### তোর আসক্ত আমি
লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা
পর্ব সংখ্যা: ১৮
### মায়ার ছোট্ট আবদার
সকালের দিকে মায়া ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় এল। চারপাশে মিষ্টি রোদ ছড়িয়ে আছে। হাতে এক কাপ চা নিয়ে সে চুপচাপ বসে রইল। গতকালের শাহজাদের সঙ্গে কথাগুলো মনে পড়তেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
হঠাৎ ফোনে শাহজাদের মেসেজ এল।
শাহজাদ: ঘুম থেকে উঠেছেন?
মায়া: জি। আপনি?
শাহজাদ: অনেকক্ষণ আগে। নাশতা করেছেন?
মায়া: এখনো করিনি। চা খাচ্ছি।
শাহজাদ: খালি পেটে শুধু চা খাবেন না। নাশতা করে নেবেন।
মায়া মুচকি হেসে লিখল—
মায়া: আপনি কি আমার খাবারের দায়িত্ব নিয়েছেন?
শাহজাদ: দায়িত্ব নিতে আপত্তি আছে?
মায়া: না, তবে এত খোঁজ নেওয়ার কারণ কী?
শাহজাদ: কারণ আপনার খোঁজ নিতে ভালো লাগে।
মায়া আর উত্তর দিল না। ফোনটা পাশে রেখে চায়ের কাপ হাতে নিল।
খান বাড়িতে শাহজাদ অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রেহানা বেগম ছেলের ঘরে এসে বললেন,
—বাবা, আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরতে পারবি?
—কেন মা?
—তোর খালাতো বোনেরা আসবে। সবাই মিলে একটু সময় কাটাব।
শাহজাদ বলল, —চেষ্টা করব মা।
ঠিক তখনই তার ছোট বোন ঘরে ঢুকে বলল,
—ভাইয়া, আজ কিন্তু আমার সঙ্গে বসে গল্প করবেন।
—আচ্ছা, বসব।
—শুধু আচ্ছা বললে হবে না। কথা দিতে হবে!
শাহজাদ হেসে বলল, —ঠিক আছে, কথা দিলাম।
বোন খুশি হয়ে চলে গেল।
দুপুরে মায়া রান্নাঘরে মাকে সাহায্য করছিল। মা খাবার তৈরি করতে করতে বললেন,
—আজ তোর পছন্দের খাবার রান্না করছি।
মায়া খুশি হয়ে বলল, —সত্যি মা? তাহলে আজ আমি তোমাকে সাহায্য করব।
মা হেসে বললেন, —তুই পাশে থাকলেই আমার কাজ সহজ হয়ে যায়।
মায়া সবজি কাটতে কাটতে বলল, —মা, একটা কথা বলব?
—বল।
—শাহজাদের মা আবার আমাদের বাসায় এলে তোমার কেমন লাগবে?
মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।
—ভালোই লাগবে। ভদ্র মহিলা। তবে সবকিছু সময় নিয়ে হওয়াই ভালো।
মায়া মাথা নেড়ে বলল, —আমিও তাই চাই।
বিকেলের দিকে শাহজাদ অফিসের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরল। কিন্তু বাড়িতে ঢুকেই বুঝতে পারল, আজ বাড়িতে বেশ আয়োজন চলছে।
তার ছোট বোন দৌড়ে এসে বলল,
—ভাইয়া! আপনি এসেছেন!
—হ্যাঁ, কী হয়েছে?
—সবাই এসেছে। তাড়াতাড়ি নিচে চলুন।
শাহজাদ নিচে গিয়ে সবার সঙ্গে দেখা করল। বাড়িতে হাসি-গল্পে সময় কাটতে লাগল। ছোট বোন বারবার তাকে নানা কাজে ডাকছিল।
একসময় শাহজাদ বিরক্তির ভান করে বলল,
—তুমি কি আমাকে এক মিনিটও শান্তিতে থাকতে দেবে না?
বোন মুখ ভার করে বলল,
—ঠিক আছে, আর ডাকব না।
শাহজাদ সঙ্গে সঙ্গে তার মাথায় হাত রেখে বলল,
—আরে, রাগ করেছ কেন? এসো, তোমার গল্প শুনি।
বোন আবার হাসতে শুরু করল।
রেহানা বেগম দূর থেকে দৃশ্যটা দেখে মুচকি হাসলেন।
রাতের দিকে শাহজাদ নিজের ঘরে এসে ফোন হাতে নিল। মায়ার কোনো মেসেজ নেই। সে নিজেই কল করল।
—হ্যালো, মায়া?
—জি, বলুন।
—আজ সারাদিন কী করলেন?
—মাকে রান্নায় সাহায্য করেছি। তারপর একটু পড়াশোনা।
—বাহ! খুব ভালো।
মায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
—আজ একটা আবদার ছিল।
শাহজাদ আগ্রহ নিয়ে বলল,
—বলুন। শুনছি।
—আপনি সব সময় আমাকে খাবার খেতে বলেন। কিন্তু নিজে ঠিকমতো খান তো?
শাহজাদ হেসে বলল,
—আজ আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে বুঝি?
—অবশ্যই। আগে নিজের যত্ন নিতে শিখুন।
—আচ্ছা, চেষ্টা করব।
মায়া একটু অভিমানী গলায় বলল,
—আবার চেষ্টা! আপনি কোনো কথাই ঠিকমতো বলেন না।
শাহজাদ হেসে বলল,
—ঠিক আছে, কথা দিলাম। সময়মতো খাব এবং বিশ্রাম নেব।
মায়া এবার খুশি হলো।
—এই তো!
—আর কোনো আবদার আছে?
মায়া একটু ভেবে বলল,
—আছে।
—কী?
—মাঝেমধ্যে নিজের থেকেও ফোন করবেন। সব সময় আমাকেই অপেক্ষা করতে ভালো লাগে না।
শাহজাদ এবার গম্ভীর হয়ে বলল,
—আপনাকে অপেক্ষা করাতে চাই না। আমি নিজেও ফোন করব।
মায়া মৃদু স্বরে বলল,
—তাহলে ভালো।
কথা শেষ হওয়ার পর শাহজাদ কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। মায়ার ছোট্ট আবদারগুলো তার কাছে অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল।
পরদিন সকালে সে ঠিক করল, মায়াকে নিজে থেকেই ফোন করবে।
অন্যদিকে মায়াও বুঝতে পারছিল, শাহজাদের সঙ্গে তার পরিচয়টা ধীরে ধীরে আরও গভীর হচ্ছে। তবে সে এখনো কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না।
রাতের শেষ মেসেজে শাহজাদ লিখল—
শাহজাদ: ভালো থাকবেন। নিজের যত্ন নেবেন।
মায়া: আপনিও। আর কথা রাখবেন কিন্তু!
শাহজাদ: অবশ্যই।
দুজনেই ফোন রেখে দিল।
কিন্তু তারা জানত না, পরদিন সকালে শাহজাদের একটি ফোন মায়ার মনে জমে থাকা ছোট্ট অভিমানটুকু একেবারে দূর করে দেবে।
শাহজাদ ঘুমাতে যাওয়ার আগে আবার ফোনটা হাতে নিল। মায়ার সঙ্গে শেষ কথাগুলো মনে করে সে মুচকি হাসল। তারপর নিজেই মনে মনে ঠিক করল, আগামীকাল সকালে কোনো ব্যস্ততার অজুহাত না দিয়ে মায়াকে ফোন করবে।
অন্যদিকে মায়াও ঘুমানোর আগে মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করল। মা যখন জানতে চাইলেন, তার দিনটা কেমন কেটেছে, মায়া হেসে বলল,
—ভালো কেটেছে মা। আজ অনেক সুন্দর সময় গেছে।
মা মেয়ের হাসিমুখ দেখে বললেন,
—সব সময় এমন হাসিখুশি থাকিস।
মায়া মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল,
—তোমরা পাশে থাকলেই তো ভালো থাকি।
সেই রাতে দুজনেই নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে পড়ল। আগামীকাল কী অপেক্ষা করছে, তা তারা কেউ জানে না। তবে দুজনের মনেই ছিল একে অপরের সঙ্গে কথা বলার ছোট্ট অপেক্ষা।
শাহজাদ ঘুমাতে যাওয়ার আগে আবার ফোনটা হাতে নিল। মায়ার সঙ্গে শেষ কথাগুলো মনে করে সে মুচকি হাসল। তারপর নিজেই মনে মনে ঠিক করল, আগামীকাল সকালে কোনো ব্যস্ততার অজুহাত না দিয়ে মায়াকে ফোন করবে।
অন্যদিকে মায়াও ঘুমানোর আগে মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করল। মা যখন জানতে চাইলেন, তার দিনটা কেমন কেটেছে, মায়া হেসে বলল,
—ভালো কেটেছে মা। আজ অনেক সুন্দর সময় গেছে।
মা মেয়ের হাসিমুখ দেখে বললেন,
—সব সময় এমন হাসিখুশি থাকিস।
মায়া মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল,
—তোমরা পাশে থাকলেই তো ভালো থাকি।
সেই রাতে দুজনেই নিশ্চিন্ত মনে ঘুমিয়ে পড়ল। আগামীকাল কী অপেক্ষা করছে, তা তারা কেউ জানে না। তবে দুজনের মনেই ছিল একে অপরের সঙ্গে কথা বলার ছোট্ট অপেক্ষা।
চলবে... ❤️