ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 14

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ১৪

### অল্প অল্প করে কাছে আসা

সকালের মিষ্টি রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরের ভেতরে এসে পড়েছে। মায়া তখনো বিছানায় বসে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। গত রাতের শাহজাদের সঙ্গে কথাগুলো বারবার মনে পড়ছে তার।

শাহজাদ বলেছিল, তাদের সম্পর্কের কোনো নাম দেওয়ার আগে একে অপরকে ভালোভাবে জানা দরকার। কথাটা মায়ারও ভালো লেগেছে। কারণ মায়া চায় না, শুধু আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে। সে চায়, মানুষটাকে বুঝতে, তার ভালো লাগা, খারাপ লাগা, রাগ-অভিমান—সবকিছু জানতে।

হঠাৎ ফোনে একটা মেসেজ এল।

শাহজাদ: ঘুম থেকে উঠেছেন?

মায়া মুচকি হেসে উত্তর দিল।

মায়া: না, এখনো স্বপ্নের রাজ্যে আছি।

শাহজাদ: তাহলে ফোনে উত্তর দিচ্ছেন কে?

মায়া: স্বপ্নের রাজ্যের একজন প্রতিনিধি।

মেসেজটা পড়েই শাহজাদের মুখে হাসি ফুটে উঠল। অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। পাশে দাঁড়িয়ে রায়হান কিছু কাগজপত্র গুছিয়ে দিচ্ছিল।

রায়হান শাহজাদের হাসি দেখে বলল, —স্যার, আজকাল আপনাকে বেশ হাসিখুশি দেখা যাচ্ছে।

শাহজাদ ফোনটা পকেটে রেখে স্বাভাবিক গলায় বলল, —তোমার কি কোনো কাজ নেই?

রায়হান হেসে বলল, —কাজ তো আছেই স্যার। তবে আপনার এই পরিবর্তনটা চোখ এড়ায়নি।

—বেশি কথা না বলে ফাইলগুলো নিয়ে এসো।

রায়হান আর কিছু না বলে চলে গেল। শাহজাদ আবার ফোনটা বের করল।

শাহজাদ: নাশতা করেছেন?

মায়া: করছি। আপনি?

শাহজাদ: বের হচ্ছি। অফিসে গিয়ে করব।

মায়া: খালি পেটে অফিসে যাবেন না। আগে কিছু খেয়ে যাবেন।

শাহজাদ মেসেজটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। খুব সাধারণ একটা কথা, অথচ কথাটার মধ্যে যত্ন ছিল। সে উত্তর দিল—

শাহজাদ: আচ্ছা, আপনার কথা রাখলাম।

মায়া ফোনটা পাশে রেখে নাশতার টেবিলে চলে গেল।

অন্যদিকে খান বাড়িতে রেহানা বেগম সকালের নাশতা সাজাচ্ছিলেন। শাহজাদের ছোট বোনও টেবিলে এসে বসেছে।

—মা, ভাইয়া কি আজ বাসায় ফিরতে দেরি করবে?

রেহানা বেগম বললেন, —কেন রে?

—এমনিই। ভাইয়াকে একটা কথা বলার ছিল।

—কী কথা?

—বলব না। ভাইয়া এলে বলব।

ঠিক তখনই শাহজাদ নিচে নেমে এল। বোনকে দেখে বলল, —কী ব্যাপার? আমাকে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে কেন?

বোন হেসে বলল, —আপনার নামে অভিযোগ আছে।

—কী অভিযোগ?

—আপনি নাকি আজকাল ফোন ছাড়া কিছুই দেখেন না।

শাহজাদ ভ্রু কুঁচকে মায়ের দিকে তাকাল। রেহানা বেগম হাসি চাপতে চাপতে বললেন, —ওকে আর বিরক্ত করিস না। নাশতা কর।

শাহজাদ চেয়ারে বসে বলল, —তোমরা দুজন মিলে আমার বিরুদ্ধে দল বেঁধেছ দেখছি।

তার বোন হেসে উঠল।

নাশতা শেষ করে শাহজাদ মায়ের কাছে এসে বলল, —মা, বিকেলে সময় পেলে তোমার সঙ্গে একটু কথা বলব।

রেহানা বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকালেন। —কী কথা বাবা?

—একটু পারিবারিক কথা।

মা মৃদু হেসে বললেন, —ঠিক আছে। সময় করে বসব।

দুপুরে মায়া নিজের ঘরে বসে পড়ছিল। নীলা ফোন করতেই সে বই বন্ধ করে কথা বলতে শুরু করল।

—কী করছিস? নীলা জিজ্ঞেস করল।

—পড়ছিলাম।

—বাহ! আজকাল তোকে বেশ মনোযোগী মনে হচ্ছে।

মায়া হেসে বলল, —কেন?

—আগে ফোন হাতে থাকলে পড়ার কথা ভুলে যেতিস। এখন আবার পড়াশোনাও করছিস, ফোনও দেখছিস। ব্যাপারটা কী?

মায়া একটু লজ্জা পেয়ে বলল, —তুই না একদম অসহ্য!

নীলা হেসে বলল, —আচ্ছা, শাহজাদ সাহেবের খবর কী?

—ভালো।

—শুধু ভালো? আর কিছু না?

—কী বলব?

—তোদের কথা কতদূর এগোল?

মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, —আমরা এখনো একে অপরকে জানছি। তাড়াহুড়ো করতে চাই না।

নীলার গলা এবার একটু নরম হলো।

—সেটাই ভালো। তবে একটা কথা মনে রাখিস, শুধু সুন্দর কথা বললেই কাউকে ভালো মানুষ বলা যায় না। তার ব্যবহার, দায়িত্ববোধ আর সম্মান করার মানসিকতাও দেখতে হয়।

মায়া মাথা নেড়ে বলল, —জানি। আমিও তো সেটাই দেখতে চাই।

কথা শেষ হওয়ার পর মায়া আবার বই খুলে বসল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফোনে শাহজাদের কল এল।

—হ্যালো?

—ব্যস্ত আছেন?

—না, পড়ছিলাম।

—তাহলে কি একটু কথা বলা যাবে?

—বলুন।

শাহজাদ বলল, —আজ বিকেলে একটু সময় পাবেন?

মায়া অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, —কেন?

—আপনার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা হচ্ছে। তবে আপনি না চাইলে কোনো সমস্যা নেই।

মায়া একটু ভেবে বলল, —আজ বিকেলে সম্ভব হবে না। বাসায় কিছু কাজ আছে।

—ঠিক আছে। অন্যদিন হবে।

শাহজাদের কণ্ঠে কোনো বিরক্তি ছিল না। মায়া মনে মনে স্বস্তি পেল। সে বলল, —আপনি কি মন খারাপ করলেন?

—না। আপনার সুবিধাটাই আগে।

—তাহলে কাল সময় হলে দেখা করা যেতে পারে।

শাহজাদ হালকা হেসে বলল, —কালকের জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

বিকেলে শাহজাদ মায়ের ঘরে গেল। রেহানা বেগম তখন কাপড় গুছাচ্ছিলেন।

—মা, একটু বসবে?

—বলো বাবা।

শাহজাদ মায়ের পাশে বসে বলল, —তোমার মায়ার পরিবারকে কেমন লেগেছে?

রেহানা বেগম কাজ থামিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন।

—খুব ভালো লেগেছে। মেয়েটার ব্যবহার সুন্দর। তার মাও বেশ আন্তরিক।

শাহজাদ মাথা নিচু করে বলল, —আমারও মায়াকে ভালো লাগে। তবে আমি চাই, সবকিছু ধীরে এগোক। ও যেন কোনো চাপ অনুভব না করে।

মা ছেলের মাথায় হাত রেখে বললেন, —এটাই তো চাই বাবা। কাউকে পছন্দ করলে তার মতামতকে সম্মান করতে হয়। ভালোবাসা মানে শুধু নিজের ইচ্ছা পূরণ করা নয়।

শাহজাদ মায়ের হাতটা আলতো করে ধরে বলল, —তোমার দোয়া চাই, মা।

রেহানা বেগম ছেলের কপালে হাত রেখে বললেন, —আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কল্যাণকর, সেটাই সহজ করে দিন।

রাতের দিকে মায়া বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। আকাশে চাঁদ উঠেছে। চারপাশ বেশ শান্ত। এমন সময় ফোনে শাহজাদের মেসেজ এল।

শাহজাদ: আজকের দিনটা কেমন কাটল?

মায়া: ভালো। আপনার?

শাহজাদ: ব্যস্ততার মধ্যেই কেটেছে। তবে মায়ের সঙ্গে আপনার পরিবার নিয়ে কথা হয়েছে।

মায়া একটু অবাক হলো।

মায়া: কী বললেন আন্টি?

শাহজাদ: আপনাকে আর আপনার মাকে তাঁর খুব ভালো লেগেছে।

মায়ার মুখে হাসি ফুটে উঠল।

মায়া: আমারও আন্টিকে খুব ভালো লেগেছে। উনি অনেক সুন্দর করে কথা বলেন।

শাহজাদ: শুনে ভালো লাগল।

কিছুক্ষণ পর শাহজাদ আবার লিখল—

শাহজাদ: একটা কথা বলব?

মায়া: বলুন।

শাহজাদ: আপনার সঙ্গে কথা বললে দিনের ক্লান্তিটা অনেকটা কমে যায়।

মায়া মেসেজটা পড়ে চুপ করে রইল। তারপর লিখল—

মায়া: আমারও আপনার সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে। তবে একটা কথা, আপনি যেন কাজের অবহেলা না করেন।

শাহজাদ হেসে ফেলল।

শাহজাদ: ঠিক আছে। আপনি মনে করিয়ে দিলে ভুলব না।

মায়া: সব সময় মনে করিয়ে দিতে পারব না কিন্তু!

শাহজাদ: তাহলে নিজেই মনে রাখব।

মায়া ফোনটা বুকে চেপে ধরল না, শুধু মৃদু হাসি নিয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। তার মনে হচ্ছিল, জীবনে নতুন একজন মানুষকে জানার এই সময়টুকু বেশ সুন্দর।

অন্যদিকে শাহজাদও ফোনটা টেবিলে রেখে জানালার পাশে দাঁড়াল। সে জানে, সামনে অনেকটা পথ বাকি। মায়ার বিশ্বাস অর্জন করতে হলে তাকে শুধু কথা নয়, নিজের ব্যবহার দিয়েও প্রমাণ করতে হবে।

দুজনের কেউই জানত না, আগামী দিনগুলোতে কত ছোট ছোট আনন্দ, অভিমান আর নতুন অভিজ্ঞতা অপেক্ষা করছে তাদের জন্য।

তবে আজকের রাতটা দুজনের কাছেই একটু আলাদা হয়ে রইল। কারণ সম্পর্কের নাম না থাকলেও, একে অপরের খোঁজ নেওয়ার অভ্যাসটা ধীরে ধীরে তৈরি হয়ে যাচ্ছে।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 14 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন