ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমিই আমার হৃদয়হরণী

৯ম পর্ব

লেখক: আশু

#তুমিই_আমার_হৃদয়হরণী পর্ব-৯

#লেখিকা_আশু

ইমাদের বাড়ির মেইন কাঠের দরজাটা কোনো এক প্রচন্ড ধাক্কায় কব্জি থেকে ভেঙে ভেতরের ফ্লোরে এসে পড়ল! সেই বিকট শব্দে বসার ঘরের প্রতিটি মানুষ চমকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল।

ধুলো আর অন্ধকারের কুয়াশা ভেদ করে দরজার চৌকাঠে এসে দাঁড়াল এক বিশাল অবয়ব। ওনার পেছনে কালো স্যুট পরা চার-পাঁচজন বিদেশি বডিগার্ড, যাদের প্রত্যেকের কোমরে রিভলভার জ্বলজ্বল করছে।

ভেতরে প্রবেশ করলেন আরিমান সিকদার!

পরনে নেভি ব্লু কালারের থ্রি-পিস স্যুট, চোখে সেই চিরচেনা চশমা। আরিমান ধীর কিন্তু ভারী পায়ে বসার ঘরের মাঝখানে এসে দাঁড়ালো। ওর বুটের আওয়াজ পুরো ঘরে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। ওর শীতল চোখ দুটো সোজা গিয়ে পড়ল সোফায় কনে সেজে বসে থাকা ইমার ওপর।

ভাঙা দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে থাকা আরিমানকে দেখার পর ইমার চোখের সামনের পুরো পৃথিবীটা যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তিনটে বছর... দীর্ঘ এক হাজার পঁচিশটা দিন ও রাত ইমা যে তীব্র অপরাধবোধ, অবহেলা আর ভালোবাসার আগুনে তুষের মতো পুড়েছে, সেই আগুনের অবসান ঘটল এক নিমেষে। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটার চোখে এখন মায়া নেই, ঠোঁটে সেই চটপটে ‘ইমু’ ডাক নেই, শরীর থেকে বের হচ্ছে এক তেজ কিন্তু ইমার কাছে এই মানুষটাই ওর আরিমান। ওর জীবনের একমাত্র আশ্রয়।

ইমা আর নিজেকে এক মুহূর্তও আটকে রাখতে পারল না। কে কী ভাবল, সমাজ কী বলবে, পাশে বসা পাত্রপক্ষ কিংবা বাড়ির লোকজন কী রিয়্যাক্ট করবে—কোনো কিছুর তোয়াক্কা ও করল না। ও সোফা থেকে এক ঝটকায় উঠে দাঁড়িয়ে শাড়ির কুচি সামলানোরও চেষ্টা করল না। একছুটে, তীব্র এক আকুলতা নিয়ে ও দৌড়ে গিয়ে আরিমানের শক্ত বুকের ওপর আছড়ে পড়ল। দুই হাতে আরিমানের স্যুটটা খামচে ধরে ও ওনার বুকে মুখ গুঁজে ডুকরে কেঁদে উঠল। ইমার চোখের তপ্ত জল আরিমানের দামি নেভি ব্লু স্যুটের কাপড় ভিজিয়ে দিতে লাগল। ইমা কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগল, "আমি জানতাম... আমি জানতাম আপনি আসবেন।..."

কিন্তু আরিমান তখনো সম্পূর্ণ নির্বিকার দাঁড়িয়ে। ওর শরীরটা একটা পাথরের মূর্তির মতো শক্ত হয়ে আছে। ইমার এই আকুল জড়িয়ে ধরা ওর পাথুরে মনে কোনো আলোড়ন তুলতে পারল না। আরিমান ওর দুই হাত কোটের পকেটের মাঝেই রেখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ওর চোখ দুটো তখনো বরফশীতল, ঠোঁটের কোণে এক তাচ্ছিল্যের হাসি। ইমা অঝোরে চোখের জল ফেলছে আরিমানের বুকে, যেন ও নিজের সব হারানো অধিকার ফিরে পেয়েছে।

ঠিক তখনই ঘটল সেই অভাবনীয় ঘটনা। আরিমান হঠাৎ পকেট থেকে নিজের হাত বের করে এক ঝটকায় ইমাকে ওনার বুক থেকে টেনে সরাল। ইমা কিছু বুঝে ওঠার আগেই, তীব্র আক্রোশে ইমার গালে এক শক্ত চড় কষিয়ে দিল আরিমান!

চড়ের শব্দে পুরো বসার ঘর যেন কেঁপে উঠল। চড়ের চোটে ইমা ব্যালেন্স সামলাতে না পেরে ছিটকে গিয়ে শক্ত ফ্লোরে পড়ে গেল। ওর গালটা মুহূর্তের মধ্যে লাল হয়ে ফুলে উঠল, ঠোঁটের কোণ ফেটে এক ফোঁটা রক্ত গড়িয়ে পড়ল।

আরিমান ওর হাতের রিভলভারটা পকেটে পুরে ইমার দিকে তাকিয়ে হিংস্র গলায় বলে উঠল, "নাটক বন্ধ কর, ইমা! একজনের জীবন ধ্বংস করে তোর বুঝি এখনো তৃপ্তি হয়নি? এখন আবার আরেকজনকে নিজের বলির পাঁঠা বানাচ্ছিস? তুই ভেবেছিস তুই এভাবে অন্য কারো গলায় মালা দিয়ে সুখে সংসার করবি, আর আমি ইতালিতে বসে নিজের প্রতিশোধ না নিয়ে তোকে জাস্ট এভাবে ছেড়ে রাখব? খুব ভুল ভেবেছিস তুই!"

ইমা ফ্লোরে পড়ে গিয়ে নিজের লাল হয়ে যাওয়া গালে হাত দিল। ও আরিমানের দিকে তাকাল। ওর চোখে এখন তীব্র ঘৃণা আর প্রতিশোধের আগুন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ইমার চোখে কোনো রাগ বা অভিমান ফুটল না। ও জানত, তিন বছর আগে ও আরিমানকে যে পরিমাণ আঘাত করেছিল, এই চড়টা তার তুলনায় কিছুই নয়। ইমা চোখ দিয়ে জল ফেলতে ফেলতে মেঝে থেকেই আরিমানের দিকে তাকিয়ে বলল, "যা শাস্তি দেওয়ার দিবেন, আপনি আমাকে মেরে ফেললেও আমি সব মাথা পেতে নিব। তবুও... তবুও আর আমাকে এভাবে ফেলে যাবেন না। আমাকে আপনার সাথে নিয়ে যান।"

আরিমান একটা কুৎসিত, বাঁকা হাসি হেসে বলল, "ফেলে যাওয়ার জন্য আসিনি আমি।"

আরিমান ধীর পায়ে এগিয়ে এলো। ও ফ্লোর থেকে ইমার নরম হাতের কবজিটা এত জোরে চেপে ধরল যে ইমা ব্যথায় ককিয়ে উঠল। ও ইমাকে টেনে হিঁচড়ে দাঁড় করিয়ে একদম ওনর নিজের গায়ের সাথে লেপ্টে নিল। তারপর ইমার কানের কাছে নিজের মুখটা এনে অত্যন্ত নিচু, ফিসফিসে কিন্তু মেরুদণ্ড কাঁপানো গলায় বলল, "নিতে এসেছি তোকে। তোর জন্য আমি ইতালিতে এক জীবন্ত নরকখানা তৈরি করেছি, ইমা। এবার চল, সেই নরকের আগুনে পুড়বি।"

ইমা একটু ভয়ে, চমকে উঠে তাকাল। ও এক অন্য আরিমানকে দেখছে এখন। যার মুখে কোনো দয়া নেই, যার স্পর্শে কোনো মায়া নেই, আছে কেবল এক হিংস্র আক্রোশ।

আরিমান এবার ইমাকে নিজের পেছনে সরিয়ে সবার সামনে এসে দাঁড়াল। বসার ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ওনার বডিগার্ডদের দিকে ইশারা করে কাজি সাহেবের সামনে গিয়ে বসল। আরিমান অত্যন্ত কড়া আর গম্ভীর গলায় বলল, "কাজি সাহেব, খাতার নামটা বদলান। এই মেয়েকে আমি বিয়ে করব। এখন, এই মুহূর্তে।"

ইমার জন্য আসা পাত্রপক্ষ, বিশেষ করে সেই ডাক্তার বর এতক্ষণ সোফায় বসে কাঁপছিল। আরিমানের পেছনে দাঁড়ানো বিশালদেহী, অস্ত্রধারী বিদেশি গার্ডদের দেখে ওনারা টু শব্দ করার সাহসও পেলেন না। বরের বাবা ইশারা করতেই ডাক্তার বর সোফা থেকে উঠে একছুটে মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে গেল। পাত্রপক্ষ কোনো কথা না বাড়িয়ে লেজ গুটিয়ে ওখান থেকে কেটে পড়ল।

অন্যদিকে, বাড়ির সবাই—বড় চাচা, ফুফু, এমনকি ইমার মা-ও কেউ একটা কোনো কথা বলার সাহস পেল না। আরিমান সিকদারের বর্তমান রূপ আর ওনার ক্ষমতা সম্পর্কে ওনারা সবাই অবগত। ওনার সাথে লাগতে যাওয়া মানে নিজেদের বংশ নির্বংশ করা, এটা সবাই বুঝতে পেরেছিল।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো। আরিমান নিজেই কাজি সাহেবের সামনে বসল। দেনমোহরের জায়গায় মাত্র একশ টাকা বসিয়ে দিল। কাজি সাহেব কাঁপাকাঁপা গলায় ইমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আমাতুল ইমা চৌধুরী, আপনি কি আরিমান সিকদারকে..."

ইমা এক সেকেন্ডও দেরি না করে, চোখ দিয়ে জল ফেলতে ফেলতে বলল, "কবুল।"

আরিমান ওনার গম্ভীর, শীতল কণ্ঠে তিনবার বলল, "কবুল, কবুল, কবুল।"

বিয়ের সিনটা ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত। একপাশে ভাঙা দরজা, চারদিকে থমথমে বডিগার্ডদের কড়া পাহারা, আর তার মাঝখানে লাল-গোলাপি শাড়ি পরা এক কনে আর কালো স্যুটের এক বর। কোনো বাদ্যবাজে নেই, কোনো আনন্দ নেই, কিন্তু এক তীব্র গম্ভীর আবহের মাঝে দুজনে এক সুতোয় বাঁধা পড়ে গেল। আরিমান পকেট থেকে একটা কালো রঙের হিরের আংটি বের করে ইমার অনামিকায় জোর করে পরিয়ে দিল। ওটা ভালোবাসার আংটি ছিল না, ওটা ছিল বন্দিত্বের প্রতীক।

বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই আরিমান ইমার দিকে তাকিয়ে বলল, "চল।"

ইমা যখন সোফা থেকে উঠতে গেল, তখনই ঘটল বিপত্তি। তিন বছর আগে পায়ে যে চোট লেগেছিল, সেই পুরনো চোটটা আজ এই তীব্র মানসিক চাপ আর ফ্লোরে আছাড় খাওয়ার কারণে আবার চাড়া দিয়ে উঠেছে। ও এক পা বাড়াতেই পায়ে তীব্র টান লাগল এবং ও ফ্লোরে পড়ে যেতে নিল। ও হাঁটতে পারছিল না।

আরিমান এটা দেখে আর কোনো কথা বলল না। ও এক ঝটকায় ইমাকে নিজের দুই বাহুর মাঝে তুলে নিল। কোলে তুলে নেওয়ার সাথে সাথে ইমা এক তীব্র আবেশে নিজের চোখ দুটো বুজে ফেলল। ও নিজের দুই হাত দিয়ে আরিমানের গলাটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ও ওনার কোলের ভেতর নিজের মুখটা লুকিয়ে এক অদ্ভুত শান্তি পেল, যেন এতদিনের সব ঝড় এই কোলে এসে শেষ হয়েছে।

দূর থেকে একটা কোণায় দাঁড়িয়ে তৃষা তখন আরিমানের এই রূপ দেখে ভয়ে কাঁপছিল। ও নিজের ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধরে বিড়বিড় করে দোয়া-দরূদ পড়ছিল যেন ইমা মুখ ফসকেও আরিমানকে ওর বিষ খাওয়ার হুমকির কথা না বলে দেয়। আরিমান যদি একবার জানতে পারে যে তৃষার কারণে ইমা ওনাকে রিজেক্ট করেছিল, তবে আরিমান তৃষাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে, সেটা তৃষা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছিল।

এদিকে ইমা কোনো কথাই আওড়াচ্ছিল না। ও শুধু আরিমানের বুকের ধকধকানিটা শোনার চেষ্টা করছিল।

ইরফান এতক্ষণ দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সবটা দেখছিল। ও তো নিজেই আরিমানকে মেসেজটা পাঠিয়েছিল। ও জানত আরিমান ঠিক এই কাজটাই করবে। ওদের যাওয়ার পানে তাকিয়ে ইরফান ভারী গলায় বলল, "নিয়ে যাচ্ছিস যা, আরিমান। আমি তোকে বাধা দেব না। তবে জেনে রাখিস—ও আজ থেকে শুধু তোর বন্দি নয়, ও তোর স্ত্রী, তোর সহধর্মিণী। ওর জীবনের সব ভালো-মন্দের দায়িত্ব এখন থেকে তোর।"

আরিমান মেইন গেটের ভাঙা চৌকাঠে এক পা ফেলে থামল। ও পেছনের দিকে না তাকিয়েই ওনার সেই গম্ভীর মাফিয়া ভয়েসে বলল, "হ্যাঁ, পুরোটাই আমার দায়িত্ব।" এই কথা বলেই ও ইমাকে কোলে নিয়ে গটগট করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কালো রঙের মার্সিডিজ গাড়িতে ইমাকে বসিয়ে ও নিজেও পাশে বসল। গাড়ি স্টার্ট নিয়ে সোজা এয়ারপোর্টের দিকে ছুটে চলল।

পরদিন সকাল।

ইতালির মিলান শহরের এক বিশাল, রাজকীয় কিন্তু গুমোট প্রাসাদের মতো ভিলা। চারদিকে কালো কাচের দেওয়াল, ভেতরে আধুনিক সব আসবাবপত্র থাকলেও পুরো বাড়িটাতে কোনো প্রাণের স্পন্দন নেই।

আরিমান ইমাকে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি নিজের পার্সোনাল জেটে করে ইতালির এই ভিলার একটা অন্ধকার, বিশাল মাস্টার বেডরুমে এনে এক ঝটকায় ফ্লোরে ছুঁড়ে ফেলল। ইমা শাড়ির আঁচল সামলে মেঝেতে বসে পড়ল। আরিমান দরজাটা ভেতরের দিকে দড়াম করে বন্ধ করে লক করে দিল।

ইমা ভয়ের চোটে এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে রইল। ও দেখতে পেল, ওনার সামনে একটা বিশাল কাচের টেবিল। আরিমান ওনার কোটটা খুলে একপাশে ছুঁড়ে ফেলল। ওনার শার্টের ওপরের দুটো বোতাম খুলে ও টেবিলের ওপর থেকে একটা দামি মদের বোতল আর এক প্যাকেট সিগারেট টেনে নিল।

ইমা ভয়ের চোটে কাঁপতে লাগল। ও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এ কোন আরিমান? যে মানুষটা বাংলাদেশে থাকতে মুখে কোনোদিন সিগারেট নেয়নি, ওনার সামনে কেউ ধূমপান করলে উনি রেগে যেতেন—সে আজ নিজের হাতে লাইটার জ্বালিয়ে সিগারেটে একটা লম্বা টান দিল! ওনার মুখ থেকে বের হওয়া সাদা ধোঁয়া পুরো রুমটাকে এক ভয়ংকর রূপ দিল। আরিমান একহাতে সিগারেট আর অন্যহাতে মদের গ্লাস নিয়ে সোফায় বসল। ও একটার পর একটা মদের পেগ গিলতে লাগল আর সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে লাগল।

মদ পান করতে করতে আরিমান হঠাৎ নিজের পরনের শার্টের বাকি বোতামগুলো একে একে খুলতে লাগল। ওর ফর্সা, চওড়া বুকটা উন্মুক্ত হয়ে গেল, যেখানে বিজনেসের শত্রুদের দেওয়া দু-একটা কাটার দাগ স্পষ্ট। ইমা আর ভয়ে কথা বলতে পারল না, ও নিজের মুখটা দুই হাত দিয়ে চেপে ধরল। ওর এই শরীরী তেজ আর বন্য রূপ ইমাকে একাধারে আতঙ্কিত করছিল।

খানিক বাদে আরিমান গ্লাসটা টেবিলে ঠকাস করে নামিয়ে রেখে সোজা ইমার মুখের সামনে এসে ফ্লোরে বসল। ওর মুখ থেকে তখন অ্যালকোহল আর কড়া তামাকের গন্ধ বের হচ্ছে। আরিমান ইমার থুতনিটা নিজের শক্ত আঙুল দিয়ে চেপে ধরে ওনার মুখটা ওপরে তুলল। ওর চোখ দুটো তখন মদের নেশায় আর আক্রোশে লাল হয়ে আছে।

আরিমান ইমার মুখের খুব কাছে নিজের ঠোঁট এনে ফিসফিস করে বলল, "কী করা যায় বল তো? ওহ... তুই তো এখন আমার আইনি বউ। তোর শরীরের আর তোর জীবনের ওপর এখন আমার একচ্ছত্র অধিকার। সো, এখন তোর সাথে যা খুশি তাই করা যায়, রাইট?"

এরপর...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন