ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 32

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ৩২

### অভিমানের আড়ালে ভালোবাসা

সকালের নরম আলোয় ঘুম ভাঙল মায়ার। ঘুম থেকে উঠেই মোবাইলটা হাতে নিল সে। গত রাতের শাহজাদের শেষ মেসেজটা এখনো স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে।

মায়া মেসেজটা পড়ে মুচকি হাসল। তারপর নিজেই শাহজাদকে একটা মেসেজ পাঠাল।

মায়া: সুপ্রভাত। আজ এত দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছেন?

কিছুক্ষণ পর উত্তর এল।

শাহজাদ: আপনার মেসেজের অপেক্ষায় ছিলাম।

মায়া: মিথ্যা কথা!

শাহজাদ: বিশ্বাস হচ্ছে না?

মায়া: একদম না।

শাহজাদ: তাহলে একটা প্রমাণ দিই?

মায়া: কী প্রমাণ?

শাহজাদ: সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই আপনার কথাই মনে হয়েছে।

মায়া উত্তর না দিয়ে ফোনটা বুকে চেপে ধরে কিছুক্ষণ বসে রইল। তারপর লিখল,

মায়া: আপনার কথাগুলো দিন দিন বেশি মিষ্টি হচ্ছে।

শাহজাদ: দোষটা আপনার।

মায়া: আমার আবার কী দোষ?

শাহজাদ: আপনি হাসলে আমারও ভালো কথা বলতে ইচ্ছে করে।

মায়া এবার আর উত্তর দিল না। শুধু হাসতে হাসতে রান্নাঘরের দিকে চলে গেল।

অন্যদিকে খান বাড়িতে শাহজাদ নাশতার টেবিলে বসে আছে। রেহানা বেগম ছেলের প্লেটে খাবার তুলে দিতে দিতে বললেন,

—কী ব্যাপার? আজকাল সকাল হলেই মোবাইল নিয়ে বসে থাকিস।

শাহজাদ স্বাভাবিকভাবে বলল,

—কিছু কাজ থাকে, মা।

ছোট বোন পাশ থেকে বলে উঠল,

—কাজ না, মায়া আপুর সঙ্গে কথা!

শাহজাদ তার দিকে তাকিয়ে বলল,

—তোমার নাশতা শেষ হয়েছে?

—না। কিন্তু তোমার কথা শেষ হয়নি!

রেহানা বেগম হেসে ফেললেন।

—তোকে আর কিছু বলতে হবে না। নিজের নাশতা খা।

ছোট বোন মুখ বাঁকিয়ে খাবার খেতে লাগল।

শাহজাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

—মা, আজ বিকেলে একটু বাইরে যাব।

—কোথায়?

—মায়ার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ছিল। অবশ্য ওর সময় আর পরিবারের অনুমতি থাকলে।

রেহানা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

—ভালো কথা। তবে মেয়েটার সুবিধাটাও আগে জেনে নিস।

—সেটাই করব।

দুপুরে মায়া নিজের ঘরে বসে পড়ছিল। এমন সময় শাহজাদের ফোন এল।

—হ্যালো।

—ব্যস্ত আছেন?

—পড়ছিলাম। বলুন।

—আজ বিকেলে আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই।

—আজ আবার?

—কেন? গতকাল দেখা হয়েছে বলে আজ দেখা করা যাবে না?

মায়া হেসে বলল,

—তা বলিনি।

—তাহলে?

—আজ মায়ের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

—ঠিক আছে। আপনার সুবিধা হলে জানাবেন।

মায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

—আপনি কি সত্যিই আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য এতটা আগ্রহী?

শাহজাদ শান্ত গলায় উত্তর দিল,

—হ্যাঁ। কারণ আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে আমার ভালো লাগে। তবে আপনার ইচ্ছার বাইরে কিছুই করতে চাই না।

মায়ার মুখে মৃদু হাসি ফুটল।

—আচ্ছা, আমি মাকে জিজ্ঞেস করে জানাচ্ছি।

—অপেক্ষায় থাকলাম।

বিকেলের দিকে মায়া জানাল, পরিবারের অনুমতি পাওয়া গেছে। তবে আজ দেখা হবে কাছের একটি ছোট ক্যাফেতে, যেখানে দুজনের সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যও থাকবেন।

শাহজাদ সময়মতো পৌঁছে গেল। কিছুক্ষণ পর মায়া তার মায়ের সঙ্গে সেখানে এল।

শাহজাদ উঠে দাঁড়িয়ে সালাম দিল।

—আসসালামু আলাইকুম, আন্টি।

—ওয়ালাইকুম আসসালাম। কেমন আছ বাবা?

—আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?

—ভালো আছি।

তারা বসে পড়ল। মায়ার মা কিছুক্ষণ সবার সঙ্গে গল্প করে পাশের টেবিলে পরিচিত একজনের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন। শাহজাদ আর মায়া নিজেদের মধ্যে কথা বলতে শুরু করল।

শাহজাদ মেনু কার্ডটা মায়ার দিকে এগিয়ে দিল।

—কী খাবেন?

—আপনি যা নেবেন।

—এভাবে হবে না। আপনার পছন্দের কিছু বলুন।

—এক কাপ কফি আর একটা স্যান্ডউইচ।

—ঠিক আছে।

অর্ডার দেওয়ার পর শাহজাদ মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,

—আজ আপনাকে একটু চুপচাপ লাগছে।

—আমি তো এমনই।

—না, সবসময় এমন নন। আমার সঙ্গে কথা বলার সময় বেশ হাসেন।

মায়া ভ্রু কুঁচকে বলল,

—তাহলে কি আজ হাসতে হবে?

—না। তবে আপনার হাসিটা মিস করছি।

মায়া এবার হেসে ফেলল।

—আপনি না, একদম!

—কী? সত্যি কথাও বলা যাবে না?

—যাবে। কিন্তু এতবার বললে আর বিশ্বাস হয় না।

শাহজাদ একটু গম্ভীর হয়ে বলল,

—তাহলে একবার বলি, মন দিয়ে শুনুন। আপনার সঙ্গে দেখা হলে আমার দিনটা ভালো যায়।

মায়া চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।

ঠিক তখনই খাবার চলে এল। শাহজাদ নিজের কফির কাপ হাতে নিয়ে বলল,

—কফিটা গরম। সাবধানে খাবেন।

মায়া কাপ হাতে নিয়ে বলল,

—আপনি সবসময় এত খেয়াল রাখেন কেন?

—কারণ আপনার ছোট ছোট বিষয়গুলোও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মায়া এবার চোখ নামিয়ে নিল।

কিছুক্ষণ পর শাহজাদ খেয়াল করল, মায়ার কফির কাপ প্রায় খালি। সে ওয়েটারকে ডেকে মায়ার জন্য পানি চাইল।

মায়া বলল,

—আমি নিজেই নিতে পারতাম।

—জানি। কিন্তু আমি চেয়েছি আপনাকে এনে দিতে।

—আপনি সবকিছুতেই এমন করেন?

—আপনার ক্ষেত্রে করতে ভালো লাগে।

মায়া একটু হাসল।

—আপনি কি জানেন, আপনার এই যত্নগুলো মাঝে মাঝে আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে?

শাহজাদ সঙ্গে সঙ্গে বলল,

—কেন? আমি কি কোনো ভুল করছি?

—না, তা নয়। শুধু এত যত্ন পেলে অভ্যাস হয়ে যায়।

শাহজাদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

—তাহলে একটা কথা দিই। যত্ন করব, তবে কখনো আপনার ওপর কোনো প্রত্যাশা চাপিয়ে দেব না। আপনি নিজের মতো থাকবেন।

মায়ার চোখে প্রশান্তির ছাপ ফুটে উঠল।

—এই কথাটাই আমার ভালো লাগে।

শাহজাদ মৃদু হেসে বলল,

—আর আপনার কোন কথাটা আমার ভালো লাগে জানেন?

—কোনটা?

—আপনি যখন আমার নাম ধরে ডাকেন।

মায়া একটু অবাক হলো।

—শাহজাদ?

—জি?

—এবার খুশি?

শাহজাদ হেসে বলল,

—অনেক!

মায়াও হেসে উঠল। দুজনের কথার মাঝে সময় কীভাবে কেটে গেল, তারা বুঝতেই পারল না।

বাড়ি ফেরার সময় মায়ার মা বললেন,

—চলো মা, এবার যাওয়া যাক।

মায়া উঠে দাঁড়াল। শাহজাদও বিদায় জানিয়ে বলল,

—আন্টি, ভালো থাকবেন।

তারপর মায়ার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বলল,

—বাসায় পৌঁছে জানাবেন।

মায়া মাথা নেড়ে বলল,

—আপনিও সাবধানে যাবেন।

গাড়িতে ওঠার আগে শাহজাদ বলল,

—মায়া?

—জি?

—আজকের সময়টা আমার খুব ভালো লেগেছে।

মায়া মৃদু হেসে বলল,

—আমারও।

শাহজাদ আর কিছু বলল না। শুধু হাসল।

রাতে মায়ার ফোনে শাহজাদের কল এল।

—হ্যালো, বাসায় পৌঁছেছেন?

—জি, পৌঁছেছি।

—আজ ভালো সময় কাটিয়েছেন তো?

—হ্যাঁ। আপনি?

—আমিও। তবে একটা অভিযোগ আছে।

মায়া অবাক হয়ে বলল,

—আবার কী অভিযোগ?

—আজ আপনি আমাকে একবারও ভালো করে হাসিয়ে কথা বলেননি।

—আমি তো অনেক কথা বলেছি!

—কথা বলেছেন, কিন্তু আমার দিকে তাকিয়ে হাসেননি।

মায়া হেসে ফেলল।

—আপনি কি আমার হাসির হিসাব রাখেন?

—আপনার সবকিছুর হিসাব রাখা সম্ভব নয়। তবে আপনার হাসিটা মনে থাকে।

মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর আস্তে করে বলল,

—শাহজাদ?

—জি, বলুন।

—আপনার সঙ্গে কথা বললে আমারও ভালো লাগে।

শাহজাদের কণ্ঠ নরম হয়ে এল।

—এই কথাটুকুই আমার জন্য অনেক।

—এবার ঘুমাতে যান। অনেক রাত হয়েছে।

—একটু পর।

—কেন?

—আপনার সঙ্গে কথা শেষ করতে ইচ্ছে করছে না।

মায়া হেসে বলল,

—কাল আবার কথা হবে।

—প্রতিশ্রুতি?

—জি, প্রতিশ্রুতি।

শাহজাদ মৃদু হেসে বলল,

—তাহলে শুভরাত্রি, মায়া।

—শুভরাত্রি।

কল শেষ হলেও দুজনের মনেই থেকে গেল এক মিষ্টি অনুভূতি।

কেউ কাউকে ভালোবাসার কথা বলেনি, তবুও যত্নের ছোট ছোট মুহূর্তে তাদের সম্পর্কটা একটু একটু করে গভীর হচ্ছে।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 32 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন