ফন্ট সাইজ:
থিম:
বৃষ্টি ভেজা এক সন্ধ্যায়

পর্ব 4

লেখক: নাবিলা সৈয়দ

#বৃষ্টি_ভেজা_এক_সন্ধ্যায়
#নাবিলা_সৈয়দ
৪.

নিশ্চিন্ত মনে হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে থাকা আড্রিয়ানের দিকে একবার আমি তাকিয়ে হাসলাম। ঠোঁট জোড়া হতে আমার হাসি মুছতে দিলাম না। জীবনে কোনোদিন কোনো পাগলকে স্বীকার আসতে শুনেছিলেন সে পাগল বলে? না তো? আমি আসছি স্বীকার। আমি একজন পাগল কিসিমের মেয়ে। যে নিজেকে খুব ভালোবাসে এবং আমার সাথে কেউ বিনা কারণে খারাপ করলে আমি তার অবস্থা আরো খারাপ করে দেই।

গালটা চিনচিন করছে। একগালে দুটো থাপ্পড় খেয়েছি। এটা আমার রেকর্ড এর বাহিরে। একবার আয়না দেখা উচিত। হেঁটে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই দেখলাম আমার মুখে দাগ পড়ে গেছে। থাপ্পড়টা আমার চোখের নিচে পড়ায় লাল হয়ে আছে। সকাল হতে হতে বেগুনি রঙের হয়ে যাবে আমার ধারণা। আমার ধারণা কখনো ভুল প্রমাণিত হয় না। সেই যা হোক, বর্তমানে আড্রিয়ানকে কীভাবে শাস্তি দেওয়া যায় আমি ভাবছি। আমার ভাবনার সুঁতো খুব একটা দীর্ঘ হলো না, হওয়ার আগেই উপায় বেরিয়ে গেল। আপনারা জানলে অবাক হবেন আমি সেই মেয়ে যে বিয়ের দিন রাতে লাগেজে করে কাপড়, সোনা, গহণা, নিয়ে যাওয়ার বদলে নিয়ে গিয়েছিলাম একগাদা হকিস্টিক, চাকু আর বটি। আমার দু-লাগেজ ভর্তিই তাই। আব্বু আমাকে শুধিয়েছিলেন লাগেজ এত ভারী কেন? আমি শুধু বলেছি ভারী সাজের জিনিস আর পোশাকের জন্য এত ভারী লাগেজ।

হাত পা ছড়িয়ে বসলাম লাগেজের কাছে। হাত বাড়িয়ে চেইন টেনে খুলে ফেললাম। তালা মারিনি। আমি ভুলোমনা। চাবি কোথায় রাখি ভুলে যাই, তাই চেইন লাগিয়েই নিয়ে এসেছি।

লাগেজ খুলে ফেলতেই হা করে চেয়ে থাকল। রুমের মৃদু আলোয় দেখা গেল আড্রিয়ানকে। তিনি বহু পূর্বে ঘুমিয়েছেন, তাই তার শ্বাস প্রঃশ্বাসের শব্দ ভেসে আসছে। গভীর ঘুম বলা যায়। আমি আলগোছে লাগেজ থেকে দড়ি বের করলাম। বলতে ভুলে গিয়েছিলাম দড়ি ও নিয়ে এসেছিলাম। কখন কী কাজে লেগে যায় তা বলা মুশকিল।

আসলে আমি যখন জানতে পারলাম আমার বিয়ে একটা বড় পরিবারে হয়েছে তখনই বুঝে গিয়েছিলাম এখানে আমার শত্রুর অভাব হবে না। বিশেষ করে বুড়ি প্রজাতির মহিলা আর সম্পর্কে ভাবী গুলা।। এরা হয় উচ্চ মাত্রার মাদারবোর্ড ওর মাদারচুদ। বুড়িরা হয় নাতী বলতে অজ্ঞান। নাতবউকে চায় নিজের ছেলের বউয়ের ন্যায়। উঠতে বললে উঠতে হবে, বসতে বললে বসবে। আর ভাবীরা দেবর দেবর বলে মুখে ফ্যানা তুলে ফেলে। যেগুলা বেশি বেশি দেবরের কথা মুখে নেয়, ওগুলাকে আমার সন্দেহ হয়। কোনো প্রকার সম্পর্কে আবার লিপ্ত নয় তো এরা। যাই হোক, আমার স্বামীর সম্পর্ক থাকলেও আমার কিছু যায় আসে না। আমি আসলে ভালো মানুষ না। খোলা মনের মানুষ। জামাই নিয়ে চলে যাক তাতে আমার বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই৷ শুধু আমার সাথে পুংটামি করতে আসলেই আমি পুংটামি উচ্চমাত্রায় পৌঁছে যাই।

বহু পুরোনো এক ঘটনা। বাসে উঠেছিলাম। এক বদমাশ লোক আমার গায়ে খারাপভাবে হাত দিয়েছিল, এজন্য বাসের ভেতরই ব্যাটাকে এমনভাবে শিক্ষা দিলাম, সোজা হয়ে দাঁড়ানোর অবস্থায় দাঁড়ানো কী ভুলে গেছিল প্রায়। মানুষ বয়স্কদের সম্মানার্থে তাদের কিছু বলে না, আমি বাবা সেরকম না। আমাকে কোনো বুড়ি একটা থাপ্পড় মারলে আমি তাকে দশটা থাপ্পড় ফিরিয়ে দেই। এমন ঘটনা অহরহ। বুড়িরা আমার হাতের থাপ্পড় পর্যন্ত খেয়েছে।

আমি চরম পর্যায়ের বেয়াদব। মানুষ আমাকে নিয়ে কী ভাবল তাতে আমার কিছু যায় আসে না। সবাই বলে না এইয ইজ আ নাম্বার? আমি ও এইযকে নাম্বার হিসেবে নিয়েছি। বুড়ো, জোয়ান, বাচ্চা আমরা সবাই সমবয়সী। তাই একে অন্যকে থাপ্পড় মারতেই পারি।

ইস কাজ রেখে ভাবনা ভাবছি। আমি আমার এই অতিরিক্ত ভাবনার কারণে একদিন চরম দূর্ভোগে পড়ব। একটা কাজ করতে এসে আরেকটায় চ্যাগাইয়া যাই। এখন, এই মুহুর্তে লাগেজ থেকে দড়ি বের করা জরুরী৷ তাই টেনে হিঁচড়ে দড়িটা বের করলাম। তারপর সুন্দর মতো বেঁধে ফেললাম আড্রিয়ানের হাত পা খাটের সাথে। ব্যাটা তখনো নিশ্চিন্তের ঘুম ঘুমাচ্ছে। আমার স্পর্শ করায় নড়েছিল সামান্য, কিন্তু জেগে উঠেনি। দড়ি ধরে ভালো করে টেনে দেখলাম খুলে যাওয়ার সম্ভবনা কতটুকু। নেই বললেই চলে।

ব্যাটাকে ধাক্কা দিলাম তোলার জন্য ব্যাটা উঠল না। তাই না চাইতেও ঘুমন্ত ব্যক্তির মুখে একগাদা জল ঢেলে দিলাম। ব্যাটা চোখ মুখ ঝাড়া মেরে উঠে বসতে চাইল পারলেন না। মুখটা শুকনো। হঠাৎ পানি ঢালায় ভয় পেয়েছেন নাকি? হয়তো পেয়েছেন। হাতটা দিয়ে মুখ মুছতে যেতেই বুঝলেন আমার অপ্রিয় স্বামী আমি উনি বেঁধে রাখা। খ্যাঁকিয়ে উঠতে চাইলেন, পারলেন না। হয়তো বিস্ময়ের অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন। আমি ততক্ষণে লাগেজের সামনে গিয়ে বসেছি। হা করে লাগেজের ঢালা খুলে রাখা। আরাম করে ছুরি, বটি, কাচি বের করে রাখলাম মেঝেতে। সুন্দর করে সাজিয়ে। আড্রিয়ানের চোখ বেরিয়ে মাটিতে যেন গড়াগড়ি খেল। তিনি টু শব্দটি করতে পারলেন না। আমার দিকে হতবিহ্বল চোখে তাকিয়ে থাকার মধ্যেই আমি হকিস্টিক নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। উনি বহু কষ্টে হয়তো গলায় শব্দ আনলেন, জিজ্ঞেস করলেন আমাকে,”হকিস্টিক দিয়ে কী করতে চাইছ তুমি?

আমি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে এগিয়ে গেলাম। বিছানার উপর এক পা রেখে হাসলাম একপেশে। উনার মস্তিষ্ক ততক্ষণে আমাকে ভয় পেতে শুরু করেছে। নাহলে চিৎকার করা ভুলে এমন করে তাকিয়ে থাকতে পারতেন না। উনার চাহনির ভেতরই আমি উত্তর দিলাম বিকারহীন গলায়,”আপনাকে জামাই আদর করব, জামাই আদরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, আপনি ও নেন আমার অপ্রিয় স্বামী।

এরপর আর একটা শব্দ ব্যয় করতে পারলেন না উনি, মুখে কস্টিপ টেনে দিলাম৷ পা, হাত দুটো শক্ত করে বাঁধায় নড়ার যো নেই। উনাকে অবাকের চরম সীমানায় পৌঁছে দিয়ে আমি ইসাবেলা হকিস্টিক দিয়ে উনার হাঁটুর হাড়ে এমন জোরে বারি বসালাম, সেই বারিতে উনার মুখ চিড়ে যে শ্বাসরুদ্ধকার চিৎকার বেরোল তাতে আমি পৈশাচিক আনন্দ পেলাম।

আমি ছিলাম চৌধুরীর বাড়ির প্রথম বউ যে সোনা, গহণা, টাকা, পয়সা, কাপড় নিয়ে আসার বদলে, নিয়ে এসেছিলাম, ছুরি, চাকু, কাচি বটি আর হকিস্টিক। হাউ নাইস…

_
অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে বিয়ের প্রস্তাবে রাজী হওয়ায় দাদাজান ভীষণ রাগ করেছিলেন আমার উপর৷ আমি দাদাজানের সেই রাগ গা করলাম না। সব জেনেও বিয়ের পীড়িতে বসলাম।আমার আর আড্রিয়ানের সম্পর্ক ততদিনে সাপে নেউলে। আড্রিয়ান আমাকে কেন বিয়ে করেছে তা এখনো পর্যন্ত আমি জানি না, কিন্তু রাজী হয়েছিল সে। বিয়ের দিন যখন পাত্রের হাতে আমার হাত তুলে দিলেন বাবা তখন আমার শ্বশুর মশাই বারবার ক্ষমা চাইলেন। আর বললেন,’আপনার মেয়ের জীবনটা এভাবে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য আমাদের ক্ষমা করে দিয়েন। আমার আর কোনো উপায় ছিল না। আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

কিন্তু আমার বাবা, বন্ধুর কথার বিপরীতে এমন কিছু শব্দ বললেন যা শোনে আমার লজ্জায় নিজের বাবার মাথা ফাটিয়ে ফেলার ইচ্ছে হলো। উনি বললেন,”না না ভাই কী বলেন, আমাদেরই ক্ষমা চাওয়া উচিত। আপনাদের সুখ শান্তি আজ থেকে শেষ করে দেয়ার জন্য। ইসাবেলার মতো মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়ে আপনি আপনার ছেলের জীবন ধ্বংসের মুখে ফেলছেন তা মেনে নিতে আমার খুবই হৃদয়ে বাঁধছে৷ আমি আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। পারেন যদি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।

আড্রিয়ানের বাবা রিয়াদ চৌধুরী তা কানেই তুললেন না। বারবার আমার বাবার কাছে ক্ষমা চাইলেন। আমার বাবাও বারবার ক্ষমা চাইলেন, উনাদের সুখ শান্তি নাকি আমি শেষ করে দিবে বলে। বাবা আর শ্বশুর মশাইয়ের নাটক আরো মিনিট দশেক চলল। তা দেখার আমার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে ছিল না, তাই একাই গাড়িতে চড়ে বসলাম। তখনো আমার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা বিদায় নিচ্ছিল সবার কাছ থেকে। এইসব প্যানপ্যানানি আমার মোটেও সহ্য হলো না। ড্রাইভারের দিকে তাকিয়েই বললাম আমি,”ভাই গাড়ি ছাড়েন তো। এখানে আর থাকার দরকার নাই। চলেন, আপনাদের চৌধুরী ম্যানশনে চলেন।

ভদ্রলোক হতবম্ব মুখে মিররের দিকে তাকালেন। আমি দু-হাত ছড়িয়ে রাজার আসনে বসে বললাম,”হা করে না তাকিয়ে গাড়ি ছাড়েন,মিয়া৷ বরযাত্রী যেতে আরো দেরি হবে। আপনি আমাকে আমার শ্বশুর বাড়িতে দয়া করে পৌঁছে দেন। এই বাড়ি আর ভালো লাগতেছে না।

আমার জোরাজুরিতে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ড্রাইভার গাড়ি ছাড়ল। অতঃপর আমি নিজের বরযাত্রীকে পেছনে রেখে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। পেছনে দাঁড়ানো শ্বশুর বাড়ির লোক হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিল আমি সাইড মিররে দেখেছি। হা করে এদিকেই তাকিয়ে ছিল। আমি এসব বাতাসের গতিতে উড়িয়ে দিয়েছি।

আমি ওই বাড়িতে একা একা প্রবেশ করলাম। তারা বুঝতেই পারল না যেদিন আমি এই বাড়িতে পা রেখেছিলাম সেদিন থেকেই ওদের সুখ শান্তি, নিশ্চিন্ততার দিন ফুরিয়ে এসেছিল চিরতরে।

_

আকাশে আজ মস্তো বড় সূর্য উদয় হয়েছে। তার আলো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে ধীরে ধীরে। ঘড়ির কাটায় দশটা বাজতে চলল। তখনো আমার ঘর থেকে কোনো সারাশব্দ না পেয়ে বাড়ির বুড়ি শান্তি চৌধুরী নিজের বড় নাত বউকে পাঠানোর জন্য ডাক দিলেন। ডাক দিতেই সদর দরজা ঠেলে ভেতর প্রবেশ করলাম আমি। নিমেষেই ড্রয়িং রুমের সবার দৃষ্টি ঘুরে গেল আমার দিকে। আমাকে দেখে কেউই বলতে পারল না আমি যে নতুন বউ। গায়ে একটা কুঁচকানো শার্ট, যাতে তিনটা ফুটোও আছে। চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে এসে ধড়াম করে বসতে যাবো শান্তি চৌধুরী আমাকে থামিয়ে দিলেন হাত তুলে। ব্যাপারটা নজরে পড়তেই ঠোঁট নাড়িয়ে বিশ্রী ভাষায় গালি দিলাম আমি। খবিস বুড়িটা তা বুঝল না, তাই শুধাল,”নাত বউ এত দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে কেন? আর সকাল সকাল চোখে চশমা লাগিয়েছ কেন?

আমি উত্তর দিলাম না। হাসলাম দাঁত বের করে বুড়ির দিকে তাকিয়ে। সময় নিয়ে নিজের চোখ থেকে চশমা খুলে নিতেই, চোখের নিচে গতকালের মারের জন্য দাগ পড়ে যাওয়ার আস্তরণ দেখা গেল৷ অবাক হয়ে আমাকে শান্তি চৌধুরী কিছু শুধাতে যাবেন তার পূর্বেই আমার শ্বশুর রিয়াদ চৌধুরী শুধালেন,"আপনার মুখের এ অবস্থা কেন বৌ-মা।

আমিয় আবার হাসলাম। স্বর নির্লিপ্ত রেখেই বললাম,
"আপনার ছেলে আমাকে থাপ্পড় মেরেছে।

শান্তি চৌধুরী আশপাশ দেখলেন। না কোথাও তার নাতি নেই। তিনি জানতেন আমি ইসাবেলা তিন মাস রিহ্যাবে ছিলাম মাথায় সমস্যার জন্য। তাই মনে ভয় খেলে গেল। তার নাতীর কিছু হয়নি তো? চোখ চারিদিকে বোলানোতে ব্যস্ত রেখে অস্বাভাবিক কড়া কন্ঠে জানতে চাইলেন,"আর আপনি কী করেছেন নাত-বৌ?

আমি ঠোঁট এলিয়ে হেসে উত্তর দিলাম,
"বেশি কিছু করিনি, আপনার নাতির এক পা শুধু ভেঙে দিয়েছি।

কথাটা শেষ হতেই বাড়ির সবার চলন্ত পা ছুটন্ত চোখ আমার দিকে স্থির হলো। নিজেকে কেন্দ্রবিন্দু মনে হলো আমার। এই বাড়ির সেলিব্রেটি। দোষ করে এত নির্লিপ্ততা নিয়ে এর আগে মনে হয় কাউকে দোষ স্বীকার করতে দেখেননি বলেই একটু অবাক হলেন সবাই। আড্রিয়ানের রুমের দিকে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতেই আমি নিজ দায়িত্বে গিয়ে নিয়ে আসলাম আড্রিয়ানকে। হুইল চেয়ার ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই বাড়ির ছোট সদস্য জেরেমি হো হো করে হেসে উঠল। চোখ রাঙিয়ে ওর বাবা ডেনিয়েল চৌধুরী তাকাতেই মুখে জিপার টেনে নিল বাচ্চাটা।

এক পায়ে ব্যান্ডেজ করে রাখা আড্রিয়ানের । মুখটা রাগে লাল হয়ে আছে। আড্রিয়ানের দাদি শান্তি চৌধুরী বিভৎসভাবে আহাজারি করে উঠে বললেন,”"হ্যাঁ ইশ্বর আমার নাতীর এ-কী সর্বনাশ হলো! নাত বউ আপনি এ কী অলূক্ষণে কাজ করেছেন? আপনার একটু ও মায়া হয়নি আমার নাতীর জন্য?

আমি কাঁধ ঝাঁকালাম। বললাম," আমি কিছু করতে চাইনি, আপনার নাতীই আমাকে বাধ্য করেছে তার এই হাল করতে।

প্রশ্ন শুধালেন বয়স্কা,"কীভাবে সে আপনাকে বাধ্য করেছে?

আমি ভীষণ নিষ্ঠুরতার সাথে বললাম,"আপনার নাতী আমাকে থাপ্পড় মেরেছে, আমি তার ঠ্যাং ভেঙে দিয়েছি। হিসেব সমান। আমি কখনো কারোর ঋণ ফেলে রাখিনা। তাকে আমি নিষেধ করেছিলাম বারবার আমার সাথে পুংটামি না করতে, কিন্তু সে রীতিমতো পুংটামি করছিল, আর আমি পুংটাদের সোজা করতে খুব ভালো জানি। জীবনে অনেক পুংটা পুংটিকে মেরে সোজা বানিয়েছি।

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন