#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ০৮
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
রাত শেষে একটা মিষ্টি সকালের সূচনা। ভুঁইয়া মঞ্জিলের আনাচে কানাচে মম করছে সুস্বাদু খাবারের ঘ্রাণ। পেট মুচড়ে খিদে পাওয়া খাবারের ঘ্রাণে মাতাল হবে যে কেউ। ইতিমধ্যে বাড়ির কর্তারা খাবার টেবিলে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এরপর একে একে বাচ্চারা হাজির হলো। সবাই যার যার চেয়ারে একে একে বসে পড়লো। কৌশিকও চলে এসেছে। একেবারে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হয়েই নিচে নেমে এসেছে কৌশিক। সবার শেষে নিচে নামলো তুবা। চোখ দুটো বন্ধ করে কানার মতো গন্ধ শুকতে শুকতে আসছে। যেনো খাবারের সুগন্ধের পথ ধরেই সে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে। দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। পন্ডিতি করে চোখ বন্ধ রেখে হাওয়ায় উড়ে উড়ে আসতে গিয়ে চেয়ারের সাথে পা বেঁধে গেলো। হুড়মুড়িয়ে পড়েই যাচ্ছিল এমন সময় কৌশিক খপ করে তুবার হাতটা ধরে ফেললো। হকচকিয়ে তাকালো তুবা। সঙ্গে সঙ্গে কৌশিকের শক্ত চাহনি দেখে বিড়ালছানার মতো মিইয়ে গেলো। বাধ্য মেয়ের মতো কৌশিকের পাশের চেয়ার টেনে বসলো। নাক টেনে খাবারের ঘ্রাণ নিলো। পুরো টেবিল জুড়ে বাহারি খাবারের মেলা। তুবা সবচেয়ে বেশি খুশি হয়ে গেলো নিজের পছন্দের বিফ বিরিয়ানি দেখে। কনকচাঁপা বেগমের হাতের নারকেল চিংড়ি আর বিফ বিরিয়ানি তুবার সবচেয়ে পছন্দের। এগুলো পেলে তুবা এক প্লেটের জায়গায় দু প্লেট খাবার খেয়ে ফেলে। আনন্দে আত্মহারা তুবা হামলে পড়লো বিরিয়ানির ওপর। টেবিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে নিজের প্লেটে বিরিয়ানি তুলতে লাগলো। মেয়ের এমন হকচকিতা দেখে তাওহীদ সাহেব নিচু স্বরে বললেন,
"আম্মা আস্তে! বড়রা আগে শুরু করুক।"
তাওহীদ সাহেবের কথার মাঝে বাধ সাধলেন জামাল সাহেব। গম্ভীর কন্ঠে বললেন,
"আহ্ তাওহীদ! বারন করো না। ওকে নিতে দাও। আমার আম্মা খেয়ে বাঁচলে তবেই আমরা খাবো।"
বড় চাচ্চুকে নিজের পক্ষে পেয়ে দাঁত কেলিয়ে হাসলো তুবা। ময়না বেগম অতিষ্ট ভঙ্গিতে মাথা নাড়লেন। তার মতে বাড়ির বড় কর্তার অতিরিক্ত আস্কারাতেই মেয়েটা তার বাঁধন ছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তিনি মেয়ের মাথায় ছোট্ট করে একটা চাপড় মেরে বিরিয়ানির বাটিটা হাতে তুলে নিলেন। এরপর একে একে সবার প্লেটে খাবার পরিবেশন শুরু করলেন। আজ বাড়ির রমনীদের সাথে রাইমাও খাবার সার্ভ করছে। কনকচাঁপা বেগম অনেকবার রাইমাকে বলেছেন সবার সাথে বসে পড়তে। কিন্তু সে বসতে নারাজ। সে নাকি আজ সবাইকে নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করবে। সবাই শব্দটা তো একটা বাহানা মাত্র। সে মূলত চিপকে আছে কৌশিকের পেছনে। চাওয়ার আগেই এটা সেটা কৌশিকের পাতে তুলে দিচ্ছে। বিরক্ত হলেও চুপচাপ খেয়ে চলেছে কৌশিক। কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।
কিন্তু তুবা কিছুতেই শান্ত থাকতে পারছে না। শুরুটা খুবই উৎসাহ নিয়ে হলেও এখন তার কাছে পুরো পরিবেশ অসহ্যকর লাগছে। রাইমার এতো ঢং করে কৌশিকের প্লেটে খাবার তুলে দেওয়া। পেছনে ছায়ার মতো চিপকে দাঁড়িয়ে থাকা তুবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিচ্ছে। প্লেটে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করতে করতে তুবা আঁড়চোখে একবার কৌশিকের দিকে তাকালো। ঠিক সেই মুহুর্তে কৌশিকও তুবার দিকে তাকিয়েছে। ফলস্বরূপ চোখাচোখি হলো দুজনার। কৌশিক দুই ভ্রু উঁচিয়ে নিঃশব্দে জিজ্ঞেস করলো "কি?"
তুবা সঙ্গে সঙ্গে নজর সরিয়ে নিলো। সেটা অভিমানে নাকি লজ্জায় জানে না তুবা। মিনিটের ব্যবধানে কৌশিক নিজের প্লেটের বড় বড় চিংড়ি দুটো তুলে তুবার প্লেটে দিয়ে দিলো। এরপর খেতে খেতে রাইমাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"চিংড়ি দিও না রাইমা। আমি এখন চিংড়ি খাবো না।"
"তাহলে মাংস দেই?"
কৌশিক হাত উঁচিয়ে বাধা দিলো। কাঠকাঠ কন্ঠে জবাব দিলো,
"আমি নিজে নিয়ে খেতে পারি। যা লাগবে আমি নিজেই নিতে পারবো।"
কৌশিকের কড়া জবাব রাইমার মনে বেশ আঘাত করলো। মেয়েটা কত আশা নিয়ে ছিলো কৌশিকের সেবা করবে। এই ছোট ছোট যত্নের মাধ্যমে কাছে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করবে। দুজনের মধ্যে একটা বোঝাপড়ার সম্পর্ক তৈরি হবে। কিন্তু কৌশিক তো ওকে পাত্তাই দিচ্ছে না। শেষে একবুক মন খারাপ নিয়ে কৌশিকের পেছন থেকে সরে গেলো রাইমা।
তবে কৌশিকের এই পদক্ষেপ বেশ মনে ধরলো তুবার। মাথা নিচু করে দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। হাসি হাসি মুখে আবারও খাওয়া শুরু করলো।
-
-
খাওয়া দাওয়া শেষে বাড়ির কর্তারা যার যার কাজে চলে গেছেন। বাড়ির রমনীরা টেবিল পরিস্কার করতে ব্যাস্ত। কৌশিক বেরিয়েছে একটু আগে। তার নাকি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস আছে আজ। মৌমিতা বের হবে আরও পরে। তবে রিয়া, নীরব আর তুবার আজ ছুটি। ওরা আজ বাড়িতেই আছে। খাওয়া শেষে বসার ঘরে সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছে। এমন সময় বাড়ির রমনীরাও কাজ শেষ করে বাচ্চাদের সাথে যোগ দিলেন। কনকচাঁপা বেগম রাইমাকে কাছে ডাকলেন। রাইমা মৌমিতার পাশে বসে ছিলো। কনকচাঁপা বেগমের ডাকে উঠে এসে তার পাশে বসলো। কনকচাঁপা বেগম রাইমার মাথায় আদরের সহিত হাত বুলিয়ে প্রশ্ন করলেন,
"একটা কথা বলতো রাই। কৌশিককে তোর কেমন লাগে?"
কনকচাঁপা বেগমের এহেন প্রশ্নে লজ্জায় মাথা নিচু করে নিলো রাইমা। তবে বিস্ফোরণ ঘটলো তুবার মনে। আচমকা তার বড়মার এহেন প্রশ্নে বুকটা কেঁপে উঠলো তুবার। হৃদপিণ্ডে হাতুড়ি পেটানো শুরু হলো। গোলগোল চোখে তাকালো লজ্জায় গলে পড়া রাইমার দিকে। কান সজাগ হলো উত্তর শোনার জন্য। রাইমা সময় নিয়ে লাজুক স্বরে জবাব দিলো,
"হঠাৎ এমন প্রশ্ন কেনো করছো ফুপি?"
"ওমা! কারণ ছাড়া কি এমনিই বলছি? তোকে আমার খুব ভালো লাগে। কি লক্ষী একটা মেয়ে তুই। ভাবছি অচেনা অজানা কোনো মেয়ে না এনে তোকেই বাড়ির বউ করে আনি। তুই রাজি থাকলে ভাই ভাবির সাথে কথা বলবো। কি বলিস?"
আচমকা বিয়ের কথা শুনে লজ্জায় কান গরম হয়ে গেলো রাইমার। কোনো জবাব না দিয়ে হুড়মুড়িয়ে উঠে চলে গেলো সেখান থেকে। রাইমাকে এমন লজ্জা পেয়ে মুখ লুকাতে দেখে উপস্থিত সবাই শব্দ করে হেঁসে উঠলো। কনকচাঁপা বেগম হাসতে হাসতে বললেন,
"কি লাজুক মেয়েটা। একটুতেই লজ্জায় গলে যায়। এমন একটা লাজুক, মিষ্টি, সংসারী মেয়েই আমার চাওয়া। ভাবছি ভাই ভাবির সাথে কথা বলেই ফেলি। কি বলিস ছোটো?"
ময়না বেগম মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালেন। এমন সময় বাড়ির মেজো গিন্নি নাইমা বেগম ডেকে উঠলেন,
"ভাবি! দুপুরের জন্য ফ্রিজ থেকে কি বের করবো?"
কনকচাঁপা বেগম সঙ্গে সঙ্গে ছুটলেন রান্নাঘরে। পেছন পেছন ছুটলেন ময়না বেগমও। তবে রেখে গেলেন বিস্ময়ে হতভম্ব তুবাকে।
কনকচাঁপা বেগমের কথাগুলো তুবার মস্তিষ্কে সজোরে বারি খেলো। অজানা ভয়ে বুক কেঁপে উঠলো তুবার। এতোদিন তো শুধু রাইমা কৌশিককে পছন্দ করতো। কিন্তু এখন তো বিষয়টা বড়দের ইচ্ছা পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। কনকচাঁপা বেগম নিজে ছেলের বউ হিসেবে রাইমাকে বেছে নিয়েছেন। এবার তো কথা এগোবে। দুই পক্ষের মতামত মিলে গেলে বিষয়টা বিয়ে পর্যন্ত চলে যাবে। তুবার কৌশিক ভাই অন্য কারো হয়ে যাবে। ভাবনাটা মনে আসতেই বুকের ভেতর মুচড়ে উঠলো তুবার। থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো পুরো দেহ। তুবা খেয়াল করলো ওর হাত পা সহ পুরো শরীর কাঁপছে। দেহের শক্তি ক্রমশ ফুরিয়ে যাচ্ছে। এসির মধ্যে বসেও কুলকুল করে ঘামছে। শ্বাস প্রশ্বাসও অস্বাভাবিক।
তুবার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন সবার আগে চোখে পড়লো রিয়ার। রিয়া চমকে উঠে বলল,
"তুবা! কি হয়েছে তোর? চোখ মুখ এমন ফ্যাকাশে লাগছে কেনো? তোর কি শরীর খারাপ লাগছে?"
রিয়ার কথা শুনে ফিরে চাইলো মৌমিতা। তুবাকে অস্বাভাবিক ভাবে কাঁপতে দেখে খপ করে হাতটা ধরে ফেললো। তুবা তখনও ঠকঠকিয়ে কাঁপছে। কিছু বলার জন্য ঠোঁট নাড়াচ্ছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। শুধু জোরে জোরে নিঃশ্বাস টানছে। মৌমিতার আর বুঝতে বাকি নেই কি হয়েছে। এটা প্যানিক এ্যাটাকের লক্ষ্মণ। মৌমিতা দ্রুত তুবাকে এক হাতে আগলে ধরে উঠে দাঁড়ালো। দোতলায় নিয়ে যেতে যেতে বললো,
"রিয়া, জলদি জলদি এক গ্লাস ঠান্ডা পানি দিয়ে আয়। আর হ্যা, কেউ যেনো তুবার কথা না জানে।"
রিয়া মাথা নেড়ে দৌড়ে রান্নাঘরে ছুটলো। মৌমিতা আর নীরব দুজন মিলে ধরাধরি করে তুবাকে ঘরে নিয়ে গেলো।
-
-
সময় তখন সবে সকাল সাড়ে নয়টা। খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্লাস চলছে কৌশিকদের। সামনে প্রফেসর লেকচার দিচ্ছেন। আর স্টুডেন্টরা মনোযোগ দিয়ে লেকচার শুনছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়ে বিপবিপ করে কৌশিকের ফোনটা কেঁপে উঠলো। মনোযোগে ব্যঘাত ঘটায় বিরক্ত হলো কৌশিক। পকেট থেকে ফোনটা বের করে যেই না কাটাতে যাবে, এমন সময় তুবার নাম্বার দেখে থেমে গেলো। ভ্রু কুঁচকে মাথা নিচু করে ফোনটা রিসিভ করলো। সঙ্গে সঙ্গে শোনা গেলো মৌমিতার বিচলিত কন্ঠস্বর,
"ভাই কেলেঙ্কারি হয়ে গেছে। তুবা প্যানিক এ্যাটাক করেছে। তুই যেখানেই থাকিস জলদি আয়। আমি ওকে সামলাতে পারছি না।"
কৌশিকের বুকটা ধ্বক করে উঠলো। অজানা ভয় হৃদপিণ্ড কামড়ে ধরলো। মুহুর্তেই যেনো বোধ বুদ্ধি খুইয়ে বসলো। আগে পিছে না ভেবে ক্লাস চলাকালীন অবস্থায় দৌড়ে বেরিয়ে গেলো ক্লাস থেকে।
ব্যাস্ত কদম জোড়া সোজা এসে থামলো ভুঁইয়া মঞ্জিলের সামনে। আধা ঘণ্টার রাস্তা বিশ মিনিটে দৌড়ে পার করে এসেছে কৌশিক। বাড়ি পৌঁছেই দুরন্ত পায়ে ছুটে গেলো দোতলায় তুবার ঘরে। সেখানে তুবার সাথে মৌমিতা, রিয়া এবং নীরব ছিলো। কৌশিক অস্থির দৃষ্টিতে তাকালো তুবার দিকে। মেয়েটা খাটের সাথে আধশোয়া হয়ে বসে থরথর করে কাঁপছে। নাকের ডগা লালচে রঙ ধারণ করেছে। চোখ মুখ কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। কৌশিকের বুকটা কেমন যেনো ব্যথা করে উঠলো। সে ছুটে গিয়ে সোজা তুবার মুখোমুখি হয়ে বসলো। অস্থির কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
"কি হয়েছে মৌ? ও এমন করছে কেনো?"
মৌমিতা সংক্ষেপে কাহিনি বোঝালো। নিজের মায়ের এমন মনমর্জি আবদারের কথা শুনে কৌশিকের মাথায় রক্ত উঠে গেলো। চোয়াল জোড়া শক্ত করে হাত মুঠো করে ধরলো। মৌমিতা ততক্ষণে রিয়া আর নীরবকে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেছে। কৌশিক নজর দিলো তুবার দিকে। মেয়েটা কেমন ঠকঠকিয়ে কাঁপছে। চোখ থেকে অনবরত পানি ঝরছে। ঠোঁট জোড়াও তিরতির করে কাঁপছে। তুবার এমন করুন দশা দেখে আহত হলো কৌশিক। দুই হাতের আজলে তুবার মুখটা আগলে ধরলো। শান্তনা দিয়ে বলল,
"এই এই জান শান্ত হ! ভয় নেই, আমি আছি না? আমি বেঁচে থাকতে তোর কিসের কিসের ভয়? হুঁশ, শান্ত হ।"
এতোক্ষণে তুবার গলা দিয়ে আওয়াজ বের হলো। মেয়েটা হুহু করে কেঁদে ফেললো। ফ্যাশফ্যাশে গলায় ভেঙে ভেঙে অস্পষ্ট স্বরে বলল,
"আপনি.... আপনার.... বড় মা... বিয়ে....."
অসম্পূর্ণ কিছু শব্দ আওড়ে বাচ্চাদের মতো কেঁদে ফেললো তুবা। কৌশিকের বুকটা মুচড়ে উঠলো। অশান্ত ঝড় শুরু হলো ভেতরে। তুবাকে এক টানে নিজের বুকের ওপর ফেলল কৌশিক। বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরে মাথায় হাত রাখলো। কন্ঠস্বর করুন,
"শুউউ! জান কান্না থামা প্লিজ। তোকে কাঁদতে দেখলে আমার বুকে ব্যথা করে। ভেতরটা জ্বলে যায়। জেনে বুঝে আমাকে কষ্ট দিস তাই না?"
তুবা তবুও থামলো না। মেয়েটা চাইলেও থামতে পারছে না। মনের মধ্যে ভয়গুলো আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে। তুবা কাঁদতে কাঁদতে মিনমিন করে আওড়ালো,
"আমি. আমি কি আপনাকে হারিয়ে ফেলবো কৌশিক ভাই? আপনি হারিয়ে যাবেন আমার জীবন থেকে? আপনি অন্য কারো হয়ে যাবেন? আপনি আমার হবেন না?"
কৌশিকের বুকের এলোমেলো ঝড় দ্বিগুণ হলো। সে হুট করেই তুবার মাথা বুক থেকে টেনে তুলল। সঙ্গে সঙ্গে আঁকড়ে ধরলো তুবার কাঁপতে থাকা ওষ্ঠ জোড়া। তুবার শরীর জুড়ে বিদ্যুতের ঝলকানি খেলে গেলো। একদম শান্ত, স্থির হয়ে গেলো। কৌশিক আরও একটু ঘনিষ্ট হলো। পরম আবেশে ছড়িয়ে দিলো ভালোবাসা। প্রেমময় ছোঁয়ায় বুঝিয়ে দিলো কৌশিক হারাবার নয়। সে তুবার একান্ত ব্যাক্তিগত সম্পদ। হারিয়ে কোথায় যাবে?
তুবা ধীরে ধীরে শান্ত হলো। দেহের কাঁপুনি থামলো। শেষ পর্যায়ে ফুপিয়ে উঠলো। কৌশিক আবারও তুবাকে বুকের সাথে চেপে ধরলো। নিজের সর্বোস্ব দিয়ে আগলে নিলো দেহটা। মাথায় চুমু খেয়ে দৃঢ় কন্ঠে আওড়ালো,
"একটা কথা মাথায় ভালো করে ঢুকিয়ে নে জান। আমি শুধু তোর। তুবা ছাড়া কৌশিক আর কারো নয়। কৌশিকের মনের রাজ্যে রাজত্ব করার অধিকার তুবা ব্যাতিত আর কারো নেই। একদম মনে উল্টো পাল্টা চিন্তা আনবি না। কৌশিক তোর। সারাজীবন তোরই থাকবে। কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।"
তুবার মন গললো না। পাগলের মতো মাথা নাড়তে নাড়তে বলল,
"কেউ মানবে না। কেউ রাজি হবে না। বড় চাচ্চু কোনোদিন মেনে নেবে না।"
"দরকার নেই কারো মানার। তুই রাজি আমি রাজি এটাই আসল। বাকিরা জাহান্নামে যাক। আই ডোন্ট কেয়ার।"
তুবা তখনও কেঁদেই চলেছে। মনের ভয় কিছুতেই কাটছে না। বারে বারে মনে হচ্ছে সে কৌশিককে হারিয়ে ফেলবো। তার কৌশিক ভাই অন্য কারোর হবে। যে বুকে এখন তুবা মাথা পেতে আছে, সেই বুকে একসময় রাইমা মাথা রাখবে। ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো তুবা। মৃদু কেঁপে উঠলো দেহটা। দেহের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে শক্তপোক্ত করে জড়িয়ে ধরলো কৌশিককে। একে অপরের বুক মিশে আছে দুজনের সাথে। তুবার বুকের বেগতিক ধুকপুক স্পন্দন কৌশিক খুব করে টের পাচ্ছে। তুবার এতো এতো ভয় দেখে কৌশিক অধৈর্য্য হলো। হুট করে উঠে দাঁড়িয়ে তুবার হাত চেপে ধরলো। ভরাট কন্ঠে আদেশ করলো,
"চল আমার সাথে।"
চলবে?