#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৪৭
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু
_____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌____
রাতের বেলা,
আহি মন খারাপ করে বারান্দায় বসে আছে। কারণ রৌদ্র দেশে নেই সে বিজনেস এর কাজে দেশের বাহিরে গিয়েছে। আর তার মা বাবা গিয়েছে সিলেটে। কারণ রৌদ্রের মামা অসুস্থ।
তাই আহি টেনশনে আছে এত তাড়াতাড়ি যেহেতু বিয়ের অনুষ্ঠান হবে যদি তারা না আসতে পারে। তাই তো যখন বিয়ের তারিখ ঠিক হচ্ছিল তখনও তারা থাকতে পারে নি। মূলত আদ্র চেয়েছে তারা আসলে ডেট ঠিক করতে রৌদ্রই মানা করেছে।
ইয়ানা এসেছে আহির কাছে একা একা ভালো লাগছিলো না। এসে দেখে আহি একা মন খারাপ করে বসে আছে। তাই ইয়ানা আহির পাশে এসে বললো,
— কি ব্যাপার ছোট পরী তুই মন খারাপ করে বসে আছিস কেন?
আহি ইয়ানার দিকে তাকিয়ে মন খারাপ করে বললো সব।
ইয়ানা সব শুনে মনে মনে ভাবলো,তাহলে তার জন্যই তার বার্থডে গিফট এত আগে দিয়েছে কারণ সে দেশে থাকবে না।
কালকে ইয়ানার জন্মদিন। ধরা যায় আজ রাত ১২ টার পরই।
ইয়ানা আহির দিকে তাকিয়ে বললো,
— মন খারাপ করিস না আহি, আন্টি আংকেল তাড়াতাড়ি চলে আসবে।
— কে জানে ভাইয়া কবে আসবে।
— এসে যাবে চিন্তা করিস না।
এই বলে দুজনেই চুপ করে থাকলো। হঠাৎ করে আহির কিছু মন পরতেই ঘড়ির দিকে তাকালো। দেখলো ১১: ৪০ বাজে। মানে আর কিছুক্ষণ পরেই তার ইনাইপুর জন্মদিন। তাই ভাবলো আর কিছুক্ষণ কথা বলে ইয়ানাকে এখানেই রাখবে তারপর ১২ টা বাজলেই তাকে উইশ করবে।
তাই ইয়ানাকে বললো,
— ইনাইপু তুমি আমার বিয়েতে কি পড়বে? শাড়ি নাকি লেহেঙ্গা?
ইয়ানা একটু ভেবে বললো,
— আসলে আমিও না ডিসাইড করতে পারছি না, কি পরলে ভালো হয়।
আহি একটু হেসে বললো,
— শাড়ি পরলে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগবে।
ইয়ানা সঙ্গে সঙ্গে বললো,
— আর লেহেঙ্গা পরলে?
আহি কিছুক্ষণ ইয়ানার দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,
— সেটাও সুন্দর লাগবে। তবে শাড়িই পরো। বিয়ের অনুষ্ঠানে শাড়ি পরলে একটা আলাদা ব্যাপার থাকে।
ইয়ানা মুচকি হেসে বললো,
— তাহলে তুই যেটা বলবি সেটাই পরবো।
আহি একটু অবাক হয়ে বললো,
— সত্যি?
— হ্যাঁ।
ইয়ানা একটু ভেবে বললো,
— আচ্ছা আহি, তুই কী মনে করিস, আমি যদি হালকা কোনো কালারের শাড়ি পরি কেমন হবে?
আহি বললো,
— ভালো হবে কিন্তু একেবারে হালকা পড়ো একটু হালকা পাতলা যেনো গর্জিয়াস থাকে।
— ঠিক আছে।
ইয়ানা একটু চুপ করে বললো,
— আমাদের তো মনে হয় এই দুই এক দিনের মধ্যেই শপিং শুরু হয়ে যাবে।
— হুমম।
ইয়ানা আবার নিজের মতো করে কথা বলতে শুরু করলো।
কিন্তু আহির চোখ বারবার ঘড়ির দিকে।
১১টা ৫৮ মিনিট।
আহি এবার আর ঠিকমতো ইয়ানার কথাও শুনছে না।
মনে মনে শুধু সময় গুনছে।
আর দুই মিনিট।
১১টা ৫৯ মিনিট।
আহি চুপ করে ইয়ানার পাশে বসে রইলো।
ইয়ানা এবার খেয়াল করে বললো,
— কিরে? হঠাৎ চুপ হয়ে গেলি কেন?
আহি মুচকি হেসে বললো,
— এমনি।
ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে ১২টার দিকে এগিয়ে গেলো।
১২টা বাজতেই আহি হঠাৎ ইয়ানাকে জড়িয়ে দরে বলে।
— হ্যাপি বার্থডে ইনাইপু!
ইয়ানা কয়েক সেকেন্ড কিছুই বুঝতে পারলো না।
তারপর অবাক হয়ে বললো,
— তুই এত রাতে আমার জন্য বসে ছিলি?
আহি হেসে বললো,
— হ্যাঁ। আমি কি করে আমার ইনাইপুর জন্মদিন ভুলে যাই?
ইয়ানার মুখে মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠলো।
— পাগলি একটা!
আহি এবার বলে,
— অনেক অনেক শুভ জন্মদিন। সবসময় এমনই থেকো। আর আমার সাথে সবসময় থেকো।
— ধন্যবাদ ছোট পরী আমার।
ইয়ানা আহির সাথে কথা বলে বের হতে যাচ্ছিলো এর মধ্যে আদ্রর সাথে দেখা হলো।
আদ্র বোনকে দেখে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বললো,
— শুভ জন্মদিন ইয়ানা বুড়ি আমার।
ইয়ানা ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে হেসে বললো,
— থ্যাঙ্ক ইউ ভাইয়া।
— দোয়া করি জীবনের সব আশা পূরণ হোক তোর।
— থ্যাংক ইউ সো মাচ ভাইয়া। দোয়া করো আমার জন্য।
তারপর আদ্রর সাথে একটু কথা বলে রুমে এলো। এসে বিছানায় বসে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকলো। আচ্ছা সে কি কারও উইশের অপেক্ষা করছে?
হঠাৎ করেই ফোনটা বেজে উঠলো।
স্ক্রিনে নামটা দেখেই ইয়ানার মুখে মৃদু একটা হাসি ফুটে উঠলো।
"রৌদ্র "
ইয়ানা সঙ্গে সঙ্গে কলটা রিসিভ করলো।
ইয়ানা কিছু বললো না। চুপ করে রইলো।
রৌদ্র ধীরে ধীরে বললো,
— জানো ইয়ানা, জন্মদিন মানে শুধু একটা তারিখ না। একটা বছর পেরিয়ে গিয়ে নতুন একটা বছরে পা রাখা। তাই চাই, তোমার সামনে আসা প্রতিটা দিন যেনো আগের দিনের চেয়ে একটু বেশি সুন্দর হয়।
একটু থেমে আবার বললো,
— তোমার জীবনের আকাশে যত স্বপ্ন আছে, সবগুলো যেনো একদিন একদিন করে সত্যি হয়। আর যেসব দিন মন খারাপ নিয়ে আসবে, সেসব দিন যেনো খুব বেশিক্ষণ তোমার কাছে থাকতে না পারে।
ইয়ানার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠলো।
রৌদ্র আবার বললো,
— আর একটা কথা,তোমার হাসিটা যেনো কোনোদিন হারিয়ে না যায়। কারণ কিছু মানুষের হাসি শুধু তাদের মুখেই থাকে না, আশেপাশের মানুষগুলোর মনও ভালো করে দেয়।
ইয়ানা এবারও চুপ।
রৌদ্র মৃদু হেসে বললো,
— শুভ জন্মদিন, ইয়ানা। নতুন বছরটা তোমার জন্য অনেক সুন্দর হোক। ভালো থেকো, হাসিখুশি থেকো আর নিজের যত্ন নিও।
এবার দুজনেই চুপ। ইয়ানা কী বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না। রৌদ্রের প্রতিটা কথা যেনো অদ্ভুতভাবে তার মনে গিয়ে লাগছে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইয়ানা আস্তে করে বললো,
— থ্যাংক ইউ। এত সুন্দর করে কেউ আমাকে আগে কখনো উইশ করেনি।
রৌদ্র মৃদু হেসে বললো,
— তাহলে আজকের উইশটা মনে থাকবে?
ইয়ানা একটু হেসে বললো,
— হুমম। মনে থাকবে।
— ভালো। তাহলে আমার উইশটা বৃথা যায়নি।
রৌদ্র একটু চুপ থেকে বললো,
— তবে একটা কথা মনে রেখো
— কী?
— দূরে আছি বলে তোমার জন্মদিনটা ভুলে যাইনি।
ইয়ানার মুখে আবার মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠলো।
— আপনি মাঝে মধ্যে এমন ভালো হয়ে যান কিভাবে?
— আমি খারাপ ছিলামই বা কবে হঠাৎ করে লাইফে আমার উষ্ঠা খাওয়ালী নামক একটা মেয়ে এলো তার পর থেকে তার কাছে খারাপ হয়ে গেলাম না হলে বাকি সবার কাছেই আমি সব সময় ভালো ?
ইয়ানা হেসে ফেললো। এই নাম শুনে।
— এই যে মাঝেমধ্যে ইয়ানা বলেন আবার উষ্ঠা খাওয়ালী বলেন। দুইবার দুই নামে ডাকার মানে কি?
— উত্তর টা নাহয় দেশে এসে দিলাম।
রৌদ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
— এবার ঘুমিয়ে পড়ো। অনেক রাত হয়েছে।
ইয়ানা মুচকি হেসে বললো,
— আপনি?
— আমিও একটু পর ঘুমাবো।
— ঠিক আছে। গুড নাইট।
ইয়ানা ফোনটা কেটে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো।
তারপর অজান্তেই নিজের মনে হেসে ফেললো।
কিন্তু রৌদ্রের বলা কথাগুলো কেন যেনো বারবার মনে পড়ছে
ইয়ানা নিজেই নিজের মনকে প্রশ্ন করলো,
"কেন?"
কিন্তু উত্তরটা সে নিজেও জানে না।
_______
পরের দিন সকালে,
নেওয়াজ বাড়িতে সকাল থেকেই বেশ ব্যস্ততা। বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যাওয়ার পর থেকেই যেনো সবার মধ্যে আলাদা একটা আনন্দ কাজ করছে।
তারপর আজকে আবার ইয়ানার জন্মদিন তাই আতিয়া আর পারুল ইয়ানার সব পছন্দের খাবার বানাচ্ছে।
ইয়ানা নিচে নামতেই একে একে সবাই উইশ করলো।
শালু বললো,
— ও আপা আজকের আপনার জন্মদিন। হেইডা আগে কইবেন না আমায়? হেলে আমিও আপনারে রাতের ১২ টায় আপনারে উইশ করতাম।
যাই হোক আপা শুভ জন্মদিন।
ইয়ানা মুচকি হেসে বললো,
— ধন্যবাদ শালু বানু।
— ইয়ে মানে আপা কেক কাটবেন না?
এবার আহি বললো,
— অবশ্যই আজকে ইনাইপুকে সারপ্রাইজ দিবো আমরা।
এর মধ্যে ফাইজকে নিচে নামতে দেখা গেলো।
ফাইজ ইয়ানার কাছে এসে একটা ব্যাগ দিয়ে বললো,
— হ্যাপি বার্থডে বোন আমার। তোর ভাইয়ার তরফ থেকে ছোট একটা গিফট।
— থ্যাঙ্ক ইউ ভাইয়া। আর এটা ছোট না এটাই আমার জন্য অনেক বড় গিফট ভাইয়া।
ইয়ানা একটু চুপ থেকে আবার বললো,
— ভাইয়া তোমার কি মন খারাপ? কিছুদিন ধরে দেখছি কেমন চুপ করে থাকো।
ফাইজ হালকা হাসি দিয়ে বললো,
— কিছু না এমনিই কাজের চাপ একটু বেশি। কলেজে কাজ সাথে অফিসের তাই এমন দেখায়।
এই বলে ফাইজ চলে গেলো। ইয়ানা কিছু ভাববে এর মধ্যে আদ্রও এসে তাকে গিফট দিলো।
এতক্ষণ রান্না ঘরে বসে দুই জা সবই শুনছিলো। পারুল চিন্তিত কণ্ঠে আতিয়া নেওয়াজকে বললো,
— বুঝলে আপা আমিও না দেখছি কিছু দিন ধরে ফাইজকে কেমন জানি লাগছে।
আতিয়া নেওয়াজ কাজ করতে করতেই বললো,
— হয়তো সত্যিই কাজের চাপ বেশিরে।
— তারপরও ফাইজকে আগে এমন দেখি নি।
আতিয়া নেওয়াজ এবার পারুলের দিকে তাকিয়ে বললো,
— শোন মেঝো আদ্রর বিয়ের অনুষ্ঠানটা শেষ হলেই ফাইজের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করতে হবে। বিয়ের বয়স হয়েছে। এখন বিয়ে না করলে কবে করবে? আর ও কি নিজে থেকে আমাদের বিয়ের কথা বলতে পারে? আমাদেরই বলতে হবে।
— হুম ঠিক বলেছো আপা, এবার ফাইজের বিয়েটা নিয়ে ভাবতে হবে।
এদিকে,
ফাইজ রুমে এসে চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে রইলো।
তার চোখের সামনে বারবার শ্রেয়ার মুখটা ভেসে উঠছে।
গতকাল শ্রেয়ার বলা কথাগুলোও বারবার মনে পড়ছে—
“আমাকে পছন্দ করে আংটি পরিয়ে দিয়ে গিয়েছে।”
ফাইজ চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
সে বুঝতে পারছে, এটা কোনো মায়া না।
সে সত্যিই শ্রেয়াকে ভালোবেসে ফেলেছে।
কিন্তু সে কি আদৌও তার ভালোবাসার মানুষকে পাবে?
নাকি নিজের মনের কথাটা বলার আগেই শ্রেয়া অন্য কারও হয়ে যাবে?তার কী অনেক দেরি হয়ে গেছে..?
_________
সন্ধ্যার পরে,
ইয়ানার সব ফ্রেন্ডরা এসেছে তাই ছাদে ছোট করে একটু কেক কাটা হবে আর পরিবারের সবাই আছে শুধু ফাইজ বাদে। তার নাকি কি কাজ আছে তাই সে থাকতে পারবে না।
ছাদের এক পাশে ছোট একটা টেবিলের ওপর কেক রাখা হয়েছে। চারপাশে ছোট ছোট লাইট দিয়ে সাজানো হয়েছে। সবাই মিলে গল্প আর হাসি ঠাট্টায় ব্যস্ত।
ইয়ানা চারপাশে তাকিয়ে দেখলো। পরিবারের সবাই আছে, বন্ধুরাও এসেছে। এত আয়োজনের মাঝে হঠাৎ তার চোখ গিয়ে থামলো ছাদের দরজার দিকে।
কেউ আসছে না।
ইয়ানা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আহিকে জিজ্ঞেস করলো,
— আহি ফাইজ ভাইয়া কি সত্যিই আসবে না?
আহি একটু থেমে বললো,
— বলেছে কাজ আছে। তাই আসতে পারবে না।
ইয়ানা মাথা নাড়লো।
— ওহ।
কথাটা বলেই সে আবার বন্ধুদের দিকে তাকালো। কিন্তু কেন যেনো মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল।
ঠিক তখনই সূচি বললো,
— এই ইয়ানা কোথায় হারিয়ে গেলি? আয়, কেক কাটবি।
ইয়ানা হেসে সামনে এগিয়ে গেল।
সবাই মিলে কেকের সামনে দাঁড়ালো।
আহি বললো,
— আগে একটা ছবি হবে। কেউ নড়বে না।
শালু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো,
— আপা, আমারে সামনে রাখবেন। আমার চেহারা পেছন থেইকা ভালো আসে না।
— তুমি সামনে থাকলে বাকিদের দেখা যাবে না।
— এইডা আবার কেমন কথা!আমি তো ছোড়ো এই টুকুন বাবু।
সবাই হাসতে হাসতে ছবি তুলতে লাগলো।
এরপর ইয়ানা কেকের সামনে দাঁড়িয়ে মোমবাতিগুলোর দিকে তাকালো।
সবাই একসাথে বললো,
— হ্যাপি বার্থডে ইয়ানা!
ইয়ানা চোখ বন্ধ করে মনে মনে একটা ইচ্ছে করলো।
কিন্তু চোখ খোলার পরও তার মনের মধ্যে অদ্ভুতভাবে একজনের কথাই এলো—
রৌদ্র।
আতিয়া নেওয়াজ বললেন,
— ইয়ানা এবার কাট কেক টা সবাই বসে আছে তো।
ইয়ানা কেক কেটে ফেললো।
সাথে সাথে সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো।
ইয়ানা হেসে কেকের একটা টুকরো নিয়ে প্রথমে আতিয়া নেওয়াজের মুখে তুলে দিলো।
আতিয়া হেসে বললেন,
— সবসময় এমন হাসিখুশি থাকিস মা। আল্লাহ তোকে অনেক সুখে রাখুক।
ইয়ানা মুচকি হেসে বললো,
— দোয়া করবে আম্মু।
এরপর ইয়ানা একে একে সবাইকে কেক খাওয়াতে লাগলো।
শালু দূর থেকে দাঁড়িয়ে বললো,
— আপা, আমার টুকরাটা কিন্তু বড় হইতে হইবো!
ইয়ানা হেসে বললো,
— তোর জন্য আলাদা করে একটা বড় টুকরাই রাখছি।
শালু খুশি হয়ে বললো,
— এইবার হইছে!
সবাই আবার হেসে উঠলো।
কেক কাটার পর বন্ধুরা ইয়ানাকে নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে গেল। কেউ একজন গান ছেড়ে দিলো, আর ছাদের পরিবেশটা মুহূর্তেই আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠলো।
এরপর বাড়ির বড়রা সবাই একে একে নিচে এসে পড়লো কারণ কালকে থেকেই বিয়ের কেনাকাটা সবকিছু শুরু করতে হবে। হাতে সময় নেই বেশি। আরও কত কাজ আছে।
আহি একটু বসে ভাবলো এখানে ইয়ানার সব ফ্রেন্ডরা আছে এখানে তার না থাকাটাই ভালো। তাই সে ইয়ানাকে বললো,
— ইনাইপু তোমরা থাকো আমি নিচে যাই।
— কেনো থাক এখানে আমরা সবাই মিলে কথা বলি।
ইনায়ার বান্ধবী তানিসা সেও বললো,
— হ্যাঁ আহি তুমিও থাকো। মজা হবে।
আহি একটা হাসি দিয়ে বললো,
— না আপু তোমরা থাকো আমার নিচে একটু যেতে হবে।
আমি পরে আবার আসবো।
এই বলে আহি চলে গেলো।
এখন ছাদে শুধু ইয়ানা আর তার বন্ধুরা। সবাই কথা বলছে। এর মাঝে ইমতিয়াজ বললো,
— ইনু তুই কি তোর বিয়ের কথা তোর পরিবারকে জানাবি না?
ইয়ানা চুপ করে আছে। কেন জানি এই প্রশ্নটার উত্তর তার দিতে ইচ্ছে করে না।
তানিসাও বললো,
— হ্যাঁ রে ইনু এভাবে আর কত দিন?
শান্ত বললো,
— দেখ ইয়ানা তুই বলতে না পারলে রৌদ্র ভাইকে বল। সে বলুক সবাইকে। কিন্তু এটলিস্ট বল তো।
এবার ইয়ানা বললো,
— বাদ দে না এই বিষয়টা। এটা নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগছে না।
সবাই চুপ থাকলো। কিন্তু সূচি বলে উঠলো,
— ইয়ানা একটা সত্যি করে কথা বল তো।
— কী?
— তুই কি রৌদ্র ভাইয়াকে ভালোবাসিস?
ইয়ানা চুপ করে আছে। তাই সূচি আবারও বললো,
— দেখ ইয়ানা মিথ্যে বলবি না। আমি খেয়াল করেছি রৌদ্র ভাইয়ার কথা আসলেই তোকে কেমন জানি দেখায়।আমার মনে হয় তুই তাকে পছন্দ করিস।
তানিসা বললো,
— কিরে ইনু সূচি যা বলছে তা কি সত্যি?
সবাই ইয়ানাকে জোর করতে শুরু করলো। এক পর্যায়ে ইয়ানা চেচিয়ে বলে উঠলো,
— হ্যাঁ!
সবাই হঠাৎ চুপ হয়ে গেল।
ইয়ানা নিজেও কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে বললো,
— হ্যাঁ, আমি রৌদ্র ভাইকে ভালোবাসি।
ইয়ানা এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
— কিন্তু জানিস, আমি নিজেও বুঝতে পারিনি কখন এমন হয়ে গেল। উনাকে নিয়ে এত কিছু কখনো ভাবিনি।
কথাগুলো বলতে বলতে ইয়ানার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠলো।
— কিন্তু কবে থেকে যেনো উনার ফোনের অপেক্ষা করি, উনি কথা বললে ভালো লাগে, রাগ করলে মন খারাপ হয়। কোথাও গেলে কেন জানি বারবার মনে হয়, কখন আসবে।
সবাই চুপচাপ শুনছিল।
ইয়ানা একটু থেমে আবার বললো,
— আর সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার কী জানিস? উনি আমাকে একটু ভালো করে কথা বললেই সারাদিন সেটা মাথায় ঘুরতে থাকে।
শান্ত হেসে বললো,
— তাহলে তো অবস্থা বেশ খারাপ!
ইয়ানা ওর দিকে তাকিয়ে বললো,
— হুম। খুব খারাপ।
সবাই হেসে উঠলো।
ইয়ানা আবার নিচু গলায় বললো,
— আমি জানি না রৌদ্র ভাই আমাকে কখনো ওইভাবে দেখবে কিনা। হয়তো উনার কাছে আমি শুধু...
কথাটা শেষ করার আগেই সূচি বললো,
— শুধু কী?
ইয়ানা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
— জানি না। তাই কাউকে কিছু বলতেও ভয় লাগে। যদি সবকিছু বদলে যায়?
কথাটা শুনে এবার কেউ হাসলো না।
তানিসা ইয়ানার হাতটা ধরে বললো,
— সবকিছু বদলাবে কিনা জানি না। কিন্তু তুই অন্তত নিজের অনুভূতিটা আজ স্বীকার করেছিস।
ইমতিয়াজ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,
— আচ্ছা, তুই যখন নিজের অনুভূতিটা বুঝেই গেছিস, এখন কী করবি?
ইয়ানা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।
তারপর আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললো,
— অপেক্ষা করবো।
ইয়ানা হালকা হেসে আবার আকাশের দিকে তাকালো।
— তবে আমার একটা বিশ্বাস আছে,যে মানুষটা আমার জীবনে আসার কথা, সে কোনো না কোনোভাবে আমার কাছেই আসবে।
সবাই চুপ করে ইয়ানার দিকে তাকিয়ে রইলো।
ইয়ানা মৃদু হেসে বললো,
— তাই এখন আর কিছু করতে চাই না। সময়কে একটু সময় দিতে চাই। রৌদ্র ভাই যদি আমার হয়, তাহলে একদিন না একদিন উনি নিজেই আমার কাছে আসবে।
তার কথায় মুখে হাসি থাকলেও চোখে ছিল একরাশ অপেক্ষা।
চলবে,,,,