ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 31

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ৩১

### আপনার অপেক্ষাতেই ছিলাম

সকালের নরম রোদ জানালার পর্দা ভেদ করে ঘরের ভেতর এসে পড়েছে। শাহজাদ ঘুম থেকে উঠে মোবাইল হাতে নিল। ঘুমানোর আগে মায়ার সঙ্গে কথা হয়েছিল, কিন্তু আজ সকালে তার কণ্ঠটা শোনার ইচ্ছা হচ্ছে ভীষণ।

সে মেসেজ পাঠাল।

শাহজাদ: সুপ্রভাত। ঘুম থেকে উঠেছেন?

কয়েক মিনিট পর মায়ার উত্তর এল।

মায়া: জি, উঠেছি। আপনি এত সকালে?

শাহজাদ: আপনার ঘুম ভাঙানোর দায়িত্ব কি আমার নয়?

মায়া: কে দিল আপনাকে এই দায়িত্ব?

শাহজাদ: নিজেই নিয়েছি। আপত্তি আছে?

মায়া মেসেজ পড়ে হেসে ফেলল।

মায়া: একটু আছে।

শাহজাদ: তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিই?

মায়া: না, সেটা বলিনি।

শাহজাদ মুচকি হাসল। মেয়েটার সঙ্গে কথা বলার সময় তার গম্ভীর স্বভাবটাও যেন কোথায় হারিয়ে যায়!

কিছুক্ষণ পর শাহজাদ ফোন করল।

—হ্যালো, কী করছেন?

—কিছু না। নাশতা করতে যাব।

—আমাকে ছাড়া?

মায়া একটু অবাক হয়ে বলল,

—আপনাকে নিয়ে নাশতা করতে যাব কীভাবে?

—সেটাও ঠিক। তবে আপনার সঙ্গে এক কাপ চা খেতে পারলে মন্দ হতো না।

—চা খেতে এত ইচ্ছা হলে নিজেই বানিয়ে নিন।

—চা বানাতে পারি। কিন্তু সঙ্গী কোথায় পাব?

মায়া হাসি চাপতে চেষ্টা করল।

—আপনার বাসায় তো সবাই আছে।

—সবাই আছে, কিন্তু আপনি তো নেই।

কথাটা শুনে মায়া কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। শাহজাদও আর কিছু বলল না। তারপর মায়া আস্তে করে বলল,

—আপনি আজকাল বেশ কথা বলতে শিখেছেন।

—আপনার কাছ থেকেই শিখছি।

—আমি আবার কী শেখালাম?

—আপনার সঙ্গে কথা বলতে বলতে বুঝেছি, সব কথা গম্ভীরভাবে বলতে হয় না। মাঝেমধ্যে একটু দুষ্টুমি করাও যায়।

মায়া হেসে বলল,

—আপনার দুষ্টুমি একটু বেশিই হচ্ছে।

—তাহলে কমিয়ে দেব?

—দেখা যাবে।

শাহজাদ হাসল।

—আজ বিকেলে আপনার সময় হবে?

—কেন?

—আপনার সঙ্গে দেখা করতে ইচ্ছে করছে।

মায়ার বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল। সে জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,

—কোথায় দেখা করবেন?

—আপনার পছন্দের জায়গায়। তবে আপনার পরিবারের অনুমতি থাকলে।

—আমি মাকে জিজ্ঞেস করে জানাচ্ছি।

—ঠিক আছে। আর একটা কথা?

—আবার কী?

—আজ কিন্তু আপনাকে একটু হাসিখুশি দেখতে চাই।

—আমি কি সবসময় মন খারাপ করে থাকি?

—না। তবে আপনার হাসিটা আমার ভালো লাগে।

মায়া আর কোনো উত্তর দিতে পারল না। শুধু বলল,

—আচ্ছা, রাখছি।

ফোন কেটে মায়া কিছুক্ষণ মোবাইলের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের অজান্তেই হাসল।

দুপুরের দিকে মায়া মাকে শাহজাদের কথা জানাল। মা প্রথমে কিছু প্রশ্ন করলেন, তারপর বললেন,

—ঠিক আছে। বিকেলে আমরা সবাই একসঙ্গে গেলে সমস্যা নেই।

মায়া হাসিমুখে শাহজাদকে জানিয়ে দিল। খবর পেয়ে শাহজাদের মন ভালো হয়ে গেল।

বিকেল পাঁচটার দিকে দুই পরিবার একটি সুন্দর বাগানঘেরা জায়গায় পৌঁছাল। জায়গাটিতে ছোট ছোট ফুলের গাছ, বসার বেঞ্চ আর সবুজ ঘাসের সমারোহ। পরিবারের সবাই নিজেদের মতো গল্পে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

শাহজাদ দূর থেকে মায়াকে দেখতে পেল। হালকা রঙের পোশাকে তাকে বেশ সুন্দর লাগছিল। মায়া যখন তার দিকে তাকাল, শাহজাদ মৃদু হাসল।

মায়া এগিয়ে এসে বলল,

—কী দেখছেন?

—কিছু না।

—তাহলে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?

—আপনাকে দেখছি।

মায়া চোখ বড় করে বলল,

—এভাবে সরাসরি বলেন কীভাবে?

শাহজাদ হেসে বলল,

—সত্যি কথা বলতে আবার সমস্যা কী?

—সব সত্যি কথা সবার সামনে বলতে হয় না।

—তাহলে কি আলাদা করে বলব?

মায়া লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকাল।

—আপনি একদম অসহ্য!

—কিন্তু আপনি এখনো আমার সঙ্গে কথা বলছেন।

—ভদ্রতা করে।

—ওহ! তাহলে আপনার ভদ্রতার মেয়াদ কতক্ষণ?

মায়া এবার হেসে ফেলল।

—আপনার সঙ্গে কথা বললে যে শান্তিতে থাকা যায় না!

শাহজাদ তার হাসির দিকে তাকিয়ে বলল,

—এই হাসিটাই তো দেখতে চেয়েছিলাম।

মায়া এবার আর কিছু বলল না। দুজন পাশাপাশি একটি বেঞ্চে বসল। কিছুক্ষণ তারা চারপাশের দৃশ্য দেখল।

শাহজাদ জিজ্ঞেস করল,

—সফরের সময় আপনাকে একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম।

—কী কথা?

—আপনি যখন বলেছিলেন আমার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, তখন আমার খুব ভালো লেগেছিল।

—আমি তো শুধু বলেছিলাম, কাজ শেষ করে ফিরবেন।

—আপনার ওই ছোট্ট কথাটাই আমার কাছে অনেক বড় ছিল।

মায়া একটু হেসে বলল,

—আপনি জানেন, আমি কিন্তু আপনার ওপর একটু অভিমান করেছিলাম।

—জানি।

—কীভাবে জানলেন?

—আপনার ছোট ছোট উত্তর দেখে।

—তাহলে বুঝেও আমাকে মানালেন না কেন?

শাহজাদ একটু গম্ভীর হলো।

—আমি বুঝেছিলাম আপনি মন খারাপ করেছেন। কিন্তু তখন কাজের মধ্যে ছিলাম। তবুও আরও ভালোভাবে সময় বের করার চেষ্টা করা উচিত ছিল। দুঃখিত।

মায়া তার দিকে তাকাল।

—আচ্ছা, মাফ করলাম।

—এত সহজে?

—না করলে কী করব? জরিমানা দেবেন?

শাহজাদ হেসে বলল,

—জরিমানা হিসেবে আপনার পছন্দের খাবার খাওয়াতে পারি।

—শুধু খাবার?

—আর কী চান?

মায়া মজা করে বলল,

—আগে ভাবতে হবে।

—বেশ, ভেবে জানাবেন। আমি অপেক্ষা করব।

এমন সময় শাহজাদের ছোট বোন দৌড়ে এসে হাজির হলো।

—ভাইয়া! তোমরা এখানে বসে কী করছ?

শাহজাদ বলল,

—গল্প করছি।

—আমাকেও গল্পে নাও!

মায়া হেসে বলল,

—আসো, তোমার সঙ্গে গল্প করি।

ছোট বোন মায়ার পাশে বসে নানা কথা বলতে শুরু করল। শাহজাদ দুজনের কথাবার্তা শুনে মুচকি হাসছিল। মায়া তার বোনের সঙ্গে এত সহজে মিশে যাচ্ছে দেখে তার ভালো লাগছিল।

কিছুক্ষণ পর ছোট বোন ফুলের বাগানের দিকে চলে গেল। শাহজাদ মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

—আপনাকে আমার পরিবারের সঙ্গে এত সহজে মিশতে দেখে ভালো লাগে।

মায়া শান্তভাবে উত্তর দিল,

—আপনার পরিবারও আমাকে আপন করে নেয়। বিশেষ করে আন্টি খুব ভালো।

—মা আপনাকে পছন্দ করেন।

—আপনি কীভাবে জানেন?

—কারণ মা প্রায়ই আপনার কথা বলেন।

মায়া অবাক হয়ে বলল,

—আমার কথা বলেন?

—হ্যাঁ। তবে সব কথা বলব না।

—কেন?

—কিছু কথা নিজের কাছে রাখার অধিকারও তো আছে।

মায়া হেসে বলল,

—বাহ! এখন আবার গোপনীয়তা!

শাহজাদ একটু ঝুঁকে নিচু স্বরে বলল,

—একটা কথা বলি? আপনাকে দেখার পর থেকে আজকের বিকেলটা আমার কাছে অনেক সুন্দর হয়ে গেছে।

মায়ার গাল লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। সে চোখ নামিয়ে বলল,

—আপনি আজ খুব বেশি প্রশংসা করছেন।

—কম বলছি। আরও অনেক কিছু বলার আছে।

—থাক, আর বলতে হবে না।

—ঠিক আছে। তবে একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন?

—কী?

—আমার সঙ্গে দেখা করতে আপনারও কি ভালো লাগে?

মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর মৃদু হেসে বলল,

—না লাগলে কি আজ এখানে আসতাম?

শাহজাদের মুখে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল।

—তাহলে আজকের দিনটা আমার জন্য সত্যিই বিশেষ।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে সবাই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিল। বিদায়ের আগে শাহজাদ মায়াকে বলল,

—বাসায় পৌঁছে জানাবেন।

মায়া বলল,

—আপনিও।

—আমি তো জানাবই। আপনি না জানালে কিন্তু অভিমান করব।

—আপনি সবকিছুতেই অভিমান করেন নাকি?

—আপনার কাছে একটু করলে ক্ষতি কী?

মায়া হাসল।

—ঠিক আছে, জানাব।

গাড়িতে ওঠার আগে শাহজাদ আরেকবার তার দিকে তাকাল। মায়াও একবার ফিরে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

সেদিন রাতে মায়ার ফোনে একটি বার্তা এল।

শাহজাদ: আজ আপনাকে দেখে মনে হলো, সফরের সব ক্লান্তি সত্যিই দূর হয়ে গেছে।

মায়া: এত সুন্দর বিকেলের জন্য ধন্যবাদ।

শাহজাদ: ধন্যবাদ আমাকে নয়। আপনি এসেছিলেন বলেই বিকেলটা সুন্দর হয়েছে।

মায়া: শুভরাত্রি, শাহজাদ।

শাহজাদ: শুভরাত্রি, মায়া। ভালো থাকবেন।

মোবাইলটা পাশে রেখে মায়া জানালার বাইরে তাকাল। তার মনে হলো, কিছু অনুভূতি মুখে প্রকাশ না করলেও দুজন মানুষ ঠিকই বুঝতে পারে।

আর শাহজাদ?

সে সেদিন ঘুমানোর আগে মনে মনে শুধু একটি কথাই ভাবল—মায়ার মুখের ওই মিষ্টি হাসিটা যেন কখনো হারিয়ে না যায়।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 31 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন