ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

৩য় পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ০৩

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

"কোথাও যাবো না জান। তুই বললেও যাবো না। আমাকে বরং তোর কাছে বেঁধেই রাখ। কসম! সারাজীবন তোর কাছেই থাকবো। খুব কাছে।"

অত্যন্ত ঠান্ডা স্বরে বাক্যগুলো আওড়ালো কৌশিক। হাতের বন্ধন দৃঢ় করলো। যেনো বুকের চামড়া ভেদ করে তুবাকে ভেতরে ঢুকিয়ে নেয়ার প্রয়াস। অত্যাধিক চাপে হাসফাস করে উঠলো তুবা। ওঠার চেষ্টা করলো। বিড়বিড় করে আওড়ালো,

"উফফ... ব্যথা লাগে।"

কৌশিক তবুও ছাড়লো না। কন্ঠ স্বর প্রতাবাদী শোনালো,

"লাগুক। আমাকে যে দফায় দফায় পোড়াস তার বেলায়? আমার কি ব্যথা লাগে না? আমি কি কষ্ট পাই না? এই মাঝরাতে চুল ভেজা কেনো তোর?"

"আমার ইচ্ছে।"

"সে তো বুঝতেই পারছি। ইচ্ছে করে জ্বর বাঁধিয়েছিস। এবার শক্ত করে জাপ্টে ধরে হাড়গোড় ভেঙ্গে দেই? কি বলিস? অন্য কোনো শাস্তি দেয়ার তো অধিকার নেই আমার।"

"সব অধিকার আপনারই।"

কৌশিক থমকে গেলো। তীঘ্ন চোখে তুবার মুখের দিকে তাকালো। নির্মিশেষ তাকিয়েই রইলো কয়েক মুহুর্ত। তুবা তখনও চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করছে। কিছু কথা বোঝা যাচ্ছে। আবার কিছু জড়িয়ে যাচ্ছে। কৌশিক মাথা ঝুঁকিয়ে তুবার মুখের কাছে কান পেতে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে কানে ভেসে এলো হৃদয় শীতল করা কিছু মধুর বাক্য,

"আইই.. লাভ ইউ কৌশিক ভাই। ভালোবাসি আপনাকে। আপনি কি আমাকে একটুও ভালোবাসেন না?"

কৌশিকের বুকে আচমকা প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়লো। ভিষণ সুখ সুখ অনুভুতি হচ্ছে। তুবার আগুন উত্তপ্ত দেহটা বুকে জড়িয়েও ভেতরটা ঠান্ডা অনুভব হলো। কৌশিক আরও একটু ঝুঁকল। জ্বরে বেহুশ তুবার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"আমাকে ভালোবসিস?"

তুবা চোখ বন্ধ রেখেই উপর নিচ মাথা ঝাঁকাল। কৌশিক আবারও প্রশ্ন করল,

"কতটা ভালোবাসিস?"

"অন্নেক বেশি।"

বলতে বলতে তুবা হঠাৎ করেই ঠোঁট ভেঙে কেঁদে ফেললো। বন্ধ চোখের কার্নিশ বেয়ে ফুটন্ত গরম পানির ন্যায়ে অশ্রু ঝরে পড়লো। তুবা দুই হাতে কৌশিকের গলা জড়িয়ে ধরলো। কৌশিকের গলার ভাজে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে উঠলো। আচমকা তুবার কান্না দেখে হকচকিয়ে গেলো কৌশিক। ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"কাঁদছিস কেনো?"

"আমার কষ্ট হচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। বুকে ব্যথা করছে। কান্না পাচ্ছে। আমি কি করবো? আপনি কেনো আমাকে ভালোবাসেন না?"

বলতে বলতে আবারও ফুপিয়ে উঠলো। কৌশিক হালকা হাসলো। তুবার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"বহু কষ্টে অনুভুতি গুলো দমিয়ে রেখেছি। সেগুলো নিজ হাতে খুঁটলে খুঁটলে বের করছিস তো? আমার ভালোবাসা কিন্তু সহ্য করতে পারবি না। অতিষ্ট হয়ে উঠবি।"

তুবা কোনো জবাব দিলো না। শান্ত নদীর মতো নিশ্চুপ রইলো। গুনগুন করে কেটে গেলো কিছু সময়। কৌশিক তুবার মাথাটা এক হাতে উঁচু করে ধরলো। কৌশিকের হাতের ওপর হেলে পড়লো তুবার মাথা। জ্বরটা মাথায় চড়ে গেছে মেয়েটার। গায়ের তাপমাত্রা হুড়হুড় করে বাড়ছে। এজন্য হয়তো হুঁশ ধরে রাখতে পারছে না। তুবার রোগাক্রান্ত শুকনো মুখটা কৌশিকের ভেতরটা নাড়িয়ে দিলো। ব্যথায় জর্জরিত হলো বুক। তুবার ছেড়ে দেয়া শরীরটা নিজের সাথে যত্ন নিয়ে আগলে ধরলো। কপালে আরও দুই তিনবার ঠোঁট ছোঁয়াল। ধীমি সুরে ফিসফিস করে বলল,

"আই লাই ইউ জান। আই লাই ইউ ডেস্পারেটলি। তুই নিজেও জানিস না আমি তোকে ঠিক কতটা ভালোবাসি। পাগলের মতো ভালোবাসি। এই দেখ না। জ্বর তোর গায়ে উঠেছে। অথচ বুক আমার পুড়ছে। তোর কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না। বুকটা হাহাকার করছে। তুই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমার বুকের জ্বলন কমিয়ে দে জান। তোর দহনে আমি যে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি।"

কৌশিকের কন্ঠে ছিলো একবুক ব্যাকুলতা। এই মুহুর্তে তুবা হুঁশে থাকলে একজন পাগল প্রেমিকের বুকফাটা আর্তনাদ দেখতে পেতো। ব্যাকুল দুই চোখে এক সাগর ভালোবাসা দেখতে পেতো। মনের সকল সংশয়, সকল ভয় দূর হয়ে যেতে। কিন্তু অভাগী মেয়েটা এমন কোমল মুহুর্তে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে।

মিনিটখানেকের মাথায় দড়জায় টোকা পড়লো। সঙ্গে শোনা গেলো মৌমিতার চিকন সুর,

"ভাই! তোর টাইম শেষ। দড়জা খোল।"

কৌশিক ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো একবার। বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে গেলো। ইচ্ছে করছে মৌমিতার গলা টিপে ধরে ওর টাইমও শেষ করে দিতে। কৌশিকের একদমই মন চাইলো না তুবাকে ছাড়তে। কিন্তু এভাবে থাকাও ঠিক হবে না। পাছে যদি বাড়ির কেউ জেনে যায়? তুবা চাপের মুখে পড়বে। নানান ভাবনা চিন্তা করে তুবাকে আস্তে করে শুইয়ে দিলো কৌশিক। এরপর কাঁথা টেনে পুরো শরীর সুন্দর করে ঢেকে দিলো। নিচে দাঁড়িয়ে নিজের টিশার্ট টেনেটুনে ঠিক করতে করতে দড়জা খুলে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে ঢুকলো মৌমিতা। সবার আগে তাকালো বিছানায় শুয়ে থাকা তুবার দিকে। এরপর ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো নিজের ভাইয়ের দিকে। কর্কশ কন্ঠে জিজ্ঞেস করলো,

"তোর কাজ শেষ?"

"শেষ আর করতে দিলি কোথায়? খুলতে আর পড়তেই দশ মিনিট লেগে যায়। বাকি কাজ করবো কখন? এত কম সময়ে কাজ হয়?"

ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে জবাব দিলো কৌশিক। মৌমিতার চোখ দুটো বড়বড় হয়ে গেলো। দেখে মনে হচ্ছে চোখ দুটো যে কোনো সময় কোটর থেকে বেরিয়ে আসবে। মৌমিতা চিকন সুরে আর্তনাদ করে উঠলো,

"মানে? কি করেছিস তুই ওর সাথে? ওর সাথে আজেবাজে কিছু করলে আমি কিন্তু তোকে ছাড়বো না বলে দিলাম।"

"বলে বড়ো উপকার করলি। ছাড়িস না। তুই বরং আমার পা ধরে বসে থাক।"

মৌমিতা রাগে হিসহিস করে উঠলো। দুরন্ত পায়ে তুবার কাছে গিয়ে একটানে কাঁথা সরিয়ে দিলো। আচমকা কাঁথা সরিয়ে দেয়ায় শীতে থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো তুবা। গায়ের জামা টেনে শীত নিবারনের চেষ্টা করলো। সবকিছু ঠিকঠাক আছে দেখে মৌমিতার ভ্রুদ্বয় আরও কুঁচকে গেলো। ঠিক সেই মুহুর্তে কৌশিক বিদ্রুপ করে বলে উঠলো,

"ব্রেইনটা খুলে ওয়াশ করে আয়। ওটা নোংরায় ভরে গেছে।তোর বোনের সাথে আমি কিছুই করিনি।"

"তাহলে এমন বললি কেনো?"

"আমার মুখ। আমার ইচ্ছা। আমি যা খুশি বলবো।"

"তুই দিনদিন অসভ্য হয়ে যাচ্ছিস ভাই।"

কৌশিকের গা ছাড়া জবাব,

"তো? সভ্য ছিলাম কবে? দুনিয়ার সামনে নিজেকে জেন্টেলম্যান হিসেবে প্রেজেন্ট করলেও তোর সামনে কখনো করিনি। মায়ের পেটে একসাথে ছিলাম। দুনিয়াতেও একসাথেই এসেছি। তোর তো আমাকে ভালো জানার কথা।"

"জানি বলেই বলছি। তুই ভুল করছিস ভাই। আমি জানি না তোদের সম্পর্ক ঠিক কতদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু যতদূরই যাক থেমে যা। বাবা জানতে পারলে বাড়িতে ঝড় বয়ে যাবে।"

"তুই আছিস কি করতে? ঝড় তুই থামাবি।"

মৌমিতা চেতে উঠলো। কোমরে দুই হাত বেঁধে ঝগড়া করার ভঙ্গিতে বলল,

"তোর তো আমি চার আনার উপকারও করবো না।"

"ভেবে বলছিস তো? দেখিস। ভবিষ্যতে আবার তোর আমার উপকার না লাগে। ভাসা খবর কানে এলো। পরিক্ষা শেষে তোর জন্য পাত্র দেখা শুরু হবে। ভাবছি, ডক্টর রাতুলকে আমিই বরং বিয়ের দাওয়াত দেই। কি বলিস?"

এই পর্যায়ে থতমত খেয়ে গেলো মৌমিতা। অজানা ভয়ে বুক কেঁপে উঠলো। বিয়ের কথা শুনে গলা শুকিয়ে গেলো। রাতুলের সাথে মৌমিতার সম্পর্ক দুই বছর ধরে। কিন্তু এখনও মৌমিতা বাসায় জানানোর সাহস পায়নি। এরই মধ্যে জামাল সাহেব মেয়ের বিয়ে নিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছেন। প্রেম ভালোবাসা জামাল সাহেবের অপছন্দ বিধায় মৌমিতা সাহস করে বলতেও পারছে না ওর একজনকে পছন্দ। নানান চিন্তা ভাবনায় বুকে ভয় জেঁকে বসলো মৌমিতার। বোনের এমন ভিতু মুখ ভঙ্গি দেখে বাঁকা হাসলো কৌশিক। এক পা দু পা করে এগিয়ে এসে মৌমিতার হাত থেকে কাঁথাটা টান দিয়ে নিয়ে নিলো। এরপর কাঁপতে থাকা তুবার গায়ে সুন্দর করে কাঁথা জড়িয়ে দিলো। মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে জ্বরে কাঁপতে থাকা তুবাকে শান্তনা দিলো। ঝুঁকে গিয়ে কপালে ছোট্ট করে চুমু খেলো। ধীর কন্ঠে ফিসফিস করে বলল,

"মাফ করে দিস জান। অধিকার থাকলে এই মুহুর্তে তোকে বুকে জড়িয়ে রাখতাম। নিজের সমস্ত উষ্ণতা তোর কাছে ঢেলে দিতাম। কিন্তু পারছি না। আমার হাত পা বাঁধা।"

ব্যার্থ চাহনি দিয়ে উঠে দাঁড়ালো কৌশিক। যাওয়ার আগে মৌমিতার মাথায় হালকা থাপ্পড় মেরে বলে গেলো,

”ওর খেয়াল রাখিস।"

কথাটুকু বলা পর্যন্তই ছিলো কৌশিক। এরপর ঝড়ের গতিতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। মৌমিতা পেছন থেকে নিচু স্বরে চেচিয়ে উঠলো,

"তুই একটা আস্ত বেয়াদব। ভুলে যাস না আমি তোর বড় বোন।"

কৌশিক সে কথা কানেই তুললো না। ততক্ষণে সে বারান্দা পেরিয়ে নিজের ঘরে চলে গেছে। দুই ভাই বোনের ঝগড়াঝাটিতে ইতিমধ্যে প্রায় ভোর হয়ে গেছে।

-

-

সকালে বসার ঘরে পাথরের মতো বসে আছে তুবা। হাতে টিস্যুর বক্স। ঘুম ভেঙেছে একটু আগেই। ভোরের দিকে জ্বর ছেড়ে গেলেও শরীরটা বেশ দুর্বল। মাথাটাও ভিষণ ভারি হয়ে আছে। সেই সাথে ঠান্ডা তো ফ্রি। এজন্য টিস্যু পেপারের বক্স আর ময়লা ফেলার ঝুড়ি কাছে নিয়েই বসে আছে। একটু পরেই সেখানে উপস্থিত হলেন জামাল সাহেব। তুবাকে দেখে ওর কাছেই গিয়ে বসলেন। বড় চাচ্চুর দর্শন পেয়ে তুবা আহ্লাদে গদগদ হয়ে গেলো। জামাল সাহেবের একটা বাহু দুই হাতে জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা ঠেকালো। জামাল সাহেব আদুরে সুরে জিজ্ঞেস করলেন,

"এখন কেমন লাগছে আম্মু?"

"ভালো চাচ্ছু।"

হেঁসে জবাব দিলো তুবা। বিনিময়ে জামাল সাহেবও হাসলেন। একে একে বাড়ির প্রতিটা সদস্য ব্রেকফাস্টের জন্য উপস্থিত হলো। কৌশিক আর মৌমিতা আসলো সবার শেষে। সবাই একে একে নিজেদের চেয়ার টেনে বসলো। যথারীতি তুবা কৌশিকের পাশের চেয়ারেই বসেছে। ময়না বেগম তুবার সামনে একবাটি স্যুপ এনে দিলেন। জ্বরে মেয়েটার শরীর দুর্বল। স্যুপ খেলে শরীরে এনার্জি পাবে।

মিনিটের ব্যবধানে সবাই খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। চেয়ারে বসে মৌমিতা ঘুমে ঢুলে ঢুলে পড়ছে। তুবা এক চামচ স্যুপ মুখে দিয়ে কৌশিকের দিকে আঁড়চোখে তাকালো। সঙ্গে সঙ্গে দুই ভ্রু কুঁচকে এক হয়ে গেলো। কৌশিককে আজ কেমন যেনো মাতাল মাতাল লাগছে। এলোমেলো চুলগুলো পুরো কপাল জুড়ে ছড়িয়ে আছে। চোখে মুখে তখনও ঘুমের রেশ বিদ্যমান। চোখ দুটো বেজায় লাল। তুবার অবুঝ মনে প্রশ্ন জাগলো,

"লোকটার চেহারা এমন গাঁজাখোরের মতো হয়ে আছে কেনো? রাতে ঘুম বাদ দিয়ে চুরি করতে গেছিলো নাকি?"

তুবার মুখের কথা কেড়ে নিলেন কনকচাঁপা বেগম। ছেলের পেছনে এসে দাঁড়িয়ে কপালে হাত রাখলেন। চিন্তিত কন্ঠে বললেন,

"কি হইলো আমার আব্বার? শরীর খারাপ নাকি?"

"না মা! রাতে ঘুম ভালো হয়নি তাই।"

ছোট্ট করে জবাব দিলো কৌশিক। কনকচাঁপা বেগম এবার ঢুকতে থাকা মেয়ের দিকে তাকালেন। ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলেন,

"আর তুই? তোর আবার কি হয়েছে?"

"উফফ মা! অসুস্থ রোগী নিয়ে থাকলে কি রাতে ঘুম হয়? আমারও ঘুম হয়নি। এখন খেয়ে গিয়ে ঘুমাবো।"

বিরক্তি নিয়ে জবাব দিলো মৌমিতা। সত্য ঘটনা দুই ভাই বোনের পেটেই চাপা পড়ে রইলো। খাওয়া দাওয়া শেষে সবাই যার যার মতো উঠে চলে গেলো। টেবিলে পড়ে রইলো শুধু তুবা। সে বরাবরই খাওয়াতে অনেক ঢিল। ভাতের প্রতিটা দানা গুনে গুনে খায় যেনো।

কৌশিক ইচ্ছে করেই দেরি করলো। সবাই উঠে যাওয়ার পর সবার শেষে কৌশিক উঠে দাঁড়ালো। মাথা নিচু করে স্যুপ খেতে থাকা তুবার কপালে দুই আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করলো। কৌশিকের ছোঁয়া পেয়ে খাওয়া থামিয়ে দিয়ে মাথা তুলে তাকালো তুবা। কৌশিক গম্ভীর ভাবভঙ্গি নিয়ে তুবার জ্বর চেক করলো। এরপর পকেট থেকে জ্বর এবং ঠান্ডার দুই পাতা ওষুধ বের করে তুবার সামনে রাখলো। জগ থেকে পানি ঢেলে গ্লাসটাও তুবার সামনে এগিয়ে দিলো। এরপর রাশভারি কন্ঠে বললো,

"খাওয়া শেষে এগুলো খেয়ে নিবি।"

তুবা মুখে কিছু বলল না। শুধু মাথা দুলিয়ে সায় জানালো। কৌশিক সময় নিলো না। এর পরপরই সেখান থেকে প্রস্থান নিলো। কয়েক কদম গিয়ে আবারও ফিরে এলো। টেবিলে একটা হাত রেখে অপর হাত তুবার বসে থাকা চেয়ারে রাখলো। সামান্য ঝুঁকে বলল,

"আর শোন! বেশি ভাবার প্রয়োজন নেই তোর। সময় মতো সব উত্তর পায়ে হেঁটে তোর সামনে এসে হাজির হবে। তার আগেই এতো ভেবে ছোট্ট ব্রেইনটা নষ্ট করিস না। আমার ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।"

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন