ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 17

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ১৭

### পরিবারের সঙ্গে একদিন

সকালের আলো ফুটতেই খান বাড়িতে ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেল। আজ পরিবারের সবাই মিলে বাইরে ঘুরতে যাবে। রেহানা বেগম সকাল থেকেই সবার জন্য নাশতার আয়োজন করছেন। শাহজাদের ছোট বোন নিজের ঘর থেকে বারবার বের হয়ে মাকে জিজ্ঞেস করছে, কখন তারা রওনা হবে।

—মা, আর কতক্ষণ?

রেহানা বেগম হেসে বললেন, —এত তাড়া কিসের? আগে নাশতা শেষ কর।

—আমি তো সেই কখন নাশতা করেছি!

ঠিক তখনই শাহজাদ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল। বোন তাকে দেখেই দৌড়ে এসে বলল,

—ভাইয়া!

—কী হয়েছে?

—আজ কিন্তু আমাকে একটা সুন্দর জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।

শাহজাদ হেসে বলল, —তোমার পছন্দের জায়গায়ই যাব।

বোন খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠল।

নাশতার টেবিলে বসে শাহজাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, —মা, আজ তোমার কোথায় যেতে ইচ্ছা করছে?

রেহানা বেগম বললেন, —আমার বিশেষ কোনো পছন্দ নেই। তোমরা যেখানে নিয়ে যাবে, সেখানেই যাব।

শাহজাদ বলল, —তাহলে আজ তোমাদের দুজনের পছন্দমতো জায়গায় যাব।

বোন সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল, —আর খাবারও খেতে হবে!

সবাই হেসে উঠল।

অন্যদিকে মায়া তখন নিজের ঘরে বসে পড়ছিল। ফোনে শাহজাদের কল আসতেই সে বই বন্ধ করে ফোন ধরল।

—আসসালামু আলাইকুম।

—ওয়ালাইকুমুস সালাম। কী করছেন?

—পড়ছিলাম। আপনি?

—আজ পরিবারের সঙ্গে বাইরে যাচ্ছি।

—বাহ! খুব ভালো তো।

—আপনাদের আজ কী পরিকল্পনা?

—বিশেষ কিছু নেই। বাসাতেই থাকব।

শাহজাদ একটু থেমে বলল, —আপনি চাইলে কোনো একদিন আমাদের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যেতে পারেন। অবশ্যই আপনার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে।

মায়া একটু অবাক হলো।

—এত তাড়াতাড়ি?

শাহজাদ হেসে বলল, —না, এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নয়। শুধু বললাম, ভবিষ্যতে সুযোগ হলে সবাই মিলে কোথাও যাওয়া যেতে পারে।

মায়া মৃদু হেসে বলল, —দেখা যাক।

—আচ্ছা, তাহলে আজ আপনার দিনটা ভালো কাটুক।

—আপনাদেরও।

ফোন রেখে মায়া আবার বই খুলল। তবে তার মুখে একটা হাসি রয়ে গেল।

শাহজাদ পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর জায়গায় পৌঁছাল। চারপাশে সবুজ গাছপালা, খোলা আকাশ আর মন ভালো করা পরিবেশ।

তার ছোট বোন আনন্দে এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াতে লাগল।

—ভাইয়া, আমার কয়েকটা ছবি তুলে দিন!

শাহজাদ ফোন বের করে ছবি তুলতে লাগল।

—আরেকটা! এইবার একটু সুন্দর করে!

—তোমার ছবি তুলতে তুলতে আমার হাত ব্যথা হয়ে যাবে।

—তাহলে আপনি আমার সঙ্গে একটা ছবি তুলুন।

শাহজাদ বোনের পাশে দাঁড়াল। দুজনের ছবি তুলে দিলেন রেহানা বেগম।

ছবি দেখে বোন বলল, —মা, দেখো! ভাইয়াকে আজ বেশ ভালো লাগছে।

রেহানা বেগম হেসে বললেন, —আমার ছেলে সব সময়ই ভালো লাগে।

শাহজাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, —তোমরা দুজন মিলে আজ আমাকে নিয়ে খুব বেশি কথা বলছ।

বোন বলল, —কারণ আপনি আমাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।

কথাটা শুনে শাহজাদের মুখের হাসিটা আরও গভীর হলো। পরিবারের সঙ্গে এমন সময় কাটাতে তারও ভালো লাগে।

দুপুরের দিকে সবাই একটি রেস্টুরেন্টে খেতে বসল। খাবার আসার অপেক্ষায় শাহজাদ ফোন বের করল। মায়ার একটা মেসেজ এসেছে।

মায়া: ঘুরতে গিয়ে আমাদের কথা ভুলে যাননি তো?

শাহজাদ হেসে উত্তর দিল।

শাহজাদ: ভুলে যাওয়ার মতো কথা বলেছেন নাকি?

মায়া: জানি না। তাই জিজ্ঞেস করলাম।

শাহজাদ: পরিবারের সঙ্গে আছি। তবে আপনার খোঁজ নিতে ভুলিনি।

মায়া উত্তর দিল—

মায়া: আন্টিকে আমার সালাম জানাবেন।

শাহজাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, —মা, মায়া তোমাকে সালাম জানিয়েছে।

রেহানা বেগম খুশি হয়ে বললেন, —ওকে আমার দোয়া জানাস।

শাহজাদ মেসেজে কথাটা জানিয়ে দিল।

এদিকে তার ছোট বোন পাশ থেকে উঁকি দিয়ে বলল, —ভাইয়া, কার সঙ্গে এত কথা বলছেন?

—একজনের সঙ্গে।

—একজন মানে কে?

শাহজাদ পানি খেতে খেতে বলল, —তোমার এত জানার দরকার নেই।

বোন মুখ বাঁকিয়ে বলল, —বুঝেছি! নিশ্চয়ই মায়া আপু!

শাহজাদ এবার একটু হেসে ফেলল।

—তুমি খাও।

—আমি কিন্তু সব বুঝি!

রেহানা বেগম মেয়েকে থামিয়ে বললেন, —তোর ভাইকে আর বিরক্ত করিস না।

বিকেলে বাড়ি ফিরে শাহজাদ নিজের ঘরে গেল। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর মায়াকে ফোন করল।

—কী করছেন?

—আপনাদের ঘোরাঘুরি শেষ?

—হ্যাঁ। এখন বাসায়।

—কেমন কাটল দিনটা?

শাহজাদ পরিবারের সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলোর কথা বলতে লাগল। তার ছোট বোনের দুষ্টুমি, মায়ের হাসি, একসঙ্গে খাবার খাওয়া—সবকিছু।

মায়া মন দিয়ে শুনছিল।

—আপনার পরিবার বেশ আনন্দ করতে জানে।

—হ্যাঁ। মা আর বোন থাকলে বাসাটা সব সময় সরগরম থাকে।

মায়া হেসে বলল, —আপনার বোন নিশ্চয়ই আপনাকে অনেক জ্বালায়।

—সেটা আর বলতে! তবে ওর দুষ্টুমিগুলোও ভালো লাগে।

—ভাইবোনের সম্পর্কই এমন।

শাহজাদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, —আপনার ভাইবোন আছে?

মায়া নিজের পরিবারের কথা বলতে শুরু করল। ছোটবেলার দুষ্টুমি, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়, মায়ের বকুনি—সব গল্পই সে হাসতে হাসতে বলল।

শাহজাদ মন দিয়ে শুনল। তার মনে হলো, মায়ার হাসির পেছনে একটা প্রাণবন্ত পারিবারিক জগৎ রয়েছে।

সন্ধ্যার পর রেহানা বেগম ছেলের ঘরে এলেন।

—বাবা, একটু সময় হবে?

—হ্যাঁ মা, বলো।

তিনি ছেলের পাশে বসে বললেন, —মায়ার সঙ্গে কথা হয়েছে?

শাহজাদ মাথা নেড়ে বলল, —হ্যাঁ। আজ অনেকক্ষণ কথা হলো।

—মেয়েটা কেমন আছে?

—ভালো আছে। তোমার সালামও নিয়েছে।

রেহানা বেগম মৃদু হেসে বললেন, —ওর সঙ্গে আবার দেখা হলে ভালো লাগবে।

শাহজাদ বলল, —সময় হলে আবার দেখা হবে মা।

মা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, —তুই যেন সব সময় ধৈর্য ধরিস। একটা সুন্দর সম্পর্ক গড়ে উঠতে সময় লাগে।

—আমি জানি মা।

—আর নিজের পরিবারের মানুষদেরও সময় দিবি।

শাহজাদ মায়ের হাত ধরে বলল, —তোমাদের জন্য সময় কখনো কম হবে না।

রেহানা বেগম ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

রাতে মায়া বারান্দায় বসে ছিল। ফোনে শাহজাদের মেসেজ এল।

শাহজাদ: আজ আপনার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগল।

মায়া: আমারও।

শাহজাদ: একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

মায়া: করুন।

শাহজাদ: আপনার পরিবারের সঙ্গে কোনোদিন সময় কাটানোর সুযোগ হলে আপনার ভালো লাগবে?

মায়া কিছুক্ষণ ভেবে উত্তর দিল।

মায়া: অবশ্যই। তবে আগে পরিবারের সবাইকে জানাতে হবে।

শাহজাদ: সেটাই স্বাভাবিক। আমি চাই, সবকিছু সবার সম্মতিতে হোক।

মায়া মেসেজটা পড়ে মুচকি হাসল।

মায়া: আপনার এই কথাটা আমার ভালো লাগে।

শাহজাদ: কোন কথাটা?

মায়া: আপনি সবকিছুতে সম্মানের কথা ভাবেন।

শাহজাদ কিছুক্ষণ পর উত্তর দিল—

শাহজাদ: কারণ আপনার সম্মান আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মায়া আর কোনো উত্তর দিল না। ফোনটা পাশে রেখে আকাশের দিকে তাকাল।

এদিকে শাহজাদও জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবছিল, জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো তখনই পূর্ণতা পায়, যখন কাছের মানুষদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।

তাদের সম্পর্ক এখনো কোনো নাম পায়নি। কিন্তু দুজনের পরিবার, পছন্দ-অপছন্দ আর ছোট ছোট অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে একে অপরের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে।

আর এই পরিচয়ের পথেই অপেক্ষা করছে নতুন কিছু অনুভূতি, নতুন কিছু অভিমান এবং অনেকগুলো সুন্দর মুহূর্ত।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 17 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন