ফন্ট সাইজ:
থিম:
তবুও তোমার প্রেমে আমি পড়েছি

পর্ব 18

লেখক: অধরা মিনহা

— তোমার ভাই আমার ভাতিজিকে তুলে নিয়ে গেছে, আর তুমি বলছো আমি পুলিশ কেস না করি? তোমাকে আমি পালিয়ে নিয়ে এসেছি, দোষ তো আমার। কিন্তু আমার ভাতিজি তো কোনো অপরাধ করেনি! তাহলে কেন তোমার ভাই আমার ছোট ভাতিজিকে আটকে রেখেছে? কেন ওর জীবনটা নষ্ট করছে?

কথাগুলো বেশ জোরেই বলে নুহান। রাগে তার চোখে আগুন জ্বলছে। নিজের ভুলের শাস্তি সে মাথা পেতে নিতে রাজি কিন্তু সেই ভুলের মাশুল কেন তার নিষ্পাপ ভাতিজিকে দিতে হবে? কেন নৌশিকে অন্যের প্রতিশোধের শিকার হতে হবে? গত রাতের শপিংমলের দৃশ্যটা নুহানের বুকের ভেতর এখনো কাঁটার মতো বিঁধে আছে। চোখের সামনে রুদ্রিক যেভাবে নৌশিকে টেনে নিয়ে গিয়েছে সেই দৃশ্য মনে পড়তেই তার ভেতরটা জ্বলে উঠে।

সারারাত এক মুহূর্তের জন্যও চোখের পাতা এক করতে পারেনি নুহান। বারবার শুধু নিজের ছোট্ট ভাতিজিটার মুখ ভেসে উঠেছে চোখের সামনে। অবশেষে আর নিজেকে সামলাতে না পেরে রুদ্রিকের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয় নুহান। কিন্তু রুমাইরা তাকে কিছুতেই পুলিশে যেতে দিতে রাজি না। আর তাতেই রাগে ফেটে পড়ে কথাগুলো বলে নুহান। রুমাইরা নুহানের এমন আচরণে কষ্ট পেলেও নুহানের পরিস্থিতিটা বুঝতে পারছে। সে জানে, নিজের ভাতিজির জন্য নুহান কতটা অস্থির হয়ে আছে।

রুমাইরা নিজের মনের কষ্ট চেপে রেখে নুহানের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে,
— পুলিশ কেস করলেও কোনো লাভ হবে না। তুমি আমার পাপা আর ভাইয়ের ক্ষমতা সম্পর্কে জানো। উল্টো তোমাকে বিভিন্ন ফ্রড কেসে জড়িয়ে জেল খাটাবে ওরা। কারণ, ওদের শত্রুতা, রাগ, জেদ সবকিছু তোমার ওপর।

কথাটা শুনে অবাক হয় নুহান। বেডে বসে থাকা রুমাইরার দিকে তাকিয়ে ক্ষোভ নিয়ে বলে,
— আমাদের টাকা নেই, ক্ষমতা নেই বলে কি আমার ভাতিজি তোমার ভাইয়ের টর্চার সহ্য করবে? প্রয়োজনে আমি জেল খাটতে রাজি, তবুও আমার ভাতিজিকে ফেরত চাই। আমি কেস করবো! এটাই ফাইনাল।

নুহানের জেদ দেখে অসহায় হয়ে পড়ে রুমাইরা। এত কিছু বোঝানোর পরও যখন নুহানকে থামানো যাচ্ছে না তখন রুমাইরা এক প্রকার মিনতির সুরেই বলে,
— একটু বোঝার চেষ্টা করো। পরিবারের সম্মান নষ্ট করে চলে আসায় আমি এমনিতেই তাদের ঘৃণার পাত্র হয়ে আছি। আবার যখন পুলিশ আমার বাড়ির দুয়ারে যাবে, তখন আমার পরিবারের আরও অসম্মান হবে। আমাকে আরও ঘৃণা করবে ওরা।

নুহান অবাক চোখে তাকায় রুমাইরার দিকে।
— তাই বলে আমার ভাতিজিকে ওই শত্রুতার সম্পর্কে রাখবো?

রুমাইরা এবার উঠে দাড়িয়ে নুহানের দিকে এগিয়ে যায়। বলে,
— নৌশি তো আমার ভাইয়ের সাথে খারাপ নেই। কালকে দেখেছো, দুজন কী সুন্দর হাত ধরে, খুশিমনে শপিংমলে ঘুরছিল!

নুহান তিক্ত গলায় বলে,
— নৌশিকে আমার কর্মের প্রতিশোধ নিতে নিয়ে গেছে তোমার ভাই।

— আমার ভাই নৌশিকে বিনা সম্পর্কে রাখেনি। বউ করে নিয়েছে।

কথাটা রুমাইরা বেশ জোর দিয়েই বলে। নুহান কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,
— রুমু, তুমি বুঝতেছ না।

রুমাইরা নুহানের চোখে চোখ রেখে বলে,
— তুমিও বুঝতেছ না!

নুহান চুপ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে রুমাইরার দিকে।প্রতিত্তোরে কি বলবে বুঝতে পারছে না। দুজনই নিজেদের জায়গায় ঠিক। তবে একটা কিন্তু রয়েই যায়। রুমাইরাও তাকিয়ে আছে অসহায় চোখে।

নুহান এবার ব্যথিত গলায় বলে,
— কী বুঝবো বলো? আমার ভাই-ভাবির অবস্থা দেখেছো?

রুমাইরার চোখেও জল এসে জমে। ভেজা কন্ঠে বলে,
— আমার মাম্মি-পাপাকে তুমি দেখোনি, তাই হয়তো তাদের ছেড়ে আসার কষ্টটা বুঝতে পারছো না।

নুহান আশ্চর্য হয়ে বলে,
— রুমু, তুমি নিজ ইচ্ছায় এসেছো।

রুমাইরা এবার গিয়ে আবার বেডে বসে অন্যদিকে তাকিয়ে বলে,
— নৌশি নিজ ইচ্ছায় না গেলেও এখন ওখানে ওর সংসার। আমার ভাইয়ের বিয়ের অধীনে আছে। ওকে আনতে হলে ডিভোর্স দিয়ে আনতে হবে। নৌশির গায়ে ডিভোর্সের কলঙ্ক লাগবে।

নুহান কথাটা শুনেও না শোনার মতো থাকলো। যেন গায়েই লাগেনি। উল্টো নিজের ভাই-ভাবির কষ্টের কথা মনে পড়তেই বুকের ভেতরটা আবার মোচড় দিয়ে উঠে। দৃঢ় কন্ঠে বলে,
— লাগুক কলঙ্ক! তবুও আমি আমার ভাই-ভাবির কষ্ট সহ্য করতে পারছি না। আর না আমার ভাতিজিকে এই শত্রুতার সম্পর্কে রাখবো!

কথাটা শুনে রুমাইরা থমকে যায়। কয়েক মুহূর্ত নুহানের মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীর কণ্ঠে প্রশ্ন করে,
— তাহলে তুমি আমাকে ফিরে যেতে বলছো?

প্রশ্নটা নুহান বুকে লাগে। সে দ্রুত রুমাইরার কাছে এসে বসে। তারপর আলতো করে তার গালে হাত রেখে বলে,
— তোমাকে ফিরে যেতে বলবো কেন?

রুমাইরা চোখ নামিয়ে নেয়। ভাঙা গলায় বলে,
— আমি আমার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে বাবা-মায়ের আর অসম্মান করতে চাই না। আর না তাদের ঘৃণা বাড়াতে চাই। তাহলে রাস্তা একটাই। আমাকে ফিরে যেতে হবে।

নুহানের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠে। যে মেয়েটাকে ভালোবেসে নিজের কাছে নিয়ে এসেছে, তাকে কীভাবে আবার সেই বাড়িতে ফিরিয়ে দিবে?

নুহান নরম স্বরে বলে,
— রুমু, আমি তোমাকে ভালোবেসে এনেছি। ভালোবাসি তোমাকে। ফিরে পাঠানোর জন্য তো আনিনি!

রুমাইরা অসহায় চোখে নুহানের দিকে তাকায়।
— তাহলে দয়া করে আর বাড়াবাড়ি করো না। আমি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করতে চাই না। কিন্তু তুমি এখন পুলিশ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে, জীবনে আর পরিবারের সামনে দাঁড়াতে পারবো না।

নুহানের চোখও ছলছল করে,
— তাহলে নৌশি?

রুমাইরা কান্নায় ভেজা স্বরে বলে,
— জানি না। আপাতত আমাকে নিয়ে ভাবো। আমাকে আর একা করে দিও না। সব ছেড়ে এসেছি। আর ঘৃণা নিতে পারবো না পাপা আর ভাইদের।

কথাগুলো শুনে নুহান আর কিছু বলতে পারে না।একদিকে নিজের ভাতিজি, অন্যদিকে তার ভালোবাসার মানুষ! কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। রুমাইরার চোখের জল আর অসহায়তা! ভাতিজি আর ভালোবাসা, এই দুই জনের মাঝে দাঁড়িয়ে নুহান সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। রুমাইরাকে সে ভীষণ ভালোবাসে। আর ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের জন্য তার বাবা-মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হতে দেখার সাহস নুহানের নেই। কিন্তু নৌশির কী হবে? মেয়েটা অকারণে তার কর্মফল ভোগ করছে।

চলবে?

#তবুও_তোমার_প্রেমে_আমি_পড়েছি
#লেখনীতেঃ_অধরা_মিনহা
#পর্ব_১৬ [ ১ম অংশ ]

[ আজকের পর্বটা ছোট হয়েছে, তার জন্য সরি। আজ বাসায় মেহমান ছিল আর অন্য একটা কাজেও ব্যস্ত ছিলাম। তাই পর্বটা ছোট হয়ে গেছে। তবে চিন্তার কিছু নেই, কালকে কোনো অপেক্ষা ছাড়াই একটা বিশাল পর্ব পাবেন। ]

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 18 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন