ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 5

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

এবার ৫ নম্বর পর্বটি বড় করে দিলাম। ❤️ ৯০০ শব্দের লক্ষ্য রেখে লিখেছি, যাতে আগের পর্বগুলোর চেয়ে ছোট না হয়।

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ৫

### একটু কাছে আসা

সকালের মিষ্টি রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে মায়ার ঘরে প্রবেশ করছে। মায়া তখনো বিছানায় শুয়ে ফোন দেখছিল। হঠাৎ ফোনে একটি মেসেজ এল।

শাহজাদ লিখেছে,

— ঘুম থেকে উঠেছেন?

মায়া মুচকি হেসে উত্তর দিল,

— জি, অনেকক্ষণ আগেই। আপনি?

— আমিও উঠেছি। আজ কী করবেন?

— তেমন কিছু না। বাসায় থাকব।

— তাহলে আজ বিকেলে একটু দেখা করা যায়?

মায়া মেসেজটি পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর লিখল,

— কোথায় দেখা করবেন?

শাহজাদ উত্তর দিল,

— আপনার যেখানে যেতে ভালো লাগে।

মায়া হেসে লিখল,

— আগে মায়ের অনুমতি নিতে হবে।

শাহজাদ মেসেজটি পড়ে হাসল।

— অবশ্যই। অনুমতি নিয়েই দেখা করবেন।

মায়া ফোনটা পাশে রেখে নিচে চলে গেল।

রান্নাঘরে মা নাশতা তৈরি করছিলেন। মায়া মায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াল।

— মা, একটা কথা বলব?

মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— বল, কী হয়েছে?

— আজ বিকেলে নীলার সঙ্গে একটু বাইরে যেতে চাই।

— কোথায় যাবি?

মায়া একটু ইতস্তত করে বলল,

— একটা ক্যাফেতে। নীলা থাকবে।

মা হেসে বললেন,

— আচ্ছা, যেতে পারিস। তবে সময়মতো ফিরে আসবি।

মায়া খুশি হয়ে মাকে জড়িয়ে ধরল।

— আমার মা পৃথিবীর সেরা!

মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,

— বেশি তেল দিতে হবে না। এবার নাশতা করতে আয়।

অন্যদিকে খান বাড়িতে...

শাহজাদ নাশতার টেবিলে বসে ছিল। তার মা রেহানা বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— বাবা, আজকাল তোমাকে বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছে।

শাহজাদ স্বাভাবিক গলায় বলল,

— এমন কিছু না মা।

তার ছোট বোন পাশ থেকে বলে উঠল,

— মা, ভাইয়া নিশ্চয়ই কারও সঙ্গে কথা বলেন!

শাহজাদ চোখ বড় করে বোনের দিকে তাকাল।

— তুই চুপ করে নাশতা কর।

বোন হেসে বলল,

— দেখেছ মা! কিছু একটা তো আছেই!

রেহানা বেগম মুচকি হেসে বললেন,

— আচ্ছা, তোমরা দুজন ঝগড়া বন্ধ করো।

শাহজাদ নাশতা শেষ করে অফিসে চলে গেল।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো।

মায়া সুন্দর করে তৈরি হয়ে নীলার জন্য অপেক্ষা করছিল। নীল রঙের পোশাক, খোলা চুল আর মুখে হালকা হাসি। কিছুক্ষণ পর নীলা এসে হাজির হলো।

নীলা মায়াকে দেখে বলল,

— বাহ! আজ তো বেশ সুন্দর করে সেজেছিস!

মায়া চোখ রাঙিয়ে বলল,

— চুপ কর। এমন কিছু না।

— আমি তো কিছু বলিনি। তুই নিজেই লজ্জা পাচ্ছিস!

মায়া হেসে নীলার হাত ধরে বাইরে বেরিয়ে গেল।

ক্যাফেতে পৌঁছে দুজন একটি টেবিলে বসল। কিছুক্ষণ পর মায়ার ফোনে শাহজাদের কল এল।

মায়া ফোন রিসিভ করল।

— জি, বলুন।

শাহজাদ বলল,

— আপনি কি পৌঁছেছেন?

— জি, এসেছি।

— আমি কাছেই আছি। আপনার আপত্তি না থাকলে একটু দেখা করতে পারি?

মায়া নীলার দিকে তাকাল। নীলা ইশারায় আসতে বলল।

মায়া উত্তর দিল,

— জি, আসতে পারেন।

কিছুক্ষণ পর শাহজাদ ক্যাফেতে প্রবেশ করল। পরনে সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট। তাকে দেখে নীলা মায়ার কানে কানে বলল,

— তোর পছন্দ কিন্তু খারাপ না!

মায়া আস্তে করে বলল,

— চুপ কর!

শাহজাদ তাদের টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল।

— আসসালামু আলাইকুম।

মায়া ও নীলা একসঙ্গে উত্তর দিল,

— ওয়ালাইকুম আসসালাম।

শাহজাদ বসে বলল,

— কেমন আছেন আপনারা?

নীলা হেসে বলল,

— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। আপনি?

— ভালো আছি।

নীলা একটু মজা করে বলল,

— আপনি কি শুধু মায়ার সঙ্গেই কথা বলতে এসেছেন, নাকি আমাদের সবার সঙ্গে?

মায়া লজ্জা পেয়ে বলল,

— নীলা!

শাহজাদ হেসে বলল,

— আপনাদের সবার সঙ্গেই কথা বলতে এসেছি।

নীলা মুচকি হেসে বলল,

— বাহ! বেশ ভালো উত্তর দিয়েছেন।

তিনজনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ গল্প হলো। শাহজাদ জানতে পারল, মায়া বই পড়তে পছন্দ করে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসে এবং ছোট ছোট বিষয়েও অনেক আনন্দ খুঁজে পায়।

শাহজাদ বলল,

— আপনার কোন ধরনের বই পড়তে ভালো লাগে?

মায়া উত্তর দিল,

— গল্পের বই। বিশেষ করে ভালোবাসা আর পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে লেখা গল্প।

— তাহলে তো আপনার গল্প পড়ার অভ্যাস বেশ ভালো।

মায়া হেসে বলল,

— জি। তবে সব গল্পের শেষ ভালো হয় না।

শাহজাদ শান্ত গলায় বলল,

— কিন্তু বাস্তব জীবনে মানুষ চাইলে অনেক সুন্দর কিছু তৈরি করতে পারে।

মায়া কথাটা শুনে কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।

এমন সময় শাহজাদের ফোন বেজে উঠল। সে ফোন রিসিভ করে বলল,

— জি মা, বলো।

ওপাশ থেকে রেহানা বেগম কিছু বললেন।

শাহজাদ বলল,

— আচ্ছা মা, আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই বাসায় ফিরছি।

ফোন রেখে সে বলল,

— আমাকে এখন যেতে হবে। মা অপেক্ষা করছেন।

মায়া বলল,

— ঠিক আছে। সাবধানে যাবেন।

শাহজাদ মৃদু হেসে বলল,

— আপনিও ভালো থাকবেন।

সে চলে যাওয়ার পর নীলা মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

— কী রে, কেমন লাগল আজকের দেখা?

মায়া হেসে বলল,

— ভালোই তো।

— শুধু ভালোই?

— আর কী বলব?

নীলা হাসতে হাসতে বলল,

— একদিন তুই নিজেই সব স্বীকার করবি।

মায়া নীলার হাতে হালকা চাপ দিয়ে বলল,

— বেশি কথা বলিস না!

অন্যদিকে শাহজাদ গাড়িতে বসে ছিল। রায়হান গাড়ি চালাচ্ছিল।

রায়হান আয়নায় তাকিয়ে বলল,

— স্যার, আজ আপনাকে বেশ হাসিখুশি লাগছে।

শাহজাদ জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,

— সব সময় কি গম্ভীর থাকতে হবে?

রায়হান হেসে বলল,

— না স্যার। আপনাকে হাসতে দেখলে ভালোই লাগে।

শাহজাদ আর কিছু বলল না। তার মনে তখন মায়ার সঙ্গে কাটানো বিকেলটির কথা ঘুরছিল।

রাতে মায়া ঘরে বসে ফোন দেখছিল। হঠাৎ শাহজাদের মেসেজ এল।

— আজকের বিকেলটা সুন্দর ছিল।

মায়া উত্তর দিল,

— আমারও ভালো লেগেছে।

— আবার কখনো দেখা হবে?

মায়া মুচকি হেসে লিখল,

— সময় হলে অবশ্যই।

শাহজাদ লিখল,

— তাহলে অপেক্ষায় থাকলাম।

মায়া আর উত্তর দিল না। শুধু ফোনের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

ঠিক তখন মা ঘরে এসে মেয়েকে হাসতে দেখে বললেন,

— কী রে, আবার একা একা হাসছিস?

মায়া তাড়াতাড়ি ফোনটা রেখে বলল,

— কিছু না মা!

মা মেয়ের পাশে বসে বললেন,

— মা, জীবনে কাউকে ভালো লাগলে আগে মানুষটাকে ভালোভাবে চিনবি। শুধু কথায় নয়, তার ব্যবহারেও মানুষকে বুঝতে হয়।

মায়া মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল,

— আচ্ছা মা।

মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

এদিকে শাহজাদও নিজের ঘরে বসে মায়ের সঙ্গে গল্প করছিল। রেহানা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— বাবা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

— বলো মা।

— তোমার কি কাউকে ভালো লেগেছে?

শাহজাদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর মৃদু হেসে বলল,

— হয়তো লেগেছে মা।

রেহানা বেগম ছেলের কথা শুনে খুশি হলেন।

— তাহলে একদিন মেয়েটির সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিও।

শাহজাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

— সময় হলে অবশ্যই করাব।

সেদিন রাতে দুজনের মনেই এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছিল। কেউ কাউকে নিজের অনুভূতির কথা বলেনি, তবুও দুজনের মধ্যে তৈরি হচ্ছিল এক সুন্দর সম্পর্কের শুরু।

কিন্তু এই ভালো লাগা কি একদিন ভালোবাসায় রূপ নেবে?

নাকি অভিমান আর দূরত্বের মাঝেও তাদের সম্পর্ককে পরীক্ষা দিতে হবে?

সময়ই তার উত্তর দেবে।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন