ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

১৯তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ১৯

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

⛔কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⛔

(সেনসিটিভ পর্ব। রোমান্টিক পছন্দ না হলে স্কিপ করবেন)

*************

নিশুতি রাত! বাইরে ঝড়ের এলোমেলো তান্ডব। অশান্ত আকাশ থেকে থেকে হিং'স্র স্বরে গর্জে উঠছে। উথাল পাথাল বাতাসে আছড়ে পড়ছে বৃষ্টির ছাট। তুমুল বাতাসের দাপটে কুলাতে না পেরে মটমটিয়ে উঠছে গাছের দুর্বল ডালগুলো। প্রচন্ড ঝড়ের সামনে টিকতে না পেরে আশেপাশের কোনো গাছের পাখির বাসা ভেঙে পড়লো বোধহয়। অসহায় বাচ্চাদের নিয়ে করুন স্বরে ডেকে উঠলো মা পাখি। সেই সাথে শোনা গেলো ছানাগুলোর কিচিরমিচির ডাক।

তুমুল ঝড় তান্ডবের মাঝে একটা ছোটোখাটো আধভাঙ্গা মাটির ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে তুবা। তখন কৌশিকের করা নিষ্ঠুর আচরণ ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে তুবার মন। মনের অসহ্য পীড়ন সইতে না পেরে জেদের বসবর্তী হয়ে ছুটে বেরিয়ে এসেছে বাড়ি থেকে। উদ্দেশ্য একটাই। যেদিকে দু চোখ যায় চলে যাবে। থাকবে না ওই নিষ্ঠুর মানবের সাথে। সে যদি তুবাকে ছাড়াই নিজের সুখ খুঁজে পায়, তাহলে পাক। ভালো থাকুক সে। তুবা আর ফিরবে না তার জীবন। অত্যাধিক জেদে এমন হাজারটা উল্টো পাল্টা চিন্তা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে বাড়ি থেকে। তবে বোকা মেয়েটা এটা ভাবেনি সে মূলত যাবে কোথায়? এই অচেনা গ্রামের কতটুকুই বা চেনে? রাগের চোটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে তো এলো। কিন্তু ওর শেষ গন্তব্য কোথায়?

অবুঝ পনা করতে গিয়ে পড়ে গেলো চরম বিপদে। বুক ভর্তি নিদারুণ দহন আর মাথা ভর্তি এক ঝুড়ি জেদ নিয়ে চলে এসেছে বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে। এদিকে তুবার আগে কখনো আসা হয়নি। রাস্তা চেনার তাগিদে তুবা যখন ঘুরে ফিরে চারিদিক অবলোকন করছিল, ঠিক সেই মুহুর্তে ঝরঝরিয়ে বৃষ্টি শুরু হলো। এই ভর সন্ধ্যায় বৃষ্টিটা ছিলো অনাকাঙ্ক্ষিত। মিনিটের ব্যবধানে সাধারণ বৃষ্টি তুমুল ঝড়ে রূপ নিলো। উপায়ন্তর না পেয়ে দিক বেদিক ভুলে ছুটলো তুবা। কিন্তু কোন রাস্তা ধরে এসেছে ঠিক বুঝে উঠতে পারলো না। হারিয়ে যাওয়ায় ভয়ে আতঙ্কে বোধ জ্ঞান খুইয়ে বসলো। ঝড়বৃষ্টির থেকে বাঁচতে উদ্ভ্রান্তের মতো আশ্রয় খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠলো। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো এখানেই। এই জায়গাটা তুলনামূলক একটু বেশিই শুনশান। আশেপাশে যতদূর নজর যায় শুধু বিস্তীর্ণ মাঠ আর সারি সারি আমের বাগান। বাগানের পাশে একটা ছোটো পুকুরও আছে। এছাড়া দৃষ্টি সীমার মধ্যে কোনো বাড়িঘর নজরে আসলো না।

এতে যেনো তুবার ভয় শতগুণ বেড়ে গেলো। আতঙ্কিত চোখ মুখে পাগলের মতো ছুটলো এদিক ওদিক। খানিকটা দূরে বিক্ষিপ্তভাবে দুটো আধভাঙ্গা মাটির ঘর দেখা গেলো। তুবা ছুটলো সেদিকে। কিন্তু হায়। ঘর দুটো জনমানবশূন্য। ঘুনে ধরা কাঠের দড়জায় ঝং ধরা তালা ঝোলানো। তুবার এবার হাত পা ভেঙে এলো। শক্তিহীনের মতো মাটির বারান্দাতেই ধপ করে বসে পড়লো। মনের কষ্ট, ভয়, আতঙ্ক সব মিলিয়ে একটা মিশ্র অনুভুতি হলো। দুই হাতে মুখ ঢেকে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো তুবা।

বাতাসের বেগ বাড়ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বৃষ্টির প্রকোপ। বারান্দায় বসেও এলোমেলো বাতাসে কারণে বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে গেছে তুবা। দুই হাতে তখনও মুখ চেপে কাঁদছে। সময়ের সাথে সাথে কান্নার বেগ বেড়েই চলেছে। এক পর্যায়ে গলা ছেড়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলো তুবা। মনের সব দুঃখ কষ্ট চিৎকারের সাথেই উগড়ে দিলো। কন্ঠ চিরে বেরিয়ে এলো তীব্র আর্তনাদ,

"আমি সহ্য করতে পারছি না কৌশিক ভাই। আমি পারছি না সহ্য করতে। পৃথিবীর বুকে যতগুলো ভয়ানক শাস্তির অস্তিত্ব আছে, তার মধ্যে কথা না বলে ইগনোর করা সবচেয়ে বড় শাস্তি। আমাকে এতো কষ্ট কেনো দিলেন?"

গলা ছেড়ে চিৎকারের সাথে আহাজারি করে উঠলো তুবা। নরম মনের মেয়েটা কৌশিকের এই কঠোর আচরণ কিছুতেই মানতে পারছে না। যে মানুষটা সব সময় আদর, ভালোবাসা, যত্ন দিয়ে এসেছে তার থেকে পাওয়া এই আঘাত তুবা মেনে নিতে পারছে না। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে হাঁটুতে মুখ গুঁজে দিলো। গলা ভেঙে যাওয়ায় এখন আর কান্নার আওয়াজ বের হচ্ছে না। শুধু থেকে থেকে ফুঁপিয়ে উঠছে।

তুমুল ঝড় বৃষ্টি এখনও কমেনি। মিনিটে মিনিটে বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠছে ধরনী। বজ্রপাতের শব্দে সহসা কেঁপে উঠছে তুবার ছোট্ট দেহ। ভয়ে আতঙ্কে শক্ত করে হাঁটুর ভাঁজে মুখ গুঁজে রেখেছে। তিরতির করে সময় পেরিয়ে গেলো। এখন রাতের ঠিক কয়টা বাজে জানা নেই তুবার। শুধু ভয়ে গুটিশুটি মেরে মুখ লুকিয়ে ঝড়ের থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। ঠিক এমন সময় পরিচিত এক কাতর কন্ঠ তুবার কানে বারি খেলো,

"তুবা!"

তুবা হুট করেই চোখ মেলে তাকালো। সামনে কাক ভেজা বিধ্বস্ত চেহারায় কৌশিক দাঁড়িয়ে। মুখের অবস্থা বেজায় খারাপ। চোখে মুখে রাগ আ'ত'ঙ্কের সংমিশ্রণ। তুবা মাথা তোলার সাথে সাথে লম্বা লম্বা কদম ফেলে এগিয়ে এলো কৌশিক। তুবা ততক্ষণে বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। কাছাকাছি আসতেই তড়িৎ গতিতে শক্ত এক চপেটাঘাত পড়লো তুবার নরম তুলতুলে গালে। থাপ্পড়টা এতই শক্ত ছিলো যে তুবা তাল সামলাতে না পেরে দু কদম পিছিয়ে গেলো। মুহুর্তেই এগিয়ে এলো কৌশিক। আরও একটা থা'প্প'ড় দেয়ার উদ্দেশ্যে হাতটা তুলেও নামিয়ে নিলো। সঙ্গে সঙ্গে তুবার বাহু ধরে হ্যাচকা টানে বুকের সাথে চেপে ধরলো তুবাকে। একদম শক্ত করে, শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মিশিয়ে নিলো নিজের সাথে।

কাঙ্ক্ষিত মানুষকে বুকের সাথে চেপে ধরতেই কৌশিকের অশান্ত বুকটা শান্ত হতে শুধু করলো। ভেতরে ভেতরে বয়ে চলা কালবৈশাখী ঝড়ও থামতে শুরু করলো। হৃৎস্পন্দনের গতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে লাগলো। মাথায় জ্ব'ল'তে থাকা রাগের আ'গু'নটাও দপ করে নিভে গেলো। তবে কৌশিকের এই ঘনিষ্ঠতা মেনে নিলো না তুবা। ভেতরের রাগ অভিমান এখনও তাজা। যেটা এই মুহুর্তে আ'গু'নের স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠলো নতুন উদ্যোমে। তুবা ধা'ক্কা মে'রে সরিয়ে দিলো কৌশিককে। কন্ঠে একরাশ অভিমান ঢেলে বলল,

"দূরে যান। ছুঁবেন না আমাকে।"

আচমকা তুবার ধা'ক্কায় দুকদম পিছিয়ে গেলো কৌশিক। সেখানে দাঁড়িয়েই কাতর কন্ঠে বললো,

"জান প্লিজ দূরে ঠেলে দিস না। আমার বুকটা জ্ব'লছে। প্লিজ একটু বুকে আয়।"

"কেনো যাবো? শাস্তি দিচ্ছেন না আমাকে? আমাকে ছাড়াই বেঁ'চে থাকার অন্য কারণ খুঁজে নিয়েছেন। তাহলে কোনো এসেছেন আমাকে খুঁজতে?"

কৌশিক কাঠকাঠ হয়ে যাওয়া শুকনো গলায় ঢোক গিলল। তুবা ধা'ক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ায় বুকের ব্যথাটা আবারও বেড়ে গেছে। বুকটা কেমন যেনো কামড়ে ধরছে। কৌশিক একহাতে বুক ডলতে ডলতে বলল,

"একটুও শান্তি দিবি না আমাকে তাই না? কসম খেয়েছিস? এভাবেই তিল তিল করে মা'র'বি? জানিসই তো, আমি রাগলে মাথা ঠিক থাকে। তবুও কেনো রাগাস? আমার তখন মাথা কাজ করছিল না। রাগের বসবর্তী হয়ে রুড বিহেব করে ফেলেছি। আ'ম স্যরি জান। প্লিজ একবার বুকে আয়। আমার শ্বাস আটকে আসছে।"

এটুকু বলেই দুই হাত ছড়িয়ে দিলো কৌশিক। আশাভরা চোখে তাকালো তুবার অভিমানী মুখে। কৌশিকের আকুতি ভরা কাতর কন্ঠ ভেঙে দিলো তুবার অভিমানের পাহাড়। মনের সব রাগ একটু একটু করে গলে গলে পড়লো। সহসা ছুটে গিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো কৌশিকের প্রসস্ত বুকে। টাল সামলাতে না পেরে এক কদম পিছিয়ে গেলো কৌশিক। পরপরই নিজেকে সামলে নিলো। বুক থেকে তুবার মাথা তুলে পুরো মুখ জুড়ে পাগলের মতো চুমু খেলো। মুখের কোনো একটা জায়গা বাদ রাখলো না ঠোঁট ছোঁয়াতে। উ'ন্মা'দের মতো তুবার মুখ জুড়ে হাজারটা চুমু এঁকে দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো নিজের সাথে।

কৌশিকের থুঁতনি গিয়ে ঠেকলো তুবার কাঁধে। কয়েক সেকেন্ড কেটে গেলো সেভাবেই। বাইরের এলোমেলো ঝড়ের শোশো আওয়াজের সাথে শোনা যাচ্ছে তুবার ফোঁপানোর আওয়াজ। হঠাৎ তুবার ঘাড়ে গরম কিছু একটা অনুভব হলো। মুহুর্তেই অত্যন্ত গরম তরল জাতীয় কিছু গড়তে গড়তে তুবার জামা ভেদ করে পিঠে চলে গেলো। আচমকা এহেন কান্ডে চমকে উঠলো তুবা। হকচকিয়ে মাথা তুললো। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি গোচর হলো কৌশিকের ভেজা দুই চোখ। তুবা থমকে গেলো। দুই হাতে কৌশিকের মুখ আগলে ধরে বিচলিত কন্ঠে শুধালো,

"আপনি কাঁদছেন?"

কৌশিক সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিলো না। একটু সময় নিলো। ওর মুখে রাখা তুবার হাতের তালুতে আলতো করে চুমু খেলো। আহত কন্ঠে বললো,

"এমন নি'র্দ'য়ের মতো না বলে কেনো এসেছিস? আমি কত ভয় পেয়ে গেছিলাম জানিস? তোকে খুঁজে না পেয়ে মনে হচ্ছিল দম আটকে ম'রে যাবো।"

"ম'রে কেনো যাবেন? আমি থাকলেই বা কি? আর না থাকলেই বা কি? আমার থাকা না থাকায় কি কারো যায় আসে?"

"আলবাত যায় আসে। বাকিদেরটা জানি না। তবে আমার যায়ও, আবার আসেও।"

তুবার অভিমান বাড়লো। মুখ ফুলিয়ে কান্না ভেজা কন্ঠে বলল,

"কেনো যাবে আসবে? আপনি তো নতুন মানুষ খুঁজে নিয়েছেন।"

"কাকে খুঁজে নিলাম?"

"কেনো রাইমা আপু। আপনার জন্য তো সে আছেই। আমিই হলাম আপনার জীবনের উটকো ঝামেলা। চলে যাই, ম'রে যাই তাহলেই আপনি বাঁ'চেন।"

আচমকা কৌশিকের চেহারার রঙ বদলে গেলো। হালকা ঢিল করে ধরে রাখা হাতটা এবার এঁটে এলো। নিজের সাথে শক্ত করে চেপে ধরলো তুবার নরম শরীর। তুবার চোখে চোখ রেখে নরম সুরে বলল,

"আমার জীবন ম'র'ন সব তোকে ঘিরে জান। তোকে ছাড়া আমি বাঁ'চতেও চাই না। তোকে রেখে ম'রতেও চাই না। কথাগুলোর মানে বুঝিস?"

তুবা চোখ দুটো বন্ধ করে নিলো। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ চোখের কার্ণিশ বেয়ে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। তুবা মাথা উপর নিচ করে হ্যা বোঝালো। তবে কৌশিকের মন ভরলো না। শক্ত পুরুষালী কন্ঠে বললো,

"মুখে বল।"

"বুঝি।"

"তাহলে এমন পাগলামি করলি কেনো? একটা কথা মনে রাখবি জান। কৌশিক যতদিন বাঁ'চ'বে তুবার হয়ে বাঁ'চ'বে। এক তুই ছাড়া এই বুকে দ্বিতীয় কোনো নারীর স্হান নেই। কোনোদিন হবেও না।"

তুবার ভেতরে অদৃশ্য দহন এবার পুরোপুরি থেমে গেলো। বন্ধ করে রাখা চোখের পাতা ধীরে ধীরে মেলে ধরলো। সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টি গোচর হলো কৌশিকের কাতর দুই চোখ। যেখানে এই মুহুর্তে এক সাগর ভালোবাসা দেখা যাচ্ছে। তুবা কয়েক পল নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো কৌশিকের চোখের দিকে। আচমকা বাতাসের সাথে সাথে বৃষ্টির ঝাপটা এসে লাগলো দুজনের গায়ে। এই পর্যায়ে সংবিৎ ফিরে পেলো কৌশিক। তুবাকে ছেড়ে মাটির ঘড়টার দড়জার কাছে গেলো। ঝং ধরা তালার দিকে একপলক তাকিয়ে জোরে শোরে লাথি মারলো মাঝ বরাবর। ঘুনে ধরা আধভাঙ্গা কাঠের দড়জাটা এবার পুরোপুরি ভেঙে দুম করে ভেতরে পড়ে গেলো। কৌশিক আলতো করে তুবার হাত মুঠোয় পুরে নিয়ে বলল,

"আয় আমার সাথে।"

তুবা বিনাবাক্যে এগিয়ে গেলো সাথে। ছোটোখাটো একটা ঘর। ঘরের এক কোণে মাটিতে ছোটো একটা তোশক পাতা। অন্য কোণে ভাঙাচোরা একটা টেবিলে। এটা যে কারো বসত বাড়ি নয় সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে কেউ হয়তো আসে ক্ষনিক সময়ের জন্য।

কৌশিক ভেতরে ঢুকে ভাঙা দড়জাটা কোনোভাবে দাঁড় করিয়ে টেবিলটা দিয়ে আটকে দিলো। এরপর মৌমিতাকে ফোন করে তুবাকে পেয়েছে সেই খবর জানালো। বিস্তারিত বলার সুযোগ পেলো না কারণ নেটওয়ার্ক খুব সমস্যা করছিল। তাই সংক্ষিপ্ত খবর জানিয়েই ফোনটা কেটে দিলো কৌশিক। পুরনো ফোনটার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো। এরপর ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বা'লিয়ে সেটা টেবিলের ওপর রাখলো। এতোক্ষণে অন্ধকার পরিবেশ খানিকটা আলোকিত হলো যেনো। পড়নের ভেজা চিপচিপে জামার দিকে তাকিয়ে বিরক্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো তুবা। মিনমিন করে বলল,

"এই ভেজা জামা কতক্ষণ পড়ে থাকবো?"

কৌশিক ততক্ষণে নিজের পড়নের ভেজা শার্ট খুলে ফেলেছে। সেটা টেবিলটার ওপর ছড়িয়ে দিতে দিতে বলল,

"পাকনামি করে একা আসতে বলেছিল কে? এখন এই ঝড় বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত বাড়ি ফেরা সম্ভব নয়। রাস্তায় বেশ কিছু গাছ ভেঙে পড়েছে। তোকে নিয়ে কোনো রিস্ক নিতে আমি রাজি নই।"

কৌশিকের কর্কশ আওয়াজ শুনে এক পলক চোখ মেলে তাকালো তুবা। ফোনের ফ্ল্যাশের আলোতে কৌশিকের সুঠাম দেহ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। জিম করা আকর্ষনীয় শরীরটা চোখে বেঁধার মতো। যে কোনো মেয়ে এক দেখাতে ফিদা হয়ে যাবে। কৌশিক ততক্ষণে শার্ট টান করে ছড়িয়ে দিয়ে তুবার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে করে পেটের কাছের শক্ত পেশীগুলো খোলা বইয়ের মতো তুবার সামনে ধরা দিচ্ছে। তুবা সঙ্গে সঙ্গে নজর সরিয়ে নিলো। কেমন যেনো অদ্ভুত একটা অনুভুতি হচ্ছে। পেটের মধ্যে কিছু একটা গুড়গুড় করছে। তুবা বুঝতে পারছে না এটা কেমন অনুভুতি।

কৌশিক পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো। একদম তুবার গা ঘেঁষে বসে পড়লো। এরপর পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো তুবার দিকে। ভ্রু কুঁচকে বোঝার চেষ্টা করলো তুবার এলোমেলো চোখের চাহনির কারণ। তবে বেশি ভাবতে পারলো না কৌশিক। আচমকা বিকট আওয়াজে বজ্রপাত ঘটলো। তুবা কেঁপে ওঠে হুট করেই জড়িয়ে ধরলো কৌশিককে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,

"প্লিজ জানালাটা কিছু দিয়ে বন্ধু করুন। আমার ভয় করছে।"

কৌশিক কেমন যেমন পাথরের মতো জমে গেলো। এতো কাছাকাছি আসায় তুবার শরীরের মিষ্টি মেয়েলী সুবাস নাসিকাপথ ধরে সোজা কৌশিকের মস্তিষ্কে ধা'ক্কা খেলো। এই ঝড় বৃষ্টির রাতে একা ঘরে দুজন কাছাকাছি আসায় নিষিদ্ধ বাসনারা উস্কানি দিতে শুরু করলো। কৌশিকের বুকের ভেতর দামামা বেজে উঠলো। শুকনো গলায় কয়েকবার ঢোক গিলে কাঠ হয়ে আসা গলা ভেজানোর বৃথা চেষ্টা চালালো। সফল হতে না পেরে নিচু কন্ঠে ফিসফিস করে বললো,

"জান! আজ যদি বাড়াবাড়ির সীমা অতিক্রম করি, তুই কি রাগ করবি? তোকে খুব কাছে পেতে মন চাইছে।"

কানের কাছে কৌশিকের ফিসফিস আওয়াজ শুনে গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো তুবার। অদ্ভুত এক শিহরণে শরীর কেঁপে উঠলো। ধীরে ধীরে মাথাটা তুলে কৌশিকের চোখের দিকে তাকালো। যেখানে এই মুহুর্তে ভেসে বেড়াচ্ছে এক রাশ ব্যাকুলতা। প্রিয় মানুষকে কাছে পাওয়ার বাসনা। কৌশিকের এই ডাকে সাড়া না দিয়ে পাড়লো না তুবা। এক হাতে কৌশিকের ঘাড় খামচে ধরে আলতো করে ওষ্ঠে ওষ্ঠ ছোঁয়ালো তুবা। ওর ইশারা বুঝতে পেরে ঠোঁট ছড়িয়ে হাসলো কৌশিক। সঙ্গে সঙ্গে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো তুবাকে। ওষ্ঠপুটের গাঢ়ত্ব দ্বিগুণ হলো। এক অদৃশ্য অনাবিল সুখে দেহের শক্তি ফুরিয়ে গেলো তুবার। নিজের সম্পুর্ন ভার ছেড়ে দিলো কৌশিকের প্রশস্ত বুকে। কৌশিক আগলে নিলো নিজের সাথে। আলতো করে শুইয়ে দিলো ছোট্ট তোশকেই। ভেজা পোশাকের জায়গা হলো ঘরের মাটির মেঝেতে। তুবার ছোট্ট দেহটা চাপা পড়ে রইলো কৌশিকের সুঠাম দেহের নিচে। বাইরে বয়ে চলা অশান্ত ঝড়ের সাথে তাল মিলিয়ে অশান্ত হয়ে উঠলো ঘরের দুই মানব মানবী। মিষ্টি সুখের যাতনায় মুর্ছা গেলো দুটি দেহ। কৌশিকের প্রেমময় এক একটি ছোঁয়ায় দিশেহারা হয়ে গেলো তুবা। চোখের কার্নিশ বেয়ে কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। এই পর্যায়ে গলায় ডুবিয়ে রাখা মুখটা তুলল কৌশিক। তুবার ভয়ে জর্জরিত মুখের দিকে তাকিয়ে এক পলক তাকালো। এরপর আধার রাতের চেয়েও গভীর কন্ঠে বললো,

"ডোন্ট ওয়ারি জান। আমার কাছে সবার আগে তুই। তোকে ব্যথা দিয়ে আমি কখনোই সুখ নিতে পারবো না। ভরসা রাখ! আই উইল বি জেন্টল। হু!"

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন