### তোর আসক্ত আমি
লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা
পর্ব সংখ্যা: ৪
### মনের অজান্তে অধিকার
সকালের আলো ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। মায়া বিছানায় শুয়ে ফোনে ব্যস্ত। হঠাৎ নীলার ফোন এল।
মায়া ফোন রিসিভ করে বলল,
— হ্যালো, কী হয়েছে?
নীলা উত্তেজিত কণ্ঠে বলল,
— আজ বিকেলে আমার সঙ্গে দেখা করবি।
— কেন? কী হয়েছে?
— সব কথা কি ফোনে বলা যায়? সামনে আয়, তারপর বলব।
মায়া হেসে বলল,
— আচ্ছা বাবা, যাব।
ফোন রেখে মায়া নিচে চলে গেল।
নাশতার টেবিলে বাবা বসে ছিলেন। মায়াকে দেখে বললেন,
— মা, আজ বিকেলে আমার একটা কাজে বাইরে যেতে হবে। তুই কি তোর মায়ের সঙ্গে একটু বাজারে যেতে পারবি?
মায়া মাথা নেড়ে বলল,
— পারব বাবা।
মা খাবার দিতে দিতে বললেন,
— আর শোন, ফেরার সময় আমার জন্য কিছু ওষুধ নিয়ে আসবি।
— ঠিক আছে মা।
অন্যদিকে খান বাড়িতে...
শাহজাদ নাশতা শেষ করে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার ছোট বোন দৌড়ে এসে বলল,
— ভাইয়া, আজ কখন ফিরবেন?
— কেন?
— আপনার সঙ্গে একটা জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল।
— কোথায়?
— সেটা পরে বলব।
শাহজাদ বোনের মাথায় হাত রেখে বলল,
— আচ্ছা, আজ তাড়াতাড়ি ফেরার চেষ্টা করব।
বোন খুশি হয়ে চলে গেল।
অফিসে পৌঁছে শাহজাদ নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই তার ফোনের দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল।
রায়হান কেবিনে প্রবেশ করে বলল,
— স্যার, মিটিংয়ের সময় হয়ে গেছে।
শাহজাদ ফাইল বন্ধ করে বলল,
— চলো।
মিটিং শেষে দুপুরে নিজের কেবিনে ফিরে সে ফোন হাতে নিল। অজান্তেই মায়ার নম্বরটি খুলে ফেলল।
কিছুক্ষণ ভেবে একটি মেসেজ লিখল।
'কেমন আছেন?'
মেসেজ পাঠিয়ে সে ফোনটা টেবিলে রেখে দিল।
এদিকে মায়া তখন নীলার সঙ্গে দেখা করতে বের হয়েছে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ফোনে মেসেজটি দেখতে পেল।
নাম দেখে সে একটু অবাক হলো।
শাহজাদ খান!
মায়া মুচকি হেসে উত্তর দিল,
'আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?'
কিছুক্ষণ পর শাহজাদের উত্তর এল,
'ভালো আছি।'
নীলা পাশে দাঁড়িয়ে সব লক্ষ করছিল।
— কার সঙ্গে কথা বলছিস?
মায়া ফোন লুকিয়ে বলল,
— কারও সঙ্গে না।
নীলা চোখ ছোট করে বলল,
— মিথ্যা বলিস না। নিশ্চয়ই সেই শাহজাদ সাহেব!
মায়া হেসে ফেলল।
— তুই এত কিছু বুঝিস কীভাবে?
— কারণ তোর মুখ দেখলেই সব বোঝা যায়!
দুজনেই হেসে উঠল।
বিকেলে মায়া মায়ের সঙ্গে বাজারে গেল। প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পর ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়াল। ঠিক তখনই পেছন থেকে পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এল।
— মায়া!
মায়া ঘুরে তাকিয়ে দেখল শাহজাদ দাঁড়িয়ে আছে।
— আপনি এখানে?
— একটা কাজে এসেছিলাম। আপনি?
— মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে এসেছি।
শাহজাদ বলল,
— আচ্ছা। আপনার মা কেমন আছেন?
— ভালো আছেন। আপনার মা?
— তিনিও ভালো আছেন।
কথা বলতে বলতে শাহজাদের মা রেহানা বেগম এগিয়ে এলেন। তিনি মায়াকে দেখে হাসিমুখে বললেন,
— তুমি কি মায়া?
মায়া একটু অবাক হয়ে বলল,
— জি, আন্টি।
— শাহজাদের মুখে তোমার নাম শুনেছি।
শাহজাদ সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— মা!
রেহানা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।
মায়া লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল।
রেহানা বেগম স্নেহের সঙ্গে বললেন,
— কেমন আছো মা?
— জি, ভালো আছি।
— তোমার মায়ের সঙ্গে একদিন দেখা করতে হবে।
মায়া হাসিমুখে বলল,
— অবশ্যই আন্টি।
ঠিক তখন মায়ার মা দূর থেকে ডাক দিলেন,
— মায়া, কোথায় গেলি?
মায়া বলল,
— মা ডাকছেন। আমি তাহলে যাই।
শাহজাদ মাথা নেড়ে বলল,
— ঠিক আছে। সাবধানে যাবেন।
মায়া চলে যাওয়ার পর রেহানা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— মেয়েটা বেশ মিষ্টি স্বভাবের।
শাহজাদ হালকা হেসে বলল,
— হ্যাঁ মা।
— কী ব্যাপার বাবা, তোমার মুখে আজকাল হাসি বেশি দেখা যায়!
শাহজাদ কিছু না বলে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
রাতে মায়া নিজের ঘরে বসে ছিল। হঠাৎ শাহজাদের মেসেজ এল।
'আজ আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল।'
মায়া উত্তর দিল,
'আমারও ভালো লাগল। আপনার মায়ের সঙ্গে দেখা হয়ে আরও ভালো লাগল।'
শাহজাদ লিখল,
'মা আপনাকে পছন্দ করেছেন।'
মায়া মুচকি হেসে লিখল,
'আন্টি খুব ভালো মানুষ।'
এরপর দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ সাধারণ কথাবার্তা হলো।
ফোন রেখে শাহজাদ জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। তার মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
অন্যদিকে মায়াও ফোনটা বালিশের পাশে রেখে শুয়ে পড়ল।
তার মনে আজ একটি প্রশ্ন ঘুরছিল—শাহজাদ কি শুধু পরিচিত হিসেবেই তার সঙ্গে কথা বলে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অনুভূতি আছে?
উত্তরটা তখনো অজানা।
তবে দুজনের পরিচয় যে ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে, তা আর অস্বীকার করার উপায় নাই।
পরদিন সকালে শাহজাদ ঘুম থেকে উঠেই ফোন হাতে নিল। মায়ার কোনো মেসেজ এসেছে কি না, দেখতে লাগল। কিন্তু কোনো মেসেজ নেই।
এদিকে মায়া নিজের ঘরে বসে পড়াশোনা করছিল। হঠাৎ ফোনে শাহজাদের মেসেজ এল।
— কী করছেন?
মায়া উত্তর দিল,
— পড়ছি। আপনি?
— আপনাকে বিরক্ত করছি।
মায়া হেসে লিখল,
— বিরক্ত করছেন না।
শাহজাদ মেসেজটি পড়ে মুচকি হাসল। তার মনে হলো, মেয়েটির সঙ্গে কথা বললে সারাদিনের ক্লান্তি যেন কমে যায়।
শাহজাদ আবার মেসেজ দিল,
— আজ কি আপনার সঙ্গে একটু দেখা করা যাবে?
মায়া কিছুক্ষণ ভেবে উত্তর দিল,
— কেন, কোনো প্রয়োজন?
— প্রয়োজন না থাকলে কি দেখা করা যায় না?
মায়া মেসেজটি পড়ে হেসে ফেলল। তারপর লিখল,
— দেখা হলে না হয় কথা হবে।
শাহজাদের মুখে হাসি ফুটে উঠল।
কেউ কপি করবেন না,
আশা করি ভালো লাগবে এই উপন্যাস টি
আমার সুন্দর একটা উপন্যাস
চলবে... ❤️