ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 16

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ১৬

### অভিমানের আড়ালে যত্ন

সকালের দিকে মায়া ঘুম থেকে উঠে ফোন হাতে নিল। প্রতিদিনের মতো আজও সে প্রথমে মেসেজগুলো দেখল। কিন্তু শাহজাদের কাছ থেকে কোনো মেসেজ নেই। বিষয়টা খুব বড় কিছু নয়, তবুও মায়ার মনে একটু খারাপ লাগল।

সে নিজেই মনে মনে বলল, হয়তো ব্যস্ত আছে। সব সময় তো আর ফোন হাতে রাখা সম্ভব নয়।

নাশতা শেষ করে মায়া নিজের ঘরে ফিরে এল। পড়ার টেবিলে বই খুলে বসল। কিছুক্ষণ পর ফোনে নীলার কল এল।

—কী করছিস?

—পড়ছি।

—শাহজাদ সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে?

মায়া একটু বিরক্ত হয়ে বলল, —তুই কি আর কোনো কথা জানিস না?

নীলা হেসে বলল, —জানি তো। কিন্তু তোর মুখে ওনার কথা শুনতে ভালো লাগে।

—আজ এখনো কথা হয়নি।

—তাহলে তুই একটা মেসেজ দে।

মায়া মাথা নাড়িয়ে বলল, —না, উনি ব্যস্ত থাকলে বিরক্ত করতে চাই না।

নীলা বলল, —একটা খোঁজ নেওয়া আর বিরক্ত করা এক কথা নয়। তবে তোর ইচ্ছা।

কথা শেষ করে মায়া ফোনটা পাশে রেখে পড়ায় মন দিল।

অন্যদিকে শাহজাদ সকাল থেকেই অফিসের কাজে ব্যস্ত। একটি জরুরি মিটিং থাকায় সে ফোন দেখার সুযোগই পায়নি। রায়হান কয়েকটি ফাইল নিয়ে তার সামনে দাঁড়াল।

—স্যার, এই কাগজগুলোতে আপনার স্বাক্ষর লাগবে।

শাহজাদ ফাইলগুলো দেখতে দেখতে বলল, —টেবিলে রেখে যাও।

রায়হান চলে গেল। কিছুক্ষণ পর মিটিং শেষ হলে শাহজাদ ফোন হাতে নিল। মায়ার কোনো মেসেজ নেই। সে নিজেই মেসেজ লিখল।

শাহজাদ: সকাল কেমন কাটছে?

কিন্তু মায়া তখন পড়ায় ব্যস্ত। উত্তর দিতে দেরি হলো।

শাহজাদ আবার কাজে মন দিল।

দুপুরের দিকে মায়া ফোন হাতে নিয়ে মেসেজটি দেখল।

মায়া: ভালো। আপনার?

শাহজাদ: ব্যস্ততার মধ্যে আছি। একটু পর কথা বলব।

মায়া উত্তর দিল—

মায়া: ঠিক আছে।

কিন্তু তার মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। সে ভেবেছিল, আজ হয়তো কিছুক্ষণ কথা হবে। অথচ শাহজাদ আবার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিকেলে শাহজাদ ফোন করল। মায়া ফোন ধরলেও তার কণ্ঠে আগের মতো উচ্ছ্বাস ছিল না।

—কী করছেন? শাহজাদ জিজ্ঞেস করল।

—কিছু না।

—আপনার গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেন?

—কেমন?

—মনে হচ্ছে, মন খারাপ।

মায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, —আপনি তো সব সময় ব্যস্ত থাকেন।

শাহজাদ কথাটা শুনে একটু থামল।

—আজ অফিসে একটা জরুরি কাজ ছিল। তাই সময় দিতে পারিনি।

—আমি জানি। কিন্তু কখনো কখনো মনে হয়, আপনার কাছে আমার সঙ্গে কথা বলার সময়ই নেই।

শাহজাদ শান্ত গলায় বলল, —এমনটা ভাববেন না, মায়া। কাজের ব্যস্ততা আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনার সঙ্গে কথা বলতে আমার ভালো লাগে না।

মায়া নিচু স্বরে বলল, —আমি সেটা বুঝি। তবুও একটু খারাপ লাগে।

শাহজাদ এবার আন্তরিকভাবে বলল, —আপনার খারাপ লাগাটা আমি বুঝতে পারছি। তবে একটা অনুরোধ, কিছু মনে হলে চুপ করে না থেকে আমাকে বলবেন। আমি চেষ্টা করব সময়টা সুন্দরভাবে ভাগ করে নিতে।

মায়ার অভিমান কিছুটা কমে গেল।

—আচ্ছা।

—এখন কি একটু হাসবেন?

মায়া হেসে ফেলল।

—আপনি সব সময় হাসানোর চেষ্টা করেন কেন?

—কারণ আপনার মন খারাপ থাকলে আমারও ভালো লাগে না।

মায়া আর কিছু বলল না। তবে তার মুখে হাসি ফিরে এল।

সন্ধ্যায় খান বাড়িতে সবাই একসঙ্গে বসে চা খাচ্ছিল। শাহজাদের ছোট বোন হঠাৎ বলল,

—ভাইয়া, কাল আমাদের সঙ্গে বাইরে যাবেন?

শাহজাদ চায়ের কাপ নামিয়ে বলল, —কোথায়?

—মা বলেছে সবাই মিলে একটু ঘুরতে যাব। আপনি না গেলে কিন্তু হবে না।

রেহানা বেগম বললেন, —অনেক দিন তো সবাই একসঙ্গে কোথাও যাওয়া হয় না। কাল একটু সময় বের করিস।

শাহজাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, —ঠিক আছে মা। কাল চেষ্টা করব।

বোন সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, —চেষ্টা নয়, যেতেই হবে!

শাহজাদ হেসে বলল, —আচ্ছা, যাব।

রেহানা বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন, শাহজাদের জীবনে নতুন একজন মানুষের আগমন হলেও পরিবারের প্রতি তার দায়িত্ববোধ আগের মতোই আছে।

রাতের দিকে মায়া মায়ের সঙ্গে রান্নাঘরে ছিল। মা রান্না করছিলেন, আর মায়া পাশে দাঁড়িয়ে সবজি গুছিয়ে দিচ্ছিল।

মা হঠাৎ বললেন, —আজ তোর মনটা একটু খারাপ ছিল?

মায়া অবাক হয়ে তাকাল।

—তুমি বুঝলে কীভাবে?

—মায়ের চোখ এড়ানো এত সহজ নয়।

মায়া একটু হেসে বলল, —সামান্য অভিমান হয়েছিল। পরে ঠিক হয়ে গেছে।

মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, —দেখ মা, মানুষের জীবনে কাজের ব্যস্ততা থাকবেই। তবে সম্পর্কের মধ্যে দুজনেরই সময় আর যত্ন থাকা দরকার। তুই যেমন অন্যজনকে বুঝবি, তেমনি নিজের অনুভূতির কথাও সুন্দরভাবে জানাবি।

মায়া মায়ের হাত ধরে বলল, —তুমি সব সময় এত সুন্দর করে বোঝাও কেন?

মা হেসে বললেন, —কারণ তুই আমার মেয়ে।

রাত সাড়ে দশটার দিকে শাহজাদ আবার মেসেজ দিল।

শাহজাদ: ঘুমাবেন?

মায়া: না, এখনো না।

শাহজাদ: আজকের অভিমান কি পুরোপুরি শেষ?

মায়া হেসে উত্তর দিল।

মায়া: একটু বাকি আছে।

শাহজাদ: তাহলে কী করলে শেষ হবে?

মায়া: সেটা আপনাকেই বুঝতে হবে।

শাহজাদ কিছুক্ষণ ভেবে লিখল—

শাহজাদ: কাল সকালে সময় বের করে আপনাকে ফোন করব। আর আজকের জন্য দুঃখিত।

মায়া উত্তর দিল—

মায়া: শুধু কথা দিলেই হবে না, নিজের যত্নও নিতে হবে। সময়মতো খাবেন, বিশ্রাম নেবেন।

শাহজাদ: আপনার কথাগুলো মনে রাখব।

মায়া: ভালো।

শাহজাদ: শুভরাত্রি, মায়া।

মায়া: শুভরাত্রি।

ফোনটা রেখে মায়া জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। আজকের ছোট্ট অভিমানটা তাকে একটা বিষয় বুঝিয়েছে—কাউকে ভালো লাগলে তার কাছ থেকে প্রত্যাশাও তৈরি হয়। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকে সুন্দর রাখতে হলে দুজনেরই একে অপরকে বোঝা প্রয়োজন।

অন্যদিকে শাহজাদও নিজের কাজের তালিকা গুছিয়ে রাখল। সে ঠিক করল, ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের জন্য এবং নিজের কাছের মানুষদের জন্য সময় বের করবে।

পরদিন খান বাড়ির সবার সঙ্গে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আর মায়ার জন্যও অপেক্ষা করছে এক নতুন সকাল।

কিন্তু সেই সকালে শাহজাদের ছোট বোন এমন একটি আবদার করবে, যা শুনে শাহজাদ নিজেই কিছুক্ষণ চুপ করে যাবে!

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 16 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন