ফন্ট সাইজ:
থিম:
কি ভয়ংকর মায়া তোর

পর্ব 45

লেখক: আরিফা তাসনিম তামু

#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৪৯
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু

_____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌____

কয়েকদিন পরে,,

দেখতে দেখতে আদ্র আর আহির বিয়ের সময় চলেই আসলো। আজকে তাদের গায়ে হলুদ আর কালকে বিয়ে।

নেওয়াজ বাড়ি আজকে ছোট ছোট ফেরি লাইট আর ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। বাড়ির চারদিকে আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা। কেউ সাজসজ্জা নিয়ে ব্যস্ত, কেউ অতিথিদের দেখাশোনা করছে, আবার কেউ গান বাজনার আয়োজন করছে।

বাড়ির মেয়েরা সবাই নিজেদের সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত। আহিকে হলুদ রঙের একটা সুন্দর শাড়ি পরিয়ে সাজানো হয়েছে পার্লার থেকে লোক আনা হয়েছে ওরাই সাজিয়েছে। আহি আয়নার সামনে বসে আছে।

শালু একবার আহির কাছে যাচ্ছে, আরেকবার বাইরে গিয়ে সবার কাজ দেখছে। তার ব্যস্ততা দেখে মনে হচ্ছে বিয়েটা আহির নয়, তার নিজের!

একবার সে আহির ঘরে যাচ্ছে, আরেকবার বাইরে গিয়ে সবার খোঁজ নিচ্ছে। এর মধ্যেই ইয়ানা তাকে ধরে বললো,

— শালু, তুই কি আজকে একটু শান্ত হয়ে থাকতে পারবি? সকাল থেকে তোকে এক জায়গায় দেখছি না।

শালু কোমরে হাত দিয়ে বললো,

— আপা, এই যে এত বড় একটা বিয়া! সবকিছু কি এমনে এমনে হইবো? কাম করার মানুষ নাই, সবাই খালি সাজতে ব্যস্ত।

ইয়ানা হাসি চেপে বললো,

— তা তুই একা কতদিকে সামলাবি?

— আমি একাই একশো।আমারে ছাড়া এই বাড়ির একটা পাতাও নড়বো না।

পাশ থেকে আহি হেসে বললো,

— তাই নাকি, শালু আপু? তাহলে আজকের সব দায়িত্ব তোমার।

শালু সঙ্গে সঙ্গে থমকে গেলো। তারপর আহির দিকে তাকিয়ে বললো,

— পরীআপা, আপনে আমার সরলতার সুযোগ লইতাছেন!

ঘরে উপস্থিত সবাই হেসে উঠলো।
ঠিক তখনই রৌদ্র ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,

— কী ব্যাপার? বাইরে থেকে মনে হচ্ছে এখানে কেউ একজন নিজের বিয়ের আয়োজন করছে।

শালু রৌদ্রকে দেখেই বলে উঠলো,

— আরে ঝাকানাকা ভাইজান! আপনে আইছেন ভালোই হইছে। আমার একটা কাম কইরা দিতে হইবো।

রৌদ্র ভ্রু উঁচু করে বললো,

— তোমার মুখে আমার প্রশংসা শুনে ভয় হচ্ছে। বলো, এবার কী বিপদে ফেলবে?

— ধুর, আপনে খালি আমারে ভুল বোঝেন। আমি কি আপনের শত্রু নাকি?

— শত্রু হলে এতক্ষণে বেঁচে যেতাম। তুমি তো আমার সাক্ষাৎ বিপদ।

শালু মুখ বাঁকিয়ে বললো,

— আপনে আমারে জ্বালাইতে খুব মজা পান, তাই না?

— অবশ্যই! তোমাকে জ্বালানোর মতো বিনোদন আর কোথায় পাবো বলো?

— তাইলে আমারে একটা সুন্দর ছবি তুইলা দেন। এমন ছবি, যেইডা দেইখা সবাই কইবো,ওয়াও নাইস, বিউটিফুল।

রৌদ্র কিছুক্ষণ শালুর দিকে তাকিয়ে থেকে চিন্তিত গলায় বললো,

— ছবি তুলবো ঠিক আছে। কিন্তু ছবিটা দেখে মানুষ যদি ভয় পেয়ে হার্ট অ্যাটাক করে।তখন দায়ভার কে নেবে?

শালু চোখ বড় বড় করে বললো,

— আপনে আমারে ভয়ংকর কইলেন?

— আরে না! তুমি তো ভয়ংকরেরও এক ধাপ উপরে। তুমি একটা চলন্ত দুর্যোগ।

আহি আর ইয়ানা হাসতে হাসতে একে অপরের গায়ে ঢলে পড়লো।

শালু এবার রাগ দেখিয়ে বললো,

— থাকেন আপনে,আমার ছবি তুলতে হইবো না। আমি নিজেই তুলমু। আমার সৌন্দর্য দেখার চোখ সবার নাই।

রৌদ্র মাথা নাড়িয়ে বললো,

— এই আত্মবিশ্বাসটা যদি আমার থাকতো, তাহলে এত দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যেতাম।

— আপনে প্রধানমন্ত্রী হইলে দেশ ছেড়ে পালাইতে হইতো।

— কেন?

— আপনার মতো পাগলের শাসনে কেউ থাকতে পারবো?

রৌদ্র বুকে হাত দিয়ে আহাজারি করে বললো,

— আহা! নিজের দেশের মানুষের কাছেই এত অপমান, আমি কোন দেশে গিয়ে বিচার চাইবো?

আদ্র ঘরে ঢুকতে ঢুকতে হঠাৎ থেমে গেলো। তার দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো আয়নার সামনে বসে থাকা আহির ওপর।

হলুদ রঙের শাড়ি বাঙ্গালী স্টাইলে পড়া, খোলা চুলে আর মুখভরা লাজুক হাসিতে আহিকে আজ অন্যরকম লাগছে। যেন হলুদের আভায় মেয়েটার পুরো মুখটাই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

আদ্র কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। চারপাশে এত মানুষের কথাবার্তা, হাসাহাসি,কোনো কিছুই যেন তার কানে পৌঁছাচ্ছে না। তার চোখজুড়ে শুধু একজনই।

তার সেই ছোট্ট ফুলটা।আজ কতবড় হয়ে গেলো। আজ একান্তই তার হতে চললো।

যে মেয়েটাকে একসময় নিজের চোখের আড়াল হতে দিতে চাইতো না, আজ সেই মেয়েটাই তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় হয়ে উঠেছে। কাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এক পরিচয়ে পথ চলবে তারা। অথচ আহি সেই আগের মতোই একটু লাজুক, একটু অভিমানী, আর ভীষণ মায়াবী।

আহি আয়নায় আদ্রর প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েই চোখ তুলে তাকালো। দুজনের চোখাচোখি হতেই আহির ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি ফুটে উঠলো। সে সঙ্গে সঙ্গে চোখ নামিয়ে নিলো।

আদ্র ধীরে ধীরে তার কাছে এগিয়ে এলো। আহির পাশে দাঁড়িয়ে নিচু গলায় বললো,

— এভাবে তাকাতে নেই, ছোট ফুল।

আহি ভ্রু কুঁচকে মুখ তুলে তাকালো।

— কেন?

আদ্র মুচকি হেসে বললো,

— কারণ তোমাকে এভাবে দেখলে আমার যে আর চোখ ফেরাতে ইচ্ছে করে না।

কথাটা শুনে আহির গাল লাল হয়ে উঠলো। সে চোখ নামিয়ে আস্তে করে বললো,

— আপনি না একদম অসহ্য!

আদ্র একটু ঝুঁকে তার কানের কাছে ফিসফিস করে বললো,

— তোমার কাছে অসহ্য হলেও, সারাজীবন তোমার হয়েই থাকতে চাই।

আহি আর কোনো উত্তর দিতে পারলো না। শুধু ঠোঁটের কোণে হাসিটা ধরে রেখে মাথা নিচু করে রইলো।

আদ্র তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে মনে মনে বললো,
কাল থেকে সবাই আমাদের সম্পর্কের নতুন পরিচয় দেখবে, অথচ আমার কাছে তুমি সেই ছোট্ট ফুলটাই থাকবে যাকে প্রতিদিন নতুন করে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে।

শালু ইয়ানার হাত খামচে ধরে ফিসফিস করে বললো,

— আপা, আপনে ওইদিকে তাকান বড় ভাইজানরে দেইখা মনে হইতাছে, দুনিয়ায় আর কোনো মানুষ নাই।

ইয়ানা তাকিয়ে দৃশ্যটা দেখে মুচকি হাসলো। তারপর একটু জোরেই বললো,

— ভাইয়া আমরা কিন্তু আছি এখনও এখানে।

ইয়ানার কথা শুনে আদ্র যেন একটু হুঁশ ফিরে পেলো। সে গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,

— তোরা আছিস, তো কী হয়েছে?

ইয়ানা দুষ্টুমি করে বললো,

— না, কিছু না। আমরা তো শুধু ভাবছিলাম,কখন জানি তুমি সেন্সলেস হয়ে যাও।তোমার হাবভাব মোটেও ঠিক লাগছে না।একটু কম করে তাকাও।

কথাটা শুনে সবাই হেসে উঠলো।

রৌদ্র সঙ্গে সঙ্গে আদ্রর কাঁধে হাত রেখে বললো,

— ভাই, কালকের জন্য আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখিস। না হলে বিয়ের আসরে বউ দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে কিন্তু আমাদের মানসম্মান থাকবে না।

আদ্র চোখ রাঙিয়ে বললো,

— আজকের দিনে অন্তত তোর মুখটা বন্ধ রাখ।

রৌদ্র হেসে বললো,

— একি বলছিস তুই আল্লাহ মুখ দিয়েছে বকবক করার জন্য চুপ থাকার জন্য না।আর আমি তো তোর ভালোর জন্যই বলছি। এমন সুন্দর বউ পেয়ে তুই যে একেবারে বাকরুদ্ধ হয়ে গেছিস, সেটা তো সবাইকে জানাতে হবে। আর যাই বলিস না কেন আমার বোন এমনিতেই অনেক সুন্দর। তাই তোর জ্ঞান হারানােটা স্বাভাবিক।

শালু এতক্ষণ হাসি চেপে দাঁড়িয়ে ছিল। এবার সে বলে উঠলো,

— বড় ভাইজান, আপনে চাইলে আমি একটা পর্দা আইনা দিতে পারি। মাঝখানে পর্দা দিয়া আপনেদের দুজনকে ডাকা দিয়া পেলুম তনকা কেউ আপনেদের দেখতে পারবো না।আপনে যত ইচ্চা পরীআফার দেখতে পাইরেন। আর যত ইচ্ছে জ্ঞান হারাইতে পাইরেন।

আদ্র এবার শালুর দিকে তাকিয়ে বললো,

—কথায় আছে না সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ তুই। কতবার বলেছিস রৌদ্রের আশেপাশে কম দেখবি দেখলি তো এখন তোর মুখ ওর মতো অটো চলে।

রৌদ্র সঙ্গে সঙ্গে তেতে উঠলো

—এই একদম আমার মুখ নিয়ে কথা বলবি না। তোর মতো তো আর বাঁদর মুখো হয়ে চুপ থাকতে পারি না।এই বনু দেখ তোর জামাই কি বলে তোর ভাইকে অপমান করছে।এই জামাই বড্ড দুষ্টু

তারপর আদ্রের দিকে চেয়ে বলে

—বোনের জামাই হিসেবে তোকে আমার পছন্দ হয়নি।শুধু আমার বোনের খুশির জন্য মেনে নিছি।

আদ্রও মুখ বেঁকিয়ে বলে

—সমন্দী হিসেবেও তোকে আমার পছন্দ হয়নি। শুধু বউটা কষ্ট পাবে বলে চুপ ছিলাম।

আহি আদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,

— উফ আপনি চুপ করুন তো।

আদ্র গাল ফুলিয়ে বাচ্চাদের মতো করে বলে।

— চুপ থাকতেই চেয়েছিলাম বউ কিন্তু তোমার ভাইটা তো শয়তানের এককাঠি উপরে চলে ওর জন্য কি আর চুপ থাকা যায়.?একটু পর পর লাড়া দেয়।একটু বউটাকে ভালো মতো দেখবো তাও পারছি না।

রৌদ্র বুকের ডান পাশে হাত রেখে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,

— উফ রে! বুকটায় কেমন জানি করতেছে! মনে হয় আর বাঁচবো না।

ইয়ানা ভ্রু কুঁচকে রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,

— রৌদ্র ভাই, বুকে ব্যথা বাম পাশে হয়, ডানে না।

রৌদ্র থতমত খেয়ে বুকের ডান পাশ থেকে হাত সরিয়ে বাম পাশে রাখলো।

— আসলে আমার মন টা অনেক বড় তো তাই বামের ব্যাথা ডানেও ছড়িয়ে গেছে উষ্ঠা খাওয়ালী।

শালু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো,

— হায় হায়! ব্যথাও দিক বদলায়! ভাইজান, আপনের অবস্থা তো সুবিধার লাগতাছে না।

রৌদ্র বিরক্ত হয়ে বলল

— ঠাঁসা পড়া আলু শালুর জন্য একটু এক্ট্রিং ও করতে পারলাম না।জীবন ততদিনই সুন্দর ছিলো যতদিন পঁচা আলুর পা পড়েনি নেওয়াজ বাড়িতে।

শালু গাল ফুলালো বাকি সবাই আবার একদফা হেসে ফেললো।

আতিয়া নেওয়াজ নিচ থেকে ডাকলো,

— ইয়ানা,শালু নিচে আয় তাড়াতাড়ি কাজ আছে তো।

ইয়ানা আর শালু নিচে চলে গেলো

______________________

বিয়ে বাড়িতে যেহেতু অনেক কাজ তাই বাহির থেকেও কিছু কাজের জন্য লোক আনা হয়েছে। রান্নার জন্য যেই বাবুর্চি রাখা হয়েছে তাদের সাথে আরও কয়েকজন লোক তাকে সাহায্য করছে। সেই লোকের মধ্যে মতিউর নামে একজন সাথে স্ত্রী কে বললো,

— বিয়ে বাড়ির সাজটা কিন্তু অনেক সুন্দর হইছে।

তার স্ত্রী রাহিদাও সায় জানিয়ে বললো,

— হ হ ঠিক কইছো।

এর মধ্যে একটা লোক এসে তাদেরকে বললো,

— আপনারা এখানে? আপনাদের ভিতরে বড় স্যার ডাকছে।

এই কথা শুনে দুজনেই ভিতরে গেলো।

আজিজ নেওয়াজ ডেকেছিলো তাদের সাথে কিছু কথা বলতে। কথা বলতে মতিউর হঠাৎ রৌদ্রকে খেয়াল করলো। তাকে দেখে ডেকে বললো,

— আরে ভাই আপনি এখানে?

রৌদ্র তার দিকে তাকিয়ে চিনার চেষ্টা করতে লাগলো মনে পড়তেই একটু ভয় পেলো মনে হয়।

মতিউর আবার হেসে বললো,

— আরে আপনি কেমন আছেন?

রৌদ্র একটু নরম হয়ে বললো,

— জ্বী ভালো আছি।

আজিজ নেওয়াজ রৌদ্রর দিকে তাকিয়ে বললো,

— রৌদ্র তুমি উনাকে চিনো নাকি?

রৌদ্র কিছু বলতে যাবে এর মধ্যে মতিউর বললেন,

— আরে চিনে মানে উনার বিয়া তো আমরাই দিছি।

রৌদ্র চোখটা বন্ধ করে দাড়িয়ে থাকলো। যেটার ভয় পাচ্ছিলো সে। পাশে থাকা সায়ান খান ভ্রু কুঁচকে বললেন,

— মানে? কি আবোল তাবোল বলছো। ওর তো এখনও বিয়েই হয়নি।

রাহিদা ভ্রু কুচকে বললো,

— কি যে বলেন না, উনার বউরে নিজে পাশে থাইকা কবুল বলানোর জন্য সাহস দিছি। মাইয়াডা অনেক ভয় পাচ্ছিলো। তাই মায়ের মতো আগলে নিয়ে ছিলাম।

এর মধ্যে ইয়ানা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামলো। তাদেরকে দেখে তারও পা থেমে গেলো।
রাহিদার চোখ যায় ইয়ানার দিকে সেদিকে তাকিয়ে বললো,

— ওই তো উনার বউ।

আজিজ নেওয়াজ, তরিকুল নেওয়াজ, সায়ান খান রাইসা বেগমরা কিচেন থেকে সব শুনছে।সবাই যে পাথর হয়ে গেলো।সায়ান খান ছেলের দিকে তাকিয়ে থমথমে কন্ঠে বলল

— উনারা যা বলছে তা কি সত্য রৌদ্র.?

রৌদ্র মাথা নিচু করে উওর দিলো

— জ্বি আব্বু।

এক মুহূর্তে পুরো ড্রয়িংরুম স্তব্ধ।

আজিজ নেওয়াজের হাত থেকে চায়ের কাপটা টুং করে শব্দ করে পড়তে গিয়েও পড়লো না, তরিকুল নেওয়াজ চশমা ঠিক করলেন,সায়ান খান নড়েচড়ে বসলেন শালু সবে পাকোড়ার প্লেট নিয়ে ঢুকছিলো — ওখানেই ফ্রিজ হয়ে গেলো।

আর রৌদ্র? রৌদ্রর মুখের রঙ সাদা।

ইয়ানা সিঁড়ির মাঝখানেই জমে গেছে। তার হাত সিঁড়ির রেলিং শক্ত করে ধরে আছে, হাত পা ভীষণ ভাবে কাঁপছে।

আজিজ নেওয়াজ ধীরে ধীরে বললেন —

—আমি বলছি,,

সবাই সিঁড়ি দিকে তাকালো।আদ্র নামছে। আদ্র এসে সবার সামনের দাঁড়ালো রৌদ্রের দিকে এক পলক চেয়ে চোখের ইশারায় টেনশন করতে বারণ করলো।

সায়ান খান আদ্রের দিকে চেয়ে বলল

— তুমি জানতে আদ্র?তবে আগে বলোনি কেনো?

আদ্র শ্বশুরে দিকে চেয়ে বলল

—আসলে আব্বু আমিও জানতাম না কিছু দিন আগে জেনেছি। ওরা দুজনই ভয়ে কাউকে কিছু বলে নি।

তার পর একে একে রৌদ্রের বিয়ের সব আদ্র সবাইকে বলল।সবটা শুনে সবাই থতমত মুখে বসে আছে।আদ্র বাবার দিকে তাকিয়ে বলল

—আব্বু আমার রৌদ্রকে বোনের জামাই হিসেবে পছন্দ। বাকিটা তোমাদের ব্যাপার মেনে নিবে কী নিবে না। আমার বোন যেখানে সুখে থাকবে আমি ওকে সেখানেই রাখবো। আর সবচেয়ে বড় কথা ওরা দুজন দুজনকে ভালো বাসে।

আজিজ নেওয়াজ গম্ভীর কন্ঠে ইয়ানাকে ডাকলেন

— এদিকে আসো।

ইয়ানা ভাইয়ের দিকে তাকালো আদ্র ইশারায় যেতে বললো।ইয়ানা কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে গেলো।আজিজ নেওয়াজ গম্ভীর কন্ঠে মেয়েকে জিজ্ঞেস করলেন

— রৌদ্রকে তোমার পছন্দ.? এই বিয়েতে তোমার সম্মতি আছে?

ইয়ানা রৌদ্রের দিকে তাকালো।রৌদ্র শান্ত চোখে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। ইয়ানা মাথা নিচু করে বলল

—জ্বি আব্বু।

আজিজ নেওয়াজ এবার রৌদ্র কে বললেন

—আমার মেয়েকে জীবন সঙ্গী হিসেবে তোমার কী পছন্দ?

—জ্বি আংকেল।

রৌদ্র সঙ্গে সঙ্গে উওর দিলো।আজিজ নেওয়াজ বললেন

—তবে আংকেল ডাকছো কেন?বাবা ডাকো শ্বশুর হই তোমার একটা মাএ মেয়ের জামাই তুমি আমার। মেয়ের জামাই হিসেবে তোমাকে আমার ভীষণ মনে দরেছে।

আসেন বেয়াই কোলাকুলি করি। হাসতে হাসতে সায়ান খান আর তিনি কোলাকুলি করলেন।সায়ান খান ছেলের দিকে চেয়ে বললেন

— একটা বার আমাকে বলতে পারতে আমি কী তোমার কোনো কিছুতে বাদা হয়েছি?যাই হোক আমি আর আজিজ ভাই কয়েক মাস আগে তোমার আর ইয়ানা মামুনির বিয়ে নিয়ে কথা বলেছিলাম।তোমরা রাজি থাকলেই হবে। তার পর কিছু দিন যেতেই আদ্র এসে তোমাদের বিয়ের ব্যপারটা জানায়।আমরা অপেক্ষা করেছিলাম কবে তুমি বলবে।কিন্তু বলোনি।তাই এতক্ষণ একটু নাটক করলাম। শুধু কী তোমরাই নাটক করতে পারো?আমরাও পারি। সে যাই হোক বউমা হিসেবে আমার ইয়ানা মামুনিকেই চাই।

বলেই তিনি হাসলেন। রৌদ্র অবাক হয়ে আদ্রের দিকে তাকালো।আদ্র শুধু হাসলো রৌদ্রও হেঁসে দিলো।কিচেন রুমে রাইসা খান আর আতিয়া নেওয়াজ ও বেশ খুশি মনে গল্প জুড়িয়ে দিলেন বেয়াইন বলে কথা।শালু শিষ বাজাতে বাজাতে আহির রুমে গেলো। খবর প্রচার করতে।সবাই যখন ব্যস্ত নিজ নিজ কথা তখন রৌদ্র ইয়ানার দিকে তাকালো। ইয়ানা আগে থেকেই তাকিয়ে ছিলো।রৌদ্র সবার আড়ালে চোখ মারলো।ইয়ানা লাজুল হাসলো।সেভেবে প্রায় না এই লোকের এতো বাঁদরামি আসো কই থেকে পরিস্থিতি যেমনই হোক এই লোকের হাসি আর ফালতু কথা গুলো থাকবেই।

(আর মাএ ২ টা পার্ট তার পর বিদায় নিবে আদ্র,আহি,রৌদ্র, ইয়ানা)

চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 45 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন