ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ০৬

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

সাত সকালে ভুঁইয়া মঞ্জিলে আগমন ঘটলো রাইমার। কৌশিক মৌমিতার এক্সিডেন্টের খবর পেয়ে ছুটতে ছুটতে চলে এসেছে মেয়েটা। মূলত এসেছে কৌশিকের টানে। প্রিয় মানুষকে নিয়ে এমন লোমহর্ষক খবর শুনে কোনো মেয়ের পক্ষে কি ঠিক থাকা সম্ভব? রাইমাও পারেনি ঠিক থাকতে। সেই রাত থেকে ছটফট করছে এ বাড়িতে আসার জন্য। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় তার বাবা মা আসতে দেয়নি। নিরুপায় হয়ে ছটফট করতে করতে রাতটুকু পার করেছে রাইমা। এরপর ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই ছুটে চলে এসেছে এই বাড়ি। তার বাবা মা আসবে আরও কিছুক্ষণ পরে।ভুঁইয়া মঞ্জিলে কদম রাখার পর থেকেই রাইমা ব্যাকুল নয়নে খুঁজে চলেছে কৌশিককে। তাকে এক নজর না দেখা পর্যন্ত চোখ জোড়া শান্তি পাচ্ছে না।

খবর পেয়ে মৌমিতা সবার আগে নিচে নেমে এলো। একে একে রিয়া, নীরব সহ বাড়ির রমনীরাও হাজির হলেন। বসার ঘরে ছোটোখাটো একটা আড্ডার আসর বসে গেলো। রমনীদের হাসির শব্দে বাড়ির দেয়ালগুলো ঝংকার তুলছে যেনো।

তুবা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলো। ঠিক এমন সময় কানে হালকা পাতলা হাসির ছন্দ বারি খেলো। সঙ্গে সঙ্গে ঘুমটা ছুটে গেলো তুবার। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকিয়ে ঘরের দেয়াল ঘড়িতে নজর বুলালো। সবে সকাল ছয়টা। এতো সকালে এমন হাহা হিহি করে বাড়ির শব্দ দূষণ করছে কারা? ভাবতে ভাবতে উঠে বসলো তুবা। আঘাতপ্রাপ্ত জায়গাগুলোর ব্যথা অনেকটাই কমে গেছে। এখন হাঁটতেও খুব একটা কষ্ট হয় না। তুবা দুম করে উঠে দাঁড়ালো। এলোমেলো চুলগুলো দুই হাতে পেঁচিয়ে খোপা করতে করতে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে সবার আগে বসার ঘরে উঁকি দিলো।

ঠিক এমন সময়, বড়ো সোফায় মৌমিতার পাশে রাইমাকে দেখে চোখ মুখ কুঁচকে গেলো তুবার। বিরক্তিতে গলা তেঁতো হয়ে এলো। এই মেয়েটাকে তুবা একদম পছন্দ করে না। আর সেদিন কৌশিককে ওই চিঠিটা দেয়ার পর থেকে তো তুবা ওকে সহ্যই করতে পারছে না। দুই কোমরে হাত রেখে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো তুবা। এই আপদ টাকে ঘাড় থেকে নামানোর ফন্দি খুঁজলো। কিন্তু সদ্য ঘুম থেকে ওঠা তুবার দুর্বল মস্তিষ্ক শক্তপোক্ত কোনো উপায় বের করে দিতে পারলো না। তুবা হতাশ হলো। ক্লান্ত ভঙ্গিতে পা টেনে টেনে হাঁটা দিলো কৌশিকের ঘরের দিকে।

কৌশিক সচারাচর তার ঘরের দড়জা লক করে না। তার কারণ একটাই। দিনে রাতে কারণে অকারণে তুবা এই ঘরে উঁকিঝুঁকি মারে। ওর উঁকিঝুঁকি মারাতে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে এজন্য কৌশিক ঘরের দড়জা খোলাই রাখে। আজও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। এই যেমন দরজাটা শুধু চাপিয়ে রাখা। সেই চাপানো দড়জাটা আলতো হাতে একটু ফাঁক করে ঘরের ভেতর উঁকি দিলো তুবা। এরপরই টুক করে ঘরে ঢুকে পড়লো। গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো খাটের কাছাকাছি। সঙ্গে সঙ্গে চোখ আটকে গেলো বড়সড় আলিশান বিছানায়। কোমর পর্যন্ত পাতলা চাদর টেনে ঘুমিয়ে আছে কৌশিক। পেটানো শরীরটা পুরোপুরি উন্মুক্ত। পেটের শক্ত পেশিগুলোর ভাজ নিঃশ্বাসের সাথে সাথে ওঠানামা করছে। এলোমেলো চুলগুলো কপাল জুড়ে ছড়িয়ে আছে। ঘুমন্ত অবস্থায় একটু বেশিই আকর্ষনীয় লাগছে যেনো। তুবা খেই হারালো। অবাধ্য হলো চোখের চাহনি। বখাটেদের মতো চোখ দিয়েই ছাপ বসিয়ে দিলো কৌশিকের দেহে। শক্ত পুরুষালি দেহটা একবার ছুঁয়ে দেখার বাসনা জাগলো মনে। সেই বাসনা মেটাতে তুবা সামনে হাত বাড়ালো। চিকন তর্জনীটা আস্তে করে রাখলো কৌশিকের বুকে। অত্যন্ত সাবধানে আলতো করে আঙ্গুল ছোঁয়ালো বুকের মাঝখানটায়। ছুঁয়ে দিয়ে তুবা নিজেই কেঁপে উঠলো।

আচমকা কৌশিক হুট করেই চোখ মেলে তাকালো। সেকেন্ডের ব্যাবধানে বুকের ওপর রাখা তুবার হাতটা খপ করে ধরে একটানে নিজের নিচে ফেলে দিলো। কৌশিকের এমন অতর্কিত আক্রমণে হকচকিয়ে গেলো তুবা। স্থির হয়ে বিছানায় লেপ্টে রইলো। তুবার দুইপাশে দুই হাত রেখে সামনে ঝুঁকে গেলো কৌশিক। চোখে মুখে তখনও অল্প স্বল্প ঘুমের রেশ। কন্ঠও ঘুম জড়ানো,

"এই সাত সকালে আমার ঘরে কি তোর? আমার ঘুমের ফায়দা ওঠাতে এসেছিস?"

কৌশিকের এহেন প্রশ্নে তুবা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়লো। চোখের আকার ধারণ করলো বৃহৎ। যেনো ঠুস করে মনি দুটো চোখ থেকে বেরিয়ে আসবে। তুবা অবাক সুরে বললো,

"কি সব আজেবাজে কথা? ফায়দা ওঠাবো মানে?"

"মানেটা আমার চেয়ে ভালো তুই জানিস। এসেছিস তো আমার ইজ্জত হরণ করতে। তাইতো এখানে সেখানে ছুঁয়ে দিচ্ছিলি।"

"পুরুষ মানুষের ইজ্জত আবার কেউ কিভাবে হরণ করে? যতসব আজগুবি কথা। আমি তো শুধু দেখতে এসেছিলাম।"

"উফফ জান! এতে এতো লুকোচুরি কেনো? দেখতে চাইলে সোজা আমাকে বলবি। তোর জন্য এই ঘর, এই বাড়ি, আমার জীবন, আমার মন এমনকি এই দেহটাও উন্মুক্ত। যদিও ভেবেছিলাম এসব দেখাদেখি বিয়ের পরে করবো। কিন্তু তুই চাইলে আমি এখনও দেখাতে রাজি। বল, দেখাবো?"

কৌশিকের লাগামছাড়া কথা শুনে লজ্জায় গুটিয়ে গেলো তুবা। মিনিটের ব্যবধানে দুই গাল লাল হয়ে এলো। কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। অস্বস্তিতে হাসফাস করে উঠলো তুবা। দুই হাতে কৌশিকের বুকে ধাক্কা দিয়ে বলল,

"সরুন তো। আমার গরম লাগছে।"

"সে কি? মাঝে তো এক ফুটের দুরত্ব বজায় রেখেছি। তাহলে গরম লাগছে কিভাবে?"

"জানি না সরুন।"

এক প্রকার ধাক্কা দিয়েই কৌশিককে সরিয়ে দিলো তুবা। উঠে বসে দুই হাতে গাল চেপে ধরলো। গাল দুটো কেমন গরম হয়ে গেছে। কৌশিক মাথার নিচে দুই হাত গুঁজে দিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসছে। তুবাকে হাসফাস করতে দেখে হাসতে হাসতে বলল,

"রিল্যাক্স! আর মজা করবো না। এবার বল, এই সাত সকালে আমার কাছে কি চাই?"

"চাইলেই কি দিবেন?"

"তোর কোনো চাওয়া অপূর্ণ রেখেছি আমি? তুই চাইলে এই জানটাও তোর হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত। একবার বলেই দেখ।"

তুবা যেনো সুযোগ পেয়ে গেলো। দুম করে উঠে দাঁড়ালো। দুই হাত বুকে আড়াআড়ি ভাজ করে মুখ ফুলিয়ে বলল,

"রাইমা আপু এসেছে।"

"আসতেই পারে। এটা ওর ফুপুর বাড়ি।"

"বাড়িটা তার ফুপুর হলেও ফুপুর জন্য তো আর আসেনি। এসেছে ফুপুর ছেলের জন্য।"

একবুক আক্রোশ নিয়ে নাক ফুলিয়ে কথাগুলো বলল তুবা। কৌশিকের সমতল ভ্রুদ্বয় এবার বেজায় কুঁচকে গেলো।

"তোদের মেয়েদের ছলাকলা বোঝা বড়ো দায়। সোজা কথা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বিনুনি গাঁথিস। সরাসরি বল তো কাহিনি কি?"

"বেশ সোজা ভাষায় বলছি। বাড়িতে রাইমা আপু এসেছে। সে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু আপনি তাকে একদম পাত্তা দেবেন না। কোনো কথাও বলবেন না। মোট কথা তাকে পুরোপুরি ইগনোর করবেন। আর আমার এটাই চাওয়া।"

কৌশিক অতিষ্ট ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বললো,

"এতো প্যাচের প্রয়োজন নেই। সরাসরি বল তুই জেলাস ফিল করছিস। এনিওয়ে! আমি এমনিতেও বাড়িতে বেশিক্ষণ থাকবো না। খেয়ে বের হবো।"

"এই সাত সকালে কোথায় যাবেন?"

কৌশিকের চলন্ত পা জোড়া থেমে গেলো। ঘুরে তুবার মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ালো। সামান্য ঝুঁকে নিচু কন্ঠে বললো,

"বউয়ের মতো আচরণ করছিস কেনো?"

"কই? আমি তো এমনিই জানতে চাইলাম।"

তুবাকে ঘাবড়াতে দেখে হাসলো কৌশিক। মাথা ঝুঁকিয়ে রেখেই জবাব দিলো,

"খুব দরকারি কাজ আছে। বাট তাড়াতাড়ি ফিরবো। প্রমিস!"

এটুকু বলেই সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে দড়জা আটকে দিলো।

-

-

তুবাদের স্কুল মাঠের একদম পেছন দিকে একটা বিশাল বড় বটগাছ আছে। শতবছর পুরনো গাছটা একাই মাঠের অর্ধেক দখল করে নিয়েছে। গাছের ছায়ায় বসার জন্য নিচে গোল করে সিমেন্ট বালুর প্লাস্টার করা। রবিন সেখানে এসে পৌঁছেছে কিছুক্ষণ আগে। ছেলেটা ব্যাকুল চোখে এদিক ওদিক চাইছে আর ঘড়িতে বারে বারে সময় দেখছে। সময়টা এখন সকাল দশটা বেজে পাঁচ মিনিট। তুবার তো ঠিক দশটায় চলে আসার কথা। একবুক ধৈর্য্য নিয়ে অপেক্ষা করছে ছেলেটা।

কৌশিক ভার্সিটির বাইরে একটা চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিল। এমন সময় একটা ছেলে এসে খবর দিলো,

"বন্ধু! মালটা চলে এসেছে।"

কৌশিক অর্ধেক চা খেয়েছে মাত্র। রবিন এসে গেছে শুনে সঙ্গে সঙ্গে কাপটা রেখে দিলো। বিলটা মিটিয়ে দোকানের পেছন থেকে একটা মোটা হকিস্টিক বের করলো। এরপর শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে পা বাড়ালো বটতলার দিকে। সঙ্গে আছে কৌশিকের দুই বন্ধু ফারাজ আর রামিম। সেই সাথে নীরবও যোগ দিয়েছে।

বটতলার কাছাকাছি আসতেই আচমকা কৌশিকের পায়ের গতি কমে গেলো। গম্ভীর মুখশ্রী আরও বেশি গম্ভীর রুপ ধারণ করলো। বটতলায় বসে আছে অল্প বয়সী একটা ছেলে। ফর্মাল সাজে বেশ পরিপাটি হয়ে এসেছে ছেলেটা। তবে বয়স নিতান্তই কম। দেখে মনে হচ্ছে দাড়িটাও সবে উঠতে শুরু করেছে। কৌশিক তো ভেবেছিল রবিন নামক ছেলেটা ওর সমবয়সী বা দুই এক বছরের ছোটো হবে। কিন্তু এতো দুধের শিশু। শেষে কি না নিজের চেয়ে অর্ধেক বয়সী ছেলের সাথে মারপিট করতে হবে? সেটাও আবার প্রেম ভালোবাসা নিয়ে? এটা কি দৃষ্টি কটূ লাগবে না? কৌশিকের ভাবনার মাঝেই পেছন থেকে নীরব চেচিয়ে উঠলো,

"আরেহ্! এতো রবিন! মানে আমার বন্ধু। মানে আমাদের ক্লাসেই পড়ে। মানে নতুন এসেছে। মানে......"

আচমকা ঘাড় ঘুরিয়ে কটমট দৃষ্টিতে তাকালো কৌশিক। ওর এমন ভয়ঙ্কর চাহনি দেখে নীরবের কথা মাঝপথেই আটকে গেলো। কিন্তু নীরব দমে গেলো না। তার ভেতরের ভাই সত্বা জেগে উঠলো। সবাইকে উপেক্ষা করে দৌড়ে চলে গেলো রবিনের কাছে। ছেলেটা বসে পেছনের পুকুরের দিকে তাকিয়ে ছিলো। আচমকা ওর কলার ধরে টেনে তুলে দুম করে নাক বরাবর ঘুসি বসিয়ে দিলো নীরব। হঠাৎ আক্রমনে হকচকিয়ে গেলো রবিন। মৃদু আর্তনাদ করে নাক চেপে ধরলো। নীরবের এহেন কান্ডে কপাল চাপড়ালো ফারাজ আর রামিম। দুজন দৌড়ে গিয়ে নীরবকে দূরে সরালো। কিন্তু ছেলেটাকে ধরে রাখতে পারছে না। তেড়ে গিয়ে বলছে,

"শা*লা! সাহস কত বড়। আমার বোনকে বিরক্ত করে। তোর কলিজায় আমি মরিচ ডলে দেবো। আয় কাছে আয়।"

নীরবের ওভার এক্টিং দেখে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো কৌশিক। হাতের হকিস্টিকটা পাশেই ফেলে দিলো। এতো ছোটো একটা ছেলের সাথে মারপিট ঠিক শোভা পাচ্ছে না। ওর জন্য তো ধমকই যথেষ্ট। ভাবতে ভাবতে এগিয়ে গেলো কৌশিক। নাক চেপে ধরে কাঁপতে থাকা রবিনকে ইশারায় গাছের গোড়ায় বসতে বলল। রবিন চুপচাপ গিয়ে বসলো। নাকটা ধরে মৃদু আর্তনাদ করতে করতে বলল,

"কি হচ্ছে এসব? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। এখানে তো তুবার আসার কথা ছিলো। তাহলে আপনারা কারা?"

রবিনের মুখে তুবার নাম শুনে মাথায় দপ করে আগুন জ্বলে উঠলো কৌশিকের। শান্ত মেজাজটা মুহুর্তেই অশান্ত হয়ে গেলো। চোখ দুটো লাল হয়ে সেই রাগের আভাস দিলো। কৌশিক দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে যথাসম্ভব রাগ চেপে কড়া ভাষায় বলল,

"বয়স কম তোমার। এজন্য বুঝতে সময় লাগছে। লিসেন! এতোকিছু বুঝতে হবে না। শুধু তুবার থেকে দশ হাত দূরে থাকবে। মাইন্ড ইট।"

"কিন্তু কেনো? আমি কেনো ওর থেকে দূরে থাকবো? আমি তুবাকে ভালোবাসি।"

এই পর্যায়ে কৌশিক নিজের মেজাজ হারালো। আচমকা রবিনের কলার চেপে ধরলো। চোখ দিয়ে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে যেনো। রবিনের কলার ঝাঁকিয়ে হুঙ্কার ছেড়ে বলল,

"একদম জানে মেরে ফেলবো। এইখানেই মেরে পুঁতে রেখে দেবো। এই চোখ দিয়ে দ্বিতীয়বার তুবার দিকে তাকালে চোখে গরম শিশা ঢেলে দেবো। তুবাকে ভালোবাসার অধিকার আমি কাউকে দেইনি।"

কৌশিকের হুঙ্কার শুনে রবিন ভয় পেয়ে গেলো। বটগাছের ছায়ার তলে দাড়িয়েও ছেলেটা কুলকুল করে ঘামছে। বুকের ভেতর এক সাগর ভয় চেপে রেখে রবিন সাহস নিয়ে প্রশ্ন করলো,

"আপনি তুবার জন্য আমার ওপর টর্চার করছেন কেনো? কে আপনি? আপনি কি তুবার ভাই? নাকি ওর ভাড়া করা গুন্ডা?"

রবিনের মুখে "তুবার ভাই" সম্বোধন শুনে কপালে তিন চারটে ভাজ পড়লো কৌশিকের। বোঝাই যাচ্ছে প্রশ্নটা তার একদম পছন্দ হয়নি। এমন সময় পাশ থেকে নীরব চেচিয়ে উঠলো,

"ওই শা*লা! ভাইয়া তুবার ভাই হতে যাবে কেনো? তুবার ভাই আমি। ওর এক এবং একমাত্র ভাই।"

রবিন এক পলক নীরবেন দিকে তাকালো। এরপর নজর সরিয়ে কৌশিকের দিকে তাকালো। ছেলেটার চোখে এখনও কৌতুহল। কন্ঠে জানার তীব্র আকাঙ্খা,

"আর আপনি? তুবা কে হয় আপনার?"

আচমকা কৌশিকের রাগটা পড়ে গেলো যেনো। কেমন যেনো শান্ত নদীর মতো শীতল হয়ে গেলো। রবিনের কলার ছেড়ে দিয়ে গাছের গোড়ায় বসে পড়লো কৌশিক। ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে বলল,

"তুবা! এতো আমার জান! আমার লাইফ লাইন। আমার বেঁচে থাকার কারণ। আমার জীবনের খুশি।"

রবিনের মনটা হঠাৎ করেই খারাপ হয়ে গেলো। মন ভাঙার ব্যথা লুকাতে মাথা নিচু করে নিলো ছেলেটা। নিজে নিজেই বিড়বিড় করে আওড়ালো,

"তার মানে এই সেই। যার কথা তুবা বলতো আমাকে। আমি ভেবেছিলাম মিথ্যা বলছে। কিন্তু নাহ্! এখন তো দেখছি তুবার সব কথাই সত্যি।"

মন খারাপ করে মাথা নিচু করে নেয়া রবিনের দিকে এক পলক তাকালো কৌশিক। এরপর নজর গেলো নীরবের দিকে। কৌশিক কিছুক্ষণ নীরবের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। এরপর হুট করেই বলে উঠলো,

"মন খারাপ করো না ছোটো ভাই। তুবা তোমার জন্য নয়। শুধু তুমি কেনো? আমি ব্যাতিত তুবা আর কারো জন্য নয়। তবে তোমাকে আমি একটা বেটার অপশন দিতে পারি। তুবার বেস্টফ্রেন্ড আছে রিমি। মেয়েটা অনেক ভালো। সাথে সুন্দরীও। তুমি চাইলে ওর ওপর ট্রাই করতে পারো।সাহায্য লাগলে বলো আমি হেল্প করবো।"

আপন ভাইয়ের মুখ থেকে এমন ভয়ানক কথা শুনে জোরেশোরে কেশে উঠলো নীরব। কাশতে কাশতে কলিজা বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম। এখন কৌশিকের সঙ্গ দেয়ার জন্য নীরবের খুব আফসোস হচ্ছে। শেষে কি না সে নিজের পায়ে নিজেই কুড়ল মারলো?

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন