ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার

পর্ব 21

লেখক: আরজিনা খাতুন

# প্রেম আমার
#পর্ব -২১

" ঈশিতা "

রুহির শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো ঈশিতার শরীর টা এখনো বেশ কেলন্ত ঠিক করে বসতে পর্যন্ত পারছে না মেয়েটা । নিজের প্রিয় মানুষটার এমন আচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠি না এখনো । আর সাথে সেই চর হয়তো ঈশিতার অন্তরে একটা ক্ষত করেছে । এটাই সাভাবিক ।

" ঈশিতা "

ঈশিতা আস্তে আস্তে চোখ  খুলে তাকালো ঈশিতা সাথে অবাক ও হলো ।
ঈশিতা আস্তে আস্তে বলার চেষ্টা করলো তবে গালের ব্যাথাটার জন্য আর্তনয়  চোষ্টফটিয়ে উঠে মেয়েটা কি বাজে অবস্থা গালের

ঈশিতা আবারো আস্তে আস্তে আউরালো

" রুহি"

" হ্যাঁ বল এখন কেমন আছিস "

" জানি না "

কথাটা বলতে বলতে চোখ জুড়ে অশ্রু এসে জমা হলো যেন সমস্ত বাঁধা অতিক্রম করে নিজেদের গন্তব্য পৌঁছাতে চাচ্ছে কিন্তু পারছে না

" ঈশিতা "

" হ্যাঁ বল "

" আমি আন্টি কে ফোন করে দিয়েছি "

" কী বলল "

" যে ঈশিতা আজ এখানেই থাকবে "

" মা কিছু বলছিল "

" প্রথমে রাজি হয় নি তবে তার পর ঠিক করে নিয়েছি "

____________

রাত ৪. ২২ হঠাৎ ই দরজায় ধাক্কা দওয়ার আওয়াজে রুহি দরজা খুলে অবাক হলো ঈশান ভাইয়া এখানে

" ভাইয়া আপনি "

" জি আমি কেনো কোনো সমস্যা "

" না মানে "

" ঈশিতার কি হইসে রুহি "

" ভাইয়া আসলে "

রুহি কথা না শুনে ঈশান নিজের বোনের কাছে গিয়ে আদরের সাথে মুখটা দেখেতে লাগলো

" এসব কি রুহি "

রুহি আমতা আমতা করতেই ঈশান রুহির ব্যালকনির দিকে যেতে যেতে  বলে উঠল

" এদিকে এসো"

" জি "

ঈশান ব্যালকনির রিলিং এর সাথে হেলান দেয়া দাঁড়ানো

" আজ তোমাকে সব বলব রুহি "

" জি কি বলবেন আপনি "

" তবে তুমি কাউকে এ কথা বলতে পারবে না আমার কসম রুহি "

রুহি আউরালো

" জি আপনার কসম কা উ কে বলব না "

ঈশান রুহিকে ব্যালকনির রেলিং এর সাথে চেপে ধরে

ঈশান শক্ত কন্ঠে আউরালো

" বলো কি হইসে আমার বোনের "

" ভাইয়া আপনার ফ্রেন্ড "

" থাক আমাকে কিছু বলতে হবে না আমি সমস্ত কিছুই জানি "

রুহি আতকে উঠে মনে মনে আউরাল

" এবার কি হবে "

" যানো তো রুহি জীবনে কত ভাবে ভালবাসতে পর যায় সেটা আমি নিহাদ এর কাছে থেকে শিখেছি ।  একটা মানুষের অনুপুস্তিতে যে আর এটা মানুষ কত টা কষ্ট পাই আমি সেটা দেখেছি । "

" মনে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন ভাইয়া নিহাদ ভাই অন্য কোনো মেয়েকে ভালোবাসে "

" অন্য কাউকে না রুহি সে আমার মায়ের পেটের বোন সিদরাতুল ঈশিতা রহমান কে ভালোবাসে "

" তবে আপনি "

" তবে আমি ওদের ভালোবাসা মেনে নিতে বাধ্য "

" আজ থেকে প্রায় অনেক বছর আগে আমি জানতে পারি নিহাদ ঈশিতাকে একতরফা ভালবেসে তবে আমি মানতে চাই নি  তবে আমি নিহাদ এর ভালোবাসার কাছে ব্যর্থ হয়সিলাম  আমি পারি নি নিহাদ কে আটকাতে এখন যখন নিহাদের ভালোবাসা একতরফা থেকে পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমি ওর বেস্টফ্রেন্ড হয়ে কিভাবে বাধা দিতে পারি  তুমি কি ভাবছো আমি জানি না রুহি তবে আমি ওদের ভালোবাসা মেনে নিয়েছি "

রুহি মন দিয়ে সব কথা শুনছিল হঠাৎ ই আউরালো

" তবে আমি এটা  ঈশিতা কে বলে দেই  ওউ তাহলে একটু হালকা হবে কখনও ভয় পাবে না "

ঈশান রুহির হাত জাপটে ধরে আউরালো

" না রুহি না আমি চাই না তুমি এই কথা ঈশিতা কে বলো আজ পর্যন্ত আমি আর নিহাদ ছাড়া এই কথা কেউ জানত না হ্যাঁ তাহসিন জানত তবে এত বছর আগের কথা জানত না তুমি আর কাও কে বলো না।  তুমি যা চাইবে তাই দেবো শুধু বলো না "

রুহি কিছুটা শান্ত হয়ে আউরালো

" যা চাই তা কখনও দিতে পারবেন না আপনি "

ঈশান কিছু বলল না তবে কিছু একটা আন্দাজ করে পারল

" আচ্ছা রুহি ক্যাফে  কি কি হইসিলো আমাকে একটু বলবে "

" আপনি কি করে জানলেন কাফের কথা "

" নিহাদ এক্সিডেন্ট করছে রুহি "

রুহি নিঃশব্দে তাকিয়ে আছে ঈশান এর দিকে

" আজ সন্ধ্যা বেলা আমি একটু আককে বেরিয়ে ছিলাম তখন নিহাদ এর মা কল দিসিলো  ওর অবস্থা খুব খারাপ রুহি তুমি ঈশিতাকে বলে দিও আমি  আসলাম "

" আরে শুনে যাবেন তো "

" এখন সময় নেই নিহাদ এর কাছে যেতে হবে , "

____________________

রাত তখন ৯. ৩০ ঈশিতার ঘুম ভাঙ্গলো মুখের ব্যাথাটা এখনো ঠিক হয়নি । রুহি কে পাশে দেখতে পেয়ে ঈশিতা আস্তে করে আউরালো

" রুহি "

" হ্যাঁ বল "

" প্রেম পুরুষ ঠিক আছে তো "

রুহি আমতা আমতা করে আউরালো

" কেনো কি হইয়েছে তোর এমন কথা হঠাৎ "

" রুহি রে আমার বুকটা যেন কেমন খালি হয়ে আসছে "

ঈশিতার চোক দিয়ে গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোটা অশ্রু

" জানিস তো ঈশিতা এটা কেই বলে আসল ভালোবাসা তুই ঠিক ভেবেছিস তোর প্রেম পুরুষ ভালো নেই "

রুহি গোলা কেঁপে উঠে

”

ঈশিতা এবার উদ্বিগ্ন হয়ে তার হাতটা ধরল।

—“রুহি, কী হয়েছে?”

রুহি ধীরে ধীরে ঈশিতার দিকে তাকাল। চোখ দুটো কেমন ভেজা।

—“ঈশিতা… একটা কথা বলব। তুই আগে শান্ত থাকিস।”

ঈশিতার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

—“কী হয়েছে?”

রুহি ঠোঁট কামড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে খুব আস্তে বলল,

—“নিহাদের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে।”

কথাটা শুনে ঈশিতা কয়েক সেকেন্ড কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখাল না।

তারপর হঠাৎ যেন নিঃশ্বাস আটকে গেল।

—“কী… বললি?”

—“নিহাদের অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।”

ঈশিতা উঠে দাঁড়াতে গিয়ে টলমল করে বসে পড়ল।

—“না… না, এটা হতে পারে না…”

রুহি তাড়াতাড়ি তাকে ধরে ফেলল।

—“ঈশিতা…”

ঈশিতার চোখ দিয়ে তখন অবিরাম পানি পড়ছে।

—“রুহি, ও ঠিক আছে তো? বল…প্রেম পুরুষ ঠিক আছে তো?”

রুহি কোনো উত্তর দিতে পারল না।

ঈশিতা এবার রুহির হাত শক্ত করে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল,

—“আমাকে ওর কাছে নিয়ে চল… প্লিজ রুহি। আমি শুধু একবার ওকে দেখতে চাই।”

রুহি তাকে জড়িয়ে ধরল।

আর ঈশিতা বুকের ভেতর  থাকা ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষায় ঈশিতা নিজেই উঠে দারাল
" রুহি আমি যাব আমার প্রেম পুরুষ এর কাছে প্লিজ রুহি "

ঈশিতা ওয়াশরুম এ গিয়ে নিজেকে তৈরি করে নিলো একবার গালের ক্ষত টা লক্ষ্য করেছিল তবে কিছু মনে করি নি ।
নিচে  লাবতেই রুহির মা জিজ্ঞাসা করলো কথায় যাচ্ছ ঈশিতা

" আন্টি আমি নিহাদ ভাইয়ের কাছে যাচ্ছি "

রুহির মা মূলত নিহাদ এর কথা জানে আর নিহাদের এক্সিডেন্ট এর কথাটা উ

" বাড়ির গাড়ি টা নিয়ে যেও "

ঈশিতা রুহির মাকে নিজের মায়ের থেকে কম কিছু মনে করে না তাই খুব বিশ্বাস করে তাকে

ঈশিতা কাপা গোল্লায় ঔরাললো

" জি আন্টি "

গাড়ি এসে পৌঁছালো নিজের গন্তব্য স্থলে হাসপাতালের সামনে আনাগোনা পেসেন্ট দের ভির সব মিলিয়ে এক ব্যাস্ত জীবন ।

চলবে ইনশাল্লাহ
পর্ব -২২

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 21 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন