#তুমিই_আমার_হৃদয়হরণী পর্ব-৬
#লেখিকা_আশু
পরদিন সকালবেলা। জানালার বাইরে আকাশটা তখনো মেঘলা, হালকা টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ইমা বিছানায় সোজা হয়ে বসে নিজের পা-টা একটু নাড়ানোর চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই ঘরের দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকল তৃষা। সকাল সকাল ওর মুখটা কেমন যেন গম্ভীর আর থমথমে। ইমার বিছানার পাশে এসে দাঁড়াল ও। কোনো ভূমিকা না করেই ডিরেক্ট প্রশ্ন করল, "কাল রাতে আরিমান ভাইয়া কি তোর রুমে এসেছিল, ইমা?"
তৃষার মুখে এমন সরাসরি প্রশ্ন শুনে ইমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। ও চরম অস্বস্তিতে পড়ে আমতা আমতা করে বলল, "কী... কীসব বলছিস আপু? উনি কেন মাঝরাতে আমার রুমে আসতে যাবেন? তুই ভুল দেখেছিস।"
"মিথ্যে বলিস না ইমা! কাল রাতে আরিমান ভাইয়াকে আমাদের গেইটের সামনে আমি নিজের চোখে দেখেছি। তুই খুব ভালো করেই জানিস, তুই বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে বলতে পারিস না," তৃষা রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল। ওর গলার স্বর কাঁপছিল।
ইমা বেগতিক দেখে কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করে বলল, "আরে ধুর, তুই আসলেও ভুল দেখেছিস। আমি ফ্রেশ হতে যাব, সর তো এখন।"
কোনোমতে কথা এড়িয়ে ইমা বাথরুমে পালিয়ে বাঁচল ঠিকই, কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ওর নিজেরই ভীষণ অপরাধী লাগছিল। আসলে, ইমার এই জীবনে আরিমানকে ফিরিয়ে দেওয়ার বা ওনার ভালোবাসা স্বীকার না করার একমাত্র কারণই ছিল তৃষা! তৃষা নিজে আরিমানকে পছন্দ করত। আর বোনের সেই পছন্দের কথা জানার পর থেকেই ইমা নিজের মনকে হাজারটা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিল, আরিমানের সব প্রস্তাব এড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দিন দিন আরিমানের ওই অবুঝ পাগলামি আর তীব্র অধিকারবোধ ইমার মনের সব বাঁধ ভেঙে দিচ্ছিল। একদিকে নিজের ভেতরে বাড়তে থাকা ভালোবাসা, আর অন্যদিকে তৃষার এই সন্দেহ আর রাগ সব মিলিয়ে ইমা মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়ল।
কয়েকদিন পর, পায়ের ব্যথাটা একটু কমতেই ইমা আর ঘরে টিকতে পারল না। এক বুক ডিপ্রেশন আর মানসিক চাপ নিয়ে ও ভার্সিটিতে গেল। অনেকদিন পর ওকে ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে একছুটে এগিয়ে এলো ওর বেস্ট ফ্রেন্ড হিয়া।
হিয়া ইমার কাঁধে হাত দিয়ে বলল, "কী রে দোস্ত! একটা ফিল্ড ট্রিপ মারতে গিয়ে তুই তো এক্কেবারে শেষ হয়ে গেলি? চেহারা এমন শুকায় গেছে কেন?"
ইমা আর নিজের ভেতরের চাপটা ধরে রাখতে পারল না। ও হিয়াকে এক কোণায় টেনে নিয়ে ট্রিপের শেষ রাত থেকে শুরু করে কাল রাতের তৃষার চিল্লানো পর্যন্ত সব ঘটনা একনাগাড়ে বলে দিল।
সব শুনে হিয়া রেগে আগুন হয়ে গেল। ও ডিরেক্ট বলল, "তৃষা আপু একটা আস্ত স্বার্থপর! ছোটবেলা থেকে দেখেশি তোর যা পছন্দ, ওটার ওপরই ও চোখ দেয়। তুই সাইকেল কিনলি, ওকেও সেম সেম কিনতে হলো। তোর ড্রেসআপ, তোর স্টাইল সবকিছুতে তোর সাথে ও কম্পিটিশন করবে। কেন রে ভাই? আমার বান্ধবী কি ওনার মাথায় বসে নাচছে যে সারাক্ষণ তোর পেছনে লেগে থাকতে হবে?"
ইমা হিয়ার মুখ চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল, "আরে চুপ কর! কেউ শুনে ফেলবে। ও যতই হোক আমার বোন। ও আরিমান স্যারকে পছন্দ করে জানার পরও আমি এভাবে সেলফিশ হতে পারি না।"
হিয়া ইমার হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল, "কিসের সেলফিশ শুনি? তুই আর আরিমান স্যার দুজনে দুজনকে লাইক করিস, এটা হলো আসল কথা। আর সবচেয়ে বড় কথা—তৃষা আপু খুব ভালো করেই জানে যে স্যার তোকে পছন্দ করে। সব জেনেও সে কেন স্যারের পেছনে ঘুরঘুর করে আমি বুঝি না। আস্ত একটা ছ্যাচরা মেয়ে!"
"কার কথা বলছিস রে হিয়া?"
হঠাৎ পেছন থেকে তৃষার চড়া গলা শুনে দুজনেই চমকে উঠল। তৃষা কখন যে ওদের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে, ওরা টেরই পায়নি! হিয়ার তো ভয়ে এক্কেবারে কাঁচুমাচু অবস্থা, ও একদম থতমত খেয়ে গেল।
ইমা কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করার জন্য বলল, "আরে আপু, তেমন কিছু না। আমাদের এক ক্লাসমেটের কথা বলছিলাম। তুমি এখানে হঠাৎ? কোনো প্রবলেম?"
তৃষা ইমার দিকে একটু সন্দেহী চোখে তাকিয়ে বলল, "না, আমার ক্লাস শেষ হলো তো। ভাবলাম বাসায় যাব, তোর ক্লাস শেষ হলে একসাথেই যাই।"
হিয়া তৃষার মতলবটা চট করে ধরে ফেলল। ও ভাবল, এই ডাইনিটা নিশ্চয়ই মনে মনে ভাবছে আরিমান স্যার যদি ইমাকে গাড়িতে ড্রপ দেয়, তবে সেও সেই লিফটে ফ্রিতে ঢুকে স্যারের পাশে বসবে! হিয়া চট করে বানিয়ে বলল, "আরে তৃষা আপু, ইমার তো এখনো দুটো ক্লাস বাকি আছে। স্যার আজকে একটু লেট করে আসছেন।"
তৃষা একটু অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, "ও আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে আমি একাই যাই।" ও চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। ইমা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মাথা নাড়ল।
তৃষা কিছুটা দূরে যেতেই হিয়া মুখ বাঁকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "দেখলি? ডাইনি একটা! বেশ ভালো করেই বুঝেছিলাম ও কেন এসেছে। আরিমান স্যার তোকে ড্রপ দিলে ও লিফট নেওয়ার জন্য ওত পেতে ছিল।"
ইমা হিয়ার পিঠে একটা মৃদু চাপড় দিয়ে হেসে বলল, "চুপ করবি এবার? চল, অনেকদিন তোর সাথে ফুচকা খাওয়া হয় না। ফুচকা গিলে আসি, তাহলে যদি তোর ওই তপ্ত মাথাটা একটু ঠাণ্ডা হয়!"
তীব্র রোদের মধ্যে ক্যাম্পাসের পেছনের ফুচকার দোকানে গিয়ে দাঁড়াল দুই বান্ধবী। ইমা প্লেট হাতে নিয়ে বেশ আয়েশ করে একটা বড় ফুচকা যেই না মুখে পুরতে যাবে, ঠিক তখনই একটা কালো রঙের চেনা গাড়ি এসে ওদের ঠিক সামনে কড়া ব্রেক কষল!
গাড়ির গ্লাসটা নামতেই ভেতরের ড্রাইভিং সিটে চশমা পরা গম্ভীর মুখের আরিমানকে দেখা গেল। স্যারকে এই অবস্থায় হঠাৎ সামনে দেখে ইমার ফুচকা গলায় আটকে যাওয়ার দশা হলো! ও বিষম খেয়ে কাশতে লাগল। হিয়া তাড়াহুড়ো করে ইমাকে পানি খাওয়াতে গিয়ে আরিমানের কড়া চাউনি দেখে নিজেই এত ভড়কে গেল যে, পানির অর্ধেকটা ইমার জামার ওপরই ঢেলে দিল!
ওদের এই কাণ্ডকারখানা দেখে আরিমান চোখ থেকে চশমাটা নামিয়ে গম্ভীর, ভারী গলায় ধমক দিয়ে বলল, "এই ভরদুপুরে ক্লাস বাংক দিয়ে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাওয়া হচ্ছে? এক মিনিটের মধ্যে যদি তোমাদের দুজনকে আমার গাড়িতে না দেখি, তবে ইন্টার্নালের মার্কস কিন্তু জিরো হয়ে যাবে!"
স্যারের কড়া ধমক শুনে আর কোনো কথা বলার সাহস হলো না। ইমা আর হিয়া বাধ্য হয়ে গুটিগুটি পায়ে গাড়ির দিকে এগোল। হিয়া তাড়াহুড়ো করে পেছনের সিটের দরজা খুলে ধপাস করে ভেতরে ঢুকতে গেল। কিন্তু ও খেয়ালই করেনি যে পেছনের সিটে অলরেডি একজন আধশোয়া হয়ে বসে ছিল! হিয়া সোজা গিয়ে পড়ল সেই ছেলেটার গায়ের ওপর! ছেলেটা আর কেউ নয়, কাল রাতের সেই মই ধরা হেল্পার শাওন! হিয়া আচমকা ওর ওপর আছাড় খেয়ে পড়তেই শাওন দুই হাত বুকে চেপে ধরে আর্তনাদ করে উঠল, "মা গো! গেলাম রে! কলিজাটা এক্কেবারে ভেঙে গেল!"
হিয়া চরম লজ্জায় চটপট করে নিজেকে সোজা করে উঠে বসল। ছেলেটার দিকে তাকিয়ে জিব কেটে বলল, "আই অ্যাম সো সো সরি ভাইয়া! আমি আসলেও আপনাকে খেয়াল করিনি।"
"ভাইয়াাা?!" শাওন যেন আকাশ থেকে পড়ল। ও নিজেকে ঠিক করতে করতে বড় বড় চোখে হিয়ার ফুটফুটে মুখের দিকে তাকাল। হিয়ার টানা টানা চোখ আর লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া মুখটা দেখে শাওন এক হাত বুকে রেখে বিড়বিড় করে উঠল, "ওয়াও! পরি ইজ কাম টু মাই হার্ট!
শাওনের এমন ফ্লার্ট করার স্টাইল দেখে সামনে থেকে আরিমান আয়নায় তাকিয়ে জোরে ধমক দিল, "শাওন! অনেক হয়েছে, এবার সামনে এসে বোস।"
শাওন ঠোঁট উল্টে পেছনের সিট থেকে ডিঙিয়ে সামনের সিটে গিয়ে বসল ঠিকই, কিন্তু ওর মন আর চোখ দুটো পড়ে রইল পেছনের সিটে বসা হিয়ার দিকে। ও বারবার লুকিং গ্লাসে হিয়ার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপ মারার চেষ্টা করতে লাগল, আর হিয়া বিরক্তিতে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল।
এদিকে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে আরিমান গম্ভীর গলায় ইমা আর হিয়াকে আচ্ছা করে লেকচার দিতে শুরু করল—কীভাবে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে রোদে ফুচকা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, আর স্টুডেন্টদের লাইফে ডিসিপ্লিন কতটা জরুরি। ইমা পেছনের সিটে চুপচাপ বসে আরিমানের ওই গম্ভীর মুখের বকঝকা শুনছিল আর মনে মনে ভাবছিল—যে লোকটা কাল রাতে ১০০ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে মই বেয়ে বাসর আর ৩ বাচ্চার গল্প করতে পারে, সে আজ ক্লাসরুমের প্রফেসরের মতো এত নীতিবাক্য আউড়াচ্ছে কীভাবে?
লুকিং গ্লাসে আরিমানের চোখ ইমার চোখের সাথে মিলতেই আরিমান চোখ সরিয়ে নিল। স্যারের এই দুই রকম রূপ দেখে ইমা স্তব্দ হয়ে বসে রইল।
গাড়ি চলছে ঢাকার জ্যাম ঠেলে, আর গাড়ির ভেতরের পরিবেশটা তখন দেখার মতো! সামনে ড্রাইভিং সিটে গম্ভীর মুখে স্টিয়ারিং ধরে আছেন প্রফেসর আরিমান সিকদার। ওনার পাশে বসা শাওন পেছনের সিটে বসা হিয়ার দিকে তাকানোর জন্য ছটফট করছে। একবার লুকিং গ্লাসে তাকায়, একবার ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে দেখার চেষ্টা করে। ওর এই বাঁদরামিতে আরিমান বিরক্ত হয়ে ড্রাইভিং সিট থেকে একটা কড়া কুইক লুক দিতেই শাওন একটু সোজা হয়ে বসল। কিন্তু ওর মুখ তো বন্ধ থাকার পাত্র নয়! আমেরিকায় এত বছর কাটিয়ে এই প্রথম কোনো বাঙালি মেয়েকে দেখে ওর বুকের ভেতর 'লাভ অ্যালার্ম' বেজে উঠেছে।
শাওন হঠাৎ পেছনের দিকে পুরোপুরি ঘুরে বসে দাঁত বের করে এক গাল হেসে বলল, "হাই হিয়া! আই অ্যাম শাওন। আরিমানের চাইল্ডহুড ফ্রেন্ড। বাই দ্য ওয়ে, তোমার নামটা কিন্তু ভীষণ কিউট, জাস্ট লাইক ইউ!"
হিয়া জানালার বাইরে তাকিয়ে ফুচকা খাওয়ার পর পানির দাগ লাগা ওড়নাটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছিল। শাওনের এই ডিরেক্ট ফ্লার্টিং শুনে ও একবার চোখ তুলে তাকাল। তারপর চরম ভাব নিয়ে, কোনোমতে একটা কৃত্রিম হাসি দিয়ে বলল, "থ্যাংক ইউ।"
ব্যস, ওইটুকুই বলেই ও আবার জানালার বাইরে মুখ ফিরিয়ে নিল, যেন শাওন নামের কোনো অস্তিত্বই এই গাড়িতে নেই।
পাত্তা না পেয়ে শাওন দমে যাওয়ার পাত্র নয়। ও আরিমানের দিকে তাকিয়ে একটু উসখুস করে আবার হিয়ার উদ্দেশ্যে বলল, "আচ্ছা হিয়া, তুমি কি সবসময়ই এত চুপচাপ? মানে, আমার গায়ের ওপর যেভাবে 'ল্যান্ড' করলে কালপ্রিটের মতো, আমি তো ভেবেছিলাম এটলিস্ট আমার হার্ট অ্যাটাক হলো কি না সেটা জিজ্ঞেস করবে! ইউ নো, আমার লেফট সাইডের পাঁজর এখনো হালকা পেন হচ্ছে।"
হিয়ার এবার মেজাজটাই চড়ে গেল। ও সোজা শাওনের চোখের দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বলল, "দেখুন মিস্টার শাওন, আমি আপনাকে প্রথমে 'সরি' বলেছি। আর আপনি যেভাবে মাঝ সিটে নবাবের মতো শুয়ে ছিলেন, ওটা কোনো প্যাসেঞ্জার সিট ছিল না। সো, দোষটা আপনারও ছিল। আর আপনার পাঁজরে ব্যথা হলে প্লিজ কোনো ডক্টরের কাছে যান, আমাকে বলে তো লাভ নেই!"
হিয়ার এমন কড়া আর ধারালো জবাব শুনে ইমা পেছনের সিটে বসে মুখ চেপে হাসছিল। শাওন নিজের গালে হাত দিয়ে করুণ মুখে আরিমানকে বলল, "দোস্ত, তুই আমার বন্ধু নাকি শত্রুর? একটু হেল্প করবি তা না, উল্টো রাগি লুক দিচ্ছিস ! আর হিয়া... তুমি তো দেখছি জাস্ট কিউট নও, এক্কেবারে ফায়ার!"
হিয়া এবার আর কোনো উত্তর না দিয়ে কানে ইয়ারফোন গুঁজে দেওয়ার ভান করল। শাওন এবার ইমার দিকে তাকাল সাহায্য পাওয়ার আশায়, "ইমা ভাবি... আই মিন, ইমা! তোমার ফ্রেন্ডকে একটু বলো না, আমি কিন্তু অতটা খারাপ ছেলে নই। জাস্ট একটু ফ্রেন্ডলি হতে চাচ্ছি।"
'ভাবি' শব্দটা শুনতেই ইমার কান-মুখ লাল হয়ে গেল। ও চট করে আরিমানের দিকে তাকাল। আরিমান শাওনের মাথায় একটা হালকা গাট্টা মেরে বলল, "শাওন, পেছনের সিটে শান্ত হয়ে বোস। ড্রাইভিংয়ে ডিস্টার্ব হচ্ছে। আর বেশি কথা বললে তোকে মাঝরাস্তায় নামিয়ে দেব।"ওরা আমার স্টুডেন্ট "।
শাওন এবার সিটে পিঠ ঠেকিয়ে মুখটা বাংলা পাঁচের মতো করে বসে রইল। তবে ও মনে মনে ঠিক করে নিল—এই 'ফায়ার' মেয়েটার মন ও জয় করেই ছাড়বে।
গাড়ি যখন ইমাদের বাসার গলির মুখে এসে পৌঁছাল, তখন হঠাৎ ইমা দেখল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তৃষা। ওর হাতে বাজারের ব্যাগ, হয়তো ফুফুর সাথে কোথাও বের হবে। তৃষাকে দেখেই ইমার বুকের ভেতর আবার ভয়ের কাঁপন শুরু হলো। কাল রাতের ঝগড়ার পর আজ যদি তৃষা ওদের একসাথে আরিমানের গাড়ি থেকে নামতে দেখে, তবে তো তুলকালাম হয়ে যাবে!
ইমা তাড়াহুড়ো করে আরিমানকে বলল, "স্যার! স্যার, গাড়িটা প্লিজ এখানেই থামান। আমরা এখান থেকেই নেমে হেঁটে চলে যেতে পারব।"
আরিমান তৃষাকে দেখতে পেয়েও গাড়ি না থামিয়ে একদম ওদের বাড়ির মেইন গেটের সামনে এনে ব্রেক কষল। ও শান্ত গলায় বলল, "লুকিং গ্লাসে দেখলাম তোমার পায়ে এখনো হালকা টান লাগছে। এই রোদে হেঁটে যাওয়ার কোনো দরকার নেই। নামো।"
তৃষা গাড়ির আওয়াজ পেয়ে ঘুরে তাকাল। আর যখন ও দেখল গাড়ির পেছনের দরজা খুলে ইমা আর হিয়া নামছে, আর ড্রাইভিং সিটে স্বয়ং আরিমান সিকদার বসে আছে, তখন তৃষার চোখ দুটো রাগে আর হিংসায় জাস্ট জ্বলে উঠল। ও বাজারের ব্যাগটা শক্ত করে ধরে হনহন করে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।