ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 15

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ১৫

### অপেক্ষার বিকেল

সকালের নরম রোদে খান বাড়ির চারপাশটা বেশ সুন্দর লাগছিল। শাহজাদ নিজের ঘরে বসে অফিসের কিছু কাজ করছিল। টেবিলের ওপর কয়েকটি ফাইল ছড়িয়ে আছে। অথচ বারবার তার চোখ চলে যাচ্ছে ফোনের দিকে।

আজ মায়ার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা। গতকাল মায়া নিজেই বলেছিল, সময় হলে দেখা করবে। কথাটা মনে পড়তেই শাহজাদের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।

ঠিক তখনই রেহানা বেগম ঘরে ঢুকলেন।

—কী রে বাবা, এতক্ষণ ধরে একই ফাইল দেখছিস কেন?

শাহজাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, —কাজ করছি তো।

—কাজ করছিস, নাকি অন্য কিছু ভাবছিস?

—মা, তুমি না!

রেহানা বেগম হেসে ছেলের পাশে বসলেন।

—আজ কি মায়ার সঙ্গে দেখা করার কথা?

শাহজাদ একটু থেমে বলল, —হ্যাঁ। যদি ওর সময় হয়।

—তাহলে যাও। তবে একটা কথা মনে রাখিস, মেয়েটার সম্মান আর স্বাচ্ছন্দ্য যেন সব সময় বজায় থাকে।

শাহজাদ মাথা নেড়ে বলল, —জানি মা। আমি কখনো ওকে কোনো বিষয়ে চাপ দেব না।

মা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

—আল্লাহ তোমাদের ভালো রাখুন।

অন্যদিকে মায়া নিজের ঘরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিল। নীলা পাশে বসে তাকে দেখছিল।

—কী রে, এত সাজগোজ কেন?

মায়া চোখ বড় করে বলল, —আমি কি সাজতে পারি না?

—অবশ্যই পারিস। তবে আজকের সাজটা একটু বিশেষ মনে হচ্ছে।

মায়া হেসে বলল, —তুই চুপ করবি?

নীলা মজা করে বলল, —আচ্ছা, আর কিছু বলব না। শুধু বলব, নিজের মনটা বুঝে সিদ্ধান্ত নিবি।

মায়া এবার একটু গম্ভীর হলো।

—আমি জানি, নীলা। শাহজাদকে আমার ভালো লাগে। কিন্তু আমি চাই, আমরা আগে একে অপরকে ভালোভাবে বুঝি।

নীলা মাথা নেড়ে বলল, —সেটাই সবচেয়ে ভালো।

কিছুক্ষণ পর মায়ার ফোন বেজে উঠল।

শাহজাদ: আজ বিকেল চারটায় দেখা করা যাবে?

মায়া: কোথায়?

শাহজাদ: আপনার পছন্দের কোনো জায়গায়।

মায়া কিছুক্ষণ ভেবে উত্তর দিল।

মায়া: কাছের একটা ক্যাফেতে দেখা করতে পারি। তবে খুব বেশি সময় থাকতে পারব না।

শাহজাদ: সমস্যা নেই। আপনার যতটুকু সময় হবে, ততটুকুই যথেষ্ট।

মেসেজটা পড়ে মায়ার মনটা ভালো হয়ে গেল।

বিকেল চারটার কিছু আগে শাহজাদ ক্যাফেতে পৌঁছে গেল। জানালার পাশের একটি টেবিলে বসে সে মায়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর মায়া এসে দাঁড়াল।

—অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছেন?

শাহজাদ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, —না, এই তো এলাম।

মায়া বসে পড়ল। শাহজাদ তার জন্য পানি এগিয়ে দিল।

—কী খাবেন?

—আপনি যা খাবেন।

—এভাবে হবে না। আপনার পছন্দটা আপনাকেই বলতে হবে।

মায়া হেসে বলল, —তাহলে কফি আর একটা স্যান্ডউইচ।

শাহজাদ খাবারের অর্ডার দিল।

কিছুক্ষণ দুজনেই চুপচাপ বসে রইল। তারপর শাহজাদ বলল, —আজ আপনাকে বেশ হাসিখুশি লাগছে।

মায়া মৃদু হেসে বলল, —আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, মন খারাপ করে থাকব কেন?

কথাটা শুনে শাহজাদের মুখে হাসি ফুটল।

—তাহলে আজকের দিনটা আমার জন্যও ভালো হয়ে গেল।

মায়া এবার একটু অন্যদিকে তাকাল।

—আপনি সব সময় এত গম্ভীর থাকেন কেন?

—আমি কি গম্ভীর?

—হ্যাঁ। মনে হয়, সব সময় অফিসের কোনো মিটিংয়ে আছেন।

শাহজাদ হেসে বলল, —তাহলে আজ থেকে একটু কম গম্ভীর থাকার চেষ্টা করব।

—চেষ্টা করলেই হবে না। মাঝে মাঝে হাসতেও হবে।

—আপনি বললে চেষ্টা করব।

দুজনের কথার ফাঁকে খাবার চলে এল। মায়া খেতে শুরু করল। শাহজাদ লক্ষ্য করল, মায়া নিজের খাবারের পাশাপাশি তার দিকে তাকিয়ে আছে।

—কী হলো? শাহজাদ জিজ্ঞেস করল।

—আপনি ঠিকমতো খাচ্ছেন না কেন?

—খাচ্ছি তো।

—না, আপনি শুধু কথা বলছেন।

শাহজাদ হেসে বলল, —আচ্ছা, এবার খাচ্ছি।

মায়া মনে মনে হাসল। ছোট ছোট বিষয়েও যে কেউ এতটা খেয়াল রাখতে পারে, সেটা তার ভালো লাগছিল।

কথা বলতে বলতে সময় কখন চলে গেল, দুজনের কেউই বুঝতে পারল না। হঠাৎ মায়ার ফোন বেজে উঠল। তার মা ফোন করেছেন।

—মা, বলো।

ওপাশ থেকে মা জানতে চাইলেন, সে কখন ফিরবে।

—মা, আমি এখনই বের হচ্ছি।

ফোন রেখে মায়া বলল, —আমাকে এবার যেতে হবে।

শাহজাদ মাথা নেড়ে বলল, —ঠিক আছে। বাসায় পৌঁছে জানাবেন।

মায়া একটু হেসে বলল, —আপনি কি সব সময় এভাবেই খোঁজ নেন?

—যার খোঁজ নিতে ভালো লাগে, তার খোঁজ তো নিতেই হয়।

মায়া আর কোনো উত্তর দিল না। শুধু মৃদু হেসে বিদায় নিল।

বাসায় ফিরে মায়া মায়ের ঘরে গেল। মা তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, —কেমন কাটল বিকেল?

মায়া মায়ের পাশে বসে বলল, —ভালো মা। শাহজাদ খুব ভদ্রভাবে কথা বলে।

মা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।

—মানুষকে বুঝতে সময় লাগে মা। শুধু ভালো কথা শুনে সিদ্ধান্ত নিস না। তার আচরণও দেখবি।

মায়া মায়ের হাত ধরে বলল, —আমি জানি মা। তুমি চিন্তা করো না।

মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

রাত প্রায় দশটা। শাহজাদ নিজের ঘরে বসে ছিল। ফোনে মায়ার মেসেজ এল।

মায়া: বাসায় পৌঁছেছেন?

শাহজাদ অবাক হয়ে উত্তর দিল।

শাহজাদ: আমি তো বাসাতেই আছি। আপনি পৌঁছেছেন তো?

মায়া: হ্যাঁ। আজকের বিকেলটা ভালো ছিল।

শাহজাদ: আমারও ভালো লেগেছে।

মায়া: আজ আপনাকে একটু কম গম্ভীর মনে হয়েছে।

শাহজাদ: তাহলে বুঝব, আপনার প্রশিক্ষণ কাজে লাগছে?

মায়া হেসে উত্তর দিল।

মায়া: এখনো অনেক বাকি।

শাহজাদ: ঠিক আছে। ধীরে ধীরে শিখে নেব।

কিছুক্ষণ পর শাহজাদ লিখল—

শাহজাদ: একটা কথা বলি, মায়া?

মায়া: বলুন।

শাহজাদ: আপনার সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আমার কাছে মূল্যবান হয়ে উঠছে। আমি চাই, আমাদের পরিচয়টা সুন্দরভাবে এগিয়ে যাক।

মায়া মেসেজটা পড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর উত্তর দিল—

মায়া: আমিও চাই। তবে আমাদের দুজনেরই একে অপরকে বোঝার সময় নেওয়া উচিত।

শাহজাদ: অবশ্যই। আপনার সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান করি।

মায়া ফোনটা পাশে রেখে দিল। তার মনে এক ধরনের শান্তি কাজ করছিল।

এদিকে শাহজাদও বুঝতে পারছিল, মায়ার সঙ্গে তার পরিচয়টা আর সাধারণ পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মেয়েটির ছোট ছোট কথা, যত্ন আর হাসি তার দিনের ব্যস্ততার মধ্যে আলাদা জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে।

তবে সে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না।

কারণ সে জানে, সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিশ্বাস, সম্মান আর সময় দিয়ে।

আর সেই বিশ্বাসের পথেই দুজন ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 15 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন