ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমিই আমার হৃদয়হরণী

১৯তম পর্ব

লেখক: আশু

#তুমিই_আমার_হৃদয়হরণী পর্ব-১৮

#লেখিকা_আশু

মালদ্বীপের নীল সমুদ্র আর স্নিগ্ধ রোদের মায়াময় স্মৃতি পেছনে ফেলে বিকেলে ঢাকায় ফিরল পুরো সিকদার পরিবার। এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময়ও ইমার মনে কোনো সংশয় ছিল না। ও ভেবেছিল, চার বছর আগের তিক্ততা হয়তো সময়ের সাথে ফিকে হয়ে গেছে, কিংবা আরিমান সিকদার অতীতকে পেছনে ফেলে শুধুই বর্তমানকে আঁকড়ে ধরেছে। ইমা মোটেও টের পায়নি যে ওদের ঢাকা ফেরার পথেই গোপনে রচনা হয়ে গেছে এক বিষাক্ত চক্রান্তের সমূল উৎপাটন।

ইরফান যখন মালদ্বীপে থাকার সময়ই আরিমানের ফোনে একটা সংক্ষিপ্ত মেসেজ পাঠিয়েছিল, তখনই আরিমানের বিশ্বস্ত সাইবার সিকিউরিটি টিম কাজে নেমে পড়েছিল। ইরফান মেসেজে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, "আরিমান, তোদের চার বছরের এই বিচ্ছেদের পেছনে কোনো পারিবারিক অমত ছিল না, ছিল তৃষার নোংরা ব্ল্যাকমেইল। ইমাকে আর নরক যন্ত্রণায় দেখতে পারছিলাম না বলেই সব সত্যি তোকে জানালাম।"

মেসেজ পাওয়ার পরপরই আরিমান তৃষা ও ইমার পুরনো মোবাইল নেটওয়ার্ক হিস্ট্রি, ডিলিট হওয়া অডিও ফাইল এবং বিশেষ করে চার বছর আগের সেই অভিশপ্ত রাতের কল রেকর্ড উদ্ধার করায়। সেই ভয়েস রেকর্ডে তৃষার হিংস্র গলায় স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল—

"ইমা! তুই যদি আজ রাতের মধ্যে আরিমান সিকদারকে রিজেক্ট না করিস, তবে আমি এখনই পুরো এক শিশি বিষ মুখে ঢালব! আত্মহত্যা করার আগে সুইসাইড নোটে লিখে যাব যে তুই আর তোর আরিমান মিলে আমাকে মানসিকভাবে তছনছ করেছিস! আমার মৃত্যুর দায়ভার আরিমান নিতে পারবে তো? ওর ইমেজের কী অবস্থা হবে ভাবিস! তুই কি চাস আমার লাশের ওপর দাঁড়িয়ে তুই আরিমানের সাথে প্রেম করবি?না চাইলে এখনই রিজেক্ট করবি"

নিজের প্রাণপ্রিয় বোন তৃষাকে বিষ খেয়ে মরার হাত থেকে বাঁচাতে, ওর জীবনের নিরাপত্তা দিতেই ইমা সেদিন অশ্রু সজল চোখে আরিমানকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। আর সেই ভালোবাসার বিসর্জনকথা চার বছর ধরে গোপনে নিজের বুকে পাথর চাপা দিয়ে রেখেছিল ইমা।

সন্ধ্যা ৭:৩০ টা,

সিকদার ভিলায় জমকালো গেট-টুগেদার পার্টি।

মালদ্বীপ ট্রিপ থেকে নতুন বর-বউ এবং পরিবারের সবাইকে মিষ্টিমুখ করানোর উসিলায় বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ মানুষদের নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল। ড্রয়িংরুমে ঝাড়বাতির মিষ্টি আলো জ্বলছে।

ইমা পরেছে একটা গাঢ় নীল রঙের ভারী কাজ করা জর্জেট শাড়ি। পরনে একদম শালীন, পিঠ ও পেট সম্পূর্ণ আবৃত ম্যাচিং ব্লাউজ। গলায় ও কানে হালকা ডায়মন্ডের সেট। চুলে একটা নিচু খোঁপা। ইমাকে অপূর্ব সুন্দর লাগছিল।

তৃষাও এসেছে। ও একটা দামী ডিজাইনার শাড়ি পরে, মুখে মিষ্টি ভাব এনে সবার সাথে কথা বলছিল। তৃষা ভেবেছিল, আরিমান তো এখনো সত্য জানে না। তাই নিজের সুচতুর অবস্থান বজায় রাখতে ও বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ড্রয়িংরুমে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

এমন সময় ড্রয়িংরুমের মাঝখানে এসে দাঁড়াল আরিমান সিকদার। পরনে কুচকুচে কালো স্যুটে ওকে কোনো এক হিংস্র সিংহের মতো লাগছিল। ওর গলার আওয়াজ হঠাৎ করেই গম্ভীর হয়ে উঠল, "লেডিস অ্যান্ড জেন্টলমেন, আমাদের আজকের এই পার্টির মূল আকর্ষণ কিন্তু শুধু মালদ্বীপ ট্রিপের গল্প নয়। আজ চার বছর ধরে জমা হয়ে থাকা একটা বড় মিথ্যার পর্দা ফাঁস হতে চলেছে।"

সবাই অবাক হয়ে আরিমানের দিকে তাকাল। ইমা নিজেও কপালে সূক্ষ্ম ভাঁজ ফেলে আরিমানের দিকে এগোতে চাইল, কিন্তু ইরফান ইমার বাহু ধরে ওকে থামিয়ে দিল।

আরিমান নিজের পকেট থেকে একটা ছোট রিমোট বের করে ড্রয়িং রুমের বিশাল প্রজেক্টর স্ক্রিনের দিকে তাক করল। মুহূর্তের মধ্যে প্রজেক্টর অন হয়ে গেল এবং স্পিকারে উচ্চ শব্দে বাজতে শুরু করল চার বছর আগের সেই ভয়েস রেকর্ড!

তৃষার সেই হিংস্র, হুমকিভরা গলা পুরো ড্রয়িংরুমে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করল—

"...আমি এখনই পুরো এক শিশি বিষ মুখে ঢালব! আত্মহত্যা করার আগে সুইসাইড নোটে লিখে যাব যে তুই আর তোর আরিমান মিলে আমাকে মানসিকভাবে তছনছ করেছিস!..."

ড্রয়িংরুমের বাতাস এক মুহূর্তে থমকে গেল। উপস্থিত অতিথি, ইমার বাবা-মা, তৃষার বাবা-মা—সবার মুখ হা হয়ে গেল।

রেকর্ড শেষ হতেই প্রজেক্টরে ভেসে উঠল তৃষার ইমাকে কিছু পাঠোনো বিষাক্ত টেক্সট মেসেজের স্ক্রিনশট।

তৃষার হাতের ওয়াইনের গ্লাসটি মেঝেতে পড়ে ভেঙে খানখান হয়ে গেল! ও ভয়ে আর রাগে থরথর করে কাঁপতে লাগল। ওর ধূর্ত মুখটা মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে সাদা কাগজের মতো ধারণ করল।

ইমা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। ও আরিমানের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলল, "আ... আরিমান! এসব কী? আপনি... আপনি তৃষা আপুর জীবনটা এভাবে সবার সামনে নরক বানালেন কেন?"

আরিমান এক কদম এগিয়ে এলো। ওর চোয়াল শক্ত, চোখে এক ভয়ানক ধ্বংসাত্মক দৃষ্টি। ও ইমার দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় গর্জে উঠল, "আমার আর তোর জীবনটা যে চারটে বছর ধরে নরক বানালো, তাকে তো আমি কোনোদিন ছেড়ে দিতে পারি না ইমা! আমি ওকে জ্যান্ত মেরেই ফেলব আজ!"

আরিমানের ওই রাক্ষসে চোখ দেখে তৃষা ভয়ে পেছাতে লাগল। আরিমান ধীর পায়ে তৃষার দিকে এগোতেই ইমা ছুটে গিয়ে আরিমানের হাত দুটো শক্ত করে চেপে ধরল।

ইমার চোখ দিয়ে অঝোরে জল ঝরছিল। ও কেঁদে উঠে বলল, "না আরিমান! প্লিজ থামুন! তৃষা আপু ভুল করেছে,... কিন্তু ও তো আমার বোন! আমার নিজের রক্ত! আপনি ওকে ক্ষমা করে দিন, প্লিজ!"

ইমার কাঁপা কাঁপা হাত আর চোখে পানির বিন্দু দেখে আরিমানের ভেতরের সেই ভয়ংকর ভাবটা এক মুহূর্তে স্তব্ধ হয়ে গেল। ও ইমার চোখের জলের দিকে তাকাল। ইমার এই সহজ-সরল দয়াপূর্ণ স্বভাবটাই তো

আরিমানকে চার বছর ধরে পাগল করে রেখেছিল।

আরিমান দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের রাগটা দমন করল। ও তৃষার দিকে রক্তচক্ষু উঁচিয়ে কড়া বরফশীতল গলায় বলল, "তোর ভাগ্য ভালো মিসেস তৃষা রায়হান, যে ইমা আজ তোর জীবন ভিক্ষা চাইল! কিন্তু মনে রাখবি, আজ এই মুহূর্তের পর থেকে আর কোনোদিন যেন তোর নোংরা মুখটা আমার বা ইমার সামনে না আসে! যদি আবার কোনোদিন তোকে ইমার আশপাশেও দেখি, তবে আমি তোকে নিজ হাতে খুন করব!"

তৃষা ভয়ে আর অপমানে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছিল। ও কাঁপতে কাঁপতে নিজের থুতনি চেপে ধরে চোখ নিচু করে রাখল। ঠিক তখনই ইমার বাবা ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে এলেন। ওনার চোখে চরম ঘৃণা। উনি তৃষার দিকে তাকিয়ে কড়া গলায় বললেন, "তোকে নিজের মেজো মেয়ের মতো ভালোবেসেছিলাম তৃষা! তুই আমাদের বিশ্বাসের পেছনে এভাবে ছুরি মারলি? তোর মতো বিষাক্ত মেয়েকে আমরা আর নিজেদের আত্মীয় বলে পরিচয় দিতেও লজ্জা পাচ্ছি!"

তৃষার নিজের বাবা-মাও লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়ালেন। তৃষার বাবা গম্ভীর গলায় বললেন, "তোর মতো অকৃতজ্ঞ সন্তান ঘরে রাখার চেয়ে না থাকা ভালো। আজ থেকে সিকদার পরিবার আর আমাদের পরিবারের দরজা তোর জন্য চিরতরে বন্ধ!"

তৃষা দিশেহারা হয়ে চারদিকে তাকাচ্ছিল। এমন সময় ইরফান সামনে এসে দাঁড়াল। ইরফানের চেহারায় কোনো দয়া ছিল না। ও তৃষার দিকে আঙুল তুলে বলল, "সবটা আমিই আরিমানকে বলেছি, তৃষা! তোকে অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তোর লোভ দিন দিন বাড়ছিল, সেদিনও সিড়ির মাঝে তেল ঢেলেছিস ইমার পা ভাঙতে আমি দেখেছি সবটা,তুই কত নিকৃষ্ট, তোকে বোন ভাবতেও লজ্জা হয় । আরকেদিকে আমার বোন ইমাকে আর একটা সেকেন্ডের জন্যও তোর দেওয়া নরক যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখতে পারছিলাম না। তাই আজ তোকে টেনে হিঁচড়ে তোর আসল রূপটা সবার সামনে আনলাম। এখন বেরিয়ে যা এখান থেকে! আর কোনোদিন এই সিকদার ভিলার ভিটেতে পা দিবি না!"

সবার চরম অপমান, ঘৃণা আর ধিক্কারে তৃষা আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াতে পারল না। ও নিজের শাড়ির আঁচল চেপে ধরে কাঁদতে কাঁদতে প্রায় দৌড়ে পার্টি ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

ড্রয়িংরুমের পরিবেশটা থমথমে হয়ে রইল। অতিথিরা গুঞ্জন করতে করতে বিদায় নিলেন। ইমার বাবা-মা ইমাকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইলেন এবং সান্ত্বনা দিয়ে নিজেদের রুমে চলে গেলেন। ধীরে ধীরে একে একে সবাই যে যার রুমে চলে গেল, পুরো বাড়িতে নেমে এলো এক ভারী নীরবতা।

রাত ১১:৩০ টা।

আরিমান ও ইমার বেডরুমের স্লাইডিং ডোরটা খোলা। বাইরে থেকে হালকা মিষ্টি হাওয়া ব্যালকনি চিরে ঘরে প্রবেশ করছে। ঘরের আলোগুলো নিভিয়ে কেবল বেডসাইড ল্যাম্পের আবছা হলুদ আলো জ্বেলে রাখা হয়েছে।

ইমা ব্যালকনির রেলিং ধরে একা দাঁড়িয়ে ছিল। ওনার চোখের কোণে এখনো হালকা অশ্রুর দাগ লেগে আছে। চার বছরের জমানো সত্যটা আজ এভাবে সবার সামনে আসবে, তা ও কল্পনাও করেনি। বোনের এমন পরিণতি দেখে ওর মনটা কিছুটা খারাপ লাগলেও, আরিমানের আত্মত্যাগ আর ভালোবাসা ভেবে ওর বুক ভালোবাসায় ভরে যাচ্ছিল।

হঠাৎ পেছন থেকে দুটি শক্ত ও উষ্ণ বাহু ইমার কোমর জড়িয়ে ধরল। আরিমান ওর বুকের সাথে ইমাকে শক্ত করে সেঁটে নিল। ও ইমার ঘাড়ে নিজের থুতনি রেখে এক গভীর নিঃশ্বাস ফেলল।

"এখনো কাঁদছিস, আমার হৃদয়হরণী?" আরিমানের ভেলভেট টোনের কণ্ঠ ইমার কানের লতিতে কাঁপন ধরাল।

ইমা উল্টো ঘুরে আরিমানের শার্টের কলারটা দুই হাতে আঁকড়ে ধরল। ও আরিমানের চওড়া বুকে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "আমি কাঁদছি না... আমি শুধু ভাবছি, আপনি চারটে বছর আমার এই মিথ্যা প্রত্যাখ্যান সহ্য করে কীভাবে বেঁচে ছিলেন? আপনি আমাকে কতটা ভালোবাসেন আরিমান?"

আরিমান ইমার গাল দুটি নিজের চওড়া হাতের তালুতে তুলে নিল। ল্যাম্পের মিষ্টি আলোয় ইমার ফর্সা মুখটা অপ্সরার মতো দেখাচ্ছিল।

আরিমান ইমার কপালে পরম ভালোবাসায় ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল, "তুই যেদিন আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলিস, সেদিন আরিমান সিকদারের ভেতরের হাসিখুশি মানুষটা মরে গিয়েছিল ইমু। ইতালির ওই বিশাল ভিলার বদ্ধ ঘরে বসে আমি শুধু তোর আসার অপেক্ষায় দিন গুনেছি। তুই আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অক্সিজেন। তুই ছাড়া এই পুরো পৃথিবী আমার কাছে অর্থহীন।"

ইমার চোখে আবার জল এসে গেল। ও টিপটিপ পায়ে একটু উঁচু হয়ে আরিমানের গভীর কালো চোখে নিজের ঠোঁট দুটো আলতো করে ছুঁইয়ে দিল। "আমি আর কোনোদিন আপনাকে ছেড়ে যাব না আরিমান। কোনো ভয়, কোনো হুমকি আর আমাকে আপনার থেকে আলাদা করতে পারবে না।"

আরিমানের ঠোঁটের কোণে এক মায়াবী ও বিজয়ী হাসি ফুটে উঠল। ও আর এক সেকেন্ডও দেরি করল না। ইমাকে অনায়াসে শূন্যে কোলে তুলে নিয়ে সোজা হেঁটে গেল বিশাল কিং সাইজ বেডের দিকে।

ইমা লজ্জায় আরিমানের গলার সাথে নিজের মুখটা পুরোপুরি লুকিয়ে ফেলল। আরিমান ইমাকে নরম বিছানায় শুইয়ে দিল। শাড়ির গাঢ় নীল রঙে ইমাকে রাতে ফোটা এক নীল পদ্মের মতো লাগছিল। আরিমান ধীর পায়ে বিছানায় উঠে এসে ইমার ওপর ঝুঁকে পড়ল। ওর চওড়া বুকের নিচে ইমার ছোট শরীরটা হারিয়ে যাচ্ছিল।

আরিমান ইমার কানের কাছে জমে থাকা এলোমেলো চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিয়ে বলল, "আজ আর কোনো কথা নয়, ইমু। চার বছরের বিরহের প্রতিটা সেকেন্ডের হিসেব আমি আজ রাতে তোর কাছ থেকে আদায় করে নেব।"

ইমা লজ্জায় নিজের চোখের পাতা দুটো বন্ধ করে ফেলল। গাল দুটো লজ্জায় রাঙা আপেলের মতো লাল হয়ে উঠল।

আরিমান ধীরগতিতে ইমার কপালে, গালে এবং থুতনিতে একের পর এক অনুভূতির পরশ এঁকে দিতে লাগল। ইমার হাতের আঙুলগুলো আরিমানের পিঠের ওপর শক্ত হয়ে বসে গেল। আরিমান ইমার ঠোঁটে নিজের তৃষ্ণার্ত ঠোঁট ডুবিয়ে দিল—এক গভীর, তৃষ্ণার্ত এবং সীমাহীন ভালোবাসার চুম্বনে।

ঘরের ভেতরের আবহাওয়ায় তখন এক মাতাল করা উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছিল। ব্যালকনি দিয়ে আসা মিষ্টি হাওয়া পর্দার আড়ালে লুকিয়ে পড়ছিল ওদের প্রেমের গভীরতা দেখে। চার বছরের দীর্ঘ বিচ্ছেদ, কষ্ট, আর ব্ল্যাকমেইলের কালচে ছায়া মুছে গিয়ে সেখানে কেবল জায়গা করে নিল দুটি ব্যাকুল আত্মার এক হয়ে যাওয়ার পরম আনন্দ।

আরিমান ইমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, "তুমি শুধুই আমার... আমার হৃদয়হরণী।"

ইমা আরিমানের বুকে আরও কিছুটা সেঁটে গিয়ে চোখ বুজে ফিসফিস করল, "আর আপনি শুধুই আমার আরিমান..."

রাতের আঁধার গড়িয়ে সকালের সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত, সিকদার ভিলার সেই বন্ধ ঘরে চলতে থাকল ওদের চার বছরের হারানো ভালোবাসার পূর্ণতার এক নতুন অধ্যায়।

চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন