#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৪৬
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু
_____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌____
সন্ধ্যার পর একে একে নেওয়াজ বাড়ির সব পুরুষরা অফিস থেকে ফিরে এলো। সবাই ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে বসলো। আর সবার মাঝ থেকে আলাদা সিঁড়ি এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে পারুল।
ফাইজ আপতত তার ঘরেই আছে তার এসব বিষয়ে এত ইন্টারেস্ট নেই।
শালু একপাশে দাঁড়িয়ে সবার দিকে তাকিয়ে আছে। আজকে তার বেশ খুশি খুশি লাগছে। কারণ আজ যে তার পরী আপার বিয়ের তারিখ ঠিক হবে!
আজিজ নেওয়াজ সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
— আচ্ছা সবাই যখন চলে এসেছো তখন আজকেই আদ্র আর আহির বিয়ের অনুষ্ঠানের তারিখটা ঠিক করে ফেলি।
আহি একটু লজ্জা পেয়ে চুপচাপ বসে রইলো। পাশে বসা আদ্র আড়চোখে একবার আহির দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
তরিকুল নেওয়াজ বললেন,
— ভাইয়া আম্মা কবে দেশে আসবেন?
— আম্মাকে খবর দিয়েছি,সে খুব তাড়াতাড়ি নাকি এসে আমাদের সারপ্রাইজ দিবেন।
ফারদিনা নেওয়াজ নেই চিকিৎসার কারণে দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছে তাকে।
তাহমিদ নেওয়াজ বললেন,
— হ্যাঁ ভাইয়া তাহলে তারিখটা ঠিক করে ফেলো।
আতিয়া বললেন,
— আর আহির পড়াশোনার কথাটাও মাথায় রাখতে হবে। ওর পরীক্ষা সামনে।
আজিজ নেওয়াজ কিছু একটা ভেবে বললেন,
— যেহেতু পরীক্ষারও বেশি একটা সময় নেই আর অনুষ্ঠানটাও তাড়াতাড়ি করতে হবে তাহলে আজ আগস্টের ২৭ তারিখ মানে বৃহস্পতিবার তাহলে পরের মাসে সেপ্টেম্বরের ১ম শুক্রবার পরে ৪ তারিখ সেই দিন বিয়ের অনুষ্ঠানটা করলে কেমন হয়?
তাহমিদ নেওয়াজ বললেন,
— ভাইয়া এত তাড়াতাড়িই করবে?
— হ্যাঁ নাহলে আবার বেশি দেড়ি হয়ে যাবে।
আদ্র সঙ্গে সঙ্গে বললো,
— আব্বু তাই তো আমি বলছিলাম অনুষ্ঠানটা যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততই ভালো।
আহি এবার আদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,
— আপনি আমার পরীক্ষা নিয়ে এত চিন্তা করছেন কেন?
আদ্র স্বাভাবিকভাবে বললো,
— কারণ তুমি পড়াশোনা নিয়ে চিন্তা করো, আর তোমার চিন্তা আমি করি।
কথাটা শুনে আহি আর কিছু বললো না। একটু লজ্জা পেলো সবার সামনে এমন বলায়।
শালু পাশ থেকে মুখ বাঁকিয়ে বললো,
— হায় আল্লাহ! বিয়ার তারিখ ঠিক হইতাছে আর এইহানে এরা প্রেমের কথা শুরু কইরা দিছে।
আতিয়া চোখের ইশারায় চুপ করাতে বলল শালুকে এখানে মুরুব্বিরা আছে। মেয়েটার মুখে কিছুই আটকায় না।
আজিজ নেওয়াজ বললেন,
— তাহলে এটাই থাক। কারো সমস্যা আছে?
সবাই একে অপরের দিকে তাকালো।
তরিকুল নেওয়াজ ও তাহমিদ নেওয়াজ বললেন তাদের কোনো সমস্যা নেই।
আতিয়া নেওয়াজ বললেন,
— আমারও নেই।
শালু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো,
— আমারও নাই। কিন্তু আমার শাড়ি কিনার সময় যেনো কারো কোনো সমস্যা না হয়।
সবাই শালুর কথা শুনে হেসে ফেললো।
আজিজ নেওয়াজ ছেলের দিকে তাকিয়ে বললো,
— আদ্র ঠিক আছে তো সব? কোনো সমস্যা আছে তোমার?
আদ্র একটু হেসে বললো,
— হ্যাঁ আব্বু ঠিক আছে আর কোনো সমস্যা নেই।
তারপর আহির দিকে তাকিয়ে বললো,
— আম্মু তোমার কোনো সমস্যা আছে?
আহি লাজুক হেসে বললো,
— না বড় আব্বু।
আজিজ নেওয়াজ মুচকি হেসে বললেন,
— তাহলে পরের মাসের ৪ তারিখেই বিয়ে।
কথাটা শুনে আহির মুখে লাজুক হাসি ফুটে উঠলো।
আদ্রও মুচকি হেসে আহির দিকে তাকালো।
তাদের দুজনের চোখাচোখি হতেই আহি লজ্জায় চোখ নামিয়ে নিলো।
সবাই তারপর নিজেদের মধ্যে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আহি হঠাৎ খেয়াল করলো,পারুলের চোখ টলমল করছে সে একা একা সিঁড়ি কাছে দাড়িয়ে আছে।
আহির আর ভালো লাগলো না তাই সে বলে উঠলো,
— সবার সাথে আমার একটা কথা আছে।
সবাই আহির দিকে তাকালো।এমন সময় ফাইজও নিচে এসেছিলো পানি খেতে আহির কথা শুনে সেও দাড়িয়ে পড়লো।
আহি সবার দিকে তাকিয়ে আজিজ নেওয়াজ এর দিকে তাকিয়ে বললো,
— বড় আব্বু তুমি তো সবার কাছে তাদের মতামত জিজ্ঞেস করলে কিন্তু কাকিয়ার কাছে তো জিজ্ঞেস করলে না।
সবাই পারুলের দিকে তাকালো। পারুল নিজেও বুঝতে পারেনি যে আহি এমন একটা কথা বলবে। আহি এই আদ্রের সম্পর্কে পারুল নেওয়াজকে কাকিয়া বলে ডাকে।
তরিকুল নেওয়াজ বলে উঠলো,
— ওর কাছ থেকে কিসের মতামত নিবো আহি মা? ওর মতামত দেয়ার মুখ আছে?
আহি একটা শ্বাস ফেলে বললো,
— আর কত আব্বু? একটা মানুষকে আর কত শাস্তি দিবে? সে যথেষ্ট শাস্তি পেয়েছে। আমার মনে হয় না আর কোনো শাস্তির প্রয়োজন আছে কাকিয়ার। তোমরা কেউ তার সাথে কথা বলো না। আর ঘটনাটা তো আমাকে নিয়ে হয়েছে,যদি আমিই সব ভুলে কাকিয়ার সাথে কথা বলতে পারি তাহলে তোমরা কেন পারবে না। আর সবচেয়ে বড় কথা কাকিয়া তার নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। এর চেয়ে বড় আর কিছু হয় না। মানুষ মাত্রই তো ভুল। সে না হয় করছেই একটা ভুল। তাকে একবার ক্ষমা করলে কি এমন পাপ হবে?
সবাই চুপ করে আছে কেউ কোনো কথা বলছে না। আহি এবার ফাইজের দিকে তাকিয়ে বললো,
— ভাইয়া তুমি কেমন? যে নিজের মায়ের একটা ভুলের জন্য তার সাথে কথা বলা তো বন্ধ করেই দিয়েছো সাথে তার মুখটা দেখাও বন্ধ করে দিয়েছো। আরে সবাই কথা না বললেও তো তোমার বলা উচিত তুমি তো তার ছেলে। তার কথাটা একবার ভেবে দেখেছো সে একা কিভাবে আছে? তার মেয়েটাকেও সে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।
এবার তো মানুষ টাকে ক্ষমা করো তোমরা।
আহির কথা শেষ হতে পারেনি এর মধ্যেই ফাইজ ছুটে গিয়ে পারুলকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে দেয়। পারুলও ছেলেকে পেয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে।
পারুল কাঁদতে কাঁদতে ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
— বাবা, আমাকে মাফ করে দে। আমি অনেক বড় ভুল করেছি। তোর কাছে আমি কোনোদিন ভালো মা হতে পারিনি।
ফাইজ মায়ের কথা শুনে আরও শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
— আম্মু তুমি আর এসব বলো না। তোমার সাথে কথা না বলে আমি নিজেও ভালো ছিলাম না।
পারুল কান্নার মাঝে বললো,
— তুই আমার সাথে কথা বলিসনি, আমার সামনে দিয়ে যখন গেছিস কিন্তু আমার দিকে তাকাসও নাই। আমি প্রতিদিন ভাবেছি তুই হয়তো একদিন আমাকে ডেকে বলবি, ‘আম্মু।’ কিন্তু সেই দিনটা আর আসেনি।
ফাইজ চোখের পানি মুছে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো,
— আমিও তো প্রতিদিন চেয়েছি তোমার সাথে কথা বলতে। কিন্তু রাগ আর অভিমান আমাকে আটকে রেখেছিলো।
পারুল ছেলের মুখে হাত রেখে বললো,
— আমি তো তোর মা। আমার উপর যত রাগ, যত অভিমান সব করিস। কিন্তু আমাকে ছেড়ে যাস না বাবা।
ফাইজ আর কিছু বলতে পারলো না। আবার মাকে জড়িয়ে ধরলো।
এতক্ষণ সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে তাদের দেখছিলো।
আহির চোখেও পানি চলে এসেছে। আদ্র পাশে দাঁড়িয়ে আহির দিকে তাকিয়ে মৃদু করে বললো,
— ধন্যবাদ বউজান। তুমি ঠিক কাজটাই করেছো।
আহি আদ্রর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
আজিজ নেওয়াজ এতক্ষণ চুপ করে ছিলেন। এবার তিনি ধীরে ধীরে পারুলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— পারুল, তুমি ভুল করেছো। সেই ভুলের জন্য তোমাকে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। কিন্তু ভুল বুঝতে পারার পরেও একজন মানুষকে সারাজীবন শাস্তি দেওয়া যায় না।
পারুল কান্নাভেজা চোখে আজিজ নেওয়াজের দিকে তাকিয়ে বললো,
— আমি জানি ভাইয়া। আমি আমার ভুলের জন্য আজও লজ্জিত। আপনারা আমাকে ক্ষমা না করলেও আমার কোনো অভিযোগ ছিলো না। শুধু আমার ছেলেটা যেনো আমার সাথে কথা বলে, এইটুকুই চেয়েছিলাম। আমি আপনাদের বলবো করে যে সবার যদি সমস্যা হয় আপনারা বলতে পারেন, আমি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।
ফাইজ পারুলকে ছেড়ে দিয়ে বললো,
— না আম্মু তুমি কোথাও যেতে পারবে না। তুমি এই বাড়িতেই থাকবে।
পারুল কিছু না বলে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো।
আতিয়া নেওয়াজ পারুলের কাছে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলো।
— সরি রে মেঝো অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি তোর সাথে। পারলে বড় বোনটাকে ক্ষমা করে দিস।
পারুল বললো,
— আপা আমার তোমাদের উপর কোনো রাগ নেই সত্যি।
তোমাদের কোনো দোষ নেই।
আতিয়া পারুলকে ছেড়ে ওর দিকে তাকিয়ে কড়া শাসনের মতো বললো,
— সব বুঝলাম কিন্তু দ্বিতীয় বার যেনো এই বাড়ি ছেড়ে দাওয়ার কথা মুখে না আসে। আসলে এক থাপ্পড়ে দাঁত ফেলে দিবো তোর।
পারুল কান্নাভেজা চোখে হালাকা হাসলো।
তরিকুল এতক্ষণ মাথা নিচু করে বসে ছিলেন। ধীরে ধীরে পারুলের দিকে তাকালেন।
— অনেকদিন তোমাকে শাস্তি দিয়েছি পারুল। রাগ, অভিমান সবই ছিল। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি, তোমাকে এভাবে একা করে রাখাটাও ঠিক হয়নি।
পারুল চোখের পানি মুছে তরিকুলের দিকে তাকিয়ে বললো,
— আমি জানি আমি ভুল করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা না করলেও আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু আজ তোমাদের সবার সামনে দাঁড়িয়ে একটা কথাই কইতে চাই, আর কোনোদিন এমন ভুল করবো না।
তরিকুল কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
— ভুল মানুষই করে পারুল। তবে একই ভুল যেনো আর না হয়। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম।
এই বলে সেও হালকা করে নিজের স্ত্রীকে জরিয়ে ধরলেন। সবাই চোখ বন্ধ করে নিলো।
এর মাঝে শালু বলে উঠলো,
— আমি কিন্তু কিছু দেহি নাই।
সবাই হেসে দিলো। তরিকুল নেওয়াজ ফাইজ আর আহির দিকে তাকিয়ে ইশারায় আসতে বললেন। ফাইজ গেলো আহি আদ্রর দিকে তাকালো, আদ্র ইশারায় বুঝালো যেতে। আহি গেলো তাদের কাছে। তরিকুল নেওয়াজ দুই ছেলে মেয়েকে পেয়ে তাদের তিনজনকে আবার একসঙ্গে জরিয়ে ধরলেন।
ইয়ানা এত সুন্দর একটা দৃশ্য দেখে ফোন বের করে ছবি তুলে রাখলো।
পারুল আহির মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
— আমিও তো তোর মায়ের মতোই, পারলে এই মাকে ক্ষমা করে দিস।
আহি হেসে বললো,
— আমার তোমার উপর কোনো রাগ নেই কাকিয়া।
পারুল বললো,
— আমাকে আম্মু ডাকবি। কাকিয়া না।
আহি ভেজা চোখে তাকিয়ে বললো,
— ঠিক আছে আম্মু।
এই দৃশ্য দেখে সবার চোখেই জল। ইয়ানা সবাইকে স্বাভাবিক করতে বললো,
— এই চলো আমরা সবাই মিলে একটা সেলফি তুলি। এত সুন্দর একটা সময়ে একটা ফ্যামিলি ফটো না তুললে হয়?
শালু বললো,
— ও আপা দাড়ান আমিও আইতাছি। আমি ক্যান বাদ পড়মু।
তারপর সবাই একসাথে একটা ফ্যামিলি ফটো তুললো।
_______
সকাল বেলা,
আজ ভিষণ গরমে পড়েছে। আর এই গরমে কলেজে বসে ক্লাস করাটা খুবই বিরক্তিকর জিনিস। যেটা বর্তমানে শ্রেয়া করছে। তার উপর আবার আহি ওরা কেউ আসেনি আহি আসবেনা সেটা শ্রেয়া সেটা জানতো কারণ সামনে বিয়ে বলে কথা এখন না আসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আর গুলো কেন আসলো না সেটাই শ্রেয়া বুঝতে পারছে না।
টিফিন টাইম চলছে। শ্রেয়া ক্লাস থেকে বেড়িয়ে এদিক ওদিক হাঁটছে। হঠাৎ চোখ গেলো সিফাতের দিকে আজ অনেক দিন পর কলেজে আসলাে এখনও কপালে ব্যান্ডেজ আছে। শ্রেয়া মানবতার খাতিলে এগিয়ে গেলো তার দিকে।
গিয়ে সালাম দিলো।
— আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
সিফাত শ্রেয়া দেখে অবাক হলো সাথে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করলো। তারপরও সালামের উত্তর দিলো।
শ্রেয়া হেসে বললো,
— এখন কেমন আছেন ভাইয়া?
সিফাত একটু আমতা আমতা করে বললো,
— ইয়ে মানে হ্যাঁ এখন ভালো আছি।
শ্রেয়া একটু বিব্রতবোধ করে বললো,
— ভাইয়া একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
(,,,,,,,,,,,,,,,,,,,________________,,,,,,,,,,,,,)
.....................!
_________
শ্রেয়া এগিয়ে যাচ্ছে ফাইজের কেবিনের দিকে। হাতে নোট খাতা। আহি যেকদিন আসবে না সেকদিনের নোট আহিকে দিতে হবে। তাই শ্রেয়া ভাবলো ফাইজের কাছে দিয়ে দিবে।
শ্রেয়া রুমে নক করলো। ফাইজ কাজ করছিলো, দরজায় নক পেয়ে বললো,
— কাম,,,
শ্রেয়া অনুমতি পেয়ে ঢুকলো কেবিনে। ফাইজ সামনে তাকিয়ে শ্রেয়াকে দেখে অবাক হলো কিছুটা।
— তুমি?
— আসলে স্যার আহি তো কদিন আসতে পারবে না তাই প্রতিদিনের নোট গুলো আপানর কাছে দিয়ে দিতে বলেছে। সেটাই নিয়ে এসেছি।
ফাইজ তাকালো একবার খাতার দিকে তারপর বললো,
— আচ্ছা দেও।
শ্রেয়া নোট খাতা দিলো ফাইজের কাছে। তারপর কি করবে ভেবে না পেয়ে চলে যেতে লাগলো কিন্তু ফাইজের ডাকে থেমে পড়লো।
ফাইজ বললো,
— তোমাকে নাকি ছেলেপক্ষ দেখতে এসেছিলো?
শ্রেয়া ফাইজের কথা শুনে কিছুটা অবাক হলো। বলে কি এই লোক। কবে কখন তাকে ছেলেপক্ষ দেখতে আসলো?
তারপরও শ্রেয়া নিজেকে ঠিক রেখে বললো,
— আপনাকে এই কথা কে বললো স্যার?
— আহি বলেছে।
শ্রেয়া ভাবলো আহি কেন এসব বলেছে। তারপরও শ্রেয়া একটা হাসি দিয়ে বললো,
— হ্যাঁ এসেছিলো তো আমাকে পছন্দ করে আংটি পড়িয়ে দিয়ে গিয়েছে। কলেজে আসি তো যদি আংটি হারিয়ে যায় তাই বাসায় রেখে এসেছি।
ফাইজ মনে হলো কেউ ওর বুকটায় কিছু একটা ভারি জিনিস দিয়ে বারি দিলো।
— সত্যি?
— তো কি আমি মিথ্যে কথা বলবো স্যার? বিয়ের তারিখ ঠিক হলেই আপনাকে বলবো।
—ওহ,,,,
শ্রেয়ার কেমন জানি লাগলো এমন মিথ্যে কথা বলে।
ফাইজ শ্রেয়ার দিকে তাকিয়ে কোনমতে বললো,
— তুমি এখন আসতে পারো।
শ্রেয়া চুপচাপ চলে গেলো। আর ফাইজ তার যাওয়ার পানে চেয়ে রইলো।
চলবে,,, ,,