ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

৭ম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ০৭

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

নীরবের মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। অজানা ভয়ে মনটা শিউরে শিউরে উঠছে। এই রবিন ববিন তুবাকে ছেড়ে রিমির পেছনে লাগলে তো নীরবের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। যদি কোনোভাবে রিমিকে পটিয়ে ফেলে তখন? শঙ্কামিশ্রিত চোখে একবার কৌশিকের দিকে তাকালো নীরব। কৌশিক বটগাছের শেকড়ের ওপর বসে চুমুকে চুমুকে সফট ড্রিংকস পেটে চালান করছে। এই মুহুর্তে এখানে ওরা দুই ভাই ব্যাতিত আর কেউ নেই। বাকিদের বহু আগেই কৌশিক বিদায় করে দিয়েছে। নীরব ভয় ভয় মনে এগিয়ে এলো। শান্ত ভঙ্গিতে কৌশিকের পাশে বসলো। ইনিয়ে বিনিয়ে প্রশ্ন করলো,

"ভাইয়া! তুমি ওই মফিজটাকে ছেড়ে দিলে কেনো? ওর হাত পা ভেঙে হসপিটালে পাঠানো উচিত ছিলো।"

"কোন অপরাধে?"

কৌশিকের ভাবলেশহীন উত্তর। নীরব একটু অবাক হলো। অবাক কন্ঠে বললো,

"সে কি? ওর অপরাধ কি তোমার অজানা? ওই শালা তুবাকে বিরক্ত করছিল।"

"তাহলে তো সবার আগে তোর শাস্তি প্রাপ্য।"

কৌশিকের শেষোক্ত কথা শুনে থমকে গেলো নীরব। হতভম্ব নজরে তাকালো। ততক্ষণে কৌশিকের খাওয়া শেষ। ক্যানটা পাশের ডোবায় ছুড়ে মেরে নীরবের দিকে ঘুরলো কৌশল। তীঘ্ন চোখে তাকিয়ে বলল,

"কি যেনো তখন বলছিলি? আরেহ্, এটা তো রবিন। মানে তোর বন্ধু। মানে তোর সাথে একই ক্লাসে পড়ে। ইত্যাদি ইত্যাদি।"

একটুকু বলেই শক্ত চোখে তাকালো কৌশিক। গলার কন্ঠও গম্ভীর হলো,

"তুই উপস্থিত থাকতে তোর বন্ধু তুবাকে পটানোর চেষ্টা করছিল। এই কথা তুই আমাকে জানাসনি। এটা তোর প্রথম অপরাধ।"

"আমি তো জানতাম না ভাই।"

"হুম! স্ব শরীরে উপস্থিত থেকেও তুই এটা জানিস না। এটা তোর আরেকটা অপরাধ। দু দুটো ভয়ানক অপরাধ করেছিস তুই। শাস্তি তো রবিনের আগে তোর প্রাপ্য।"

নীরব বেশ বুঝতে পারছে কৌশিকের কথার মানে। আর বুঝতে পারছে বলেই মন জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নীরব দুই হাত জোর করে অনুনয় সুরে বললো,

"মাফ করো ভাই। অনেক বড় ভুল হয়ে গেছে। এমন ভুল আর কোনোদিন হবে না। প্লিজ রিমিকে রেহাই দাও। রিমি বাদে যার পেছনে খুশি ওকে লাগিয়ে দাও। কিন্তু প্লিজ রিমি না।"

"কেনো? ও রিমির সাথে প্রেম করলে তোর সমস্যা কি?"

"সমস্যা আছে। রিমি আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। আমার একটা দায়িত্ব আছে তো।"

"কিন্তু আমি তো তোদের কখনো বেস্ট ফ্রেন্ডের মতো বিহেব করতে দেখি না। সামনাসামনি হলে তো দুজনে শুধু ঝগড়াই করিস।"

"ঝগড়াই তো ভালোবাসা ভাই।"

কৌশিক বাঁকা চোখে তাকালো। নীরব জিভে কামর দিয়ে তড়িঘড়ি করে বলল,

"না মানে বন্ধু তো। বন্ধুদের মধ্যে তো ভালোবাসা থাকবেই তাই না?"

কৌশিক বাঁকা হাসলো। নীরবের সকল কাকুতি মিনতি উপেক্ষা করে উঠে দাঁড়ালো। চোখে সানগ্লাস লাগাতে লাগাতে বলল,

"বাড়ি চল।"

-

-

রাইমা আজকে থেকে গেছে কৌশিক দের বাড়িতেই। সকালে ওর বাবা মা এসেছিল ভাগ্নে ভাগ্নিকে দেখতে। যদিও মৌমিতার দেখা পেলেও কৌশিকের দর্শন তারা পায়নি। এরপর মেয়েকে রেখে তারা চলে গেছেন। রাইমা জেদ ধরেছে দুই দিন থাকবে এখানে।

কৌশিক বাড়ি ফিরেছে ঠিক দুপুরে। এরপর থেকে ঘরেই আছে। রাইমা অনেক চেষ্টা করেছে কৌশিকের সাথে একান্তে দেখা করার। কিন্তু বরাবরই তার প্রচেষ্টা বিফলে গেছে। হয় তুবা তাকে ডেকে নিয়ে বসার ঘরে বসিয়ে রাখছে। তো কখনো রিয়া এসে গল্প জুড়ে দিচ্ছে। এভাবে টিপটিপ করে সন্ধ্যা নেমে এলো। বাড়ির রমনীরা রান্নাঘরে সবার জন্য নাস্তা বানাচ্ছেন। বসার ঘরে বাচ্চারা সবাই মিলে আড্ডার আসর বসিয়েছে। কনকচাঁপা বেগম এক বাটি গরম গরম মুচমুচে বড়া ভাজা বাচ্চাদের সামনে রাখলেন। মুহুর্তেই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়লো বড়াগুলো ওপর। তুবা তো তিন চারটে একসাথে মুখে পুরে নিয়েছে। এবার দুই গাল ফুলিয়ে চিবিয়ে যাচ্ছে। বাচ্চাদের এমন ছেলেমানুষী দেখে হাসলেন কনকচাঁপা বেগম। এরপর দোতলার দিকে চিন্তিত নয়নে তাকিয়ে বলল,

"কৌশিক নিচে নামছে না কেনো?"

"ভাইয়ার কালকে গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে বড় মা। সেই পড়াই রেডি করতে ঘরে আছে। আমাকে বলেছে ভাইয়াকে কেউ না ডাকতে। সময় হলে সে নিজেই নিচে নেমে আসবে।"

বড়া চিবাতে চিবাতে জবাব দিলো নীরব। কনকচাঁপা বেগম তৎক্ষনাৎ রান্নাঘরে ছুটলেন। মিনিটের ব্যবধানে ট্রেতে করে একটা হাফ প্লেটে কিছু বড়া এবং এক গ্লাস ধোঁয়া ওঠা গরম কফি নিয়ে আসলেন। এরপর সেগুলো টেবিলে রেখে বাচ্চাদের উদ্দেশ্যে বললেন,

"কেউ একজন গিয়ে কৌশিকের ঘরে দিয়ে আয় তো। ছেলেটা আমার একটানা পড়লে মাথাব্যথা করে। তখন ওর আবার কফি লাগে।"

সারাদিন শেষে রাইমা এবার মোক্ষম সুযোগ পেলো। হুট করে দাঁড়িয়ে আগেভাগে ট্রেটা হাতে তুলে নিলো। মাথা নিচু করে মিনমিন করে বলল,

"ফুপি আমি নিয়ে যাই? সবাই তো খাচ্ছে এখানে।"

কনকচাঁপা বেগম হাসলেন। রাইমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে রান্নাঘরে ছুটলেন। এখনও রাতের খাবার তৈরি করা বাকি। রাইমা সম্মতি পেয়ে হাসি মুখে ট্রেটা নিয়ে পা বাড়ালো দোতলার দিকে।

ইতিমধ্যে তুবার গলায় বড়াগুলো আটকে গেছে। দুই গাল ভর্তি চিবানো বড়া নিয়ে মুখ ফুলিয়ে আছে। না পারছে গিলতে আর না পারছে মুখে রাখতে। সুস্বাদু বড়াগুলো এই মুহুর্তে বিশ্রী তেঁতো মনে হচ্ছে। তুবা মুখ ফুলিয়েই উঠে দাঁড়ালো। রাইমার পেছন পেছন সেও ছুটলো দোতলায়।

-

-

কৌশিক খাটের সাথে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে ছিলো। হাতে তার একাডেমিক বই। এছাড়াও আশেপাশে আরও কিছু বই খাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ঠিক সেই মুহুর্তে ঘরে রাইমার আগমন ঘটলো। রাইমা দড়জার সামনে এসে মিষ্টি কন্ঠে অনুমতি চাইলো,

"ভেতরে আসবো কৌশিক ভাই?"

মেয়েলি কন্ঠটা কানে এসে বারি খেতেই কৌশিকের মনোযোগ বই থেকে সরে গেলো। সে স্বভাবতই গম্ভীর কন্ঠে জবাব দিলো,

"কাম।"

রাইমা মাথা নিচু করে ঘরে ঢুকলো। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো। মাথা নিচু রেখেই কৌশিকের সামনে ট্রেটা রাখলো। এরপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আঙ্গুলে ওড়না পেঁচাতে পেঁচাতে কৌশিকের দিকে চাইলো। কিন্তু একি? যার জন্য রাইমার এতো লাজ লজ্জা প্রদর্শন, সেই মানুষটা নির্বকার কেনো? একবার ফিরেও চাইছে না। রাইমা অসন্তুষ্ট হলো। কিছু বলতে মুখ খুলবে এমন সময় হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে পড়লো তুবা। হাতে একগাদা বইপত্র। এই অসময়ে আচমকা তুবার আগমন রাইমার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ছিলো। সে অবাক চোখে তাকালো। সেই নজরকে পাত্তা না দিয়ে সোজা কৌশিকের মুখোমুখি হয়ে বিছানায় পা মুড়িয়ে বসলো তুবা। বুকে জড়িয়ে রাখা বইগুলো বিছানায় ফেলে আঁড়চোখে কৌশিকের দিকে তাকালো। সঙ্গে সঙ্গে চোখাচোখি হলো দু'জনার। অর্থাৎ কৌশিক আগে থেকেই তুবার দিকে তাকিয়ে ছিলো। নজরে নজর মিলতেই তুবা চোরের মতো দৃষ্টি লুকালো। নিজের সঙ্গে আনা বইগুলো নাড়াচাড়া করতে করতে বলল,

"আমার একটা ম্যাথ বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। একটু বুঝিয়ে দিন তো।"

কৌশিক কোনো জবাব দেয়ার আগেই রাইমা জবাব দিলো,

"এটা কোনো ভদ্রতা হলো তুবা? একজনের ঘরে বিনা অনুমতিতে ঢুকে পড়লে। নকটা পর্যন্তও করলে না। তাছাড়া তুমি জানো কৌশিক ভাই আজ ব্যাস্ত আছে। তবুও তার কাছে পড়তে এসেছো।"

তুবা এক পলক কৌশিকের দিকে তাকালো। সে নির্বাকার। ভাবলেশহীন ভঙ্গিতে বসে আছে। দুই হাত বুকে আড়াআড়ি ভাবে ভাজ করা। অথাৎ কৌশিক বোঝাচ্ছে, ঝগড়াঝাটি তোরাই কর। আমি শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি। কৌশিকের এমন গা ছাড়া ভাব দেখে মনে মনে রুষ্ট হলো তুবা। ভেতরে ভেতরে রাগে ফুঁসে উঠলো। সামনের ট্রে থেকে কৌশিকের জন্য আনা কফির কাপটা হাতে তুলে নিলো। তাতে ছোট্ট দুই তিন চুমুক দিয়ে গলাটা ভিজিয়ে নিলো তুবা। এরপর রাইমার দিকে ফিরে স্পষ্ট ভাষায় জবাব দিলো,

"প্রথমত এটা আমার বাড়ি আপু। আমি এই বাড়ির সেখানে খুশি অনায়াসে যেতে পারি। আমি কোনো গেস্ট নই যে অনুমতি লাগবে। তাছাড়া এই ঘরে আসতে আমার নক বা পারমিশন লাগে না। এই ঘরের দড়জা আমার জন্য সবসময় উন্মুক্ত। আর রইলো কৌশিক ভাইয়ের ব্যাস্ততার কথা। সে তিনি যতই ব্যাস্ত থাকুক। সময় আমি ঠিক বের করে নিতে জানি।"

তুবার এমন কাঠকাঠ জবাবে রাইমা অপমানবোধ করলো ভিষণ। তার ওপর তুবাকে কৌশিকের জন্য আনা কফি খেতে দেখে রাগও হলো। নিজের পক্ষে সাহায্য চাইতে কৌশিকের দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকালো। কিন্তু কৌশিক একবারের জন্যও রাইমার দিকে ফিরেও তাকায়নি। সে শুরু থেকেই মনোযোগ দিয়ে তুবাকে দেখছে। এতে রাইমার মনে ভিষণ আঘাত লাগলো। আঘাতে জর্জরিত হৃদয় নিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে। এতো অপমানের পরেও কি সেখানে আর থাকা যায়?

তুবা এক পলক তাকালো দড়জার দিকে। রাইমাকে মন খারাপ করে চলে যেতে দেখে তুবারও খারাপ লাগছে। কিন্তু তাতে কি? মেয়েটা এসেছে তো তুবার সতিন হতে। ওকে এখনই বাঁধা না দিলে এই মেয়েটাই ভবিষ্যতে তুবার জীবনের কাটা হয়ে দাঁড়াবে। ভাবতে ভাবতে আনমনে মুখ ভেঙচালো তুবা। এরপর ঘাড় ঘোরাতেই চোখাচোখি হলো কৌশিকের সাথে। কৌশিক সঙ্গে সঙ্গে তুবার হাত থেকে কফির কাপটা নিয়ে নিলো। তাতে বড়সড় একটা চুমুক বসিয়ে তৃপ্তিতে চোখ বন্ধ করলো। যেনো অতি সুস্বাদু কিছু তার মুখ দখল করে নিয়েছে। পরম তৃপ্তি নিয়ে ঢোক গিলে কৌশিক বলল,

"বাহ্! বেশ মজা তো। আজ কফিটা একটু বেশিই মিষ্টি লাগছে।"

বিনিময়ে তুবা জবাব না দিয়ে রাগী চোখে তাকালো শুধু। কিন্তু কৌশিকের মধ্যে তাতে কোনো পরিবর্তন আসলো না। সে পূর্বের ন্যায়েই আওড়ালো,

"উমম! তোর ঠোঁটে কি মধুর খনি আছে? একটু ঠোঁট ছোঁয়াতেই পুরো কাপটা সহ মিষ্টি হয়ে গেছে। কাছে আয় তো জান। একটু চেক করে দেখি।"

তুবা ফুঁসে উঠে পেছন থেকে নেইল কাটারের ছোট্ট চাকু বের করলো। সেটা কৌশিকের দিকে তাক করে বলল,

"দেখেছেন এটা কি?"

"তোর কি আমাকে কানা মনে হয়?"

"একদম কথা ঘোরাবেন না। আমি বলেছিলাম রাইমা আপুর থেকে দূরে থাকবেন।"

কৌশিক ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। কফির কাপটা পাশের টেবিলে রেখে দিলো। এরপর খাটের সাথে আয়েশী ভঙ্গিতে হেলান দিয়ে বসে জবাব দিলো,

"তোর কথা রাখতেই সারাদিন ঘরে ছিলাম। পড়ার মিথ্যে অজুহাত দেখিয়ে নিজেকে ঘরবন্দী করে রেখেছি। আর কি চাস? আমি তো আর নিজে থেকে কারো সাথে কথা বলতে যাই নি। রাইমা পায়ে হেঁটে আমার ঘরে এসেছে।"

কৌশিকের ব্যখ্যায় তুবার মন গললো না একটুও। বরং অকাজের ছোট্ট চাকুটা আরও একটু এগিয়ে ধরে বলল,

"অতো কিছু জানি না আমি। ওই আপুকে আপনার আশেপাশে দেখলে আমার হিংসে হয়। আমি সহ্য করতে পারি না। রাগে আমার শরীর জ্বলে। আপনি খবরদার ওনার সাথে একদম কথা বলবেন না।"

"যদি কথা বলি? তাহলে কি হবে?"

"এটা আপনার পেটে ঢুকিয়ে দিলে কেমন হবে?"

এই দুই ইঞ্চি মাপের ধারবিহীন ছুরি দিয়ে হুমকি দিতে দেখে পেট ফাটা হাসি পাচ্ছে কৌশিকের। কৌশিক বহু কষ্টে হাসি চাপিয়ে রাখলো। তুবার বাড়িয়ে রাখা হাতটা খপ করে ধরে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়ে আসলো। আচমকা হ্যাচকা টানে তুবা নিজের ভারসাম্য হারালো। নরম তুলতুলে দেহটা আছড়ে পড়লো কৌশিকের বুকে। দুজনের নাক একে অপরের সাথে ছুঁই ছুঁই। কৌশিক দুষ্টু হেঁসে বললো,

"বেশি কিছু হবে না। শুধু একটু রক্ত বের হবে এই যা। তবে তোকে একটা বেটার অপশন দিচ্ছি। বরং তুই নিজেই আমার ভেতরে ঢুকে যা। ট্রাস্ট মি! আমি বেশি শান্তি পাবো।"

তুবার চোখ আটকে গেলো কৌশিকের চোখে। বিশাল সমুদ্রের মতো স্বচ্ছ, গভীর দুই চোখ। সেই চোখের দিকে তাকিয়ে তুবা খেই হারালো। অবোধের মতো পড়ে রইলো কৌশিকের বুকে। কৌশিক মাথাটা সামান্য বামে ঝোঁকালো। তুবার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"তুই অনেক সফট আছিস জান। একদম তুলোর মতো। ধরে মজা পাই।"

কৌশিকের গা হিম করা কন্ঠস্বর শুনে শরীরে কাটা দিয়ে উঠলো তুবার। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে চোখ নামিয়ে নিলো। তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়িয়ে বইপত্র রেখেই ছুটলো। পেছন থেকে কৌশিক ডেকে উঠলো,

"আরেহ্ জান! তোর ওড়নাটা তো নিয়ে যা। এটা ফেলে যাচ্ছিস কেনো? তুবা!"

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন