ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

৪র্থ পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ০৪

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

চিন্তিত তুবা তার চিন্তার ঝুড়ি নিয়ে খাটে পা মেলে বসে আছে। হাতে ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপ। তাতে একটু একটু করে চুমুক দিচ্ছে, আর আপন মনে চিন্তা করছে। গতকাল রাতের কিছু আবছা স্মৃতি দেখা দিচ্ছে তুবার চোখে। অবশ্য তুবার মতে সেগুলো ছিলো নিছক স্বপ্ন। সেই স্বপ্নে কৌশিক এসেছিল। তুবাকে পরম আদরে বুকে টেনে নিয়েছিল। কপালে চুমুও খেয়েছিল। তুবার মনে হলো ওদের মাঝে বেশ কিছুক্ষণ কথাও হয়েছে। কিন্তু ঠিক কি কি কথা হয়েছে সেগুলো মনে করতে পারছে না। শুধু এটুকু মনে পড়ছে স্বপ্নে কৌশিক তুবাকে জান বলে সম্বোধন করেছিল। আর কিছু মনে নেই। স্বপ্নের এই কিছু অংশ মনে থাকা আর ইম্পরট্যান্ট অংশ ভুলে যাওয়ার বিষয়টা খুবই প্যারাদায়ক। তুবা অধৈর্য্য হলো। কিছু মনে করতে না পেরে অরুচি নিয়ে চায়ে চুমুক দিলো।

ঠিক এমন সময় টুংটাং শব্দে তুবার ফোনটা বেজে উঠলো। বাম হাতে চায়ের কাপটা ধরে ডান হাতে ফোনটা হাতে নিলো তুবা। ফোনের লক খুলতেই স্ক্রিনে রবিন নামটা জ্বলজ্বল করে ভেসে উঠলো। আরেক দফা বিরক্তি নেমে এলো তুবার চেহারায়। এই রবিন ছেলেটা কলেজে নতুন এসেছে। অন্য একটা কলেজ থেকে ট্রান্সফার হয়ে তুবাদের কলেজে ভর্তি হয়েছে সপ্তাহ খানেক হচ্ছে। ছেলেটা আসার পর থেকেই তুবার পেছনে লেগে আছে। সবসময় আগে পিছে ঘুরঘুর করে। কিভাবে যেনো তুবার নাম্বারটাও জোগাড় করেছে। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে কারণে অকারণে ফোন ম্যাসেজ। তুবার ভাবনার মাঝেই আবারও ফোনটা বেজে উঠলো। বিরক্তি নিয়ে ফোনটা রিসিভ করলো তুবা। কানে চেপে ধরতেই ওপাশ থেকে শোনা গেলো রবিনের উচ্ছ্বসিত কন্ঠ,

"হেই কিউট ক্যাট। ফোন রিসিভ করতে দেরি করলে কেনো?"

তুবার রাগ সপ্তম আসমানে উঠে গেলো। ওর ফোনের কভারে একটা ধবধবে সাদা গলুমলু বিড়ালের ছবি আছে। সেটা দেখার পর থেকেই ছেলেটা তুবাকে কিউট ক্যাট বলে ডাকে। রাগে তুবা সবার আগে কভারটা টেনে খুলে ফ্লোরে ছুড়ে মারলো। এরপর ফোনটা কানে ধরে গরম মেজাজে বলল,

"তোমার সাহস কি হলো অযথা আমাকে ফোন দেয়ার?"

"রিল্যাক্স কিউট ক্যাট। এতো রাগ করছো কেনো?"

"রাগের কারণ স্বয়ং তুমি। পুরো তুমি টাই আমার রাগের একমাত্র কারণ। শেষবারের মতো বলছি একদম আমাকে বিরক্ত করবে না।"

"বিরক্ত কোথায় করছি? আমি তো শুধু তোমার সাথে কথা বলতে ফোন দিলাম।"

"না দিবে না। তোমার সাথে কথা বলতে আমি আগ্রহী নই।"

তুবার এমন কঠিন আচরণ রবিনের মনে গভীর দাগ কাটলো। ছেলেটার কন্ঠ ব্যথাতুর শোনালো,

"এত অবহেলা কেনো করছো তুবা? তোমাকে ভালোবাসি তাই?"

"কেনো বাসো? আমি কি বলেছি বাসতে? লিসেন। একটা কথা কান খুলে শুনে রাখো। আমার মন আমি অলরেডি একজনকে দিয়ে বসে আছি। আর তাকে আমি অনেক বেশি ভালোবাসি। সুতরাং আমাকে বিরক্ত করা বন্ধ করো।"

"এসব মিথ্যে কথা। আমার থেকে বাঁচতে তুমি মিথ্যে বলছো।"

"বিশ্বাস অবিশ্বাস তোমার ব্যপার। আমার জানানোর দায়িত্ব ছিলো জানিয়ে দিলাম। এর পরেও যদি আমার পেছনে ঘুরঘুর করো তাহলে ঘুসি মেরে চেহারার নকশা বদলে দেবো।"

রবিন বোধহয় হাসলো। হাসি হাসি মুখে বলল,

"তোমার হাতে মার খেতেও রাজি আমি। তবুও তোমার পিছু ছাড়বো না।"

তুবা রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে ফোন কেটে দিলো। ফোনটা বিছানায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে দুই হাতে চুল টেনে ধরলো। একদিকে মেয়েটা এক কঠিন মানবের প্রেমে মজেছে। যেই পাষাণ মানুষটা শুধু স্বপ্নেই আসে। বাস্তবে ফিরেও তাকায় না। এই কঠিন মানবের মন পড়তে গিয়ে অর্ধেক বুদ্ধি খুইয়ে বসেছে তুবা। তার ওপর এই নতুন জঞ্জাল। পেছনই ছাড়ছে না। বিরক্তি এবং চরম হতাশায় তুবার মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেলো। ঠিক সেই মুহুর্তে ঘরে আগমন ঘটলো মৌমিতার। সে সোজা এসে তুবার গা ঘেঁষে শুয়ে পড়লো। মাথার নিচে একহাত গুঁজে বলল,

"একটু আমার সাথে পার্লারে যাবি তুলতুল?"

তুবা চুল থেকে হাত নামালো। মৌমিতার দিকে ঘুরে বসে বলল,

"এখন পার্লারে কেনো?"

"চুল কাটতে যাবো। তাছাড়া আরও কিছু কাজ আছে। পরশু তোর ভাইয়ার সাথে দেখা করতে যাবো। তার আগে একটু রুপ চর্চা করা লাগবে না?"

তুবা মৌমিতার পাশাপাশি উপুড় হয়ে শুলো। রবিনের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল। এক হাত গালে রেখে অর্ধেক উঁচু হয়ে বলল,

"ভাইয়া তোমাকে অনেক ভালোবাসে তাই না আপু?"

"হ্যা। ভিষণ ভালোবাসে।"

"ইসস! তোমারই কপাল। আমার কপালে এসব নেই।"

তুবাকে বড্ড বেশি উদাস দেখালো। মৌমিতার চোখের দৃষ্টি সরু হলো। বেশ কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করলো,

"আচ্ছা তুলতুল। তুই কি কাউকে পছন্দ করিস?"

তুবা দুই হাত একটার ওপর আরেকটা রেখে হাতের উল্টো পিঠে থুমনি রাখলো। মন মরা হয়ে বলল,

"পছন্দ করলেই বা কি? সব চাওয়া কি পূরণ হয়?"

"আমাকে বলে দেখ। আমি তোর চাওয়া পূরণ করবো।"

"তুমি পারবে না আপু। তাছাড়া বাড়ির কেউ মেনে নেবে না। সবচেয়ে বড় কথা, আসল মানুষটাই মানবে না।"

তুবার মনটা আচমকা খারাপ হয়ে গেলো। মৌমিতার আর বুঝতে বাকি নেই তুবা কার কথা বলছে। দু'জনেই মনে মনে মন কলা খাচ্ছে। অথচ সেটা প্রকাশ করছে না। মৌমিতা হতাশ হলো। ধীরে সুস্থে উঠে বসলো। তুবাকে টেনে তুলতে তুলতে বলল,

"হয়েছে! আর মন খারাপ করা লাগবে না। রেডি হ। পার্লার হয়ে আমরা একটু ঘুরেও আসবো। রিয়া বাড়ি থাকলে তোকে টানতাম না। এখন চল।"

তুবা সময় নিলো না। ঝটপট তৈরি হতে চলে গেলো।

-

-

কৌশিক মাত্রই ঘুম থেকে উঠে বসার ঘরের সোফায় এসে বসেছে। এলোমেলো চুলগুলো পুরো কপাল জুড়ে ছড়িয়ে আছে। চোখে মুখে তখনও ঘুমের অবশিষ্ট রেশ লেগে আছে। ঠিক সেই মুহুর্তে একজোটে সিঁড়ি দিয়ে নামলো তুবা আর মৌমিতা। নামতে নামতে তুবা, কৌশিকের ঘুম জড়ানো মুখের দিকে হাপিত্যেশ নয়নে তাকিয়ে রইলো। তুবার ইচ্ছে করলো একবার আলতো হাতে কৌশিকের এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে দিতে।

কৌশিক এক পলক ওদের দিকে তাকিয়ে ঘরের দেয়াল ঘড়িতে নজর বুলালো। সময় এখন বেলা সাড়ে এগারোটা। এই অসময়ে দুজন সাজুগুজু করে কোথায় যাচ্ছে? কৌতুহল দমিয়ে রাখতে পারলো না কৌশিক। রুক্ষ কন্ঠে প্রশ্ন করলো,

"এই অসময়ে কোথায় যাচ্ছিস দুজন?"

কৌশিকের কর্কশ কন্ঠ শুনে মৌমিতা এবং তুবা দুজনেই থেমে গেলো। মৌমিতা এগিয়ে এসে জবাব দিলো,

"পার্লারে যাবো।"

"পার্লারে কি করতে?"

"কি করতে মানে? মেয়েরা পার্লারে কেনো যায়?"

"কেনো যায়? আমি জানি না। তুই বল।"

কৌশিকের ত্যাড়া জবাব শুনে রেগে গেলো মৌমিতা। রাগে চেঁচিয়ে উঠে বলল,

"সকাল সকাল পেছনে কেনো লাগছিস আমার?"

"কেনো যাচ্ছিস বলে দিলেই হয়। তাহলে আর পেছনে লাগবো না।"

"চুল কাটতে যাচ্ছি। হয়েছে?"

চুল কাটার কথা শুনে কৌশিকের মাথায় ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো। ঘাড় বাকিয়ে তাকালো তুবার দিকে। কঠিন দৃষ্টিতে পরোখ করলো তুবাকে। চুলগুলো মাত্রই কোমর ছাড়িয়ে একটু নিচে নেমেছে। ওমনি সেগুলো কেটে আবারও কোমরের উপরে ওঠানোর শয়তানি চেপেছে মাথায়। কৌশিক ধৈর্য্য হারালো। আদালতের বিচারকের মতো রায় শোনালো,

"কোথাও যাওয়া চলবে না। তুবার চুল কাটা বারন। আমার লম্বা চুল পছন্দ।"

"তুই বারন করার কে?"

কৌশিক রাগী চোখে তাকালো মৌমিতার দিকে। অবস্থা বেগতিক দেখে দুই ভাই বোনের মাঝে এসে দাঁড়ালো তুবা। কৌশিকের দিকে ঘুরে মিনমিন করে বলল,

"আমি চুল কাটবো না তো কৌশিক ভাই। আপু কাটবে শুধু।"

কৌশিক মৌমিতার থেকে নজর সরিয়ে তুবার দিকে তাকালো। ওই চোখে কিছু একটা ছিলো। তুবা বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলো না। সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে নিলো। তুবাকে নজর লুকাতে দেখে কৌশিকের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসির দেখা মিললো। হাত দিয়ে এলোমেলো চুলগুলো ব্যাকব্রাশ করতে করতে বলল,

"চল! আমিও যাবো।"

কৌশিক সঙ্গে যাবে শুনে তুবার মুখটা জ্বলজ্বল করে উঠলো। মৌমিতা না করতে গিয়েও পারলো না। তুবার চোখ মুখের পরিবর্তন মৌমিতার নজর এড়ায়নি। তাই অনিচ্ছার স্বত্বেও কৌশিকের সাথে যেতে রাজি হলো।

-

-

তুবা এবং মৌমিতাকে পার্লারের সামনে নামিয়ে দিয়ে বাইরে গাড়িতে অপেক্ষা করছে কৌশিক। ইতিমধ্যে দুই ঘন্টা কেটে গেছে। এতো সময় ধরে দুজন কি এমন রাজকার্য করছে কৌশিক ভেবে পায় না। শেষে অধৈর্য্যে হয়ে ফোনে মনোযোগ দিলো। এর প্রায় মিনিট দশকে পর মৌমিতা আর তুবা পার্লার থেকে বের হলো। কৌশিক ফোন থেকে নজর সরিয়ে এক পলক তাকালো। সঙ্গে সঙ্গে সমতল ভ্রুদ্বয় কুঁচকে এক হয়ে গেলো। তুবা এসেছিল চুল খুলে। কিন্তু বের হচ্ছে চুল বেধে। সেই সাথে ওড়না বেশ ভালো করেই মাথায় পেঁচিয়ে রেখেছে। একটু সন্দেহ হলেও খুব বেশি পাত্তা দিলো না কৌশিক। হয়তো গরমের জন্য চুল বেধে রেখেছে।

ওরা দুজন কাছাকাছি আসতেই কৌশিক নিজের পাশের দড়জা খুলে দিয়ে বলল,

"তুবা! সামনে বস।"

তুবা হকচকিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। মৌমিতা এগিয়ে এসে বলল,

"সামনে বসবে মানে? পেছনে আমি একা বসবো নাকি?"

"তো? আমি কি তোদের ড্রাইভার? তোরা পেছনে আরাম করে বসে পুরো বিশ্ব ঘুরবি। আর আমি ড্রাইভার হয়ে গাড়ি চালাবো। সেটা হবে না। আমার পাশে কাউকে বসতে হবে।"

"তাহলে আমিই বসি।"

"হ্যা। বসবি না কেনো বস। মায়ের পেট থেকে আমার লেজ ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছিস। এখন লেজ ছেড়ে দিলে হয়? বড় ভাই হই আমি তোর। তুই তো আমার লেজ ধরেই ঘুরবি। আয় বস বস।"

মৌমিতা রাগে গজগজ করতে করতে পেছনে গিয়ে বসলো। দড়জাটা দুম করে লাগিয়ে দিয়ে দুই হাত বুকে আড়াআড়ি করে বাঁধলো।"

তুবা অতিষ্ট ভঙ্গিতে কপাল চাপড়ালো। এই দুই ভাই বোনের পাল্লায় পড়লে সুস্থ মানুষও পাগল হয়ে যাবে। ঝগড়ার সমাপ্তি টানতে তুবা আর বেশি দেরি করলো না। ঝটপট কৌশিকের পাশের সিটে বসে পড়লো। কৌশিক বাঁকা হেসে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসলো। গাড়ি স্টার্ট দিতেই ধুলো উড়িয়ে মুহুর্তেই স্হানত্যাগ করলো।

আপন গতিতে চলছে গাড়ি। ভেতরটা একদম নিশ্চুপ। তুবা ফোনে কারোর সাথে টেক্সট করায় ব্যাস্ত। কৌশিক আঁড়চোখে তাকালো একবার তুবার মোবাইল স্ক্রিনে। কিন্তু তেমন কিছু চোখে পড়লো না। নিরবতা ভঙ্গ করতে কৌশিক আগ বাড়িয়ে বলে উঠলো,

"হ্যা রে মৌ! ঘন্টার পর ঘন্টা পার্লারে থেকে করলিটা কি? যেই হনুমানের মতো চেহারা নিয়ে গিয়েছিলি, সেই চেহারা নিয়েই তো ফিরেছিস। পরিবর্তনটা কোথায়?"

"চোখ থাকলে তবে তো দেখবি। তোর তো চোখই নষ্ট।"

কৌশিক বাঁকা হাসলো। আঁড়চোখে ফোনে ব্যাস্ত তুবার দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বললো,

"সেটাও ঠিক। এই চোখ তো একজনকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পায় না।"

বলতে বলতে কৌশিকের নজর গেলো তুবার ফোনের স্ক্রিনে। এক পলকে দেখা মিলল কিছু তিক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্য, "তুবা আই লাভ ইউ। আমার তোমাকে চাই।"

ম্যাসেজটা কে পাঠিয়েছে সেটা দেখার সুযোগ হলো না কৌশিকের। মনোযোগ ড্রাইভিং থেকে সরে গেলো। চতুর নজর রাস্তা থেকে সরে তুবার ফোনে আটকে গেলো। ঠিক সেই মুহুর্তে ঘটে গেলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। সামনে থেকে বড় একটা ট্রাক এসে মুখোমুখি হলো ছোটো গাড়িটার। আচমকা এহেন কান্ডে চমকে উঠলো মৌমিতা। আতঙ্কিত কন্ঠে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো,

"ভাই সামনে ট্রাক!"

কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি হাতের বাইরে। বিশালাকৃতির ট্রাকের সাঙ্গে সংঘর্ষ হলে ছোটো প্রাইভেট কারটার। সেকেন্ডের ব্যবধানে গাড়িটা তিন উল্টোন দিয়ে ছিটকে দূরে গিয়ে পড়লো। পরপরই নিশ্চুপ হয়ে গেলো পরিবেশ। মিনিট খানেক নিরবতার পর রাস্তার চারিদিক থেকে ছুটে এলো মানুষ জন। ট্রাকটা ততক্ষণে স্হানত্যাগ করেছে।

কৌশিক ভাঙা জানালার ভেতর দিয়ে কোনো মতে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। মাথা ফেটে র*ক্ত বের হচ্ছে। আশেপাশের কিছুই অনুভব হচ্ছে না। মস্তিষ্ক ফাঁকা। মৌমিতা ততক্ষণে দড়জা খুলে অর্ধেক বের হয়েছে। জ্ঞান থাকলেও দুই ভাই বোনের দেহ র*ক্তে ভিজে একাকার। কৌশিক টেনে মৌমিতাকে বাইরে বের করলো। মৌমিতার গালে এক হাত রেখে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,

"তুই ঠিক আছিস?"

ব্যথায় জর্জরিত দেহটা মৌমিতা ছেড়ে দিলো পাকা রাস্তায়। কোনোমতে মাথা নাড়িয়ে বোঝালো সে ঠিক আছে। গলা টেনে জোর করে বলল,

"ভ..ভাই! তুবা....!"

কৌশিকের তৎক্ষনাৎ মনে পড়লো তুবার কথা। মস্তিষ্ক সচল হলো। আচমকাই বুকটা মুচড়ে উঠলো । ভুলেই বসলো নিজের আঘাতের কথা। আধভাঙ্গা দড়জাটা টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দিলো। ভেতরে আটকে থাকা তুবার নিস্তেজ দেহটা টেনে বাইরে নিয়ে আসলো। নিচে পড়ায় তুবার আঘাতের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এখনও জ্ঞান হারায়নি তবে জ্ঞান হারাবে হারাবে ভাব।

লালা র*ক্তে রঞ্জিত তুবাকে দেখে বুকটা হাহাকার করে উঠলো কৌশিকের। চোখ ফেটে কান্না পেলো। হৃদপিণ্ডে কেউ যেনো গরম লোহার শিক ঢুকিয়ে দিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তুবার নিস্তেজ দেহটা জাপ্টে ধরলো বুকে। কন্ঠ স্বর বেজায় কাঁপছে,

"জান এই জান। চোখ খোল। জান তাকা আমার দিকে। এই তুবা। তুই শুনতে পাচ্ছিস আমার কথা। প্লিজ জান তাকা একবার। আমার খুব ভয় করছে। প্লিজ চোখ বন্ধ করবি না। তুবা, চোখ খোল।"

কৌশিকের আহাজারিতে চারিপাশ ভারি হয়ে উঠলো। তুবার চোখ তখন প্রায় বুজেই এসেছে। জ্ঞান হারানোর শেষ মুহুর্তে কৌশিকের মুখে জান ডাক তুবার মস্তিষ্কে আলোড়ন সৃষ্টি করলো। মনে পড়ে গেলো সেই স্বপ্নের কথা। এর মানে সেটা স্বপ্ন ছিলো না। বাস্তব ছিলো। তুবার আর কোনোকিছু বুঝতে বাকি নেই। অসময়ে হলেও কাঙ্ক্ষিত উত্তর সে পেয়ে গেছে। শেষ মুহূর্তে তুবার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো। প্রশান্তির একটা শ্বাস টেনে দেহের ভার ছেড়ে দিলো কৌশিকের বুকে।

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন