”

নিহাদ অনুভব করলো ঈশিতা ঠিক নেই এই ভেবে পিছনে তাকাতেই দেখলো

ঈশিতা সিঁড়িতে পরে আছে । মূলত সে জ্ঞান হারিয়েছে ।

ঈশিতা কে দেখে নিহাদ কিছু ক্ষণের থমকে দাঁড়ালো। হয়তো নিজের প্রয়োসী কে বেশি কয়েক বছর পর এই অবস্থায় দেখেছে
" ওই mehu কি হইসে তোর ওই mehu বল না রে "
" ওই মেহুূূু উ "

নিহাদ এক প্রকার চিলয়ে ডেকে ওঠে ঈশিতাকে

"Mehu তুই কেনো এত বছর পর আবার আমাকে কষ্ট দিচ্ছিস ওই mehu উঠ mehu"

নিহাদ প্রায় অনেক বার ডেকেছে ঈশিতা কোনো সাড়া না পেয়ে কোনো কিছুর চিন্তা না করো ঈশিতাকে নিজের কোলে নিয়ে নিচে যাওয়ার জন্য পা রাখলো ।

________

সবাই এভাবে নিহাদ এর ঈশিতা কে দেখে সবাই মূলত অবাক বেশি অবাক হইসে সামিয়া নিজের প্রিয় মানুষটার কোলে অপর র্মানুষ তাকে দেখে হয়তো নিজেকে আটকাতে পারছে না

" কী হইসে নিহাদ ঈশিতা "
ঈশানের কথাই নিহাদ ছোট করে উত্তর দিলে

" সেন্স লেস হইসে "

সামিয়া ঈশিতা দিকে আসছে দেখেই নিহাদ সবাই কে বারণ করলো ঈশিতার কাছে আসতে

" কাও ওর আসে পাশে আসবে না "

" আর তুইও না সামিয়া "

" ঈশান তাড়াতাড়ি ডাক্তার এর কাছে ফোন কর "

" হ্যাঁ দাড়া নিহাদ "

প্রায় ২০ মিনিটে পর ডাক্তার আসলো
তার আগে নিহাদ কোনো ভাবে ঈশিতার সেন্স ফিরিয়েছে ।

ডাক্তার বেশ কয়েক ক্ষণ ঈশিতার চেকাপ করলো

" ডাক্তার কি হইসে ঈশিতার "
 

- আসলে বেশ কিছু দিন ধরে ও কিছু নিয়ে খুব চাপে ছিল ওই জন্য সেন্স হারিয়েছে  তেমন কিছু হয় নি "

নিহাদ ডাক্তার এর কোলার্ট ধরে চিললিয়ে আউরাল

" তেমন কিছু হয় নি মনে আপনি কি আদৌ ডাক্টার দেখতে পাচ্ছেন না  মেয়ে টা কিভাবে পরে আছে ওর শরীর অসুস্থ বুঝতে পারছেন আপনি " 

ডাক্তার টা বেশ কিছু টা অবাক হয় আজ পর্যন্ত কাও তার সাথে এমন ব্যবহার করে নি ।তবে কিছু বলবো না

" আমি কয়েক টা ওষুধ লিখে দিচ্ছি নিয়ে নিলে ঠিক হয়ে যাবে "

" তাড়াতাড়ি করুন "

ডাক্তার একটু গম্ভীর হয়ে বললেন—

— “ওর ভার্টিগোর সমস্যা হয়েছে। তাই হঠাৎ করে মাথা ঘুরে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে।”

— “এখন ওকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখবেন। মাথা ঘোরা বাড়লে বা বারবার হলে আবার আমাকে জানাবেন।”

নিহাদের এই চঞ্চলতা  কে সবাই সাভাবিক মনে করলো সামিয়া আর  ঈশিতার মা কিছু একটা আন্দাজ করতে পাচ্ছে

" নিহাদ আমি যাই মেডিসিন গুলো আনতে তুই থাক ঈশিতার সাথে "

" তাড়াতাড়ি যা ঈশান প্লিজ "

" আন্টি "

নিহাদের কথাই ফাহিমা বিবি উত্তর দিলো

" হুম নিহাদ বলো "

" বলছি আন্টি ওকে এখন এখানে না রাখাই ভালো আপনারা কেউ ওকে ওর ঘরে নিয়ে যান "

" তবে নিহাদ ঈশান তো চলে গেল এখন কি ওকে নিয়ে যাবে পারলে তুমি জাউ ওর সাথে "

নিহাদ কোনো কথা না বলেই ঈশিতা কে নিজের কোলে তুলে ঈশিতার ঘরের দিকে পা বাড়ালো ।
হঠাৎ ই নিহাদ কিছু একটা অনুভব করে মাথা নিচু করতেই লক্ষ্য করলো ঈশিতা তার নিজের সর্ব শক্ত দিয়ে নিহাদের বুক কমছে ধরেছে
,তবে নিহাদ কিছু বললো না বরং এসিয়াত স্পর্শ পেয়ে নিজেকে পূর্ণ মনে করলো

নিহাদ ঈশিতার ঘরের সামনে এসে নিজের পা দিয়ে দরজায় ধাক্কা দাউয়াই দরজা টা খুলে গেলো । নিহাদ খুব ধীরে ঈশিতার ঘোর ঢুকে ঈশিতাকে বেড এ শুইয়ে দিল ।

নিহাদ লক্ষ্য করলো তার বুক এর অংশ টা কেমন জালা জালা অনুভব করছে নিজের শার্ট এর উনক্ত  অংশ দেখে বুঝতে পারল বুকের অংশ টা কিছু টা কেটে গিয়েছে মূলত ঈশিতার ধরলো নখের জন্য । তবে নিহাদ কিছু বললো না

বেশ কিছুক্ষণ আগে ঈশিতা সেন্স ফিরেছিল এখন একটু ঘুমাচ্ছে আর তার প্রেম পুরুষ তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে !
 

বেশ কিছুক্ষণ পর ঈশিতা ঘুম ভাঙ্গতেই নিজের মাথার উপর ভর কিছু লক্ষ্য করতেই দেখলো নিহাদ তার মাথার উপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে ।

" সত্যি মানুষ টা অনেক মায়াবী "

ঈশিতা নিজের কথাই নিজেই যেনো লজ্জা পেয়ে নিজেকে থামিয়ে নিলো

" নিহাদ "

ঈশানের গলার আওয়াজ পেয়ে ঈশিতা আটকে ওঠে । ঈশান ভাইয়া তাদের কে এই অবস্থায় দেখলে কি না হয়ে যাবে ।

সেই মুহূর্তে ঈশান ঈশিতার ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। তবে তেমন কিছু বললো না ।

" ঈশিতা "

ঈশিতা কিছুটা কাপা গলায় উত্তর দিলো

" জি ভাইয়া "

"সন নিহাদ ঘুম থেকে উঠলে তুই ওষুধ গুলো কেটে নিস"

ঈশান আর একমুহুর্ত না দাঁড়িয়ে নিজের স্থান ত্যাগ করলো

ঈশিতা বিষণ অবাক তার ভাইয়ার আচরণে যে ছেলেটা তাকে কোনো দিনও একটা ছেলের সাথে এক ঘরে থাকা তো দুর কথা পর্যন্ত বলতে দেই নি সেই ছেলে টা এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে পরিবর্তন হলো ।

বেশ কিছুক্ষণ পর  নিহাদ এর ঘুম ভাবতেই বুঝল সে তার প্রয়সীর মাথার উপর মাথা রেখে নিজের সর্বোচ্চ সুখ খুঁজে নিচ্ছিল । তবে ঈশিতাকে কিছু বলল না

" প্রেম পুরুষ "

" জি বলো mehu এখন কেমন আছো mehu"

" জি আলহামদুলিল্লাহ ভালো "

" আচ্ছা প্রেম পুরুষ একটা কথা কইব "

" জি কৌ mehu সব শুনতে রাজি "

"বলছি আপনি কি অসুস্থ "

" কই না তো"

" তাহলে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কেনো "

" হেস পাগলি ওসব তুমি বুঝবে না "

" বেশ আপনি  যান ভাইয়া আপনাকে ডাকছিল "

" এখন যাব না "

" কখন যাবেন শুনি "

" বউয়ের সাথে কথা শেষ হলে "

" জান  প্লিজ "

" ওকে যাচ্ছি "

নিহাদ ঈশিতার ঘর থেকে বেরোতে গেলে সামিয়ার গলার আওয়াজ পেয়ে দাঁড়িয়ে যায়

" নিহাদ "

" কী হইসে  বল"

" তুই ওই মেয়ের মধ্যে কি এমন পেয়েছিস নিহাদ "

" দেখ আমি সিদরাতুল ঈশিতা রহমান কে নিয়ে শূন্যতার মাঝে পূর্ণতা অনুভব করি তাই বলছি আমার পূর্ণতার মাঝে শূন্যতা নিয়ে আসিস না সামিয়া "

নিহাদ এর একমুহুর্ত কিছু না বলে নিজের প্রস্থান ত্যাগ করলো

.........

চলবে ইনশাল্লাহ
পর্ব -১৭

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 16 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন