ফন্ট সাইজ:
থিম:
তবুও তোমার প্রেমে আমি পড়েছি

পর্ব 9

লেখক: অধরা মিনহা

পুরো কলেজে ছড়িয়ে গেছে, আমার আর কলেজেরই প্রফেসর আলভী স্যারের মধ্যে নাকি প্রেম চলছে। পুরো কলেজজুড়ে এখন একটাই কানাঘুষা, একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নৌশি আর কলেজের নতুন প্রফেসর আলভী নাকি গতকাল বন্ধ রুমে অনৈতিক কাজ করেছে। কী বিশ্রী একটা কথা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো কলেজে!

নৌশি থ হয়ে বসে আছে বেঞ্চের ওপর। নিজের নামের সঙ্গে একজন প্রফেসরের নাম জুড়ে এমন কুৎসিত কথা শুনতে হবে, এটা সে কখনো কল্পনাও করেনি। অপমান, রাগ আর অসহায় ক্ষোভে নৌশি কিছুক্ষণের জন্য পাথর হয়ে গেছে। পুরো কলেজ আপাতত এই বিষয় নিয়েই ব্যস্ত।আর নৌশি চুপচাপ বসে আছে! তার পাশে বসে থাকা সাবা আর বসে থাকতে না পেরে উঠে দাড়িয়ে বলে,
— তুই এমন চুপ করে বসে থাকবি?

নৌশির চোখে এবার রাগ জ্বলে উঠে। ঠোঁট শক্ত করে দাঁত চেপে বলে,
— না। যে আমার নামে এসব রটিয়েছে, ওকে এক গামলা মুরগির পাতলা গু খাওয়াবো!

সাবা চিন্তিত মুখে বলে,
— চল, আমরা আগে আলভী স্যারের কাছে যাই। ওনার সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

নৌশি মাথা নেড়ে বলে,
— প্রয়োজন নেই। নৌশি একাই হ্যান্ডেল করতে পারবে তার ব্যাপার!

— এটা শুধু তোমার একার ব্যাপার না। ব্যাপারটাতে আমিও জড়িয়ে আছি। তাই আমার সঙ্গে বুঝেশুনে তারপর পদক্ষেপ নিবে!

কথাটা কানে পৌছাঁতেই সাবা এবং নৌশি দুজনেই পাশ ফিরে তাকায়। দেখে পেছনেই দাঁড়িয়ে আছেন আলভী স্যার। নৌশি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়। তারপর ঠান্ডা গলায় বলে,
— প্রয়োজন নেই। আমার নামের অপবাদ আমিই সরাবো, আর আপনি নিজের ব্যাপার নিজে সামলান।

বলেই নৌশি হাঁটা ধরে। কিন্তু কয়েক পা যেতেই পেছন থেকে আলভীর রাগী কণ্ঠ ভেসে এলো। এবার গলাটা বেশ জোরে।
— তুমি না বেশি বুঝো! আর আজ তোমার জন্যই কলেজে আমার রেপুটেশন নষ্ট হচ্ছে!

নৌশির পা থেমে যায়। ঘুরে দাঁড়ায়।
— কী? আমার জন্য? আমি কী করেছি?

আলভী বিরক্ত গলায় বলে,
— তুমি যদি কাল ওই রুমে না যেতে, এমনটা হতো না।

নৌশির চোখে বিস্ময় আর ক্ষোভ নিয়ে বলে,
— কাল আমি আপনাকে বলেছি, আমাকে একটা ছেলে মিথ্যা বলে পাঠিয়েছে! ভুল বুঝে সেখানে গেছিলাম আমি।

আলভী দৃঢ় কন্ঠে বলে,
— সে যাই হোক, আলটিমেটলি দায়ী তুমিই। তাই বেশি না বুঝে আমি যেটা বলি সেটা করো! চলো প্রিন্সিপালের কাছে....

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে থামিয়ে বলে,
— আপনি যান প্রিন্সিপালের কাছে। আমার মুখের বিচার হবে না। যে আমার নামে এসব মিথ্যা ছড়িয়েছে, তার মুখ না ভাঙা পর্যন্ত আমি শান্ত হবো না।

আলভী এবার ক্ষুব্ধ হয়ে বলে,
— তুমি এমন একটা ভাব করছো যেন সবচেয়ে বেশি তোমার সম্মান নষ্ট হয়েছে। অথচ তোমার থেকে বেশি রেপুটেশন আমার কলেজে। আর আমি ওই ছেলেকে ছেড়ে দিবো না, যে আমার নামে ওসব ছড়িয়েছে।

নৌশি তাচ্ছিল্যের হাসি হাসে। তারপর শান্ত কিন্তু ধারালো গলায় বলে,
— আমার থেকে তো আপনার সম্মানটা বেশি, তাই না? তাই আপনি জোরালো ফাইটিং করুন। যেহেতু আমার সম্মান কম কলেজে কিন্তু আমার আত্মসম্মান অনেক বেশি, তাই আমি নিজের মতো ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বলেই নৌশি চলে যেতে নেয়। কিন্তু পেছন থেকে আলভী দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে,
— এখন তো ওই ছেলেকে বেশি মারবো। আমার নামে ছড়ানোর ইচ্ছে থাকলে একটা একটা ভালো মেয়ের নামে আমাকে ছড়াতো! কিন্তু তোমার মতো থার্ড ক্লাস মেয়ের নামের সঙ্গে কেন ছড়িয়েছে!

কথাটা শুনে সাবা আর চুপ থাকতে পারে না। বিস্মিত কন্ঠে বলে,
— স্যার, এভাবে আপনি নৌশিকে বলতে পারেন না। আপনি নৌশিকে থার্ড ক্লাস বলার কে?

আলভী এবার চোখ তুলে সরাসরি সাবার দিকে তাকায়।
— নিজের অসভ্য ফ্রেন্ডের হয়ে একদম কথা বলবে না।

সাবা তবুও দমে না।
— স্যার, নৌশি অসভ্য না। আপনি ওকে উল্টো-পাল্টা কথা বলছেন! যেটার কোনো রাইটস নেই আপনার।

আলভী ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
— তোমার ফ্রেন্ডের ভাব দেখেছো? মনে হচ্ছে বিশ্ব সুন্দরী সে! তাই সে আমার সঙ্গে ভাব দেখাচ্ছে! শুনো, প্রফেসর মেহমেত হোসেন আলভী তোমার মতো মেয়েদের গুনায় ধরে না।

নৌশি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আলভীর দিকে তাকিয়ে বলে,
— আপনি সুন্দরের দিকে যাচ্ছেন কেন? আর আরেকটা কথা, আপনি গুনায় ধরেন কি ধরেন না, এইসব গুনায় ধরার সময় এই নৌশির নেই।

বলে নৌশি আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ায় না। সাবার হাত শক্ত করে ধরে সাবাকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে যায়। ক্লাসরুমের দরজা পেরিয়ে বাইরে আসতেই বুকের ভেতরের জমে থাকা রাগটা তরতরিয়ে বাড়তে থাকে। নৌশি দ্রুত পায়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। তারপর সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করে। এখন তার গন্তব্য কলেজের দ্বিতীয় বিল্ডিং। সেখানেই বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস হয়। কাল যে ছেলেটা নৌশিকে মিথ্যা বলে সেই বন্ধ রুমে যেতে বলেছিল, সে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সাবার থেকে জেনেছে।

নৌশিকে খুব বেশি কষ্ট করে সিঁড়ি বেয়ে দ্বিতীয় বিল্ডিংয়ে উঠতে হয় না। নিচে নামার পর বিল্ডিংটার কাছে পৌঁছাতেই তার চোখে পড়ে, প্রায় দশ-পনেরোটা ছেলে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছে। আর তাদের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছে সেই ছেলেটা। কাল যে নৌশিকে ওই রুমে যেতে বলেছিল। কিন্তু নৌশির চোখ আটকে গেল অন্য একজনের দিকে। ছেলেটা নৌশিকে দেখামাত্রই মুখে টেনে আনে বিশ্রী একটা হাসি। এবং মুহুর্তে নৌশি আর সাবা দুজনেই বুঝে গেল, নৌশির সঙ্গে এসব হওয়ার পেছনে আসল মানুষটা কে। ছেলেটার নাম তানজিম।

বড়লোক পরিবারের নষ্ট হয়ে যাওয়া ছেলে যাকে বলে, তানজিম ঠিক তেমনি। কলেজে যত ধরনের আওয়ারাগিরি আছে, সবই তার করা। প্রায় তিন মাস আগে তানজিম নৌশিকে প্রপোজ করেছিল। নৌশি সোজাসাপ্টা না করে দিয়েছিল। আর এখন সেটাই প্রতিশোধ নিয়েছে এভাবে। নৌশির চোখ রাগে লাল হয়ে উঠে। নৌশি সোজা তানজিমের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। চারপাশের ছেলেদের আড্ডা মুহূর্তেই থেমে যায়।

নৌশি দাঁতে দাঁত চেপে তানজিমের দিকে তাকিয়ে বলে,
— তুই করেছিস এমন, তাই না?

তানজিম ঠোঁট বাঁকিয়ে নৌশির দিকে তাকায়।
— আমি কী করলাম? করেছিস তো তুই! কালকে আলভী স্যারের সঙ্গে ফাঁকা রুমে মজা করেছিস। আমি তো তোকে ভালো ভাবছিলাম কিন্তু তুই তো রেটের মেয়ে!

কথাটা শুনতেই নৌশির মাথায় আগুন ধরে যায়। নৌশি এক পা এগিয়ে গিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— অমানুষের বাচ্চা! তোর জিব্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো!

তানজিমও এবার রেগে গেল। নৌশির দিকে এগিয়ে এসে বলে,
— কী করবি?

পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে হাতাহাতিতে গড়াতে পারে বুঝতে পেরে সাবা দ্রুত নৌশিকে টান মেরে কয়েক পা পিছিয়ে আনে। তারপর নিচু গলায় ফিসফিস করে বলে,
— কী করছিস নৌশি? আমরা দুইজন মেয়ে! ওরা এতজন ছেলে! ওরা আমাদের টাচ করলেই বেইজ্জতি!

নৌশি ক্ষোভে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,
— তো কী ছেড়ে দিবো? পুরো কলেজে আমার নামে কিসব ছড়িয়েছে!

তার কথা শেষ হওয়ার আগেই পেছন থেকে তানজিম আবার টিটকারি মেরে বলে উঠে,
— আমি প্রপোজ করলাম, মানা করে দিলি, আর স্যারের সঙ্গে একদম অন্ধকার ক্লাসরুমে শুয়ে গেলি? স্যারের টাকা আছে আর আমার বুঝি নেই? কত টাকা এক রাতের জন্য বল?

নৌশি ঘুরে দাঁড়ায়। রাগে চোখ দুটো আগুনের জ্বলছে।একবার তানজিমের দিকে ভস্ম করে দেওয়ার মতো তাকিয়ে আবার সাবার দিকে ফিরে। তারপর বলে,
— এসব বিশ্রী কথা শোনার পর তো ওকে ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।

— নৌশি, বুঝার চেষ্টা কর। কলঙ্ক কেবল মেয়েদের জন্য। আমরা বরং আলভী স্যারকে ডাকি। উনি এসে শায়েস্তা করবেন।

নৌশি ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
— কেন? আলভী স্যার কেন?

— পুরুষ মানুষ প্রয়োজন।

নৌশি এবার চুপ করে যায়। কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল। মনে হলো, কথাটা নিয়ে ভাবছে। তারপর হঠাৎই বলে,
— আলভী স্যার ট্যারের প্রয়োজন নেই। চল, আমার সঙ্গে।

বলেই নৌশি সাবার হাত ধরে তাকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে। পেছনে এখনো তানজিম আর তার দলবল দাঁড়িয়ে টিটকারি মারছে। একের পর এক কটু কথা ছুড়ে দিচ্ছে তাদের দিকে। কিন্তু নৌশি এবার আর পেছনে তাকায় না।সবকিছু উপেক্ষা করে সাবাকে নিয়ে সেখান থেকে চলে আসে। কিছুক্ষণ পর দুজন এসে ঢুকে কলেজের ওয়াশরুমে। সাবা অবাক হয়ে চারপাশে তাকিয়ে বলে
— এখানে কেন এসেছিস?

নৌশি একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলে,
— কল দিবো।

— কাকে?

— ওনাকে।

সাবা ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
— উনি আবার কে?

নৌশি আর কোনো উত্তর দেয় না। বিরক্ত মুখে মোবাইল বের করে নাম্বার চাপতে শুরু করে। রুদ্রিকের হসপিটালের নাম্বার তার মুখস্থ আছে। সেদিন হসপিটালে দেখেছিল। সেদিনই কোনোভাবে নাম্বারটা মুখস্থ হয়ে গেছিল। নাম্বার ডায়াল করতে করতে নৌশি বলে,
— যার দায়িত্বে আছি আমি!

সাবা বিরক্ত হয়ে বলে,
— হেয়ালি করছিস কেন?

নৌশি ফোন কানে লাগিয়ে বিরক্তি নিয়ে বলে,
— তুই কি গাধা নাকি ঘোড়ার ডিম? বিপদে পড়ার মুহূর্তে একটা বিবাহিত মেয়ে অবশ্যই তার অফিশিয়াল ভাতারকেই কল দিবে!

সাবার চোখ কপালে উঠে।
— তুই ডক্টর রুদ্রিককে কল দিয়েছিস?

— হ্যাঁ!

সাবা এবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
— তোর কি মনে হয় উনি আসবে? জীবনেও আসবে না। যেখানে উনি বিয়েই করেছেন রিভেঞ্জ নিতে, সেখানে তোর অপমানে ওনার কী আসে যায়? তার চেয়ে বরং আলভী স্যারকে....

সাবার কথা শেষ হওয়ার আগেই নৌশি তার মুখ চেপে ধরে। তারপর ফোনে বলে,
— হ্যালো? কল ধরতে এতক্ষণ লাগে?

ওপাশ থেকে ভদ্রস্বরে রুদ্রিকের কণ্ঠ ভেসে এলো,
— কে আপনি?

নৌশি নির্বিকার গলায় বলে,
— আপনার জোর করে তুলে এনে তিন কবুল পড়া ভাতারনি আমি!

কথাটা শুনে ওপাশের রুদ্রিক যে বেশ থতমত খেয়ে গেছে, সেটা তার কয়েক সেকেন্ডের নীরবতাতেই বোঝা গেল।তারপর সামান্য ধমকের সুরে রুদ্রিক বলে,
— ভদ্রভাবে কথা বলা যায় না, অসভ্য মেয়ে? আর এভাবে বারবার কল দিয়ে কেটে দিচ্ছো কেন?

নৌশি ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে,
— মিসকল দিচ্ছি, বুঝেন না? ছোট্ট খোকা নাকি?

রুদ্রিক এবার বিরক্ত গলায় বলে,
— মিসকল দিচ্ছো কেন?

— যাতে আপনি কল ব্যাক করেন আর আমার মোবাইলের টাকা বেঁচে যায়।

রুদ্রিক একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর বলে,
— কল দিয়েছো কেন? মিসকল মিসকল গেম খেলতে?

— না।

— তাহলে কেন কল দিয়েছো, তাড়াতাড়ি বলো! পেশেন্ট ওয়েট করছে।

নৌশি এবার একটু থেমে সিরিয়াস হয়ে বলে,
— কলেজে একটা ছেলে আমাকে উল্টো-পাল্টা কথা বলছে!

ওপাশ থেকে রুদ্রিকের নির্লিপ্ত উত্তর আসে,
— তো আমি কী করবো?

নৌশির চোখ বড় হয়ে যায়।
— আপনি কী করবেন মানে? আপনার বউকে খারাপ কথা বলেছে! আপনি ওদের হাড্ডি ভাঙবেন!

রুদ্রিক এবাী তাচ্ছিল্য করে বলে,
— আমার মতো খ্যাতিমান হার্ট সার্জন কিনা তোমার মতো মেয়ের জন্য কলেজে মারামারি করবে?

কথাটা নৌশির সম্মানে গিয়ে লাগে। এক মুহূর্তের মধ্যেই তার মুখ শক্ত হয়ে গেল। তারপর শান্ত গলায় বলে,
— আচ্ছা, ভুল হয়েছে আমার।

বলেই নৌশি কলটা কেটে দেয়। ফোন নামিয়ে বিরক্ত মুখে ভেংচি কাটে। সাবা সবটা দেখছিল। সে আগেই জানত এমনটাই হবে। তাই বলে,
— জানতাম উনি পাত্তা দিবেন না। বলছিলামও তোকে, কিন্তু তুই-ই শুনিসনি!

নৌশি ব্যঙ্গ করে বলে,
— সরি জ্যোতিষী আম্মা, আপনার কথা না শুনে। এখন আমাকে ক্ষেমা করে দিন।

সাবা সঙ্গে সঙ্গে মুখ গম্ভীর করে বলে,
— না, ক্ষেমা করবো না। আগে চল আলভী স্যারের কাছে। দেখবি, উনি ঠিকই একশন নিবেন। ওই তানজিমকে মেরে আলু ভর্তা বানাবেন।

নৌশি মাথা নেড়ে বলে,
— প্রয়োজন নেই। চল ক্লাসের দিকে। ক্লাস হয়তো শুরু হয়ে গেছে।

সাবা বুঝে যায়, নৌশি কোনোভাবেই আলভী স্যারকে কিছু বলবে না। এখন অকারণে তার কানের কাছে দাঁড়িয়ে চিৎকার করলেও লাভ নেই। নৌশি নিজের সিদ্ধান্তে একবার অনড় হলে তাকে নড়ানো কঠিন। তাই আর কথা বাড়ায় না সাবা। নৌশির কথামতো তার সঙ্গে ক্লাসরুমের দিকে হাঁটতে শুরু করে। হাঁটতে হাঁটতে নৌশির মাথার ভেতর রুদ্রিক ঘুরপাক খাচ্ছে। মনে মনে নৌশি রুদ্রিককে একের পর এক গালি দিতে থাকে। একটু সাহায্য চাইতে ফোন করেছিলাম, তাও কত ভাব! নিজেকে কী মনে করে লোকটা? খ্যাতিমান হার্ট সার্জন! ওনি আমার থু এর সার্জন! মনে মনে রুদ্রিককে ইচ্ছামড বকে অবশেষে ক্লাসরুমে এসে জায়গায় বসে নৌশি।

ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। নৌশি এবার জোর করে নিজের মনটা পড়াশোনার দিকে ফেরানোর চেষ্টা করে। কেটে গেল প্রায় বিশ-পঁচিশ মিনিট। স্যার বোর্ডের কাছে দাঁড়িয়ে ম্যাথ করাচ্ছেন। ক্লাসের সবাই মন দিয়ে খাতায় লিখছে। শুধু নৌশির খাতাটাই তার মনের মতো এলোমেলো। কখনো দু-এক লাইন লিখছে, আবার অনেকক্ষণ কলম থেমে থাকছে। আসলে সে খাতা খুলে লেখার ভান করে বসে আছে। কারণ না লিখলে স্যারের কাছে বকা খেতে হবে।তাই মাঝে মাঝে দু-একটা লাইন লিখছে, আবার কলম থামিয়ে চুপচাপ বসে থাকছে।

হঠাৎই ক্লাসরুমের নীরবতার মধ্যে একটা কণ্ঠ ভেসে আসে,
— এক্সকিউজ মি? মে আই কামিং?

কণ্ঠ শুনে নৌশি, সাবা, এমনকি ক্লাসে থাকা শিক্ষকসহ সবাই একসঙ্গে দরজার দিকে তাকায়। দরজায় দাঁড়িয়ে আছে রুদ্রিক। হঠাৎ তাকে ক্লাসরুমের দরজায় দেখে নৌশির চোখ মুহূর্তের জন্য বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়। টিচারও রুদ্রিককে দেখে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলেন,
— সিউর।

রুদ্রিক ভেতরে প্রবেশ করে। টিচার রুদ্রিককে চিনে। তাই হালকা হাসি দিয়ে রুদ্রিকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন,
— আপনি এখানে?

রুদ্রিক সরাসরি নৌশির দিকে তাকিয়ে বলে,
— ওকে নিতে এসেছি। একটু কাজ ছিল।

টিচার এবার নৌশির দিকে তাকিয়ে বলেন,
— ওকে। নৌশি যাও।

নৌশি আর সাবা দুজনেই এখনো অবাক হয়ে রুদ্রিকের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা কেউই আশা করেনি রুদ্রিক এখানে আসবে। বিশেষ করে নৌশি তো একেবারেই না।নিজের বিস্ময়টা সামলে নিয়ে নৌশি অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। ফোনে রুদ্রিক তাকে কীভাবে সরাসরি মানা করে দিয়েছিল, সেটা সে ভুলে যায়নি। তাহলে এখন এসেছে কেন এই লোক? নৌশি নিজের জায়গায় বসেই রইল।তাকে বসে থাকতে দেখে রুদ্রিক আর কিছু না বলে এগিয়ে এসে নৌশির হাত ধরে বলে,
— চল।

এবার আর বসে থাকার উপায় রইল না নৌশির। বাধ্য হয়ে বেঞ্চ ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় নৌশি। রুদ্রিকের সঙ্গে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে আসে। ক্লাসরুমের বাইরে আসতেই নৌশি সঙ্গে সঙ্গে রুদ্রিকের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়।

রুদ্রিক সরাসরি প্রশ্ন করে,
— কোন ছেলে কী বলেছে?

নৌশি মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে বলে,
— কেউ কিছু বলেনি।

রুদ্রিক কন্ঠ কঠিন করে বলে,
— নৌশি, বলতে বলেছি।

নৌশি রুদ্রিকের দিকে তাকিয়ে বলে,
— না বললে?

রুদ্রিক দাঁত চেপে বলে,
— কলেজের মাঠে তোমাকে দাফন করবো! আমি সার্জারি রেখে এসেছি!

— এসেছেন কেন? আপনার মতো খ্যাতিমান হার্ট সার্জন কেন আমার মতো মেয়ের জন্য ক্যাম্পাসে মারামারি করবে?

রুদ্রিকের মুখ শক্ত হয়ে যায়।
— রাগ হচ্ছে, নৌশি!

— হোক। আত্মসম্মানে আঘাত আমারও এসেছিল, যখন আপনি মুখের ওপর আমাকে মানা করেছিলেন!

রুদ্রিক এবার জোরে একটা শ্বাস নেয়। তারপর হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখে। তারপর গম্ভীর গলায় বলে,
— সময় নষ্ট করো না, নৌশি। বলো, কোন ইয়ারের?

নৌশি কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর মুখ ভার করে বলে,
— সেকেন্ড ইয়ারের সাইন্সের। নাম তানজিম।

রুদ্রিক সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করে,
— কী বলেছে?

নৌশি আর উত্তর দেয় না। আসলে কথাগুলো মুখে বলতে তার অস্বস্তি হচ্ছে। যে কথাগুলো তানজিম তাকে বলেছে, সেগুলো আবার মুখে উচ্চারণ করতেও গা ঘিনঘিন করছে। নৌশির সেই অস্বস্তিটা রুদ্রিকও সামান্য বুঝতে পারে। তাই এবার রুদ্রিকের কন্ঠ কিছুটা শান্ত হয়। ধৈর্য ধরে বলে,
— কি বলেছে না বললে কিভাবে হবে?

নৌশি সংকোচ করে বলে,
— রেটের মেয়ে বলেছে। তারপর.....

রুদ্রিক ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে,
— তারপর কী?

নৌশি সময় নিয়ে বলতে শুরু করে,
— কাল আমাদের কলেজের একজন স্যার অন্ধকার ক্লাসরুমে গিয়েছিল একটা কাজে। তো আমি কলেজে এসে আমার বান্ধবীকে না পেয়ে খুঁজতে বের হলে একটা ছেলে বলে, ওই রুমে আছে। ওই ছেলেটা ছিল তানজিমের দলেরই। আমি ওই রুমে যাওয়ার পর ওরা বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেয়। তারপর আজ কলেজে এসে দেখি আমার নামে নোংরা কথা ছড়িয়েছে। একটু আগে তানজিম আমাকে বলে আমি নাকি রেটের মেয়ে! এক রাতের কথাও বলে!

শেষ কথাগুলো বলতে বলতে নৌশির গলা ভারী হয়ে এলো। রুদ্রিক একদম চুপ হয়ে যায়। সে একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে ঘাড় এদিক-ওদিক করে নিজের ভেতরে জমে ওঠা রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। কয়েক সেকেন্ড পর হঠাৎ নৌশির হাত ধরে বলে,
— চল।

বলেই নৌশির হাত শক্ত করে ধরে দ্রুত পায়ে হাঁটতে শুরু করে রুদ্রিক। নৌশি প্রায় আচড়ে-পিছড়ে রুদ্রিকের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটতে থাকে। রুদ্রিক সোজা সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে দ্বিতীয় বিল্ডিংয়ের দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে তিনতলায় ক্লাস চলছে। দুজন দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠে। রুদ্রিক বি সেকশনের সামনে এসে নৌশিকে সঙ্গে নিয়েই ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে। নৌশির হাত এখনও রুদ্রিকের হাতের মুঠোয়। ক্লাসে তখন স্যার পড়াচ্ছিলেন।হঠাৎ রুদ্রিককে নৌশির হাত ধরে ক্লাসে ঢুকতে দেখে পুরো ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের চোখ তাদের দিকে চলে যায়। রুদ্রিক অবশ্য সেদিকে পাত্তা দেয় না। রুদ্রিক একবার পুরো ক্লাসের ছেলেদের দিকে চোখ বুলিয়ে নৌশিকে জিজ্ঞেস করে,
— কোনটা?

নৌশি ক্লাসের ছেলেদের ভিড়ের মধ্যে চোখ ঘুরিয়ে তৃতীয় বেঞ্চে বসে থাকা তানজিমকে দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে দেখিয়ে বলে,
— এই অমানুষটা!

ব্যস। এরপর আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট করে না রুদ্রিক। সোজা তানজিমের কাছে গিয়ে ওর কলার চেপে ধরে এক টানে তানজিমকে বেঞ্চ থেকে তুলে বের করে আনে। তানজিম কিছু বুঝে ওঠার আগেই রুদ্রিক তাকে টেনে-হিঁচড়ে ক্লাসরুমের বাইরে নিয়ে যেতে শুরু করে।তানজিম নিজেকে ছাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
কিন্তু রুদ্রিকের শক্ত হাতের মুঠো থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারছে না। নৌশি পেছন পেছন বেরিয়ে এলো। শুধু নৌশি না, ক্লাসের প্রায় সবাই তখন কৌতূহলে তাদের পেছনে বেরিয়ে এসেছে। কেউ কিছু বলছে না। শুধু তাকিয়ে দেখছে।

রুদ্রিক তানজিমকে টেনে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে কলেজের ক্যাম্পাসের মাঝখানে এনে ছুড়ে ফেলে। তারপর রুদ্রিকের চোখ যায় একটু দূরের দিকে। কলেজের দালানের পাশে একটা হকিস্টিক রেখে গিয়েছিল। রুদ্রিক সেখান থেকে হকিস্টিকটা তুলে নিয়ে এসে তানজিমের দিকে এগিয়ে গিয়ে রাগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে শুরু করে। রুদ্রিকের গর্জে ওঠা কণ্ঠ পুরো ক্যাম্পাস কাঁপিয়ে দেয়,
— কুত্তার বাচ্চা! সাহস কত বড় তোর! তুই আমার বউকে রেটের মেয়ে বলিস! তোর জিহ্বা ছিঁড়ে আমি রাস্তার কুকুরকে দেখাবো! তোর মা তোকে জন্ম দিয়েছে রেটের বদৌলতে। আবার তুই কিনা আমার বউকে নোংরা প্রস্তাব দিস!

তানজিম নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না রুদ্রিকের মার থেকে বাঁচতে। রুদ্রিক তার বুট জুতা দিয়ে তানজিমের দুই পায়ের মাঝখানে সজোরে লাথি মেরে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— একদম মেইনপয়েন্ট নষ্ট করে দিবো! জীবনে আর পুরুষ হতে পারবি না। মুখ ভেঙে ফেলবো, কুত্তার বাচ্চা! জীবনে যদি দ্বিতীয়বার আমার বউয়ের নাম মুখে নেওয়ার সাহস করিস।

রুদ্রিক থামছে না। এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। তার চোখেমুখে তখন কোনো দয়া-মায়া নেই। কপালে রগগুলো ফুলে উঠেছে রাগে। রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। একসময় তানজিমের নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে। বেধড়ক মারধরের মধ্যে তার দাঁতও ভেঙে যায়। চারপাশে বিশাল ভিড় জমে গেছে। কেউ কাছে যাওয়ার সাহস করছে না। থামাচ্ছেও না। নৌশিও ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছে। হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল কালকের সেই ছেলেটার ওপর। যে ছেলেটা তাকে মিথ্যা বলে সেই বন্ধ রুমে পাঠিয়েছিল।

নৌশি সঙ্গে সঙ্গে রুদ্রিককে দেখিয়ে বলে,
— এই ছেলেটাই কালকে আমাকে ওই রুমে পাঠিয়েছিল!

রুদ্রিকের হাত থেমে যায়। ঘুরে তাকায় ছেলেটার দিকে।
রুদ্রিকের সেই দৃষ্টি পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে ছেলেটার মুখের রং পাল্টে যায়। আতঙ্কিত গলায় কাঁপতে কাঁপতে বলে,
— আমি কিছু করিনি, বিশ্বাস করুন। তানজিম বলেছিল! আমি জানতাম না....

নৌশি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠে,
— মিথ্যা বলছে।

ব্যস। এরপর আর কোনো কথা শুনে না রুদ্রিক। সে মুহূর্তেই ছেলেটার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে টান মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। তারপর শুরু হলো বেধড়ক মার।হকিস্টিকের আঘাতে একে একে দুজনেরই নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। শুধু তাই না, যেভাবে একের পর এক আঘাত পড়ছে, তাতে শরীরের কতগুলো হাড় যে ভেঙে গেছে, তার হিসাবও নেই। সবাই কেবল দাঁড়িয়ে দেখছে।
শুধু স্টুডেন্ট না, একে একে কলেজের টিচাররাও এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু কেউই রুদ্রিককে থামানোর সাহস করছে না। রুদ্রিকের রাগ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামনে থাকা মানুষটাকে সে আর মানুষ হিসেবেই দেখছে না।

সাবাও ছুটে এসেছে। সে নৌশির পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাক চোখে তাকিয়ে দেখছে, তানজিম আর তার সঙ্গী কী ভয়াবহভাবে মার খাচ্ছে। রুদ্রিক টানা প্রায় বিশ মিনিট ধরে তাদের মারার পর অবশেষে থামে। ততক্ষণে দুজনের কারোর বিন্দুমাত্র নড়াচড়ার ক্ষমতা নেই। এমনকি জোরে গোঙানির শব্দটুকুও বের করতে পারছে না ওরা। এরা বাঁচবে কিনা সন্দেহ। অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে আশপাশের মানুষগুলোও শিউরে উঠেছে। রুদ্রিক এবার নৌশির হাতটা নিজের হাতে নিয়ে নৌশিকে নিজের কাছে টেনে নেয়। তারপর চারপাশের সবার দিকে তাকিয়ে হুংকার দিয়ে বলে,
— যে কুত্তার বাচ্চা আমার বউয়ের দিকে নজর দিবি, শরীরের পার্টস বাই পার্টস খুলে হসপিটালে সেল দিয়ে দিবো!

বলেই থামে। তারপর চারপাশের সবাইকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে ঠান্ডা গলায় বলে,
— কিপ দিস ইন মাইন্ড!

বলেই নৌশির হাত ধরে হাঁটতে শুরু করে রুদ্রিক। নৌশিও এবার রুদ্রিকের হাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে। তবে তার চোখ স্থির রুদ্রিকের ওপর। নৌশির দৃষ্টিটা আজ অন্যরকম। তার ব্যাপারে কেউ কুৎসিত কথা বলেছে, এই কারণে রুদ্রিকের এমন ভয়ংকর, রাগী রূপ দেখেছে। আর সেই রূপটাই নৌশির ভেতরে অদ্ভুত এক ভালোলাগা তৈরি করেছে। এতক্ষণ যে মানুষটাকে নিয়ে অভিমান করছিলো, সেই মানুষটাই তার সম্মানের জন্য এভাবে আগুন হয়ে উঠেছে! নৌশির চোখ আজ অজান্তেই রুদ্রিকের দিকে আটকে আছে।

চলবে?

#তবুও_তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি
#লেখনীতেঃ_অধরা_মিনহা
#পর্ব_৯ [ ১ম অংশ ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 9 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন