ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার

পর্ব 20

লেখক: আরজিনা খাতুন

# প্রেম আমার
# পর্ব - ২০

সকালটা যেন আজ অস্বাভাবিক রকম চুপ।

আকাশে আলো ফুটেছে, অথচ রোদের কোনো উজ্জ্বলতা নেই। জানালার কাঁচে জমে থাকা শিশিরগুলোও স্থির—একটুও নড়ছে না। দূরে কোথাও পাখির ডাক নেই, রাস্তায় মানুষের কোলাহল নেই, শুধু হালকা বাতাসে পর্দাটা মাঝে মাঝে নিঃশব্দে দুলে উঠছে।

চারপাশটা এমন নীরব, মনে হচ্ছে পুরো শহরটা যেন কোনো অজানা দুঃখে থমকে আছে।

গাছের পাতাগুলোও আজ শব্দহীন। উঠোনের এক কোণে পড়ে থাকা শুকনো পাতাগুলো বাতাসে একটু সরে গিয়ে আবার থেমে গেল। ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দটুকুই শুধু সেই নিস্তব্ধতাকে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সকাল হয়েছে—তবু কোথাও যেন সকালের প্রাণ নেই।
শুধু নীরবতা, আর তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক অদ্ভুত বিষণ্ণতা।

ঈশিতার যেন অস্বস্তি হচ্ছে এই দিনটাকে দেখে ফরজ এর নামাজ পরে ঈশিতা আবার ঘুম দিলো ..
ঘড়িতে বাজে তখন ৪ .৩০ ঈশিতা ঘুম থেকে উঠেছে মূলত ঈশান ডাকে ।

" ঈশিতা উঠ"

হঠাৎ এমন জোরালো আওয়াজ শুনে ঈশিতা থতমত খেয়ে উত্তর দিলো

" জি ভাইয়া

___________

দুই মাস পর আবার স্কুলের গেটের ভেতর পা রাখল সাহিন।

সকালের ব্যস্ততায় প্রথমে তেমন কেউ খেয়াল করেনি। কিন্তু পরিচিত মুখটা চোখে পড়তেই তার কয়েকজন বন্ধু ছুটে এসে তাকে ঘিরে দাঁড়াল। এতদিন পর তাকে সামনে পেয়ে তাদের মুখে একের পর এক প্রশ্ন।

—কোথায় ছিলি এতদিন?

—দুই মাস স্কুলে এলি না, একটা খবরও দিলি না!

সাহিন শুধু মৃদু হেসে তাদের প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাচ্ছিল। যেন এই দুই মাসের গল্পটা তার নিজের মধ্যেই আটকে আছে।

একজন বন্ধু আবার জিজ্ঞেস করল,

—আসল ব্যাপারটা কী বল তো?

সাহিন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে শুধু বলল,

—সময় হলে সব জানতে পারবি।

কথাটা বলেই সে আর কিছু বলল না।

ঠিক সেই সময় করিডোর দিয়ে ঈশিতা, রুহি আর সাদিয়া যাচ্ছিল। হঠাৎ ঈশিতার চোখ পড়ল সাহিনের দিকে।

দুই মাস পর মানুষটাকে দেখে তার পা যেন অজান্তেই একটু থেমে গেল।

—সাহিন?

সাহিনও তাকাল।

চোখে এক মুহূর্তের জন্য পুরোনো পরিচিত হাসিটা ফুটে উঠল।

ঈশিতা এগিয়ে এসে স্বাভাবিক কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল,

—তুমি এতদিন স্কুলে আসোনি কেন?

সাহিনের মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল।

কিছুক্ষণ ঈশিতার দিকে তাকিয়ে থেকে সে বলল,

—সময় হলে সব জানতে পারবে।

ঈশিতা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

—কিন্তু—

সাহিন আর কিছু বলল না। তার বন্ধুরা তাকে নিয়ে চলে গেল।

ঈশিতা অনেকক্ষণ সেদিকেই তাকিয়ে রইল।

রুহি পাশে এসে বলল,

—কী ভাবছিস?

ঈশিতা ধীরে মাথা নাড়ল।

—কিছু না। শুধু ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগছে।

সাদিয়া তখনই কথাটা ঘুরিয়ে দিল।

—অদ্ভুত ব্যাপার বাদ দে। আজ আমরা তিনজন বাইরে যাব। ঠিক আছে?

ঈশিতা হেসে ফেলল।

—কোথায়?

—কাছের ওই ক্যাফেটায়। অনেকদিন কোথাও বসে গল্প করা হয়নি।

শেষ পর্যন্ত তিনজনের পরিকল্পনা ঠিক হয়ে গেল।

---

স্কুল ছুটির পর বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে।

তিনজন পাশাপাশি হাঁটছিল। সাদিয়া সারাক্ষণ গল্প করছিল, রুহি মাঝেমধ্যে তার কথায় যোগ দিচ্ছিল, আর ঈশিতা নীরবে দুজনের কথা শুনে হাসছিল।

হঠাৎ ই ঈশান কে দেখতে মেয়ে ঈশিতা আটকে যায়

" কথাই যাচ্ছিস "

" ভাইয়া আসলে আমি ভালো লাগছে না তাই ক্যাফেতে যাচ্ছি "

ঈশিতার কথাই তাল মিলিয়ে রুহি ও আউ রালো

" প্লিজ ঈশান ভাইয়া ঈশিতাকে একটু যেতে দিন "

ক্যাফের কাছাকাছি পৌঁছাতেই হঠাৎ রুহি থেমে গেল।

—ওই দেখ!

ঈশিতা তাকিয়ে দেখল, রাস্তার ওপাশে সাহিন দাঁড়িয়ে আছে।

তার হাতে একগুচ্ছ ফুল।

সাহিন তাদের দেখতে পেয়ে ধীরে ধীরে রাস্তা পার হয়ে এগিয়ে এল।

কাছাকাছি এসে তার দৃষ্টি থামল ঈশিতার ওপর।

দুই মাসের অনুপস্থিতির পর আজ প্রথমবার এতটা কাছে দাঁড়িয়েছে সে।

কিছুক্ষণ যেন শব্দ হারিয়ে গেল চারপাশের ভিড়ে।



তারপর সাহিন নিঃশব্দে ফুলের তোড়াটা ঈশিতার দিকে বাড়িয়ে দিল।

—এটা তোর জন্য।

ঈশিতা বিস্মিত চোখে ফুলগুলোর দিকে তাকাল।

তারপর সাহিনের দিকে।

—আমার জন্য?

সাহিন মাথা নাড়ল।

—হ্যাঁ।

ঈশিতা ফুল নেওয়ার জন্য হাত বাড়ালেও এক মুহূর্ত থেমে গেল।

মনের ভেতর তখন একসঙ্গে অনেক প্রশ্ন।

দুই মাস কোথায় ছিল সাহিন?

কেন সে কিছু বলেনি?

আর আজ হঠাৎ এই ফুলই বা কেন?

শেষ পর্যন্ত সে ধীরে ফুলের তোড়াটা নিল।

—কিন্তু... হঠাৎ?

সাহিন মৃদু হেসে বলল,

—হঠাৎ না। অনেকদিনের কথা।

ঈশিতা আর কিছু বলতে পারল না।

রুহি আর সাদিয়া নীরবে একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইল।

বিকেলের বাতাসে ফুলের হালকা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল।

কিন্তু ঈশিতার মনে তখন ফুলের সৌন্দর্যের চেয়ে বেশি জায়গা করে নিয়েছে একটা প্রশ্ন—

সাহিনের এই দুই মাসের নীরবতার প্রশ্ন

নিহাদ আজ স্কুলে আসে নি মূলত ওর নিজের বিসনেস সংক্রান্ত কিছু কাজের জন্য বিকাল ৪.৫০  নিহাদ সব কাজ শেষ এ এক কাপ কফি নিয়ে বসেছে হঠাৎ ই টিং শব্দে ঈশান ফোনের স্ক্রিনে মনোযোগ দিল একটা অচেনা নম্বর থেকে এসএমএস । প্রথমে ভেবেছিল ঈশিতা এসএমএস করেছে তবে স্ক্রিনে মনোযোগ দিতে লক্ষ্য করলো সেই অচেনা নম্বর

নিহাদ মনে মনে আউরালো

"  হু ইস হি "

নিহাদ নম্বর থেকে আসা এসএমএস টা চেক করে কিছুক্ষণ থমকে গেলো তার মেহুজান এর সামনে সাহিন । ফুল টা ঈশিতা নিয়েছে "

নিহাদ এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারি নি শুধু একটা কথাই মাতাই গিয়েছে

" তুই এমন কেনো mehu "

............

নিহাদ এখনো সেই এসএমএস এর দিকে তাকিয়ে আছে ওই আইডি থেকে আবারো একটা ম্যাসেজ তবে এটা কোনো এসএমএস না ছিল একটা লোকেশন

নিহাদ এক মুহুর্ত দেরি না করে নিজের রুম থেকে বেরিয়ে যেতে পারে বাড়ালো ঠিক তখনই  মায়ের ডাক শুনে নিহাদ পিছন ঘুরে আউরালো

" মা তুমি রাতে আমার জন্য ওয়েট করবে না আমি আজ আসবো না "

ছেলের কথাই অবাক হলো তুহিনা চৌধুরী ছেলের এমন আচরণে যে অনেক পরিবর্তন হইসে

" আয় নিহাদ শুনে যা বাবা "

" দেখো মা আমাকে আটকিও না জাউ না আমার  পিছনে পড়ে আছো কেনো "

বাইক এর ফুল স্প্রিড দিয়ে বাইক চালিয়ে নিহাদ আসলো নিজের গন্তব্য স্থানে ।

নিজের চোখ কে নিজেই বিশ্বাস করতে পারছে না নিহাদ তার প্রয়সি অন্য এক ছেলের পাশে ।

নিহাদ এর চোখ প্রায় আগুনের মতো লাল যেনো চোখের মধ্যমেই কাউকে শেষ করতে চাচ্ছে ।

নিহাদ নিজের প্রস্থান ত্যাগ করে পুরোপুরি সাহিনের পাশে এসে দাঁড়ায় কাও এই বিষয় টা লক্ষ করে নি মূলত সবাই গল্পঃ করতে ব্যস্ত ।

" এই জানোয়ারের বাচ্চা "

নিহাদ এর গর্জনে সবাই যেন আটকে উঠে।  সবাই মাথা উচু করে লক্ষ করলো নিহাদ শাহীনের কলার্ট ধরে চিয়ার থেকে তুলে টালমাটাল ভাবে মারছে ।

" জানোয়ারের বাচ্চা একবার মার  খেয়ে  হয়নি তোর আবার খেতে চাস মার নে তাহলে প্রস্তুত হ "

নিহাদ কথাই ঈশিতার পুরো বিষয় কিছু টা পরিষ্কার হয় ঈশিতা মনে আউরালো " মানে সাহিন এই জন্য এত দিন স্কুল আসতে পারি নি ।

রুহি নিজের মধ্যে আর নেই সেই শান্ত নিহাদ ভাইয়া আজ এত টা অশান্ত কিভাবে রুহি মূলত সাদিয়া কে নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ।

নিহাদ সাহিন কে এত মারা মেরেছে যে ছেলেটা  সেন্স লেস হয়ে নিহাদ এর পায়ের কাছে পড়ে আছে নিহাদ সাহিন কে উপেক্ষা করে ঈশিতা মুখ মুখী হলো । নিহাদ পূরপরি ঈশিতার কাছাকাছি এসে ঈশিতার মাথায় থাকা হিজাব তান মেরে ছিঁড়ে ঈশিতা চুল এর মুঠি ধরে আড়াল

" এই জানোয়ার কে ওই ছেলে তোকে বলেছিলাম না তুই ওই ছেলের আশেপাশে জাবি না আর তুই আমার অনুপস্থিতিতে ওই ছেলের পাশে বসে আছি "

নিহাদ এর এই হিংস্র প্রাণীর মতো আচরণ ঈশিতাকে অবাক হতে বাধ্য করে চে ।



নিহাদ ঈশিতা চুলেরমুঠি ছেড়ে ঈশিতার হাতের মাজ বরাবর ধরে সোজা করে দাঁড়িয়ে দিলো আর চিৎকার করে উঠলো

" বল এই বালের মেয়ে  "
" তোর যদি ফুল নওয়ার এতই ইচ্ছা থাকতো আমাকে বলতে পারতিস তোকে আমি পুরো শহরের ফুল কিনে এনে দিলাম কিন্তু তুই তো শুনবি না "

কথাটা বলতে না বলতেই ঈশিতা মুখে পড়ল পর পর প্রায় ৫ টা শক্ত পোক্ত তাহ্পপোর।

ঈশিতা নিজের কিছু বুঝে উঠতে পারি নি তার আগেই এই সব হয়ে গেলো । চোখের জল সমস্ত কিছু অপেক্ষা করে বেরিয়ে এলো ।

ঈশিতা আস্তে আস্তে মাথা তুলেই রুহি সাদিয়া দুজনেই অবাক হলো ঈশিতার মুখ দেখে ফর্সা এর পাতলা চামড়া হওয়ায় মুখের গাঢ় লাল দাগ টা বেশি চোখে পড়ছে । হঠাৎ ই ঈশিতার চোখের সামনে ঝাপসা হতে থাকে শুধু একজনকেই দেখতে পাই নিহাদ । মূলত ঈশিতা সে ন্স লেস হতে পড়েছে পরে যাওয়ার নেই ঈশিতা ঠিক সেই সময় রুহি তার সমস্ত টা দিয়ে নিজের সাথে আঁকড়ে নেয় ঈশিতাকে ।

চলবে ইনশাল্লাহ
পর্ব - ২১

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 20 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন