ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 35

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ৩৫

### ভালোবাসার প্রথম স্বীকারোক্তি

সকাল থেকেই শাহজাদের মনটা বেশ ভালো। গতকালের বিকেলটা বারবার মনে পড়ছে তার। বিশেষ করে মায়ার বলা কথাটা—

“আমারও আপনাকে ভালো লাগে, শাহজাদ।”

কথাটা মনে পড়তেই তার ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।

অফিসে যাওয়ার আগে সে মায়াকে ফোন করল।

—সুপ্রভাত, মায়া।

—সুপ্রভাত।

—কী করছেন?

—নাশতা করছি।

—আমাকে ছাড়া?

মায়া হেসে বলল,

—আপনি কি আমার সঙ্গে নাশতা করতে চান?

—অবশ্যই। তবে আজ তো আর সম্ভব নয়।

—তাহলে অফিসে যান। দেরি হয়ে যাবে।

—যাব। কিন্তু যাওয়ার আগে একটা কথা শুনতে চাই।

—আবার কী কথা?

—গতকাল যা বলেছিলেন, সেটা কি আজও সত্যি?

মায়া বুঝতে পারল শাহজাদ কী জানতে চাইছে।

—কোন কথাটা?

—যে আমাকে আপনার ভালো লাগে।

মায়া লজ্জা পেয়ে বলল,

—আপনি না একদম অসহ্য!

—তার মানে কথাটা সত্যি?

—আপনি অফিসে যান!

শাহজাদ হেসে উঠল।

—ঠিক আছে। তবে আজ সারাদিন এই কথাটা মনে রেখেই কাজ করব।

দুপুরে অফিসের কাজ শেষ করে শাহজাদ মায়াকে মেসেজ দিল।

শাহজাদ: আজ বিকেলে একটু সময় হবে?

মায়া: কেন?

শাহজাদ: আপনার সঙ্গে কিছু কথা আছে।

মায়া: ফোনে বলা যাবে না?

শাহজাদ: কিছু কথা সামনাসামনি বলতেই ভালো লাগে।

মায়া: আচ্ছা, মাকে জিজ্ঞেস করে জানাচ্ছি।

কিছুক্ষণ পর মায়া জানাল, বিকেলে দেখা করতে পারবে। শাহজাদ খুশি হয়ে উত্তর দিল।

শাহজাদ: তাহলে বিকেলে দেখা হচ্ছে।

মায়া: জি।

শাহজাদ: আর একটা কথা, আজ কিন্তু আপনাকে হাসিমুখে দেখতে চাই।

মায়া: আপনি থাকলে হাসি না এসে উপায় আছে?

শাহজাদ মেসেজটা পড়ে মুচকি হাসল।

বিকেল চারটা।

মায়া তৈরি হয়ে নিচে এল। আজ সে হালকা গোলাপি রঙের পোশাক পরেছে। শাহজাদ নির্দিষ্ট জায়গায় অপেক্ষা করছিল।

মায়াকে দেখে সে বলল,

—আজ আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে।

মায়া হেসে বলল,

—প্রতিদিনই তো বলেন।

—কারণ প্রতিদিনই আপনাকে সুন্দর লাগে।

—আপনার প্রশংসা করার অভ্যাসটা কমবে না?

—আপনাকে দেখলে তো আরও বেড়ে যায়।

মায়া লজ্জা পেয়ে অন্যদিকে তাকাল।

শাহজাদ তাকে নিয়ে একটি শান্ত জায়গায় গেল। সেখানে ছোট্ট একটি রেস্টুরেন্টের বাইরে সুন্দর বাগান ছিল। দুজন একটি টেবিলে বসল।

শাহজাদ মেনু কার্ড এগিয়ে দিয়ে বলল,

—আজ আপনার পছন্দমতো খাবার অর্ডার করবেন।

—আপনি কী খাবেন?

—আপনি যা নেবেন, আমিও তাই নেব।

—এটা আবার কেমন কথা?

—আপনার পছন্দের সঙ্গে একটু পরিচিত হই।

মায়া হেসে ফেলল।

খাবার আসার অপেক্ষায় দুজন গল্প করতে লাগল।

হঠাৎ শাহজাদ বলল,

—মায়া, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?

—করুন।

—আপনি কি আমাকে বিশ্বাস করেন?

মায়া একটু ভেবে বলল,

—হ্যাঁ, করি। তবে বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয় না। সময়ের সঙ্গে আরও বাড়বে।

শাহজাদ মাথা নাড়ল।

—আপনার কথাটা আমার ভালো লাগল। আমিও চাই, আপনি আমাকে সময় নিয়ে চিনুন।

—আপনিও আমাকে বুঝবেন তো?

—চেষ্টা করব। আপনার ভালো লাগা, খারাপ লাগা, অভিমান—সবকিছুকেই গুরুত্ব দিতে চাই।

মায়া মৃদু হেসে বলল,

—তাহলে একটা কথা বলি?

—বলুন।

—আমি রাগ করলে কিন্তু সহজে মানি না।

শাহজাদ হেসে বলল,

—জানি। তবে আপনার অভিমান ভাঙানোর চেষ্টা করতে আমার আপত্তি নেই।

—আর যদি অনেক রাগ করি?

—তাহলে একটু বেশি সময় নিয়ে মানাব।

মায়া এবার প্রাণখুলে হেসে উঠল।

শাহজাদ কিছুক্ষণ তার হাসির দিকে তাকিয়ে রইল।

—কী হলো? এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?

—ভাবছি, আপনার হাসিটা এত সুন্দর কেন!

—আবার শুরু করলেন!

—কী করব? নিজেকে থামাতে পারি না।

খাওয়া শেষে তারা বাগানের পাশে হাঁটতে লাগল। বিকেলের বাতাসে মায়ার চুল সামান্য উড়ছিল। সে চুল ঠিক করতে করতে শাহজাদকে বলল,

—আপনি আজ আমাকে কী বলতে চেয়েছিলেন?

শাহজাদ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

তারপর ধীরে বলল,

—মায়া, আমি আপনাকে পছন্দ করি। শুধু ভালো লাগা নয়, আপনার প্রতি আমার অনুভূতিটা দিন দিন গভীর হচ্ছে। আপনার সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে, আপনার খোঁজ নিতে ইচ্ছে করে, আপনার মন খারাপ হলে আমারও খারাপ লাগে।

মায়া চুপ করে শুনছিল।

শাহজাদ আবার বলল,

—আমি জানি, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু সুন্দর কথা যথেষ্ট নয়। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত চাইছি না। শুধু চাই, আপনি জানুন—আপনি আমার কাছে বিশেষ একজন।

মায়ার চোখে লাজুক হাসি ফুটল।

—আমি জানি, শাহজাদ।

—আর আপনি?

—আমি কী?

—আপনার অনুভূতিটা কি একটু বলবেন?

মায়া কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,

—আপনার ফোনের অপেক্ষা করি। আপনার মেসেজ এলে ভালো লাগে। আপনি ব্যস্ত থাকলে একটু অভিমানও হয়। আর আপনার সঙ্গে দেখা হলে সময়টা খুব দ্রুত কেটে যায়।

শাহজাদ মৃদু হেসে বলল,

—এতটুকুই?

মায়া তার দিকে তাকিয়ে বলল,

—না। আপনাকে আমার সত্যিই ভালো লাগে।

শাহজাদ কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারল না। তার মুখে এমন এক হাসি ফুটে উঠল, যা মায়া আগে খুব কমই দেখেছে।

—আজ মনে হচ্ছে, আমার দিনটা সার্থক।

মায়া হেসে বলল,

—এত খুশি হওয়ার কী আছে?

—আপনার মুখ থেকে কথাটা শোনার অপেক্ষায় ছিলাম।

বাড়ি ফেরার আগে শাহজাদ মায়াকে বলল,

—একটা অনুরোধ করতে পারি?

—কী?

—মাঝেমধ্যে নিজে থেকেও আমাকে ফোন করবেন।

—আপনি তো করেনই।

—সবসময় আমিই করলে চলবে?

মায়া মুচকি হেসে বলল,

—আচ্ছা, আমিও করব।

—কথা দিলেন?

—কথা দিলাম।

শাহজাদ হাসল।

—তাহলে আজকের দিনটা আরও সুন্দর হলো।

রাতে মায়া নিজের ঘরে বসে ছিল। হঠাৎ শাহজাদের মেসেজ এল।

শাহজাদ: বাসায় পৌঁছেছেন?

মায়া: জি।

শাহজাদ: আজকের কথাগুলো মনে থাকবে।

মায়া: আমারও।

শাহজাদ: একটা কথা বলি?

মায়া: বলুন।

শাহজাদ: আজ আপনাকে বিদায় দেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল, আরেকটু সময় যদি আপনার সঙ্গে থাকতে পারতাম!

মায়া: কাল তো আবার কথা হবে।

শাহজাদ: কথা হবে, কিন্তু দেখা হওয়ার আনন্দটা আলাদা।

মায়া: তাহলে আবার দেখা হবে।

শাহজাদ: অপেক্ষায় থাকলাম।

মায়া ফোনটা পাশে রেখে জানালার বাইরে তাকাল।

তার জীবনে নতুন কোনো অধ্যায় শুরু হয়েছে কি না, সে জানে না। তবে এটুকু বুঝতে পারছে, শাহজাদ নামের মানুষটি তার মনে একটু একটু করে জায়গা করে নিচ্ছে।

আর শাহজাদ?

সে ঘুমানোর আগে শেষবারের মতো মায়ার মেসেজটা পড়ল।

আজ আর কোনো প্রশ্ন নেই, কোনো অভিমান নেই।

শুধু দুজনের মনে একই অনুভূতি—একে অপরকে আরও একটু বেশি করে জানার ইচ্ছা।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 35 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন