#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৪৮
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু
_____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌____
পরের দিন সকাল,
নেওয়াজ বাড়িতে সকাল থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে। আজ থেকে বিয়ের কেনাকাটা শুরু হবে। তাই সবাই যার যার মতো প্রস্তুত হচ্ছে। আজকে বাড়ির সব মেয়েরা যাবে সাথে আদ্র। অবশ্য ফাইজকেও বলা হয়েছিলো কিন্তু সে যাবে না।
শালু একটা বিশাল ব্যাগ হাতে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতেই ইয়ানা অবাক হয়ে বললো,
— শালু, ওই ব্যাগে কী?
শালু ভাব নিয়ে বললো,
— আমার পারসুনাল জিনিস আছে।
ইয়ানা শালুর ইংরেজি শুনে অবাক হয়ে বললো,
— পারসুনাল?
শালু গর্বের সঙ্গে মাথা নাড়িয়ে বললো,
— হ, পারসুনাল মানে আমার নিজের জিনিসপত্র।
ইয়ানা শালুর ব্যাগের দিকে তাকিয়ে বললো,
— তোর ব্যাগ দেখে তো মনে হচ্ছে পুরো বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিস।
— আপা আমার পারসুনাল জিনিস নিছি এইডায়।
এর মাঝে আহি,আতিয়া নেওয়াজ,পারুল সবাই নিচে এসে পড়েছে। সবাই শালুর ইংরেজি শুনে তো অবাক।
আহি অবাক হয়ে বললো,
— শালু তুমি এমন ইংরেজি কোথা থেকে শিখেছো?
শালু গর্ব করে বললো,
— ইউটউব দেইখা শিখছি। অহন থেইকা আমার লগে সবাই ইংরেজিতে কথা কইবেন।
আহি মুচকি হেসে বললো,
— আচ্ছা, তাহলে বল তো "তুমি কোথায় যাচ্ছ?"এটার ইংরেজি কি হবে?
শালু কিছুক্ষণ ভেবে বললো,
— ইউ গোয়িং কোথায়?
সবাই একসঙ্গে হেসে উঠতেই শালু রেগে গিয়ে বললো,
— হাসেন ক্যান? ইংরেজি শিখতে গেলে ভুল হইতেই পারে।
ইয়ানা হাসি থামিয়ে বললো,
— হ্যাঁ, ঠিক বলেছিস। তবে তোর ব্যাগে কী আছে সেটা বল।
শালু গম্ভীর মুখে বললো,
— প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।
— শপিংয়ে যাচ্ছি, শালু। বাড়ি ছাড়ছি না
— আপনে কী বুঝবেন? কেনাকাটা করতে গেলে ক্ষুধা লাগবো, পিপাসা লাগবো, আবার ক্লান্তিও হইবো। সবকিছুর ব্যবস্থা কইরা রাখছি।
আহি ব্যাগটা খুলে দেখলো। ভেতরে বিস্কুট, চানাচুর, চিপস, কিছু ফল, পানির বোতল, ছোট কয়েকটা পাখা আরও অনেক কিছু।
আহি চোখ বড় বড় করে বললো,
— শালু তুমি কি শপিং করতে যাচ্ছো নাকি পিকনিকে?
শালু ব্যাগ নিতে নিতে বললো,
— আরে পরীআপা আমি আপানারেও কিছু দিমু আনে।
এর মধ্যে আদ্র নিচে আসলো।
— সবার হলে চলো বেড়িয়ে পড়ি।
এরপর আর কী শালুর ব্যাগ রেখেই সবাই বেড়িয়ে পড়লো।
________
কিছুক্ষণ পর, শপিং মলে,
সবাই দোকানে ঢুকে আগে আহির জন্য গায়ে হলুদের জন্য পোশাক কিনছে। সবাই মিলেমিশে কেনাকাটা করছে। কিন্তু এত আনন্দের মাঝেও আহির শুধু রৌদ্রের কথা মনে পড়ছে এবং সাথে তো মা বাবা আছেই।
আর শালু সে সব ঘুরে ঘুরে দেখছে আর আদ্রকে জ্বালাচ্ছে।
একসময় শালু একটা ঝলমলে শাড়ি হাতে নিয়ে আদ্রর সামনে এসে দাঁড়ালো।
— বড় ভাইজান, এই শাড়িডা আমারে কেমন মানাইবো?
আদ্র শাড়িটার দিকে তাকিয়ে বললো,
— ভালোই। তবে তুই এটা পরে কোথায় যাবি?
— বিয়েতে।
— কার বিয়েতে?
শালু বিরক্ত হয়ে বললো,
— আরে বড় ভাইজান আপনার বিয়েতে আর কার বিয়েতে?
আদ্র মাথা নাড়িয়ে বললো,
— ওহ, আমি তো ভাবলাম তুই নিজের বিয়ের জন্য দেখছিস।
শালু সঙ্গে সঙ্গে বললো,
— নিজের বিয়ের জন্যও দেখতাছি। দুইটা বিয়েতে দুইটা শাড়ি লাগবো।
আদ্র কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো,
— তোর হিসাব তো অনেক দূর পর্যন্ত চলে।
শালু শাড়িটা হাতে নিয়ে বললো,
— বড় ভাইজান, বিয়ের বাড়িতে শালুর সাজ কম হইলে কিন্তু অনুষ্ঠান জমবো না।
ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ শোনা গেলো,
— অনুষ্ঠান জমাতে তোমার মতো একজনই যথেষ্ট।
সবাই ঘুরে তাকালো।
রৌদ্র দাঁড়িয়ে আছে।
শালু রৌদ্রকে দেখে চোখ বড় বড় করে বললো,
— আরে ঝাকানাকা ভাইজান! আপনি কবে আইলেন?
শালুর কদছে রৌদ্রকে বেশ লাগে।মজার মজার কথা বলে। সবাইকে হাসায় এজন্য শালু রৌদ্রের নাম দিয়েছে ঝাকানাক ভাইজান।রৌদ্র সানগ্লাস খুলে বললো,
— এই তো, মাএই,,।
আহি রৌদ্রকে দেখেই দৌড়ে এসে ভাইকে জরিয়ে ধরলো। রৌদ্রও বোনকে জরিয়ে ধরলো। আহি কান্নাই করে দিলো। রৌদ্র আহির মাথায় হাত বুলাতে বুলাতেই বললো,
— এই আমার পাগলি বনু কাঁদছিস কেন? এই দেখ আমি চলে এসেছি তো।
আহি এক রকম থেকেই বললো,
— তুমি সেদিন বললে আসতে দেড়ি হবে আমি ভেবেছিলাম তুমি মনে হয় আসতেই পারবে না আমার গায়ে হলুদের আগে।
রৌদ্র আহিকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো,
— দশটা না পাঁচটা না একটা মাত্র বনু আমার, তার বিয়েতে আমি আসবো না এটা কখনো হতে পারে। আর আমি তো জানি আমার বোন আমাকে ছাড়া কিছুই করবে না।
রৌদ্র আহিকে ছেড়ে এবার আদ্রর দিকে তাকালো। তারপর হঠাৎ করে বুকের ওপর হাত রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললো।
— আদ্র, তুই জানিস না, তোকে ছাড়া আমার জীবনটা কেমন হয়ে গেছিলো।
আদ্র ভ্রু কুঁচকে বললো,
— কেন?
রৌদ্র কষ্ট পাওয়ার ভান করে বললো,
— বুকটা যে একদম খালি খালি লাগতো রে! মনে হতো আমার জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হারিয়ে গেছে।
আদ্র কিছু বলার আগেই রৌদ্র তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
— ভাই, তুই ছাড়া আমি কেমনে ছিলাম, সেটা শুধু আমিই জানি। আই লাভ ইউ রে। আয় একটা চুমু খেয়ে মনটা শান্ত করি আগে।
এই বলে আদ্রর গালের দিকে এগিয়ে যেতে নিলে। আদ্র দ্রুত তাকে নিজের থেকে সরিয়ে নিলো। চোখ মুখ কুঁচকে বলে
— এই এসব কি করছিস।
— তোকে এত দিন পরে পেয়ে নিজের ভালুবাসা প্রকাশ করতে ইচ্ছে করছে খুব।।
সবাই রৌদ্রর এমন কাহিনি দেখে হাসতে হাসতে শেষ।
রৌদ্র সবার সাথে টুকটাক কথা বললো। তারপর সবাই আবার শপিং এর দিকে নজর দিলো।
ইয়ানা বারবার আড় চোখে তাকাচ্ছে রৌদ্রর দিকে। সেদিন ফোনে কথা বলার পরে আর কথা হয়নি।
ইয়ানা ভাবছে রৌদ্র তার সাথে কথা বললো না কেন?
এদিকে আহির জন্য বিয়ের শাড়ি দেখছিলো সবাই। একটা শাড়ি আহির গায়ে ধরে আতিয়া নেওয়াজ বললেন,
— এটা কিন্তু সুন্দর আছে। কি বলিস আদ্র?
আদ্র একটু তাকিয়ে বললো,
— আম্মু এটা ভালো লাগছে না।
আতিয়া নেওয়াজ বললেন,
— কতগুলি দেখালাম কোনটাই তো তোর পছন্দ হলো।
আদ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে দোকানদার কে কিছু বললো তারপর দোকানদার মাথা নাড়িয়ে কিছু শাড়ি বের করলো। আদ্র তার মধ্য থেকে কিছু শাড়ি দেখে একটা লাল রঙের জামদানি শাড়ি আহির গায়ের উপর রাখলো। আহিকে দেখে আদ্র নিজেই বলে উঠলো,
— মাশাল্লাহ।
আর কেউ না শুনলেও আহি ঠিকই শুনলো। সে মুচকি হেসে মাথাটা নিচু করে নিলো।
পারুল বললো,
— আপা কি সুন্দর লাগছে আহিকে এই শাড়িটায়। আদ্রর পছন্দ আছে বলতে হবে।
আতিয়া হেসে বললেন,
— সত্যিই খুব সুন্দর লাগছে। তাহলে এটাই নিবো।
আহি লজ্জায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। আদ্র একবার তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।
শালু এতক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে সব দেখছিল। এবার সে মুখ বাঁকিয়ে বললো,
— হায় হায়! শাড়ি দেখতেও এত পেরেম! হায় আল্লাহ মুইর যে কবে একডা পেরেম হইো
যদিও কথাটা শালু বিরবির করে বলেছে তবে রৌদ্র শুনে নিয়েছে সঙ্গে সঙ্গে বললো,
— তোমার জন্য একা থাকাই ভালো
— দোকা থাকা ভালা না ক্যান?
— কারণ যেয়ে চেয়ে তো মানুষ পাগল হতে যায় না।দুই পাগলের কখনো প্রেম হয় নাকি?দুইটাই যদি পাগল হয় তাহলে কীভাবে হবে.?
শালু বুঝল রৌদ্র তাকে ক্ষেপাচ্ছে রাগ দেখিয়ে বললো,
— আমনে কিন্তু বেশি করেন।
রৌদ্র মুচকি হেসে বললো,
— এটা নতুন না। তুমি চাইলে তোমার জন্য পাবনা থেকে একটা খুঁজে আনতে পারি।
আদ্র দেখলো এরা ঝগড়া বাধিয়ে ফেলতেছে তাই শালুর দিকে তাকিয়ে বললো,
— তুই বরং নিজের শাড়িটা পছন্দ কর।
শালু সঙ্গে সঙ্গে বললো,
— ওহন আর মুই মুরুড নাই আগের দুইডাই চলবো।
তারপর সবাই আবার শপিং এ ব্যস্ত হয়ে গেলো। শপিং এর মাঝে রৌদ্র আর ইয়ানার দুজনের দিকে চোখাচোখি বারে বারে দেখে ফেলছিলো শালু। আর মনে মনেভাবছিলো "
— পেরেম পেরেম গন্ধ পাচ্ছি,,খোদা আমারে একটা নাকই দিছে খালি পেরেম পেরেম গন্ধ পায় তবে নিজেরটার পাই না🫠
_______
রাত ৮:৩০ টা,
সবার শপিং থেকে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেয়েছিলো। সবাই ড্রয়িং রুমে বসে দেখছে কি কি কিনছে সবাই। সবার কথা বলার মাঝেই কলিং বেল বেজে উঠলো। শালু দরজা খুলতে গেলো। দরজা খুলেই শালু অবাক হয়ে গেলো। সে আহি ডাক দিলো।
— পরীআপা দেইখা যান কারা আইছে।
সবাই দরজার দিকে তাকালো। আহি দেখে যেনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে এটা সত্যি। তাই অবাক কণ্ঠে বলে উঠলো,
— আম্মু! আব্বু!
আহি এক মুহূর্তও দেরি না করে ছুটে গেলো তাদের কাছে। মাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
— আম্মু তুমি এসেছো। আমি তোমাদের অনেক মিস করেছি।
রাইসা বেগম মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
— আমরাও তোকে অনেক মিস করেছি মা
সায়ান খান মুচকি হেসে বললেন,
— মেয়ের বিয়ের আগে মেয়ের সাথে তো কিছু সময় কাটাতে হবে। বিয়ের পর তো আর মেয়েকে খুব একটা কাছে পাবো না তাই তাড়াতাড়ি ফিরে এলাম।
আহি চোখের পানি মুছতে মুছতে বললো,
— কিন্তু তোমরা তো বলছিলে বিয়ের ২দিন আগে বাড়ি আসবে।
— তোকে একটু চমক দেবো বলেই তো কিছু বলিনি।
আহি আবার বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।
এদিকে সবাই একে একে তাদের কাছে এগিয়ে এলো। আতিয়া নেওয়াজও হাসিমুখে বললেন,
— তোমরা যে এভাবে হঠাৎ চলে আসবে, ভাবতেই পারিনি। খুব খুশি হয়েছি।
রাইসা বেগম হেসে বললেন,
— মেয়ের বিয়ের সময় কাছে চলে আসার আনন্দটা কি আর দূরে থেকে উপভোগ করা যায়? তাই তো একেবারে সিলেট থেকে আগে আপনাদের বাড়িতেই এলাম আপা।
পারুল হেসে বললো,
— খুব ভালো করেছেন আপা। আসুন বাহিরেই দাঁড়িয়ে থাকবেন? ভিতরে এসে বসুন।
আহি তার আম্মু আব্বুকে নিয়ে ভিতরে ঢুকে বসলো। সবাই বসে টুকটাক কথা বললো। আর সিদ্ধান্ত আজকে আহির মা বাবা এই বাড়িতেই থাকবে। এতদূর জার্নি করে এসেছে আজ আর বাড়ি যেতে হবে না।
______
সবাই রাতের খাবার খেয়ে যে যার রুমে গেলো। রৌদ্রও আজ এ বাড়িতে আছে। খেয়ে তার জন্য যে রুম দেয়া হয়েছে সে রুমে এসে বসলো। আজকে তারও অনেক ক্লান্ত লাগছে। ভাবলো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে। কিন্তু এর মধ্যে দরজায় টোকা পড়লো। রৌদ্র ভাবলো হয়তো আদ্র এসেছে।
তাই খুলতে গেলো। খুলে ইয়ানাকে দেখে অবাক হলো। কারণ এসময় ইয়ানার আসার কথা না। তাই কিছুটা অবাকের সাথেই বললো,
— তুমি?
ইয়ানা রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,
— কেন আসতে পারি না?
— না তা না এত রাতে হঠাৎ করে তু
ইয়ানা রৌদ্রর কথা শেষ হওয়ার আগেই বললো,
— কথা আছে তাই এসেছি। বাহিরেই দাঁড় করিয়ে রাখবেন? ভিতরে ঢুকতে দিবেন না? কেউ দেখে নিবে তো,,।
রৌদ্র দরজার সামনে থেকে সরে গিয়ে ইয়ানাকে ঢুকতে দিলো। ইয়ানা রুমে ঢুকলে রৌদ্র দরজাটা হালকা চাপিয়ে দিলো। তারপর বললো,
— তা বলো উষ্ঠা খাওয়ালী হঠাৎ আমার কাছে এলে যে?
ইয়ানার এবার কেন জানি অস্বস্তি লাগতে লাগলো। কথা গুলিয়ে ফেলছে।
— আসলে মানে,
— কি আসলে মানে? ঠিক করে বলো।
— একটু কথা ছিলো আপনার সাথে।
— হ্যাঁ বলো।
ইয়ানা জোরে একটা শ্বাস নিয়ে বললো,
— আমাদের বিয়ের ব্যাপারে।
রৌদ্র কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো ইয়ানার দিকে। তারপর বললো,
— আমাদের বিয়ের ব্যাপারে?
ইয়ানা মাথা নিচু করে বললো,
— হ্যাঁ।
রৌদ্র কিছুক্ষণ চুপ থাকলো। তারপর বললো,
— কি বলতে চাও?
ইয়ানা এবার রৌদ্রের দিকে তাকিয়ে বললো,
— আপনার মনে হয় না আমাদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিয়ের কথা টা সবাইকে বলা উচিত? অনেক দিন তো হলো এবার বলা উচিত। আর কতদিন এভাবে লুকিয়ে রাখবো? ভাইয়ার বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলে আমার বিয়ে নিয়েও কিছু একটা করবে। এখনি বলছে সবাই এরপর আমার পালা।
রৌদ্র কিছু বলছে না দেখে ইয়ানা আবার বললো,
— আমি তো বলছি না কালকেই সবাইকে ডেকে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে দিতে। কিন্তু অন্তত পরিবারকে তো জানানো উচিত। আমাদের বিয়েটা হয়েছে, অথচ আমার নিজের পরিবারের মানুষগুলোই জানে না কথাটা ভাবলেই কেমন লাগে জানেন?
রৌদ্র এবার বললো,
— তুমি কি চাও?
ইয়ানা রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,
— মানে?
— মানে তুমি কি বিয়ে টা রাখতে চাচ্ছো নাকি পরিবারের সাথে কথা বলে এই ডিভোর্স দিতে চাচ্ছো। কোনটা?
ইয়ানা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো রৌদ্রর দিকে। ডিভোর্স কথা তো সে মাথায়ই আনতে পারে না। কারণ সে অজান্তেই রৌদ্রকে ভালোবেসে ফেলেছে।
— কি হলো উত্তর দাও।
ইয়ানা রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,
— আপনি কি চান?
রৌদ্র ইয়ানার একটু কাছে এসে তার চোখে চোখ রেখে বললো,
— থাকার মানুষ থাকলে চাইলে তাকে তাড়িয়ে দাওয়ার সাধ্য আমার নেই।
ইয়ানা রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে থাকলো। কিছু বলতে পারছে না। রৌদ্র এত কাছে আসায় তার কেমন জানি লাগলো।
রৌদ্র কিছু বলতে নিবে এর মধ্যে দরজার দিকে তাকালে দেখলো একজন দাঁড়িয়ে আছে চোখ মুখ শক্ত করে। তাকে দেখ রৌদ্র একটু সরে আসলো। ইয়ানা রৌদ্রর তাকানো দেখে নিজে তাকিয়ে যাকে দেখতে পেলো তাতে ওর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলো।
ভয়ে ঢোক গিললো।
রৌদ্র নিজেও একটু ভয় পেলো।
(এটার আর বেশি পার্ট নেই।আর হয়তো ২_৩পার্ট আছে।আসলে এটা আমার আর তেমন লেখতে ইচ্ছে হয়না অনেক দিন গ্যাপ নাওয়ার কারণে তাই শেষ করে দিবো।তাই মিলিয়ে আনতে সময় লাগছে)
চলবে,,,,,