### তোর আসক্ত আমি
লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা
পর্ব সংখ্যা: ৩৬
### আপনার হাতটা ধরতে ইচ্ছে করে
সকাল থেকেই মায়ার মনটা বেশ ফুরফুরে। আজ তার কোনো বিশেষ কাজ নেই। ঘুম থেকে উঠে নাশতা করে নিজের ঘরটা গুছিয়ে নিচ্ছিল। এমন সময় মোবাইলে শাহজাদের কল এল।
—আসসালামু আলাইকুম, মায়া।
—ওয়ালাইকুম আসসালাম। এত সকালে?
—সকাল হয়েছে বলেই তো ফোন করেছি।
—আপনার কি আর কোনো কাজ নেই?
—আছে। তবে কাজের আগে আপনাকে একটু বিরক্ত করা জরুরি।
মায়া হেসে বলল,
—আপনি আমাকে বিরক্ত করেন?
—প্রতিদিন করি। তবুও আপনি ফোন ধরেন।
—ভদ্রতা করে ধরি।
—তাহলে আজ থেকে ভদ্রতা একটু কমিয়ে দিন। নিজের ইচ্ছায় ফোন ধরবেন।
মায়া মুচকি হেসে বলল,
—আপনি না!
—জি, আমি।
—কিছু বলবেন?
—আজ বিকেলে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।
—কোথায়?
—আপনার পছন্দের সেই সবুজ জায়গাটায়।
—আচ্ছা, মাকে জিজ্ঞেস করে জানাচ্ছি।
—ঠিক আছে। আর হ্যাঁ, আজ কিন্তু আপনাকে একটা কথা বলব।
—কী কথা?
—সেটা সামনাসামনি বলব।
বিকেল পাঁচটা।
মায়া পরিবারের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাল। শাহজাদ আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল। মায়াকে দেখে এগিয়ে এসে বলল,
—আজ এত দেরি করলেন কেন?
—আমি তো সময়মতোই এসেছি।
—আমার কাছে একটু দেরি মনে হয়েছে।
—আপনি কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন?
—আপনাকে দেখার অপেক্ষা তো সকাল থেকেই করছি।
মায়া হেসে বলল,
—আপনার কথার কোনো শেষ নেই।
—আপনার সঙ্গে কথা বলারও তো শেষ নেই।
দুজন হাঁটতে হাঁটতে একটি বেঞ্চের কাছে এসে বসল।
শাহজাদ আজ বেশ শান্ত। মায়া সেটা খেয়াল করে বলল,
—কী হয়েছে? আজ এত চুপচাপ কেন?
—কিছু ভাবছি।
—কী ভাবছেন?
—আপনাকে একটা কথা বলব কি না, সেটাই ভাবছি।
—বলেই ফেলুন।
শাহজাদ একটু হেসে বলল,
—আপনার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে মাঝে মাঝে মনে হয়, আপনার হাতটা ধরে পাশাপাশি হাঁটলে কেমন হতো।
কথাটা শুনে মায়া লজ্জা পেয়ে নিচের দিকে তাকাল।
—আপনি এসব কথা হঠাৎ বলেন কেন?
—কারণ অনুভূতিটা হঠাৎ করেই মনে আসে।
তারপর শাহজাদ একটু থেমে যোগ করল,
—তবে আপনার সম্মতি ছাড়া কখনোই এমন কিছু করব না। আপনার স্বস্তিটাই আমার কাছে আগে।
মায়া মৃদু হেসে বলল,
—আপনি আগে আমার পাশে হাঁটুন। হাত ধরার কথা পরে ভাববেন।
শাহজাদ হেসে উঠল।
—ঠিক আছে। আপনার কথাই শেষ কথা।
কিছুক্ষণ পর তারা ফুলের বাগানের দিকে গেল। মায়া একটি সাদা ফুলের কাছে দাঁড়িয়ে সেটি দেখছিল।
শাহজাদ পাশে এসে বলল,
—কী দেখছেন?
—ফুলটা খুব সুন্দর।
—আপনার পছন্দ?
—হ্যাঁ। সাদা ফুল আমার খুব ভালো লাগে।
—তাহলে আজ থেকে সাদা ফুল দেখলেই আপনার কথা মনে পড়বে।
মায়া তার দিকে তাকিয়ে বলল,
—আগে থেকেই কি সবকিছুতে আমার কথা মনে পড়ে?
—অনেক কিছুতেই।
—যেমন?
—সকালে চা খেতে বসলে মনে হয়, আপনি চা খাচ্ছেন কি না। অফিস থেকে ফিরলে মনে হয়, আজ আপনার সঙ্গে কথা হয়েছে কি না। কোনো সুন্দর জায়গা দেখলে মনে হয়, আপনাকে এখানে নিয়ে এলে ভালো হতো।
মায়া চুপ করে শুনছিল।
শাহজাদ আবার বলল,
—আমি জানি, এসব কথা শুনতে খুব সাধারণ লাগে। কিন্তু আমার কাছে এগুলো সত্যি।
মায়া আস্তে করে বলল,
—আপনার কথা শুনলে আমারও ভালো লাগে।
—তাহলে আরেকটা কথা বলি?
—বলুন।
—আপনি আমার জীবনে থাকলে আমি চাই, আপনার হাসি আর অভিমান—দুটোকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিতে।
মায়া মৃদু হেসে বলল,
—আমার অভিমান কিন্তু অনেক!
—তাহলে আমার ধৈর্যও বাড়াতে হবে।
দুজনেই হেসে উঠল।
হঠাৎ মায়ার মোবাইলে তার মায়ের ফোন এল।
—মা, বলো।
—কোথায় আছিস? বেশি দেরি করিস না।
—আচ্ছা মা, আমরা একটু পরেই ফিরব।
কল শেষ করে মায়া শাহজাদকে বলল,
—আমাকে এবার যেতে হবে।
শাহজাদ মাথা নাড়ল।
—ঠিক আছে। তবে যাওয়ার আগে একটা কথা বলব?
—আবার?
—আজকের সময়টা আমার খুব ভালো লেগেছে।
—আমারও।
—আর আপনার সঙ্গে এমন সময় আরও কাটাতে চাই।
মায়া হাসল।
—তাহলে আবার দেখা হবে।
—অবশ্যই।
রাতে শাহজাদ নিজের ঘরে বসে ছিল। ছোট বোন এসে দরজায় দাঁড়িয়ে বলল,
—ভাইয়া, কী করছ?
—কাজ করছি।
—মিথ্যা! তুমি হাসছ কেন?
শাহজাদ ভ্রু কুঁচকে বলল,
—হাসতে কি নিষেধ?
—না। কিন্তু তোমার হাসির কারণ আমি জানি।
—কী জানো?
—মায়া আপু!
শাহজাদ হেসে মাথা নাড়ল।
—তুমি অনেক কথা শিখেছ।
—তাহলে বলো, মায়া আপুকে কবে আমাদের বাড়িতে দাওয়াত করবে?
—সময় হলে।
ছোট বোন খুশি হয়ে বলল,
—আমি কিন্তু আপুর সঙ্গে অনেক গল্প করব!
—ঠিক আছে, আগে পড়াশোনা শেষ করো।
ছোট বোন চলে গেলে শাহজাদ মায়াকে মেসেজ পাঠাল।
শাহজাদ: আজ আপনাকে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি।
মায়া: কী কথা?
শাহজাদ: আমার ছোট বোন আপনার সঙ্গে আবার দেখা করতে চায়।
মায়া: সত্যি? ও খুব মিষ্টি একটা মেয়ে।
শাহজাদ: আপনার সঙ্গে ওর বেশ ভাব হয়ে গেছে।
মায়া: আমারও ওর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে।
শাহজাদ: তাহলে একদিন আমাদের বাড়িতে আসবেন?
মায়া: পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানাব।
শাহজাদ: অপেক্ষায় থাকলাম।
কিছুক্ষণ পর শাহজাদ আবার লিখল—
শাহজাদ: মায়া?
মায়া: জি?
শাহজাদ: আজ আপনার পাশে হাঁটতে হাঁটতে মনে হচ্ছিল, সময়টা একটু ধীরে চললে ভালো হতো।
মায়া উত্তর দিল,
মায়া: আমারও আজকের বিকেলটা খুব ভালো লেগেছে।
শাহজাদ: তাহলে আজ দুজনেরই দিন ভালো কেটেছে।
মায়া: জি। এবার ঘুমান।
শাহজাদ: শুভরাত্রি। ভালো থাকবেন।
মায়া: আপনিও।
শাহজাদ মোবাইলটা রেখে দিল। তার মনে হলো, মায়ার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত তাকে আরও ধৈর্যশীল করে তুলছে।
আর মায়া নিজের বই খুলে বুকমার্কটা দেখতে দেখতে মৃদু হাসল।
কিছু সম্পর্কের সৌন্দর্য তাড়াহুড়োয় নয়, বরং একে অপরের ইচ্ছাকে সম্মান করে ধীরে ধীরে কাছে আসার মধ্যে।
আমার সুন্দর উপন্যাস, আশা করি সবার ভাল লাগবে, আমার এই উপন্যাস টি
সবাই দেখবেন আল্লাহ হাফেজ,
চলবে... ❤️
❤️