ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমিই আমার হৃদয়হরণী

৭ম পর্ব

লেখক: আশু

#তুমিই_আমার_হৃদয়হরণী পর্ব-৭

#লেখিকা_আশু

তৃষা যখন হনহন করে গাড়ির দিকে এগিয়ে আসছিল, ওর মুখের অবয়ব তখন রাগে আর হিংসায় একদম কুঁচকে গেছে। ইমা গাড়ি থেকে নেমে কোনোমতে সোজা হয়ে দাঁড়াতেই তৃষা বাজারের ব্যাগটা এক পাশে ছুড়ে ফেলে চড়া গলায় বলে উঠল, "বাহ রে ইমা! পায়ে চোটের বাহানা দিয়ে তিন দিন ধরে ঘরে বসে নাটক করলি, আর আজ কলেজের ক্লাস বাংক করে প্রফেসরের গাড়িতে ঘুরে বেড়াচ্ছিস? তোর লজ্জা করে না?"

তৃষার এত জোরে বলা কথাটা আশেপাশের গলিটার দু-চারজন মানুষের কানেও গেল। ইমা লোকলজ্জায় আর অপমানে একদম মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল। ও নিচু গলায় বলল, "আপু, প্লিজ আস্তে কথা বল। তুই যা ভাবছিস তা নয়—"

"আমি যা দেখছি, সেটাই ঠিক ভাবছি!" তৃষা ইমাকে কথা শেষ করতে না দিয়ে আরও তেতে উঠল, "ছোটবেলা থেকেই তোর এই এক স্বভাব, সব জায়গায় নিজেকে ভিকটিম সাজিয়ে সবার অ্যাটেনশন নেওয়া! কাল রাতেও তোকে নিয়ে যা দেখলাম, আর আজ দিনে দুপুরে স্যারের গাড়িতে—"

"তৃষা!"

হঠাৎ গাড়ির দরজা খোলার একটা ভারী শব্দের সাথে সাথে আরিমানের কড়া আর গম্ভীর কণ্ঠস্বর পুরো গলির বাতাসকে যেন স্তব্ধ করে দিল। আরিমান গাড়ি থেকে নেমে এসে ইমার ঠিক সামনে এসে দাঁড়াল যেন কোনো এক বিশাল দেওয়াল ইমাকে আগলে ধরল। আরিমানের চোখ দুটো চশমার আড়াল থেকে তখন বসের মতো ধারালো আর বরফশীতল দেখাচ্ছিল।

আরিমান তৃষার দিকে তাকিয়ে এক চুলও না হেসে অত্যন্ত ঠান্ডা কিন্তু থমথমে গলায় বলল, "কথা বলার সময় নিজের শব্দচয়ন আর গলার ভলিউম দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখা শিখুন। আপনি কার সাথে, কী বিষয়ে কথা বলছেন, সেটা বোধহয় ভুলে গেছেন।"

আরিমান সিকদারের ওমন রুক্ষ আর প্রফেশনাল রূপ দেখে তৃষা মুহূর্তের মধ্যে দমে গেল। ও আমতা আমতা করে বলল, "না মানে স্যার... ইমা তো ক্লাস না করে আপনার গাড়িতে—"

"ইমা ক্লাস বাংক করেনি, ও ল্যাবের একটা জরুরি কাজে আমার সাথে ডিপার্টমেন্টাল প্রজেক্টের সাইনিংয়ে গিয়েছিল। আর ওর পায়ে যে গুরুতর ইনজুরি, সেটা একজন রেসপন্সিবল টিচার হিসেবে আমি খুব ভালো করেই জানি। সো, ইটস মাই রেস্পন্সিবিলিটি। কিন্তু আমার অবাক লাগছে এটা দেখে যে, নিজের বোন অসুস্থ শরীর নিয়ে বাইরে বের হয়েছে দেখে আপনার মুখে কোনো চিন্তার রেখা নেই, উল্টো রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাকে অপমান করছেন? এই আপনার ফ্যামিলি ভ্যালুজ?"

আরিমানের এই কড়া আর যৌক্তিক জবাব শুনে তৃষার মুখটা একদম চুন হয়ে গেল। গলিভর্তি মানুষের সামনে ও যেভাবে ইমাকে ছোট করতে চেয়েছিল, স্যার সেটা ওর দিকেই ঘুরিয়ে দিলেন।

পেছন থেকে হিয়া তখন তৃষার এই অপমানিত মুখ দেখে মনে মনে চরম তালি বাজাচ্ছিল। আর শাওন গাড়ির জানালার কাচ নামিয়ে ফিসফিস করে হিয়াকে বলল, "দেখেছ ফায়ার গার্ল? আমার দোস্ত যখন ফর্মে আসে, তখন প্রতিপক্ষ এক্কেবারে ক্লিন বোল্ড!" হিয়া এবার আর শাওনকে পাত্তা না দিয়ে পারল না, ও মুখ টিপে মৃদু হাসল।

আরিমান তৃষার দিক থেকে নজর সরিয়ে ইমার দিকে তাকাল। ওর চোখের সেই রাগ মুহূর্তেই গলে গিয়ে এক অদ্ভুত নরম চাউনিতে রূপ নিল। ও মৃদু স্বরে ইমাকে বলল, "ইমা, বাসায় যাও। আর রোদে একদম হাঁটবে না। বাকিটা আমি দেখছি।"

ইমা কৃতজ্ঞ চোখে আরিমানের দিকে একবার তাকিয়ে মাথা নাড়ল। হিয়া ইমার হাত ধরে আলতো করে বাড়ির গেটের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। তৃষাও আর ওখানে দাঁড়ানোর মুখ না পেয়ে বাজারের ব্যাগটা কুড়িয়ে নিয়ে ইমাদের পেছনে পেছনে গটগট করে ভেতরে চলে গেল।

ওরা ভেতরে ঢুকতেই আরিমান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গাড়িতে গিয়ে বসল। শাওন তখন ড্রাইভিং সিটের পাশে বসে আরিমানের কাঁধে চাপড় দিয়ে বলল, "বস! জাস্ট ফাটিয়ে দিয়েছিস! বেয়াদব আপুর তো এক্কেবারে মুখ বন্ধ!"

আরিমান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে একটা বাঁকা হাসি হেসে বলল, "আমার 'হৃদয়হরণী'র গায়ে কেউ আঁচড় কাটবে, আর এই আরিমান সিকদার সেটা দাঁড়িয়ে দেখবে? অসম্ভব ব্রো! তুই বরং এখন গাড়িটা ইমেইডিয়েটলি ইরফানের অফিসের দিকে নে। ওর সাথে একটা জরুরি কথা আছে।"

"জরুরি কথা? মানে কীসের কথা দোস্ত?" শাওন কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল।

আরিমান চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করতে করতে বলল, "৩ টা বাচ্চার ফ্যামিলি প্ল্যানিং যখন করেই ফেলেছি, তখন শুভ কাজটা আর দেরি করে লাভ কী? ইরফানের সাথে আজই অফিশিয়ালি কথা বলব।"

শাওন বললো,"বাহ তলে তলে আপনারা এতদূর চলে গিয়েছেন।বাইরে থেকে তোহ্ মনে হয় কেউ কাউকে চিনেনই না"

শাওনের কথার টোন ছেড়ে আরিমান বললো,,"তুই যাবি নাকি তোকে রাস্তায় নামিয়ে আমি যাবো?"

"আরে যাচ্ছি ভাই,কী তাড়া বিয়ের জন্য।"

বলেই শাওন হাসতে লাগল।আরিমান আর পাল্টা প্রতুত্তর করলো না।

তৃষার ওই ঝামেলার পর ইমা ভেবেছিল পরিস্থিতি হয়তো ধীরে ধীরে শান্ত হবে। কিন্তু ক্যাম্পাসে পা রাখতেই ও বুঝতে পারল, পরিস্থিতি শান্ত হওয়া তো দূরের কথা—একদম উল্টো মোড় নিয়েছে। আর সেই মোড়টার নাম ‘আরিমান সিকদারের বরফশীতল নীরবতা’।

যে মানুষটা কদিন আগেও ইমাকে একটু দেখার জন্য, ওর সাথে দুটো কথা বলার জন্য ছটফট করত, ক্লাসের ফাঁকে কিংবা করিডোরে দেখা হলে চশমার আড়াল থেকে রহস্যময় এক চিলতে হাসি দিত—সেই মানুষটাই এখন ইমাকে পুরোপুরি ইগনোর করা শুরু করেছে। ইমা ক্লাসে ঢুকলে আরিমান স্যার এখন আর ওর দিকে তাকানও না। রোল কল করার সময় ‘রোল টুয়েন্টি ওয়ান’ নামটা অত্যন্ত যান্ত্রিক আর গম্ভীর গলায় উচ্চারণ করে সোজা ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে ঘুরে যান। ইমা যদি পড়া না পেরে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে, আগে যেখানে স্যার মিষ্টি করে ধমক দিতেন বা শাসন করতেন, এখন সেখানে কেবল এক পলক শূন্য চোখে তাকিয়ে বলেন, "সিট ডাউন।" ওনার সেই চাউনিতে কোনো রাগ নেই, কোনো অধিকার নেই, কেবল আছে এক বুক উদাসীনতা।

এই হঠাৎ বদলে যাওয়াটা ইমার মনকে একদম দুমড়ে-মুচকে দিচ্ছিল। ও প্রতিদিন ভার্সিটিতে আসে এক বুক আশা নিয়ে—আজ হয়তো স্যার আগের মতো করে ‘ইমু’ বলে ডেকে উঠবেন, হয়তো করিডোরে একা পেয়ে বলবেন, ‘কী রে হৃদয়হরণী, পায়ের ব্যথা কমল?’ কিন্তু না! দিন যায়, সপ্তাহ ঘোরে, আরিমান স্যারের এই ইগনোর করার দেওয়ালটা আরও শক্ত হয়। ইমা একনাগাড়ে ক্লাসের পেছনের বেঞ্চে বসে ওনার ফর্সা, গম্ভীর মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে আর ওর বুকের ভেতর একটা তীব্র মন খারাপের মেঘ জমতে থাকে। ও বুঝতে পারে, এই খিটখিটে লোকটার অবহেলা ও কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছে না।

এদিকে ইমা যখন মন খারাপের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে, তখন আরিমান সিকদার কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে নেই। ও বাইরে যতটা উদাসীনতার ভান করে আছে, ভেতরে ভেতরে ও ইমার জন্য নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় আর নিখুঁত প্ল্যানটা সাজাচ্ছে। ও খুব ভালো করেই জানে, ইমা মনে মনে ওকে ভালোবাসলেও সমাজ, পরিবার কিংবা কোনো এক অজানা দ্বিধার কারণে নিজেকে গুটিয়ে রাখছে। তাই আরিমান ঠিক করেছে, এবার আর কোনো লুকোচুরি নয় এক্কেবারে মোক্ষম আঘাতেই ইমার মনের সব দেওয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে।

প্রতিদিন ক্লাস শেষ করে আরিমান সোজা চলে যায় শাওনের ফ্ল্যাটে। সেখানে ইরফান, শাওন আর আরিমান—তিন বন্ধু মিলে চলে গোপন মিটিং।

শাওন কফি কাপে চুমুক দিয়ে বলল, "দোস্ত, তুই যেভাবে ক্যাম্পাসে ভাবি... আই মিন ইমাকে ইগনোর করছিস, বেচারির মুখটা কিন্তু দিন দিন শুকিয়ে আমসি হয়ে যাচ্ছে। আমার তো দেখেই মায়া লাগে! বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলছিস না তো?"

আরিমান চশমাটা টেবিলের ওপর রেখে একটা রহস্যময় হাসি হাসল, "কষ্ট না দিলে কি আর ভালোবাসার গভীরতা বোঝা যায়, শাওন? ও যত আমার অবহেলায় ছটফট করবে, তত ও নিজের ভেতরের ফিলিংসটা পরিষ্কার বুঝতে পারবে। তাছাড়া, আমি তো আসল ধামাকাটা জমা রাখছি ওর বাইশতম জন্মদিনের জন্য। ওই দিন ও চাইলেও আর ‘না’ বলতে পারবে না।"

ইরফান ল্যাপটপ থেকে মুখ তুলে বলল, "তা প্ল্যান কতদূর এগোল, আরিমান? রুফটপ রেস্তোরাঁটা কিন্তু বুক করা ডান। ফুফু আর বড় চাচাকেও আমি অলরেডি আগেই রাজি করিয়ে ফেলেছি। ওনারা তো তোকে জামাই হিসেবে পেয়ে এখনই মনে মনে আল্লাদ আটখানা!"

আরিমান চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বলল, "সব পারফেক্ট হতে হবে, ইরফান। আলো, মিউজিক, ইমার পছন্দের লাল গোলাপ—সবকিছু যেন রূপকথার মতো হয়। ওই দিন আমি সবার সামনে অফিশিয়ালি ওর হাতটা ধরব।"

দেখতে দেখতে কেটে গেল আরও বেশ কিছুদিন। আরিমানের এই সাজানো প্ল্যানিংয়ের মাঝেই হুট করে একটা অঘটন ঘটে গেল। ইমার জন্মদিনের ঠিক আগের দিন রাতে, ইরফানের ঘরের ফোনের মেসেজ ঘেঁটে এই পুরো সারপ্রাইজ প্রপোজালের কথা জেনে গেল তৃষা। আরিমান যে ইমাকে এতটা গভীরভাবে ভালোবাসে এবং কালই তাকে নিজের বউ করে নেওয়ার জন্য আংটি পরাবে—এটা জানার পর তৃষার ভেতরের হিংসা আর পাগলামি এক ভয়ংকর, পৈশাচিক রূপ নিল।

রাত তখন প্রায় বারোটা।

ইমা নিজের রুমে বিছানায় বসে ফোনের দিকে তাকিয়ে ছিল। ও মনে মনে ভীষণ ছটফট করছিল—বারোটা বাজার সাথে সাথে আরিমান কি ওনার এই কদিনের নীরবতা ভেঙে ওকে একটা মেসেজ পাঠাবে? ও কি প্রথম উইশটা ওনার কাছ থেকেই পাবে?

ঠিক তখনই ঝড়ের বেগে ইমার ঘরের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল তৃষা। ওর চুলগুলো উস্কোখুস্কো, চোখ দুটো লাল হয়ে আছে, আর ডান হাতে ধরা একটা কাচের ছোট শিশি। শিশির গায়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা—'বিষ'।

তৃষাকে এই মূর্তিতে দেখে ইমা বিছানা থেকে ধড়ফড় করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "আপু! কী হয়েছে তোর? হাতে ওটা কী?"

তৃষা দরজাটা ভেতর থেকে দড়াম করে লক করে দিয়ে ইমার সামনে এসে দাঁড়াল। ও কাঁপতি গলায়, হিংস্রভাবে হেসে বলল, "খুব আনন্দ হচ্ছে না রে ইমা? কাল তোর জন্মদিন, আর কালই আরিমান ভাইয়া সবার সামনে তোকে বিয়ের প্রপোজাল দেবে? আংটি পরাবে? তুই ওনার বউ হবি?"

ইমা পুরো আকাশ থেকে পড়ল, "ত-তুই এসব কী বলছিস আপু? তোকে কে বলল?"

"আমি সব জেনে গেছি!" তৃষা হুট করে বিষের শিশিটার মুখ খুলে নিজের মুখের কাছে ধরল, "তোর ওই সুন্দর স্বপ্ন আমি কালকে এক সেকেন্ডে শ্মশান বানিয়ে দেব। ইমা, তুই খুব ভালো করেই জানিস আমি আরিমান ভাইয়াকে কতটা ভালোবাসি! অথচ তুই আমার চোখের সামনে থেকে ওনাকে কেড়ে নিচ্ছিস?"

ইমা দুই হাত বাড়িয়ে তৃষাকে থামানোর চেষ্টা করে কেঁদে ফেলল, "আপু, তুই প্লিজ পাগলামি করিস না! ওটা নিচে নামা। তুই যা ভাবছিস তা নয়—"

"কোনো কথা শুনব না!" তৃষা চিৎকার করে উঠল, "যদি কালকের দিনটা তুই শান্তিতে পার করতে চাস, তবে তোকে একটা কাজ করতে হবে। কাল আরিমান ভাইয়া যখন সবার সামনে তোকে প্রপোজ করবে, তুই ওনাকে সবার সামনে চরম অপমান করে ওনার প্রপোজাল রিজেক্ট করবি! ওনাকে বলবি, ওনার মতো খিটছিটে, বয়সে বড় প্রফেসরের তোর দিকে তাকানোর যোগ্যতাও তার নেই! তুই ওনাকে ঘেন্না করিস! মনে থাকে যেন—চরম অপমান করবি। যদি তুই কাল ওনাকে ‘না’ না করিস, তবে এই ভরা মজলিশে তোর জন্মদিনের দিন আমি এই বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব! আর সুইসাইড নোটে লিখে যাব—তোর আর আরিমান ভাইয়ার জন্য আমি মরেছি!"

তৃষার এই ভয়ংকর হুমকি শুনে ইমার পায়ের তলা থেকে যেন মাটি সরে গেল। ও ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে তৃষার হাতটা ধরার চেষ্টা করল, "আপু, তুই এত স্বার্থপর কীভাবে হতে পারিস? আমি ওনাকে ভালোবাসি রে আপু! তুই আমার নিজের বোন হয়ে আমার জীবনটা এভাবে ধ্বংস করতে পারিস না!"

"বোন?" তৃষা ঠোঁট বেঁকিয়ে কুৎসিত হাসল, "আমার ভালোবাসার সামনে কোনো বোন-টোন নেই। সিদ্ধান্ত তোর—তোর ওই প্রফেসরের ভালোবাসা চাস, নাকি আমার লাশ চাস? যদি ওনাকে অপমান করে না বলিস, তবে কাল আমি সত্যিই মরে যাব!"

তৃষা বিষের শিশিটা উঁচিয়ে ধরে ইমাকে দেওয়ালে চেপে ধরল। ইমা কান্না করতে করতে একদম ভেঙে পড়ল। ও একদিকে আরিমানের ওই নিষ্পাপ, গভীর ভালোবাসা আর অন্যদিকে নিজের বোনের জীবনের ঝুঁকি—এই দুয়ের মাঝে পড়ে এক্কেবারে অসহায় হয়ে গেল। ও খুব ভালো করেই জানে, তৃষা কতটা সাইকো; ও চাইলে সত্যিই নিজেকে শেষ করে দিতে পারে। অন্যদিকে আরিমানের ক্যারিয়ার, ওনার সম্মান। আর বোনের জীবন বাঁচাতে ইমা শেষ পর্যন্ত নিজের বুকটা পাথর বানিয়ে নিল।

ও চোখ বন্ধ করে, কান্না করতে করতে মাথা নেড়ে বলল, "ঠিক আছে... আমি করব। আমি কাল ওনাকে সবার সামনে অপমান করে তাড়িয়ে দেব। তুই প্লিজ এটা ফেলে দে আপু... প্লিজ!"

তৃষা বিজয়ের হাসি হেসে বিষের শিশিটা পকেটে পুরল এবং রুম থেকে বের হয়ে গেল। আর ইমা ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসে দুই হাতে মুখ ঢেকে ডুকরে কেঁদে উঠল।খোদা এ কেমন পরীক্ষায় ফেলল ওকে? যে মানুষটার একটুখানি অবহেলা ও সহ্য করতে পারছিল না, কাল তাকেই নিজের হাতে সবার সামনে অপমান করে দূরে ঠেলে দিতে হবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন