#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ০৫
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
ফিনাইলের কড়া গন্ধে হসপিটালের চারিধার ম-ম করছে। থেকে থেকে শোনা যাচ্ছে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। বাহারী কন্ঠের হাহাকার বারি খাচ্ছে প্রতিটি দেয়ালে দেয়ালে। দোতলার একদম কোনার দিকের একটা রুমে অচেতন অবস্থায় আছে তুবা। ছোটোখাটো বেডের সাথে দেহটা লেপ্টে আছে। গোলগাল সুন্দর মুখটা শুকনো, ফ্যাকাশে হয়ে আছে। ফর্সা দেহে হাজারও র*ক্তের ছাপ। পাশেই বসে কৌশিক। তুবার একটা হাত শক্ত করে ধরে বসে আছে। মাথা ফেটে চৌচির। পুরো কপাল সাদা রঙের ব্যান্ডেজে মুড়িয়ে রাখা। চোখ দুটো বেজায় লাল। চেহারার রঙ ফ্যাকাশে। বুকটা থেকে থেকে মুচড়ে উঠছে। চোখ ভিজে উঠতে চাইছে। কিন্তু পুরুষের যে কান্না করা বারন। কান্না তো দুর্বলতার প্রতীক। পুরুষেরা তো দুর্বল হয় না। তারা যে সবচাইতে শক্ত। কৌশিক এক দৃষ্টে তুবার মুখের দিকে তাকিয়ে কান্না আটকে রেখেছে। চোখের পলক ফেলতেও যেনো ভুলে গেছে।
পাশেই একজন নার্স তুবার ক্ষত জায়গায় ব্যান্ডেজ করে দিচ্ছে। এমন সময় সেখানে মৌমিতা উপস্থিত হলো। সে রাতুলের কেবিনে ছিলো। কৌশিককে হাজারবার বলেও তুবার কাছ থেকে সরাতে পারেনি। শেষে উপায় না পেয়ে কৌশিককে রেখেই রাতুলের সাথে গিয়েছিল মৌমিতা। ঘুমন্ত তুবার দিকে এক পলক তাকিয়ে আলতো করে কৌশিকের কাঁধে হাত রাখলো মৌমিতা। কৌশিক ঘাড় ঘুরিয়ে একপলক তাকালো। এরপর আচমকাই দাঁড়িয়ে থাকা মৌমিতার কোমর জড়িয়ে ধরলো কৌশিক। বোনকে কাছে পেয়ে এতোক্ষণের ধরে রাখা ধৈর্য্য এবার গলে গলে পড়ছে কৌশিকের। দেহটাও মৃদু কাঁপছে। মৌমিতা অনুভব করলো তার পেটের দিকের কামিজ গরম পানিতে ভিজে যাচ্ছে। বুকটা হুহু করে উঠলো মৌমিতার। কৌশিকের পিঠে হাত বুলিয়ে শান্তনার স্বরে বললো,
"থাম ভাই। এভাবে ভেঙে পড়লে চলবে? ছোট্ট একটা এক্সিডেন্ট তো। তুবা ঠিক হয়ে যাবে।"
কৌশিক মৌমিতাকে ছেড়ে সোজা হলো। চোখ দুটো ভেজা। মিনিটের ব্যবধানেই নিঃশব্দে কেঁদে নিয়েছে ছেলেটা। চেহারায় স্পষ্ট অপরাধবোধ। কন্ঠ স্বর করুন,
"সব দোষ আমার। আমার উচিত ছিলো আরও একটু সতর্ক হওয়া।"
"তুই ইচ্ছা করে কিছু করিসনি ভাই। পুরোটাই একটা এক্সিডেন্ট। প্লিজ নিজেকে দোষারোপ করা বন্ধ কর।"
কৌশিক থামলো। মৌমিতা তুবার কাছে গিয়ে বসলো। ঘুমন্ত তুবার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলো। এরপর কৌশিকের দিকে তাকিয়ে বলল,
"অনুভুতি লুকাতে শেখ ভাই। এতো সিরিয়াস হওয়া চলবে না। বাসায় কিন্তু তোদের সম্পর্ক কেউ মেনে নেবে না। আগে হোক বা পরে, তোদের আলাদা হতেই হবে।"
"অসম্ভব!"
আচমকা গর্জে উঠলো কৌশিক। চোখ দুটো হঠাৎ করেই জ্বলে উঠলো। তুবার ধরে রাখা হাতের বন্ধন শক্ত হলো। দাঁতে দাঁত চেপে কঠিন স্বরে কৌশিক বলল,
"দেহে প্রাণ থাকতে তুবাকে ছাড়া সম্ভব নয়। অন্য কিছু বল।"
মৌমিতা কথা বলার ভাষা হারালো। কিই বা বলবে? দুটো মানুষই একে অপরকে ভালোবাসে। তাছাড়া আজকের ঘটনার পর মৌমিতা বেশ বুঝতে পারছে কৌশিক তুবাকে নিয়ে ঠিক কতটা সিরিয়াস। এখন সবকিছুই ভাগ্যের হাতে। যা হবে দেখা যাবে।
-
-
ভুঁইয়া মঞ্জিলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একসাথে বাড়ির তিন দুলাল দুলালি ক্ষত বিক্ষত দেহে বাড়ি ফিরেছে। বিশেষ করে তুবার অবস্থা দেখে জামাল সাহেব আহাজারি করে উঠলেন। হায় হায় করতে করতে বুক চাপড়ালেন। বাড়ির সবচেয়ে ছোটো সদস্য তুবা। আহারে কতই না আঘাত পেয়েছে বাচ্চাটা। এতটুকুন মেয়ে কি এতো ব্যথা সইতে পারে? রাগে দুঃখে ছেলেকে খানিক্ষন ধমকালেন। তার মতে ছেলের বেখেয়ালিপনার জন্যই এই দুর্ঘটনা। কৌশিক চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে আছে শুধু। অপরাধবোধ ছেলেটাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। ছেলের শুকনো মুখ দেখে জামাল সাহেব আর বেশি রাগারাগি করতে পারলেন না। শুধু কর্কশ গলায় বললেন,
"যাও ঘরে যাও। তোমার বিশ্রামের প্রয়োজন।"
এই পর্যায়ে কৌশিক নিচু করে রাখা মাথাটা তুললো। বিছানায় ঘুমন্ত তুবার মুখের দিকে একপলক তাকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
-
-
বিছানার সাথে হেলান দিয়ে বসে তুবার ফোনটা ঘাটাঘাটি করছে কৌশিক। হসপিটাল থেকে আসার সময় ফোনটা নিজের কাছে রেখেছে। বেশ সময় নিয়ে তুবার হোয়াটসঅ্যাপ এবং ম্যাসেন্জার ভালো করে চেক করলো কৌশিক। মুহুর্তের ব্যবধানে কাঙ্ক্ষিত জিনিস পেয়েও গেলো। রবিন নামে সেভ করা নাম্বার। এই নাম্বার থেকে তুবার ফোনে অসংখ্য ম্যাসেজ এসেছে। ম্যাসেজের ধরনে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ছেলেটা তুবাকে পটানোর ব্যাপক চেষ্টা করছে।
ম্যাসেজগুলো দেখে কৌশিকের মাথায় দপ করে আগুন জ্বলে উঠলো। রাগে শরীর থরথর করে কাঁপছে। রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে ফোনটা শূন্যয় তুলল আছাড় মারতে। মারতে গিয়েও থেমে গেলো। ঠোঁট কামড়ে ধরে কিছু একটা ভাবলো। এরপর তুবার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে রুবিনকে একটা ম্যাসেজ পাঠালো,
"আগামীকাল সকাল দশটায় বটতলায় দেখা করো তো। কথা আছে।"
ম্যাসেজটা পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই এলো,
"হেই কিউট ক্যাট! তুমি নিজে থেকে আমাকে ম্যাসেজ দিয়েছো? ওহ্ মাই গড! আমি কি স্বপ্ন দেখছি? আ'ম সো হ্যাপি।"
ছেলেটার উত্তেজনা দেখে দাঁত কিড়মিড় করে উঠলো কৌশিক। রাগে হিসহিস করতে করতে বিড়বিড় করলো,
"একবার শুধু আয় ব্যাটা। তোর উত্তেজনায় বরফ ঢেলে ঠান্ডা করে দেবো। তারপর বলিস হ্যাপি নাকি স্যাড। আমার সম্পদের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিস। এতো দুঃসাহস? তোর চোখ দুটো তুলে আমি মার্বেল খেলবো।"
-
-
রাত তখন প্রায় এগারোটার কাছাকাছি। তুবার জ্ঞান ফিরেছে কিছুক্ষণ আগে। চোখ দুটো খোলার পর থেকে তুবার নিজেকে কেমন যেনো এতিম এতিম লাগছে। বাপ মা, পরিবার থাকার পরেও মনে হচ্ছে চারিদিক কেমন যেনো ফাঁকা। কিছু একটা নেই। অনেক ভাবনা চিন্তা করে তুবা আবিষ্কার করলো নিজের ফোনটা কাছে নেই। ফোন ছাড়া মানুষ আবার এক মুহুর্তও থাকতে পারে নাকি? তুবাও পারছে না। সেই থেকে পাগলের মতো ফোনটা খুঁজে চলেছে। মৌমিতাকে জিজ্ঞেস করায় সে বলল জিনিসপত্র সব কৌশিকের কাছে ছিলো। ব্যাস এতেই তুবার বুকের ধুকপুকানি বেড়ে গেলো। লোকটা আবার ওর ফোন চেক করবে না তো? সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে রাত গভীর হলো। ময়না বেগম রাতে মেয়ের কাছে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তুবা থাকতে দেয়নি। বহুত কসরত করে মাকে ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে। এরপর থেকে অপেক্ষা করছে বাড়ির সকলের ঘুমানোর।
রাত তখন প্রায় বারোটা ছুঁই ছুঁই। তুবা ব্যথাতুর দেহটা টেনে খাট থেকে নিচে নামালো। ধীরে সুস্থে খুড়িয়ে খুড়িয়ে এগিয়ে গেলো দড়জার কাছে। আস্তে করে বাইরে বের হয়ে বারান্দা দিয়ে নিচতলায় উঁকি দিলো। প্রত্যেকটা ঘরের লাইট বন্ধ। অর্থাৎ এই মুহুর্তে সবাই ঘুম। তুবা ফোঁস করে লম্বা শ্বাস ছাড়লো। এরপর পা টিপে টিপে গেলো কৌশিকের ঘরের দিকে। দড়জাটা এখনও বন্ধ করেনি কৌশিক। শুধু চাপিয়ে রেখেছে। তুবা দড়জার সামান্য ফাঁক গলিয়ে উঁকি দিলো। কৌশিক বড় জানালার সামনে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দুটো খোলা আকাশে নিবদ্ধ। দুই হাত ট্রাউজারের পকেটে গুঁজে রাখা। কোমরের ওপর থেকে উপরের অংশ সম্পুর্ন উন্মুক্ত। তুবা সুর চোখে কৌশিকের নগ্ন পিঠের দিকে তাকালো। সুঠাম দেহটা চোখে বিঁধে থাকার মতো। দুই হাতের শক্ত মাসলস গুলো ফুলে ফুলে আছে। তুবার নজর আটকে গেলো কৌশিকের সুঠাম দেহে। ভুলেই বসলো সে এখানে কেনো এসেছে। ঠিক সেই মুহুর্তে আচমকা কৌশিক পেছনে না ফিরেই বলে উঠলো,
" তুবা! চোরের মতো উঁকিঝুকি না মেরে সোজা ঘরে আয়। এই ঘরের দড়জা তোর জন্য উন্মুক্ত।"
তুবা হকচকিয়ে গেলো। চোয়াল ঝুলে পড়লো। লোকটা পেছনে না ফিরে কিভাবে বুঝলো দড়জার কাছে তুবা আছে? এই লোকের পেছনেও দুটো চোখ আছে নাকি? তুবা দড়জা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো। গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে আসতে আসতে বলল,
"আপনি কিভাবে জানলেন দড়জার বাইরে আমি আছি? অন্য কেউও তো হতে পারে।"
কৌশিকের নজর তখনও খোলা আকাশে স্থির। সেদিকে দৃষ্টি রেখেই কৌশিক জবাব দিলো,
"তোর উপস্থিতি টের পেতে আমার তোকে দেখার প্রয়োজন নেই। শুধু অনুভুতিই যথেষ্ট।"
তুবা পাত্তা দিলো না সেই কথায়। কৌশিকের কথা সম্পুর্ন উপেক্ষা করে নিজ উদ্যোগে বলল,
"আমার ফোন কেনো নিজের কাছে রেখেছেন? ওটা ফিরিয়ে দিন। আমার খালি খালি লাগছে।"
আচমকা তুবাকে একটানে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরলো কৌশিক। ব্যথাতুর দেহটা দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ব্যথা দ্বিগুণ বেড়ে গেলো তুবার। সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত মুঠো করে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো মেয়েটা। তুবার দুই বাহু চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে কৌশিক বলল,
"গত চারদিন ধরে একটা ছেলে তোকে বিরক্ত করছে। অথচ এই কথা আমি আজকে জানতে পারলাম। কথা লুকানো শিখে গেছিস। সাহস খুব বেড়ে গেছে তোর। দেবো নাকি সাহসের দফারফা করে?"
কৌশিকের কথার মাঝেই আচমকা তুবা এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটিয়ে ফেললো। দুই পায়ের পাতায় ভর দিয়ে উঁচু হয়ে ঝুঁকে থাকা কৌশিকের ওষ্ঠে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিলো। সেই ছোঁয়ার স্থায়িত্ব খুব বেশি সময় ছিলো না। এই বড়জোর তিন কি চার সেকেন্ড। এরপর সঙ্গে সঙ্গে তুবা স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়ালো। ফিসফিস করে বলল,
"করুন দফারফা। আমিও দেখতে চাই।"
কৌশিকের মাথা হ্যাং হয়ে গেলো। ওষ্ঠে এখনও গরম গরম ভাব অনুভব হচ্ছে। মুহুর্তেই কি ঘটে গেলো বুঝতে তার মিনিট খানেক সময় লাগলো। যখনই বুঝতে পারলো পুরো ঘটনা তখন কৌশিকের ঠোঁটের কোণে সুক্ষ্ম হাসির রেখার দেখা মিললো। কৌশিক তুবাকে ছেড়ে দিলো। পেছনে ঘুরে ডান হাতে মাথায় চুল খামচে ধরে পেছনে ঠেলে দিলো। এর পরপরই হুট করে ঘুরে তাকালো। তুবার দুইপাশের দেয়ালে হাত রেখে তুবাকে নিজের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করে নিলো। মাথাটা ঝুঁকিয়ে তুবার মুখোমুখি হয়ে বলল,
"দিলি তো? দিলি তো রাগের বারোটা বাজিয়ে?"
"হ্যা দিলাম। আবার রাগ দেখালে আবারও দেবো।"
তুবার ভয়হীন চোখের দিকে কয়েক সেকেন্ড নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো কৌশিক। কন্ঠের রুক্ষতা কমে গেলো। অত্যন্ত কোমল কন্ঠে আওড়ালো,
"উস্কে দিচ্ছিস তো? মনটাকে শত শত দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রেখেছিলাম। তুই নিজ হাতে এক এক করে দড়ি গুলো খুলে দিচ্ছিস। যেদিন মনটা পুরোপুরি বাঁধন ছাড়া হয়ে যাবে না? সেদিন কিন্তু তোর নিস্তার নেই।"
"আমি নিস্তার চাইও না।"
কৌশিকের কথার বিপরীতে চোখে চোখ রেখে জবাব দিলো তুবা। কৌশিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। তুবার পুরো মুখ জুড়ে দক্ষ নজর জোড়া সময় নিয়ে বিচরণ চালালো। নজর ঘুরাতে গিয়ে কৌশিকের চোখ আটকে গেলো তুবার পাতলা নরম ওষ্ঠে। সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে শুকনো ঢোক গিলল কৌশিক। দেয়াল থেকে হাত সরিয়ে সরে দাঁড়ালো। পকেট থেকে তুবার ফোনটা বের করে এগিয়ে দিয়ে বলল,
"ঘরে যা। এখানে আর এক মুহুর্তও থাকবি না। আমি কন্ট্রোল হারাচ্ছি।"
তুবা আর দাঁড়ালো না। বাধ্য মেয়ের মতো ফোনটা নিয়ে দড়জার দিকে পা বাড়ালো। কয়েক কদম গিয়ে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরে চাইলো। কৌশিকের উন্মুক্ত সুঠাম দেহে আরও একবার নজর বুলালো। এরপর লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে সেখান থেকে প্রস্থান নিলো।
তুবার লাজুক চাহনি দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো কৌশিক। হাসির দাপটে দেহটা সামান্য দুলে উঠলো। এর পরপরই আচমকা চোয়াল জোড়া শক্ত করে ফেললো। রবিন নামটা আবারও কৌশিকের ব্রেনে টোকা দিচ্ছে। রাগে শরীর জ্বলে যাচ্ছে কৌশিকের। ইচ্ছে করছে ছেলেটাকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলতে।
চলবে?